ঢাকা, শুক্রবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, || আশ্বিন ৯ ১৪২৮

মনছবি কেন?

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২০:২৪, ১৮ জুলাই ২০২১

রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে মনছবি কীভাবে কাজ করে সে-সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের দুটি পরিপূরক মত রয়েছে। প্রথম দলের অভিমত হচ্ছে, মনছবি মস্তিষ্কের বাম ও ডান বলয়ের তৎপরতার মধ্যে একটি ভারসাম্য ও সুষম সমন্বয় সাধন করে। মনছবি দেখতে শুরু করার সাথে সাথে ডান বলয় সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং দুই বলয় ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে ভারসাম্যহীনতা থাকে তা-ও দূর হয়ে যায়।

আরেক দলের অভিমত হলো—আবেগ, চিত্রকল্প ও অনুভূতির মধ্যে রয়েছে এক গভীর সংযোগ। যে-কোনো আবেগের দৈহিক প্রকাশ ঘটতে পারে। আমরা জানি, ব্রেনের ভাষা হচ্ছে ছবি। তাই ছবি বা চিত্রকল্প দিয়ে ব্রেন যত সহজে প্রভাবিত হয়, অন্য কোনোকিছু দিয়ে ততটা হয় না, কারণ আমাদের নার্ভাস সিস্টেম বাস্তব ও কল্পনার মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। যেমন : আমরা ঠিক জানি, সিনেমায় যা দেখানো হচ্ছে তা নিছক অভিনয়, এর আনন্দ সুখ দুঃখ বেদনা—কিছুই সত্যি নয়। তবুও সিনেমা দেখার সময় নায়ক-নায়িকার দুঃখে আমরা বিমর্ষ ও ভারাক্রান্ত হই, কাঁদি। কিংবা ভয়ের কোনো দৃশ্য দেখলে আমরা বেশ শিহরিত হই।

অর্থাৎ আমরা যা দেখছি তা তো বটেই, যা কল্পনা করছি বা ভাবছি, এমনকি আশঙ্কা করছি তার সবই ব্রেন বাস্তব বলে ধরে নেয়। এ কারণেই অসচেতনভাবে অমূলক ভয়ভীতি আর নেতিবাচক কিছু কল্পনা বা আশঙ্কা   না করে সবসময় আমাদের উচিত সচেতনভাবে আনন্দময়, আশাপ্রদ ও সুস্থ জীবনের কথা চিন্তা করা। এই আশাবাদী মনোভাব আর বিশ্বাসই নিরাময়ের ক্ষেত্রে সবসময় মুখ্য ভূমিকা পালন করে। 

যুক্তরাষ্ট্রের মেনিঙ্গার ফাউন্ডেশনের চিকিৎসক ডা. এলমার এবং এলিস গ্রিন ক্যান্সারজয়ী ৪০০ মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখেছেন—অসুস্থ হওয়ার পর এদের প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে সুস্থতার ব্যাপারে আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন। অতএব যখন ক্যান্সার-আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন, তখন আপনিও রোগমুক্তির ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদী হোন। মনে রাখবেন, ওষুধের চেয়ে আপনার চেতনা অনেক বেশি শক্তিশালী ও সর্বত্রগামী।

আমরা যখন শরীরের কোনো একটি অঙ্গের সুস্থতার মনছবি দেখি, তখন মূলত কী হয়? দিনের পর দিন আমাদের উদাসীনতা আর অমনোযোগিতার ফলে দেহের যে অঙ্গটি অসুস্থ হয়েছিল, মনছবি দেখার মাধ্যমে আমরা তার প্রতি প্রয়োজনীয় মনোযোগটুকু দেই। সে অঙ্গের প্রতি গভীর মমতা পোষণ করি। আসলে এই মমতা বা ভালবাসার শক্তিকে বৈজ্ঞানিকভাবে পরিমাপ করা কঠিন। তবুও বিজ্ঞানীরা শরীর ও শারীরবৃত্তীয় বিভিন্ন বিষয়ের ওপর মমতার প্রভাবকে পর্যবেক্ষণ করার চেষ্টা করেছেন।

মেনিঙ্গার ফাউন্ডেশনের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, যাদের মন মমতায় পরিপূর্ণ, তাদের রক্তে ক্ষতিকর ল্যাকটেটের পরিমাণ অনেক কম এবং তারা ক্লান্তি অনুভব করেন কম। তাদের রক্তে এন্ডোরফিনের (আনন্দের বার্তাবাহক রাসায়নিক অণু) পরিমাণ থাকে তুলনামূলক বেশি। ফলে তারা সবসময় আনন্দ ও সুখানুভূতির মধ্যে থাকেন। দুঃখ অনুভব করেন কম। তাদের শ্বেতকণিকা জীবাণুর বিরুদ্ধে দ্রুত সাড়া দেয়। খুব কমই তারা ফ্লু-জাতীয় অসুস্থতায় ভোগেন। অর্থাৎ যারা নিজের ভেতর সুস্থতার তীব্র আকুতি পোষণ করেন, সুস্থ হতে চান, নিরাময়ের মনছবি দেখেন এবং কল্পনা করেন যে, তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন—দেখা যায় তারা সত্যিই ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন।

লেখাটি ডা. মনিরুজ্জামান ও ডা. আতাউর রহমান এর লেখা এনজিওপ্লাস্টি ও বাইপাস সার্জারি ছাড়াই ‘হৃদরোগ নিরাময় ও প্রতিরোধ’ শীর্ষক বই থেকে নেয়া। 

আরকে//


Ekushey Television Ltd.

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি