ঢাকা, রবিবার   ২৫ জুলাই ২০২১, || শ্রাবণ ৯ ১৪২৮

গর্ভাবস্থায় কী খাবেন কী খাবেন না

প্রকাশিত : ২২:৫৬, ১৯ জানুয়ারি ২০১৯ | আপডেট: ২৩:১১, ১৯ জানুয়ারি ২০১৯

গর্ভাকালীন সময় একজন নারীর জন্য একটা আনন্দের সময় কারণ সে মা হবে তার মাধ্যমে একটি সুন্দর শিশু পৃথিবীতে আসবে। এজন্য এ সময়টা তাকে উৎসাহ,সাহস দিতে হবে এবং তার দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

গর্ভাবস্হায় একজন মায়ের সর্বপ্রথম সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ গর্ভের সন্তান সঠিক পুষ্টি পেয়ে থাকে তার মায়ের সঠিক পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে। সন্তান এবং মা দুজনই সুস্হ ও সুন্দর থাকা সম্ভব যদি গর্ভাবস্হায় মা সঠিক নিয়ম অনুযায়ী ও প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য গ্রহণ করেন।


গর্ভকালীন সময় অনেকেই মনে করেন মা যদি বেশি খাদ্য গ্রহণ করে তবে গর্ভের সন্তানের আঁকার অনেক বড় হবে ফলে ডেলিভারির সময় জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এটা একেবারেই ভুল ধারণা আবার অনেকের ধারণা বা যা করেন তা হলো এসময় তারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ করে থাকেন ফলে মায়ের শারীরিক ওজন গর্ভাবস্থায় যতটুকু বেরে যাওয়ার কথা তার থেকে অধিক পরিমান বেরে যায় এবং স্থূলতা দেখা দেয়।


এর ফলে মায়ের নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়ে থাকে। অর্থাৎ প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য গ্রহণ করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভবতী মায়ের শারীরিক অবস্হার উপর নির্ভর করে তার খাদ্য তালিকা তৈরি করতে হবে এবং খাদ্য তালিকা এমন ভাবে তৈরি করতে হবে যেন সব ধরনের খাদ্য উপাদান সেখানে বিদ্যমান থাকে। গর্ভকালীন সময় নিউট্রিশন কেয়ার সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং এ সময় ফলিক এসিড,ক্যালসিয়াম,আয়রন,আয়োডিন,এবং বিভিন্ন ধরনের ভিটামিনের চাহিদা বেরে যায়।

গর্ভকালীন সময়কে তিনটি সময়ে ভাগ করা হয়:
১.ফার্ষ্ট ট্রাইমেস্টার
২.সেকেন্ড ট্রাইমেস্টার
৩.থার্ড ট্রাইমেস্টার
এসময় সেকেন্ড ট্রাইমেস্টারে ৪০০ক্যালরি এবং থার্ড ট্রাইমেস্টারে অতিরিক্ত ৪০০ ক্যালরি গ্রহন করতে করতে হবে।
এসময় পুষ্টি চাহিদা:
ক্যালসিয়াম:১০০০মিলি গ্রাম/day
আয়রন:২৭মিলিগ্রাম/day
ফলিক এসিড:৬০০ মাইক্রোগ্রাম /day
আয়োডিন:২০০মিলি গ্রাম/day

খাদ্য উৎস: গরুর দুধ, দুধের তৈরি যে কোন খাবার,ডিম,মুরগীর মাংস,ড্রাই ফ্রুটস, ছোট মাছ,টক দই,পনির,ব্রকলি,কমলা,সামু্দ্রিক মাছ,সবুজ শাক সবজি,রঙ্গিণ ফলমুল ইত্যাদি। গর্ভকালীন সময়ে অবশ্যই ভারী কাজ এবং জটিল প্রকৃতির ব্যায়াম এড়িয়ে চলতে হবে।

তবে স্বাভাবিক কাজকর্ম ও হালকা ব্যায়াম যেমন: কিছুটা সময় ধরে হাঁটা , যোগ ব্যায়াম করা,ঘরের হাল্কা কাজ করা ইত্যাদি গর্ভবতী মায়ের জন্য অবশ্যই ভালো। সেই সাথে এই সময়কে সুন্দরমত উপভোগ করতে হবে এবং হাসিখুশি ও চিন্তামুক্ত থাকতে হবে।


লেখক: পুষ্টিবিদ তাসনিম আশিক

 

টিআর/


Ekushey Television Ltd.

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি