ভারতে পাটপণ্য রপ্তানিতে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার চায় বাংলাদেশ
প্রকাশিত : ২১:৫০, ৯ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২১:৫৪, ৯ অক্টোবর ২০২৬
ভারতের বাজারে পণ্য রপ্তানিতে স্থলবন্দরভিত্তিক বিধিনিষেধ ও অশুল্ক বাধা দূর করার বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি বাংলাদেশি পাটপণ্য ও পিইটি ফিল্মের ওপর আরোপিত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার এবং স্বল্পোন্নত দেশ তথা এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও বিদ্যমান শুল্ক সুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়টি বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করেছে।
নয়াদিল্লিতে চলমান বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের ১৬তম সভায় এসব বিষয় বাংলাদেশের আলোচ্যসূচিতে গুরুত্ব পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া দুই দিনের এই সভার আলোচনায় ছিল দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা নিরসন, স্থলবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আঞ্চলিক পণ্য পরিবহনব্যবস্থা আরও কার্যকর করা। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেশীয় রপ্তানিকারকদের স্বার্থ সংরক্ষণে ভারতের স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিনিষেধ পর্যালোচনা ও প্রত্যাহারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে সাফটা চুক্তির আওতায় বর্তমানে পাওয়া সুবিধা উত্তরণের পরও বহাল রাখা, পণ্যের মান নির্ধারণে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা এবং ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের প্রয়োজনীয় সনদ পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাজারে প্রবেশাধিকারের পাশাপাশি ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে নেপাল ও ভুটানে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টিও বাংলাদেশের অগ্রাধিকারে ছিল। স্থলবন্দর দিয়ে বাণিজ্য নির্বিঘ্ন করতে ভারতের স্থল শুল্ক স্টেশনগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সীমান্তবর্তী স্থলবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া গতিশীল করার দাবি জানানো হয়। অন্যদিকে ভারতের আলোচ্যসূচিতে ছিল তুলার সুতা ও অন্যান্য পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্থলবন্দরে বিদ্যমান বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো থেকে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা নিরসন করা।
বৈঠকে আখাউড়া-আগরতলা সংযোগসহ সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক রুটগুলোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি, রেল যোগাযোগের উন্নয়ন ও সীমান্ত হাটসংক্রান্ত বিষয়ও আলোচনায় স্থান পেয়েছে। কাস্টমস ও সীমান্ত কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়িয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে সময় ও ব্যয় কমানোর ওপর উভয় পক্ষই গুরুত্ব দিয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেয়।
আরও পড়ুন










