ঢাকা, শুক্রবার   ০৮ মে ২০২৬

শিক্ষায় চীনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে চায় বাংলাদেশ: শিক্ষামন্ত্রী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২০:২১, ৮ মে ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

শিক্ষা খাতে সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, অবকাঠামো নয়, শিক্ষা ও জ্ঞানভিত্তিক বিনিময়ই দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও আস্থার সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারে।

শুক্রবার (৮ মে) রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ শাসন অভিজ্ঞতা বিনিময়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় বিশ্বব্যবস্থা ক্রমেই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। যুদ্ধ, অস্থিরতা ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের এই সময়ে বাংলাদেশ ও চীনের মতো বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের ভূয়সী প্রশংসা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছেন।

বাংলাদেশ ও চীনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বহু বছর আগে থেকেই দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে এবং সময়ের সঙ্গে তা আরও গভীর হয়েছে। এই সম্পর্ক ভবিষ্যতেও আরও বিস্তৃত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। বিশাল জনগোষ্ঠীকে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হলে শিক্ষা খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে চীনের শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর মডেল হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি জানান, সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। এর মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, গবেষণা সহযোগিতা এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বাড়বে।

চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে ভবিষ্যতেও নিয়মিত বৈঠক ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শিক্ষা বাজেট বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মানবসম্পদ উন্নয়নকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষা, গবেষণা ও কৌশলগত সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ভবিষ্যতে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি