সৌদিতে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: তথ্য আদান-প্রদানে ঘাটতি ছিল: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
প্রকাশিত : ১৭:০৬, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৭:৩৮, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তথ্য বিনিময়ে বড় ধরনের ঘাটতি ও প্রক্রিয়াগত ত্রুটি ছিল বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। ঘটনাটিকে অত্যন্ত হতাশাজনক ও দুঃখজনক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সৌদি আরবের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, বাংলাদেশ ও সৌদি আরব উভয় দেশই আন্তর্জাতিক জেনেভা কনভেনশনের স্বাক্ষরকারী। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বিদেশি নাগরিক অন্য দেশে অপরাধের অভিযোগে আটক বা দণ্ডিত হলে সংশ্লিষ্ট দেশকে তা আগে থেকে জানানোর কথা, যাতে কনস্যুলার সেবা দেওয়া সম্ভব হয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে তথ্যের মারাত্মক ঘাটতি ছিল। কেন আগে থেকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি এবং ঠিক কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখতে ঢাকার নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে ইতিমধ্যে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে ওই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমে এসেছে। এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানুষ মক্কায় অত্যন্ত পবিত্র নিয়তে যান এবং সেখানে এই ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধের বিচার স্থানীয় আইন অনুযায়ী হতে পারে, কিন্তু প্রক্রিয়াগত যোগাযোগের বড় অভাব ছিল। রায় ইতিমধ্যে কার্যকর হয়ে যাওয়ায় এখন আর ব্লাড মানি বা ক্ষতিপূরণ আদায়ের আইনি সুযোগ নেই। এখন মূলত কোন স্তরে তথ্যের এই গ্যাপ তৈরি হয়েছে, সরকার তা খতিয়ে দেখছে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটিকে হতাশাজনক বললেও এর ফলে দুই দেশের সম্পর্কে কোনো টানাপোড়েন তৈরি হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও ঐতিহাসিক। প্রধানমন্ত্রী এবং বর্তমান সরকারের আমলে এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। তবে ভবিষ্যতে প্রবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তথ্য আদান-প্রদানের প্রক্রিয়াটিকে আরও শক্তিশালী করার তাগিদ দেন তিনি।
এমএইচ
আরও পড়ুন










