মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ
প্রকাশিত : ১২:৫২, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ২০২৬ সালে ভারতের চেয়ে এগিয়ে থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির অক্টোবরের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়াতে পারে ২ হাজার ৮৮৬ মার্কিন ডলারে। অন্যদিকে, ভারতের ক্ষেত্রে এ পরিমাণ হতে পারে ২ হাজার ৭৪৯ ডলার।
তবে মাথাপিছু জিডিপিতে এগিয়ে থাকলেও সামগ্রিক অর্থনীতির আকার, ক্রয়ক্ষমতা ও প্রবৃদ্ধির হারে ভারতের অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী।
আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দুই দেশের মাথাপিছু জিডিপির ব্যবধান হতে পারে ১৩৭ ডলার। এর আগে ২০২০ সালে মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়েছিল বাংলাদেশ। পরবর্তী সময়ে ভারত আবার এগিয়ে যায়।
নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ পুনরায় ভারতের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে। তবে এটি পূর্বাভাসভিত্তিক হিসাব।
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ভারতকে মাথাপিছু জিডিপিতে ছাড়িয়ে যাওয়ার এ সম্ভাবনাকে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প, প্রবাসী আয় এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ অর্থনীতির অগ্রগতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
মাথাপিছু জিডিপি একটি দেশের মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনকে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে হিসাব করা হয়। এটি নাগরিকদের গড় অর্থনৈতিক উৎপাদনের একটি ধারণা দেয়।
তৈরি পোশাক ও প্রবাসী আয় বাংলাদেশের অগ্রগতির চালিকাশক্তি
গত দুই দশকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে তৈরি পোশাকশিল্প, প্রবাসী আয় এবং শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক রপ্তানি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান উৎস। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সও দেশের বৈদেশিক লেনদেন ও অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয়কে সহায়তা করে।
তবে রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা, উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানির মূল্য ও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশের ওপর পড়ে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
ভারতের অর্থনীতিতে উৎপাদনশিল্পের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যবসায়িক সেবা, কৃষি ও বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অর্থনীতির এ বহুমুখী কাঠামো দেশটির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করছে।
সামনে টেকসই প্রবৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ
মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতের চেয়ে এগিয়ে থাকার পূর্বাভাস বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তবে এ অগ্রগতির সুফল সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে, তা নির্ভর করবে প্রকৃত আয়, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি, আয়বৈষম্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর।
অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ বাড়ানো, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় অগ্রগতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছায়।
সুতরাং, মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অগ্রগতি ইতিবাচক হলেও এটিকে এককভাবে অর্থনৈতিক সাফল্যের চূড়ান্ত মাপকাঠি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং জীবনযাত্রার মানের উন্নয়নই হবে অর্থনৈতিক অগ্রগতির অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ পরিমাপক।
ঐ.মিষ্টি//
আরও পড়ুন











