কেন্দ্র দখল, সহিংসতা অনিয়মের ২১ অভিযোগ এনসিপির
প্রকাশিত : ১৭:০০, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিনে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র থেকে পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া, প্রার্থী ও সমর্থকদের ওপর হামলা, কেন্দ্র দখলসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ এনেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নির্বাচন বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে মোট ২১টি অভিযোগের কথা তুলে ধরে দলটি। রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগগুলো তুলে ধরেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন। তিনি জানান, ঢাকা ১৮ আসনে খিলক্ষেত থানার নিকুঞ্জে জান ই আলম স্কুল কেন্দ্রে মহিলা ভোটারদের লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা লাঞ্ছনার এই ঘটনা ঘটান বলে অভিযোগ এনসিপির।
একই আসনের একটি কেন্দ্রে বিধি অমান্য করে ধানের শীষের পোলিং এজেন্টরা দলীয় কার্ড ঝুলিয়ে ভোটকক্ষে অবস্থান নিয়েছিল বলে দাবি করেন মনিরা শারমিন।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, এক কক্ষে প্রার্থীর পক্ষে একজন পোলিং এজেন্ট থাকার বিধান। তবে কুমিল্লায় একটি ভোটকেন্দ্রে ধানের শীষের একাধিক পোলিং এজেন্ট এক কক্ষে উপস্থিত থাকার বিষয়ে গণমাধ্যমে এসেছে। ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাস মহিলা ডিগ্রি কলেজে এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর পোলিং এজেন্টকে ঢুকতে বাধা দেয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া দেশের আরও কিছু জায়গায় পোলিং এজেন্ট কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেওয়া এবং কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
ঢাকা-৮ আসনে এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীকে বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাসের লোকেরা তাঁকে কিছুক্ষণের জন্য অবরুদ্ধ করে রাখে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
মনিরা শারমিন অভিযোগ করে বলেন, নোয়াখালীর হাতিয়ায় এনসিপির প্রার্থী হান্নান মাসউদের স্ত্রী শ্যামলী সুলতানা জাদনী ও হান্নান মাসউদের ভাইকে রড দিয়ে মেরে আহত করেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। তাঁর ফোন কেড়ে নিয়েছে। মারধরের ঘটনার ভিডিও যে ব্যক্তি ধারণ করছিলেন, তাঁর ফোনও ভেঙে ফেলেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। হাতিয়ায় ধারাবাহিক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় প্রশাসন থেকে নির্বাচন কমিশন সবখানেই বারবার অবহিত করার পরেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে উল্লেখ করেন মনিরা শারমিন।
মনিরা শারমিন বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে প্রত্যাশিত দায়িত্বশীল আচরণ পাওয়া যাচ্ছে না। প্রার্থীরা লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন স্থানে ভোট কারচুপির মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সবাইকে সতর্ক করে মনিরা শারমিন বলেন, এভাবে কোনো দল ক্ষমতায় আসতে চাইলে সাধারণ জনগণ তা মেনে নেবে না। বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপির এই নেত্রী বলেন, মুখে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে প্রচারণা চালালেও গোপনে এবং সরাসরি ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের ‘না’ ভোট দেওয়ার জন্য প্রভাবিত করা হচ্ছে।
মনিরা শারমিন জানান, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে তারা এই নির্বাচন বয়কট বা প্রত্যাখ্যান করবেন।
এমআর//
আরও পড়ুন










