সংবিধান সংশোধন কমিটিকে ‘আমরা-মামুরা’ বলে আখ্যায়িত করলেন হাসনাত
প্রকাশিত : ১৯:২৮, ৪ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৯:৩২, ৪ অক্টোবর ২০২৬
সংবিধান সংশোধন কমিটিকে তীব্র সমালোচনা করে এটিকে ‘আমরা আর মামুরা’ কমিটি বলে অভিহিত করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ।
রোববার (৪ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, এটি আসলে একটি ‘আমরা-মামুরা’ সংশোধন কমিটি। আপনারা দেখেছেন, সংস্কারের জন্য যারা দীর্ঘ যুগ ধরে বিভিন্ন লড়াই-সংগ্রাম করেছেন, একটি চেয়ার, পদ কিংবা মন্ত্রণালয়ের লোভ দেখিয়ে তাদেরও এখন কিনে নেওয়া হয়েছে। দিনশেষে দেশের মানুষ তাদের মূল্যায়ন ও বিচার করবে এবং তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এনসিপির এই নেতা বলেন, যিনি একসময় বলেছিলেন—‘গণভোটের চেয়ে আলুর দাম বেশি গুরুত্বপূর্ণ’, মূলত মৌলিক সংস্কারগুলোকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার জন্যই তিনি প্রথম গণভোট মানতে চাননি। তিনি একে এক ধরনের হিপোক্রেসি বা দ্বিমুখী নীতি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, গণভোটের ফলাফলের একটি অংশ মেনে নিয়ে অন্যটি বর্জন করার মাধ্যমে সরকার অর্ধেক কাদায় আর অর্ধেক জলে অবস্থান করছে। এর ফলে সরকার ইতিমধ্যে জনগণের আস্থা হারিয়ে ফেলেছে এবং মানুষের টাকা খরচ করে আবারও আরেকটি গণভোটের আয়োজন করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ বগুড়ার আলু চাষিদের দুর্দশার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, বগুড়া আলুর রাজধানী হওয়া সত্ত্বেও সেখানকার কৃষকদের উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে (১৫ টাকার আলু ১২ টাকায়) বিক্রি করতে হচ্ছে। সরকারের উচিত সংস্কারের পক্ষে জনগণের রায় মেনে নেওয়া এবং কৃষকেরা যাতে আলুর যথাযথ মূল্য পান, সেজন্য কার্যকর নীতি গ্রহণ করা।
নতুন ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আইনমন্ত্রী বা গণভোটের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বক্তব্য দেওয়ার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুমতির কথা উল্লেখ করেছেন। ২০০৬ সালে বিএনপি যেভাবে বিচারপতির বয়স বাড়িয়ে নিজেদের মতো করে একদলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করার চেষ্টা করেছিল, ঠিক সেই আদলে নতুন কোনো প্রতারণামূলক কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা চালুর পাঁয়তারা চলছে।" এই প্রক্রিয়ায় ধর্মীয় কার্ড ব্যবহার করা হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
তিনি আরও বলেন, জনগণ যে বিষয়ে ম্যান্ডেট বা রায় দিয়েছে, সরকারকে আগে সেটি বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রথম কাজটি সম্পন্ন না করে দ্বিতীয় ধাপে হাত দিলে সরকারের প্রতি আস্থার সংকট আরও তীব্র হবে এবং জনগণের রায় বাস্তবায়ন করলেই কেবল সরকারের সদিচ্ছা প্রমাণিত হবে।
এমএইচ
আরও পড়ুন










