ঢাকা, শনিবার   ১৭ এপ্রিল ২০২১, || বৈশাখ ৩ ১৪২৮

রমজানের যত ফজিলত

প্রকাশিত : ১৭:১৪, ৩ মে ২০১৯

ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের তৃতীয় হলো সাওম বা রোযা। সাওমের শাব্দিক অর্থ বিরত থাকা। ইসলামী পরিভাষায় সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ইবাদতের নিয়তে পানাহার ও স্ত্রী-সম্ভোগ থেকে বিরত থাকার নাম সাওম। সাওম পালনের সময় সর্বপ্রকার পাপ কাজ থেকে বিরত থেকে জীবনকে পাপমুক্ত করার সাধনা করাই সাওমের আসল উদ্দেশ্য। রমজানের পুরো মাসটি সাওম সাধনায় কাটানো প্রত্যেক মুসলিম বালিগ নর-নারীর ওপর ফরয।  

আল্লাহ তা’আলা বলেন- “হে ঈমানদারগণ, তোমাদের উপর সাওম ফরয করা হলো যেমন ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী (নবীদের উম্মত) গণের উপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার” (সূরা বাকারা, আয়াত, ১৮০)।

এই আয়াতে “যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার” কথাটিতে অতি সংক্ষেপে সাওমের উদ্দেশ্য ব্যক্ত হয়েছে। তাকওয়ার অর্থ কিন্তু খুবই ব্যাপক। যত অকল্যাণকর কাজ অর্থাৎ গুণাহ সেইসব বর্জন করা আর যত কল্যাণকর কর্ম অর্থাৎ সওয়াবের কাজ সাধ্যমত তা গ্রহণ করাই ‘তাকওয়া’। অন্য কথায়, আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর ফরমান অনুযায়ী জীবনের পথ চলাই তাকওয়া। যিনি তাকওয়া অর্জন করেন তিনিই মুত্তাকী।

পরবর্তী এক আয়াতে আল্লাহ তা’আলা রমজান সম্পর্কে বলেন, “রমজান এমন একটি মাস, যে মাসে বিশ্বমানবের পথনির্দেশক, তাদের জীবনপথের সুস্পষ্ট বিধানসমূহ আর হক ও বাতিলের মথ্যে পার্থক্যকারী কুরআন নাযিল করা হয়েছে। অতএব তোমাদের মধ্যে যে কেউ এ মাসটি পাবে, সে যেন এ মাসে সাওম পালন করে।” (সূরা বাকারা : ১৮৫)।

আল্লাহর এই কথা থেকে পরিস্কার বুঝা গেল, রমজান মাসে কুরআন প্রথম নাযিল হয়েছিল বলে রমজান অতি পবিত্র এবং এই জন্য রমজান মাসের সাওম ফরজ করা হয়েছে।

হযরত সালমান ফারসী (রা.) বর্ণনা করেন, শা’বান মাসের শেষ তারিখে রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দান করেন। তাতে তিনি বলেন, মুসলমানগণ! তোমাদের ওপর একটি মাহাত্মপূর্ণ ও বরকতময় মাস ছায়াপাত করছে। এ মাসের একটি রাত্রি (শবে-কদর) হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। আল্লাহ তা’আলা এ মাসের রোযা ফরজ করেছেন এবং এর রাত্রিগুলোতে আল্লাহর দরবারে দণ্ডায়মান হওয়াকে (অর্থাৎ তারাবীহর নামাজ পড়াকে) নফল ইবাদত সাব্যস্ত করেছেন। (এর সওয়াব অপরিসীম) যে ব্যক্তি এ মাসে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জনের উদ্দেশ্যে ফরজ নয় এমন কোন ইবাদত (অর্থাৎ সুন্নাত অথবা নফল) আদায় করবে, সে অন্য মাসের ফরজ ইবাদতের সমান সওয়াব পাবে। এ মাসে একটি ফরজ আদায় করার সওয়াব অন্য মাসে সত্তরটি ফরজের সমান পাওয়া যাবে।

এটা সবরের মাস, সবরের প্রতিদান হচ্ছে জান্নাত। এটা সহানুভূতি ও সহমর্মিতার মাস। এ মাসেই মু’মিন বান্দার রিযিক বৃদ্ধি করা হয়। যে ব্যক্তি এ মাসে কোন রোযাদারকে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সওয়াব হাসিলের নিয়তে ইফতার করাবে, এটা তার জন্যে গুণাহের মাগফিরাত ও দোযখের আগুন থেকে মুক্তির উপায় হবে এবং সে রোযাদারদের সমান সওয়াব পাবে। এ কারণে রোযাদারের সওয়াব হ্রাস করা হবে না।

আরয করা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের প্রত্যেকেরই তো ইফতার করানোর সামর্থ্য নেই। তাহলে গরিবরা কি এ সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে? তিনি বললেন, আল্লাহ তা’আলা এ সওয়াব তাকেও দেবেন, যে দুধের সামান্য ঘোল দিয়ে অথবা এক চুমুক পানি দিয়ে কোন রোযাদারকে ইফতার করাবে। আর যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে ভরপেট খাওয়াবে, আল্লাহ তা’আলা তাকে আমার হাউযে-কাওসার থেকে এমন তৃপ্তি সহকারে পান করাবেন যে, জান্নাতে না পৌঁছা পর্যন্ত তার তৃষ্ণা হবে না।

অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, এ মাসের প্রথম দশক রহমতের, মাঝের দশক মাগফিরাতের এবং শেষ দশক দোযখের আগুন থেকে পরিত্রাণের। যে ব্যক্তি এ মাসে তার গোলাম ও চাকরের কাজ হালকা করে দেবে, আল্লাহ তা’আলা্ তাকে ক্ষমা করবেন এবং তাকে দোযখ থেকে মুক্তি দেবেন (বায়হাকী, শু’আবুল ঈমান, মা’আরিফ)।

রোযার সওয়াব আশা করা : হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা বরেন, রাসূলে করীম (সা.) বলেন, যারা রমজানের রোযা ঈমানসহ সওয়াবের আশায় রাখবে, তাদের সব অতীত গুনাহ ক্ষমা করা হবে। অনুরূপভাবে যারা ঈমানসহ সওয়াবের আশায় রমজানের রাত্রিসমূহে নফল (তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ) পড়বে, তাদের সমস্ত অতীত গুনাহ মাফ করা হবে। এমনিভাবে যারা শবে কদরে ঈমানসহ সওয়াবের আশায় নফল পড়বে, তাদের সমস্ত পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ করা হবে। (বুখারী, মসুলিম, মা’আরিফ)। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) এর বর্ণনা, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, রোযা রাখ সুস্থ থাকবে। (তাবারানী)

রোযার গুরুত্ব : হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, যখন রমজানুল মুবারকের শেষ দশক শুরু হতো তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) কোমর কষে নিতেন, সমগ্র রাত্রি ইবাদত, যিকির ও দু’আয় মশগুল থাকতেন এবং ঘরের লোকজনকেও জাগিয়ে দিতেন, যাতে তারাও এসব রাত্রির বরকত লাভ করতে পারে। (বুখারী)

রোযা না রাখার ক্ষতি : হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি সফর ইত্যাদি শরীয়তসম্মত ওজর ছাড়া রমজানের একটি রোযাও তরক করে, সে যদি এর বদলে সারা জীবনও রোযা রাখে, তবুও তার ক্ষতিপূরণ হবে না (মুসনাদ আহমদ)।

 

এএইচ/এসএইচ/


Ekushey Television Ltd.

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি