ঢাকা, বুধবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২১, || মাঘ ১৩ ১৪২৭

অযত্ন-অবহেলায় মাগুরার সীতারাম রাজবাড়ি (ভিডিও)

মাগুরা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৫:২৫, ৯ জানুয়ারি ২০২১

মাগুরার ইতিহাসের অন্যতম নায়ক মহম্মপুরের রাজা সীতারাম। বাংলার জমিদারদের মধ্যে অন্যতম সীতারাম রায় ছিলেন মুঘল-সামন্ত। পরে তিনি গড়ে তুলেছিলেন স্ব-শাসিত রাজ্য। তার তৈরি রাজবাড়ি প্রত্নতত্ব বিভাগের অধীনে থাকলেও অযত্ন-অবহেলায় ধ্বংস হতে চলেছে। ইতিহাসের স্বাক্ষী রাজবাড়িটি সংরক্ষণ ও সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর।  

রাজা সীতারাম রায়ের সময়কাল ১৬৫৮ খ্রীঃ থেকে ১৭১৪ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত। তিনি ছিলেন একজন মুঘল সামন্ত। পরে তিনি একটি স্বল্পস্থায়ী স্ব-শাসিত রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

রাজা সীতারাম ১৬৬৮ খ্রীষ্টাব্দে ভারতের বর্ধমান জেলার কাটোয় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা উদয় নারায়ণ ও মা দয়াময়ী। মুঘল সম্রাটদের তৌহশীলদার হিসেবে সীতারামের বাবা উদয় নারায়ণ মহম্মদপুরের ভূষণায় কর্মরত ছিলেন। ১০/১২ বছর বয়সে সীতারাম পরিবারের সাথে কাটোয়া থেকে ভুষণায় চলে আসেন। এরপর তারা মহম্মদপুরের হরিহর নগরে বসতি স্থাপন করেন। ২৫/২৬ বছর বয়সে সীতারাম রাজা উপাধি পান।

মাগুরার ইতিহাসবিদ ও গবেষক ডা. তুসুকুজ্জামান বলেন, সীতরাম রাজা অত্যন্ত সৃষ্টিশীল একজন ব্যক্তি ছিলেন। তার রাজপ্রাসাদ এবং তার সৃষ্টি এখনও মাগুরা জেলার আনাচে-কানাচে খোঁজ করলে পাওয়া যাবে।

দক্ষিণ-পশ্চিমবঙ্গের খুলনা অঞ্চলের প্রভাবশালী রাজা ছিলেন সীতারাম রায়। রাজবাড়িটি এখন বিলুপ্তির পথে। সংস্কারের অভাবে কিছুদিন আগে ভেঙ্গে পড়েছে অষ্টকোণ মন্দির। এখনও অনেক দর্শনার্থী আসেন রাজবাড়ি দেখতে।

স্থানীয় ও দর্শনার্থীরা জানান, এটি সত্যিকার অর্থে আমাদের জন্য একটি গৌরবের বিষয়। আমি খুবই আনন্দিত এবং খুবই খুশি আমরা ছোটকাল থেকেই সীতারাম প্রাসাদ দেখে বড় হচ্ছি। যে কয়টি স্থাপনা আছে তা এখন খুবই হুমকির সম্মুখিন। এটা সংস্কার করে এখানে একটা পর্যটন কেন্দ্র করলে আমাদের জন্য এবং দূর-দুরান্ত থেকে যে পর্যটকরা আসে তাদের জন্য সময়োপযোগী একটি ভালো বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে জায়গাটা পরিচিত লাভ করবে।

সীতারাম রাজার বাড়িটি সংস্কার ও সংরক্ষণ করার পাশাপাশি পর্যটনস্থল হিসেবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

মহম্মদপুর উপজেলা নিবার্হী অফিসার রামানন্দ পাল বলেন, এ বিষয়ে আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে ইতিপূর্বে কথা বলেছি।

মাগুরা জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম বলেন, আমরা স্থানীয়ভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করবো এবং সেই বিষয়টি মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদ কার্যকর করবে। আমরা সমন্বিতভাবেই এই কাজটি করবো বলে আশা করছি।

১৭১৪ সালের অক্টোবরে ৫৬ বছর বয়সে রাজা সীতারামের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর নাটোরের দীঘা পতিয়া এস্টেটে রাজা সীতারামের সকল সম্পত্তি হস্তান্তর হয়ে যায়।
ভিডিও :


এএইচ/এসএ/
 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি