ঢাকা, সোমবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, || আশ্বিন ৪ ১৪২৮

সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করতে ফেসবুক

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২২:১৮, ১৭ নভেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০৯:৫৯, ১৮ নভেম্বর ২০১৭

তরুণ প্রজন্ম এখন কতকিছুই না করছে! বিশ্বকে পরিবর্তনে তরুণ প্রজন্মের  ভূমিকা অপরিসীম। তারা চাইলে অনেক কিছুই করতে পারে। সামাজিক অবক্ষয় বা সচেতনতা সৃষ্টিতে রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা। সে ভূমিকা পালনে ফেসবুক এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অসংখ্য ফেসবুক গ্রুপের মধ্যে অল্প যেকয়েকটি গ্রুপ প্রশংসিত হয়েছে তার মধ্যে ডিসকাশন ফর সিলেকটিং সৌলমেট বা ডিএসএস অন্যতম। খারাপকে পেছনে ফেলে বর্তমানে তরুণদের মেধা ও মনন বিকাশ ও আত্মার মানুষকে খুঁজে পাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে এ গ্রুপ।

পারস্পরিক যোগাযোগ ও আত্মার বন্ধন তৈরি করার জন্য ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসের ৩য় শুক্রবার যাত্রা শুরু করে ফেসবুকের এ গ্রুপ। ইতোমধ্যে এ গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ২ লাখের ওপরে। এর সদস্যরা নানামুখী সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের সাহায্যার্থে অর্থ সংগ্রহ ও তাদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে নানামূখী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এছাড়া সামাজিক বন্ধন তৈরিতে রাখছে ভূমিকা। বন্ধুত্ব তৈরি, হতাশাগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো এবং বিয়ের ক্ষেত্রেও রাখছে ভূমিকা।

২ বছর পেরিয়ে আজ ১৭ নভেম্বর শুক্রবার রাজধানীর সেলিব্রিটি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত হয় ডিসকাশন ফর সিলেক্টিং সৌলমেট (ডিএসএস) গ্রুপের ২য় বর্ষপূর্তি। এ অনুষ্ঠানে সারাদেশ থেকে প্রায় ৫ শতাধিক সদস্য অংশ গ্রহণ করে। অনুষ্ঠানের ফাঁকে ‘সৌলমেট’ এর সদস্যদের সঙ্গে কথা হয় ইটিভি অনলাইন এর সাথে।

রাজধানী ঢাকার ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী ফেরদৌস আফরিন লোপা। তিনি এসেছেন ডিএসএসের এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে। কেন এমন একটি প্লাটফরমের সঙ্গে যুক্ত হলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি একজন বন্ধুর মাধ্যমে এই গ্রুপের সঙ্গে  যুক্ত হই। এখানে যুক্ত হয়ে আমি অনেক কিছু পেয়েছি। ভাই পেয়েছি, বোন পেয়েছি, ভালো ভালো মানুষ খোঁজে পেয়েছি। এককথায় একটা পরিবার পেয়েছি। যখন একটু মন খারাপ থাকে তখন সবাই মন ভালো করে দেয়। বিভিন্ন সময় আমাদের আড্ডা হয়। এটা খুব ভাল একটা উদ্যোগ। আমার কাছে ভাল লাগে।

সৌলমেটের আরেক সদস্য আব্দুর রহমান। চাকরি করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। তিনি বলেন,  এই গ্রুপ থেকে আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক সহযোগিতা পেয়েছি।  কোন সমস্যায় পড়লে গ্রুপের সবাই এগিয়ে আসে। এখানে অনেক বন্ধু তৈরি হচ্ছে। যা খুবই ভাল একটা দিক। আর সব থেকে বড় কথা হলো এ গ্রুপের মাধ্যমে চাকরিসহ যে কোন প্রয়োজনে  সহযোগিতা পাওয়া যায়।

এভাবে অনেকেই তাদের মনের কথা বলেছেন। কেউ কেউ ডিএসএস এ যুক্ত হয়ে নিজেদেরকে ভাগ্যবান মনে করছেন। এমনই একজন ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিশা। তিনি বলেন, আমি অনেক ডিপ্রেশনে ছিলাম। কিন্তু এক বন্ধুর মাধ্যমে এই গ্রুপে যুক্ত হয়ে এখন অনেক ভাল আছি। এক্ষেত্রে আমি অনেক ভাগ্যবান। এখান এসে অনেক ভাল ভাল বন্ধু পেয়েছি। ঢাকা কর্মাস কলেজের শিক্ষার্থী কাকনও একই কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, অনুষ্ঠানে এসে অনেক ভাল লাগছে। এখানে এসে অনেক কিছু জানতে পেরেছি। 

ডিএসএসসের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই নিজেদের মনের কথাগুলো এভাবে ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো যদি ডিএসএসের মতো কাজ করে তাহলে সেটি সমাজের জন্য অনেক ভালো হবে। তবে এ মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষই যুক্ত। নেতিবাচক দিকগুলো এডিয়ে যদি এর মাধ্যমে ভালো ভালো কাজগুলো করা যায় তাহলে সমাজ উপকৃত হবে। সমাজ থেকে জঙ্গিবাদ চিরতরে দূর হবে বলে মনে করেন অনেকে।

ফেসবুকে আপনাদের অসংখ্যা সদস্য রয়েছে, তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে কোন সমস্যা হয় কি-না জানতে চাইলে ডিএসএস এর একজন এডমিন শরিফ আহমেদ ভূইঁয়া বলেন, আমাদের ফেসবুক পেইজের সদস্যা সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এ জন্য আমরা একটা নীতি গ্রহণ করেছি। সেটা হলো আমাদের এখানে কোনো রাজনৈতিক, ধর্মীয় এবং কাউকে আঘাত করে এমন কোন বক্তব্য দেওয়া সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ। কেউ যদি বাজে কমেন্টস করে আমরা সঙ্গে সঙ্গে তাকে ব্লক করি।

আপনারা ডিএসএস কার্যক্রম কিভাবে শুরু করলেন? কেন এ ধরণের কাজে নামলেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে ডিএসএস এর এডমিন কামরুল হাসান ইমন ইটিভি অনলাইনকে বলেন, একদিন বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলাম ঐ সময় কথা উঠে ফেসবুকে অনেক গ্রুপ থাকলেও সৌলমেট বিষয়ে কোন গ্রুপ নেই। এ নিয়ে কিছু করা যায় কিনা। তখন আমরা একটা গ্রুপ খোলার চিন্তা করি। দীর্ঘ আলাপ আলোচনার পর কাজ শুরু করি। আমরা মূলত সামাজিক কাজগুলো করে থাকি। একে অন্যের বন্ধন তৈরি করা। বিষন্নতা দূর করা। বর্তমানে আমাদের সমাজে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে গেছে। মানুষ হতাশা থেকে নিজের জীবনই শেষ করে দিচ্ছে। অনেকে ব্লুহোয়েল এর মতো গেম এ আসক্ত হচ্ছে। বিষন্নতায় আচ্ছন্ন হয়ে জঙ্গিবাদসহ অন্যান্য ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হচ্ছে। তাদেরকে অন্তত যদি একটি ভাল অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এনে মোটিভেট করা যায় তাহলে সমাজের সমস্যাগুলো অনেকখানি কমে আসবে। সব মিলিয়ে আমরা মানুষকে সচেতন করা ও আত্মার সম্পর্ক তৈরিতে যা করা দরকার সেটা করার চেষ্টা করছি।   

গ্রুপটির আরেক এডমিন মাশহারুল হুদা আনান বলেন, “ডিজিটাল এ যুগে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে অনেকেরই অভিযোগ আছে। সে সবকিছুকে পাশ কাটিয়ে ফেসবুককেও যে একটি ভাল উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যায় তার একটি উদাহরণ আমাদের গ্রুপ। আমাদের গ্রুপের সদস্যদের ব্যক্তিগত জীবনেও সামাজিক বন্ধন এবং বন্ধুত্ব দঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ডিএসএস”।

//এ সি//


Ekushey Television Ltd.

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি