ঢাকা, মঙ্গলবার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী কারাগারে

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২১:৫৯, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক দিনের রিমান্ড শেষে তাকে ঢাকার আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মাকসুদা ইসলামকে হাজতি পরোয়ানার মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। আসামিপক্ষে কোনো আবেদন করা হয়নি। এর আগে সোমবার মাকসুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। একই মামলায় গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।

গত রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় মরিয়ম খাতুনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, বিয়ের পর থেকে মরিয়মকে বিভিন্ন বিষয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। এ কারণে তিনি আত্মহত্যায় প্ররোচিত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তার বাবা।

এজাহারে আরও বলা হয়, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে গাজী নজরুল মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি মেয়েকে একটি কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশ দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় একটি কথিত সুইসাইড নোট পাওয়ার কথাও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

গত জুলাইয়ে গাজী নজরুল ইসলাম ও মরিয়ম খাতুনের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে আলোচনার সৃষ্টি হয়।

এরপর ২২ জুলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের কথা জানায়। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে।

এর আগে ২১ জুলাই গাজী নজরুলের গাড়িচালক ও মরিয়ম খাতুনের মামা ওবায়দুর রহমান পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। সেই মামলায় গত ১০ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের জামিন পান গাজী নজরুল ইসলাম।

মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় এবার ওই মামলার বাদী ওবায়দুর রহমানকেও আসামি করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনগত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এমএইচ 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি