কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো তিন মাসব্যাপী পর্যটন কার্নিভাল
প্রকাশিত : ১৭:৪৪, ৭ অক্টোবর ২০২৬
দেশের প্রধান পর্যটন গন্তব্য কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো শুরু হতে যাচ্ছে তিন মাসব্যাপী ‘কক্সবাজার পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬’। আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত হোটেল শৈবালের সমুদ্রসৈকত ও ঝাউবনসংলগ্ন এলাকায় এ আয়োজন চলবে।
বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে এবং স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশনস লিমিটেডের পরিচালনায় আয়োজিত এ কার্নিভালে দিন ও রাতজুড়ে থাকছে খাবার, সংস্কৃতি, সংগীত, খেলাধুলা, বিনোদন ও অ্যাডভেঞ্চারধর্মী নানা আয়োজন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান।
পর্যটন করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, কক্সবাজারে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক দেশি পর্যটকের সমাগম হলেও বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে না। পর্যটকদের অন্যতম অভিযোগ, সমুদ্রসৈকত উপভোগের পর সন্ধ্যা ও রাতে বিনোদনের সুযোগ সীমিত। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দিন ও রাতের জন্য নানা কার্যক্রমের সমন্বয়ে এই কার্নিভালের আয়োজন করা হচ্ছে।
কার্নিভালে থাকছে ফুড জোন, মার্কেট জোন ও ক্র্যাফট ভিলেজ, ওয়েলনেস জোন, কিডস জোন এবং ক্যাম্পিং জোন। ফুড জোনে দেশি-বিদেশি খাবার, লাইভ ফুড স্টল, বারবিকিউ, আইসক্রিম ও জুসের আয়োজন থাকবে।
মার্কেট জোন ও ক্র্যাফট ভিলেজে পোশাক, অলংকার, মাটির পণ্যসহ স্থানীয় কারিগরদের তৈরি বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা থাকবে। ওয়েলনেস জোনে সূর্যোদয়ের সময় যোগব্যায়াম ও মেডিটেশনের আয়োজন থাকবে। শিশুদের জন্য কিডস জোনে থাকবে আর্ট, নিরাপদ রাইডসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রম।
ক্যাম্পিং জোনে রাতযাপনের সুযোগের পাশাপাশি ওপেন-স্কাই লাইব্রেরি, সেলফ-বারবিকিউ, হ্যামক, ক্যাম্পফায়ার ও টেলিস্কোপে রাতের আকাশ দেখার ব্যবস্থা থাকবে।
এ ছাড়া কার্নিভালে থাকছে লাইভ আর্ট, ফটো গ্যালারি, ওপেন-স্কাই মুভি থিয়েটার, ভিআর জোন, সার্কাস টেন্ট, কায়াকিং, লাইভ বাস্কিং, গো-কার্ট ও বিভিন্ন ধরনের বিচ স্পোর্টস। এর মধ্যে রয়েছে বিচ ফুটবল, হ্যান্ডবল, ভলিবল, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টন। থাকছে স্যান্ড স্কাল্পচার তৈরির আয়োজনও।
বিশেষ দিনগুলো উপলক্ষে বিজয় দিবস, বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনের আয়োজন থাকবে। পাশাপাশি বিচ ভিউ ওপেন থিয়েটারে ‘ওয়েভ অব মিউজিক’ নামে সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. গনী উল আজম। তিনি কার্নিভালের বিভিন্ন আয়োজন তুলে ধরেন।
গনী উল আজম বলেন, ‘আমরা শুধু একটি কার্নিভাল আয়োজন করতে চাই না। আমরা চাই, কক্সবাজারের পর্যটন অভিজ্ঞতায় একটি নতুন মাত্রা যুক্ত হোক।’ তাঁর ভাষায়, সমুদ্র, সূর্যাস্ত ও ঝাউবনের পাশাপাশি খাবার, সংগীত, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা, অ্যাডভেঞ্চার ও পারিবারিক বিনোদনকে একসঙ্গে যুক্ত করা হবে।
কার্নিভালের বিভিন্ন আয়োজনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিব, কক্সবাজার অঞ্চলের সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে কার্নিভাল বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশনস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদেকুল আরেফিন পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে কার্নিভালের বিভিন্ন আয়োজনের একটি রূপরেখা তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান বলেন, দেশের প্রধান পর্যটন গন্তব্য কক্সবাজারকে দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের কাছে আরও বৈচিত্র্যময় ও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশেষ করে বিদেশি পর্যটকদের কাছে কক্সবাজারকে নতুনভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়াতে আন্তর্জাতিক মানের এই কার্নিভাল আয়োজন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, তিন মাসের এ আয়োজনে পর্যটকেরা সমুদ্র উপভোগের পাশাপাশি দিন ও রাতে বিভিন্ন ক্রীড়া ও বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে এ আয়োজন।
পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান আরও বলেন, কক্সবাজারকে প্রাণবন্ত, বৈচিত্র্যময়, নিরাপদ, টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে নতুনভাবে ব্র্যান্ডিং করার লক্ষ্যেই এ কার্নিভালের আয়োজন করা হয়েছে।
মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পরিচালক, মহাব্যবস্থাপকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশনস লিমিটেডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এমএইচ
আরও পড়ুন










