ঢাকা, বুধবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৮ ৪:৫৭:০৭

ঝুমুর-টুসু-ভাদু শীর্ষক বিশেষ গানের অনুষ্ঠান

ঝুমুর-টুসু-ভাদু শীর্ষক বিশেষ গানের অনুষ্ঠান

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে একাডেমির জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে শিল্পী মনিরা ইসলাম পাপ্পু ও টুম্পা দাশ এর পরিবেশনায় ‘ঝুমুর-টুসু-ভাদু’ শীর্ষক বিশেষ গানের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। টুসু গানের মূল বিষয়বস্তু লৌকিক ও দেহগত প্রেম। এই গান শিল্পীর কল্পনা, দুঃখ, আনন্দ ও সামাজিক অভিজ্ঞতাকে ব্যক্ত করে। কুমারী মেয়ে ও বিবাহিত নারীরা তাঁদের সাংসারিক সুখ দুঃখকে এই সঙ্গীতের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলেন। এছাড়া সমকালীন রাজনীতির কথাও ব্যাপক ভাবে এই গানে প্রভাব বিস্তার করে থাকে। ভাদু গান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের একটি প্রাচীন লোকগান। এই গান রাজ্যের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা ও বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমা এবং ঝাড়খণ্ড রাজ্যের রাঁচি ও হাজারিবাগ জেলার লৌকিক উৎসব ‘ভাদু উৎসবে’ এই গান গাওয়া হয়ে থাকে। বর্তমানে সামাজিক সচেতনা মূলক প্রচারের জন্য ভাদু গান গাওয়া হয়। ঝুমুর গান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড ও উড়িষ্যা রাজ্যের বিস্তির্ণ অঞ্চলে প্রচলিত লোকগীতি বিশেষ। এক সময় ঝুমুর গানগুলি মুখে মুখে রচিত হত এবং কোন ভণিতা বা পদকর্তার উল্লেখ থাকতো না। চৈতন্য পরবর্তী যুগে ভণিতাযুক্ত ঝুমুরের সূচনা হয়।এসএইচ/
পেন্সিলের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে বর্ণাঢ্য আয়োজন

শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতিচর্চার অনলাইনভিত্তিক সংগঠনের নাম পেন্সিল। নানা বয়স, মতাদর্শ এবং নানা রঙের মানুষের সমাবেশ ঘটেছে পেন্সিলে। কেউ লেখিয়ে, কেউ পাঠক, কেউবা শ্রোতা। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা ছড়িয়ে দেয়া বর্তমান সময়গুলো সৃজনশীল ইতিবাচকে ভরিয়ে তোলাই উদ্যোক্তাদেও চাওয়া, সংগঠনের লক্ষ্য। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে যাত্রা শুরু পেন্সিল’র। দুই বছর শেষ করে তিন বছরে পা রাখলো ফেসবুক ভিত্তিক গ্রুপ ‘পেন্সিল’। এ উপলক্ষে বর্ষপূর্তি উৎসবের আয়োজন করেছে গ্রুপটি। বর্তমানে যা এখন এক লক্ষ্য সদস্যের এক বিশাল পরিবার। আর এ উপলক্ষেই ৯-১৩ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে প্রদর্শনী। পাঁচ দিনের এই আয়োজনে থাকছে আলোকচিত্র ও চিত্র প্রদর্শনী। এছাড়াও থাকছে শিশুদের জন্য আর্ট ক্যাম্প এবং পেন্সিল সদস্যদের পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। একই সঙ্গে এ আয়োজনে নবগঠিত পেন্সিল প্রকাশনির ব্যানারে প্রকাশিত হয়েছে নতুন ৮টি বই। রাজধানীর শিল্পকলা অ্যাকাডেমির জাতীয় চিত্রশালার ৫ নম্বর গ্যালারিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বর্ষপূর্তি উৎসবের উদ্বোধন করেন আলোকচত্রিশিল্পী এবং আলোকচিত্র বিষয়ক শিক্ষক ও লেখক রফিকুল ইসলাম। উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি বলেন, ফটোগ্রাফারদের একটি দুর্নাম আছে। দুর্নামটি হলো, ক্যামেরায় চাপ দিলেই ছবি উঠে। আসলে এটি সঠিক না। একটি ভালো ছবির জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়। ছবি একটি তাৎক্ষণিক বিষয়। মানুষের দেখার উপযোগী করে ছবি তোলার জন্য খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ফটোগ্রাফারকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এজন্য ফটোগ্রাফারকে পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখতে হবে। পেন্সিলের জন্য পরামর্শ হচ্ছে, নতুন যারা ছবি তুলতে আগ্রাহী তাদের ছবি নিয়ে সমালচনামূলক অনুষ্ঠান করার। এটি নেতিবাচক কিছু নয়। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে একটি ছবির কি কি দোষ আছে, তা খুঁজে বের করা। কারণ, এই দোষ খুজে পেলেই সেই ফটোগ্রাফার আরও ভালো ছবি তুলতে পারবে। পেন্সিল আরও এগিয়ে যাক, সেই কামনাই করছি। পেন্সিল ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আসকার ইবনে ফিরোজ জানান, অল্প কয়েকজন মিলে ২০১৬ সালে আমরা এই পেন্সিল গ্রুপটি তৈরি করি। শুরু থেকেই এর উদ্দেশ্য ছিলো ফটোগ্রাফার, নতুন লেখক, নতুন ভয়েস আর্টিস্টদের জন্য একটি প্লাটফর্ম তৈরি করার। আমরা সেটি চেষ্টা করছি। আমরা চাই এটি বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষি মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে। সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে পেন্সিল। পেন্সিলের এই আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার একুশে টিভি। এছাড়াও মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে কালের কণ্ঠ, বাংলা ট্রিবিউন এবংএবিসি রেডিও।

২৩ বছরে সরগম

দেশের সংগীতবিষয়ক একমাত্র পত্রিকা মাসিক সরগম-র ২২ বছর পার করে তাদের ২৩ বছরে পদার্পণ করেছে।  এ উপলক্ষে আজ  বৃহস্পতিবার  সন্ধ্যায় রাজধানীর  জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে  আলোচনা সভা, শুভেচ্ছা বিনিময় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।  অনুষ্ঠান শুরু হয় সরগম সাংস্কৃতিক দল এর সমবেত পরিবেশনা আগুনের পরশমনির ছোঁয়াও প্রাণে ও সন্দুর সুবর্ণ তারুর্ণ লাবণ্য গান দুইটির মাধ্যমে। তারপর দেশ-বিদেশের সংগীতাঙ্গনের প্রয়াতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। উল্লেখ্য, সরগম সাংস্কৃতিক দলের ৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীও ছিল। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সরগম সম্পাদক কাজী রওনাক হোসেন। তিনি বলেন, `ভাবতেই অবাক লাগে। শুধু সংগীত নিয়ে একটি পত্রিকা ২২ বছরে পৌঁছাল। এ সাফল্যের কৃতিত্ব সরগমের পাঠক, শুভানুধ্যায়ী, প্রতিনিধি, শিল্পী, কলাকুশলী, সংস্কৃতিকর্মী, লেখক ও বিজ্ঞাপনদাতাদের। আমন্ত্রিত অতিথিরা সবাই এক বাক্যে সরগম’র ২৩ বছরে পদার্পণকে এদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক বিরল ও গেীরবময় অধ্যায় বলে আখ্যায়িত। তারা বলেন, সম্পাদক কাজী রওনাক তাঁর দায়িত্ব পালন করেছেন একক প্রচেষ্টায় ২২ বছর সরগম বের করে। এখন আমাদের সাবাইকে এগিয়ে আসতে হবে রওনাকে সহযোগিতা করতে হবে সরগম এগিয়ে নেয়ার জন্য। অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক কামাল লোহানী বলেন,বর্তমানে পত্রিকা টিকিয়ে রাখা যেখানে কষ্টসাহ্য সেখানে সংগীতবিষয়ক পত্রিকা সরগম নিয়মিত ভাবে চালিয়ে যাও একে বারেই দূর সহসী ব্যাপার। আমদের উচিত থাকে  সহযোহিতা করা। আলোচনার পর্বের ওপর প্রচুর করতালির মধ্যে জন্মদিনের কেকে কাটা হয়। এরপরই শুরু হয় সংগীত পর্ব। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন- খুরশীদ আলাম,আসফ খান, সেলিনা আজাদ, ইন্দ্র মোহন রাজবংশী, বিপ্তী রাজবংশী,দিপ্তী রাজবংশী, প্রমুখ। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন, প্রখ্যাত গীতিকার কে জি মোস্তফা, গীতিকার শহিদুল্লাহ ফরায়জী জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমীনসহ বিশিষ্টজনেরা।   টিআর/        

১৮তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীর সমাপনী

‘আমাদের দেশের তরুণ শিল্পীদের শক্তির পরিচয় পেয়েছি এই আয়োজনে। প্রবীনদের পাশাপশি নবীনরাও ভবিষ্যতের জন্য তৈরি হচ্ছে। এটিই আমাদের বিশেষ অর্জন। নাম এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী হলেও, ৬৮টি দেশের অংশগ্রহণই প্রমান করে আমরা সারা বিশ্বে এটিকে ছড়িতে দিতে পেরেছি। আমরা সবাই শিল্পের সঙ্গে থাকব এটিই প্রত্যাশা করি।’ ১৮তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীর সমাপনী আয়োজনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কথাগুলো বলছিলেন সংস্কৃতিবিষয়কমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। রোববার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠান শুরু হয় বিকাল ৫টায়। সমাপনি আয়োজনে ছিল আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের শুরুতে মিলনায়তনের সামনে শিল্পকলা একাডেমি যন্ত্রশিল্পীদের পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। মিলনায়তনে প্রবেশের পরপরই শুরু হয় ‘মঙ্গল হোক এই শতকে মঙ্গল সবার, গানের সঙ্গে একাডেমির নৃত্য শিল্পীদের নৃত্য পরিবেশনা। শিল্পের বৃহৎ মিলনমেলা ১৮তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশ ২০১৮’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘পুরো সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে শিল্পকলা একাডেমি উৎসবমূখর ছিল। তবে ১৮তম এশীয় দ্বিবার্ষিক চারুকলা প্রদর্শনী শেষ হলেও অক্টোবর থেকে শিল্পকলা একাডেমিতে আরও ব্যাপক কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে। আশা করি শিল্পকলা একাডেমিতে সবসময় বৈতিত্রপূর্ণ আয়োজনে উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় থাকবে।’ স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী বলেন, ‘আজকের দিনটি একদিকে যেমন আনন্দের অন্যদিকে বেদনার। তবে আমরা স্বপ্ন দেখছি আগামী ১৯তম আসর আরো বড় পরিসরে করতে পারবো।’ মহাপরিচালক আয়াজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব শিল্পী, অতিথি, আয়োজক ও কলাকুশলীদের ধন্যবাদ জানান। গত ১ সেপ্টেম্বর সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে মাসব্যাপী বিশ্ব শিল্পের বৃহৎ মিলনমেলা ১৮তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশ ২০১৮’-এর উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এবার এই আয়োজনের ১৮তম আসরে বিশ্বের ৬৮ দেশের চারুশিল্পীরা অংশগ্রহণ করছে। এবারের আয়োজনের মধ্যে ছিল দেশি-বিদেশি শিল্পীদের মোট ৩৬৮টি পেইন্টিং, প্রিন্ট ও ফটোগ্রাফি; ৩৩টি ভাস্কর্য; ৫২টি ইনস্টলেশন আর্ট এবং ৩০ জন পারফর্মেন্স আর্টিস্ট-এর শিল্পনৈপূণ্য প্রদর্শনী। আয়োজনের মধ্যে আরও ছিল ১২ জন বাংলাদেশি নবীন শিল্পীর অংশগ্রহণে এবং শিল্পী বিশ্বজিৎ গোস্বামীর তত্ত্বাবধানে ‘ইয়াং আর্ট প্রজেক্ট’। দেশি-বিদেশি ৪৬৫জন শিল্পীর ৫৮৩টি শিল্পকর্মের এ বিশাল শিল্পযজ্ঞে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক সেমিনার, পেইন্টিং, ভাস্কর্য, আলোকচিত্র, প্রাচ্যকলা, প্রিন্ট মেকিং, ভিডিও আর্ট, মৃৎশিল্প, পারফর্মেন্স আর্ট, নিউ মিডিয়া এবং স্থাপনা শিল্প । বিশেষ সংযোজন হিসেবে ছিল কারুপণ্য মেলা, ফুড কোর্ট, আর্ট ক্যাফে, শিশু কর্ণার, আর্ট ক্যাম্প, পারফর্মেন্স আর্ট ওয়ার্কশপ এবং ভাস্কর্য উদ্যান। এসএইচ/

লন্ডন বইমেলায় শিল্প-সংস্কৃতি পুরস্কার পেলেন বিশ্বজিত সাহা

বাংলাদেশের বাইরে বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতি-শিল্প ও মননের বিকাশ ও চর্চায় নিরলস অবদানের জন্য ইংল্যান্ডে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদ, ইউকে-এর প্রথম বারের মতো প্রবর্তিত পুরস্কারটি পেয়েছেন মুক্তধারা নিউইয়র্ক-এর কর্ণধার ও নিউইয়র্ক বইমেলার প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বজিত সাহা। ২৪ সেপ্টেম্বর লন্ডনে ৮ম বইমেলা উপলক্ষে ঘোষিত হয়েছে এই পুরস্কার। ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর রোববার ও সোমবার সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদ, ইউকে এই মেলা  অনুষ্ঠিত হয়েছে।  এই মেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে যাগ দিয়েছেন বাংলাদেশের কবি আসাদ মান্নান। বই মেলার উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সাহিত্যিক আবদুল গাফফার চৌধুরীসহ অতিথিরা। লন্ডনের এই বইমেলায় ঢাকা থেকে আগামী, অনিন্দ্য প্রকাশন, অন্যপ্রকাশ, উৎস, ইত্যাদি, নালন্দা, বাসিয়াসহ  বেশ কয়েকটি স্টল যোগ দিয়েছে। রয়েছে ইংল্যান্ডের বেশ কিছু স্টল। এবারের বইমেলায় যুক্তরাজ্যপ্রবাসী প্রয়াত সাংবাদিক আবদুল মতিন ও তাসাদ্দুক আহমেদের নামে নতুন দুটো পদক ঘোষণা দেয়। এবার আবদুল মতিন সাহিত্য পদক পেয়েছেন কবি রব্বানী চৌধুরী। তাসাদ্দুক আহমদ শিল্প ও সংস্কৃতি পদক পেয়েছেন নিউইয়র্ক মুক্তধারার কর্ণধার বিশ্বজিত সাহা। একই সময়ে নিউইয়র্কে `বাংলাদেশ বাণিজ্য মেলা`র সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত থাকায় বিশ্বজিত সাহা লন্ডনে উপস্থিত থাকতে পারেননি। এই সম্মাননা ও পদক তার পক্ষে ইংল্যান্ডে গ্রহণ করেন বাংলাদেশ থেকে আগত ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশের অন্যতম পরিচালক আদিত্য অন্তর। বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতি, শিল্প, মননের বিকাশ ও চর্চায় বিশ্বজিত সাহার কর্ম নিউইয়র্কের বাংলা বইমেলার পথিকৃৎ সংগঠক হিসেবে বহুল পরিচিত বিশ্বজিত সাহার জন্ম নোয়াখালী জেলার লতিবপুর গ্রামে। চৌমুহনী থেকে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর ঢাকায় চলে আসেন। ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশের প্রকাশনা জগতের অন্যতম কৃতী পুরুষ প্রয়াত চিত্তরঞ্জন সাহার মুক্তধারা ও পুথিঘর লি.-এ যোগ দেন। পরে বিশ্বজিত সাহা সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। প্রকাশনা ও সাংবাদিকতার মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার পথচলা। এরপর ১৯৯১ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী হন এবং সেখানে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও প্রকাশনা জগতের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেন। বিশ্বজিত সাহা তার প্রতিষ্ঠিত মুক্তধারা নিউইয়র্ক-এর মাধ্যমে ১৯৯২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনে অস্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপন করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের সূচনা করেন। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি লাভের পিছনে এই ঘটনাটি অবশ্যই দিশারী হিসেবে কাজ করেছে। ১৯৯২ সাল থেকে উত্তর আমেরিকায় তিনি বাংলা বইমেলারও সূচনা করেছেন। ২৮ বছর ধরে আমেরিকায় অনুষ্ঠিত এই বইমেলা প্রতি বছর একজন বাঙালি লেখক উদ্বোধন করে থাকেন। ১৯৯১ সালে ‘মুক্তধারা নিউইয়র্ক’ প্রতিষ্ঠার পর আমেরিকায় বাংলাভাষা ও সংস্কৃতির নব উন্মেষ ঘটে। প্রবাসী বাঙালি শিশু-কিশোরদের জন্য বাংলা লিখন প্রতিযোগিতা শুরু করা হয়। তার উদ্যোগেই ১৯৯৫ সালে আমেরিকায় প্রথমবারের মতো সপ্তাহব্যাপী বাংলা চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশের প্রয়াত চলচ্চিত্রকার শেখ নিয়ামত আলী উৎসব উদ্বোধন করেন। মুক্তধারা নিউইয়র্ক ১৯৯৬ সালে আমেরিকার মূলধারার ৪০টি লাইব্রেরিতে বাংলা বই পাঠানো শুরু করে। ১৯৯৯ সালে মুক্তধারা কর্তৃক শুরু হয় বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির বাংলা ডিভিডি প্রকাশনা। ২০০০ সালে বিশ্বজিত সাহার পরিকল্পনায় ও প্রয়াত ড. হুমায়ূন আজাদের রচনায় প্রকাশিত হয় Our Beautiful Bangladesh গ্রন্থটি যা আমেরিকায় জন্ম নেওয়া ও বেড়ে-ওঠা বাঙলি শিশু-কিশোরদের স্কুলে সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০০১ সালে মুক্তধারা নিউইয়র্ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কর্মময় জীবনভিত্তিক প্রথম ভিডিও প্রামাণ্যচিত্র ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ’ প্রকাশ করে। এরপর ২০০২ সালে মুক্তিযুদ্ধ ও দেশাত্মবোধক কবিতা ও দেশের গানের প্রথম ডিভিডি এবং ২০০৩ সালে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম ভিডিও প্রামাণ্যচিত্র ‘সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ’ প্রকাশ করা হয়। বিশ্বজিত সাহার উদ্যোগে ২০০৫ সালে বহির্বিশ্বের ৩৬টি দেশের বাঙালিদের নিয়ে নিউইয়র্কের ম্যানহাটান সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় ‘বিশ্বব্যাপী বাংলা ও বাঙালি’বিষয়ক সাড়া জাগানো অনুষ্ঠান। ২০০৭ সাল থেকে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন শুরু করে ‘আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসব’ যা বর্তমানে আমেরিকায় বাঙালিদের সর্ববৃহৎ উৎসব ও মিলনমেলা হিসেবে পরিচিত। মুক্তধারা ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে নিউইয়র্কের বোর্ড অব এডুকেশনে ২৬টি বাংলা বই সহায়ক পাঠ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। এদিকে বিশ্বজিত সাহার পুরস্কার প্রাপ্তিতে আনন্দের বন্যা বইছে নিউ ইয়র্কপ্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে। ইতোমধ্যে বিশ্বজিত সাহাকে অভিনন্দন জানিয়েছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও শিল্পকলা গবেষণার প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনসমূহ। নিউইয়র্ক মুক্তধারা আয়োজন করেছে অনবদ্য এক অনুষ্ঠানের। শুভেচ্ছা জানিয়েছে সাংবাদিকদের দুটি সংগঠন।   এসএইচ/

প্যারিসে প্রদর্শিত ফাওয়াজ রবের একক প্রদর্শনী ‘ঢাকা, ‘আই লাভ ইউ’

ফরাসি দেশের প্যারিসে বাংলাদেশি শিল্পী ফাওয়াজ রবের একক প্রদর্শনী ‘ঢাকা, আই লাভ ইউ’- এর আয়োজন করেছে মোমার্ত গ্যালারি। প্রদর্শনীর ছবিগুলো এর আগে ফরাসি পত্রিকা ‘লা পারিজিও’তে প্রকাশিত হয়েছে। ফাওয়াজ রব ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি স্থাপত্য বিষয়ে এচিং ও অ্যাকুয়াটিন্টের (এক ধরনের প্রিন্ট মেকিং) কাজের মাধ্যমে সারাবিশ্বের সামনে ঢাকাকে ইতিবাচকভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। স্থাপত্য ও নকশা বিভাগে কাজ করলেও এর পাশাপাশি ফাওয়াজ রব আন্তর্জাতিকভাবে স্বনামধ্যন্য একজন শিল্পী। তার কাজ ইতিমধ্যেই নেপাল, ভারত, ইতালি, ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্সে প্রদর্শিত হয়েছে। তার শিল্পকর্মে নগরায়নে তিনি তার অভিজ্ঞতাকে ব্যবহার করেছেন ঢাকার স্বপ্নের আবহ তৈরিতে।  বিশ্বের গণমাধ্যমে বাংলাদেশ যেখানে নেতিবাচকভাবেই উঠে এসেছে ফাওয়াজ রব তার শিল্পকর্মের মাধ্যমে চেষ্টা করছেন এক্ষেত্রে একটি ভিন্নধারা তৈরিতে। ঢাকা বিশ্বের দ্বিতীয় অবাসযোগ্য শহর সম্প্রতি এ ঘোষণার প্রতিবাদ স্বরূপ ফাওয়াজ রব এ শহরের জীবনযাত্রা ও স্থাপত্য ফুটিয়ে তুলেছেন তার প্রিন্টমেকিং-এর মাধ্যমে। তার শিল্পকর্মে নির্মাণশিল্প, যানবাহন ও কাকসহ ঢাকার অন্যান্য বিষয়গুলো উঠে এসেছে। তার শিল্পকর্মের পটভূমিতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উঠে এসেছে নানা ফর্ম, আঁকার, এর বৈপরীত্য ও গভীরতা। প্রদর্শনীতে বাংলাদেশি হ্যান্ডমেড পেপারে এচিং ও অ্যাকুয়াটিন্টের  শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হয়েছে। এ প্রদর্শনী নিয়ে শিল্পী ফাওয়াজ রব বলেন, ‘ঢাকা শহরকে নিয়ে গর্ব করার মতো অনেক কিছুই রয়েছে। এটা শুধু পুরানো ঢাকার স্থাপত্যই নয়, এখানে ১৬ কোটি মানুষের ধর্ম ও সামাজিক শ্রেণি অত্যন্ত বৈচিত্র্যপূর্ণভাবে সহাবস্থান করছে। আমি বিশ্বাস করি, যখন কেউ শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে একটি শহরকে পরিমাপ করে তখন এর অনেক কথা, অনেক গল্পই হারিয়ে যায়। আমরা সাধারণভাবে আমাদের যানজট নিয়ে কথা বলি। কিন্তু, চার’শ বছরের এ শহরে এর বাইরেও লুক্কায়িত অনেক কিছু রয়েছে। মুঘল, ব্রিটিশ, ফরাসি এমনকি আর্মেনিয়ানরাও এ শহরে তাদের নিজস্ব স্থাপত্যের নিদর্শন রেখে গিয়েছেন।  এর বাইরেও ঢাকা শতাধিক মসজিদ, মন্দির ও গির্জার শহর। আমাদের এখানে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম স্থাপত্যকর্ম লুই আই কানের নকশাকৃত সংসদ ভবন রয়েছে। স্থাপত্যকর্মের বাইরে, এখানকার মানুষের জীবনের প্রতিদিনকার অসম্ভব সুন্দর সব গল্প রয়েছে। ফ্রান্সের বেশিরভাগ মানুষই ঢাকার জীবন ও স্থাপত্য নিয়ে জানেন না। এ প্রদর্শনী তাদের সুযোগ করে দিচ্ছে এ শহরের অজ্ঞাত এসব গল্প জানতে। আমাদের এখানে ফরাসি দেশের নামানুকরণে ফরাশগঞ্জ রয়েছে এটা জেনে তারা বিস্মিত। কয়েক শ’ বছর আগে এ অঞ্চলে ব্রিটিশদের আগমনের পূর্বে এবং মশলা ব্যবসা তার গতি পরিবর্তনের আগে সহস্রাধিক ফরাসি মশলা ব্যবসায়ী ঢাকায় বাস করতো। এখানে অনেক ভবন রয়েছে যা ফরাসি গথিক নকশা এখনও তার শরীরে বহন করে বেড়াচ্ছে। ফাওয়াজ রব যুক্তরাষ্ট্রের সান ফান্সিসকো থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন আর স্নাতোকোত্তর করেছেন ইতালির ফ্লোরেন্স থেকে। ঢাকায় শিক্ষকতা শুরুর আগে তিনি লস অ্যাঞ্জেলস, সান ফ্রান্সিসকো, বার্সেলোনা, রোম ও বার্লিন শহরে কাজ করেছেন। কেআই/ এসএইচ/

শিশুনাট্য কর্মশালা এবং শিশু চলচ্চিত্র উৎসব

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় ‘পিপল্স ফিল্ম সোসাইটি’ আয়োজন করছে দুই দিনব্যাপী ‘শিশু চলচ্চিত্র উৎসব ২০১৮’। ২১-২২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ডিজিটাল কালচারাল আর্কাইভে অনুষ্ঠি হবে এই অনুষ্ঠান। এই উৎসবে থাকছে চলচ্চিত্র নির্মাণ কর্মশালা, সিনেমা নির্মাণের গল্প এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে। কর্মশালার প্রশিক্ষক হিসেবে থাকবেন মো. আবিদ মল্লিক ও হায়দার রিজভী। নিজেদের সিনেমা নির্মাণের গল্প বলার জন্য উপস্থিত থাকবেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম এবং শামীম আখতার। প্রতিদিন ৩টা থেকে প্রদর্শিত হবে শিশুতোষ ও শিশু নির্মাতাদের নির্বাচিত চলচ্চিত্র। বিকাল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, উপস্থিত থাকবেন ‘পিপলস ফিল্ম সোসাইটি’র প্রধান উপদেষ্টা, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। ২১ তারিখে প্রদর্শিত হবে সৈয়দা আবয়ার জ্বোহা দ্রাহার ‘দ্যা রেজাল্ট’, মো. শরীফুল ইসলাম শামীমের ‘কিশোরীর হাত’, রাজু আহমেদ রানক ও দেওয়ান সানজিদুল আরাফাতের ‘বাঁশের খেলনা’, তারেক আজিজ নিশকের ‘সমান্তরাল যাত্রা’, সুমনা সিদ্দিকী’র ‘মাধো’ এবং মোরশেদুল ইসলামের ‘আঁখি ও তার বন্ধুরা’। ২২ সেপ্টেম্বর, বিকাল ৩টা থেকে প্রদর্শিত হবে শরীফুল ইসলাম শামীমের ‘ছোট বন্ধু’, নিশাত তাসনীম ঐশীর ‘তোমার জন্য’, নহিদা হাসানাত ও সিফাতুল ইহসান অপূর্বর ‘বাক্সবন্দি’, মো. মাসুদের ‘কাগজের নৌকা’, রহমান লেলিনের ‘মন ফড়িং’, মো. আবিদ মল্লিকের ‘এ লিটল রেড কার’, লুসি তৃপ্তি গোমেজের ‘ডাকঘর’ এবং প্রয়াত চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদের ‘মাটির ময়না’। উল্লেখ্য, ১২-১৫ বছর বয়সী শিশুরা কর্মশালায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। অংশগ্রহণে ইচ্ছুক শিশু বা তার অভিভাবকগণকে ০১৬৮৩৯৫৮৯৯৬ নম্বরে ফোন করে অথবা ইমেইলের মাধ্যমে pfspta@gmail.com যোগাযোগ করতে হবে। চলচ্চিত্র প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত। এছাড়াও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় এবং পিপলস থিয়েটার এসোসিয়েশন এর ব্যবস্থাপনায় ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১.৩০টা পর্যন্ত একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার হল, সেমিনার কক্ষ এবং ১ ও ২ নং মহড়া কক্ষে শিশুনাট্য কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। কর্মশালায় মূখ্য প্রশিক্ষক হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শিশুবন্ধু লিয়াকত আলী লাকী। এসএইচ/

ধর্ম এক হলেও তুর্কি-বাঙালি সংস্কৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে ‘তুর্কি জীবন ধারা: অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।   ইনস্টিটিউটের নিজস্ব হল রুমে অনুষ্ঠিত সেমিনারে একক বক্তা হিসেবে সাহিত্যিক, তুর্কি স্কলারশিপ ফেলো ও গণবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সরোজ মেহেদী ঘন্টাব্যাপী বক্তব্য রাখেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক, ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. শিশির ভট্টাচার্য্য। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মনির উদ্দিন, সাবরিনা চৌধুরী, মিজানুর রহমান, রফিকুম মুনির চৌধুরী, একেএম জাকারিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।    পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনে সরোজ মেহেদী তুর্কিদের জীবন ও সমাজ ব্যবস্থার নানাদিক আলোকচিত্র ও ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরেন।    তরুণ এই শিক্ষক বলেন, বিজেতা জাতি হিসেবে সারাবিশ্বের মুসলমানদের ওপর তুর্কিদের একটা প্রভাব রয়েছে।আমরা বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার মুসলমানদের মধ্যেও বিষয়টা দেখি। তবে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হলেও তুর্কি-বাঙালি সংস্কৃতি একদমই ভিন্ন। এটা আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষেরই জানার সুযোগ হয় না। বক্তা বলেন, তুর্কিদের নিজস্ব একটি জীবনধারণ পদ্ধতি আছে। যা আধুনিক ও ইউরোপ দ্বারা প্রভাবিত। যেমন সেখানকার মেয়েরা চলনে বলনে আধুনিক। তাদের একটা বিশাল সংখ্যা পুরুষদের পাশাপাশি কাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়, হাট-বাজার, রাস্তা ঘাটে মেয়েদের উপস্থিতি কখনো কখনো ছেলেদের চেয়ে বেশি মনে হয়। ফলে ধর্ম এক হওয়ার পরও তাদের জীবনাচার পুরো মুসলিম বিশ্ব থেকে ভিন্ন।    মেহেদী তার উপস্থাপনায় তুর্কিদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের ধরণ, খাদ্যাভাষা, পোষাক পরিচ্ছেদসহ জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন। তিনি তুরস্কে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে চলমান সংঘাত ও ভাষা বৈষম্য নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন।  সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. শিশির ভট্টাচার্য্য বিভিন্ন দেশ ও জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে আন্ত সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বাড়ানো দরকার বলে মত দেন। তিনি সেমিনারে আসা সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাঙালি সংস্কৃতির দিকগুলো দেশের বাইরে তুলে ধরতে আহবান জানান।   কেআই/এসি     

বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে মাসব্যাপী ১৮তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশ ২০১৮’-এর উদ্বোধন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এবার এই আয়োজনের ১৮তম আসরে বিশ্বের ৬৮ দেশের চারুশিল্পীরা অংশগ্রহণ করছে। ১৮তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে প্রতি শুক্রবার শিশুদের জন্য বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ৭, ১৪, ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর বেলা ৩.৩০টা থেকে ৫টা পর্যন্ত শিশুদের নিয়ে এই আয়োজন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর পরিকল্পনায় এই আয়োজনে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুরা চিত্রাঙ্কনে অংশগ্রহণ করেছেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে থাকছে পাপেট শো, আবৃত্তি, গল্পবলা, আ্যাক্রোবেটিক, ক্লাউন শো, মাইম ও যাদু প্রদর্শনী ও নৃত্য পরিবেশনা। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শুরুর আগে শিশু কর্ণারে চিত্রাঙ্কনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন শিশু কর্ণারে প্রদর্শনীতে আগত শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কনের ব্যবস্থা রয়েছে। ১৪ সেপ্টেম্বরের সংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্যে মাল্টিমিডিয়া পাপেট এর পরিবেশনায় পাপেট শো, উলফাৎ কবির-এর যাদু প্রদর্শনী, বিশেষ শিশুদল কারিশমা-এর আবৃত্তি পরিবেশনা, একাডেমির অ্যাক্রোবেটিক দলের প্রদর্শনী এবং দলীয় নৃত্য পরিবেশন করবেন এস ও এস শিশুপল্লী, স্কলার্স স্পেশাল স্কুল, অটিজম কেয়ার অ্যান্ড একটিভিটিজ এর শিল্পীরা । ১৮তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী ২০১৮-এর প্রদর্শনী চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত। এসএইচ/

নড়াইলে সুলতান উৎসবে শিশুদের মিলনমেলা

বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৯৪তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে নড়াইলে চারদিনব্যাপী সুলতান উৎসবের তৃতীয়দিনে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে নড়াইলের সুলতান মঞ্চ চত্বরে ছবি এঁকে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় ৫০০ শতাধিক শিশু অংশগ্রহণ করে। এ সময় পাখির ছবি এঁকে দর্শকসহ দেশ-বিদেশের অতিথিদের মুগ্ধ করেন নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। এ প্রসঙ্গে চিত্রশিল্পী বিমানেশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, এসপি স্যার অসাধারণ ছবি এঁকেছেন। যেন দক্ষ হাতে রঙতুলির ছোঁয়া। কলকাতার গভর্মেন্টস কলেজ অব আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটের সহযোগী অধ্যাপক সুমন পাল বলেন, পাখির ছবি এঁকে আমাদের মুগ্ধ করেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। রঙতুলিতে তিনি নান্দনিকতার পরিচয় দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আফসার আহমদ, নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অশোক কুমার শীল, এস এম সুলতান শিশু চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশনের সভাপতি শেখ হানিফ, সদস্য সচিব বিমানেশ চন্দ্র বিশ্বাস, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর প্রলয় ঘোষাল, কলকাতার গভর্মেন্টস কলেজ অব আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটের সহযোগী অধ্যাপক সুমন পাল, পশ্চিমবঙ্গের শিল্প সমালোচক পার্থ প্রতিম রায়, আসাদ রহমান প্রমুখ। চিত্রাঙ্কন শেষে শিশুদের মাঝে খাবার প্রদান করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম। এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নড়াইলের সুলতান মঞ্চ চত্বরে উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক এমদাদুল হক চৌধুরী। উৎসব উপলক্ষ্যে বিভিন্ন পণ্যের একাধিক স্টল বসেছে। এছাড়া স্থানীয় চিত্রশিল্পীদের অংশগ্রহণে চিত্রপ্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সুলতান উৎসবে প্রতিদিন সকাল এবং বিকেলে বিভিন্ন ধরণের অনুষ্ঠান রয়েছে। এ দিকে আগামিকাল শনিবার বিকেল ৩টায় সুলতান উৎসবের শেষদিনে নড়াইলের চিত্রা নদীতে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এসএম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় বাবা মেছের আলী ও মা মাজু বিবির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। অসুস্থ অবস্থায় ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার পর নড়াইলে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। চিত্রশিল্পের মূল্যায়ন হিসেবে ১৯৮২ সালে ‘একুশে পদক’, ১৯৮৪ সালে ‘রেসিডেন্ট আর্টিস্ট’ ১৯৮৬ সালে ‘বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা’ এবং ১৯৯৩ সালে ‘স্বাধীনতা পদক’ পেয়েছেন। এ ছাড়াও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ পুরস্কার লাভ করেন।   একে//

নড়াইলে চারদিনব্যাপী সুলতান উৎসব উদ্বোধন

বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৯৪তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে নড়াইলে চারদিনব্যাপী সুলতান উৎসব শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় নড়াইলের সুলতান মঞ্চ চত্বরে ছবি এঁকে উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক এমদাদুল হক চৌধুরী। উৎসব উপলক্ষ্যে বিভিন্ন পণ্যের একাধিক স্টল বসেছে। এছাড়া স্থানীয় চিত্রশিল্পীদের অংশগ্রহণে চিত্রপ্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে পুলিশের আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর প্রতিকৃতি দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কেড়েছে। ছবিটি এঁকেছেন নড়াইলে কর্মরত পুলিশের এএসআই বদিয়ার রহমান মল্লিক। এছাড়া শৈশব স্মৃতিসহ বিভিন্ন ছবি এঁকেছেন স্থানীয় চিত্রশিল্পীরা। এ দিকে প্রতিদিন সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তবে গতকাল বুধবার উৎসবের প্রথমদিনে মেলা তেমন জমে উঠেনি। সুলতান উৎসবে প্রতিদিন সকাল এবং বিকেলে বিভিন্ন ধরণের অনুষ্ঠান রয়েছে। এ দিকে আগামি ৮ সেপ্টেম্বর শনিবার সুলতান উৎসবের শেষদিনে নড়াইলের চিত্রা নদীতে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এস এম সুলতান শিশু চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশন এবং বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবং আরএফএল পাইপ অ্যান্ড ফিটিংস, রেইনবো পেইন্টস ও রানার অটোর সহযোগিতায় সুলতান উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসএম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় বাবা মেছের আলী ও মা মাজু বিবির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। অসুস্থ অবস্থায় ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার পর নড়াইলে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। চিত্রশিল্পের মূল্যায়ন হিসেবে ১৯৮২ সালে ‘একুশে পদক’, ১৯৮৪ সালে ‘রেসিডেন্ট আর্টিস্ট’ ১৯৮৬ সালে ‘বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা’ এবং ১৯৯৩ সালে ‘স্বাধীনতা পদক’ পেয়েছেন। এছাড়াও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ পুরস্কার লাভ করেন। একে//

১৮তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী

বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যের এই দেশে শিল্পের নানা শাখা-প্রশাখার চর্চা ও বিকাশে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি নিরন্তর সৃজনশীল কর্মপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে ৫৬ হাজার বর্গমাইলে তথা তৃণমূল পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম আজ জেলা থেকে উপজেলা পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছে । বিশ্বের নানা দেশের সঙ্গে আমাদের সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রম চলছে। এতে আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য যেমন তাদের সামনে উপস্থাপিত হচ্ছে, তেমনি বিদেশি সংস্কৃতির কল্যাণমুখি নানা দিক সম্পর্কে আমাদের জনগণ অবহিত হচ্ছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনের পাশাপাশি বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজন, নাটক, চলচ্চিত্র, চারুকলা, সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি, আলোকচিত্র, বিষয় ভিত্তিক সেমিনার, গবেষণা ও প্রকাশনাবিষয়ক নানামুখী কর্মকাণ্ডসহ পরিবেশন শিল্পের সব শাখার উৎকর্ষ সাধনে নিরন্তর কাজ করে চলেছে। আমাদের চারুশিল্পের সঙ্গে বহির্বিশ্বের যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের অন্যতম মাধ্যম ‘দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশ’। সাইত্রিশ বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রদর্শনী আয়োজিত হয়ে আসছে। এ প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে যেমন শিল্পী প্রতিনিধিরা আসেন তেমনি সারাদেশ থেকে শিল্পীরাও অংশগ্রহণ করে থাকেন। দ্বিবার্ষিক এশীয়ান চারুকলা প্রদর্শনীর সময় সর্বদাই শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগ এ আয়োজনকে ধারাবাহিকভাবে সামনে এগিয়ে নিয়ে এসেছে। বিগত সাইত্রিশ বছর ধরে এক বছর অন্তর এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। দীর্ঘ সময়ের আবর্তন ও আয়োজনের উৎকর্ষতায় আমাদের এই দ্বি-বার্ষিক এশীয়ান হয়ে ওঠেছে চারুশিল্পীদের পারস্পরিক মতবিনিময়ের অনন্য এক প্ল্যাটফর্ম। এবার বসছে দ্বি-বার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশ-এর ১৮তম আসর। বিশ্বের ৬৮ দেশের চারুশিল্পীরা এ শিল্পযজ্ঞে অংশগ্রহণ করছে। সৃজনশীল প্রয়াসে তারা কাজ করেছেন নানা মাধ্যমে। সমাজ-পরিপার্শ্বের দৃশ্য, সঙ্গতি-অসঙ্গতি নিয়ে কখনো প্রচলিত প্রকাশরীতিতে, কখনও স্থাপনাচিত্র, কখনওবা ভিডিও আর্টের মাধ্যমে সমকালীন জীবনযাত্রা এবং জটিলতাকে তুলে ধরেছেন। আমাদের দেশের শিল্পীরাও বিশেষ করে তরুণ শিল্পীরা নানা নিরীক্ষায়, উপকরণের বিচিত্র প্রয়োগে, করণ-কৌশলের প্রাচুর্যে প্রদর্শনী হলের স্পেসকে সমৃদ্ধ ও আলোকিত করেছেন। এসএইচ/

দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীর উদ্বোধন আজ

বিশ্বের চারুকলার সঙ্গে বাংলাদেশের চারুকলার মেলবন্ধনের অনবদ্য সুযোগ শুরু হচ্ছে আজ শনিবার। আজ বিকেলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ অষ্টাদশ দ্বিবার্ষিক চারুকলা প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় মাসব্যাপী এ প্রদর্শনীর আয়োজন করছে শিল্পকলা একাডেমি। এশিয়ার বৃহত্তম এ চারুকলা প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন ১৯৯ বাংলাদেশি শিল্পী। তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন ১০৭ শিল্পী। পারফরম্যান্স আর্টে অংশ নেবেন ১৬ দেশীয় পারফরম্যান্স আর্টিস্ট এবং বিশেষ আমন্ত্রণে অংশ নিচ্ছেন ৬৩ শিল্পী। সব মিলিয়ে ২৬৬ বিদেশি শিল্পী অংশ নেবেন এশিয়ান আর্ট বিয়েনালের অষ্টাদশতম আসরে। যাদের মধ্যে ২২৩ শিল্পী প্রতিযোগিতায় শিল্পকর্ম জমা দিয়েছেন, ২৯ জন বিশেষ আমন্ত্রণে অংশ নিচ্ছেন এবং ১৪ জন পারফরম্যান্স আর্টে অংশ নেবেন। এবারের আয়োজনে থাকবে দেশি-বিদেশি শিল্পীদের মোট ৩৬৮ চিত্রকর্ম, ছাপচিত্র ও আলোকচিত্র, ৩৩টি ভাস্কর্য, ৫২টি ইলাস্ট্রেশন আর্ট এবং ৩০ পারফরম্যান্স আর্টিস্টের শিল্পনৈপুণ্য প্রদর্শনী। সব মিলিয়ে দেশ-বিদেশের ৪৬৫ শিল্পীর ৫৮৩টি শিল্পকর্ম উপস্থাপিত হবে প্রদর্শনীতে। সেপ্টেম্বরজুড়ে শিল্পরসিকরা সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চিত্রশালার ছয়টি গ্যালারিতে অবলোকন করতে পারবেন এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীর শিল্পকর্মগুলো। ২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রদর্শনী চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালে যাত্রা শুরুর বছরে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা ছিল ১৪টি। ৩৭ বছর পর অষ্টাদশ আসরে অংশ নিচ্ছে ৬৮টি দেশ। নামের সঙ্গে এশিয়া জড়িয়ে থাকলেও সব মহাদেশের দেশই অংশ নিতে যাচ্ছে এ আয়োজনে। এসএ/    

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি