ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ৪:৪২:৪২

শিশুনাট্য কর্মশালা এবং শিশু চলচ্চিত্র উৎসব

শিশুনাট্য কর্মশালা এবং শিশু চলচ্চিত্র উৎসব

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় ‘পিপল্স ফিল্ম সোসাইটি’ আয়োজন করছে দুই দিনব্যাপী ‘শিশু চলচ্চিত্র উৎসব ২০১৮’। ২১-২২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ডিজিটাল কালচারাল আর্কাইভে অনুষ্ঠি হবে এই অনুষ্ঠান। এই উৎসবে থাকছে চলচ্চিত্র নির্মাণ কর্মশালা, সিনেমা নির্মাণের গল্প এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে। কর্মশালার প্রশিক্ষক হিসেবে থাকবেন মো. আবিদ মল্লিক ও হায়দার রিজভী। নিজেদের সিনেমা নির্মাণের গল্প বলার জন্য উপস্থিত থাকবেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম এবং শামীম আখতার। প্রতিদিন ৩টা থেকে প্রদর্শিত হবে শিশুতোষ ও শিশু নির্মাতাদের নির্বাচিত চলচ্চিত্র। বিকাল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, উপস্থিত থাকবেন ‘পিপলস ফিল্ম সোসাইটি’র প্রধান উপদেষ্টা, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। ২১ তারিখে প্রদর্শিত হবে সৈয়দা আবয়ার জ্বোহা দ্রাহার ‘দ্যা রেজাল্ট’, মো. শরীফুল ইসলাম শামীমের ‘কিশোরীর হাত’, রাজু আহমেদ রানক ও দেওয়ান সানজিদুল আরাফাতের ‘বাঁশের খেলনা’, তারেক আজিজ নিশকের ‘সমান্তরাল যাত্রা’, সুমনা সিদ্দিকী’র ‘মাধো’ এবং মোরশেদুল ইসলামের ‘আঁখি ও তার বন্ধুরা’। ২২ সেপ্টেম্বর, বিকাল ৩টা থেকে প্রদর্শিত হবে শরীফুল ইসলাম শামীমের ‘ছোট বন্ধু’, নিশাত তাসনীম ঐশীর ‘তোমার জন্য’, নহিদা হাসানাত ও সিফাতুল ইহসান অপূর্বর ‘বাক্সবন্দি’, মো. মাসুদের ‘কাগজের নৌকা’, রহমান লেলিনের ‘মন ফড়িং’, মো. আবিদ মল্লিকের ‘এ লিটল রেড কার’, লুসি তৃপ্তি গোমেজের ‘ডাকঘর’ এবং প্রয়াত চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদের ‘মাটির ময়না’। উল্লেখ্য, ১২-১৫ বছর বয়সী শিশুরা কর্মশালায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। অংশগ্রহণে ইচ্ছুক শিশু বা তার অভিভাবকগণকে ০১৬৮৩৯৫৮৯৯৬ নম্বরে ফোন করে অথবা ইমেইলের মাধ্যমে pfspta@gmail.com যোগাযোগ করতে হবে। চলচ্চিত্র প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত। এছাড়াও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় এবং পিপলস থিয়েটার এসোসিয়েশন এর ব্যবস্থাপনায় ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১.৩০টা পর্যন্ত একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার হল, সেমিনার কক্ষ এবং ১ ও ২ নং মহড়া কক্ষে শিশুনাট্য কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। কর্মশালায় মূখ্য প্রশিক্ষক হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শিশুবন্ধু লিয়াকত আলী লাকী। এসএইচ/
ধর্ম এক হলেও তুর্কি-বাঙালি সংস্কৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে ‘তুর্কি জীবন ধারা: অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।   ইনস্টিটিউটের নিজস্ব হল রুমে অনুষ্ঠিত সেমিনারে একক বক্তা হিসেবে সাহিত্যিক, তুর্কি স্কলারশিপ ফেলো ও গণবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সরোজ মেহেদী ঘন্টাব্যাপী বক্তব্য রাখেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক, ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. শিশির ভট্টাচার্য্য। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মনির উদ্দিন, সাবরিনা চৌধুরী, মিজানুর রহমান, রফিকুম মুনির চৌধুরী, একেএম জাকারিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।    পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনে সরোজ মেহেদী তুর্কিদের জীবন ও সমাজ ব্যবস্থার নানাদিক আলোকচিত্র ও ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরেন।    তরুণ এই শিক্ষক বলেন, বিজেতা জাতি হিসেবে সারাবিশ্বের মুসলমানদের ওপর তুর্কিদের একটা প্রভাব রয়েছে।আমরা বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার মুসলমানদের মধ্যেও বিষয়টা দেখি। তবে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হলেও তুর্কি-বাঙালি সংস্কৃতি একদমই ভিন্ন। এটা আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষেরই জানার সুযোগ হয় না। বক্তা বলেন, তুর্কিদের নিজস্ব একটি জীবনধারণ পদ্ধতি আছে। যা আধুনিক ও ইউরোপ দ্বারা প্রভাবিত। যেমন সেখানকার মেয়েরা চলনে বলনে আধুনিক। তাদের একটা বিশাল সংখ্যা পুরুষদের পাশাপাশি কাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়, হাট-বাজার, রাস্তা ঘাটে মেয়েদের উপস্থিতি কখনো কখনো ছেলেদের চেয়ে বেশি মনে হয়। ফলে ধর্ম এক হওয়ার পরও তাদের জীবনাচার পুরো মুসলিম বিশ্ব থেকে ভিন্ন।    মেহেদী তার উপস্থাপনায় তুর্কিদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের ধরণ, খাদ্যাভাষা, পোষাক পরিচ্ছেদসহ জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন। তিনি তুরস্কে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে চলমান সংঘাত ও ভাষা বৈষম্য নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন।  সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. শিশির ভট্টাচার্য্য বিভিন্ন দেশ ও জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে আন্ত সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বাড়ানো দরকার বলে মত দেন। তিনি সেমিনারে আসা সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাঙালি সংস্কৃতির দিকগুলো দেশের বাইরে তুলে ধরতে আহবান জানান।   কেআই/এসি     

বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে মাসব্যাপী ১৮তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশ ২০১৮’-এর উদ্বোধন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এবার এই আয়োজনের ১৮তম আসরে বিশ্বের ৬৮ দেশের চারুশিল্পীরা অংশগ্রহণ করছে। ১৮তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে প্রতি শুক্রবার শিশুদের জন্য বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ৭, ১৪, ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর বেলা ৩.৩০টা থেকে ৫টা পর্যন্ত শিশুদের নিয়ে এই আয়োজন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর পরিকল্পনায় এই আয়োজনে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুরা চিত্রাঙ্কনে অংশগ্রহণ করেছেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে থাকছে পাপেট শো, আবৃত্তি, গল্পবলা, আ্যাক্রোবেটিক, ক্লাউন শো, মাইম ও যাদু প্রদর্শনী ও নৃত্য পরিবেশনা। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শুরুর আগে শিশু কর্ণারে চিত্রাঙ্কনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন শিশু কর্ণারে প্রদর্শনীতে আগত শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কনের ব্যবস্থা রয়েছে। ১৪ সেপ্টেম্বরের সংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্যে মাল্টিমিডিয়া পাপেট এর পরিবেশনায় পাপেট শো, উলফাৎ কবির-এর যাদু প্রদর্শনী, বিশেষ শিশুদল কারিশমা-এর আবৃত্তি পরিবেশনা, একাডেমির অ্যাক্রোবেটিক দলের প্রদর্শনী এবং দলীয় নৃত্য পরিবেশন করবেন এস ও এস শিশুপল্লী, স্কলার্স স্পেশাল স্কুল, অটিজম কেয়ার অ্যান্ড একটিভিটিজ এর শিল্পীরা । ১৮তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী ২০১৮-এর প্রদর্শনী চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত। এসএইচ/

নড়াইলে সুলতান উৎসবে শিশুদের মিলনমেলা

বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৯৪তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে নড়াইলে চারদিনব্যাপী সুলতান উৎসবের তৃতীয়দিনে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে নড়াইলের সুলতান মঞ্চ চত্বরে ছবি এঁকে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় ৫০০ শতাধিক শিশু অংশগ্রহণ করে। এ সময় পাখির ছবি এঁকে দর্শকসহ দেশ-বিদেশের অতিথিদের মুগ্ধ করেন নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। এ প্রসঙ্গে চিত্রশিল্পী বিমানেশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, এসপি স্যার অসাধারণ ছবি এঁকেছেন। যেন দক্ষ হাতে রঙতুলির ছোঁয়া। কলকাতার গভর্মেন্টস কলেজ অব আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটের সহযোগী অধ্যাপক সুমন পাল বলেন, পাখির ছবি এঁকে আমাদের মুগ্ধ করেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। রঙতুলিতে তিনি নান্দনিকতার পরিচয় দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আফসার আহমদ, নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অশোক কুমার শীল, এস এম সুলতান শিশু চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশনের সভাপতি শেখ হানিফ, সদস্য সচিব বিমানেশ চন্দ্র বিশ্বাস, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর প্রলয় ঘোষাল, কলকাতার গভর্মেন্টস কলেজ অব আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটের সহযোগী অধ্যাপক সুমন পাল, পশ্চিমবঙ্গের শিল্প সমালোচক পার্থ প্রতিম রায়, আসাদ রহমান প্রমুখ। চিত্রাঙ্কন শেষে শিশুদের মাঝে খাবার প্রদান করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম। এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নড়াইলের সুলতান মঞ্চ চত্বরে উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক এমদাদুল হক চৌধুরী। উৎসব উপলক্ষ্যে বিভিন্ন পণ্যের একাধিক স্টল বসেছে। এছাড়া স্থানীয় চিত্রশিল্পীদের অংশগ্রহণে চিত্রপ্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সুলতান উৎসবে প্রতিদিন সকাল এবং বিকেলে বিভিন্ন ধরণের অনুষ্ঠান রয়েছে। এ দিকে আগামিকাল শনিবার বিকেল ৩টায় সুলতান উৎসবের শেষদিনে নড়াইলের চিত্রা নদীতে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এসএম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় বাবা মেছের আলী ও মা মাজু বিবির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। অসুস্থ অবস্থায় ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার পর নড়াইলে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। চিত্রশিল্পের মূল্যায়ন হিসেবে ১৯৮২ সালে ‘একুশে পদক’, ১৯৮৪ সালে ‘রেসিডেন্ট আর্টিস্ট’ ১৯৮৬ সালে ‘বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা’ এবং ১৯৯৩ সালে ‘স্বাধীনতা পদক’ পেয়েছেন। এ ছাড়াও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ পুরস্কার লাভ করেন।   একে//

নড়াইলে চারদিনব্যাপী সুলতান উৎসব উদ্বোধন

বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৯৪তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে নড়াইলে চারদিনব্যাপী সুলতান উৎসব শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় নড়াইলের সুলতান মঞ্চ চত্বরে ছবি এঁকে উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক এমদাদুল হক চৌধুরী। উৎসব উপলক্ষ্যে বিভিন্ন পণ্যের একাধিক স্টল বসেছে। এছাড়া স্থানীয় চিত্রশিল্পীদের অংশগ্রহণে চিত্রপ্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে পুলিশের আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর প্রতিকৃতি দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কেড়েছে। ছবিটি এঁকেছেন নড়াইলে কর্মরত পুলিশের এএসআই বদিয়ার রহমান মল্লিক। এছাড়া শৈশব স্মৃতিসহ বিভিন্ন ছবি এঁকেছেন স্থানীয় চিত্রশিল্পীরা। এ দিকে প্রতিদিন সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তবে গতকাল বুধবার উৎসবের প্রথমদিনে মেলা তেমন জমে উঠেনি। সুলতান উৎসবে প্রতিদিন সকাল এবং বিকেলে বিভিন্ন ধরণের অনুষ্ঠান রয়েছে। এ দিকে আগামি ৮ সেপ্টেম্বর শনিবার সুলতান উৎসবের শেষদিনে নড়াইলের চিত্রা নদীতে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এস এম সুলতান শিশু চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশন এবং বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবং আরএফএল পাইপ অ্যান্ড ফিটিংস, রেইনবো পেইন্টস ও রানার অটোর সহযোগিতায় সুলতান উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসএম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় বাবা মেছের আলী ও মা মাজু বিবির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। অসুস্থ অবস্থায় ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার পর নড়াইলে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। চিত্রশিল্পের মূল্যায়ন হিসেবে ১৯৮২ সালে ‘একুশে পদক’, ১৯৮৪ সালে ‘রেসিডেন্ট আর্টিস্ট’ ১৯৮৬ সালে ‘বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা’ এবং ১৯৯৩ সালে ‘স্বাধীনতা পদক’ পেয়েছেন। এছাড়াও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ পুরস্কার লাভ করেন। একে//

১৮তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী

বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যের এই দেশে শিল্পের নানা শাখা-প্রশাখার চর্চা ও বিকাশে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি নিরন্তর সৃজনশীল কর্মপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে ৫৬ হাজার বর্গমাইলে তথা তৃণমূল পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম আজ জেলা থেকে উপজেলা পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছে । বিশ্বের নানা দেশের সঙ্গে আমাদের সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রম চলছে। এতে আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য যেমন তাদের সামনে উপস্থাপিত হচ্ছে, তেমনি বিদেশি সংস্কৃতির কল্যাণমুখি নানা দিক সম্পর্কে আমাদের জনগণ অবহিত হচ্ছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনের পাশাপাশি বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজন, নাটক, চলচ্চিত্র, চারুকলা, সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি, আলোকচিত্র, বিষয় ভিত্তিক সেমিনার, গবেষণা ও প্রকাশনাবিষয়ক নানামুখী কর্মকাণ্ডসহ পরিবেশন শিল্পের সব শাখার উৎকর্ষ সাধনে নিরন্তর কাজ করে চলেছে। আমাদের চারুশিল্পের সঙ্গে বহির্বিশ্বের যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের অন্যতম মাধ্যম ‘দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশ’। সাইত্রিশ বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রদর্শনী আয়োজিত হয়ে আসছে। এ প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে যেমন শিল্পী প্রতিনিধিরা আসেন তেমনি সারাদেশ থেকে শিল্পীরাও অংশগ্রহণ করে থাকেন। দ্বিবার্ষিক এশীয়ান চারুকলা প্রদর্শনীর সময় সর্বদাই শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগ এ আয়োজনকে ধারাবাহিকভাবে সামনে এগিয়ে নিয়ে এসেছে। বিগত সাইত্রিশ বছর ধরে এক বছর অন্তর এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। দীর্ঘ সময়ের আবর্তন ও আয়োজনের উৎকর্ষতায় আমাদের এই দ্বি-বার্ষিক এশীয়ান হয়ে ওঠেছে চারুশিল্পীদের পারস্পরিক মতবিনিময়ের অনন্য এক প্ল্যাটফর্ম। এবার বসছে দ্বি-বার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশ-এর ১৮তম আসর। বিশ্বের ৬৮ দেশের চারুশিল্পীরা এ শিল্পযজ্ঞে অংশগ্রহণ করছে। সৃজনশীল প্রয়াসে তারা কাজ করেছেন নানা মাধ্যমে। সমাজ-পরিপার্শ্বের দৃশ্য, সঙ্গতি-অসঙ্গতি নিয়ে কখনো প্রচলিত প্রকাশরীতিতে, কখনও স্থাপনাচিত্র, কখনওবা ভিডিও আর্টের মাধ্যমে সমকালীন জীবনযাত্রা এবং জটিলতাকে তুলে ধরেছেন। আমাদের দেশের শিল্পীরাও বিশেষ করে তরুণ শিল্পীরা নানা নিরীক্ষায়, উপকরণের বিচিত্র প্রয়োগে, করণ-কৌশলের প্রাচুর্যে প্রদর্শনী হলের স্পেসকে সমৃদ্ধ ও আলোকিত করেছেন। এসএইচ/

দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীর উদ্বোধন আজ

বিশ্বের চারুকলার সঙ্গে বাংলাদেশের চারুকলার মেলবন্ধনের অনবদ্য সুযোগ শুরু হচ্ছে আজ শনিবার। আজ বিকেলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ অষ্টাদশ দ্বিবার্ষিক চারুকলা প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় মাসব্যাপী এ প্রদর্শনীর আয়োজন করছে শিল্পকলা একাডেমি। এশিয়ার বৃহত্তম এ চারুকলা প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন ১৯৯ বাংলাদেশি শিল্পী। তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন ১০৭ শিল্পী। পারফরম্যান্স আর্টে অংশ নেবেন ১৬ দেশীয় পারফরম্যান্স আর্টিস্ট এবং বিশেষ আমন্ত্রণে অংশ নিচ্ছেন ৬৩ শিল্পী। সব মিলিয়ে ২৬৬ বিদেশি শিল্পী অংশ নেবেন এশিয়ান আর্ট বিয়েনালের অষ্টাদশতম আসরে। যাদের মধ্যে ২২৩ শিল্পী প্রতিযোগিতায় শিল্পকর্ম জমা দিয়েছেন, ২৯ জন বিশেষ আমন্ত্রণে অংশ নিচ্ছেন এবং ১৪ জন পারফরম্যান্স আর্টে অংশ নেবেন। এবারের আয়োজনে থাকবে দেশি-বিদেশি শিল্পীদের মোট ৩৬৮ চিত্রকর্ম, ছাপচিত্র ও আলোকচিত্র, ৩৩টি ভাস্কর্য, ৫২টি ইলাস্ট্রেশন আর্ট এবং ৩০ পারফরম্যান্স আর্টিস্টের শিল্পনৈপুণ্য প্রদর্শনী। সব মিলিয়ে দেশ-বিদেশের ৪৬৫ শিল্পীর ৫৮৩টি শিল্পকর্ম উপস্থাপিত হবে প্রদর্শনীতে। সেপ্টেম্বরজুড়ে শিল্পরসিকরা সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চিত্রশালার ছয়টি গ্যালারিতে অবলোকন করতে পারবেন এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীর শিল্পকর্মগুলো। ২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রদর্শনী চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালে যাত্রা শুরুর বছরে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা ছিল ১৪টি। ৩৭ বছর পর অষ্টাদশ আসরে অংশ নিচ্ছে ৬৮টি দেশ। নামের সঙ্গে এশিয়া জড়িয়ে থাকলেও সব মহাদেশের দেশই অংশ নিতে যাচ্ছে এ আয়োজনে। এসএ/    

আজও মুগ্ধ করে অতুল প্রসাদের গান

‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা/ তোমার কোলে, তোমার বোলে, কতই শান্তি ভালবাসা/ এমন গানের কথা কার না হৃদয় ছুঁয়ে যায়। বাংলাদেশের  ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের মধ্যে অফুরন্ত প্রেরণা জুগিয়েছে এই গান। অতুলপ্রসাদের এ গান আজও মুগ্ধ করে আমাদের। যে মুগ্ধতা ছড়িয়ে যাচ্ছে যুগের পর যুগ। গতকাল ছিল অতুলপ্রসাদের মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৩৪ সালের ২৬ আগস্ট তিনি প্রয়াত হন। বর্ণাঢ্য ও বৈচিত্রময় জীবনের অতুল প্রসাদের জন্ম ১৮৭১ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকায় তার-ই মাতুলালয়ে। তার পৈতৃক বাড়ি ছিল দক্ষিণ বিক্রমপুরে। তার পিতার নাম রামপ্রসাদ সেন এবং মায়ের নাম হেমন্তশশী।অতি অল্পবয়সেই বাবাকে হারিয়েছিলেন অতুলপ্রসাদ। এরপর মাতামহ কালীনারায়ণ গুপ্তের কাছে প্রতিপালিত হন তিনি। পিতাকে হারানোর পর তার বিধবা মা হেমন্তশশী দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ-এর জ্যাঠামশাই দুর্গামোহন দাশকে বিবাহ করেন। এতে তিনি মানসিকভাবে অত্যন্ত আঘাত পান। তখন তিনি প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কলেজে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।এরপর মামাদের অনুরোধে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে (এখন বিশ্ববিদ্যালয়) ভর্তি হন। ১৮৯০ সালে বিলেত যান ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য, তার মামারা তাকে বিলেত যাবার ব্যবস্থা করেন। ইংল্যান্ডে যাবার সময় জাহাজে বসে তিনি রচনা করেছিলেন ‘উঠ গো ভারতলক্ষ্মী’ গানটি। লন্ডনে গিয়ে তিনি আইন শিক্ষা করেন এবং আইন পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হন।অসম্ভব দানশীল অতুলপ্রসাদ জীবনের উপার্জিত অর্থের অধিকাংশই ব্যয় করেছিলেন জনকল্যাণে। এমন কী তিনি তার বাড়িটিও দান করে গিয়েছিলেন। মৃত্যুর আগে তিনি তার লেখা সমস্ত গ্রন্থের স্বত্ব বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে দান করে যান। গানের জন্য চিরকাল বাঙালির হৃদয়ে বেঁচে রইবেন অতুল প্রসাদ সেন। এসএ/

শহিদুল আলমের কাজ প্রশংসার দাবিদার: অমর্ত্য সেন

কারাবন্দি আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের দীর্ঘ দিনের কাজকে প্রশংসা করেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। অমর্ত্য সেন আলোকচিত্রীকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়ে তার সাহসী সাংবাদিকতার সমর্থন দিয়েছেন। শহিদুল আলমের পক্ষে প্রচারণা চালানো ভারতীয় আলোকচিত্রীদের একটি দলের কাছে অমর্ত্য সেন বলেন, গণতন্ত্রের জন্য ফটোসাংবাদিকতার ভেতর দিয়ে হোক বা অন্যভাবে গণতন্ত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দুর্দান্ত দক্ষতা ও সাহসিকতার সঙ্গে দীর্ঘকাল ধরে কাজ করতে থাকা শহিদুল আলমের কাজগুলোর প্রশংসা করার যৌক্তিকতা আছে। তাঁর কাজ নিন্দার বদলে প্রশংসার দাবিদার। গত ৫ আগস্ট রাতে শহিদুল আলমকে তার ধানমণ্ডির বাসা থেকে আটক করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরে সরকারের বিরুদ্ধে গুজব ও ভুল তথ্য প্রচারের অভিযোগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বিচারিক আদালত তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে মার্কিন ভাষাতাত্ত্বিক নোয়াম চমস্কি, লেখক অরুন্ধতী রায়, লেখকদের সংগঠন পেন ইন্টারন্যাশনাল, সাংবাদিকদের সংগঠন আরএসএফ, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে) শহিদুল আলমের পক্ষে বিবৃতি দেয়। আরকে//

লিয়াকত আলী পাচ্ছেন ভূপেন হাজারিকা অ্যাওয়ার্ড

ভারতের আসামের গৌহাটিতে কর্মশ্রী হিতেস্বর সাইকিয়া মিলনায়তনে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ‘ব্যতিক্রম মাস অ্যাওয়ারনেস এন্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অরগানাইজেশন’ আয়োজন করতে যাচ্ছে উপমহাদেশের কিংবদন্তী সঙ্গীত শিল্পী ভূপেন হাজারিকার ৯২তম জন্ম জয়ন্তী। ভূপেন হাজারিকার ৯২তম জন্ম জয়ন্তী অনুষ্ঠানের সহযোগিতায় রয়েছে ভূপেন হাজারিকা কালচারাল ট্রাস্ট, ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ: ঢাকা এবং আসাম, আইসিসিআর এবং আসাম সরকারের সংস্কৃতি বিভাগ। এবারের এই আয়োজনে ‘ড. ভূপেন হাজারিকা ব্যতিক্রম ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড ২০১৮’ পাচ্ছেন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। লিয়াকত আলী লাকীর আদর্শিক নেতা ও গুরু ভূপেন হাজারিকা। তার কাছে গান শিখেছেন তিনি। ছাত্র জীবনের উত্তাল তারূণ্যে ভূপেন হাজারিকার গান কন্ঠে ধারণ করে সবাইকে চমক লাগাতেন সত্তর ও আশির দশকের মঞ্চমাতানো এই শিল্পী। তখন থেকেই বাংলাদেশি ভূপেন হাজারিকার তকমাটি পড়ে তৎকালীন ডাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক লিয়াকত আলী লাকীর নামের সঙ্গে। ১৯৭৫ পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু ও ভূপেন হাজারিকার গান নিয়ে সারা বাংলায় অনুষ্ঠান করেছেন লিয়াকত আলী লাকী। একটা সময় ভূপেন হাজারিকার সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে তার গান শুনে ভূপেন হাজারিকা বলেন ‘তুমিতো বাংলাদেশের ভূপেন হাজারিকা। ভারতের আসামের গৌহাটিতে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ কর্মশ্রী হিতেস্বর সাইকিয়া মিলনায়তনে আয়োজিত ভূপেন হাজারিকার ৯২তম জন্ম জয়ন্তী অনুষ্ঠানে ‘ড. ভূপেন হাজারিকা ব্যতিক্রম ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড ২০১৮’ গ্রহণ করার জন্য লিয়াকত আলী লাকী গৌহাটি যাবেন। ড. ভূপেন হাজারিকা ব্যতিক্রম ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড ২০১৮ প্রাপ্তিতে লিয়াকত আলী লাকী বলেন, আমি আবেগ আপ্লুত। পঁচাত্তরের পরে বঙ্গবন্ধুর গান, দেশের গান, গণসঙ্গীত বিশেষ করে ভূপেন হাজারিকার গান গেয়ে সারা বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার চেয়েছি এবং বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার তার প্রতিবাদ করেছি। আজকে সেই বরেণ্য শিল্পীর নামে যে পদকটি আমাকে দেওয়া হচ্ছে সেটি শুধু আমার জন্য পরম পাওয়া নয় দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্যও পরম পাওয়া। এসএইচ/  

শিল্পকলা একাডেমিতে কবিতায় বঙ্গবন্ধু : শ্রাবণের শোকগাঁথা

দেশের বিশিষ্ট বাচিক শিল্পীরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধা জানালেন তাদের দরাজ কণ্ঠে দেড় ঘণ্টাব্যাপী বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত বিভিন্ন কবির কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে। রোববার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ যৌথভাবে ‘কবিতায় বঙ্গবন্ধু : শ্রাবণের শোকগাথা’  শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে  অনুষ্ঠিত আবৃত্তি অনুষ্ঠানটি হলভর্তি দর্শক শ্রোতা উপভোগ করেন। এই শোকগাঁথা আবৃত্তি অনুষ্ঠানে দেশের খ্যাতিমান ও তরুণ ত্রিশজন বাচিক শিল্পী বঙ্গবন্ধুর ওপর কবিতা আবৃত্তি করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রবীণ আবৃত্তি শিল্পী ও অভিনেতা সৈয়দ হাসান ইমাম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে বলেন, বাঙালি জাতির স্বাধীনতাকে এনে দিয়েই শুধু বঙ্গবন্ধু থেমে থাকেননি, দেশকে তিনি সার্বিকভাবে গড়ে দিয়ে গেছেন। দেশের আর্থ-সামাজিক ও রাষ্টীয় জীবনের সবদিকেই তার দেশ গড়ার ছোঁয়া রয়েছে। ঘাতকরা তাকে হত্যা করে বাঙালির জীবন থেকে তাকে মুছে দিতে পারেনি। তার প্রমাণ হচ্ছে, বঙ্গবন্ধু জাতির জীবনে আজও প্রভূত সাহস যুগিয়ে যাচ্ছেন তার কীর্তির মাধ্যমে। স্বাগত ভাষণে আবৃক্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বাচিক শিল্পী আহকামউল্লাহ বলেন, বাঙালি জাতির মহানায়ক বঙ্গবন্ধুর ওপর আমাদের কবিরা যত কবিতা লিখেছেন, তা উল্লেখ করার মত। কবিরা জাতির জনককে এতোটা ভালবাসেন তা তাদের কবিতায়ই উঠে এসেছে। তার শাহাদাতবার্ষিকীতে নতুন প্রজন্মের মানুষের মাঝে এইসব কবিতা উপস্থাপানের জন্যই এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করেন শিল্পী সৈয়দ হাসান ইমাম, আশরাফুল আলম, ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, রূপা চক্রবর্তী, ডালিয়া আহমেদ, বেলায়েত হোসেন, গোলাম সারোয়ার, ইস্তেকবাল হোসেন, হাসান আরিফ, শিমুল ইউসুফ, মাহিদুল ইসলাম, এনামুল হক বাবু, মাশকূর-এ-সাত্তার কল্লোল, ফয়জুল আলম পাপ্পু, ড. শাহাদাৎ হোসেন নিপু, নায়লা তারান্নুম কাকলী, মীর মাসরুর জামান রনি, মাসুদুজ্জামান, মজুমদার বিপ্লব, মাসুম আজিজুল বাশার, আহসানউল্লাহ্ তমাল, মনিরুল ইসলাম, শিরিন ইসলাম, মিজানুর রহমান সজল, ঝর্না সরকার ও জামাল উদ্দীন হীরা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস ২০১৮ উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমির মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।  এছাড়াও আর্টক্যাম্প, চিত্রকর্ম প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, বঙ্গবন্ধুর উপর রচিত বইয়ের পাঠ ও পর্যালোচনা, কারাগারের রোজনামচা ও বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী থেকে পাঠ, কবিতায় বঙ্গবন্ধু ‘শ্রাবণের শোকগাঁথা, নৃত্যনাট্য-যতদিন রবে পদ্মা মেঘনা, ঢাকা থেকে টুঙ্গীপাড়া ‘শতবাউল শিল্পীদের শিল্পযাত্রা’ পথে পথে শ্রদ্ধাঞ্জলি, মহাপ্রয়াণের শোক আখ্যান নাটক ‘শ্রাবণ ট্রাজেডি’ এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধুর মহান সংগ্রাম জীবন-ভিত্তিক ঐতিহাসিক নাট্যালেখ্য ‘মুজিব মানে মুক্তি’ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কর্মসূচি পালন করছে একাডেমি। সূত্র: বাসস। কেআই/ এসএইচ/

জাবিতে সেলিম আল দীন জন্মজয়ন্তী উদযাপন শুরু

নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ৬৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী জন্মজয়ন্তী উদযাপন শুরু হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ এ আয়োজন করেছে। তিনি এ বিভাগের শিক্ষাগুরু ছিলেন।সেলিম আল দীন জন্মজয়ন্তী উদযাপন কমিটি-২০১৮-এর আহ্বায়ক ইস্রাফিল আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে নাটক মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে উৎসব শুরু হয়। এ সময় সেলিম আল দীন রচিত ‘গ্রন্থিকগণ কহে’ নাটক মঞ্চায়িত হয়।আজ শুক্রবার একই সময়ে একই স্থানে ‘যৈবতী কন্যার মন’ অবলম্বনে নাটক ‘পরী’ মঞ্চায়িত হবে। সেলিম আল দীনের জন্মদিন ১৮ আগস্টে দিনজুড়ে নাটকের গান, শোভাযাত্রা, সেলিম আল দীনের সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, সেমিনার ও সেলিম আল দীন রচিত নাটক ‘ধাবমান’ ও ‘কিত্তনখোলা’ মঞ্চায়িত হবে।এসএ/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি