ঘুষের টাকাসহ আটক যশোরের প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কারাগারে
প্রকাশিত : ১৯:৫৩, ৮ জানুয়ারি ২০২৬
পেনশন-সংক্রান্ত ফাইল ছাড় করাতে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে দুদকের হাতে আটক যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ১ লাখ ২০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) যশোরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের (ভারপ্রাপ্ত) বিচারক এম এম মোর্শেদ এই আদেশ দেন।
দুদকের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) সিরাজুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গতকাল বুধবার (৭ জানিুয়ারি) বিকেলে নিজ কার্যালয় থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকাসহ আশরাফুল আলমকে আটক করে দুদক।
দুদকের যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয় সূত্র জানায়, বুধবার বিকেলে দুদক যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি দল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে ‘ট্র্যাপ (ফাঁদ) অভিযান’ চালায়। দুদক যশোরের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন ও সহকারী পরিচালক মো. আল আমিনের নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই ফাঁদ পাতা হয়।
সূত্র জানায়, তিন মাস ধরে অভিযোগকারী বসুন্দিয়া খানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুন্নবী দীর্ঘদিন ধরে তাঁর প্রয়াত স্ত্রী শিরিনা আক্তারের পেনশন-সংক্রান্ত ফাইল ছাড় করানোর জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলমের কাছে ধরনা দিচ্ছিলেন। কিন্তু ওই কর্মকর্তা নানা অজুহাতে তাঁকে ঘোরাতে থাকেন। একপর্যায়ে প্রথম দফায় ৮০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার পর আবারও টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে পেনশনের অর্থ ছাড় করা হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি খুলনা বিভাগীয় এক কর্মকর্তার যোগসাজশে তাঁর স্ত্রীর বেতনকাঠামো (বেসিক) কমিয়ে দেওয়া হয় বলেও নুরুন্নবী অভিযোগ করেন।
একপর্যায়ে নুরুন্নবী দুদক কার্যালয়ের দ্বারস্থ হন। দুদক তাঁর অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে ‘ট্র্যাপ অভিযানের’ প্রস্তুতি নেয়। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনের পর বুধবার অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে ওই দিন বিকেলে ফাইল ছাড় করানোর কথা বলে আশরাফুল আলমের হাতে আরও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়। এ সময় দুদক সেখানে অভিযান চালিয়ে তাঁকে হাতেনাতে আটক করে।
এদিকে শিক্ষা কর্মকর্তাকে আটকের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন প্রাথমিক শিক্ষকেরা। তাঁরা দাবি করেন, দুদকের অভিযানের কিছু সময় আগে আশরাফুল আলম বাথরুমে গেলে সেই সুযোগে একটি পক্ষ তাঁর টেবিলে টাকা রেখে যায়। পরে ‘হাতেনাতে আটক’ দেখিয়ে একটি নাটক সাজানো হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা। একই প্রতিবাদে বুধবার রাতেও এসব শিক্ষক দুদকের কার্যালয়ে অবস্থান নেন।
এমআর//
আরও পড়ুন










