নিলয়-হিমির জুটির সাফল্যের রহস্য কোথায়?
প্রকাশিত : ১২:১৬, ২২ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটকের জনপ্রিয় জুটিগুলোর মধ্যে নিলয় আলমগীর ও জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি অন্যতম। দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে অভিনয় করে তাঁরা তৈরি করেছেন নিজস্ব দর্শকগোষ্ঠী। রোমান্টিক গল্প, পারিবারিক টানাপোড়েন, হাস্যরস এবং স্বাভাবিক অভিনয়ের সমন্বয়ে তাঁদের জুটি পেয়েছে ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা।
ইউটিউবে তাঁদের অভিনীত একাধিক নাটকের কোটি কোটি ভিউ সেই জনপ্রিয়তারই একটি উল্লেখযোগ্য প্রমাণ।
২০১৬ সালে ‘জলে ভেজা রং’ নাটকের মাধ্যমে নিলয় ও হিমির একসঙ্গে অভিনয়ের যাত্রা শুরু হয়। পরে ‘বন্ধুর বউ’ নাটকের মাধ্যমে আলোচনায় আসে তাঁদের জুটি।
এরপর ‘আমরা গরিব’, ‘সংসার আমার ভাল্লাগে না’, ‘ব্রেকআপ কোনো ব্যাপার না’, ‘ভুতুড়ে প্রেম’, ‘হবু ঘরজামাই’ ও ‘বিপদে পড়ে বিয়ে’র মতো নাটকে অভিনয় করে তাঁরা দর্শকদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ জুটি একসঙ্গে দেড় শতাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন।
‘শ্বশুরবাড়িতে ঈদ’ গড়েছে নতুন রেকর্ড
নিলয়-হিমি জুটির সবচেয়ে আলোচিত সাফল্যের উদাহরণ ‘শ্বশুরবাড়িতে ঈদ’। মহিন খান পরিচালিত নাটকটি ২০২৪ সালের রোজার ঈদের পর প্রকাশিত হয়। ২০২৫ সালের জুনে নাটকটি ইউটিউবে ছয় কোটি ভিউ অতিক্রম করে এবং আট বছর ধরে শীর্ষে থাকা ‘বড় ছেলে’র রেকর্ড ভাঙে। পরবর্তী সময়ে নাটকটির ভিউ আরও বেড়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এর ভিউ প্রায় ৭ কোটি ৫২ লাখ বলে উল্লেখ করা হয়।
নাটকটির গল্পে ঈদে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যাওয়া জামাইকে ঘিরে তৈরি হয় নানা হাস্যকর পরিস্থিতি। শ্বশুরের কৃপণতা, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং ফিতরা-জাকাত দেওয়ার মতো বিষয়কে কমেডির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। পরিচিত পারিবারিক পরিবেশের সঙ্গে হাস্যরস ও সামাজিক বার্তার সমন্বয় নাটকটিকে দর্শকের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে বলে সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
ইউটিউব ভিউয়ে এগিয়ে তাঁদের একাধিক নাটক
‘শ্বশুরবাড়িতে ঈদ’ ছাড়াও নিলয়-হিমি জুটির ‘মামার বাড়ি’, ‘সংসার আমার ভাল্লাগে না’, ‘গরিবের বড়লোক চাকর’ ও ‘চাচা ভাতিজা জিন্দাবাদ’ উল্লেখযোগ্য দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এসব নাটকের ভিউ যথাক্রমে প্রায় ৬ কোটি ২৫ লাখ, ৫ কোটি ৭৭ লাখ, ৫ কোটি ২৫ লাখ এবং ৫ কোটি ৯ লাখের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়।
এ পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, তাঁদের জনপ্রিয়তা শুধু একটি নাটকে সীমাবদ্ধ নয়। একাধিক নাটকে ধারাবাহিকভাবে বিপুল ভিউ পাওয়া তাঁদের জুটির প্রতি দর্শকের আগ্রহের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তবে ইউটিউবের ভিউ দিয়ে সব দর্শকের পছন্দ বা নাটকের সামগ্রিক মান নির্ধারণ করা যায় না।
কেন দর্শক পছন্দ করেন এই জুটিকে?
নিলয় ও হিমির জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ তাঁদের পর্দার রসায়ন ও পারস্পরিক বোঝাপড়া। নিলয় আলমগীরের ভাষ্য অনুযায়ী, সহশিল্পী হিসেবে হিমির সঙ্গে তাঁর ভালো বোঝাপড়া এবং দর্শক, পরিচালক ও প্রযোজকদের পছন্দ তাঁদের জুটি টিকে থাকার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে হিমিও তাঁদের একসঙ্গে কাজ করার ধারাবাহিকতা এবং দর্শকের ভালোবাসার কথা উল্লেখ করেছেন।
তাঁদের নাটকের গল্পেও রয়েছে বৈচিত্র্য। কখনো প্রেম ও বিয়েকে কেন্দ্র করে, কখনো শ্বশুরবাড়ির সম্পর্ক, আবার কখনো পারিবারিক ভুল-বোঝাবুঝি ও সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে তৈরি হয় কাহিনি। এসব পরিচিত বিষয়কে হাস্যরসের সঙ্গে উপস্থাপন করায় দর্শক সহজেই গল্পের সঙ্গে সংযোগ খুঁজে পান।
এ ছাড়া একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা, নিয়মিত নাটক প্রকাশ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সহজলভ্যতা তাঁদের দর্শকগোষ্ঠী ধরে রাখতে সহায়তা করেছে। তাঁদের জুটির জনপ্রিয়তার পেছনে অভিনয়শিল্পীদের পাশাপাশি পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও প্রচারণার ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ।
সাফল্যের পেছনে রয়েছে ধারাবাহিকতা
বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনে জুটি হিসেবে দীর্ঘদিন জনপ্রিয় থাকা সহজ নয়। দর্শকের আগ্রহ ধরে রাখতে প্রয়োজন মানসম্মত গল্প, অভিনয়ের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং সময়ের সঙ্গে দর্শকের রুচির পরিবর্তন বোঝার সক্ষমতা। নিলয়-হিমি জুটির দীর্ঘ কর্মযাত্রা ও একাধিক নাটকের বিপুল ভিউ তাঁদের সেই ধারাবাহিকতার পরিচয় দেয়।
সব মিলিয়ে, পরিচিত গল্পের উপস্থাপন, পর্দার রসায়ন, হাস্যরস এবং ডিজিটাল মাধ্যমে দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সক্ষমতা নিলয় আলমগীর ও হিমির জনপ্রিয়তার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাঁদের সাফল্য প্রমাণ করে, দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে শুধু তারকাখ্যাতি নয়, ধারাবাহিক কাজ এবং গ্রহণযোগ্য গল্পও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ঐ.মিষ্টি//










