ঢাকা, রবিবার   ২১ জুন ২০২৬

বিএনপি কর্মীকে খেয়ে ফেলার হুমকি হানজালার, ভিডিও ভাইরাল

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৯:৫৩, ২১ জুন ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

‘ওই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো’ এভাবেই বিএনপির এক কর্মীকে হুমকি দিলেন মাদারীপুর-১ আসনের এমপি পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা। সালিশ বৈঠকে ওই হুমকির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। 

ভিডিওতে তাকে উত্তেজিত হয়ে উপস্থিত এক ব্যক্তিকে ধমক ও টেবিল চাপড়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। শনিবার (২০ জুন) দুপুর থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে।

প্রায় এক মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সালিশ বৈঠকের একপর্যায়ে এমপি হানজালা উত্তেজিত হয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলছেন। এসময় তাকে বলতে শোনা যায়, ‘কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার দিলেন কেন?’ 

একপর্যায়ে টেবিল চাপড়ে তিনি বলেন, ‘ওই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো। চুপ করেন। আমি আসছি বিচার করার জন্য। কাউন্টার দিলে আমি দেব।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় মাস আগে শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের চর বাচামারা মৌলভীকান্দি এলাকায় মারামারি একটি ঘটনা ঘটে। সে ঘটনার একটি সালিশ বৈঠকে তিনি এ হুমকি দেন। 
ওই বৈঠকে তারামিয়া নামে বিএনপির এক কর্মীর ওপর তিনি এভাবে চড়াও হন। 

জানা গেছে, ওই বৈঠকে দুপক্ষের লোকজনই উপস্থিত ছিল। সালিশিতে একপক্ষকে এক লাখ টাকা জরিমানা নির্ধারণ করেন এমপি। এর পরপরই শুরু হয় হট্টগোল। এ সময় এমপি উত্তেজিত হয়ে বিএনপি কর্মী তারামিয়াকে ধমক দেন।

ভুক্তভোগী তারামিয়া বলেন, ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগের। একটি মারামারিকে কেন্দ্র করে। ওই সালিশ বৈঠকে ৫০০ থেকে ৬০০ মানুষ উপস্থিত ছিল। বিচার চলাকালে আমার সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়।

তিনি বলেন, এমপি সাহেব বিচারের মধ্যে অন্য কাউকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে একতরফাভাবে রায় দেয়ার চেষ্টা করেন। আমি এর প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

তিনি আরও বলেন, যেখানে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে বিচার নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন যুক্তি ও মতামত আসতেই পারে। একজন বিচারকের দায়িত্ব হলো সেসব কথা ধৈর্য সহকারে শোনা। তা না হলে সেটি জনসম্মুখের সালিশ না হয়ে ঘরোয়া বা একতরফা বিচার হয়ে যায়।

এ ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

মাদারীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ বলেন, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে আরও সংযত ও ধৈর্যশীল আচরণ প্রত্যাশিত। জনসম্মুখে এমন ভাষা ও আচরণ নেতিবাচক বার্তা দেয়।

এ বিষয় জানতে চাইলে পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা বলেন, ‘এটা প্রায় এক-দেড় মাস আগের ঘটনা। ওরা আমাকে ছাড়া বিচারে বসবেই না। পরে আমি গিয়েছিলাম। সালিশের সময় উভয় পক্ষই কথা বলছিল, তর্কেও জড়াচ্ছিল। তারা বেশ প্যাঁচাপেঁচি করছিল। তখন আমি ধমক দিয়েছি। তবে বিচার কাজটি বেশ সুন্দরভাবে সমাধান হয়েছে।’

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি