সাগর-রুনি হত্যা: তদন্তে ফের সময় নিল টাস্কফোর্স
প্রকাশিত : ১০:৩৫, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা কাটছে না। তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে আবারও সময় নিয়েছে মামলাটির তদন্তে গঠিত উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স।
মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কথা ছিল। যা বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চে আদেশের জন্য রয়েছে। কিন্তু আগের দিনই সময় চেয়েছে টাস্কফোর্স।
দীর্ঘদিনেও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় মামলাটির অগ্রগতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া বাসায় খুন হন সাংবাদিক সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। সাগর সরওয়ার মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক এবং মেহেরুন রুনি এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর রুনির ভাই নওশের আলম শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।
প্রথমে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) মামলাটির তদন্ত শুরু করে। পরে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র্যাব)। দীর্ঘ সময়েও তদন্ত শেষ না হওয়ায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট মামলাটির তদন্তে বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন।
এরপর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। কমিটিতে পুলিশ সদর দপ্তর, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং র্যাবের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কমিটিকে।
তবে টাস্কফোর্স গঠনের পরও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল নিয়ে একাধিকবার সময় বাড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল হাইকোর্ট তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে আরও ছয় মাস সময় দেন। ওই সময়ও তদন্ত শেষ করতে না পারার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহের জটিলতার কথা উঠে আসে।
দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সাংবাদিক দম্পতি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। ফলে মামলাটির তদন্তের অগ্রগতি, তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া এবং প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা নিয়ে জনমনে আগ্রহ ও প্রত্যাশা অব্যাহত রয়েছে।
তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতি এবং নতুন সময়সীমা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে মামলাটির পরবর্তী পদক্ষেপ আরও স্পষ্ট হবে।
ঐ.মিষ্টি /
আরও পড়ুন










