ঢাকা, সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাজার মেয়াদ শেষে ৮ বছর পরেও মেলেনি মুক্তি: ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টের রুল

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২২:০২, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২২:২১, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

আদালতের খালাসের আদেশ থাকার পরও খুলনার বটিয়াঘাটার ইব্রাহিম শেখকে ৮ বছর অতিরিক্ত কারাবাস করানোর ঘটনায় ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। 

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এই রুল জারি করেন।বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিকের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ হাসান শহিদ কারুজ্জামান এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন। 

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।

আদালত ও রিট সূত্রে জানা গেছে, খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার ইব্রাহিম শেখ পেশায় একজন নৈশপ্রহরী ছিলেন। ২০০৩ সালে রাতের পাহারা শেষে সকালে বাড়ি ফেরার পথে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। চরম আর্থিক অনটনের কারণে তিনি নিজের পক্ষে কোনো আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেননি। 

পরবর্তীতে নিম্ন আদালত তাকে একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ড এবং অন্য একটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এরপর মামলাটি উচ্চ আদালতে এলে দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ২০ জুলাই হাইকোর্ট বিভাগ তাকে উভয় মামলা থেকেই খালাস দেন। তবে চরম দারিদ্র্য ও তদবিরের অভাবের কারণে উচ্চ আদালতের সেই খালাসের রায়ের কপি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাতে দীর্ঘ ৮ বছর সময় লেগে যায়। ফলে খালাস পাওয়ার পরও তাকে আরও ৮ বছর কারাগারে বন্দি থাকতে হয়।

দীর্ঘ ২২ বছর কারাগারে থাকাকালে ইব্রাহিম শেখের মা মারা যান এবং তার স্ত্রী অন্যত্র চলে যান। দীর্ঘ কারাবাসের কারণে তিনি বর্তমানে শারীরিকভাবে ও মানসিকভাবে চরম অসুস্থ। চরম দারিদ্র্যের কারণে তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবাও নিতে পারছেন না। বিষয়টি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হলে তা নজর কাড়ে জাতীয় হিন্দু মহাজোটের। তারা মানবিক বিবেচনায় ইব্রাহিম শেখের মুক্তি, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে এই জনস্বার্থমূলক রিট দায়ের করে।

গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক জানান, খালাসের আদেশ আট বছর ধরে কারাগারে পাঠাতে এবং তা কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়া সংশ্লিষ্টদের চরম অবহেলা। এই অবহেলাকে কেন বেআইনি, অসাংবিধানিক এবং সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের অধীনে নিশ্চিত করা মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইব্রাহিম শেখের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও জীবিকা হারানোর ক্ষতিপূরণস্বরূপ অবিলম্বে পাঁচ কোটি টাকা বা উপযুক্ত দৃষ্টান্তমূলক অর্থ প্রদানের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, বিবাদীদের সেই কারণ দর্শাতে বলেছেন হাইকোর্ট।

এমএইচ 
 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি