স্কুলছাত্রী জান্নাতুল হত্যার রহস্য উদঘাটন, চাঞ্চল্যকর তথ্য অটোচালক সুমনের
প্রকাশিত : ১৬:১৩, ১০ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৬:৩৩, ১০ অক্টোবর ২০২৬
কুমিল্লার লালমাইয়ে স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘাতক অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া (৩৫)। ব্যাগ থেকে আইফোন হাতিয়ে নিয়ে এলাকা ছাড়ে সে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বাসায় ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠেছিল ১৫ বছরের স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই তাকে নিয়ে যাওয়া হয় নির্জন স্থানে। পুলিশের ভাষ্য, সেখানে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় তাকে। চট্টগ্রাম থেকে আটকের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানায় ঘাতক সুমন।
শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে জান্নাতুল তাজমিন হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন সিএনজি চালক সুমনকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর ওই কিশোরীকে হত্যার পূর্বে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে।
পুলিশ জানায়, গত বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর রেসকোর্স এলাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে সুমনের সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি ভাড়া করে তাজমিন। তবে পদুয়ার বাজার এলাকা থেকে শহরের দিকে না গিয়ে ভিন্ন উদ্দেশ্যে কিশোরীকে নিয়ে বিজরার দিকে রওনা হয় চালক। দীর্ঘ সময় বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরিয়ে তাকে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি নির্জন সড়কে নেওয়া হয়। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা চালালে তাজমিন প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে অটোরিকশাটি সড়কের পাশের ধানখেতে কাত হয়ে পড়ে যায়। কিশোরী দৌড়ে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা চালালেও শারীরিক দুর্বলতার কারণে কাবু হয়ে পড়ে।
পুলিশ জানায়, তাকে নির্জন এলাকায় নিয়ে যায় চালক সুমন মিয়া। সেখানে ধর্ষণের পর কাঁদামাটিতে মাথা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করে জান্নাতুলকে।
জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত সুমন স্বীকার করেছে, কিশোরীকে ধর্ষণের পর নিজের গামছা গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন তিনি। হত্যাকাণ্ড শেষে সুমন পাশের একটি পুকুরে গোসল করে এবং নিহতের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটি আইফোন হাতিয়ে নেয়। মুঠোফোনটি স্থানীয় একটি ধানখেতে লুকিয়ে রেখে অটোরিকশা ফেলে রেখেই চট্টগ্রামের দিকে পালিয়ে যায় সুমন।
পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ধরে ছায়া তদন্ত শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর একটি এলাকা থেকে চালক সুমনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় ডিবি পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন পুরো ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।
বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা। কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে রেসকোর্সের বাসায় ফিরতে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে জান্নাতুল।
বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার ভোরাজগৎপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয় জান্নাতুলের মরদেহ। বাখরাবাদ এলাকার একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয় জান্নাতুলের ব্যবহৃত আইফোন।
রেনাটা পিএলসি কুমিল্লায় কর্মরত আবদুল আলীম ও কেয়া আক্তার দম্পতির মেয়ে জান্নাতুল তাজমিন। তাদের গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামে। বাবার চাকরির সুবাদে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করত তাজমিন। সে কুমিল্লার ফরিদা বিদ্যায়তনে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।
এ ঘটনায় কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। একের পর এক এমন ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ। তাদের দাবি, সড়কে নিরাপত্তা টহল বাড়ানোর পাশাপাশি অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
অন্যদিকে, সন্তানদের চলাফেরা ও যাতায়াতের বিষয়ে আরও সচেতন থাকার পরামর্শ অভিভাবকদের। পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
হত্যাকারের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি সাধারণ মানুষের।
এএইচ
আরও পড়ুন










