ঢাকা, বুধবার   ০৭ অক্টোবর ২০২৬

‎একসঙ্গে অসুস্থ সেই দম্পতির মৃত্যুও একইসঙ্গে

‎গাইবান্ধা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৫:১৬, ৭ অক্টোবর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

একসঙ্গে পথচলা জীবনের শেষ প্রান্তেও যেন আলাদা হলো না তাদের পথ। স্বামীকে দাফন করে বাড়ি ফিরেছেন স্বজনেরা, এর ঠিক এক ঘণ্টা পরই থেমে গেল স্ত্রীর জীবনও। এই দম্পতি অসুস্থও হয়েছিলেন প্রায় একইসঙ্গে। এমন হৃদয়বিদারক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে।
‎
‎বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জহুরুল ইসলাম। 

‎এর আগে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের সাহাবাজ মতিনবাজার এলাকায় ঘটে এ ঘটনা। মারা যাওয়া দম্পতি হলেন আব্দুল জলিল (৭০) ও তাঁর স্ত্রী আমিনা বেগম (৬০)।

‎পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর প্রথমে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন আমিনা বেগম। এর প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর স্ট্রোকে আক্রান্ত হন তাঁর স্বামী আব্দুল জলিলও। পরে দুজনকেই চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে জলিলকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
‎
‎সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মারা যান আব্দুল জলিল। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। স্বজনেরা দাফন শেষ করে বাড়িতে ফেরার পরপরই আরও একটি দুঃসংবাদ পান। বিকেল ৫টার দিকে মারা যান স্ত্রী আমিনা বেগম।

পরে বাদ মাগরিব তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর স্বামীর কবরের পাশেই পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তাঁকে।

‎দুইজনকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছে পরিবার। ছেলে আলম মিয়া বলেন, তাঁর বাবা-মায়ের মধ্যে গভীর মিল-মহব্বত ছিল। একই সময়ে অসুস্থ হওয়ার পর শেষ বিদায়টাও যেন হলো পাশাপাশি। বাবাকে বিকেল ৪টার দিকে দাফন করে বাড়িতে ফেরার কিছুক্ষণ পরই, বিকেল ৫টার দিকে মায়ের মৃত্যু হয়। একদিনেই আমরা বাবা-মা দুজনকেই হারিয়ে এতিম হয়ে গেলাম।

‎সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, একই দিনে অল্প সময়ের ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনা খুবই বিরল। এতে পরিবারটির জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিহত দম্পতি তাঁর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

‎এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি