ঢাকা, বুধবার, ২০ জুন, ২০১৮ ১৯:১৭:৪৩

মাদকের পৃষ্ঠপোষক ও গডফাদারদের মৃত্যুদণ্ডে আইন আসছে: প্রধানমন্ত্রী

মাদকের পৃষ্ঠপোষক ও গডফাদারদের মৃত্যুদণ্ডে আইন আসছে: প্রধানমন্ত্রী

মাদক ব্যবসার পৃষ্ঠপোষক ও গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংশোধনী আইনে মাদক ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষক ও মাদকের গডফাদারসহ মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখার প্রস্তাব করা হবে বলে সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশে ২৪ ধরনের মাদক সেবন চলছে

ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন আর গাঁজার বাইরেও অন্তত ২০ ধরনের মাদক সেবন করে মাদকসেবীরা৷ মাদকগুলো কোন সীমান্ত দিয়ে আসছে, কীভাবে আসছে? এসবই জানার চেষ্টা করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে৷ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হিসেব অনুযায়ী অবশ্য দেশে ২৪ নয়, ১৫ রকমের মাদক সেবন করা হয়৷ তবে র‌্যাব-পুলিশের হিসেবে সংখ্যাটা ৬ থেকে ১০-এর মধ্যে৷ এই মাদকগুলো কোন সীমান্ত দিয়ে আসছে, কীভাবে আসছে? সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এবং খোঁজ নিয়ে জানার চেষ্টা করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে৷ দেশে মাদকসেবীরা যেসব মাদক সেবন করেন, সেগুলোর রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন নাম৷ মাদক চক্রের সদস্যদের মাধ্যমে নতুন মাদকসেবীরা জানতে পারছে নতুন নতুন মাদকের নাম৷ মাদক ব্যবসায়ীদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করলেও মাদকসেবীদের গ্রেফতারে তাদের আগ্রহ কম৷ কারাগারেও তাদের নিয়ে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয় কারা কর্তৃপক্ষকে৷ মাদকসেবীদের অস্বাভাবিক আচরণে অতীষ্ঠ হন কারারক্ষীরাও৷ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশে এখন পর্যন্ত ২৪ ধরনের মাদক উদ্ধার হয়েছে৷ আর এসব মাদকের মধ্যে রয়েছে ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজা, চোলাই মদ, দেশি মদ, বিদেশি মদ, বিয়ার, রেক্টিফাইড স্পিরিট, ডিনেচার্ড স্পিরিট, তাড়ি, প্যাথেডিন, বুপ্রেনরফিন (টি.ডি. জেসিক ইঞ্জেকশন), ভাং, কোডিন ট্যাবলেট, ফার্মেন্টেড ওয়াশ (জাওয়া), বুপ্রেনরফিন (বনোজেসিক ইঞ্জেকশন), মরফিন, আইচ পিল, ভায়াগ্রা, সানাগ্রা, টলুইন, পটাশিয়াম পারম্যাংগানেট ও মিথাইল-ইথাইল কিটোন৷ তবে সংখ্যায় এত হলেও আসলে বাংলাদেশের মাদকসেবীরা সেবন করে ৬ থেকে ১০ ধরনের মাদক৷ সবচেয়ে ভয়াবহতা ইয়াবাকে ঘিরে৷ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে অফিস-আদালত সবখানেই মিলছে ইয়াবা৷ যদিও সম্প্রতি মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর অনেকটা গোপনে বিক্রি হচ্ছে মাদক৷ পুলিশের অভিযানের কিছুক্ষণ পরই নতুন করে বিক্রিতে লেগে যাচ্ছেন মাদক ব্যবসায়ীরা৷ মাদকের বড় ব্যবসায়ীদের কেউ ধরা পড়েনি৷ অনেকেই দেশ ছেড়ে চলে গেছেন৷ বিদেশ থেকেই নিয়ন্ত্রণ করছেন মাদক ব্যবসা৷  মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দিন চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘আমাদের অভিযানে ১৫ ধরনের মাদক উদ্ধার হয়েছে৷ তবে ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা আর ফেনসিডিলই বেশি৷ অন্যগুলো পরিমাণে খুব বেশি পাওয়া যায় না৷ তবে সাম্প্রতিককালে ইয়াবা বেড়ে যাওয়ায় অন্য মাদক পরিমাণে কম পাওয়া যাচ্ছিল৷ এখন অভিযান শুরুর পর অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে৷ আমরা উৎস বন্ধ করার চেষ্টা করছি৷ ইয়াবাটা শুধু মিয়ানমার থেকেই আসে৷ আর অন্য মাদকগুলো আসে ভারত থেকে৷ চোলাই মদ এখানেই তৈরি হয়৷ আর গাঁজার কিছু চাষ গোপনে বাংলাদেশে হয় বলেও স্বীকার করেন চৌধুরী৷ আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের রুট ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল’ (মিয়ানমার-থাইল্যান্ড-লাওস) এবং ‘গোল্ডেন ক্রিসেন্ট’ (পাকিস্তান-আফগানিস্তান-ইরান)-এর একেবারে কেন্দ্রে বাংলাদেশ৷ প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমার থেকে এদেশে মাদকের অনুপ্রবেশ ঘটছে৷ তিন দিক দিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ১৫৬ কিলোমিটার এবং মিয়ানমারের সঙ্গে ২৭১ কিলোমিটার৷ দুই প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেষা এলাকা দিয়ে মাদক প্রবেশ করে৷ মাদকের প্রবেশপথ হিসেবে বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন ৩২টি জেলাকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)৷ সম্প্রতি এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে৷ অবৈধ মাদক আমদানির জন্য প্রতি বছর দেশ থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে৷ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা বলেন, অবৈধ মাদক আমদানিতে প্রতি বছর কত টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে এর সুনিদিষ্ট কোনো হিসেব কারো পক্ষে করা সম্ভব নয়৷ তিনি আরো বলেন, এক হিসেবে দেখা গেছে, সারা দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা ২৫ লাখের কম নয়৷ ৫ শতাধিক মদকাসক্তের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, প্রতিদিন গড়ে তাদের ১৫০ টাকার মাদক লাগে৷ এই হিসেবে একজন মদকাসক্ত বছরে ৫৪ হাজার ৭৫০ টাকার মাদক সেবন করে৷ ২৫ লাখ মাদকাসক্ত বছরে ১৩ হাজার কোটি টাকার মাদক সেবন করে৷ এসব মাদকের পুরোটাই অবৈধভাবে দেশে আসছে৷ আর পাচার হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা৷ র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, দেশে আসলে ৬ থেকে ১০ ধরনের মাদক আমরা অভিযানে গিয়ে উদ্ধার করি৷ এর বাইরেও হয়ত অনেক ধরনের মাদক আছে, সেটা খুব একটা পাওয়া যায় না৷ ইয়াবাটা শুধু মিয়ানমার থেকে জলপথে প্রবেশ করে৷ আর অন্য সব মাদক ভারত থেকে সীমান্ত পথেই দেশে আসে৷ সম্প্রতি আমাদের অভিযান শুরুর পর মাদকের উৎস অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে৷ তবে এটা তো একদিনে নির্মূল করা সম্ভব নয়৷ মাদকবিরোধী র‌্যাবের এই অভিযান অব্যহত থাকবে৷ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হাসনাবাদ, তাকি, বশিরহাট, স্বরূপনগর, বাদুরিয়া, উত্তর চব্বিশ পরগনা, বনগাঁও,  পেট্রাপোল, হেলেঞ্চা, ভবানীপুর, রানাঘাট, অমৃতবাজার, বিরামপুর, করিমপুর, নদীয়া, মালদাহ, বালুরঘাট, আওরঙ্গবাদ, নিমতিতাসহ সীমান্ত সংলগ্ন প্রায় সব এলাকা দিয়ে ১৫টি পয়েন্টে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট এবং দিনাজপুরে মাদক ঢুকছে৷ আর ভারতের আসাম এবং মেঘালয়ের বাংলাদেশ ঘেঁষা এলাকাগুলোর চারটি পয়েন্ট দিয়ে মাদক ঢুকছে কুড়িগ্রাম, শেরপুর, ময়মনসিংহ এবং নেত্রকোনায়৷ বাংলাদেশের পূর্ব সীমান্ত দিয়ে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা এবং মিজোরামের চারটি পয়েন্ট দিয়ে মাদক ঢুকছে সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা এবং ফেনীতে৷ এছাড়াও ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর হয়ে নওগাঁয়  ফেন্সিডিল পাচারের নতুন রুটের সন্ধান পাওয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে৷ এ সব রুট দিয়ে  দেশে হেরোইন, ফেন্সিডিল, গাঁজা ঠেকাতে বাংলাদেশের আহ্বানে ভারত ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে৷ সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তের ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে ফেন্সিডিল ও ফেন্সিডিল তৈরির উপকরণ সরবরাহ এবং বহন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত৷ তবে মিয়ানমারের সঙ্গে মাত্র ২৭১ কিলোমিটারের সীমান্তের সবচেয়ে সক্রিয় মাদক রুটগুলো গোটা  দেশের মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ কারণ মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের কক্সবাজার ও সংলগ্ন এলাকা দিয়ে ঢুকছে কোটি-কোটি পিস ইয়াবা৷ ইয়াবার অবাধ প্রবেশে আতঙ্কজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে দেশে৷ বেশির ভাগ ইয়াবা তৈরি হয় মিয়ানমার-চীন সীমান্তের শান এবং কাচিন প্রদেশে৷ মিয়ানমারের সাবাইগন, তমব্রু, মুয়াংডুর মতো ১৫টি পয়েন্ট দিয়ে টেকনাফের সেন্টমার্টিন, শাহপরীর দ্বীপ, ধুমধুমিয়া, কক্সবাজার হাইওয়ে, উখিয়া, কাটাপাহাড়, বালুখালি, বান্দরবানের গুনদুম, নাইখ্যংছড়ি, দমদমিয়া, জেলেপাড়ার মতো অর্ধশত স্পট দিয়ে ইয়াবা ঢুকছে বাংলাদেশে৷ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, আসলে ইয়াবার জন্য মিয়ানমারের পছন্দের বাজার ছিল থাইল্যান্ড৷ কিন্তু এরপর আমাদের দেশে এই মাদকের আসক্তের সংখ্যা কল্পনার বাইরে চলে যাওয়ায় ইয়াবার বড় বাজারে পরিণত হয় বাংলাদেশ৷ এই বাজারের চাহিদা মেটাতে কক্সবাজার-টেকনাফের স্থল সীমান্তবর্তী ৬০-৭০টি স্পট দিয়ে দেশে ইয়াবা ঢুকছে৷ কক্সবাজার, টেকনাফ সংলগ্ন উপকূলবর্তী সমুদ্রে প্রায় ৩ লাখেরও বেশি ছোট-বড় নৌযান চলাচল করে৷ এসব নৌযানে করে ইয়াবার চালান আসে৷ মাদক অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০১৭ সালে এসব রুট দিয়ে আসা ৪ কোটি ৭৯ হাজার পিস ইয়াবা, ৪০১ কেজি হেরোইন, ৭ লাখ ২০ হাজার বোতলের বেশি ফেনসিডিল এবং ৬৯ হাজার ৯৮৯ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়৷ বলা হয়, যে পরিমাণ মাদক উদ্ধার হয় তা মোট ব্যবহারের ১০ ভাগের কম৷ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ে একাধিক বৈঠকে মাদক পাচাররোধে নানা কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়৷ ওইসব বৈঠকের তথ্যমতে, বৃহত্তর যশোর সীমান্তে ৫২টি এবং উত্তরাঞ্চলের ৬ জেলার ৭২ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে ৭০টি  ফেনসিডিল, ১০টি হেরোইন প্রস্তুত ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার তালিকা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়৷ একাধিক বৈঠকে কারখানাগুলো দ্রুত বন্ধ করার জন্য অনুরোধ জানানোর পর মাত্র এক ডজন বন্ধ করে বিএসএফ৷ অন্যান্য কারখানা বন্ধের তাগাদা দিচ্ছে বাংলাদেশ৷ পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সোহেলী ফেরদৌস ডয়চে ভেলেকে বলেন, পুলিশ যে অভিযানগুলো চালায়, সেখানে ৫-৬ ধরনের মাদক পাওয়া যায়৷ সবচেয়ে ভয়াবহভাবে পাওয়া যায় ইয়াবা, যা শুধু মিয়ানমার থেকেই আসে৷ আর ভারত থেকে আসে ফেনসিডিল, গাঁজা আর হেরোইন৷ হেরোইনটা মূলত রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়েই বেশি আসে৷ আর ফেনসিডিল আসে সব সীমান্ত দিয়েই৷ সূত্র: ডয়চে ভেলে একে//

নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃংখলার বাহিনীর সঙ্গে মতবিনিময় (ভিডিও)

গাজীপুর সিটি নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃংখলার বাহিনীর সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হদা। এদিকে নির্বাচনে কারচুপি হলে কমিশন ও সরকারকে খেসারত দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসানউদ্দিন সরকার। তবে কারচুপির আশংকা নাকচ করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম। গাজীপুর সিটি নির্বাচন ২৬ জুন। ভোটের সার্বিক পরিস্থিতির নিয়ে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইনশৃংখলা বাহিনীর সঙ্গে মতবিনিময় করে নির্বাচন কমিশন। এতে যোগ দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। ভোট নির্বিঘœ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয় এই সভায়। এদিকে, ভোটারদের সমর্থন পেতে জোর প্রচার চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। চলছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও। বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার বাঙ্গাল গাছ এলাকায় গণসংযোগের সময় বলেন, ভোট সুষ্ঠু না হলে নির্বাচন কমিশনকে খেসারত দিতে হবে। নগরীর গাজীপুরা এলাকায় পথসভা করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম। এসময় সরকারি কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহবান জানান তিনি। সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই বলে মত দেন জাহাঙ্গীর আলম। জনগণ নৌকার পক্ষে আছে বলেও দাবি করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী।

সুফিয়া কামাল ছিলেন আবহমান বাঙালি নারীর প্রতিকৃতি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে কবি সুফিয়া কামালের ছিল দিপ্ত পদচারণা। তার সৃজনশীলতা অবিস্মরণীয়।তিনি বলেন, শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার এবং নারীমুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখনী আজও পাঠককে আলোড়িত করে।কবি সুফিয়া কামালের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বাণীতে এ কথা বলেন।গণতান্ত্রিক এবং নারীমুক্তি আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত কবি বেগম সুফিয়া কামালের ১০৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার (সুফিয়া কামালের) স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন আবহমান বাঙালি নারীর প্রতিকৃতি; অন্যদিকে বাংলার প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে ছিল তার দৃপ্ত পদচারণা।তিনি বলেন, নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার চিন্তাধারা কবি সুফিয়া কামালের জীবনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে। সুফিয়া কামাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হোস্টেল ‘রোকেয়া হল’ নামরকরণের দাবি জানান। ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্রসঙ্গীত নিষিদ্ধ করলে তিনি এর প্রতিবাদে আন্দোলন করেন। তিনি শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলারও প্রতিষ্ঠাতা।শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, ’৫২’র ভাষা আন্দোলন, ’৬৯’র গণঅভ্যূত্থান, ৭১’র অসহযোগ আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক সংগ্রামসহ শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তার প্রত্যক্ষ উপস্থিতি তাঁকে জনগণের ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে অভিষিক্ত করেছে।তিনি বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ’৭৫’র ১৫ই আগস্টে নির্মমভাবে হত্যা করে যখন এদেশের ইতিহাস বিকৃতির পালা শুরু হয়, তখনও সুফিয়া কামালের সোচ্চার ভূমিকা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক শক্তিকে নতুন করে প্রেরণা যুগিয়েছে। কবি সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।শেখ হাসিনা কবি বেগম সুফিয়া কামালের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।সূত্র : বাসসএসএ/

সুফিয়া কামালের সাহিত্যকর্ম প্রজন্মের প্রেরণার উৎস : রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, কবি সুফিয়া কামাল রচিত সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মকে গভীর দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করে।তিনি বলেন, সুফিয়া কামালের জীবন ও আদর্শ এবং তাঁর অমর সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মের প্রেরণার চিরন্তন উৎস হয়ে থাকবে।কবি সুফিয়া কামালের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।আজ বুধবার নারী জাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ বেগম সুফিয়া কামালের ১০৭তম জন্মবার্ষিকীতে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আবদুল হামিদ বলেন, কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের নারী সমাজের এক উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব।রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, কবি সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। তৎকালে বাঙালি মুসলমান নারীদের লেখাপড়ার সুযোগ একেবারে সীমিত থাকা সত্বেও তিনি (সুফিয়া কামাল) নিজ চেষ্টায় লেখাপড়া শেখেন এবং শৈশব থেকেই কবিতা-চর্চা শুরু করেন। তার কবিতায় ব্যঞ্জনাময় ছন্দে ফুটে উঠত সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও সমাজের সার্বিক চিত্র। কবির প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশিত হয় সওগাত পত্রিকায় ১৯২৬ সালে। প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সাঁঝের মায়া’ ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত হলে রবীন্দ্রনাথ এ কাব্য পড়ে ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ কাব্যের ভূমিকা লিখেন কাজী নজরুল ইসলাম।সুফিয়া কামাল সুদীর্ঘকাল ধরে সাহিত্যচর্চা, সমাজসেবা ও নারী কল্যাণমূলক নানা কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন,নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার সাথে সুফিয়া কামালের সাক্ষাৎ ঘটে ১৯১৮ সালে কলকাতায়। বেগম রোকেয়া ছিলেন তাঁর অনুপ্রেরণার উৎস। তিনি নারী সমাজকে কুসংস্কার আর অবরোধের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে আমৃত্যু সংগ্রাম করে গেছেন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদেরও তিনি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।আবদুল হামিদ বলেন, সুফিয়া কামাল দেশের সকল প্রগতিশীল আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। নারীদের সংগঠিত করে মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা, দেশাত্মবোধ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে তিনি ছিলেন সর্বদা সচেষ্ট। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নারী-পুরুষের সমতাপূর্ণ একটি মানবিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছিল সুফিয়া কামালের জীবনব্যাপী সংগ্রামের প্রধান লক্ষ্য।রাষ্ট্রপতি এ মহীয়সী নারীর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।সূত্র : বাসসএসএ/

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার সাম্প্রতিক সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও কানাডা সফর সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। মঙ্গলবার (১৯ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে রাষ্ট্রপতি তাকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান। ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর প্রধানমন্ত্রী ১৫ ও ১৬ এপ্রিল সৌদি আরবে ‘গালফ শিল্ড-ওয়ান’ শীর্ষক সমারিক মহড়ায় সমাপনী অনুষ্ঠান ও কুচকাওয়াজ; ১৭ থেকে ২২ এপ্রিল যুক্তরাজ্যে কমনওয়েলথ দেশগুলোর সরকার প্রধানদের শীর্ষ সম্মেলন; ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ‘গ্লোবাল সামিট অব উইমেন ২০১৮ সম্মেলন’; ২৫ ও ২৬ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং ৮ থেকে ১১ জুন কানাডার কুইবেকে জি-৭ লিডার আউটরিচ সম্মেলনে যোগদান সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মানসূচক ডি. লিট ডিগ্রি পাওয়ায় শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান।  টিআর/

ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে পাকিস্তান

পরমাণু অস্ত্র মজুদের দিক দিয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে টপকে গেছে পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক বিশ্ব পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের উপর জোর দিলেও ভারত-পাকিস্তান ক্রমশই অস্ত্র মজুদ বাড়িয়ে চলছে। আর অস্ত্র মজুদ আর সমৃদ্ধকরণের দিক থেকে ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে পাকিস্তান। দেশের বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ তারা খরচ করছে পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে। সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার রিপোর্টে এমন তথ্য উঠে এসেছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট বা সিপ্রি (SIPRI) একটি রিপোর্টে জানিয়েছে, আমেরিকা, রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স, চীন, ভারত, পাকিস্তান, ইসরায়েল এবং উত্তর কোরিয়া- এই দেশগুলি মিলিয়ে চলতি বছরের শুরুতে ১৪,৪৬৫টি নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড ছিল। সংখ্যার বিচারে দুই বড় শক্তিধর দেশ বাদ দিলে ব্রিটেনের কাছে ২১৫টি, ফ্রান্সের কাছে ৩০০, চীনের কাছে ২৮০, ভারতের কাছে ১৩০-১৪০টি, পাকিস্তানের কাছে ১৪০-১৫০টি, ইসরায়েলের কাছে ৮০টি এবং উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-২০টি পরমাণু ওয়ারহেড রয়েছে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়াএমজে/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি