ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১০:৩২:৫৪

খালেদার আপিল শুনানি আজ

খালেদার আপিল শুনানি আজ

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হওয়া সাজার বিরুদ্ধে দায়ের করা বেগম খালেদা জিয়ার আপিন আবেদনের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানি হবে আজ। বেগম জিয়ার আপিল আবেদন গ্রহণ করা হবে কী না সে বিষয়েই আজ বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আদালত সূত্রে জানা যায়।
চিকিৎসার জন্য আজ সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

চোখের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আজ বুধবার ছয় দিনের সফরে সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। রাত ১১টা ৫০ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে রাষ্ট্রপতি সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বেন। চিকিৎসা শেষে আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন। তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল আই হসপিটালে চোখ ও মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাবেন রাষ্ট্রপতি। এর আগে স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় মো. আবদুল হামিদ চোখের চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যেতেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের পাশাপাশি কয়েক দফা যুক্তরাজ্যে গিয়েছেন তিনি।   আর

বঙ্গবন্ধু যেভাবে সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালুর পরিকল্পনা করেছিলেন

দেশ যখন মুক্তিযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনই সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালুর ব্যাপারে তাঁর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। বিভিন্ন সময়ে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া বক্তব্য, সাক্ষাৎকার এবং রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনায় তিনি সর্বস্তরে বাংলা চালুর এই পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। ১৯৭১ সালে বাংলা একাডেমিতে শহীদ দিবস (ভাষা শহীদ দিবস) উপলক্ষে আয়োজিত সপ্তাহব্যাপি অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনী বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালুর ব্যাপারে তার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরেন। স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ১৯৭১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সোমবার বাংলা একাডেমি ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এটি কোন ছুটির দিন ছিলো না। তবুও সেদিন বঙ্গবন্ধুর বক্তব্য শুনতে প্রখ্যাত লেখক, কবি, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছিলো বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ। বঙ্গবন্ধু এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। বাংলা একাডেমির সেসময়কার চেয়ারম্যান প্রখ্যাত লেখক সৈয়দ মুরতজা আলীর সভাপতিত্বে সেদিন স্বাগত বক্তব্য দেন বিশিষ্ট লেখক ও বাংলা একাডেমির পরিচালক অধ্যাপক কবির চৌধুরী। বঙ্গবন্ধুর অন্যান্য অনেক বক্তৃতার মতই সেদিনের বক্তৃতাও দেশের প্রধান প্রধান বাংলা ও ইংরেজি সংবাদপত্রে প্রকাশ করা হয়। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন সময়ের দেওয়া এসব বক্তৃতা থেকে নির্বাচিত বক্তৃতা নিয়ে একটি সংকলন গ্রন্থ সম্পাদনা করেন। মুক্তধারা প্রকাশন ১৯৭২ সালে ‘বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ’ নামে এই সংকলন গ্রন্থ প্রকাশ করে। ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বঙ্গবন্ধু উদ্বোধনী ভাষণে বলেন, তার দল ক্ষমতায় আসলে শুরুতেই সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু করা হবে। তিনি সেদিন সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালুর জন্য কীভাবে বাংলা পরিভাষা তৈরি করা হবে সে ব্যাপারেও পরামর্শ দেন। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘আমার দল ক্ষমতা গ্রহণের দিন থেকেই সরকারি অফিস আদালত ও জাতীয় জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে বাংলা চালু করবে।’ এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন সরকার স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন করে। সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি বৈদেশিক যোগাযোগ ছাড়া দেশের রাষ্ট্রীয় কাজে বাংলা ভাষা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়। তা সত্ত্বেও এখনও কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাংলাভাষা খুব কম ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলা ভাষায় বই ও পরিভাষার অভাবের অজুহাতে এখন উচ্চ আদালতে দাফতরিক কাজে ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করা হয়। বঙ্গবন্ধু তাঁর বক্তৃতায় সর্বস্তরে বাংলা চালুর ব্যাপারে তাগিদ দেন এবং পরিভাষার জন্য অপেক্ষা না করে তা ‘তখনই’ শুরু করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমরা পরিভাষার অপেক্ষা করবো না। তাহলে সর্বক্ষেত্রে কোনদিনই বাংলা চালু করা সম্ভবপর হবে না।’ স্বাধীনতার মহান স্থপতি বলেন, ব্যবহারের মধ্যে দিয়েই বাংলা ভাষার উন্নয়ন হবে। কেননা ভাষা সব সময় মুক্ত পরিবেশে বিস্তার লাভ করে। ‘ভাষার গতি নদীর ¯রাতের ধারার মতো। ভাষা নিজেই তার গতিপথ রচনা করে নেয়। কেউ এর গতি রোধ করতে পারে না।’ এছাড়াও তিনি লেখক, কবি এবং নাট্যকারদের মুক্তমনে লেখার আহবান জানিয়ে বলেন, ‘বাংলা ভাষাকে গণমুখী ভাষা হিসেবে গড়ে তুলুন। জনগণের জন্যই সাহিত্য। এদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিজেদের লেখনীর মধ্যে নির্ভয়ে এগিয়ে আসুন। দুঃখী মানুষের সংগ্রাম নিয়ে সাহিত্য সৃষ্টি করুন।’তিনি বলেন, আমাদের প্রাত্যহিক কর্মকান্ডে বাংলা ভাষার ব্যবহারের মধ্যে দিয়েই দেশের সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু হবে। সূত্র: বাসস   আর

মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ

আজ অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। আজ হাতে হাতে বসন্তে ফোটা ফুলের স্তবক, কণ্ঠে চির অম্লান সেই গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী/ আমি কি ভুলিতে পারি...’ ধীর পায়ে এগিয়ে যাবে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা। ভাষা শহীদদের প্রতি নিবেদিত শ্রদ্ধার ফুলে ফুলে ঢেকে যাবে শহীদ মিনারের বেদি। দেশের বীর সন্তানেরা মাতৃভাষার সম্মান রক্ষার্থে আজ থেকে ৬৬ বছর আগে ১৯৫২ সালের এই দিনে বুকের রক্তে রঞ্জিত করেছিলেন ঢাকার রাজপথ। বাংলা মায়ের  সন্তানেরা পৃথিবীর ইতিহাসে সৃষ্টি হয়েছিল মাতৃভাষার জন্য আত্মদানের অভূতপূর্ব নজির। মাতৃভাষার জন্য বাঙালি সন্তানদের আত্মদানের এই অনন্য ঘটনা স্বীকৃত হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে। ১৯৯৯ সালে ইউনেসকো একুশে ফেব্রুয়ারিকে ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। বাঙালির সাথে আজ সারা বিশ্বেই দিবসটি পালিত হচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুরে দেখা যায়, মূল মিনারসহ চারদিকে নতুন রং করা হয়েছে। মিনারের পাশেই ফুটন্ত পলাশ শোভা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আলপনা ও সাজসজ্জার কাজ শুরু হয়েছে ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে। যা মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যেই শেষ হয়। দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন,  বিশ্বের বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় অমর একুশের চেতনা আজ অনুপ্রেরণার অবিরাম উৎস। তিনি বলেন, আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি মহান ভাষা আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী ভাষা শহিদ রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার, শফিউরসহ নাম না জানা অন্যান্য শহীদদের। আমি সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যিনি ১৯৪৮ সালে মাতৃভাষার দাবিতে গঠিত ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’এর নেতৃত্ব দেন এবং কারাবরণ করেন। স্মরণ করি তৎকালীন গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে যিনি পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে ঐতিহাসিক প্রস্তাব তুলে ধরেন। আমি স্মরণ করি ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহসহ সকল ভাষা সংগ্রামীকে, যাঁদের দূরদৃষ্টি, অসীম ত্যাগ, সাহসিকতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলন চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে। বাঙালি পায় মাতৃভাষার অধিকার।’ দিবসটি উপলক্ষে এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,  ‘আসুন দল-মত নির্বিশেষে একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখি। সবাই মিলে একটি অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলি। প্রতিষ্ঠা করি জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ।’ মহান শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলাসহ বিশ্বের সকল ভাষা ও সংস্কৃতির জনগণকে তিনি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, মহান একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির জীবনে শোক, শক্তি ও গৌরবের প্রতীক। ১৯৫২ সালের এ দিনে ভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে প্রাণ দিয়েছিলেন রফিক, শফিক, সালাম, বরকত ও জব্বারসহ আরও অনেকে। প্রধানমন্ত্রী ভাষা শহিদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একইভাবে তিনি শ্রদ্ধা জানান বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নেতৃত্বদানকারী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সকল ভাষা সৈনিকের প্রতি।   আর

জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করতে হবে

পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সদস্যদের প্রতি তাদের সার্বিক কার্যক্রমে আরো জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহবান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, এ জবাবদিহিতার মাধ্যমে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পিএসসি জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবে। মঙ্গলবার বিকেলে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কাছে পিএসসি’র বার্ষিক প্রতিবেদন ২০১৭ পেশকালে রাষ্ট্রপতির এসব কথা বলেন। বার্ষিক প্রতিবেদন পেশকালে প্রতিনিধিদলকে রাষ্ট্রপতি বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনে পিএসসিকে যথাযথভাবে কাজ করতে হবে। তিনি কমিশনের সকল কাজেকর্মে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য পিএসসির প্রতিনিধিদলকে পরামর্শ দেন। পরীক্ষা পদ্ধতি ও প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়াসহ পিএসসি’র কার্যক্রমে জবাবদিহিতা নিশ্চিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন আবদুল হামিদ। তিনি পিএসসিকে ‘সর্বোত্তাম কেন্দ্র’ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য পিএসসি সদস্যদের প্রতি আহবান জানান। পিএসসি’র চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিকের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির কাছে প্রতিবেদন পেশ করেন। প্রদত্ত প্রতিবেদনের বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণসহ পিএসসি’র সার্বিক কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। পিএসসি’র চেয়ারম্যান বলেন, পিএসসি পরীক্ষার মাধ্যমে যথাযথ মূল্যায়ণ শেষে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সুযোগ সৃষ্টির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তারা দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আবদুল হামিদকে অভিনন্দন জানান এবং তার দীর্ঘ জীবন ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন। এসময় রাষ্ট্রপতির সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।   আর/টিকে

২২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী [ভিডিও]

আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রশাসনিক এলাকা পুনর্বিন্যাস, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনসহ ২৯টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া বিকালে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে এখন রাজশাহীতে সাজ সাজ রব। শহর ছেয়ে গেছে পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানারে। রাস্তার উপর বানানো হয়েছে বিশাল বিশাল তোরণ। চলছে মাইকিংও। এছাড়া, ছোট ছোট সভা, সমাবেশ ও প্রতিনিধি সভা করেও প্রচার চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। আগামী সিটি করপোরেশন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করতে চান দলের নেতারা। মাদ্রাসা মাঠ ছাড়াও আশাপাশের এলাকায় আগতদের অবস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর ঘিরে আগ্রহের কমতি নেই সাধারণ মানুষেরও। রাজশাহীতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনসহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১৭ দফা দাবি তুলে ধরা হবে সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও দু’টি স্কুল সরকারি করা ছাড়াও অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, প্রস্তাবিত চামড়া শিল্প নগরী স্থাপন, বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিকমানে উন্নীত করাসহ অন্যান্য দাবি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের প্রত্যাশা করছে রাজশাহীবাসী।   ভিডিও লিংক:    

কারাগারে যেভাবে সময় কাটছে খালেদা জিয়ার

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আজ ১৩ দিন হলো  রাজধানী নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। ইবাদত-বন্দেগি বিটিভি দেখে এবং পত্রিকা পড়ে কারাগারে বেশিরভাগ সময় কাটছে তার। কারাগারে দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। সংশিষ্টরা বলছেন, পুরারো কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের জ্যেষ্ঠ কারা তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে রাখা হয়েছে খালেদা জিয়াকে। খালেদা জিয়া ঘুম থেকে উঠে সকালের নাস্তা করেন রুটি ও সবজি দিয়ে। দেশের সার্বিক পরিস্থিত জানতে দৈনিক পত্রিকা পড়তে দেওয়া হয় তাকে। এরপর গোসল করেন, জোহরের নামাজ পড়েন। জোহরের নামাজ শেষে তিনি অজিফা পড়েন। পরে তিনি কিছুক্ষণ ডে-কেয়ার সেন্টারের বারান্দায় হাঁটাহাঁটি করেন, পরে সেখানে কিছুক্ষণ চেয়ারে বসে থাকেন। দুপুরের খাবার খান বিকেল চারটা থেকে সাড়ে চারটার দিকে। দুপুরে তাঁকে ভাত, সবজি, রুই বা আইড় মাছ খেতে দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের পর বিটিভি দেখেন। এরপর রাতের খাবার খান। রাতে তাঁকে সবজি ও রুটি, মুগ ডাল খেতে দেওয়া হয়। কোনো কোনো দিন রাতে ভাত খেতে দেওয়া হয়। খাবার শেষে আবার খালেদা জিয়া বিটিভি দেখেন। খালেদা জিয়ার গ্রেফতারের আগেই কারা বিধি অনুসারে ভিআইপি বন্দি রাখার জন্য পুরোনো কারাগারের ‘ডে-কেয়ার সেন্টারের দ্বিতীয় তলার সিঁড়ির ডান পাশের দুটি কক্ষ থাকার উপযোগী করে তোলা হয়। সেখানে আগে বন্দীদের সন্তানদের রাখা হতো। এর মধ্যে একটি কক্ষে লাগানো হয় নতুন টাইলস, সিলিং ফ্যান। বসানো হয় খাট, চেয়ার ও টেবিল এবং বিটিভি সংযোগ দেওয়া হয় সেখানে। গত ১১ ফেব্রুয়ারি ডিভিশন (প্রথম শ্রেণির বন্দী হিসেবে বিশেষ সুবিধা) পাওয়ার পর সেখান থেকে খালেদা জিয়াকে বন্দীদের সন্তান রাখার স্থান ডে-কেয়ার সেন্টারে নেওয়া হয়। পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে তাঁর খাবার রান্না করা হয়। রান্না করা এ খাবার প্রথমে উপকারাধ্যক্ষ ও কারাধ্যক্ষ খান। পরে চিকিৎসকের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর খালেদা জিয়াকে দেওয়া হয়। তিন বেলাই এসব নিয়ম মানা হয়। কারা কর্মকর্তারা বলেন, খালেদা জিয়ার তত্ত্বাবধানের জন্য ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারেই আছেন। তিনি দিনে কর্তব্যরত নারী কারারক্ষীর কাছে থাকেন। ডাকা হলে তিনি খালেদা জিয়াকে ওষুধ দেওয়াসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেন। রাতে ঘুমান খালেদা জিয়ার পাশের কক্ষে। খালেদা জিয়ার সেবায় কারাগারের ভেতরে সার্বক্ষণিক একজন নারী ফার্মাসিস্ট, প্রয়োজন হলে একজন চিকিৎসক থাকেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় খালেদা জিয়ার কক্ষ ঘিরে একজন নারী উপকারাধ্যক্ষের নেতৃত্বে সার্বক্ষণিক চারজন নারী কারারক্ষী থাকেন। কারাগারের বাইরে আছেন একজন উপকারাধ্যক্ষের নেতৃত্বে একদল কারারক্ষী। আরও আছেন পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা। কারাগার সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়া কারাগারে শান্ত ও চুপচাপ থাকেন। কারা কর্মকর্তাদের কাছে তিনি কোনো চাহিদার কথা জানান না। কিছু লাগবে কি না কারা কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় খোঁজ নিতে গেলে খালেদা জিয়া বলেন, প্রয়োজন হলে তিনিই জানাবেন।  প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি ৫ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হয় খালেদা জিয়ার। একই মামলায় বিএনপির দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা তারেক রহমানের ১০ বছর কারাদণ্ড হয়। রায়ের দিনই খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে পুরনো কেন্দ্রীয় কারগারেই বন্দি সময় কাটছে এক সময়ের প্রধানমন্ত্রীর। / এআর /  

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি