ঢাকা, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০:২৩:৪৪

আরব আমিরাতের নতুন ভিসা নীতি শিথিল

আরব আমিরাতের নতুন ভিসা নীতি শিথিল

কর্ম ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে সম্প্রতি কার্যকর হওয়া নতুন বিধান শিথিল করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। বৃহস্পতিবার দেশটির জাতীয় দৈনিক খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। পররাষ্ট্র কল্যাণ ও আবাসন মহাপরিচালকের কার্যালয়ের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন নিয়মে ‘ভালো আচরণের সনদ’ সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। যেসব শ্রমিক আগে থেকেই আরব আমিরাতে কর্মরত আছেন, তাদের জন্য এই সনদ না দিলেও চলবে। আর যারা দেশের অভ্যন্তরে জায়গা পরিবর্তন বা চাকরি পরিবর্তন করবেন, তাদের জন্য সনদটি লাগবে না। চলতি বছরের শুরুর দিকে দেশটির উচ্চ-পর্যায়ের একটি প্যানেল কমিটি কর্ম ভিসার জন্য নতুন বিধিমালা কার্যকরের ঘোষণা দেয়। যা গত ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়। ওই সময় বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসার জন্য যারা আবেদন করবেন, তারা অবশ্যই ভালো আচরণের সনদপত্র সংগ্রহের পর জমা দেবেন। নিজ দেশ থেকে অথবা সর্বশেষ যে দেশে পাঁচ বছর কাটিয়েছেন সেদেশের কর্তৃপক্ষের কাছে থেকে ভালো আচরণের সনদপত্র সংগ্রহ করার পরামর্শ দেয় আমিরাত। টিকে
প্রবাসেও বিনম্র শ্রদ্ধায় শহীদ দিবস পালন [ভিডিও]

বিনম্র শ্রদ্ধায় ভাষা শহীদদের স্মরণ করছেন বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাঙালীরা। কানাডা, ইতালি, দুবাই ও বাহরাইনসহ অন্যান্য দেশে বসবাসরত প্রবাসীরাও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে। একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহীদদের আত্মত্যাগ বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন কানাডায় বসবাসরত প্রবাসীরা। টরন্টো, মন্ট্রিয়লসহ কয়েকটি বড় শহরে মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচি পালন করা হয়। মন্ট্রিয়লে বাঙ্গালীদের পাশাপাশি কর্মসূচিতে যোগ দেন কানাডা সরকারের হেরিটেজ মন্ত্রী মেলানি জোলি। এদিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেন ইতালি প্রবাসীরা। একুশের প্রথম প্রহরে দেশটির বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল রেজিনা আহমেদ শহিদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এছাড়াও ১৭টি দেশের ভাষায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন দুবাই প্রবাসীরা। অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণসহ জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। প্রভাত ফেরির আয়োজন করা হয় বাহরাইনে। দেশটিতে বাংলাদেশ স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান দূতাবাসের কর্মকর্তাসহ প্রবাসী বাঙালীরা।  ভিডিও লিংক:  

মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

একুশে ফেব্রুয়ারি মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বুধবার রাতে কুয়ালালামপুরের স্থানীয় একটি হোটেলের বলরুমে দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করে মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগ।  এতে বক্তারা বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে যারা জীবন দিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন তারা এই বাংলার অমর সন্তান। তাই এই অমর সন্তানদের আত্মতাগের জন্য ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেসকোর এক ঘোষণায় ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়।  আজ আমরা পৃথীবির বুকে মাথা উঁচু করে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করতে পারি। আমরা সেই জাতি, যে জাতি ভাষার জন্য বুকের তাজা রক্ত বিলিয়ে দিতে কার্পণ্য করেনি। মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি মকবুল হোসেন মুকুলের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির ও শাখাওয়াত হক জোসেফের যৌথ পরিচালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ইউনিভার্সিটি অব মালয়ার প্রফেসর ডা. এমদাদুল হক। প্রধান বক্তা ছিলেন মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত হোসেন পান্না। বিশেষ অতিথি ছিলেন  মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম শাখার প্রথম সচিব মো. হেদায়েতুল ইসলাম মন্ডল ও মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামন কামাল। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সিরাজ, যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মো. আবু হানিফ, রেজাউল হক লায়ন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি জালাল উদ্দিন সেলিম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তারিকুজ্জামান মিতুল, মালয়েশিয়া শ্রমিক লীগের সহ সভাপতি মো. শাহ আলম হাওলাদার, ছাত্রলীগ নেতা শরিফুল ইসলাম প্রমুখ। / এআর /

মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্যদিয়ে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে পালিত হলো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৯ টায় রাষ্ট্রদূত মহ. শহিদুল ইসলাম পতাকা উত্তোলন করেন।  পরে ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা ও তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এরপর মালয়েশিয়া ট্যুরিজম সেন্টার (মেটিক) এ হাইকমিশনের অস্থায়ী স্মৃতিসৌধে ভাষা শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানো হয়।  অস্থায়ী স্মৃতিসৌধে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের পুষ্পস্তবক অর্পণের পর মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, যশোর সমিতি, ফেনি সমিতি, গোপালগঞ্জ সমিতি, চাঁদপুর সমিতি, বাংলাদেশ স্টুডেন্ট ইউনিয়ন মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব অব মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পন করে।   এরপর আলোচনা সভার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলার মো. সায়েদুল ইসলাম, এয়ার কমডোর হুমায়ূন কবির, দূতালয় প্রধান ওয়াহিদা আহমেদ, মিনিস্টার রইছ হাসান সারোয়ার, দূতাবাসের শ্রম শাখার দ্বিতীয় সচিব মো. ফরিদ আহমদ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি মাসুদ হোসেন, কমার্শিয়াল উইং মো. রাজিবুল আহসান, পাসপোর্ট ও ভিসা শাখার প্রথম সচিব মশিউর রহমান তালুকদার, শ্রম শাখার প্রথম সচিব হেদায়েতুল ইসলাম মন্ডল, প্রথম সচিব তাহমিনা ইয়াছমিন প্রমুখ। টিকে

রিয়াদে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশের মধ্যদিয়ে সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি পালন উপলক্ষে বুধবার সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ। এ সময় দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর দূতাবাসে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রদূত। এ সময় কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ প্রবাসী বাংলাদেশীগণ শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দিবসটি উপলক্ষে দূতাবাস প্রাঙ্গণে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাষা শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। আলোচনায় রাষ্ট্রদূত বলেন, মাতৃভাষার জন্য আত্মদান পৃথিবীর ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। ইউনেস্কো এ অনন্য ঘটনাকে স্বীকৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা দেওয়ায় আজ সারা পৃথিবীতে দিবসটি পালিত হচ্ছে। আলোচনা শেষে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত ও জাতির সুখ সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ উপলক্ষে দূতাবাস প্রাঙ্গণে স্থানীয় ঢাকা মেডিক্যাল সেন্টার প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য ফ্রি মেডিক্যাল চেক-আপের আয়োজন করে। আর

কুয়েতে সাধারণ ক্ষমার মেয়াদ বাড়লো আরও ১ মাস

অবৈধভাবে কুয়েতে অবস্থান করা অভিবাসীদের মধ্যে যারা আইনভঙ্গের দায়ে দণ্ডিত তাদের দেওয়া সরকারি ক্ষমার মেয়াদ বাড়তে পারে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে আরব টাইমস জানায়, সরকার প্রদত্ত এ ক্ষমার মেয়দার বাড়তে পারে আরও ৩০ দিন। এর আগে ২৫ দিনের জন্য সব ধরনের শাস্তি অথবা জরিমানা মওকুফ করা হয়েছিল আইন ভঙ্গ করা সেসব অভিবাসীদের। এর মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২২ ফেব্রয়ারি। তবে ক্ষমার মেয়াদ বাড়ানো হলে আরও ৩০ দিন এ সুবিধা পাবে এসব অভিবাসী। অভিযুক্তদের নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছে দেশটির সরকার। কুয়েতের উপ প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ খালিদ আল-জাররাহ গণমাধ্যমকে বলেন, “এ বিষয়ে একটি অনুরোধ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে ভেবে দেখছি”। তবে এরই মধ্যে, দেশটির বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং দেশটির লোক প্রশাসন এসব অবৈধ অভিবাসীদের প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্দরবিষয়ক সহকারি আন্ডার সেক্রেটারি মেজর জেনারেল মনসুর আল আওয়াধি। এরই মধ্যে দেশের বাইরে যেতে নিষেধাজ্ঞা থাকা ৫০ জন ব্যক্তিকে দেশ ত্যাগে বাঁধা দেয় কুয়েতের ইমিগ্রেশন বিভাগ। সূত্র মতে, দেশটিতে থাকা প্রায় দেড় লাখ অবৈধ অভিবাসীর মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার অভিবাসী এই ক্ষমার সুযোগে দেশটিতে আরও বেশি সময় থাকার সুযোগ পাচ্ছেন। এরই মধ্যে, প্রতিদিন দেড়শ থেকে দু’ইশ অবৈধ অভিবাসীকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিচ্ছে ফিলিপাইন। সূত্র: আরব টাইমস এসএইচএস/টিকে  

মালয়েশিয়ায় জুনের মধ্যেই বৈধ হওয়ার তাগিদ

মালয়েশিয়ায় কর্মরত ই-কার্ড হোল্ডারধারী বিদেশী কর্মীদের রিহায়ারিং বা বৈধ করণ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার জন্য তিনটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। মালয়েশিয়া অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক সেরি মুস্তফার আলী জানান, ইন্দোনেশিয়ার কর্মীদের পরিচালনা করবে ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং এন্ড নেট রিসোর্সেস এসডিএন বিএসডি (ইমান), মিয়ানমারের কর্মীদের জন্য সয়ারিকাট বুকতি মেগা এসডিএন বিএসডি এবং বাকি দেশেগুলোর কর্মীদের পরিচালনা করবে কনসর্টিম পিএমএফ। দেশটির অভিবাসন বিভাগের তথ্য মতে, ই-কার্ড হোল্ডারধারী কর্মীদের চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যেই বৈধকরণ পক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। মুস্তফার আরও যোগ করেন যে, অবৈধ পথে প্রবেশকারী অবৈধ কর্মীদের জন্য গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ই-কার্ড প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছিল যাতে অবৈধে কর্মীদের নিয়োগদাতারা তাদের কর্মীদের পাসপোর্ট সংগ্রহের মাধ্যমে বৈধ করতে সক্ষম হন। জানা গেছে, ই-কার্ড এর মেয়াদ চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে।  ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্য যারা পাসপোর্ট জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তিনি আরও জানিয়েছেন, ই-কার্ড হোল্ডারধারীদের মধ্যে যারা বৈধতা পাওয়া যোগ্য নয় তাদেরকে কে থ্রি প্লাস ওয়ান (3+1) কর্মসূচির মাধ্যমে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। টিকে

লন্ডন ‍দূতাবাসে হামলার বিচার দাবি

লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে সন্ত্রাসী হামলা, বঙ্গবন্ধুর ছবি অবমাননার প্রতিবাদ ও হামলাকারীদের বিচারের দাবি করেছে বিদেশে বসবাসকারী বাঙালীদের সংগঠন `আমরা প্রবাসী`। আজ মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানান সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী শামীম হকের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন এম এ ফারুক প্রিন্স, সৈয়দ এহসানুল হক, যুক্তরাজ্য প্রবাসী মামুন সরকার, আরব আমিরাত প্রবাসী খায়রুল আলম সাগর, সিঙ্গাপুর প্রবাসী তায়েবুর রহমান টনি, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী হাজী ইকবাল, সৌদি প্রবাসী শিমুল হাসান এক্সেল, কোরিয়া প্রবাসী জলিল হাওলাদার, গ্রীস প্রবাসী মিজানুর রহমান  প্রমুখ। বক্তারা অবিলম্বে লন্ডন দূতাবাসে হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ বিচার দাবি করেছেন। উল্লেখ্য গত ৮ ফেব্রুয়ারী জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৫ বছর সাজা হয়। এর প্রতিবাদে লন্ডনে বাংলাদেশ দূতাবাসে বিএনপি সমর্থকরা হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে এবং বঙ্গবন্ধুর ছবি অবমাননা করে। / এআর /

ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা

বাংলাদেশ থেকে খুব সহজে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে ভিসা দেওয়া হয় না। এটা আমাদের ট্যুরিস্ট ভাই বোনদের জন্য খুবই দুঃখজনক। আমাদের অনেকেই আছেন যারা না জেনেই হাজার হাজার টাকা খরচ করেন ভিসার জন্য। তারা আদৌ জানেন না বাংলাদেশ থেকে তিনি ভিসা পাওয়ার যোগ্য কিনা? আর এই সুযোগ নিচ্ছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা যারা কিনা বিভিন্ন সময় লোভ দেখিয়ে পাসপোর্টে পূর্বে আশে পাশের দুই তিনটা দেশের ভিসা থাকলেই উন্নত বিশ্বের দেশ যেমন অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, আমেরিকা এবং ইউরোপের ভিসার জন্য আমন্ত্রণ করেন। আর এই লোভে যোগ্য অযোগ্য সবাই তখন সেদিকে দৌড়াতে থাকেন। যেন ভিসার মালিক সেই কোম্পানিগুলো। শুনলে হয়তো অবাক হবেন একজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর জন্যে এই প্রসেসিং কিছুই না। আপনার যোগ্যতাতেই আপনি ভিসা পাবেন। আপনার যোগ্যতার সঙ্গে যদি সঠিক ডকুমেন্টস থাকে এবং নিয়ম অনুযায়ী সব জমা দিতে পারেন তাহলে ভিসা নিশ্চিত। এখানে এজেন্টগুলো শুধুমাত্র আপনার ভিসা ফর্মটি ফিলাপ করেন আর বাকি সব ডকুমেন্টস আপনার কাছে থেকে নিয়ে আপনাকেই ভিসার জন্য দাঁড়াতে হবে। এখানে এজেন্টের কোন ক্ষমতা নেই আপনাকে ভিসা পাইয়ে দেওয়ার। আমি নিজে নিজেই যেহেতু কিছু উন্নত দেশের ভিসা পেয়েছি তাই আমাদের দেশের জন্য তাদের কিছু কিছু প্রধান রিকয়েরমেন্ট সম্পর্কে বুঝতে পেরেছি। অন্য দেশের ট্যুরিস্টদের জন্য খুব ইজি হলেও আমাদের ব্যাপারে তাদের রিকয়েরমেন্টগুলো অটল। আপনি শুধুমাত্র দুই তিনটা দেশ পূর্বে ঘুরলেই ভিসা পাবেন এটা মোটেও সত্য নয়। উন্নত দেশগুলোতে ভিসা পাওয়ার প্রধান শর্ত আপনাকে তাদের নিকট ডকুমেন্টসের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে যে, আপনি বাংলাদেশে অর্থনৈতিকভাবে অনেক ভালো আছেন আর আপনি একজন নিয়মিত ট্যুরিস্ট এবং ট্যুর শেষে অবশ্যই যথা সময়ে দেশে ফিরবেন। এই প্রমাণ তারা ঠিকমত না পেলে কোনোদিনও আপনি ভিসা পাবেন না। কিভাবে প্রমাণ করা যেতে পারে আপনি দেশে ফিরে আসবেন এবং এই প্রমাণের জন্য এ্যম্বাসি একজন ট্যুরিস্টের কোন কোন দিক খুব গুরুত্ব দেয় তার কিছু বেসিক দিক নিম্নরুপঃ ♣ আপনাকে ভালো বেতনের চাকুরীজীবী অথবা ভাল আয়ের ব্যবসায়ী হতে হবে। ♣ চাকুরীজীবীর ক্ষেত্রে অফিস থেকে অফিসের প্যাডে NOC এবং Salary Certificate জমা দিতে হবে। ♣ ব্যবসায়ীর ক্ষেত্রে আপডেট ট্রেড লাইসেন্সের কপি এবং মাসিক আয় দেখাতে হবে। ♣ চাকুরীজীবীর ব্যাংক Salary Account থাকতে হবে এবং ব্যবসায়ীর ক্ষেত্রে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের  নামে ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে। ♣ আপনার মাসিক আয়ের সাথে ব্যয় এবং ব্যাংকে অবশিষ্ট সেভিংসের একটা মিল থাকতে হবে। ♣ আলাদা একাধিক ব্যাংক সেভিংস একাউন্ট দেখানো যেতে পারে। ♣ ব্যাংক স্টেটমেন্ট এর একটা ধারাবাহিকতা থাকতে হবে দুই দিনের মধ্যে লাখ লাখ টাকা জমা দিলে হবেনা।  এতে তারা একাউন্ট সাজানো মনে করেন এবং ভাবেন আপনি যে কারো কাছে টাকা ধার করে ভিসার জন্য জমা দিয়েছেন। ♣ TIN সার্টিফিকেট থাকতে হবে। ♣ দীর্ঘদিনের FDR অথবা সঞ্চয়পত্র থাকতে হবে (ভিসার জন্য নতুন করলে হবেনা)। ♣ যেকোন সম্পদ যেমন নিজের নামে জমি বা ফ্লাটের দলিল অধিক গ্রহণযোগ্য। ♣ বছরে এক অথবা দুইবার বিদেশ ভ্রমণ থাকা ভাল  ভিসার জন্য ১০ দিনের মধ্যে তিনটা দেশ ঘুরলে হবে না তাহলে এটি সাজানো মনে হবে। ♣ বিবাহিতদের জন্য ভিসা পাওয়া অগ্রধিকার, তবে সেক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রী উভয়কেই একসাথে একই সময়ে পূর্বে বিদেশ ভ্রমণের প্রমাণ থাকতে হবে। ♣ শুধুমাত্র ঘুরার উদ্দেশ্য নিয়ে নয় বরং বিভিন্ন ওকেশনের উদ্দেশ্য হাইলাইট করা ভিসার জন্য ভাল। ♣ ইনভাইটেশন অথবা হোটেল বুকিং থাকতে হবে আবার অনেক ক্ষেত্রে ইনভাইটেশন জরুরী ( ইনভাইটেশন লেটার নিয়ম অনুযায়ী লিখতে হবে। ♣ কিছু কিছু এ্যাম্বাসি ভিসার জন্য ইন্টার্ভিউ নিয়ে থাকেন। সেক্ষেত্রে অবশ্যই স্মার্টের সাথে সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। তবে ওভার স্মার্ট হওয়া ভাল নয়। তাদের প্রথম প্রশ্নই থাকবে আপনি কেন যেতে চান। এই ব্যাপারে সঠিক এবং গুরুত্বপূর্ণ উত্তর দিতে হবে। শুধু বেড়াতে বা ঘুরতে যেতে চান তা না হয়ে কোন কারণ তুলে ধরতে পারেন। আমি উপরে শুধুমাত্র কিছু বেসিক বিষয় বা ডকুমেন্টের কথা লিখেছি এছাড়া বিভিন্ন দেশের জন্য নিজস্ব বিভিন্ন ডকুমেন্টের প্রয়োজন হয়। সেক্ষেত্রে আপনি যে দেশেরই ভিসা করুন না কেন সেই দেশের ওয়েভ সাইট ভিজিট করে তাদের চেকলিস্ট সংগ্রহ করুন এবং সেই অনুযায়ী সকল ডকুমেন্ট জমা দিন। আর মনে রাখবেন আপনার যেকোন বাংলা ডকুমেন্টস অবশ্যই ইংরেজীতে অনুবাদসহ তা নোটারী করে জমা দিতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার সময় লক্ষ্য রাখুন আপনার ডকুমেন্টস যেন ঝকঝকে এবং ডিসিপ্লিন থাকে। অস্পষ্ট এবং অগোছালো কাগজ তাদের কাছে বিরক্তির কারণ হতে পারে। এমনভাবে ডকুমেন্টসগুলো জমা দিবেন যাতে তারা হাতে নিয়ে খুব সহজে সব বুঝতে পারেন। এছাড়া আপনার জমাকৃত সকল তথ্য অবশ্যই সত্য হতে হবে যাতে তারা অনুসন্ধান করলে যেন সঠিক তথ্য পায়। নিজেকে ভিসা পাওয়ার যোগ্য করে আবেদন জমা দিবেন নতুবা অযথা রিফিউজ হয়ে আপনার পাসপোর্টকে নষ্ট করবেন না। কারণ কোন দেশে একবার রিফিউজ হলে পরবর্তীতে আপনি যোগ্য হলেও সেই দেশ আর ভিসা দিতে চায়না। তবে আপনাকে আরো একটি কথা মাথায় রাখতে হবে আপনি যদি খুবই যোগ্য কিংবা কোন সুপারস্টারও হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রেও আপনি ৮০% এর বেশী ভিসার  আশা করতে পারবেন না। পরিবেশ পরিস্থিতি আর আপনার কোন প্রকার ভুলের কারনেও রিফিউজ হতে পারেন। কেআই / এআর /

‘ভাষা জানলে জার্মানিতে ভিসা পাওয়া সহজ’

ইউরোপের শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ হিসেবে পরিচিত জার্মানি। প্রায় বারো হাজার প্রবাসী বাংলাদেশী জার্মানিতে নানা ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত। জার্মান সরকার চাকরিজীবী ছাড়াও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ছাত্রদের জন্য রেখেছে নানান সুযোগ। জাতিগতভাবে খুব বেশি আবেগী নয় জার্মানিরা। তারা সম্পর্কের ক্ষেত্রে কাজকেই প্রাধান্য দেয়। প্রবাসী বাংলাদেশিরা পরিশ্রমী হওয়ায় সহজেই সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে জার্মানের লোকজনের সঙ্গে। আর এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে দু’দেশেরই অর্থনীতি লাভবান হওয়ার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন জার্মানিতে বাঙালি ব্যবসায়ী ও জার্মান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মোবারক আলী ভূঁইয়া বকুল। সম্প্রতি তার আলাপচারিতায় প্রবাস জীবনের নানা বিষয় উঠে এসেছে। সাক্ষাতকার নিয়েছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইনের প্রতিবেদক আলী আদনান। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ আপনি দীর্ঘদিন জার্মানিতে বসবাস করছেন। সেখানে  ব্যবসা, রাজনীতি ও সামাজিক জীবনেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে জার্মানিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা কেমন আছেন? মোবারক আলী ভুঁইয়া বকুলঃ ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় জার্মানিতে বাংলাদেশিরা ভালো আছেন। সেখানে সামাজিক নিরাপত্তা আছে। তাদের জীবন মানে একটা নিশ্চয়তা আছে। মানুষের যে পাঁচটি মৌলিক অধিকার সেটার নিশ্চয়তা আছে এবং সেক্ষেত্রে তেমন কোনো বৈষম্য নেই। সেখানে যারা দীর্ঘদিন বসবাস করছেন তাদের সাধ ও সাধ্যের মধ্যে পার্থক্য নেই। সেখানে বসবাসরত একজন বাংলাদেশি হয়তো মার্সিডিজ চালাতে পারবে না বা পারছে না কিন্তু চার চাকার একটা প্রাইভেটকার রাখার সামর্থ্য তাদের কম বেশি সবার আছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ আনুমানিক কী পরিমাণ বাংলাদেশি বর্তমানে জার্মানিতে আছেন? তারা কর্মক্ষেত্রে কোনো ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন? মোবারক আলী ভুঁইয়া বকুলঃ বর্তমানে জার্মানিতে প্রায় ১২ হাজার বাংলাদেশী আছেন। কর্মক্ষেত্রে ভাষা তাদের প্রধান সমস্যা। কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতে সাধারণত ইংরেজি জানা থাকলে সুবিধা করা যায়। কিন্তু জার্মানিতে বিষয়টি একেবারেই উল্টো। দ্বিতীয়ত, জার্মানিতে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে একটা বড় সমস্যা হলো তাদের কোম্পানিগুলো নিশ্চয়তা চায়। যখন তারা দেখে কেউ দুই বছরের জন্য ভিসা পেয়েছে তখন তাদের চাকরি দিতে জার্মান কোম্পানীগুলো কার্পণ্য করে না। কিন্তু ভিসা না থাকলে দ্বিধাবোধ করে। কারণ, দেখা গেল কাউকে চাকরি দিল, সে কোম্পানীতে কাজ শেখা শুরু করল। কোম্পানির ভালো মন্দ জানল। এর পরপরই ভিসা জটিলতায় তাকে দেশে ফিরতে হলো। তখন কিন্তু ঘুরে ফিরে কোম্পানির ক্ষতি। তাই তারা তাকেই নিতে আগ্রহী হয় যার সেখানে থাকার নিশ্চয়তা আছে। আর এই দুই বছরের ভিসা পাওয়ার জন্য অনেক সংগ্রাম করতে হয়। এখন অবশ্য তেমন কষ্ট করতে হয় না। মোটামুটি তাড়াতাড়ি হয়ে যায়। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ এখন জার্মানিতে ভিসা ছাড়া আছেন এমন বাংলাদেশির সংখ্যা কত? ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে কী কী জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে? মোবারক আলী ভুঁইয়া বকুলঃ বর্তমানে জার্মানিতে ভিসা ছাড়া তেমন কেউ নেই। দু`একজন থাকলেও থাকতে পারে। সেটা চোখে পড়ার মতো না। ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে সেখানে এগিয়ে আছে স্টুডেন্টরা। তারা নির্দিষ্ট শর্তগুলো মেনে চললেই ভিসা পেয়ে যায়। পড়াশুনা শেষ করে কোন চাকরি ম্যানেজ করতে পারলেই দুই বছরের ভিসা পেয়ে যায়। তবে ২০০৫ এর আগে এই সুবিধা ছিল না। ছিল না এজন্যই, জার্মান সরকারের যুক্তি ছিল, তোমরা ছাত্র হিসেবে আমাদের দেশে এসেছ। পড়াশুনা করে নিজেকে তৈরি করে নিজ দেশে গিয়ে দেশের কাজ লাগ। অর্থাৎ এটা পরোক্ষভাবে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সাহায্য করা। কিন্তু তারা একটা পর্যায়ে খেয়াল করলো বাংলাদেশি ছেলেরা সেখানে পড়াশুনা শেষ করে নিজ দেশে তো ফেরেই না, বরং কেউ তারা ইউরোপ- আমেরিকার অন্যান্য বড় বড় দেশে চলে যাচ্ছে। অন্যদিকে জার্মানির বড় বড় কোম্পানিগুলোতে দক্ষ জনশক্তির অভাব। তখন জার্মান সরকার আইন করে এ সুবিধাটা দিল, কেউ যদি পড়াশুনা শেষ করে  জার্মানে চাকরি ম্যানেজ করতে পারে তাহলে তাকে রাখা হবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ জার্মানিতে বাঙালিরা সাধারণত কী ধরনের কাজ করে? বাংলাদেশী টাকায় তাদের গড় আয় কেমন? মোবারক আলী ভুঁইয়া বকুলঃ শতকরা পঞ্চাশভাগ লোক শ্রমিক। কেউ কেউ সেই অবস্থা উত্তোরণ করে এসে ব্যবসা বানিজ্য করছেন। অনেকে খুব ভাল জায়গায় কাজ করছেন। বাংলাদেশি টাকায় এখানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের গড় আয় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ জার্মানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিটেন্স আমাদের অর্থনীতিতে কতটা ভূমিকা রাখছে? মোবারক আলী ভুঁইয়া বকুলঃ আমি মনে করি, মধ্যপ্রাচ্যে যেসব বাংলাদেশী আছেন, রেমিটেন্সে তাদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। ইউরোপ- আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসীদের ভূমিকা এক্ষেত্রে কম। এর পেছনে একটা ব্যাখ্যা আছে। যারা মধ্যপ্রাচ্যে আছেন তাদের একটা তাগাদা থাকে। ভিসার মেয়াদ শেষ হলে দেশে ফিরতে হবে। যেহেতু দেশে ফিরতে হবে তাই দেশে তারা একটা প্রস্তুতি রাখেন। জায়গা কে না, বাড়ি করা। বা প্রতিমাসে স্ত্রী পুত্রের জন্য ভরণ-পোষণ পাঠানো। কিন্তু যারা ইউরোপে বসবাস করেন তারা সেখানে একটা নিশ্চয়তা পায়। চাকরি করতে করতে ভিসার মেয়াদ বাড়ায়, নাগরিকত্ব পায়। বা সেখানে বিয়ে করে। সন্তানরা স্কুলে যায়। ওখানকার ব্যস্ত, প্রতিযোগীতাময় ও নিরাপদ জীবনে অভ্যস্ত হয়ে যায়। তখন সে বাড়ির করার কথা চিন্তা করলে ইউরোপে যেখানে বসবাস করছে সে জায়গাটাকেই প্রাধান্য দেয়। যেহেতু দেশে ফেরার তাগিদ তার থাকে না সেহেতু দেশে সে টাকা পাঠাতে তেমন একটা উৎসাহী হয় না। আমি সবার কথা বলছি না, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমার এটা মনে হয়। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ জার্মানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির ব্যপারে জার্মান সরকারের মনোভাব কেমন? মোবারক আলী ভুঁইয়া বকুলঃ জার্মানের নিজস্ব একটা সমস্যা আছে। তা হলো তাদের জনসংখ্যা ঘাটতি। ২০০০ সালে জার্মান সরকার উদ্যোগ নিয়েছিল এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে লোক এনে সেই ঘাটতি পূরণ করবে। কিন্তু তাদের সেই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। না হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ হলো ভাষাগত সমস্যা। এ কারণে কেউ তেমন উৎসাহ দেখায় নি। সেজন্য বর্তমানে জার্মান সরকার বিভিন্ন দেশে জার্মান ভাষা শেখার সুযোগ করে দিয়েছে। আমাদের বাংলাদেশেও অনেকগুলো স্কুল জার্মান ভাষা শেখাচ্ছে। অনেকগুলো ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র বা ইনস্টিটিউটে জার্মান ভাষা শেখানো হচ্ছে। জার্মান দূতাবাস এই ব্যপারে সহায়তা দিচ্ছে। সত্যি কথা হচ্ছে, জার্মানিরা কারো প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন হয় না আবার শত্রুভাবাপন্নও হয়না। ওরা কাজ পাগল জাতি। কাজ বুঝে। আমাকে দিয়ে ওদের কী কাজ হবে সেটাই বুঝে। গিভস এন্ড টেকস নীতিতে সেই কাজ ওরা বুঝে নেয়। এখানে আবেগের কোনো মূল্য নেই। একুশে টেলিভিশন অনলাইন : জার্মান- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক কেমন? মোবারক আলী ভুঁইয়া বকুলঃ জার্মান- বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পর্ক ভাল। গত দশ বছরে এই সম্পর্কের যথেষ্ট উন্নয়ন হয়েছে। একসময় কিন্তু জার্মান টেকনোলজি বাংলাদেশে আসত না। জার্মান টেকনোলজি আইনে সে সুযোগ ছিল না। এখন কিন্তু জার্মানসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশগুলো চাচ্ছে তাদের টেকনোলজি আমাদের দেশে আসুক। তারা আমাদের উৎপাদিত পণ্য কিনতে রাজি। কিন্ত শর্ত হচ্ছে তাদের প্রযুক্তি আমাদের ব্যবহার করতে হবে। আমাদের গার্মেন্টসের উৎপাদিত শার্ট- প্যান্ট তারা কিনবে যদি আমরা গার্মেন্টসে ব্যবহৃত মেশিন তাদের কাছ থেকে কিনি। শুধু জার্মান কেন, পুরো ইউরোপেই এখন বাংলাদেশি পণ্যের বাজার বাড়ছে। এক্ষেত্রে এক নম্বরে আছে গার্মেন্ট পণ্য। বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরিতে এখন আমাদের ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য যাচ্ছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মৎস্য রফতানি হচ্ছে, সবজি রফতানি হচ্ছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ জার্মানের কোন কোন প্রযুক্তির সম্ভাবনা ভাল, যা আমরা কাজে লাগাতে পারি? মোবারক আলী ভুঁইয়া বকুলঃ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের তুলনায় Power development - এ অনেক এগিয়ে আছে। যেমনঃ ছোট একটা উদাহরণ দিই। আজকের পৃথিবীতে যেভাবে পানি ব্যবহৃত হচ্ছে, এর ফলে পানির স্তর খুব দ্রুত নিচে নেমে যাবে। বিজ্ঞানীরা ধারনা করছেন, কোন এক সময় পৃথিবীতে পানির সংকট দেখা দেবে। জার্মানরা এ বিষয়ে ভাল কাজ করছে। আমরা প্রতিবার কমোড ফ্ল্যাশ করলে পনের - বিশ লিটার পানি খরচ হয়। জার্মানের বিজ্ঞানীরা সেই পানি পুনরায় প্রক্রিয়াজাত করে বিশুদ্ধ করছে। এর ফলে বর্জ্যগুলো অপসারিত হয়ে চলে যাচ্ছে এবং পানিটা আবার বিশুদ্ধ পানি হিসেবে খাওয়া- পরায় ব্যবহার হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা গ্যারান্টি দিচ্ছেন, আগের তুলনায় এই পানি আরও বেশি বিশুদ্ধ। পুরো ইউরোপে এই প্রযুক্তি কাজে লাগানো হচ্ছে। আমাদের এখানেও এটা কাজে লাগানো উচিত। আমরা মোচড় দিয়ে পানির ট্যাপ খুলি। সেখানে সব সংক্রিয়ভাবে খোলা বন্ধ হয়। ট্যাপ খোলার পর কিছু পানি ছিটকে পড়ে। সেই ছিটকে পড়া পানি জারে সংরক্ষণের ব্যবস্থা আছে। এরকম ছোট অনেক প্রযুক্তি আমরা কাজে লাগাতে পারি যেগুলো আমাদেরকে অনেক বড় ভবিষ্যত সংকট থেকে বাঁচাবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ জার্মানির প্রযুক্তি আমরা কিভাবে কাজে লাগাতে পারি? মোবারক আলী ভুঁইয়া বকুলঃ জার্মানরা খুব শৃংখলাবদ্ধ, দেশপ্রেমিক ও পরিশ্রমী জাতি। একটা প্রস্তাব আমি সবসময় করি। ওদের প্রযুক্তি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমগুলো আমরা  টিম পাঠিয়ে শিখিয়ে এনে এখানে প্রচার করতে পারি বা বাস্তবায়ন করতে পারি। এতক্ষণ প্রযুক্তি সংক্রান্ত যা বললাম, তা ওদের বিশেষজ্ঞ টিম এনে আমাদের লোকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এখানে বাস্তবায়ন সম্ভব। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ আপনি জার্মান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। সুদূর জার্মানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের শাখার উপযোগিতা কী? একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ আমরা যারা বিদেশের মাটিতে থাকি আমরা প্রত্যেকেই আলাদা আলাদাভাবে আমাদের দেশটার প্রতিনিধিত্ব করি। আমাদের আসল পরিচয় বাঙালি জাতিসত্ত্বা। রাজনৈতিকভাবে বিদেশের মাটিতে আমার দেশের, আমার সরকারের ম্যাসেজ পৌঁছায় আমাদের কাজের মাধ্যমে। আমরা যারা রাজনীতি করি, সেই জায়গা থেকে আমার দলের আদর্শ উদ্দেশ্য বা কাজ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। জার্মান আওয়ামী লীগ সেই কাজটাই করছে। এই যে কাদের মোল্লার ফাঁসি হলো, সেখানে বুঝানো হয়েছিল, কাদের মোল্লা একজন ভাল মানুষ। ধর্ম কর্ম মানে। জীবনে তাকে দিয়ে কখনো মানুষের কোন ক্ষতি হয়নি। জার্মান আওয়ামী লীগ এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। কাগজ- পত্র, বিভিন্ন ডকুমেন্টসহ আমরা ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদের বুঝিয়েছি কাদের মোল্লার অতীত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে। বিএনপির জ্বালাও পোড়াও আন্দোলন সম্পর্কে আমরা ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের বিভিন্ন প্রতিনিধি ও তাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সামনে সঠিক চিত্র তুলে ধরেছি। অর্থাৎ আমরা আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে বিশ্বে জনমত সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছি। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকার নিয়ে জার্মান রাজনীতিবিদ বা ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদের মনোভাব কেমন? মোবারক আলী ভুঁইয়া বকুলঃ বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় নাকি বিএনপি ক্ষমতায় তা নিয়ে জার্মানের বা ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের কিছু যায় আসে না। ওরা দেখে কাজ, উন্নয়ন। সবচেয়ে বেশি দেখে মানবাধিকার। এসব বিবেচনায় বর্তমানে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি খু্ব উজ্জ্বল। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার পর বিদেশের গণমাধ্যম শেখ হাসিনাকে `মাদার অব হিউম্যানিটি` উপাধি দিয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এটা বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় ব্যাপার। পক্ষান্তরে ২০০১ সাল থেকে দেশে খুন, সন্ত্রাসের উৎসব ছিল। সংখ্যালঘুরা অনিরাপদ ছিল। ধর্ষণের মতো ঘটনা স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল। মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদের চরম প্রসার ঘটেছিল। একের পর এক বিরোধী রাজনীতিবিদদের খুন করা হয়েছিল। এসব বিবেচনায় শেখ হাসিনা বিশ্ববাসীর কাছে আদর্শ রাষ্ট্রনায়ক। চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তিনি পৃথিবীর কাছে একটি মডেল। একটি উন্নত ও সভ্য রাষ্ট্র যেদিকে হাঁটে বর্তমান সরকার দেশকে সেদিকে নিয়ে যাচ্ছে। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ আগামী নির্বাচন নিয়ে জার্মান আওয়ামী লীগের ভাবনা কি? মোবারক আলী ভুঁইয়া বকুলঃ দেশের মোট চার কোটি ভোটারের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রবাসী বাঙালিরা জড়িত। জার্মান আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, জার্মান প্রবাসী পরিবারগুলোকে আমরা উৎসাহিত করব, যাতে তারা দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখার স্বার্থে আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়। যেহেতু নির্বাচনে টাকার প্রয়োজন আছে, সেহেতু প্রচারের ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে যারা উৎসাহী আছেন তারা আওয়ামী লীগের প্রচারের টাকা খরচ করবে। আরেকটা সিদ্ধান্ত আছে, সর্ব ইউরোপিয় আওয়ামী লীগের একটা টিম নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পরামর্শ নিয়ে দেশব্যপী গণংযোগ করবে। একুশে টেলিভিশন অনলাইনঃ আমাদেরকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। মোবারক আলী ভুঁইয়া বকুলঃ আপনাকেও ধন্যবাদ। একুশে পরিবারের জন্য শুভকামনা। / এআর /

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি