ঢাকা, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২২:৩৪:০০

পবিত্র আশুরা ১ অক্টোবর

পবিত্র আশুরা ১ অক্টোবর

বাংলাদেশের আকাশে বৃহস্পতিবার ১৪৩৯ হিজরি সালের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আজ থেকে পবিত্র মহররম মাস গণনা শুরু হবে। আগামী ১ অক্টোবর রোববার সারাদেশে পবিত্র আশুরা উদযাপিত হবে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ কমপ্লেক্সে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনিছুর রহমান। সরকারি এক তথ্য বিবরণী থেকে এসব জানানো হয়েছে। সভায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. হাফিজুর রহমান, তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মিজান-উল-আলম, অতিরিক্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফজলে রাব্বী, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মো. শাফায়াত মাহবুব চৌধুরী, ঢাকা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মজিবর রহমান, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক (প্রশাসন) মো. শাখাওয়াত হোসেন, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবদুর রহমান, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের পিএসও শাহ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান,  চকবাজার শাহী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শেখ নাঈম রেজওয়ান ও লালবাগ শাহী মসজিদের খতিব মাওলানা আবু রায়হান  প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। //এম//এআর
মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

মহাষ্টমীতে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাম্বলীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের শুরু হবে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বও থেকে। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে প্রতিমা তৈরির কাজ। এখন চলছে শেষ মুহূর্তেও কাজ। তুলির আঁচড়ে দেবী দুর্গাকে মূর্ত করে তোলার চেষ্টায় প্রতিমা শিল্পীরা। ঢাকের বাজনা, শঙ্খধ্বনি আর আরতিতে মুখরিত হওয়ার অপেক্ষায় বাংলার শহর গ্রামের মন্দির-মণ্ডপগুলো। শান্তিপূর্ণভাবে পূজা সম্পন্ন করতে মণ্ডপগুলোতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। মায়ের আগমনে প্রতীক্ষার প্রহর গুনছে বাঙালি সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষেরা। জগতজননী মাকে বরণ করে নিতে রাজধানীর শ্রী ঢাকেশ্বরী মন্দিরে প্রাচীন স্থাপত্যের আদলে এবারে তৈরি করা হয়েছে ‘‘ মহানগর কেন্দ্রীয় পূজা মণ্ডপ’’। সকাল থেকে মন্দির প্রাঙ্গনে ছিলো চণ্ডী ও গীতা পাঠের আয়োজন। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান মেনে মণ্ডপে ঘট স্থাপন, যজ্ঞ, পুষ্পাঞ্জলি নিবেদনসহ নানা বিধিতে পূজা অর্চনা করেন ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের প্রধান পুরোহিত রনজিৎ চক্রবর্তী। বছর ঘুরে মা আবার আসছেন, ভক্তমনে তাই খুশির আভাস। মাকে বরণ করে নিতে প্রস্তুতির কমতি রাখছেন না তারা। মায়ের আর্শীবাদে দূর হবে সকল অন্ধকার, বিশৃঙ্খলা আর ধরাধামে বইবে শান্তির সুবাতাস- এমনটাই প্রত্যাশা ভক্তদের। প্রতিবছরের মতো এবারো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে নেওয়া হয়েছে দুর্গা পূজার প্রস্তুতি। হলের ভিতরে অবস্থিত মন্দিরের প্রতিমা তৈরি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। হলের খেলার মাঠেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের পক্ষ থেকে পূজা উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।  তবে দেশে বন্যা পরিস্থিতি ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কথা মাথায় রেখে পূজার সার্বিক আয়োজন সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা কাজল দেবনাথ।এদিকে রাজধানীর মত সারাদেশেই মহাসমারোহে চলছে দূর্গা পূজার প্রস্তুতি। ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহে দুর্গা প্রতিমাকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে দিনরাত চেষ্টা কারিগরদের। জেলায় চারশ’টি মন্দিরে দুর্গা পূজা হবে। কয়েকদিনের মধ্যেই তুলির আচড়ে ফুটিয়ে তোলা হবে দেবী দুর্গাকে। এবার পূজার নিরাপত্তায় জেলায় তিন হাজার পুলিশ ও আনসার মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। মাদারীপুর: জেলার মন্দির ও পূজা মণ্ডপের সাজসজ্জাই বলে দিচ্ছে মা দুর্গার আগমন বার্তা। প্রতিমা রঙ করার পাশাপাশি চলছে সাজ সজ্জার কাজ। এ বছর জেলার ৪১৮টি মণ্ডপে পূজা উদযাপন হবে। মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জের মন্দিরগুলোতেও ব্যাপক প্রস্তুতি। চলতি বছর ২৮৭টি মণ্ডপ ও মন্দিরে পূজা হবে। সবচেয়ে বেশি পূজা হবে জেলার সিরাজদিখান উপজেলায়। এ উপজেলায় মোট  ৯৭টি পূজা মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে।শরীয়তপুর: শারদীয়া দুর্গা পুজাকে সামনে রেখে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত শরীয়তপুরের কারিগররা। সদর উপজেলার কোটাপাড়া গ্রামে রাম চন্দ্র পালের বাড়িতে চলছে প্রতিমা তৈরির ধুম। এখানে ৪০ সেট প্রতিমা তৈরি হয়েছে। এবছর শরীয়তপুরের ছয় উপজেলায় মোট ৮৪ টি পুজা মণ্ডপে দুর্গা পূজা উদযাপন করা হবে।সাম্প্ররদায়িক সম্প্রীতিতে এবছরও সাড়ম্বরে উদযাপিত হোক সার্বজনীন দুর্গা উৎসব-এমনই প্রত্যাশা সবার। ভিডিও দেখুন

পূজায় থাকছে সব ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গা পূজা উপলক্ষে দেশে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বনানীতে দুর্গা পূজা উপলক্ষে মহালয়ার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এবার অন্যান্য বারের তুলনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি নিরাপত্তায় কাজ করছে পূজা কমিটির নিজস্ব ভলেন্টিয়াররা। মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক দেশ। অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হওয়ায় এবার পূজা মণ্ডপের সংখ্যা আরও বেড়েছে। দুর্গা পূজায় শুধু রাজধানীর ২৩১টি মণ্ডপ নয় দেশের ৩ হাজার ৭৭টি পূজা মণ্ডপে বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, পূজায় পুলিশ-র‌্যাব ও অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে ১ লাখ ৬৮ হাজার আনসার সদস্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্ব পালন করছেন। পূজা ঘিরে হামলার কোনো হুমকি আছে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হামলার কোনো আশঙ্কা নেই। প্রত্যেকটি মণ্ড সিসি ক্যামেরা দ্বারা বেষ্টিত। এ ধরনের কোনো আশঙ্কা করছি না। বলা যায়, দেশজুড়ে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিমা বিসর্জনের কাজ বিকেল ৩টায় শুরু করে আর রাত ৮টার মধ্যে শেষ করতে হবে। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুভাষ ঘোষ। আজ মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দেবী আগমনের ডামাডোল। দেবী দুর্গা এবার নৌকায় করে মর্ত্যলোকে এসেছেন এবং ঘোড়ায় চড়ে কৈলাশ পর্বতে স্বামীগৃহে ফিরে যাবেন। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠীতে দেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে পাঁচদিনের শারদীয় দুর্গা পূজার আনুষ্ঠানিকতা। ২৭ সেপ্টেম্বর সপ্তমী, ২৮ সেপ্টেম্বর মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা, ২৯ সেপ্টেম্বর মহানবমী এবং ৩০ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন ও বিজয়া শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই দুর্গা পূজা।আরকে//এআর

‘রাত ৮টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন’

এবারের দুর্গাপূজায় রাত ৮টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুঁজামন্ডপ ঘিরে বা কোনো সড়কে মেলা বসানো নিষিদ্ধও করা হয়েছে। রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবে আইনশৃঙ্খলার প্রস্তুতি নিয়ে এক বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এবার সারা দেশে ৩০ হাজার ৭৭টি মণ্ডপে পূজা হবে, যা গতবারের চেয়ে ৭৭৭টি বেশি। গত বছর ২৯ হাজার ৩০০টি মণ্ডপে পূজা হয়েছিল। এ বছর রাত ৮টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন দিতে বলা হয়েছে। মণ্ডপের আশেপাশে, রাস্তায় কোন মেলা করা যাবে না। আতশবাজির কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বিভ্রান্তিতে পড়ে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ কারণে কোনো ধরনের আতশবাজি না করতে নেতৃবৃন্দকে অনুরোধ জানিয়েছি আমরা। তিনি বলেন, এবার বিজয়া দশমীর দিন ও আশুরা মিলে যাওয়ায় হিন্দু নেতা ও শিয়া সম্প্রদায়ের নেতাদের একসঙ্গে বিসর্জনযাত্রা ও তাজিয়া মিছিলের সময় ও পথ ঠিক করতে বলা হয়েছে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দূর্গোৎসব শুরু হয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে। দেশজুড়ে পূজা মণ্ডপগুলোতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে একলাখ ৬৮ হাজার আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। জঙ্গি হামলার আশঙ্কা রয়েছে কি না জানতে চাইলে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার পাল বলেন, আমরা মন্ত্রীকে বলেছি, যাতে এ ধরনের কোনো ঘটনা না ঘটে। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। আরকে//এআর

দেশে ফিরলেন আরও ৭১৯৫ হাজি

পবিত্র হজ পালন শেষে দ্বিতীয় দিনের বৃহস্পতিবার ফিরতি ১৮টি ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন আরও সাত হাজার ১৯৫ জন হাজি। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৮টি ও সৌদি এয়ারলাইন্স পরিচালিত ১০টিসহ মোট ১৮টি ফ্লাইটে তারা দেশে আসেন। হজ বুলেটিন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে হাজিদের ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়। সরকারি ব্যবস্থাপনার প্রথম ফিরতি ফ্লাইট বিজি-২০১২ বুধবার রাত ৮টা ২২ মিনিটে ৪১৯ জন হাজি নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ থেকে মোট এক লাখ ২৭ হাজার ২২৯ জন পবিত্র হজ পালন করেন। অন্য দিকে হজ পালনের উদ্দেশে সৌদি গিয়ে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭২ জন পুরুষ ও ১৯জন নারী। এদের ৬৭ জন মক্কা, ৭ জন মদিনা ও ১৬ জন মিনায় মারা যান। সর্বশেষ ৭ সেপ্টেম্বর রাজশাহী জেলার মো. আবদুস সালাম (৫৩) পবিত্র মক্কা আল-মুকাররমায় মৃত্যুবরণ করেন। তার পাসপোর্ট নম্বর ছিল সি ৯০৫৫১০৮। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফিরতি হজ ফ্লাইট চলবে।   আর/টিকে

হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ২৩৮৭ জন

পবিত্র হজ পালন শেষে ফিরতি ৬ ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন ২ হাজার ৩৮৭ জন হাজি। বুধবার ৬ সেপ্টেম্বর থেকে হাজিদের ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়েছে। বুধবার রাত ৮টা ২২ মিনিটে সরকারি ব্যবস্থাপনার প্রথম ফিরতি ফ্লাইট বিজি-২০১২ ৪১৯ জন হাজি নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে আরও ৫টি ফ্লাইট আসে। প্রথমদিনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ২টি ও সৌদি এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৪ টি ফ্লাইটে মোট ২ হাজার ৩৮৭ জন হাজি ফিরে আসেন। এ বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ থেকে মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ২২৯ জন পবিত্র হজ পালন করেন। তবে হজ পালনের উদ্দেশে সৌদি গিয়ে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭০ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী। এদের ৬৫ জন মক্কা, ৭ জন মদিনা ও ১৬ জন মিনায় মারা যান। /আর//এআর

মুসলিম উম্মাকে ঐক্যবন্ধ হওয়ার তাগিত নতুন খতিবের

লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাতের ময়দান। তালবিয়া পাঠ করে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়ে পাপমুক্তির জন্য আকুল বাসনায় প্রায় ২৫ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান (হাজি) মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে সমবেত ছিলেন। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত তাঁরা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করছিলেন। কেউ পাহাড়ের কাছে, কেউ সুবিধাজনক জায়গায় বসে ইবাদত-বন্দেগিতে এবং হজের খুতবা শুনছিলেন। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১৬ মিনিটে মসজিদে নামিরাহ থেকে হজের খুতবা দেন সৌদি আরবের নতুন গ্র্যান্ড মুফতি শেখ শাদ আল- শাথরী। আরাফাতের ময়দানে খুতবার পর এক আজানে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন হাজিরা। ৪৫ মিনিটব্যাপী খুতবা শেষ হয় স্থানীয় সময় দুপুর ১টায়। হজের খুতবার শুরুতে আল্লাহতায়ালার প্রশংসা, নবী করিম (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করে মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেন। মূলত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা মধ্যে দিয়ে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। খুতবায় গ্রান্ড মুফতি শেখ শাদ আল-শাথরী বলেন, কুরআন হাদিসের মূলনীতির ভিত্তিতে বিশ্ব মুসলিমকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আল্লাহর রুজ্জুকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরতে হবে এবং মুসলমানদের মাঝে ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রেখে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে মনোনিবেশ করতে হবে। মুসলমানদের ঈমান আক্বীদা রক্ষার্থে সর্বদা আল্লাহর ওপর ভরসা এবং ইবাদত বান্দেগীর মাধ্যমে দিনাতিপাত করতে হবে। মুসলিম উম্মাহর নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সর্বক্ষণিক আল্লাহর ভয় অন্তরে জাগ্রত করে ইনসাফ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করতে হবে। আল্লাহর দেওয়া আমানতগুলো রক্ষা এবং আল্লাহকে ভয় করে যার যার অবস্থানে থেকে অর্পিত দায়িত্বসমূহ যথাযথভাবে পালন করা তাদের দায়িত্ব। নিশ্চয়ই আল্লাহ উত্তম প্রতিদানকারী। বিশ্বের নানা প্রান্তে থেকে মক্কায় জেড়ো হওয়া লাখ লাখ মুসলমান হাজীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, হে মুসলিম ভাইয়েরা, তোমরা আল্লাহর দরবারে দৃঢ় চিত্তে শুকরিয়া আদায় কর যে তোমরা আজ আরাফাতের ময়দানে শামিল হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেছ। তিনি মুসলিম বিশ্বকে মুসলমান নামধারী সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সন্ত্রাসীরা আজ টার্গেট করেছে আমাদের মুসলিম যুব সমাজকে। ওদের হাত থেকে রেহাই পায় না মসজিদ ও অবুঝ শিশু। যুব সমাজের মন মগজ ধোলাই করে তাদের বিপথগামী করছে। হে যুব সমাজ তোমরা তোমাদের জ্ঞান বুদ্ধি দিয়ে দেশ ও মুসলিম জাতি গঠনে এগিয়ে আস। খুতবায় শরণার্থীদের তিনি বলেন তোমরা আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ কর, তওবা কর নিশ্চই আল্লাহ তোমাদের জমিন তোমাদের হাতে ফিরিয়ে দেবেন। তিনি কঠোর নিরাপত্তা ও সুন্দর পরিবেশে হজ আয়োজনে দুই পবিত্র মসজিদের খতিব, কিং সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ ও আমির মোহাম্মাদ বীন সালমানের জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন। ফিলিস্তিন, ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, লিবিয়া, মায়ানমার, সোমালিয়া, ইয়েমেনসহ মুসলিম বিশ্বের শান্তি প্রতিষ্ঠায় মহান প্রভুর দরবারে মোনাজাত করেন।

মিশরে বিশ্বের প্রথম ফতোয়া বুথ চালু

বিশ্বের প্রথম ফতোয়া বুথ বা ইসলামিক অনুশাসন কেন্দ্র চালু করা হয়েছে মিশরের কায়রোর মেট্রোয়। এ বুথের উদ্দেশ্যে হলো জনগণের কাছে বিনামূল্যে ইসলামী বিধিবিধান পৌঁছে দেয়া। মিশরের সুন্নি মুসলিম কর্তৃপক্ষ ‘আল-আজহার’র তত্ত্বাবধানে এসব বুথ স্থাপন করা হচ্ছে। শুরুতে প্রতিটি সাবওয়ে স্টেশনে একটি করে বুথ বসানো হবে। সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এসব বুথে সেবা পাওয়া যাবে। সেখানে বসে থাকা আলেম বা শাইখরা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেবেন। আহমেদ আল-সাব্বাহ নামের একজন শাইখ জানান, প্রতিদিন আমরা পরামর্শের জন্য ৫০ থেকে ৭০ জনের অনুরোধ পাচ্ছি। বেশিরভাগ অনুরোধই পারিবারিক যেমন- উত্তরাধিকার এবং বিবাহ বিচ্ছেদ সম্পর্কিত। তিনি বলেন, যেসব তরুণরা মসজিদে যেতে চায়না তারা এসব বুথের মাধ্যমে ইসলামি পরামর্শ পাওয়ার একটি সুযোগ পাচ্ছে। তবে এই বুথগুলো মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার তৈরি করেছে। একজন নারী বলেছেন, এরকম বুথ থাকাটা ভালো, কারণ এটা মানুষের কাছে অনেককিছু সহজ করে তোলে। আবার অনেকের আশঙ্কা, এর মাধ্যমে জনগণের মধ্যে ধর্মকে চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা হতে পারে।   //আর//এআর  

হাজীদের সব ধরনের নিরাপত্তা দিবে সৌদি

ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ পবিত্র হজ। হজ পালনের উদ্দেশ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সৌদি আরবে আসছে লাখ লাখ মুসল্লি।‘লাব্বায়িক আল্লাহুম্মা লাব্বায়িক’ধ্বনীতে আগামী বৃহস্পতিবার পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরই মধ্যেই হজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে সৌদি প্রশাসন। এবারের হজে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দিতে ১ লাখ ২৮ হাজার, তার মধ্যে ২৮ হাজার নারী নিরাপত্তাকর্মী মক্কা, মিনা, মোজদ্দালেফা ও আরাফাতের ময়দানে সাজিদের সব ধরনের সহযোগিতা ও নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন সৌদি প্রশাসন। নারী নিরাপত্তাকর্মী হাজীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি পবিত্র কোরআন বিতরণ ও হাজীদের হজের নিয়ম-কানুন শিখিয়ে দেবেন। হাজীদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে সর্বোচ্চ সংখ্যক মেডিকেল টিম কাজ করবে। এর মধ্যে মিনায় ১৮৫টি, আরাফাতে ২৫০টি ও মোজদ্দালেফায় ২০০টি। আগামী বুধবার হাজীরা মিনায় অবস্থান করে বৃহস্পতিবার সূর্য উদয় হওয়ার সাথে সাথে আরাফাতের উদ্দেশে রওনা দেবেন। আরাফাতের জহোর ও আসরের নামাজ একসাথে আদায় করে সূর্য অস্তমিত হওয়ার সাথে সাথে মোজদ্দালেফার উদ্দেশে রওনা দেবেন এবং অবস্থান করবেন। পথিমধ্যে শয়তানকে নিক্ষেপ করার জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন। বাংলাদেশ থেকে গত ২৪ জুলাই প্রথম হজ ফ্লাইট শুরু হয়। হজের এই বিশাল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রশাসনিক টিম সৌদি আরব পৌঁছেছেন অনেক আগেই। সেই সাথে চিকিৎসার জন্য এসেছে চিকিৎসক দল। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুষ্ঠু এবং সুন্দরভাবে হজ সম্পন্ন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।   আরকে/টিকে

বিমানবন্দরে হাজীদের দীর্ঘ অপেক্ষার প্রস্তুতি রাখার অনুরোধ

সৌদি আরবের জেদ্দা বিমানবন্দরে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার প্রস্তুতি নিয়ে গমন করার জন্য বাংলাদেশি হজ যাত্রীদের অনুরোধ জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। শুক্রবার ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ অনুরোধ জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সৌদি আরবের জেদ্দা বিমানবন্দরের হজ টার্মিনালে বিশ্বের সব দেশের হজযাত্রীদের ভিড়ের কারণে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তাই বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অবগত হয়ে হজযাত্রীদের মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে বাংলাদেশ থেকে গমন করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় , সারা বিশ্বের হজযাত্রীদের বহনকারী একের পর এক ফ্লাইট অবতরণ করছে জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের। এ কারণে হজ টার্মিনালে এখন উপচে পড়া ভিড়। নির্দিষ্ট সংখ্যক ইমিগ্রেশন পয়েন্ট দিয়ে অসংখ্য হজযাত্রীর ইমিগ্রেশন করতে হচ্ছে। ফলে যাত্রীদের ফ্লাইট থেকে অবতরণ করার পর ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া শুরু করতে গড়ে পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ইমিগ্রেশন লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে আরো এক ঘণ্টা। ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার পর মক্কার উদ্দেশ্যে বাসে উঠার জন্য নির্দিষ্ট প্লাজায় আরো এক থেকে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে জেদ্দা এয়ারপোর্টে সব হজযাত্রীদের প্রায় ছয় থেকে সাত ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে মাধ্যমে ভিসা প্রাপ্ত হজযাত্রীদের বিমানের টিকিট নিশ্চিত করে প্রেরণ করা জন্য সকল এজেন্সিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ভিসাপ্রাপ্ত কোনো যাত্রী যদি হজে যেতে না পারেন, তবে এজেন্সির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশে থেকে যে সব হজযাত্রী জেদ্দা বিমান বন্দরের ভিআইপি টার্মিনাল ব্যবহার করবেন তাদের প্রত্যেককে নিজ থেকে আসা ও যাওয়া বাবদ ৩৫০ করে মোট ৭০০ রিয়েল পরিশোধ করতে হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় ।

হাতে লেখা বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোরআন!

স্কুল জীবন শেষ করতে না পারা পঞ্চাশোর্ধ্ব সাদ মুহাম্মদ নামের একজন মিশরীয় তিন বছরের প্রচেষ্টায় পবিত্র কুরআনের এমন একটি সংস্করণ তৈরি করেছেন, যেটিকে মনে করা হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম কোরআন। কোরআন, মুসলিম সম্প্রদায়ের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ যা শেষনবী হযরত মুহাম্মদের (সা.) উপর এটি অবতীর্ণ হয়। সাদ মুহাম্মদের নিজ হাতে তৈরি কুরআনের কপিটি খুবই গোছালোভাবে সজ্জিত। নিজ হাতেই তিনি এর প্রতিটি পৃষ্ঠা অলংকরণ করেছেন। গুটানো অবস্থায় কুরআনটির ৭০০ মিটার লম্বা (২২৯৬ ফুট), উচ্চতা ৩৮১ মিটার। এটি উচ্চতায় এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং’র প্রায় দ্বিগুণ লম্বা। উল্লেখ্য যে, এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং পৃথিবী তথা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গগনচুম্বী অট্টালিকা বা সুউচ্চ ভবন।উত্তর কায়রোর বেলকিনা শহরে বসবাসকারী সাদ মোহাম্মদ বিশ্বাস করেন, এখন পর্যন্ত এটাই সবচেয়ে বড় হস্তাক্ষরের কুরআন। কিন্তু রেকর্ড বুকে নিজের এই কর্ম অন্তর্ভুক্ত করার স্বপ্ন পূরণে তার কিছু আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।তিনি জানান, এই কুরআন প্রস্তুত করতে বিপুল সংখ্যক কাগজ লেগেছে। একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আমার কাছে সম্পদ বলতে তেমন কিছুই নেই তারপরেও আমি গত তিন বছর ধরে এই উদ্যোগটি স্ব-অর্থায়নে চালিয়েছি।উল্লেখ্য এর আগে ২০১৪ সালে আফগানিস্তানে হস্তলিখিত বৃহৎ কুরআনের আরেকটি সংস্করণ উন্মোচন করা হয়। যেটির উচ্চতা ছিল ২.২ মিটার এবং ১.৫৫ মিটার প্রশস্ত। ২১৮ পৃষ্ঠার সুন্দর হস্তলিপিতে লিখিত ওই কুরআনটির প্রচ্ছদে আবৃত করতে ২১ টি ছাগলের চামড়া ব্যবহার করা হয়। ৫০০ কিলোগ্রামের পবিত্র গ্রন্থটি তৈরির জন্য পাঁচ বছর সময় লেগেছিল। কিন্তু তারপরও গিনিস বুক অব রেকর্ডসে আনুষ্ঠানিকভাবে এটির কোন অন্তর্ভুক্তি নেই। সূত্র: বিবিসি।

৩১ আগস্ট শুরু হচ্ছে এবারের হজ

সৌদি আরবে বুধবার থেকে শুরু হয়েছে হিজরি পঞ্জিকার জিলহজ মাস। ইসলামি রেওয়াজ অনুযায়ী জিলহজ মাসের ৯ তারিখ থেকে হজ শুরু হয়। সে হিসেবে আগামী ৩১ অগাস্ট পবিত্র হজ শুরু হবে। সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ৩০ অগাস্ট ফজর থেকে শুরু হয়ে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হজের যাবতীয় কার্যক্রম চলবে। আর সৌদি আরবে ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে ১ সেপ্টেম্বর। আরবের হজ মন্ত্রণালয় জানায়, এ বছর সারা বিশ্বের ২৫ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান হজ পালন করবেন। ৩০ অগাস্ট (৮ জিলহজ) মক্কা থেকে মিনার উদ্দেশে রওনা হবেন হজ পালন করতে আসা মুসলমানরা। সেখানে ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের পর ৩১ অগাস্ট হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ৩১ আগস্ট ফজরের নামাজের পর হাজীরা আরাফাতের ময়দানে সমবেত হবেন। স্থানীয় সময় বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে আরাফাত ময়দানের মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুৎবা দেওয়া হবে। খুৎবা শেষে এক ইকামতে যোহর এবং আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন হাজীরা। সূর্য পশ্চিম দিকে হেলে যাওয়ার পর হাজীরা আরাফা থেকে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। মুজদালিফায় গিয়ে মাগরিব এবং এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করার পর সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করবেন।মুজদালিফায় থাকা অবস্থায় শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপের জন্য ছোট ছোট ৭২টি পাথর সংগ্রহ করবেন হাজীরা। ১ সেপ্টেম্বর মুজদালিফায় ফজরের নামাজ পড়ে সূর্যোদয়ের পর মিনায় পৌঁছে বড় জামারাকে (বড় শয়তান) সাতটি পাথর নিক্ষেপ করবেন। পরে সেখানে থেকে ফিরে পশু কোরবানি দিয়ে মাথার চুল মুণ্ডন করে ইহরাম (পরনের সাদা কাপড়) খুলে স্বাভাবিক পোশাক পড়ে মক্কায় গিয়ে কাবা শরীফ তাওয়াফ করবেন। এর পর কাবার সামনের সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে সাতবার দৌঁড়াবেন হাজীরা। সেখান থেকে আবার মিনায় ফিরবেন। এর পর আরও এক বা দুইদিন অবস্থান করে হজের অন্য আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করবেন হজ করতে আসা মুসলমানরা। মিনার কাজ শেষে মক্কায় বিদায়ী তাওয়াফ করার পর যারা মদিনায় যাননি, তারা মদিনায় মহানবী হযরত মোহাম্মদ (স.) -এর রওজা শরীফ (কবর) জিয়ারত করতে যাবেন।

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি