ঢাকা, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০:২৬:৪২

রামকৃষ্ণ মিশনে হচ্ছে ১০ তলা ভবন

রামকৃষ্ণ মিশনে হচ্ছে ১০ তলা ভবন

সেবার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান কেন্দ্র ঢাকার মঠ। রাজধানীর টিকাটুলি ইত্তেফাক মোড়ের নিকবর্তী এ মঠে নির্মাণ করা হচ্ছে ১০ তলা অত্যাধুনিক ভবন। ভবনের নাম দেওয়া হচ্ছে ‘বিবেকানন্দ বিদ্যার্থী ভবন’। যেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠাগার, সংস্কৃতিশালা, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সেবাকেন্দ্র খোলা হবে। মিশন সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০১৮ সালের মধ্যে এ ভবন নির্মাণ কার্যক্রম শেষ করা হবে। ভবনের ৫ম তলা পর্যন্ত সম্পন্ন করে সেখানেই মিশনের সব সেবা দেওয়া হবে। নতুন এ ভবনে সেবার পরিধি আরো বাড়ানো হবে বলে জানায় মিশন কর্তৃপক্ষ। মিশনের আইটি বিভাগের প্রধান অরুণ মহারাজ বলেন, মানব সেবাই আমাদের মিশন নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। সে সেবা কার্যক্রমগুলো সবার মাঝে আরো সহজভাবে পৌঁছে দিতে চলতি বছরেই ভবন নির্মাণ শেষ করা হবে। জানা গেছে, মানব সেবায় ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনের অনেক তাত্পর্যপূর্ণ কার্যক্রম রয়েছে। যেগুলোর মধ্যে চিকিত্সা সেবা, সংস্কৃতি ও বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষা দান উল্লেখযোগ্য। সংক্ষেপে এর বিশেষ কিছু কার্যক্রম তুলে ধরা হলো। বিদ্যালয় : ১৯১৪ সালের ৮ নভেম্বর শ্রী রামকৃষ্ণ অবৈতনিক বিদ্যালয় নামে দরিদ্র ছেলেদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে স্থাপিত হয়। ১৯১৬ সালে ওয়ারী ও মৌশুন্ডির ভাড়া বাড়ি থেকে বর্তমান জায়গায় স্থানান্তরিত হয়। ২০০৮ সালে বিদ্যালয়টি হাইস্কুলে উন্নীত করা হয়। বিদ্যার্থী ভবন : পঞ্চাশের দশকে লম্বা টালির চালার একটি ঘরে কিছু ছাত্র থাকতে শুরু করে। ষাটের দশকে দোতলা ‘বিবেকানন্দ বিদ্যার্থী’ ভবনটি নির্মাণ হয়। ২০০৪ সালের দিকে ছাত্রদের থাকার অভাব পূরণে হাসপাতাল সংলগ্ন দোতলায় আরেকটি নতুন ছাত্রাবাসের ব্যবস্থা করা হয়। ঢাকার বাইরের থেকে যেসব শিক্ষার্থী নটরডেম কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হয় তারাই এখানে থাকার সুযোগ পায়। প্রতিবছর দরিদ্র ও মেধাবী কয়েকজন ছাত্রকে বিনা খরচে বা আংশিক খরচে এখানে থেকে পড়াশুনার সুযোগ দেওয়া হয়। সংস্কৃতি ভবন : ১৯৭৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি বর্তমান ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বাংলাদেশের তত্কালীন প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মো. সায়েম। ১৯৭৭ সালে এই সংস্কৃতি দ্বিতল ভবনের দ্বারোত্ঘাটন করেন রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন বেলুড় মঠের জেনারেল সেক্রেটারি স্বামী গম্ভীরানন্দ। সংস্কৃতি ভবনের নিচতলায় গ্রন্থাগার, দোতলায় বিবেকানন্দ হল। পাঠাগার : ১৯১১ সালে স্বামী বিবেকানন্দের শিষ্য স্বামী পরমানন্দ মিশনে পাঠাগার স্থাপন করেন। পাঠাগারে ধর্মীয় গ্রন্থ, রামকৃষ্ণের বাণী, স্বামী বিবেকানন্দের উপদেশাবলিসহ বহু প্রাচীন গ্রন্থ সংরক্ষিত আছে। সাধারণ পাঠকসহ স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় গ্রন্থ, পত্রিকা ও সাময়িকী রয়েছে এই পাঠাগারে। বিবেকানন্দ শিক্ষা ও সংস্কৃতি পরিষদ : ১৯৮৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠরত কিছু যুবক ঢাকা মঠের তত্কালীন অধ্যক্ষ স্বামী অক্ষরানন্দের সান্নিধ্যে এসে বিবেকানন্দের মানবসেবা শিক্ষা এবং সংস্কৃতি আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ‘বিবেকানন্দ শিক্ষা ও সংস্কৃতি পরিষদ’ গঠন করে। বর্তমানে দেশজুড়ে এই পরিষদের ৩৮টি সেন্টার রয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ত্রাণকার্য এবং অন্ধ দরিদ্র ও শিশুদের প্রয়োজনে সেবাকাজ করে যাচ্ছে এ পরিষদ।   প্রশিক্ষণ কর্মসূচি : চিকিত্সালয় সংলগ্ন ভবনের নিচতলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে মোটরগাড়ি  মেরামত, ওয়েল্ডিং এবং অন্যান্য শক্তিচালিত যন্ত্রের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। যুগের চাহিদার সাথে যুগোপযোগী শিক্ষার জন্য চালু করা হয় ‘কম্পিউটার ট্রেনিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’। চিকিত্সা সেবা : মিশনের সেবা বিভাগ চালু হয় ১৯০৮ সালে। শুরুতে মিশনের সেবকরা বাড়ি বাড়ি দিয়ে রোগীদের সেবা দিতো। পরে নবাব সলিমুল্লার আর্থিক সহায়তায় মিশনে ১৯১৩ সালে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯১৬ সালে ৮ অক্টোবর ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের উদ্বোধন করেন লর্ড কার্জন। নাক, কান ও গলা, দন্ত, চোখসহ বিভিন্ন বিভাগে চিকিত্সার ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। আছে প্যাথলজি বিভাগ। উন্নতমানের এক্সরে মেশিনে রোগীরা স্বল্পমূল্যে এক্সরে করার এবং আলট্রাসনোগ্রাফি করার সুযোগ রয়েছে এখানে। দরিদ্র রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থাও রয়েছে। প্রসঙ্গত, ১৮৯৩ সালে শিকাগোতে বিশ্ব ধর্ম-মহাসভায় বক্তৃতার পর শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসের প্রধান শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দ বিভিন্ন দেশ ও জায়গায় পরিভ্রমণে বের হন। পরিভ্রমণ শেষে ১৮৯৭ সালের জানুয়ারিতে কলকাতায় ফিরে আসেন স্বামীজী। ওই বছরই পহেলা মে কলকাতায় ধর্ম প্রচারের জন্য এবং সামাজিক কাজের জন্য প্রতিষ্ঠা করেন ‘রামকৃষ্ণ মিশন’। এটি ছিল শিক্ষামূলক, সাংস্কৃতিক, চিকিত্সা-সংক্রান্ত এবং দাতব্য কাজের মধ্য দিয়ে জনগণকে সাহায্য করার এক সামাজিক-ধর্মীয় আন্দোলনের প্রারম্ভ। রামকৃষ্ণ মিশনের আদর্শের ভিত্তিই হচ্ছে কর্মযোগ। ১৮৯৯ সালে ১৮ জানুয়ারি, স্বামীজী অসুস্থ, কিন্তু কাজ করে যাচ্ছেন বিরামহীনভাবে। ভগবান বুদ্ধের বাণী প্রচারের জন্য যেমন তার অনুগামীরা দূর-দূরান্তে গিয়েছিলেন তেমনি শ্রী রামকৃষ্ণের বাণী প্রচারের জন্য তার অনুগামীদের সমগ্র ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়ার লক্ষ্যে কাজ করেন স্বামীজী। এই সিদ্ধান্তনুসারে স্বামীজী  স্বামী বিরজানন্দ ও স্বামী প্রকাশানন্দকে বাংলাদেশে যাবার আদেশ দেন। স্বামী বিরজানন্দ তখন স্বামীজীকে বিনীতভাবে বলেন, ‘স্বামীজী, আমি কী প্রচার করব? আমি তো কিছুই জানি না।’ স্বামীজী তখন বলেন, ‘তবে যা, তাই বলগে। ওটাও তো একটা মস্ত বড় কাজ।’ তারপর স্বামীজী নরম স্বরে বলেন, ‘বাবারা, কাজে লেগে যা, মনপ্রাণ দিয়ে কাজে লেগে যা। ওই হচ্ছে কাজের কথা; ফলের দিকে দৃষ্টি দিবি না। যদি অপরের কল্যাণ সাধন করতে গিয়ে নরকগামী হতে হয়, তাতেই বা ক্ষতি কি? স্বার্থপরতা নিয়ে নিজের স্বর্গলাভ করার চেয়ে এ ঢের ভালো।’ এরপর ১৮৯৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি স্বামী বিরজানন্দ ও স্বামী প্রকাশানন্দ ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। তারা ঢাকায় পৌঁছে কায়েতটুলিতে কাশিমপুরের জমিদার সারদা রায় চৌধুরীর বাড়িতে ওঠেন। ওখানে থেকেই তারা প্রচার কাজ শুরু করেন। এর আগেই ১৮৯৮ সাল থেকে মোহিনীমোহন দাসের বাড়িতে শ্রী রামকৃষ্ণের মতবাদ প্রচারের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হয়। ১৮৯৯ সালকেই ঢাকা রামকৃষ্ণ মিশনের প্রতিষ্ঠাকাল ধরা হয়। ১৯১৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি পূজা ও হোমের পর আশ্রমের বর্তমান স্থানে স্বামী ব্রহ্মানন্দ ঢাকা রামকৃষ্ণ মঠ ও স্বামী প্রেমানন্দ রামকৃষ্ণ মিশনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ঢাকার জমিদার, ধর্ম ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক যোগেশ চন্দ্র দাসের দান করা সাত বিঘা জমিতে এ মঠ ও মিশন প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানেই মঠ এবং মিশনের মূল মন্দির, সাধু নিবাস, চিকিত্সার জন্য হাসপাতাল, স্কুল, সংস্কৃতি ভবন নির্মিত হয়। মন্দিরটি পুনঃনির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০০০ সালে। শেষ হয় ২০০৫ সালে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বেলুড় মঠের সহাধ্যক্ষ স্বামী গহনানন্দজী মহারাজ। আরকে// এআর
অফিস ভাউচারের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া যাবে?

অফিসে কর্মরত অনেকেই অফিসের কাজে বাইরে বের হয়ে যাতায়াতের জন্য বেশি টাকার ভাউচার করেন। প্রয়োজনীয় অর্থের বাইরে অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে বেশি টাকা অফিস থেকে নেয়া কি ইসরামের দৃষ্টিতে জায়েজ? একটি উদাহরণ দিয়ে বললে বিষয়টি আরও খোলাসা হবে। ধরেন কেউ মিরপুরের অফিস থেকে বের হলো ফার্মগেট আসবে বলে। সে পাবলিক বাসে ২০ টাকা দিয়ে ফার্মগেটে আসলেন। অফিসে গিয়ে তিনি ২০০ টাকা সিএনজি চালিত অটোরিক্সার বিল করে দিলেন। অফিসও তার বিলের টাকা পরিশোধ করে দিলেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে-তার এই বিলের টাকা নিজের পকেটে নেয়াটা ইসলাম সম্মত কি না? একুশে টেলিভিশনের ইসলামী জিজ্ঞাসা অনুষ্ঠানে এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন মিরপুরের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ট্রেনিং কমপ্লেক্স জামে মসজিদের খতীব মুহাদ্দিস কাজী মু. শরীফ উল্লাহ। ভিডিওতে দেখুন বিস্তারিত।   টিকে

আসছে যাকাত ক্যালকুলেটর

যাকাত নির্ধারণের লক্ষ্যে যাকাত ক্যালকুলেটর প্রস্তুত করার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন ধর্মসচিব মো. আনিছুর রহমান। বৃহস্পতিবার ইসলামিক ফাউন্ডেশন আগারগাঁও সভাকক্ষে আয়োজিত ‘যাকাত ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্মসচিব বলেন, ‘যাকাত নির্ধারণের লক্ষ্যে ট্যাক্স ক্যালকুলেটরের ন্যায় যাকাত ক্যালকুলেটর প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ১৯৮২ সালে প্রণীত যাকাত অর্ডিন্যান্স সংশোধনের কথাও জানান তিনি। তিনি বলেন, যাকাত ও উশর মিলিয়ে একটি নতুন আইন করা হচ্ছে। ধর্মসচিব আরোও বলেন, সরকারিভাবে যাকাত সংগ্রহ ও বিতরণে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে, যাতে সরকারি যাকাত ফান্ডে মানুষ অধিক হারে যাকাত প্রদান করে। সঠিকভাবে যাকাত সংগ্রহ ও বিতরণ করতে পারলে দারিদ্র্য নিরসন অনেকাংশে সম্ভব যা এসডিজি অর্জনে সহায়ক হবে। যাকাত সংগ্রহ করতে গিয়ে মানুষ পদদলিত হয়ে মারা যায়, যা ধর্ম ও মানবতা বিরোধী। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল বলেন, ‘যাকাত কোনক্রমেই কর বা ট্যাক্স নয়। কর প্রদান করা হয় সরকারকে, কিন্তু যাকাত হচ্ছে কুরআনের বিধান যা মুসলমানদের জন্য ফরয ইবাদত।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশের সকল জমি উশরী। উশরের মাধ্যমে যাকাত আদায় করলে ২৮-৩০ লাখ টন খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। সভায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব এবিএম আমিন উল্যা নূরী, যুগ্ম-সচিব ড. মোয়াজ্জেম হোসেন, যুগ্ম-সচিব মো. জহির আহমদ, ওয়াকফ্ প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইউসুফ, প্রফেসর ড. মো. আবু বকর সিদ্দীক প্রমুখ বক্তব্য দেন। সূত্র: বাসস এমএইচ/টিকে

সারাদেশে ১০১০টি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে: ধর্মমন্ত্রী

ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেছেন, দ্বীনি শিক্ষার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সারাদেশে ১০১০টি দারুল আরকাম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। শনিবার সকালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আগারগাঁও সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক ইস্তাম্বুল ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বদিউজ্জামান সাঈদ নুরসীর জীবন ও চিন্তা এবং দ্বীনি শিক্ষা ও দাওয়াতের মাধ্যমে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বজলুল হক হারুন এমপি এবং তুরস্কের সংসদ সদস্য ও ইস্তাম্বুল ফাউন্ডেশনের পরিচালক সাঈদ ইউসি । মতিউর রহমান বলেন, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষার মাধ্যমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ইসলামের প্রচার-প্রসার এবং ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অতুলনীয় দৃষ্টান্ত। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে বাংলাদেশ সারাবিশ্বে রোল মডেল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু-কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। তুরস্কের সংসদ সদস্য সাঈদ ইউসি বলেন, অজ্ঞতা, দরিদ্রতা ও অনৈক মুসলমানদের প্রধান শত্রু। শারীরিক নয়, কলমের মাধ্যমে জিহাদ করে মুসলমানদের এসব শত্রুদের নিশ্চিহ্ন করতে হবে। বস্তুগত নয়, বুদ্ধিভিত্তিক কাজে আত্মনিয়াগ করা মুসলমানদের প্রধান কাজ। বদিউজ্জামান সাঈদ নুরসী বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদ যিনি ‘কুরআন’ নামক চিকিৎসালয় থেকে মানুষের মুক্তির জন্য ‘ঔষধ’-এর ব্যবস্থা করেছেন। যিনি নৃতাত্ত্বিক জাতীয়তাবাদকে প্রত্যাখ্যান করে ইসলামি জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে দেড়শ’ কোটি মুসলমানকে একতাবদ্ধ হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল বলেন, রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের জন্য ইসলামিক স্টেট ও মুসলিম স্টেট নামে যে দর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে তার সাথে কুরআন-সুন্নাহর কোন সম্পর্ক নেই। ওহাবী, মওদুদী, ব্রাদারহুড ও ফতেহগুল দর্শন বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এলেম ও আমলওয়ালা আলেম তৈরির জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের আলেমগণ নেতৃত্ব দিবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন যুক্তরাজ্যের দুরহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. কলিন টার্নার, তুরস্কের সুলেমান ডেমিরেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. ইসহাক ওজাল, উসকুদার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আলপারসলান এসিকজেন, সিঙ্গাপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. সৈয়দ ফরিদ অ্যালাতাস ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক ডা. খিজির হায়াত খান। সভায় বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও আলেম-ওলামা অংশ নেন। / আর / এআর    

হজ ক্যালেন্ডারে ব্যাপক পরিবর্তন

হজ যাত্রীদের সুবিধার্থে হজ ক্যালেন্ডারে এ বছর ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে হজ যাত্রীরা হজ সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য সেবাসহ হজের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে পারবেন।  “হজ-২০১৮ (১৪৩৯ হিজরী) এর কার্যক্রম সংক্রান্ত ক্যালেন্ডার” এই শিরোনামে এ পরিবর্তনের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানা যাবে। গত বছরের ১ নভেম্বর ২০১৭ থেকে হজ-সংশ্লিষ্ট কাজ শুরু হয়েছে যা চলবে আগামী ১৪ আগস্ট ২০১৮ পর্যন্ত। হজের বিভিন্ন কার্যক্রম যেমন-পাসপোর্ট, ইমিগ্রেশন, সিভিল এভিয়েশনের সঙ্গে চুক্তি, হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সিস্টেম ব্যবহারকারীদের প্রশিক্ষণ, নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু ও শেষ করা, সৌদি আরবে ই-হজ সিস্টেমে নিবন্ধন ও ব্যাংক হিসাব খোলা সংক্রান্ত নির্দেশনাসহ হজের বিভিন্ন বিষয় এই ক্যালেন্ডারে তুলে ধরা হয়েছে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আনিছুর রহমান জানান, প্রতিটি কার্যক্রম ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে একদিকে হজযাত্রীরা যেমন সচেতন হবে, অন্যদিকে তাঁদের হয়রানিতে পড়তে হবে না। ২০১৮ সালের হজ  ক্যালেন্ডার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে প্রতিষ্ঠানটির এই লিংকের মাধ্যমে http://www.hajj.gov.bd/bn/haj-calendar-2018/   জানতে পারবেন।   এমএইচ/টিকে

বায়তুল মোকাদ্দাসের খতিব ঢাকা আসছেন

মুসলিম উম্মাহর প্রথম কিবলা বায়তুল মোকাদ্দসের গ্র্যান্ড ইমাম ও খতিব ড. ইকরমা সাঈদ আবদুল্লাহ সাবরি ঢাকায় আসছেন। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম চত্বরে অনুষ্ঠেয় ১৮তম আন্তর্জাতিক কিরাত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তিনি। আন্তর্জাতিক কুরআন তিলাওয়াত সংস্থার (ইকরা) উদ্যোগে পিএইচপি ফ্যামিলির পৃষ্ঠপোষকতায় এ কিরাত সম্মেলন শুরু হবে আগামী ২৬ জানুয়ারি শুক্রবার বেলা ৩টায়। কিরাত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করবেন আন্তর্জাতিক কুরআন তিলাওয়াত সংস্থার সভাপতি শায়খুল কুর্রা মুহাম্মাদ ইউসুফ হাফিজুল্লাহ। ১৯৬৭ সাল থেকে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ কিরাত সম্মেলন এটি। এ ছাড়া ২৮ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক কুরআন তিলওয়াত সংস্থা ইকরার উদ্যোগে ও শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের ব্যবস্থাপনায় জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে আন্তর্জাতিক কিরাত সম্মেলনে অংশ নিতে চট্টগ্রামে আসছেন শাইখ ড. ইকরমা সাইদ আবদুল্লাহ সাবরি। আগামী ২৯ জানুয়ারি কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানেও অনুষ্ঠিত হবে আন্তর্জাতিক কিরাত সম্মেলন ও হুসনে কিরাত প্রতিযোগিতা। একে// এআর

আজ সরস্বতী পূজা

আজ সোমবার সনাতন ধর্মাম্বালীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা। এ পূজাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের মন্দির ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভিন্ন সাজে সজ্জিত করা হয়েছে।  পূজার পাশাপাশি  পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ, ধর্মীয় আলোচনা সভা এবং  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে বিভিন্ন মন্দির ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। হিন্দুদের ধর্মীয় বিধান অনুসারে সাদা রাজহাঁসে চড়ে বিদ্যা ও সুরের দেবী সরস্বতী পৃথিবীতে আসবেন এবং বিদ্যার আলো ছড়াবেন বলে বিশ্বাস ভক্তদের। সনাতন ধর্মালম্বীদের মতে দেবী সরস্বতী সত্য, ন্যায় ও জ্ঞানালোকের প্রতীক। বিদ্যা, বাণী ও সুরের অধিষ্ঠাত্রী। ভক্তদের বিশ্বাস, দেবী খুশি হলে বিদ্যা ও বুদ্ধি অর্জিত হবে। সরস্বতী পূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায় বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা বাণী অর্চনাসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। সনাতন ধর্মীয় রীতিতে আজ প্রত্যুষে দেবীকে দুধ, মধু, দধি, ঘৃত কর্পূর, চন্দন দিয়ে স্নান করানো হবে। সকালের দিকে হবে বাণী অর্চনা। পুরোহিতরা `সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যা কমল-লোচনে/বিশ্বরূপে বিশালাক্ষ্মী বিদ্যংদেহী নমোহস্তুতে` মন্ত্রে দেবী আরাধনা করবেন।   এম/টিকে

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি