ঢাকা, শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭ ১৭:১৬:৩২

বৃষ্টিভেজা রাতারগুল

বৃষ্টিভেজা রাতারগুল

প্রকৃতির সঙ্গে পরিচয় ও সেতুবন্ধন তৈরির অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে ভ্রমণ। ভ্রমণ মানেই প্রশান্তি। ভ্রমণ মানেই আনন্দ। তাইতো যখনই সময় পাই, প্রকৃতির কাছে ছুটে যাই। কারণ প্রকৃতি আমাদের বেঁচে থাকার প্ররণা যোগায়। প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্য লাভের আশায় আমিও মাঝে মাঝে ব্যাকুল হয়ে উঠি। অনেকদিন ধরে আমাদের পরিকল্পনায় ছিলো সিলেট ভ্রমণ। এর আগেও সিলেটে ভ্রমণ করেছি। তবে সেটা ছিলো ঝটিকা সফর। শুনেছি বৃষ্টিতে সিলেট নাকি অন্য রূপে সাজে। তাই বৃষ্টির দিনেই সিলেট রওনা হলাম।জাফলং, জৈন্তিয়া পাহাড়, ভোলাগঞ্জের সারি সারি পাথরের স্তুপ, বিছানাকান্দি, লালা খাল, হযরত শাহজালাল ও শাহপরানের মাজারসহ সিলেটের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য স্পট রয়েছে। তবে আজ আমি পাঠকদের উদ্দেশ্যে শুধুমাত্র একটি স্পট নিয়েই আলোচনা করবো। আর সেটি হচ্ছে বাংলার আমাজান খ্যাত ‘রাতারগুল’।তিন দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে আমাদের গন্তব্য ছিলো ‘রাতারগুল’। নিয়ম অনুযায়ী আমরা খুব সকালে ঘুম থেকে উঠলাম। কিন্তু তখন অনেক বৃষ্টি হচ্ছিল। হোটেলের জানালা থেকে বাইরের রাস্তা দেখা যায়। আমাদের গাড়ি ইতিমধ্যে চলে এসেছে। তবে বৃষ্টির কারণে কেউই নামতে চাইছে না। সকাল ৭টায় বৃষ্টি কিছুটা কমলে আমরা হোটেল থেকে বের হই। পাশের একটি হোটেলে সকালের নাস্তা শেষ করে গাড়িতে উঠি। আমাদের গন্তব্য ‘রাতারগুল’।বর্ষায় বাংলার আমাজান নামে পরিচিত সিলেটের গোয়াইনঘাটের রাতারগুল আমাদের তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। রাতারগুল আমাদের দেশের একমাত্র ‘ফ্রেশওয়াটার সোয়াম্প ফরেস্ট’ বা জলাবন। সিলেট থেকে দেশের একমাত্র স্বীকৃত এই সোয়াম্প ফরেস্টের দূরত্ব প্রায় ২৬ কিলোমিটার। সিলেট জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা গোয়াইনঘাটের ফতেহপুর ইউনিয়নে এ জলাবনের অবস্থান।উত্তরে মেঘালয় থেকে নেমে আসা স্রোতস্বিনী গোয়াইন নদী, দক্ষিণে বিশাল হাওর; মাঝখানে ‘জলাবন’ রাতারগুল। উইকিপিডিয়ায় পাওয়া তথ্যমতে সারা পৃথিবীতে স্বাদুপানির জলাবন আছে মাত্র ২২টি। ভারতীয় উপমহাদেশ আছে এর দুটি। একটা শ্রীলংকায়, আরেকটা আমাদের রাতারগুলে।অনিন্দ্যসুন্দর বিশাল এ বনের সঙ্গে তুলনা চলে একমাত্র আমাজনের। রেইন ফরেস্ট নামে পরিচিত হলেও বিশ্বের স্বাদুপানির সবচাইতে বড় সোয়াম্প বন কিন্তু এটিই। সিলেটের স্থানীয় ভাষায় মুর্তা বা পাটিগাছ ‘রাতাগাছ’ নামে পরিচিত। সেই মুর্তা অথবা রাতাগাছের নামানুসারে এই বনের নাম হয়েছে রাতারগুল। আমাজনের মতোই এখানকার গাছগাছালির বেশির ভাগ অংশ বছরে চার থেকে সাত মাস পানির নিচে থাকে। ভারতের মেঘালয়ের জলধারা গোয়াইন নদীতে এসে পড়ে, আর সেখানকার এক সরু শাখা চেঙ্গী খাল হয়ে পানি পুরো রাতারগুল জলাবনকে প্লাবিত করে। বর্ষা মৌসুমের প্রায় সবসময়ই পানি থাকে বনে (মে-সেপ্টেম্বর)। শীতকালে অবশ্য সেটা হয়ে যায় আর দশটা বনের মতোই। যেন পাতা ঝরা শুষ্ক ডাঙ্গা। আর ছোট ছোট খালগুলো হয়ে যায় পায়েচলা মেঠোপথ। তখন জলজ প্রাণীকুলের আশ্রয় হয় বন বিভাগের খোঁড়া বড় বড় ডোবাগুলোতে।বর্ষায় বড়ই অদ্ভুত এই জলের রাজ্য। এ সময় কোনো গাছের কোমর পর্যন্ত পানিতে ডুবে থাকে। একটু ছোট যেগুলো, সেগুলোর আবার শরীরের অর্ধেকই জলে তলিয়ে যায়। এ সময় কোথাও চোখে পড়ে জেলেরা মাছ ধরছে। ঘন হয়ে জন্মানো গাছপালার কারণে কেমন যেন অন্ধকার লাগে পুরো বনটা। মাঝে মধ্যেই গাছের ডালপালা আটকে দেয় পথ। হাত দিয়ে ওগুলো সরিয়ে পথ চলতে হয়। তবে বর্ষায় এ বনে চলতে হবে খুব সাবধানে। কারণ রাতারগুল হচ্ছে সাপের আখড়া। বর্ষায় পানি বাড়ায় সাপেরা ঠাঁই নেয় গাছের ওপর।বনবিভাগের তথ্যমতে- এই বনের আয়তন তিন হাজার ৩২৫ দশমিক ৬১ একর। এর মধ্যে ৫০৪ একর বন ১৯৭৩ সালে বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়। বিশাল এ বনে জল-সহিষ্ণু প্রায় ২৫ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। মূলত প্রাকৃতিক বন হলেও বেত, কদম, হিজল, মুর্তাসহ নানা জাতের পানি সহিষ্ণু গাছ লাগিয়েছে বন বিভাগ। রাতারগুল বনে সাপের মধ্যে নির্বিষ গুইসাপ, জলঢোড়া ছাড়াও রয়েছে গোখরাসহ বিষাক্ত অনেক প্রজাতি। বর্ষায় বনের ভেতর পানি ঢুকলে এসব সাপ গাছের ওপর উঠে পড়ে।বনের ভেতর দাঁপিয়ে বেড়ায় মেছোবাঘ, কাঠবিড়ালি, বানর, ভোঁদড়, বনবিড়াল, বেজি, শিয়ালসহ নানা প্রজাতির বণ্যপ্রাণী। টেংরা, খলিশা, রিঠা, পাবদা, মায়া, আইড়, কালবাউস, রুইসহ আরো অনেক জাতের মাছ পাওয়া যায় এ বনে। পাখিদের মধ্যে আছে সাদা বক, কানি বক, মাছরাঙা, টিয়া, বুলবুলি, পানকৌড়ি, ঢুপি, ঘুঘু, চিল ও বাজ। শীতে মাঝেমধ্যে আসে বিশালকায় সব শকুন। আর লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে ঘাঁটি গাড়ে বালিহাঁসসহ হরেক জাতের পাখি। শুকনো মৌসুমে ডিঙ্গি নিয়ে ভেতরে গেলে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি আপনাকে উড়ে সরে গিয়ে পথ করে দেবে। এ দৃশ্য আসলেই দুর্লভ!গাছের মধ্যে এখানে করচ-ই বেশি। হিজলে ফল ধরে আছে শ`য়ে শ`য়ে। বটও চোখে পড়বে মাঝে মধ্যে। আর বনের দক্ষিণে মুর্তা (পাটি) গাছের প্রাধান্য। রাতারগুলের বেশ বড় একটা অংশে বাণিজ্যিকভাবে মুর্তা লাগিয়েছে বন বিভাগ। মুর্তা দিয়ে শীতল পাটি হয়। মুর্তা বেশি আছে নদীর উল্টো পাশে। এ ছাড়া ওদিকে শিমুল বিল হাওর আর নেওয়া বিল হাওর নামে দুটো বড় হাওর আছে।বর্ষায় হাওরের স্বচ্ছ পানির নিচে ডুবে থাকা গাছগুলো দেখার অভিজ্ঞতা অপূর্ব। শীতকালে আবার বনের ভিন্নরূপ। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে জেগে ওঠে মূর্তা ও জালি বেতের বাগান। সে সৌন্দর্য আবার অন্য রকম! বন এভাবে জলে ডুবে থাকে বছরে চার থেকে সাত মাস। বর্ষা কাটলেই দেখা যাবে অন্য চেহারা। তখন বনের ভেতরের ছোট নালাগুলো পরিণত হবে পায়ে চলা পথে। সেই পথ দিয়ে হেঁটে অনায়াসে ঘুরে বেড়ানো যায়।রাতারগুল বনে ঢুকতে হয় ডিঙি নৌকায় চেপে। নৌকা একবার বনে ঢুকলেই আর কথা নেই!  দুটি মাত্র শব্দ লাগবে আপনার ভাব প্রকাশের জন্য। আপনি হয়তো বলে উঠবেন- ‘আমি মুগ্ধ’! আর বোনাস হিসেবে পাবেন গোয়াইন নদী দিয়ে রাতারগুল যাওয়ার অসাধারণ সুন্দর পথ। এ ছাড়া নদীর চারপাশের দৃশ্যের সঙ্গে দেখবেন দূরে ভারতের মিজোরামের উঁচু সবুজ পাহাড়।এতো গেলো রাতারগুলের বর্ণনা। এখন আলোচনা করবো আমাদের ভ্রমণ নিয়ে। আমরা সিলেটের সবুজ প্রকৃতি দেখতে দেখতে কখন যে রাতারগুলে এসে পৌঁছেছি, তা বুঝতেই পারলাম না। আমরা যখন স্পটে এসে পৌঁছেছি, তখন বৃষ্টি ছিলো না। এসে দেখি অনেক পর্যটক এসেছে। বিদেশিরাও আছেন তাদের মধ্যে। দেখে মনে হলো, রাতারগুল ইতিমধ্যে বিদেশি পর্যটকদের কাছেও পরিচিত হয়ে উঠেছে। যা হোক, রাতারগুল বনের মধ্যে প্রবেশ করতে হলে নৌকা নিয়ে যেতে হবে। স্থানীয় বাসিন্দারাই নৌকা ভাড়া দেন। ভাড়া একটু বেশি। তবে এতো দূরে খরচ করে এসে ভাড়ার কথা চিন্তা করলে হবে না।বৃষ্টির ভরা মৌসুমে রাতারগুল পানিতে টইটুম্বুর। হাওরের অথৈই পানি দেখে আমাদের মধ্যে কেউ কেউ ভয়ে নৌকাতে উঠতে চাইলো না। আমরা দুটি নৌকা নিয়ে রওনা হলাম। এখানে বাচ্চারাও নৌকা চালায়। পড়ালেখার পাশাপাশি অবসরে তারা নৌকা ভাড়া দিয়ে আয় করে।আমাদের নৌকা যখন হাওরের মাঝখানে, ঠিক তখন আকাশ ঘন কালো মেঘে ছেয়ে গেছে। বুঝতে বাকি নাই যে বৃষ্টি হবে। হঠাৎ ঝুম বৃষ্টি শুরু। আমাদের মত অনেকেই রওনা হয়েছে রাতারগুলের উদ্দেশ্যে। কারও কারও কাছে ছাতা ছিলো বলে রক্ষা। তবে আমাদের কাছে কোন ছাতা ছিলো না। তাই স্থির করলাম বৃষ্টিতে ভিজেই ‘রাতারগুল’ দেখবো। ঝুম বৃষ্টিতে কাক ভেজা হয়ে হাওরের জলে নৌকার উপর গলা ছেড়ে গান ধরলেন আমাদেরই এক বন্ধু। আমাদের নৌকার মাঝি ছিলো ছোট ছোট দুটি ছেলে। ওরাও গান ধরলো। আমরা প্রবেশ করলাম রাতারগুলে। আহা, কি রূপ! চোখে না দেখলে বিশ্বাসই হতো না- এই যে আমাদের বাংলাদেশ। সত্যি বাংলার রূপ পৃথিবীর সব রূপের চেয়ে সেরা। অনেকটা সময় আমরা নৌকায় করে বনের চারিপাশে ঘুরে ঘুরে দেখলাম।এরপর উঠলাম ওয়াচ টাওয়ারে। সেখানে উঠে পুরো রাতারগুলের ভিউটা চমৎকারভাবে দেখা যায়। বৃষ্টি ভেজা রাতারগুল সত্যি চমৎকার। আমরা প্রায় দুই ঘন্টা ছিলাম। এরপর আবারও নৌকায় করে ফিরে আসলাম গড়ির কাছে। গাড়িতে উঠে রওনা দিলাম সিলেট শহরের উদ্দেশ্যে। চমৎকার একটি দিন কাটিয়ে গেলাম রাতরগুলে আর হৃদয়টা রেখে গেলাম হাওরের জলে।যেভাবে যেতে হবে রাতারগুল যাওয়া যায় বেশ কয়েকটি পথে। তবে যেভাবেই যান, যেতে হবে সিলেট থেকেই।প্রথম উপায়- সিলেট থেকে জাফলং-তামাবিল রোডে সারিঘাট হয়ে সরাসরি গোয়াইনঘাট পৌঁছানো। এরপর গোয়াইনঘাট থেকে রাতারগুল বিট অফিসে আসবার জন্য ট্রলার ভাড়া করতে হবে। ভাড়া ৯০০-১৫০০ এর মধ্যে (আসা-যাওয়া), আর সময় লাগে দুই ঘণ্টা। বিট অফিসে নেমে ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে বনে ঢুকতে হবে, এতে ঘণ্টাপ্রতি লাগবে ৫০০-৮০০ টাকা।দ্বিতীয় উপায় হলো- সিলেটের আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে সিএনজি নিয়ে গোয়াইনঘাট পৌঁছানো, ভাড়া পড়বে ৫০০ টাকা। ওসমানী এয়ারপোর্ট-শালুটিকর হয়ে যাওয়া এ রাস্তাটা বর্ষাকালে খুবই সুন্দর। এরপর একইভাবে গোয়াইনঘাট থেকে রাতারগুল বিট অফিসে আসবার জন্য ট্রলার ভাড়া করতে হবে। ভাড়া ৮০০- ১৫০০ টাকার মধ্যে (আসা-যাওয়া), আর সময় লাগে দুই ঘণ্টা। বিট অফিসে নেমে ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে বনে ঢুকতে হবে, এতে মাঝি ঘণ্টাপ্রতি নেবে ৪০০-৫০০ টাকা।আরো একটি উপায়ে আপনি পৌঁছাতে পারেন রাতারগুল। সেটা হচ্ছে সিলেটের আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে সিএনজি নিয়ে মোটরঘাট (সাহেব বাজার হয়ে) পৌঁছাতে হবে। ভাড়া নেবে ২০০-৩০০ টাকা, আর সময় লাগবে ঘণ্টাখানেক। এরপর মোটরঘাট থেকে সরাসরি ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে বনে চলে যাওয়া যায়। এতে ঘণ্টাপ্রতি ৪০০-৪৫০ টাকা লাগবে। এই তৃতীয় পথটিতেই সময় ও খরচ সবচেয়ে কম।কিছু সতর্কতা রাতারগুল বা তার আশপাশে খাবারের হোটেল বা থাকার কোনো ভালো ব্যবস্থা নেই। তাই খাবার গোয়াইনঘাট বা সিলেট থেকে নিয়ে যেতে পারেন। আরেকটা বিষয়, নৌকায় করে বেড়ানোর সময় পানিতে হাত না দেয়াই ভালো। জোঁকসহ বিভিন্ন পোকামাকড় তো আছেই, বর্ষায় বিষাক্ত সাপও পানিতে বা গাছে দেখতে পাওয়া যায়। সাঁতার না জানলে সঙ্গে লাইফ জ্যাকেট রাখা জরুরি। এ ছাড়া ছাতা, বর্ষাতি কিংবা রোদ টুপিও সঙ্গে নিতে হবে। এখানে বেড়ানোর নৌকাগুলো অনেক ছোট। এক নৌকায় পাঁচজনের বেশি উঠবেন না। ছবি : জুলফিকার হুসাইন সোহাগএসএ/ডিডি/
দেখে আসুন পঞ্চগড়ের সৌন্দর্য

প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন রয়েছে প্রাচীন জনপদ পঞ্চগড় ও সংলগ্ন এলাকায়। ইতিহাস সমৃদ্ধ এই জনপদটিতে ছড়িয়ে আছে প্রাচীন সভ্যতার বহু মূল্যবান সম্পদ। অবসরে ঘুরে আসতে পারেন বাংলাদেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড় থেকে। এত সুন্দর জায়গা বাংলাদেশে খুব কমই আছে। একটি শহরকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যে উপাদান প্রয়োজন তার সবই পঞ্চগড় জেলায়  বিদ্যমান। ভ্রমণপিপাসুদের কাছে পঞ্চগড় হতে পারে এক অসাধারণ জায়গা। পঞ্চগড়ে ঢোকার সাথে সাথে চোখ জুড়িয়ে যাবে ফসলের মাঠ দেখে। পঞ্চগড় থেকে হেমন্ত ও শীতকালে পর্যক্ষেণ করা যায় কাঞ্চনজংঘার অপরূপ দৃশ্য, রয়েছে বাংলাদেশের একমাত্র রকস মিউজিয়াম, সমতল ভূমিতে চা বাগান, বার আউলিয়ার মাজার শরীফ, মির্জাপুর শাহী মসজিদ, মহারাজার দিঘী , ভিতরগড় দুর্গনগরী,  বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট,  ভিতরগড়, মিরগড়, এশিয়ান হাইওয়ে, গোলকধাম মন্দির, তেঁতুলিয়া ডাক-বাংলো, সেখান থেকে দেখে আসুন হিমালয় আর এভারেস্ট। ঢাকা থেকে হানিফ কিংবা নাবিল পরিবহনে যেতে পারেন পঞ্চগড়। ভাড়া পড়বে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। রয়েছে গ্রীন লাইন, আগমনী, টি-আর ট্র্যাভেলসের এসিবাস। ভাড়া পড়বে এক থেকে দেড় হাজার টাকা। এই বাসগুলো যায় রংপুর পর্যন্ত। রংপুর থেকে পঞ্চগড়ে যেতে হবে আলাদা পরিবহনে । বিভিন্ন স্থানে বেড়ানোর জন্য পঞ্চগড় শহড়ের কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন অথবা শহরের চৌরঙ্গী মোড় থেকে কার, মাইক্রো ভাড়া করতে পারেন। সারা দিনের জন্য রিজার্ভ কারের ভাড়া পড়বে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা।  কোথায় থাকবেন পঞ্চগড় সার্কিট হাউজ, ডিসি কটেজ, পঞ্চগড়, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো। রয়েছে চিনিকল রেস্ট হাউজ, তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো, বাংলাবান্ধা ডাকবাংলো, তেঁতুলিয়া পিকনিক কর্ণার, দেবীগঞ্জ কৃষি ফার্ম গেস্ট হাউজ, বোদা ডাকবাংলো, রেশম প্রকল্প রেস্ট হাউজ ইত্যাদি। আবাসিক হোটেল মৌচাক আবাসিক হোটেল,হোটেল হিলটন, সেন্ট্রাল গেস্ট হাউজ, ইসলাম আবাসিক হোটেল, হোটেল রাজনগর আবাসিক, হোটেল প্রিতম আবাসিক, হোটেল অভিনন্দন,  হোটেল আসফি, রোকসানা বোর্ডিং ইত্যাদি। বার আউলিয়া মাজার শরীফ বার আউলিয়া মাজার শরীফ পঞ্চগড় উপজেলা সদর হতে ৯ কি.মি. উত্তর-পূর্বে মির্জাপুর ইউনিয়নের বার আউলিয়া গ্রামের বিস্তীর্ণ ভূমিতে অবস্থিত। বার জন ওলী খাজা বাবার নির্দেশে চট্টগ্রামসহ পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে আস্তানা গড়ে তুলে ইসলাম প্রচার শুরু করেন, পরে স্থল পথে রওনা হয়ে ইসলাম প্রচার করতে করতে উত্তরবঙ্গের শেষ প্রান্ত এসে পৌঁছান এবং পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বার আউলিয়ায় আস্তানা গড়ে তুলে ইসলাম প্রচার শুরু করেন। আটোয়ারীর মাটিকে পুণ্য ভূমিতে পরিণত করে সময়ের বিবর্তনে ওলীদের এখানেই সমাহিত করা হয়। গড়ে ওঠে বার আউলিয়া মাজার শরীফ। ঢাকা থেকে বাসযোগে আটোয়ারী উপজেলা বাসষ্ট্যান্ড। আটোয়ারী থেকে বাসযোগে মির্জাপুর ৬ কিলোমিটার। মির্জাপুর হতে রিক্সা/ভ্যানযোগে ৩ কিলোমিটার দুরত্বে বার আউলিয়া মাজার শরীফ। যোগাযোগঃ  টেলিফোনঃ০৫৬৫২-৫৬০০২ ই-মেইল- [email protected]d web-  http://atwari.panchagarh.gov.bd/ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় মির্জাপুর শাহী মসজিদ আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে মির্জাপুর শাহী মসজিদটি অবস্থিত। ফলকের ভাষা ও লিপি অনুযায়ী ধারণা করা হয় মোঘল সম্রা্ট শাহ আলমের রাজত্বকালে এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। মসজিদটির দেওয়ালে খোদাই করা রয়েছে টেরাকোটা ফুল এবং লতাপাতার নক্সা । মসজিদের সন্মুখভাগে আয়তাকার টেরাকোটার নক্সাসমুহের  একটির সাথে অপরটির মিল নেই, প্রত্যেকটি পৃথক পৃথক। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৪০ ফুট, প্রস্থ ২৫ ফুট এবং এক সারিতে ০৩ (তিন) টি গম্বুজ আছে। মসজিদের নির্মাণ শৈলীর নিপুনতা ও দৃষ্টিনন্দন কারুকার্য  দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। ঢাকা থেকে বাসযোগে আটোয়ারী উপজেলা বাসষ্ট্যান্ড। আটোয়ারী থেকে বাসযোগে মির্জাপুরের দুরত্ব ৬ কিলোমিটার। মির্জাপুর হতে  রিক্সা/ভ্যানযোগে ১কিলোমিটার দুরত্বে মির্জাপুর শাহী মসজিদ। যোগাযোগঃ টেলিফোনঃ০৫৬৫২-৫৬০০২, ই-মেইল- [email protected] web-  http://atwari.panchagarh.gov.bd উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় মহারাজার দিঘী মহারাজার দিঘী পঞ্চগড় শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার উত্তরে অমরখানা ইউনিয়নে অবস্থিত। পাড়সহ এর আয়তন প্রায় ৮০০ × ৪০০ গজ। স্থানীয় অধিবাসীদের বিশ্বাস পানির গভীরতা প্রায় ৪০ শ ফুট। দিঘীতে রয়েছে মোট ১০টি ঘাট। বিশাল দিঘীর চারপাশে রয়েছে অনেক গাছগাছালির সবুজের কারুকার্য, স্নিগ্ধ সমীরণ, সৌম্য শান্ত পরিবেশ যা এখনো সবার কাছে বিরল মনে হয়। পঞ্চগড় শহর থেকে বাস/রিক্সা/ভ্যানযেগে যেতে পারেন দুরত্ব প্রায়  ১৫ কিলোমিটার । রকস্ মিউজিয়াম   পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজ চত্ত্বরে অবস্থিত রকস্ মিউজিয়ামটি । মিউজিয়ামে পঞ্চগড় জেলার প্রত্নতাত্ত্বিক ও লোকজ সংগ্রহ রয়েছে প্রায় সহস্রাধিক। পঞ্চগড় কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে রিক্সাযোগে রকস্ মিউজিয়ামটি অবস্থিত যাওয়া যায়। যোগাযোগঃ টেলিফোনঃ ০৫৬৮-৬১২৩৩ ই-মেইল- [email protected] web-    http://panchagarhsadar.panchagarh.gov.bd/ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় ভিতরগড় দুর্গনগরী  পঞ্চগড় উপজেলা সদর দপ্তর হতে প্রায় ১৫ (পনের) কিলোমিটার দূরত্বে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত প্রাচীন যুগের একটি বিরাত কীর্তি। গড় ও নগরীর অবস্থান প্রায় ১২ বর্গমাইল এলাকাজুড়ে। ভিতরগড় দুর্গে একটি বড় দিঘী ও কয়েকটি ছোট ছোট দীঘি আছে এবং এর ভিতরে মন্দির, প্রসাদ ও ইমারতের এবং বাইরে পরিখা ও প্রাচীর এখনো দেখা যায়। পঞ্চগড় কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল হতে তেঁতুলিয়াগামী বাসযোগে বোর্ড অফিস, বোর্ড অফিস থেকে রিক্সা/ভ্যান যোগে  ভিতরগড় দুর্গনগরীর দূরত্ব ০৫ কিলোমিটার। যোগাযোগঃ টেলিফোনঃ ০৫৬৮-৬১২৩৩ ই-মেইল- [email protected] web-    http://panchagarhsadar.panchagarh.gov.bd/ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট বাংলাদেশের উত্তরের উপজেলা তেঁতুলিয়া হিমালয়ের কোলঘেঁষে অবস্থিত। বাংলাদেশের সর্বোত্তরের স্থান বাংলাবান্ধা জিরো (০) পয়েন্ট ও বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর। এটি বাংলাদেশের একমাত্র স্থলবন্দর যার মাধ্যমে তিনটি দেশের সাথে সুদৃঢ় যোগাযোগ গড়ে উঠার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী পরিবহনে পঞ্চগড়, পঞ্চগড় থেকে শহর থেকে ৫৫ কি.মি দূরে বাংলাবান্ধা। পঞ্চগড় শহর থেকে লোকাল বাস, প্রাইভেট কার বা মাইক্রোবাস যোগে বাংলাবান্ধা  যাওয়া যায়। যোগাযোগঃ টেলিফোনঃ ০৫৬৫৫-৭৫০০১ ই-মেইল- [email protected] web-    http://tetulia.panchagarh.gov.bd উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় তেতুলিয়া, পঞ্চগড়। ভিতরগড়     পঞ্চগড় শহর থেকে ১০ মাইল উত্তরে বাংলাদেশ- ভারত সীমান্ত বরাবর অবস্থিত এই গড়। আয়তনের দিক থেকে ভিতরগড় বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ গড়। প্রায় ১২ বর্গমাইল স্থান জুড়ে ভিতরগড়ের অবস্থান।  ভিতরগড় দূর্গ নির্মাণের সঠিক কাল নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তবে ভিতরগড় আর ভিতরগড় দূর্গ একই সময়ে নির্মিত হয়নি। দূর্গের প্রাথমিক কাঠামোটি পৃথীরাজ কর্তৃক আনুমানিক ৬ষ্ঠ শতকের দিকেই নির্মিত হয় বলে ঐতিহাসিকরা মনে করেন।   পঞ্চগড় সদর উপজেলা হতে ১৫ কি.মি দূরে ১ নং অমরখানা ইউনিয়নে এই ভিতরগড়ের অবস্থান। এই ভিতর গড় ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন। রিক্সা/ভ্যান যোগে যাওয়া যায় ভিতর গড়। যোগাযোগঃ টেলিফোনঃ ০৫৬৮-৬১২৩৩ ই-মেইল- [email protected] web-    http://panchagarhsadar.panchagarh.gov.bd/ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় পঞ্চগড় সদর, পঞ্চগড়। মিরগড় যে ৫টি গড় নিয়ে ‘পঞ্চগড়’ এর নামকরণ করা হয়েছে তার মধ্যে মিরগড় অন্যতম। এই গড়টির অধিকাংশ অংশই এখন ভারতের মধ্যে চলে গেছে। পঞ্চগড় সদর উপজেলা হতে ৫ কি. মি. দক্ষিণে ধাক্কামারা ইউনিয়নে অবস্থিত ভিতর গড়। পঞ্চগড় সদর উপজেলা হতে রি্ক্সা/ ভ্যান যোগে যাওয়া যায় এই গড়ে। যোগাযোগঃ টেলিফোনঃ ০৫৬৮-৬১২৩৩ ই-মেইল- [email protected] web-    http://panchagarhsadar.panchagarh.gov.bd/ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় পঞ্চগড় সদর, পঞ্চগড়। গোলকধাম মন্দির    পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাংগা ইউনিয়নের শালডাংগা গ্রামে অবস্থিত গোলকধাম মন্দির। মন্দিরটি নির্মিত হয় ১৮৪৬ সালে। পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলা সদর হতে প্রায় ১২ কি. মি. উত্তর পশ্চিমে গোলকধাম মন্দিরটি অবস্থিত।           মন্দিরটি অষ্টাদশ শতকের স্থাপত্যের একটি চমৎকার নিদর্শণ। গ্রীক পদ্ধতির অনুরূপ এর স্থাপত্য কৌশল । পঞ্চগড় জেলা থকে বাস যোগে দেবীগঞ্জ উপজেলা। অতপর রিক্সা/ ভ্যান যোগে শালডাংগা ইউনিয়নের শালডাংগা গ্রামে যাওয়া যায়। দেবীগঞ্জ উপজেলা সদর তেঁতুলিয়া ডাক-বাংলো পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলা সদরের ঐতিহাসিক ডাক বাংলোর নির্মাণ কৌশল অনেকটা ভিক্টোরিয়ান ধাচের। জানা যায়, এটি নির্মাণ করেছিলেন কুচবিহারের রাজা । তেঁতুলিয়া ডাক-বাংলোর পাশাপাশি নির্মিত রয়েছে পিকনিক কর্ণার। উঁচুতে ডাক-বাংলো এবং পিকনিক কর্নার মহানন্দা নদীর তীর ঘেঁষা ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন  সুউচ্চ গড়ের উপর সাধারণ ভূমি হতে প্রায় ১৫ হতে ২০ মিটার অবস্থিত। সেখান থেকে উপভোগ করা যায় হেমন্ত ও শীতকালে কাঞ্চন জংঘার সৌন্দর্য ।  পঞ্চগড় থেকে বাসযোগে তেঁতুলিয়া অতপর রিক্সা অথবা ভ্যান যোগে তেঁতুলিয়া ডাক-বাংলোর দুরত্ব প্রায় ৫৫ কি.মি.। সমতল ভূমির চা বাগানঃ সাম্প্রতিকালে পঞ্চগড় জেলা সদর ও তেঁতুলিয়া উপজেলায় শুরু করা হয়েছে সমতল ভূমিতে চা চাষাবাদ। বাংলাদেশে সমতল ভূমিতে এটাই প্রথম চা চাষাবাদ। চা চাষে এগিয়ে এসেছে বিশেষভাবে কাজী এন্ড কাজী টি এস্টেট, ডাহুক টি এস্টেট, স্যালিলেন টি এস্টেট, তেঁতুলিয়া টি কোম্পানি প্রভৃতি ।   দেখে আসুন হিমালয় আর এভারেস্ট পঞ্চগড় জেলার উত্তর দিকে শীত মৌসুমে মেঘমুক্ত এবং কুয়াশাবিহীন দিনে তাকালে চোখে পড়ে হিমালয় গিরিমালার নয়নাভিরাম দৃশ্য। তবে পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলা সদরের পাশ ঘেঁষে প্রবাহিত মহানন্দা নদীর পাড়ে গিয়ে দাঁড়ালে সূর্যের বর্ণিল আলোকচ্ছ্বটায় উদ্ভাসিত এভারেস্ট শৃঙ্গ দেখা যায় । ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ের দূরত্ব ৪৫৭ কিলোমিটার। আর পঞ্চগড় থেকে তেঁতুলিয়ার দূরত্ব ৪০ কিলোমিটার। তেঁতুলিয়া থেকে বাংলাবান্ধা ১৭ কিলোমিটার। দেশের যে কোনো স্থান থেকে সড়ক, রেল ও বিমানে করে পঞ্চগড় যাওয়া যায়। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিভিন্ন জেলা থেকে সরাসরি এখানে আসতে পারেন। তেঁতুলিয়া বেড়াতে যেতে হলে আপনাকে পঞ্চগড় শহরে থাকার প্রস্তুতি নিয়েই যেতে হবে। তবে পূর্বানুমতি নিয়ে তেঁতুলিয়া ডাকবাংলোতে রাত্রিযাপন করতে পারেন। এজন্য আগে ভাগেই আপনাকে সিট বুক করতে হবে। এছাড়া জেলা পরিষদের একটি বাংলো রয়েছে। সেখানে থাকতেও আগাম বুকিং দিয়ে রাখতে হবে। তবে শীত মৌসুমে এগুলোতে সিট পাওয়া দুষ্কর। রাতযাপনের জন্য পঞ্চগড় জেলা শহরে বেশকিছু ভালো আবাসিক হোটেল ও রেস্ট হাউস রয়েছে। এসি, নন-এসি এ দু’ধরনের রুম পাওয়া যায়। ভাড়াও তুলনামূলক কম। রাজধানী থেকে পঞ্চগড়ের সরাসরি বাস পাবেন। হানিফ, শ্যামলীসহ বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির বাস পঞ্চগড় যায়। পঞ্চগড় থেকে তেঁতুলিয়ায় বাস চলাচল করে সারাদিন। ভাড়া পড়বে ৬০ থেকে ১০০ টাকা। এছাড়াও ঢাকা থেকে তেঁতুলিয়ায় সরাসরি চলাচল করে হানিফ ও বাবুল পরিবহনের বাস। তেঁতুলিয়ায় নেমে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর, চা বাগান বা আশপাশের এলাকায় ঘোরাঘুরির জন্য স্কুটার ভাড়া করাই ভালো। তবে মাইক্রোবাস ভাড়া নিয়েও ঘুরতে পারেন।   পঞ্চগড়ে অনেক হোটেল আছে, ভাড়া পড়বে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা।  এসি কক্ষ পেয়ে যাবেন এক হাজার টাকার মধ্যে ।  ডব্লিউএন  

হারানো শহরের খোঁজে একদিন

যেখানে ইতিহাস কথা বলে। গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। শত শত বছরের ইতিহাস। ধ্বংসপ্রায় নগরীর  ইতিহাস। বলছি সোনারগাঁওয়ের ঐতিহাসিক পানাম নগরী’র কথা। এটি ‘হারানো নগরী’ নামে পরিচিত। ঢাকা থেকে অদূরে অবস্থিত প্রাচীন এই শহরে ঘুরে আসুন না, একবার। এই নগরীতে প্রবেশ করলে আপনি হারিয়ে যাবেন অন্য ভুবনে। যারা ঢাকায় বাস করেন এবং চাকরিজীবী তাদের বাইরে বেড়ানোই হয় না। আর এর বড় কারণ সময়ের অভাব। সপ্তাহে একদিন অথবা দু’দিন ছুটি। এই অল্প ছুটিতে ঢাকার বাইরে ঘুরে আসা ভাবাই যায় না। কিন্তু চাইলেই এই ইট, কাঠ আর ধূলাবালুর শহর ছেড়ে স্বাধীনভাবে ঘুরে আসতে পারেন খুব কাছ থেকেই। অনেক দিন ধরে ঐতিহাসিক এই নগরীতে বেড়িয়ে আসার ইচ্ছা। কিন্তু সময় হয়ে ওঠেনি। তাই এবার ঠিক করলাম পানাম নগর দেখবই। ছুটির দিন শুক্রবার রওনা হলাম। যাত্রা শুরু করলাম সকাল ৮টায়। গুলিস্তান থেকে ফ্লাইওভার দিয়ে কাচপুর ব্রিজ পাড় হয়ে যেতে হয় সোনারগাঁও পানাম সিটিতে। সামান্য কিছু দূরে বাংলার প্রথম রাজধানী সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর। একদিনেই সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর ও পানাম নগর ঘোরে দেখার সংকল্প করলাম। ঢাকা থেকে পানাম নগরের দূরত্ব ২৭ কিমি। যা সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন জাদুঘর থেকে আধা কিমি উত্তরে অবস্থিত। পানাম নগর পৃথিবীর ১০০টি ধ্বংসপ্রায় ঐতিহাসিক শহরের একটি। যা নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও এ অবস্থিত। পানাম বাংলার প্রাচীনতম শহর। এক সময় ধনী হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের বসবাস ছিল এখানে। ছিল মসলিনের জমজমাট ব্যবসা। কি আছে পানাম নগর ও লোকশিল্প জাদুঘরে সে গল্প একটু পরে হবে। আগে জেনে নিই সোনারগাঁয়ের ইতিহাস। সোনারগাঁওয়ের ইতিহাস রাজধানী ঢাকা থেকে ২৫ কিলোমিটার পূর্বদিকে সোনারগাঁওয়ের অবস্থান। সুবুজের সমারোহ আর বনানীর শ্যামললিমায় মনোরম স্থাপত্যশৈলী। প্রকৃতিক সৌন্দর্যে ছায়া-ডাকা, পাকি-ডাকা, হৃদয়-ছোঁয়া নৈসর্গিক পরিবেশ পর্যটকদের মন কেড়ে নেয় সোনারগাঁও। এই সোনারগাঁয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সোনালী অতীতের এক সুবর্ণ অধ্যায়ের উল্লেখযোগ্য স্মৃতি। সোনারগাঁয়ের নামকরণে মতভেদ রয়েছে। গবেষকদের মতে, সোনারগাঁয়ের প্রাচীন নাম ছিল সুবর্ণ বীথি বা সুবর্ণগ্রাম। এই সুবর্ণগ্রাম থেকেই মুসলিম আমলের সোনারগাঁও নামের উদ্ভব। প্রবাদ আছে, মহারাজ জয়ধ্বজের সময় এ অঞ্চলে সুবর্ণবৃষ্টি হয়ছিল বলে এ স্থান সুবর্ণ গ্রাম নামে পরিচিতি লাভ করে। কেউ কেউ বলেন, বরা ভূঁইয়া প্রধান ঈসা খাঁর স্ত্রী সোনাবিবির নামানুসারে এর নাম হয়েছে সোনারগাঁও। সোনারগাঁও বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জল প্রাচীন জনপদ। সোনারগাঁও জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও শিল্পকলার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। সোনারগাঁও মধ্যযুগে ছিল মুসলিম সুলতানদের রাজধানী। বর্তমানে সোনারগাঁও নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। সোনারগাঁ উপজেলার বর্তমান আয়তন ১১৭.৬৬ বর্গ কিলোমিটার। যা নারায়ণগঞ্জ জেলা সদর থেকে প্রায় ২১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সোনারগাঁওয়ের ইতিহাস জানার জন্য পৌরাণিক উপাখ্যান, কিংবদন্তি বা জনশ্রুতির ওপরই বেশি নর্ভর করতে হয়। মধ্যযুগীয় এই নগরটির অবস্থান নির্ণয় করা কঠিন। সোনারগাঁওয়ের পূর্বে মেঘনা নদী, দক্ষিণ-পশ্চিমে শীতলক্ষ্যা, দক্ষিণে ধলেশ্বরী এবং উত্তরে ব্রক্ষ্মপুত্র দ্বারা পরিবেষ্টিত। সেজন্য রাজা-বাদশাগণ সানন্দে সোনারগাঁয়ে বাংলার রাজধানী গড়ে তুলেছিলেন। ধারণা করা হয় ঐতিহাসিকভাবে সোনারগাঁওয়ের উদ্ভব প্রাক-মুসলিম যুগ থেকেই। প্রাচীন সেই নগরীর তেমন কিছু আর অবশিষ্ট নেই। এখন আছে শুধু ঘুরে দেখার মতো ঐতিহাসিক পুরনো বাড়িগুলো। পানাম নগর ঈসা খাঁর আমলের বাংলার রাজধানী ছিল পানাম নগর। বড় নগর, খাস নগর, পানাম নগর-প্রাচীন সোনারগাঁওর এই তিন নগরের মধ্যে পানাম ছিল সবচেয়ে আকর্ষণীয়। এখানে কয়েক শতাব্দী পুরনো অনেক ভবন রয়েছে, যা বাংলার বার ভূঁইয়াদের ইতিহাসের সাথে সম্পর্কিত। রাজধানী ঢাকা থেকে ৩০ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে নারায়ণগঞ্জের খুব কাছে সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত এই নগর। সোনারগাঁওয়ে ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই নগরী গড়ে ওঠে। ঐতিহাসিকভাবে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর। জানা যায়, ১৪০০ শতাব্দীতে এখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। যেখানে পৃথিবীর নামী-দামি শিক্ষকেরা পড়াতে আসতেন। পানাম নগরীর নির্মাণশৈলী অপূর্ব এবং এর নগর পরিকল্পনা দুর্ভেদ্য ও সুরক্ষিত। এটি মুলত বঙ্গ অঞ্চলের তাঁত ব্যবসায়ীদের মূল কেন্দ্র বিন্দু ও আবাসস্থল ছিল। এ স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁত ব্যবসা পরিচালনা করতেন। বাংলার মসলিনসহ অন্যান্য তাঁত শিল্পের প্রচার প্রসার ও ব্যবসায়ের তীর্থস্থান এ পানাম নগরী। পানাম নগরীতে মূলত ব্যবসায়ী ও জমিদাররা বসবাস করতেন। এর পাশাপাশি রাজাদের, আমির ওমরাদের জন্য পানাম নগরী ও তার আশেপাশের গ্রামগুলোতে গড়ে উঠেছিল নিপুন কারুকাজ খচিত পাকা ইমারতরাজি। পানাম ও তার আশপাশকে ঘিরে পঞ্চদশ শতক থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত এক সমৃদ্ধ জনজীবন ছিল। এখানে সরু রাস্তার দুই ধারে গড়ে উঠেছিল অট্টালিকা, সরাইখানা, মসজিদ, মন্দির, মঠ, ঠাকুরঘর, গোসলখানা, কূপ, নাচঘর, খাজাঞ্চিখানা, টাকশাল, দরবার কক্ষ, গুপ্তপথ, প্রশস্থ দেয়াল, প্রমোদালয় ইত্যাদি। পানাম নগরীতে দেখা যায় ৪০০ বছরের পুরনো মঠবাড়ি। পানামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে পঙ্খীরাজ খাল। এ খাল পানামের গুরুত্বপূর্ন ভবনগুলো ছুঁয়ে পূর্বদিকে মেনিখালি নদ হয়ে মেঘনা নদীতে মিশেছে। ৫ মিটার প্রশস্থ ও ৬০০ মিটার দীর্ঘ একটি সড়কের দুই পাশে একতলা, দোতলা ও তিনতলা দালান রয়েছে পানামে। এছাড়াও রয়েছে প্রায় ৫২ টি ভবন। পানাম নগরীর মাঝে যে রাস্তা চলে গেছে এর উত্তর পাশে আছে ৩১ টি ভবন এবং দক্ষিণ পাশে আছে ২১টি ভবন। প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কূপসহ আবাস উপযোগী নিদর্শন রয়েছে। নগরীর পানি সরবরাহের জন্য দুই পাশে খাল ও পুকুরের অবস্থান লক্ষ করা যায়। পানাম নগরের আশপাশে আরো কিছু স্থাপনা আছে যেমন- ছোট সর্দারবাড়ি, ঈশা খাঁর তোরণ, নীলকুঠি, বণিক বসতি, ঠাকুরবাড়ি, পানাম নগর সেতু ইত্যাদি। আমরা মাত্র ২০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে প্রবেশ করি প্রাচীন এই নগরীতে। প্রবেশ মুখেই রয়েছে একটি বড় ফলক। যাতে সংক্ষিপ্ত আকারে ইতিহাস লেখা রয়েছে। পানাম নগরের নির্মিত ভবনগুলো ছোট লাল ইট দিয়ে তৈরি। দীর্ঘ একটি সড়কের উভয় পাশে দৃষ্টিনন্দন ভবন। উভয় পাশে মোট ৫২টি পুরোনো বাড়ি এই ক্ষুদ্র নগরীর মূল আকর্ষণ। চারিদিকে সুনশান নিরবতা। অনেক পর্যটক এসেছে এই ছুটির দিনে। এ এক অন্যরকম অনুভুতি। মনে হবে এক মৃত নগরীতে প্রবেশ করেছেন। বেশ কিছু সময় কাটিয়ে আমরা রওনা হলাম সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘরে।   সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর পানাম নগরী থেকে সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর আধা-কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আবহমান গ্রামবাংলার লোক সাংস্কৃতিক ধারাকে বিকশিত করার উদ্যোগে ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে ১২ মার্চ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন সোনারগাঁওয়ের ঐতিহাসিক পানাম নগরীর একটি পুরনো বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন। পরে ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে ১৫০ বিঘা আয়তনের কমপ্লেক্সে খোলা আকাশের নিচে বাংলার প্রকৃতি ও পরিবেশে গ্রামীণ রূপকেন্দ্রিক বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের শৈল্পিক কর্মকাণ্ডের পরিচয় তুলে ধরতে শিল্পী জয়নুল আবেদীন এই জাদুঘর উন্মুক্ত পরিবেশে গড়ে তোলার প্রয়াস নেন এবং বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন কমপ্লেক্সটি প্রায় ১০০ বছর পুরনো সর্দারবাড়িতে স্থানান্তরিত হয়। এখানে আরো রয়েছে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, কারুপল্লী ও একটি বিশাল লেক। সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন এলাকায় রয়েছে লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরটি। এখানে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের অবহেলিত গ্রামবাংলার নিরক্ষর শিল্পীদের হস্তশিল্প, জনজীবনের নিত্যব্যবহার্য পণ্যসামগ্রী। এসব শিল্প-সামগ্রীতে তৎকালীন প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পের রূপচিত্র ফুটে উঠেছে। সর্দারবাড়িতে ১০টি গ্যালারি রয়েছে। গ্যালারিগুলোতে কাঠ খোদাই, কারুশিল্প, পটচিত্র ও মুখোশ, আদিবাসী জীবনভিত্তিক নিদর্শন, গ্রামীণ লোকজীবনের পরিবেশ, লোকজ বাদ্যযন্ত্র ও পোড়ামাটির নিদর্শন, তামা-কাসা-পিতলের নিদর্শন, লোহার তৈরি নিদর্শন, লোকজ অলঙ্কারসহ রয়েছে বহু কিছু। ভবনটির সামান্য আগে রয়েছে লোকজ স্থাপত্যকলায় সমৃদ্ধ আধুনিক এক ইমারতে প্রতিষ্ঠিত জয়নুল আবেদীন স্মৃতি জাদুঘর। এই ভবনটিতে মাত্র দু’টি গ্যালারি। এই দু’টি গ্যালারির মধ্যে একটি গ্যালারি কাঠের তৈরি, যা প্রাচীন ও আধুনিককালের নিদর্শনসমৃদ্ধ। তা ছাড়া বাংলাদেশের প্রাকৃতিক, বৈশিষ্ট্য কাঠ এবং কাঠ থেকে বিভিন্ন কারুপণ্য তৈরি এবং সর্বশেষ বিক্রির সামগ্রিক প্রক্রিয়া, অত্যন্ত আকর্ষণীয়ভাবে সুন্দর মডেল দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এই দু’টি ভবনের বাইরে রয়েছে পাঠাগার, ডকুমেন্টেশন সেন্টার, সেমিনার হল, ক্যান্টিন, কারুমঞ্চ, গ্রামীণ উদ্যান ও বিভিন্ন রকমের বৃক্ষ, মনোরম লেক, লেকের মাঝে ঘুরে বেড়ানোর জন্য নৌবিহার, মৎস্য শিকারের সুন্দর ব্যবস্থা ও পঙ্খিরাজ নৌকা। কারুপল্লীতে বৈচিত্র্যময় দোচালা, চৌচালা ও উপজাতীয়দের আদলে তৈরি ঘরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অজানা, অচেনা, আর্থিকভাবে অবহেলিত অথচ দক্ষ কারুশিল্পীর তৈরি বাঁশ, বেত, কাঠ খোদাই, মাটি, জামদানি, নকশিকাঁথা, একতারা, পাট, শঙ্খ, মৃৎশিল্প ও ঝিনুকের সামগ্রী ইত্যাদি কারুপণ্যের প্রদর্শনী ও বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে।   মেঘনা নদী ভ্রমণ দুপুর গড়িয়ে বিকেল। আমরা চাইলাম মেঘনা নদীতে নৌকা ভাসিয়ে ঘুড়ে বেড়াতে। তাই রিক্সায় চেপে চলে গেলাম মেঘনা পাড়ে। সেখানে অসংখ্য ইঞ্জিন চালিত নৌকা রয়েছে। ভাড়া ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা নিবে। মাঝিরা অনেক বেশি ভাড়া চাইবে। কিন্তু আপনাকে ঠিক করে নিতে হবে। নৌকা ভাড়া করে মেঘনার উত্তাল ঢেউতে দোল খেতে খেতে চলে গেলাম মাঝ নদীতে। সে এক অন্য রকম অনুভুতি। জেলেরা ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরছে। আপনি চাইলে সেখান থেকে তাজা তাজা মাছ কিনে আনতে পারবেন। এভাবেই নৌকার বুকে চেপে সন্ধ্যার রক্তিম আলো দেখতে দেখতে দিনের ভ্রমণ শেষ করলাম। ঢাকার কাছাকাছি পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার জায়গার মধ্যে অন্যতম সোনারগাঁও লোকশিল্প যাদুঘর ও পানাম সিটি। সপ্তাহিক যেকোন ছুটির দিনে ঘুরে আসতে পারেন প্রাচীন বাংলার রাজধানী সোনারগাঁও ও পানাম সিটি।   কীভাবে যাবেন ঢাকার গুলিস্তান থেকে বাসে উঠে নামবেন মোরগাপাড়া চৌরাস্তা। ভাড়া ৪০ টাকা। সময় লাগতে পারে ১ ঘণ্টা। তবে শুক্রবার ছাড়া অন্যদিন হলে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা হাতে নিয়ে বেরুতে হবে। মোরগাপাড়া চৌরাস্তায় নেমে দেখবেন অটো দাঁড়ানো আছে। শেয়ারে জাদুঘর পর্যন্ত যাওয়া যাবে। ভাড়া জনপ্রতি ১০ টাকা। অথবা গুলিস্তান থেকে চিটাগাং রোডের বাসে করে চিটাগাং রোড যাবেন। সেখান থেকে সিএনজিতে করে যেতে পারেন। সর্বোচ্চ ১২০ টাকা ভাড়া। আবার বাসে করেও যেতে পারেন। বাসে গেলে নামতে হবে পানাম নগর বাসস্ট্যান্ড। সেখান থেকে রিক্সায় সোনারগাঁও জাদুঘর। প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ২০ টাকা। মনে রাখবেন প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার জাদুঘর বন্ধ থাকে।   যাত্রা শুরুর আগে আপনার ব্যক্তিগত ক্যামেরা/মোবাইল ফোন নিতে ভুলবেন না, কারণ সেখানে ছবি তোলার জন্য আলাদা করে তেমন ভালো কোন ব্যবস্থা নেই। নিজের ছবি নিজেই তুলতে ব্যবস্থা রাখুন। তা না হলে পরে হতাশ হতে হবে। যেহেতু সোনারগাঁও ঢাকা থেকে অনেকটাই নিকটবর্তী, চাইলে বাসা থেকে রান্না করে হটপটে করে খাবার নিয়ে যেতে পারেন। এতে খরচ কম হবে এবং স্বাস্থ্যকর খাবারের ও নিশ্চয়তা পাবেন। //এআর

ঘুরে আসুন মিনি কক্সবাজার মৈনট ঘাট

­­­­­­­­­­­­­­­­­­­­­­চারদিকে বালু চিকচিক স্থলভূমি। সামনে রুপোর মতো চকচকে পানি। এটা পদ্মা, আমাদের প্রিয় পদ্মা নদী। মৈনট পদ্মাপাড়ের একটি খেয়াঘাট। এখান থেকে রোজ ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ট্রলার ও স্পিডবোট চলাচল করে।যেখানে আসলে আপনি সত্যিই মুগ্ধ হবেন পদ্মা নদীর অপরূপ জলরাশি দেখে। কী নেই এখানে। বিশাল জলরাশি। পদ্মায় হেলেদুলে ভেসে বেড়ানো জেলেদের নৌকা। আর পদ্মার তীরে হেঁটে বেড়ানো। সব মিলে কিছুক্ষণের জন্য আপনার মনে হবে আপনি ঢাকার দোহারে নয়, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে আছেন। মূলত এ কারণেই অনেকে মৈনট ঘাটকে বলে থাকেন ‘মিনি কক্সবাজার’। একসময় মৈনট ঘাট থেকে ফরিদপুর যাতায়াতের জন্য কার্তিকপুর বাজার থেকে মৈনট ঘাট পর্যন্ত প্রশস্ত রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ফেরির প্ল্যানটা বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে এই রাস্তাটিও অবহেলায়-অযত্নে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। অনেকদিন এভাবে থাকার কারণে অপ্রয়োজনে কেউ ওই দিকটায় তেমন একটা পা বাড়াত না। সম্প্রতি সড়কটি পুনরায় মেরামত করার ফলে আবার আসতে শুরু করছে পর্যটক। এদের বেশির ভাগই আসছে দোহার, নবাবগঞ্জ, শ্রীনগর, কেরানীগঞ্জ থেকে। মৈনট ঘাট এখনও ব্যাপকভাবে পরিচিত না হওয়ার কারণে ভ্রমণপিপাসু অনেক মানুষই বঞ্চিত হচ্ছেন মৈনট ঘাটের সৌন্দর্য উপভোগ করা থেকে। খুব ভোরে মৈনট ঘাটেই বসে আপনি দেখতে পাবেন সারা রাত পদ্মা নদীতে জেলেদের শিকার করা মাছের বাজার। পদ্মা নদীর সেই নামকরা ইলিশসহ অনেক প্রজাতির মাছই আপনি কিনতে পারবেন এখান থেকে, একদম টাটকা। মৈনট ঘাট দর্শনের উপযুক্ত সময় হচ্ছে বর্ষাকাল। তখন রাস্তার দুই পাশের নিম্নভূমি, যেখানে বর্ষার আগে বিস্তীর্ণ ভূমিজুড়ে বাদামের চাষ করা হয়, আর সবই বর্ষায় পদ্মার পানিতে তলিয়ে যায়। সে এক দেখার মতো দৃশ্য। বর্ষার আগে এর সৌন্দর্যের কমতি নেই। তখন দেখা যাবে পদ্মা নদীর শান্ত রূপ। একটা সন্ধ্যায় পদ্মা নদীতে সূর্যাস্ত দেখলে পরবর্তী একশোটা সন্ধ্যার কথা মনে থাকবে আপনার। স্পিডবোট, ট্রলার অথবা খেয়ানৌকা নিয়ে পদ্মার বুকে ভেসে বেড়াতে পারবেন। আপনি চাইলে দুপুরে পদ্মার জলে গোসলও করতে পারেন। তবে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।   কীভাবে যাবেন ঢাকা থেকে মৈনট ঘাটে আসার সবচেয়ে সুবিধাজনক উপায়টি হচ্ছে গুলিস্তানের গোলাপ শাহর মাজারের সামনে থেকে সরাসরি মৈনট ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে আসা যমুনা পরিবহনে চেপে বসা। ৯০ টাকা ভাড়া আর দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময়ের বিনিময়ে আপনি পৌঁছে যাবেন মৈনট ঘাট। ফেরার সময় একই বাসে আবার ঢাকা চলে আসবেন। মৈনট থেকে ঢাকার উদ্দেশে শেষ বাসটি ছেড়ে যায় সন্ধ্যা ৬টায়। গুলিস্তানের একই স্থান থেকে এন মল্লিক পরিবহনেও আসতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে আপনাকে নামতে হবে নবাবগঞ্জের মাঝিরকান্দায়। ভাড়া ৭০ টাকা। মাঝিরকান্দা থেকে লোকাল অটোতে দোহারের বাঁশতলা। ভাড়া ১৫ টাকা। চাইলে লক্ষ্মীপ্রসাদ নামক স্থানে নেমে পোদ্দারবাড়ি নামক পুরোনো বাড়িটিও দেখে নিতে পারেন। আর জজবাড়ি, উকিলবাড়ি, কোকিলপ্যারি দালান, খেলারাম দাতার বাড়ি যাকে স্থানীয়ভাবে আন্ধার কোঠা বলা হয়, এসব দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে চাইলে মাঝিরকান্দার আগে কলাকোপা নামক স্থানেই নামতে হবে। কোথায় থাকবেন ট্যুরিস্টদের থাকার জন্য মৈনট ঘাটের আশপাশে কোনো হোটেল, রিসোর্ট, বোর্ডিং এখনো তৈরি করা হয়নি। স্থানীয় কোনো বাসিন্দার বাড়ি ম্যানেজ করতে না পারলে দিনে এসে দিনেই ফিরে যাওয়া ভালো। কোথায় খাবেন বেশির ভাগ মানুষেরই ইচ্ছা থাকে পদ্মার তীরে বসে পদ্মার সেই নামকরা ইলিশ খাওয়ার। মৈনট ঘাটে কিছু ভাতের হোটেল আছে। ইলিশ ৬০ থেকে ৯০ টাকা। বড় সাইজের ইলিশ খেতে চাইলে আগেই অর্ডার দিতে হবে। এ ছাড়া বোয়াল ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চিংড়ি ৬০ থেকে আশি টাকা। ভাত ২০ টাকা প্লেট। মনে রাখবেন অবশ্যই মিষ্টি খেয়ে আসবেন। নিরঞ্জন মিষ্টান্নভাণ্ডার, মুসলিম সুইটস, রণজিৎ মিষ্টান্নভাণ্ডারসহ আরো কিছু মিষ্টির দোকান আছে এখানে। চমচম ও কালোজাম ১৬০ টাকা কেজি। সতর্কতা একটি বিষয় সবার জানা দরকার। সাঁতার না জানলে গোসল করার সময় পদ্মার বেশি গভীরে যাবেন না। আপনার একটু অসচেতনতায় ঘটতে পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা। //এআর  

মন চলো রূপের নগরে

বাংলাদেশের মানুষের কাছে সাহিত্য ও সংস্কৃতির রাজধানী হিসেবে পরিচিত কুষ্টিয়া জেলা। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত কুষ্টিয়া জেলা শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বাংলাদেশকে করেছে সমৃদ্ধ। এখানে জন্ম গ্রহণ করেছেন বাউল সম্রাট লালন, সুরকার ও কবি আজিজুর রহমান, কবি দাদ আলী, লেখিকা মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা, আবু জাফরসহ বহু বিখ্যাত ব্যাক্তিত্ব। প্রতিবছর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে ছুটে আসেন হাজারো পর্যটক।   ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে কুষ্টিয়ার বিশেষ আকর্ষণ বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের মাজার। তিনি এই কুষ্টিয়া জেলায়-ই জীবন কাটিয়েছেন। তার মাজার বর্তমানে বাউলদের আখড়া হিসেবে পরিচিত। লালন ভক্তের কাছে তাই অঞ্চলটি পুণ্যভূমি হিসেবে পরিচিত। শিলাইদহ কুঠিবাড়ি বহুদিন ধরেই মনে বড় ইচ্ছে ছিল রূপের নগর কুষ্টিয়া ভ্রমণের। তাই ঢাকা থেকে রওয়ানা হলাম। আমরা প্রথমে যাই শিলাইদহের কুঠিবাড়ি। কুঠিবাড়ি রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত স্থান। এখানে কবিগুরু অনেক গান ও কবিতা রচনা করেছেন। কবিপ্রেমীরা এখানে এসে কবির বহু স্মৃতি সম্পর্কে জানতে পারবেন। এটি বর্তমানে জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কুষ্টিয়া শহরের একপাশে অবস্থিত ঘোড়ার ঘাট পার হয়ে রিক্সা/ভ্যান/অটোযোগে শিলাইদহ কুঠিবাড়ি পৌছানো যায়। ঘোড়ার ঘাটের অন্য পাড় হতে কুঠিবাড়ি পৌছাতে সময় লাগে প্রায় ৩৫ মিনিট। ৩২ বিঘা জমি নিয়ে শিলাইদহ কুঠিবাড়ি আঙিনা। আড়াইতলা এ বাড়িটিতে রয়েছে ১৭টি কক্ষ। বাড়িটির কক্ষ ও বারান্দাজুড়ে প্রদর্শনীর জন্য রয়েছে কবির ব্যবহৃত ১টি পালঙ্ক, লেখার টেবিল, ইজি চেয়ার, নদীতে চলাচলের দুটি বোট `চঞ্চল`-`চপলা`, ৬ বিহারা ও ৮ বিহারার ২টি পালকি, লোহার সিন্দুক ১টি, খাজনা আদায়ের টেবিল ১টি, রোলার ১টি, আটকোনা টেবিল ১টি, গদি চেয়ার ২টি, সোফা ২টি, আলনা ১টি, কাঠের আলমিরা ৪টি, ফাইল কেবিনেট ১টি ঘাষকাটা যন্ত্র, পানি শোধন যন্ত্র ১টি, বিভিন্ন সময়ে কবিকে ঘিরে তোলা আলোকচিত্র, কবির নিজের আকা ছবি ইত্যাদি। মশাররফের বাস্তুভিটা আমরা সেখান থেকে গেলাম মীর মশাররফ হেসেনের বাস্তুভিটায়। কুষ্টিয়া শহরের অদূরে লাহিনীপাড়াতে মীর মশাররফ হেসেনের বাস্তুভিটা অবস্থিত। মীর মশাররফ হেসেনের ঘর-বাড়ি কিছুই নেই, আছে শুধু পৈত্রিক ভিটে। কুষ্টিয়া শহর থেকে রিক্সাযোগে সেখানে যাওয়া যায়। সময় লাগে প্রায় ৩০ মিনিট। আমরা কুঠিরবাড়ি হয়ে সেখানে গিয়েছি ব্যাটারিচালিত অটোতে করে। লালন শাহের মাজার মশরারফ হোসেনের বাস্তুভিটা থেকে গেলাম বাউল সম্রাট মরমি সাধক গুরু লালন ফকিরের মাজারে। ১৭ শতকের দ্বিতীয় ভাগ থেকে বাউল মতের উন্মেষ ঘটলেও এই মত ও পথকে জনপ্রিয় করে তোলেন মরমি সাধক গুরু লালন ফকির। বাউল সম্রাট লালন ফকিরই বাউল ধারণার একটি স্বতন্ত্র ধর্ম সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। কথা ছিল কুষ্টিয়া নেমে প্রথমে হোটেল যাবো। তারপর বিশ্রাম ও খাওয়া-দাওয়া। এরপর ঘুম। পরদিন সকালে সোজা সাঁইজীর মাজারে যাবো। কিন্তু কিছু অনিবার‌্য বাস্তবতায় সেটি আর হয়ে উঠেনি। এর একটি কারণ হচ্ছে আমরা ট্রেনে গিয়েছি। রাতের ট্রেনে গেলে পোড়াদহ নামিয়ে দিবে রাত ২টায়। তখন কুষ্টিয়া শহরে যাওয়া কষ্টকর। তাই ওখানেই রাত্রি যাপন করতে হয়েছে। অপরদিকে লালন উৎসবের সময় এ এলাকায় পর্যটকের সংখ্যা অনেক বেশি থাকে। তাই হোটেলও পাওয়া কষ্টকর। তবে আমরা পেয়েছিলাম কিন্তু সে জন্য ভাড়া গুনতে হয়েছে বেশি। সাধারণ সময় হোটেল দুই বেড পাওয়া যায় চারশ’ টাকার মধ্যে। এ সময় তা আটশ’ নেওয়া হয়। যাই হোক- ফিরে আসি লালন শাহর মাজারে। তার মাজার প্রাঙ্গণে যাওয়ার আগেই মনে মনে বেজে উঠল লালনের গান। তারপর তো একের পর এক গান চলে। গলা ছেড়ে না গেয়ে থাকতে পারলাম না। ভ্যানে করে গান গাইতে গাইতে চলে আসি সাইজির আখড়ায়। মাজার গেটের সামনে নেমেই ডানপাশে ছোট্ট একটা বাজার লক্ষ্য করলাম। প্রায় সব দোকানেই একতারা, দোতারা, লোকজ বাদ্যযন্ত্রের সমাহার। ভাবছিলাম আগে কিছু কিনব কিনা। শেষে ঠিক করলাম আগে গুরুর মাজার দেখা তারপর কেনাকাটা। গেট দিয়ে মাজার প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতেই আপনা-আপনিই একটা শ্রদ্ধাবোধ কাজ করছিল নিজের মধ্যে। চারদিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বেশ গোছালো। সামনে মাজার যেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছে মরমী সাধক গুরু লালন সাঁইজী। আরও কিছু সমাধী। বেশকিছু লালনভক্ত চেখে পড়ল। দর্শনার্থীদের কাছ থেকে যে বকশিস পায় তা দিয়েই তাদের চলে। মাজারের পাশে রয়েছে অডিটরিয়াম। বেশ উন্নত। পাশে একটা পাঠাগার ও জাদুঘরও রয়েছে। জাদুঘরে বেশকিছু লোকজ সংগ্রহশালার নিদর্শনসহ রয়েছে লালন ফকিরের ব্যবহৃত একটি একতারা। আমরা যখন গিয়েছিলাম তখন লালন উৎসব চলছিলো। সমাধির বাইরে বিশাল জায়গা নিয়ে চলছে লালন মেলা। ভক্তদের উপস্থিতি প্রচুর। স্টেজে চলছে গান। আমরা রাতে সেখানে গান শুনে আবার ফিরে আসলাম হোটেলে। রাতেই টিকেট কেটে রাখলাম বাসের। ঢাকায় আসার অসংখ্য গাড়ি আছে মজমপুর নামক স্থানে। সেখানেই আবাসিক হোটেলগুলো গড়ে উঠেছে। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ তবে যারা কুষ্টিয়া বেড়াতে আসবেন তারা একটু সময় হাতে নিয়ে আসবেন। কারণ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেল সেতু, পাকশী রেল সেতু কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় অবস্থিত। হার্ডিঞ্জ ব্রীজ সেতুর একটি স্প্যান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিমানের গোলায় ধ্বংস হয়ে যায়। কুষ্টিয়া এলে ইতিহাসের সাক্ষী এই রেলসেতুটি একবার স্বচক্ষে দেখে যেতে ভুলবেন না। রয়েছে লালন শাহ সেতু। বাংলাদেশের একটি গুরত্বপূর্ণ সেতু। সেতুটি কুষ্টিয়া জেলার পদ্মা নদীর উপর অবস্থিত। সেতুটি বাংলাদেশ ও জাপান যৌথভাবে নির্মাণ করে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের ইসলামী শিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। স্বাধীনতার পর মুক্ত বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। মুক্ত বাংলা ভাষ্কর্যটি এ বিশ্ববিদ্যালয়ে-ই অবস্থিত। কুষ্টিয়া শহর থেকে যশোর/খুলনা অভিমুখী যেকোন বাসে উঠলেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নামা যাবে। পৌছাতে সময় লাগে প্রায় ১ ঘন্টা। বিশাল জায়গা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টি একবার ঘুরে দেখতে দেখলাম। শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ আমাদের মুগ্ধ করে। শাহী মসজিদ কুষ্টিয়ার আরও একটি দৃষ্টিনন্দন ঐতিহ্য শাহী মসজিদ। মোঘল আমলে নির্মিত এ মসজিদটি এই অঞ্চলের ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতীক। কুষ্টিয়া শহর থেকে ঝাউদিয়া অভিমুখী মিনিবাস চলাচল করে। মিনিবাস থেকে ঝাউদিয়া বাজারে নেমে পাঁচ-সাত মিনিট পথ হাঁটলেই শাহী মসজিদ। পৌছাতে সময় লাগে প্রায় ১ ঘন্টা। পাঠক কুষ্টিয়া আসলে এসব স্থানগুলো দেখতে ভুল করবেন না। সেই সঙ্গে কুষ্টিয়ার বিখ্যাত কুলফি মালাইতো আছেই। অসাধারণ স্বাদের এ মালাই একটি খেলে আরও খেতে ইচ্ছে জাগবে। আসার সময় বাড়ির সবার জন্য নিয়ে আসতে পারেন কুষ্টিয়ার বিখ্যাত তিলের খাজা। আরও বলে রাখি। কুষ্টিয়ায় বেশকিছু মিষ্টির দোকান আছে। মজাদার এসব মিষ্টির দোকানে ঢুকে মিষ্টির স্বাদটাও নিতে পারেন। স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়, লালন একটি মিষ্টি খেতে পছন্দ করতেন। নাম ‘প্যারা’। যা এখনও পাওয়া যায়। খেয়ে দেখতে পারেন। তবে ভালো মিষ্টির দোকান থেকে চিনে খেতে হবে। এজন্য স্থানীদের কাছ থেকে শুনে নিতে পারেন কোন দোকানের মিষ্টি বেশি ভালো। আমরা খুব সকালে নাস্তা খেয়ে বাসে উঠে বসলাম। ঠিক সময় বাস ছেড়ে দিলো। দুই পাশের প্রকৃতি আমাদের বিদায় জানালো। অপরূপ সবুজের এই প্রকৃতি আপনার চেখের কোন ক্লান্তি আনবে না। দুপুরের মধ্যে পৌছে গেলাম ঢাকায়। কীভাবে যাবেন ঢাকার কমলাপুর রেলষ্টেশন থেকে যমুনা সেতু  হয়ে কুষ্টিয়া ট্রেনযোগে ভ্রমণ করা যায়। এই রুটের ট্রেনগুলোর মধ্যে চিত্রা, তূর্ণা ও সুন্দরবন এক্সপ্রেস এর মধ্যে অন্যতম। ঢাকা থেকে ট্রেনে পোড়াদহ। সেখান থেকে অটো বা সিএনজিতে কুষ্টিয়া শহর। এরপর রিক্সাযোগে যাওয়া যায় লালনের মাজারে। সময় লাগে প্রায় ১৫ মিনিট। তবে বাসেও যাওয়া যায়। //এস//এআর

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নগর দোহার-নবাবগঞ্জ

শহুরে জীবনের যান্ত্রিকতা ছেড়ে অনেকেই প্রকৃতির কাছাকাছি যেতে চান সতেজতা অনুভব করতে। কিন্তু ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও অনেকে সময় স্বল্পতার কারণে বেড়ানোর কথা ভাবতেই পারেন না। তবে রাজধানীর কাছাকাছি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত কোনো স্থান থাকলে স্বল্প সময়ে বেড়িয়ে আসতে পারেব। রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র দেড় ঘন্টা পথের দূরত্বে রয়েছে এমনি একটি স্থান। মাত্র একদিনে সুন্দর ও আনন্দময় ভ্রমণের জন্য স্থানটি ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে। বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে ঘুরে বেড়াতে চাইলে চলে আসুন রাজধানীর একেবারে পাশের উপজেলা নবাবগঞ্জে। ২৪৪ দশমিক ৮০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলার উত্তরে সিঙ্গাইর উপজেলা। দক্ষিণে দোহার উপজেলা। পূর্বে কেরানীগঞ্জ, সিরাজদিখান ও শ্রীনগর উপজেলা। পশ্চিমে হরিরামপুর ও মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা। প্রথমে আপনাকে আসতে হবে কলাকোপায়। নদী আর স্থাপনার সমন্বয় কলাকোপার মূল বৈশিষ্ট্য। ঢাকার খুব কাছেই দোহারের একটি গ্রাম কলাকোপা। পাশের গ্রাম বান্দুরা। ঢাকা মহানগর থেকে দেড় ঘন্টার পথ। বুড়িগঙ্গা দ্বিতীয় সেতু পার হয়ে কেরানীগঞ্জের উপর দিয়ে কায়কোবাদ সেতু টপকে রাস্তার দুপাশের সবুজ উপভোগ করতে করতে ইতিহাস সমৃদ্ধ এই প্রাচীন নগরে পৌঁছে যাওয়া যাবে। শুরুতেই বলে রাখি; এখানে বেশ কয়েকটি স্পট রয়েছে ঘুরে দেখার জন্য। তাই দিনে দিনে সবগুলো স্পট দেখতে চাইলে আপনাকে খুব সকালেই রওনা দিতে হবে। গুলিস্তান থেকে দোহার-নবাবগঞ্জগামী বাসে মাত্র ৭০ টাকা দিয়ে বসে পড়ুন। বাসে উঠে হেলপারকে বলবেন- জজ বাড়ির সামনে নামিয়ে দিতে। ইতিহাস-ঐতিহ্যের বিশাল এক ভাণ্ডার কলাকোপা-বান্দুরা। উনিশ শতকেও এখানে জমিদারদের বসতি ছিল। প্রায় ২০০ বছরের ইতিহাসসমৃদ্ধ গ্রাম কলাকোপা-বান্দুরা একসময় ব্যবসা-বাণিজ্যের তীর্থস্থান ছিল। এখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্য চোখ জুড়ানো। যার প্রাণ ইছামতি নদী। এখানে দেখার অনেক কিছুই আছে। একদিকে স্নিগ্ধ অপরূপ প্রকৃতি অন্য দিকে নানা পুরাণ কাহিনী। কোকিলপেয়ারী জমিদার বাড়ির পাশে উকিল বাড়ি। তারপর জমিদার ব্রজেন সাহার ব্রজ নিকেতন (যা এখন জজ বাড়ি নাম ধারণ করেছে)। ব্যবসায়ী রাধানাথ সাহার বাড়ি। শ্রীযুক্ত বাবু লোকনাথ সাহার বাড়ি (যার খ্যাতি মঠবাড়ি বা তেলিবাড়ি নামে)। মধুবাবুর পাইন্না বাড়ি, পোদ্দার বাড়ি এবং কালি বাড়ি। এখানে আরও আছে খেলারাম দাতার বিগ্রহমন্দির, মহামায়া দেবীর মন্দির। আর একটু দূরের হাসনাবাদে জপমালা রানীর গির্জা। ঐতিহ্যবাহী জজ বাড়ি : এটি নবাবগঞ্জের কলাকোপা নামক স্থানে অবস্থিত। একটি সুন্দর বাগান ঘেরা এবং বিশালাকৃতির এই জমিদার বাড়িটি মূলত জজ বাড়ি নামে পরিচিত। বাড়ির পাশেই রয়েছে শান বাঁধানো পুকুর। রয়েছে পোষা হরিণের একটি খামার। বাগানের হাজারো রকমের ফুল আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে অনায়াসে। জমিদার বাড়িটি অতি প্রাচীন কালের ঐতিহ্যবাহী নকশায় তৈরি। যা আপনাকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও পুরোনো দিনের কথা মনে করিয়ে দিবে। কোকিল প্যারি জমিদার বাড়ি : এই জমিদার বাড়িটি জজ বাড়ির ঠিক পাশেই অবস্থিত। বলা যেতে পারে এটি জজ বাড়ির ওল্ড ভারসন। জজ বাড়ি বিভিন্ন সময়ে সংস্কার করা হলেও এটি রয়ে গেছে সেই আগে যেমনটি ছিল। এই জমিদার বাড়িতেও রয়েছে শত শত দৃষ্টিনন্দন ফুলের গাছ আর বাড়ির ঠিক সামনে রয়েছে বিশালাকৃতির স্বচ্ছ পানির পুকুর। রয়েছে বিশালাকৃতির পুকুর ঘাট। বৌদ্ধ মন্দির : এই বৌদ্ধ মন্দিরটি কোকিল প্যারি জমিদার বাড়ির ঠিক বাইরে অবস্থিত। মন্দিরটির ভেতরে একটি ভাঙা মুর্তি আছে। কথিত আছে ১৯৭১ সালে পাক বাহিনী এই মুর্তিটি ভেঙে রেখে গিয়েছিল। খেলালামদার বাড়ি (আন্ধার কোঠা) : এটি এক সময় সকলের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। কিন্তু সংস্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এটি এখন প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত। এখনো মাটির উপর দুইতলা একটি জড়াজীর্ণ ভবন দেখতে পাবেন। কথিত আছে এই পাঁচতলা ভবনটি এক রাতে তিনতলা পর্যন্ত মাটির নিচে চলে গিয়েছিল। ভবনটির উপরের তলাতে একটি বড় চৌবাচ্চা আছে। কথিত আছে জমিদার খেলালামদা এর মা একদিন তার সন্তানের কাছে দুধ খেতে চাইলে তিনি তার মায়ের জন্য এই চৌবাচ্চা বানানোর নির্দেশ দেন। পরে সেই বিরাট চৌবাচ্চায় দুধ এবং কলা দিয়ে পূর্ণ করে তার মাকে সেই চৌবাচ্চায় নামিয়ে দেন। তার মা সাতার কেঁটে কেঁটে মনের সাধ মিটিয়ে দুধ পান করেছিলেন। এই বাড়িটির পাশেও একটি বিরাট পুকুর আছে। কথিত আছে এই পুকুরের পাশে এসে কেউ কিছু চাইলে তার পর দিন তাই মিলে যেত। কলাকোপা আনসার ক্যাম্প : জজ বাড়ির কাছেই কলাকোপা আনসার ক্যাম্প অবস্থিত। এটিও একটি দৃষ্টিনন্দন স্থান। ছায়া সুনিবিড় সুন্দর একটি পরিবেশ। পিকনিক স্পট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আনসারদের বসবাসের জন্য অনেক বড় একটি এলাকা নিয়ে গড়ে উঠেছে এই নয়নাভিরাম ক্যাম্পটি। এখানে বেশ কয়েকটি পুরোনো ঐতিহ্যবাহী ভবন রয়েছে। ইছামতি নদী : এই নদীটিকে ঘিরে সেই আগের মত প্রাণ চাঞ্চল্য না থাকলেও সূর্যাস্তের সময় আপনি মুগ্ধ হয়ে এর রূপ অবলোকন করতে সক্ষম হবেন। ভাঙা মসজিদ : কথিত আছে এই মসজিদটি এক রাতে গায়েবীভাবে সৃষ্টি হয়েছিল। যে রাতে এটি সৃষ্টি হয়েছিল সেদিন ভোরে কোনো এক লোক এই মসজিদটি প্রথম আবিষ্কার করেন। কিন্তু তখন পর্যন্ত এটি সম্পূর্ণ সৃষ্টি হতে পারেনি। মানুষের চোখে পড়ে যাওয়ায় এটি সেরকম অসম্পূর্ণই থেকে যায়। এর একটি অংশ ভাঙা থাকার কারণে এটি ভাঙা মসজিদ নামেই পরিচিত। সাত মাথার মূর্তি : এটি মাঝির কান্দা নামক স্থানের অদূরে অবস্থিত। একটি বিরাট বটগাছের নিচে এই মুর্তিটি নির্মাণ করা করেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা। প্রতি বছর এই মূর্তিকে ঘিরে পূজা এবং মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। বান্দুরা গির্জা : অনেক বিশাল এলাকা নিয়ে গড়ে উঠেছে এই গির্জাটি। গির্জার ভেতরের দিকটা বেশি আকর্ষণীয় এবং সামনে একটি বিশাল খোলা মাঠের সৌন্দর্য হাজারগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। গির্জাটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে কিছু খ্রিস্টান মিশনারী ক্যাম্প।  

ঘুরে আসুন পান্থমাই

প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের জন্য ঘোরাঘুরি করতে ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়াই কঠিন। অনেকে ভ্রমণের নেশায় দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের দর্শনীয় স্থানের টানে ছোটেন। অথচ দেশের ভিতরেই এমন কিছু স্থান আছে যেখানে আপনি চাইলে সহজেই ঘুরে আসতে পারেন। মনকাড়া, দৃষ্টিনন্দন এসব স্থান ঘুরতে একদিকে যেমন আপনার টাকা বাঁচবে অপরদিকে আপনি পাবেন বিনোদন। নজরকাড়া এমনই একটি স্থান হলো সিলেটের পান্থমাই। এখানে প্রতিদিনই দেশের নানা প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ঘুরতে আসেন। ইচ্ছে করলে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন স্ব-পরিবার নিয়ে। জেনে নিন পান্থমাই সম্পর্কে- পান্থমাই : পান্থমাই ঝরনা ভারতে অবস্থিত। এটি ভারতে অবস্থিত হলেও এর সৌন্দর্য পুরোটাই বাংলাদেশ থেকে দেখা যায়। এর অসম্ভব সৌন্দর্য দেখে আপনি অভিভূত হবেন। ঝরনার বৈশিষ্ট্য: পান্থমাই ঝরনা পাহাড়ি ঢল বেয়ে পাথরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। এসময় এটি বেশ গর্জন করতে থাকে। ঝরনার পুরো পানিটাই বাংলাদেশে প্রবাহিত হয়। ঝরনা থেকে গড়িয়ে পড়া পানিতেই তৈরি হয়েছে ছোট নদী। স্থানীয়রা এ নদীকে ছড়া বলেন। আর পান্থমাই জলপ্রপাত এ দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন বলে একে ফাটা ছড়া বা ঝরনা বলা হয়। এছাড়া পান্থমাই গ্রামের চারপাশ খুব চমৎকার। ভ্রমনের সময় আপনাকে বাড়তি আনন্দ দেয় এগুলো। এখানে রয়েছে বড় একটি খেলার মাঠ। যেভাবে যাবেন : রাজধানী ঢাকাসহ দেশের যেকোনো জেলা থেকে যেতে হবে সিলেট শহরে। শহরের বিমানবন্দর রোড দিয়ে অটোরিকশায় পান্থমাইয়ের পথ। ভাড়া করার সময় অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হচ্ছে কিনা অবশ্যই খেয়াল রাখবেন। রাত যাপন : পান্থমাই থাকার তেমন ভালো ব্যবস্থা না থাকলেও সিলেট শহরে অনেক হোটেল-মোটেল রয়েছে। ৩শ’ থেকে শুরু করে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত রুম ভাড়া পাওয়া যায়।  এগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থাও ভালো। খাওয়া-দাওয়া : আপনি চাইলে পান্থমাই যাওয়ার সময়ই সিলেট থেকে খাবার নিয়ে যেতে পারেন। ওখানে বাজার থাকলেও দুপুরে খাওয়ার তেমন ভালো ব্যবস্থা নেই। তবে সেখানে স্থানীয়দের রান্না করা রেস্টুরেন্টে যেতে পারেন, কম খরচে ভালো খাবার পাবেন। আর/ডব্লিউএন      

সবুজ প্রকৃতির ছোঁয়া পেতে ঘুরে আসুন বাংগুরী

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বাংগুরী গ্রাম। ঢাকার ধামরাই উপজেলা ও টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা সহোদরা গ্রাম। প্রতিটি মৌসুমে প্রকৃতির রূপ বদলের সাক্ষী হতে নিজের রং-রূপও বদলে নেয় এই গ্রাম। বৈশাখের আম্রমুকুলের ঘ্রাণে মাতোয়ারা, কৃষ্ণচূড়ার লালে সাজে। মাঠ সবুজ হয়ে ওঠে বোরো ধানের সবুজে। শীতে সেই মাঠ পরে সরষের হলুদ শাড়ি। সেই হলুদ বসন থেকে বাতাসে ভেসে আসে সুগন্ধ। ঘুম ভাঙ্গে পাখির কিচির মিচির আর কলতানে। প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশ বাংলার রূপ প্রকৃতি  ফিরে আসতে চান বারবার এমন কোন গ্রামে, যেখানে লক্ষ্মীপেঁচা ডাকে শিমুলের ডালে, সন্ধ্যার বাতাসে ওড়ে সুদর্শন, সবুজ করুণ ডাঙা জলাঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা থাকে। পায়ে লাল ঘুঙুর পরা কিশোরী হয়ে কলমীর গন্ধভরা জলে ভাসতে ভাসতে হাঁস হতে চান কবি। কার্তিকের নবান্নে কুয়াশার বুকে ভেসে ভোরের কাক, শালিক, ধবল বক কিংবা শঙ্খচিল হয়েই আবার ধানসিঁড়ির তীরে ফেরার ইচ্ছা সেই কবির।  কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেও মন ভুলিয়ে দিত আজ আমরা তেমন এক সুনসান নীরব গ্রামের কথাই বলব। যেখানে প্রকৃতি তার সব সুন্দর নিয়ে বসে আছে পরিব্রাজকের মন জোগাতে। সেই সময় কোনো এক অচিন পরিব্রাজকেরও ইচ্ছে করে ওই হলদে জমিনে লুটিয়ে পড়ে ভোরের শিশিরভেজা সরষে ফুলের রেণু মাখতে। এখনকার রূপ ভিন্নতর। সময়টা ভাদ্রের শরৎ হলেও বর্ষা এখনো প্রকৃতিকে ছেড়ে যায়নি। চারদিকে জল থই থই করে । রাস্তাঘাট জলের নিচে। মাঝির বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দে এগিয়ে চলে নৌকো চিরচেনা গ্রামের দিকে। অর্ধডুবন্ত বাড়িঘরের সম্মুখে খড়ের গাদা, তার পাশেই জল ছুঁই ছুঁই গরুর গোয়াল, পাশেই যোগাযোগের বাহন কোষা নৌকা। নয়নজুড়ানো এমন দৃশ্য দৃষ্টির সীমানায় আসতেই মননে মগজে শৈশব ভিড় করে। বর্ষার ভরা জলে কবি বন্দে আলীর মিয়ার-  ‘আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান/ আলো দিয়ে বায়ু দিয়ে বাঁচাইছে প্রাণ/ মাঠ ভরা ধান তার জল ভরা দিঘি/ চাঁদের কিরণ লেগে করে ঝিকিমিকি!’-ছড়া কাটতে কাটতে দিনমান ডুবসাঁতারে চোখ লাল করে ফেলার পর সন্ধ্যায় মায়ের বকুনিতে রাত নামে। বর্ষায় মিষ্টি পানির মৎস্য আহরণ দেখবেন না তা তো হয় না।যার জালে যত বেশি মাছ, তার মুখে হাসি তত চওড়া। চাইলে এই গ্রামে ঢোকার পথেই মাথাভাঙ্গা বিলের পাশের কোনো এক বাড়িতে অর্ডার দিয়ে কাচালঙ্কা সহযোগে ফুটি, মলা, খলসে, কই, টেংরা, মেনি, কাকিলা বা বড় রুই-কাতলার মুচমুচে ভাজাও খেয়ে নিতে পারবেন। গ্রামের পশ্চিম পাশের সীমানায় বর্ষায় সৃষ্ট অস্থায়ী জলাধারে। দেখলে মনে হবে যেন এক গহীন  বিল। খানিক দূরে কলাগাছের ভেলায় করে শামুক কুড়োচ্ছে গ্রাম্যবালা। আশপাশে শাপলা ফুলের মৌনতা। শাপলা সাধারণত সকালে ফোঁটে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে গুটিয়ে নেয়। হয়তো কড়া রৌদ্রের ছোঁয়াচ ওদের ভালো লাগে না। প্রকৃতিও এখানে দারুণভাবে ধারণ করে বাংলাদেশের লাল সবুজ রং। বর্ষার জল সুধায় সেজে ওঠে বিস্তীর্ণ সবুজ ধানক্ষেত। জেলের নৌকার ছইয়ে থাকে উদীয়মান সূর্যের লাল রং। আর এভাবেই জনপদে আঁকা হয়ে যায় আমাদের প্রাণের বাংলাদেশ। মেঘের ক্যানভাসে জল, নৌকা, শাপলা, ধানের সবুজ পত্রপল্লব ও বিমুগ্ধ করবে যেকোনো পরিব্রাজককে ।বর্ষার সবুজ আর শরৎ মেঘের মেলবন্ধন দেখতে চাইলে ছুটতে হয় এমন গ্রামের স্বর্গেই। আর কণ্ঠে তখন নিশ্চয় অনুরণন তুলবে নির্মলেন্দু গুণের ‘হুলিয়া’- দীর্ঘ পাঁচ বছর পরিবর্তনহীন গ্রামে ফিরছি আমি সেই একই ভাঙাপথ, একই কালো মাটির আল ধ’রে গ্রামে ফেরা আমি কতদিন পরে গ্রামে ফিরছি। এমন মনোমুগ্ধকর গ্রাম যেখানে কান পাতলেই মেলে বাতাসে আন্দোলিত গাছের শব্দ, ভাটিতে জল বয়ে চলার শব্দ, মেঘের গর্জন, পাখপাখালির ডাক। এসবের মিলিত শব্দ  যেন সংগীত হয়ে বাজে।  আর দৃষ্টি জুড়ায় অসীম আকাশ। স্বচ্ছ সফেদ জলরাশি ও শস্য সবুজে গ্রামীণ মানুষের যাপিত জীবন দেখতে হলে বর্ষার গ্রাম একবার হলেও দেখা চাই। এমন গ্রাম রবিঠাকুরের মতো করে পায়ে ধরে আপনাকে ঘরের বাহির না করতে  পারে?  তাহলে কবি জসীমউদ্দীনের ‘নিমন্ত্রণ’ থাকল ভ্রমণপিপাসু আপনাকেও :  তুমি যাবে ভাই যাবে মোর সাথে আমাদের ছোট গাঁয়  গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়;  মায়া মমতায় জড়াজড়ি করি  মোর গেহখানি রহিয়াছে ভরি,  মায়ের বুকেতে, বোনের আদরে, ভায়ের স্নেহের ছায়... যাতায়াত ঢাকার মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রভাতী বনশ্রী পরিবহন বা টাঙ্গাইলের দূরপাল্লার যেকোনো বাসে কালিয়াকৈর নামতে হবে। ভাড়া নেবে ১০০ টাকার মতো।কালিয়াকৈর থেকে শ্রীফলতল, বলিয়াদি, দেওয়াইর বাজার হয়ে সাত কিলোমিটার গেলেই বাংগুরী গ্রাম। বাসস্ট্যান্ডে দুই আড়াইশ টাকায় সিএনজিও পাওয়া যাবে। আর ব্যক্তিগত পরিবহনে বাসের রুট ছাড়াও ঢাকার ধামরাই থেকে ধানতারা বাজার হয়ে বাংগুরী গ্রামে যাওয়া যাবে। বর্ষার জলে রাস্তা তলিয়ে যাওয়ার কারণে এই সময় কালিয়াকৈর থেকে বংশাই নদীপথে নৌকাই হতে পারে উপযুক্ত বাহন। পানি নেমে গেলে প্রাইভেট কার বা সিএনজিতে পৌঁছানো যাবে। ঢাকা থেকে এই গ্রামের দূরত্ব মাত্র ৬৫ কিলোমিটারের মতো। কাজেই ভ্রমণ শেষে ঢাকা ফেরা যাবে অথবা থাকতে চাইলে কালিয়াকৈরের সোহাগপল্লী, রাঙামাটি ওয়াটার ফ্রন্ট বা আনন্দ রিসোর্টের মতো আধুনিক মানের বেশ কয়েকটি রিসোর্টেও পরিবার পরিজন নিয়ে রাত্রি যাপন করতে পারবেন । কেআই/ডব্লিউএন

বিদেশ ভ্রমণ করতে চান, ভিসার খোঁজ করুন এই ওয়েবসাইটে

বিদেশে অভিবাসন, পড়াশোনা, কাজ কিংবা ভ্রমণের ভিসার জন্য প্রতিবছর অনেকেই আবেদন করেন। ভিসা আবেদনে বহু কাঠখোড় পোহাতে হয়। সেই ভোগান্তি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ারও উপায় আছে। বর্তমানে দরকারি সব তথ্যই পাওয়া জানা যায় অনলাইনে। ঠিকঠাক জেনে আবেদন করলে আর হয়রানির শিকার হতে হবে না। যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ কিংবা ব্যবসার জন্য দুই ক্যাটাগরির ভিসা আছে—বি১ ও বি২। বি১ ব্যবসার কাজে, বি২ ভ্রমণের জন্য। এই ক্যাটাগরির ভিসা নিয়ে দেশটিতে কোনো কাজ, পড়াশোনা, এমনকি সাংবাদিকতাও করা যাবে না। আরো জানতে ক্লিক করুন— https://travel.state.gov/content/visas/en/visit/visitor.html যুক্তরাজ্যে ভ্রমণ কিংবা স্বল্প মেয়াদি ভিসার তথ্য জানা যাবে www.gov.uk/browse/visas-immigration/tourist-short-stay-visas লিংক থেকে। ভারতের ভ্রমণ ভিসা পেতে হলে কী কী লাগবে, কোথায় কিভাবে আবেদন করতে হবে—জানা যাবে www.ivacbd.com সাইটে। থাইল্যান্ডের ভিসা পেতে আবেদন করতে হয় ভিএফএস গ্লোবালে (www.vfsglobal.com/Thailand/Bangladesh)।এ ছাড়া বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের ওপর যাবতীয় সব তথ্য পাওয়া যাবে সাইটগুলোতে— walkit.com   //এআর

ঘুরে আসুন কালেঙ্গা জঙ্গলে

প্রতিদিনের একই জীবনযাপনে বৈচিত্র আনতে ভ্রমণের কোনো বিকল্প নেই। ভ্রমণ জীবনে যে শুধু বৈচিত্র আনবে তা নয়, বরং আপনাকে মানসিকভাবে রাখবে প্রাণবন্ত। সামনে আছে পূজোর ছুটি। ঘুরে আসতে পারেন সিলেটের রেমা-কালেঙ্গা জঙ্গল থেকে। যা দেখতে পাবেন এই অভয়ারণ্যে আছে প্রায় ৬৩৮ প্রজাতির উদ্ভিদ, গাছপালা ও লতাপাতা। এখানকার উদ্ভিদগুলোর মধ্যে আওয়াল, সেগুন, কাঁকড়, নেউড়, হারগাজা, গন্ধরই, হরীতকী, বহেরা, জাম ডুমুর, কাঁঠাল, চামকাঁঠাল, কাউ, কদম, রাতা, চিকরাশি, চাপালিশ, নিম, বনমালা ইত্যাদি অন্যতম। এছাড়াও ৭ প্রজাতির উভচর প্রাণি, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ ও ১৬৭ প্রজাতির পাখি। এর উল্লেখযোগ্য হল ভিমরাজ, পাহাড়ি ময়না, কাও ধনেশ, বনমোরগ, ফোটা কান্টি সাতভারলা, শ্যামা, শালিক, শামুক খাওরি, টুনটুনি ইত্যাদি। এছাড়াও আছে প্রায় ৩৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী। উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- কালো বন্যশূকর, সাদা বন্যশূকর, বানর, হনুমান, মুখপোড়া হনুমান, খরগোশ, ছোট হরিন, মেছোবাঘ, মেছোবিড়াল প্রভৃতি। ভাগ্য ভালো থাকলে অনেকের সাথেই দেখা হয়ে যেতে পারে আপনার। যতই জঙ্গলের গভীরে ঢুকবেন ততই নিজেকে অন্য এক সবুজ জগতে আবিষ্কার করবেন। যেভাবে ঘুরে দেখবেন এই অভয়ারণ্যে ঘুরে দেখতে আপনি তিনটি ট্রেইল বা পথ ব্যবহার করতে পারেন। ত্রিশ মিনিট, এক ঘণ্টা, তিন ঘণ্টার ট্রেইল বা পথের মধ্যে যেকোনোটি বেছে নিতে পারেন। কিছুদূর এগিয়ে গেলে দেখতে পাবেন রেমা কালেঙ্গায় শাহাদাতবরণকারী বীর উত্তম আবদুল মান্নান সাহেবের কবর। তিনি এখানে সম্মুখ যুদ্ধে নিহত হয়েছেন। গভীর বনে গিয়ে দেখা পেতে পারেন বন মোরগের ডিমের। অথবা নাকে লাগতে পারে ঝাঁজালো গন্ধ, যা হলো কোনো বিষাক্ত সাপের শ্বাস-প্রশ্বাস। দেখা পাবেন অসম্ভব সুন্দর একটি লেক। লেকের চারপাশ এতই প্রাকৃতিক যে মনেই হবে না এটা কৃত্রিম। বন্যপ্রাণীদের খাবার পানির চাহিদা মেটাতেই এটি তৈরি করা হয়েছে। লেকের পাশে রয়েছে একটা ওয়াচ টাওয়ার। ইচ্ছে করলে উঠে যেতে পারবেন টাওয়ারে। ওপর থেকে পুরো বনভূমি দেখার মজাই আলাদা। যত দূরে চোখ যাবে শুধুই প্রত্যক্ষ করবেন দুর্ভেদ্য জঙ্গল। বনের আকার আয়তন রেমা, কালেঙ্গা আর ছনবাড়ির এক হাজার ৭৯৫ হেক্টর জঙ্গল নিয়ে রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। ১৯৮১ সালে এই রিজার্ভ ফরেস্টের এক হাজার ৯৫ হেক্টর এলাকাকে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৬ সালে বনের আরো কিছু জমি বৃদ্ধি করে মোট এক হাজার ৭৯৫ হেক্টর এলাকাকে অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই বনে তিনটি আধিবাসী সম্প্রদায়ের বসবাস। ত্রিপুরা, সাঁওতাল, উড়ং—এই তিন সম্প্রদায় মিলেমিশে এখানে বসবাস করছে যুগ যুগ ধরে। যেভাবে যাবেন রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্যে দু’ভাবে যাওয়া যায়। প্রথম উপায়ে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বাস কিংবা ট্রেনে চড়ে যেতে হবে শায়েস্তাগঞ্জ। সেখান থেকে অটোরিকশা চেপে যেতে হবে কালেঙ্গা। বাসে শায়েস্তাগঞ্জের ভাড়া আড়াইশ থেকে চারশ টাকা। শায়েস্তাগঞ্জে বিরতি দেয় সিলেটগামী আন্তনগর ট্রেন উপবন এক্সপ্রেস। বুধবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন রাত ১০টা মিনিটে ছাড়ে এই ট্রেন। ভাড়া ১৭০ থেকে ৬৭৩ টাকা। শায়েস্তাগঞ্জ থেকে কালেঙ্গার ট্যাক্সি ভাড়া ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। কালেঙ্গা যাওয়ার আরেকটি পথ হলো— ঢাকা থেকে বাস কিংবা ট্রেনে শ্রীমঙ্গল। সেখান থেকে জিপে চড়ে কালেঙ্গা। জঙ্গলের ভিতর দিয়ে এ পথ হওয়ায় অনেকেই এই পথটি ব্যবহার করেন। সবুজাবৃত বলের ভেতর দিয়ে জীপ নিয়ে যেতে আপনার ভালই লাগবে আশা করা যায়। এসএইচ/ডব্লিউএন

নীল জলের লালখাল ডাকছে হাতছানি দিয়ে

প্রকৃতির সৌন্দর্য পরিদর্শনে আগ্রহ নেই এমন মানুষ খুব কমই রয়েছেন। আর তা যদি হয় নীল জলের লালখালের মতো নয়নাভিরাম দৃশ্য, তবে তো সৌন্দর্য পিপাসুদের আগ্রহের শেষ থাকে না। কারণ বৃষ্টির সময় নীল জলের লালখাল যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে প্রকৃতিপ্রেমী আর সৌন্দর্য পূজারী পর্যটকদের। একেক ঋতুতে একেকরকম তার সৌন্দর্য, তবে বর্ষাতে এক ভিন্ন রূপের দেখা মেলে লালখালে। শুধু লালখালের সৌন্দর্য নয়, এখানকার ভ্রমণে মিলতে পারে চা বাগানের মায়াবী দৃশ্য, সিলেট সীমান্ত থেকে অতি সন্নিকটে ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জি, সারা পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপ্রবণ এলাকা এবং জইন্তা পাহাড় থেকে নেমে আসা জলধারা। মাত্র ৯শ’ টাকার বিনিময়ে এই মনোরম লালখালে হতে পারে আপনার নিরাপদ ভ্রমণ। উৎপত্তি : ভারতের পারায়ার তর সারং ঝর্ণা থেকে প্রবাহিত জলধারাই এই লালখাল এবং সারি নদীর পানির উৎস। অনেকে বলেন, এই সারং ঝর্ণা হতেই সারি নদীর নামকরণ করা হয়েছে। লালখালের নীলাভ-সবুজ জলের মোহময়ী রূপ, তার সঙ্গে দুই পাশের ছোট ছোট চিরহরিৎ টিলা, আর পুরোটা জায়গাজুড়ে মাথার উপর নীলাকাশ, আপনাকে মুগ্ধ হতে বাধ্য করবে। চোখ জুড়াবে যা দেখে : লালখালে ঘুরতে গিয়ে চোখে পড়বে দূরে মেঘালয়ের পাহাড়গুলো। সারি নদীর পান্না সবুজ পানি, বালুবোঝাই নৌকা, মাঝেমধ্যে গ্রামীণ মানুষের কর্মব্যস্ততা, নদীকেন্দ্রিক মানুষের জীবনযাত্রা, যা সবই উপভোগ্য হবে লালখাল যাত্রায়। স্বচ্ছ রঙিন জলরাশি আর দু’ধারের অপরূপ সৌন্দর্য, নৌকা ভ্রমণ যেকোনো পর্যটকের কাছে আকর্ষণীয়। তেমনি এক নির্জন মনকাড়া স্থান লালখাল। আপনি দেখতে পাবেন নদীর পাড়ের মানুষের জীবনধারা। সঙ্গে আছে লালখাল চা বাগান। এখানকার মানুষের জীবন খুব সাধারণ নাগরিকতার নষ্ট ছোঁয়া তাদের স্পর্শ করেনি। কীভাবে যাবেন : লালখালে যেতে হলে ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনযোগে সিলেট যেতে পারেন, ভাড়া ২৫০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। পরে মাইক্রোবাস ভাড়া করে সরাসরি যেতে পারবেন সারিঘাটে, ভাড়া পড়বে দুই হাজার টাকা থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা। অথবা সিএনজি করে সিলেটের শিশু পার্কের সামনে থেকে লেগুনা অথবা জাফলংয়ের বাসে চেপে সিলেট-তামাবিল সড়ক ধরে যেতে হবে সারিঘাট, ভাড়া নেবে ৫০ থেকে ২০০ টাকা করে প্রতিজন। সাবধানতা : যেকোনো ভ্রমণে নিরবচ্ছিন্ন আনন্দ উপভোগের জন্য প্রয়োজন দুর্ঘটনা এড়ানো। অদ্ভুত নীল পানি আর ঘন জঙ্গলে বেষ্টিত লালখালে গেলে তাই চাই বাড়তি সতর্কতা। পানিতে নামার সময় খেয়াল রাখবেন, পানির গভীরতা কতটুকু? প্রয়োজনে গাইড কিংবা সঙ্গে যাওয়া কারো সঙ্গে পরামর্শ করা যেতে পারে। আর ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে নিতে হবে বাড়তি সতর্কতা! সন্ধ্যার আগে-পরে তাদের পানিতে না নামাই ভালো। স্থানীয়দের মুখে প্রচলিত আছে, অনেক শিশুকেই নাকি বাকপ্রতিবন্ধী হতে হয়েছে। মাঝেমধ্যে নানা অসুখও হয়ে থাকে সতর্কতা অবলম্বন না করার ফলে। নদীপথে সন্ধ্যায় নির্জন এলাকা পাড়ি দেওয়াটা সব সময় নিরাপদ নাও হতে পারে। এ জন্য সতর্ক থাকতে হবে। আরকে/ডব্লিউএন

ঈদের আনন্দ যেন বান্দরবানে

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবানে ভ্রমণপিপাসুদের আনাগোনা থাকে বছরের বিভিন্ন সময়। তবে পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে ঈদের সময় বাড়তি চাপ থাকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের। ঈদকে কেন্দ্র করে জেলার আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটগুলো এবং জেলার আশপাশের হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, রেস্টহাউজ এবং গেস্টহাউজগুলোও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সাজানো হয়। হয়রানি বন্ধে পর্যটকদের সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় প্রশাসন। এবার ঈদের সরকারি ছুটি শেষ হলেও পর্যটকদের কমতি নেই এখনও। প্রতিবছর ঈদকে সামনে রেখে বান্দরবানে পর্যটকদের আগমন ঘটে। এরই মধ্যে জেলা সদরের বেশির ভাগ হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট এবং গেস্টহাউস ভরে গেছে তাদের পদচারণায়। মোটেল মালিকরা জানান, এখানে পর্যটকদের বাড়তি চাপ থাকবে সপ্তাহজুড়ে। বান্দরবানে প্রকৃতির নির্মল ছোঁয়া পেতে ছুটে আসছেন পর্যটকরা। পাহাড়ের ঝর্ণা, প্রাকৃতিক লেক, ঝুলন্ত সেতু, বাদুর গুহা, দেবতা পাহাড়, আলীর সুরঙ্গ এবং সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গসহ রয়েছে অসংখ্য পাহাড়। বাংলার দার্জিলিং খ্যাত চিম্বুক পাহাড় এবং স্বপ্নীল নীলগিরি পর্যটন স্পটে গিয়ে মুগ্ধ পর্যটকরা। এছাড়া জেলা সদরের বালাঘাটায় নির্মিত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান বৌদ্ধ ধাতু স্বর্ণ জাদি পর্যটনের ক্ষেত্রে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। আর পাহাড়ে বসবাসরত মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, বম, তঞ্চঙ্গ্যা, খুমি, খেয়াং, পাঙ্খো, চাকমা, চাক এবং লুসাইসহ ১৩টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বসবাসের বৈচিত্র্যময় জীবনচিত্র পর্যটকদের কাছে বাড়তি পাওয়া। এখানকার রিসোর্ট, আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছরই ঈদের ছুটিতে বান্দরবানে পর্যটকদের ঢল নামে। পর্যটকদের থাকা-খাওয়ার শতভাগ সুযোগ-সুবিধা রয়েছে এখানে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। এরই মধ্যে আবাসিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট এবং গেস্টহাউজগুলো মোটামুটি ভরপুর থাকছে সব সময়। যেভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে প্রতিদিন বান্দরবানের উদ্দেশ্যে গাড়ি ছেড়ে যায়। রাজধানীর সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল মোড় খেকে এসব গাড়িগুলো পাবেন। অথবা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম গিয়ে সেখান থেকে সরাসরি বান্দরবানের গাড়ি পাওয়া যায়। আর/ডব্লিউএন  

দেখে আসুন জৈন্তাপুর ডিবির বিল

লতা-পাতা গুল্মে ভরা বিলের পানিতে শত সহস্র ফোটা লাল শাপলা যেন হার মানায় সূর্যের আভাকেও। সবুজ পাতার আচ্ছাদনে ঢাকা পড়েছে বিস্তীর্ণ জলরাশি। লাল শাপলার হাঁসি যেন মনের বন্ধ দুয়ার খুলে দেয়। আর এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে সাক্ষাত পেতে হলে আপনাকে যেতে হবে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত পাশাপাশি চারটি বিলে। সেখানে গেলেই দেখা মিলবে চোখজুড়ানো এমন দৃশ্যের। এ রকম অপরূপ সাজে সেজে রয়েছে বিলগুলো। স্থানীয়দের কাছে এই বিল পরিচিত ‘ডিবি বিল’নামে। বিলগুলোর নাম হচ্ছে ডিবি বিল, কেন্দ্রী বিল, হরফকাটা বিল ও ইয়াম বিল। চারটি বিলের অবস্থান বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে। গন্তব্য স্থলে পৌঁছালে দূর থেকেই দেখবেন সবুজের মধ্যে অসংখ্য ক্ষুদ্র লাল বৃত্ত। দূরত্ব কমার সঙ্গে সঙ্গে একসময় স্পষ্ট হয়ে উঠবে আগাছা আর লতা-পাতা গুল্মে ভরা বিলের পানিতে শত সহস্র লাল শাপলা। দেখে মনে হবে, পুব আকাশে সূর্যের লাল আভা যেন হার মেনেছে রক্তিম শাপলার কাছে। বিলের মাঝে আগাছা আর লতা-পাতায়, বিলের হাজারো শাপলা, চোখ জুড়ায় পথচারীদের। বিলের যতই কাছে যাওয়া যায়, ততই বাড়তে থাকে লালের আধিক্য। প্রায় ৭০০ একর জায়গায় বিস্তৃত চারটি বিলের পুরোটাই ঢাকা পড়েছে শাপলায়। প্রস্ফুটিত শাপলা ফুল দেখতে অনেকটা আলোকরশ্মির মতো। এসব শাপলা ফুটে রাতের স্নিগ্ধতায় আর দিনের আলোতে আস্তে আস্তে বুজে যায়। একটি শাপলার স্থায়িত্ব প্রায় সাতদিন পর্যন্ত থাকে। চাইলে আপনি ডিবির হাওরে নৌকায় নিয়ে ঘুরতে পারেন। হওরে নৌকায় ঘোরার মজাই আলাদা। এখানে দেখতে পাবেন বিল অঞ্চলের মানুষের জীবনধারা। এখানকার মহিলারা হাতের কাজ করে। তারা বাঁশের টুকরি, ডালা, কুলাসহ সব ধরনের বাঁশের কাজ করে। আর এই বাঁশগুলো বাংলাদেশ ভারত সীমান্তের কাছে পাওয়া যায়। বিলবাসী মানুষের জীবনধারণ বিচিত্র ডিবি হাওর এলাকায়। যেভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে প্রতিদিন সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল এবং মহাখালী থেকে অসংখ্য গাড়ি ছেড়ে যায়। সিলেট শহরে নেমে বন্দর বাজার পয়েন্ট থেকে জৈন্তাপুর বাজারে যেতে হবে আপনাকে। এর কিছুদূর গেলে দেখা যাবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ডিবির হাওর বিশেষ ক্যাম্প। ওই পথ ধরে কিছু দূর গেলে দেখা মিলবে বিলের। বাস, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকারে সময় লাগবে এক ঘণ্টা। প্রয়োজনীয় তথ্য: বিলের আসল সৌন্দর্য দেখতে হলে রোদের তীব্রতা বাড়ার আগে যাওয়ায় উচিত। সঙ্গে হালকা খাবার ও পানি নিয়ে যেতে পারেন। রোদের তীব্রতা থেকে বাঁচার জন্য ছাতা নিতে পারেন। তবে কেউ ভুলেও ভারত সীমান্ত পাড়ি দিয়ে দেখার চেষ্টা করবেন না। আর/ডব্লিউএন

এ বিভাগে আপনাদের মতামত ও লেখা পাঠান [email protected]

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি