ঢাকা, রবিবার, ২৪ জুন, ২০১৮ ১১:৩০:৪৫

অনুমতির অপেক্ষায় ঝুলে আছে ‘ট্যুরিজম কিয়স্ক’

পর্যটকদের জন্য ডিজিটাল সেবা

অনুমতির অপেক্ষায় ঝুলে আছে ‘ট্যুরিজম কিয়স্ক’

টাচস্ক্রিননির্ভর ডিজিটাল কিয়স্কে বিদেশি পর্যটকরা বিভিন্ন গন্তব্য, যাতায়াতসহ নানা তথ্য পাবেন। অথচ অর্থবছর শেষ হতে চলছে। আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ ১২টি স্থানে ‘ট্যুরিজম কিয়স্ক’ স্থাপনের উদ্যোগ লাল ফিতায় ঝুলে আছে। চলতি অর্থবছরে অনুমোদিত এই অর্থ খরচ করাই বড় কথা নয়, বরং পর্যটকদের আকর্ষনীয় এই সেবা প্রদান ত্বরান্বিত করা যাচ্ছে না। সেজন্য খানিকটা উদ্বেগও আছে বিটিবি কর্মকর্তাদের। অর্থবছর শেষ হতে চলেছে। কিন্তু চিঠির জবাব না আসায় অপেক্ষার প্রহর গুণছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড (বিটিবি)। সিভিল এভিয়েশনকে লেখা এক চিঠিতে পর্যটকদের জন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কিয়স্ক স্থাপনের অনুমতি চাইলেও তা পাওয়া যায়নি। বিটিবি কর্মকর্তারা বলছেন, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পরও অনুমতি পেতে দেরি হচ্ছে। তাই কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। বিশ্বের অন্যান্য দেশে ট্যুরিজম কিয়স্ক পর্যটকদের সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রযুক্তি সক্ষমতার কারণে বাংলাদেশও ট্যুরিজম কিয়স্ক স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই কিয়স্কের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একজন পর্যটক তার কাঙ্ক্ষিত তথ্য পাবেন। হাতের স্পর্শে কারো সহযোগিতা ছাড়াই একজন ব্যবহারকারী খুব সহজেই তার কাঙ্ক্ষিত তথ্যটি এই কিয়স্ক থেকে পেতে পারেন। দেশি কিংবা বিদেশি পর্যটক উভয়ই এই সুবিধা ব্যবহার করে তার গন্তব্যস্থল কিংবা অন্যান্য তথ্য সহজেই জেনে নিতে পারবেন। বাংলাদেশে এধরণের উদ্যোগ এই প্রথম। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নিখিল রঞ্জন রায় বলেন, আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। এখন সিভিল এভিয়েশনের অনুমতি মিললেই দ্রুততার সঙ্গে কাজ শুরু করবে বিটিবি। একে//
জামালপুরের পর্যটন কেন্দ্র নানা সমস্যায় বন্ধের পথে (ভিডিও)

নানা সমস্যায় বন্ধের পথে সম্ভাবনাময় জামালপুরের লাউচাপড়া অবসর বিনোদন পর্যটন কেন্দ্রটি। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকদের আসা যাওয়া থাকলেও শুধু প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখা ছাড়া তেমন কোন বিনোদন নেই এখানে। সংস্কারের অভাবে শিশুপার্কে ও লেকেরপাড় পরিত্যক্ত অবস্খায়। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যায় মুখ থুবড়ে পড়েছে বিনোদন কেন্দ্রটি। এই খানাখন্দে ভরা পথেই যেতে হয় জামালপুরের বকশিগঞ্জের লাউচাপড়া অবসর বিনোদন কেন্দ্রে। ১৯৯৬ সালে স্থাপিত হওয়ার পর লেকেরপাড়, শিশুপার্ক, বিভিন্ন টাওয়ারসহ প্রাকৃতিক দৃশ্যে ভরপুর ছিলো। তবে রক্ষাণাবেক্ষণের অভাবে পর্যটকরা এখন বেড়াতে এসে পড়েন ভোগান্তিতে। ৪টি টিউবওয়েলের মধ্যে ৩টিই বিকল, বসার জন্য তেমন ব্যবস্থা নেই। এছাড়া সংস্কারের অভাবে শিশু পার্ক ও লেকের পাড় অযতœ-অবহেলায় পরিত্যাক্ত। এছাড়া সীমান্তবর্তী হলেও এখানে নেই কোন নিরাপত্তা বাহিনী, একটি ডাকবাংলো তাও সবসময় থাকে তালাবন্ধ। এসব দুরাবস্থার জন্য এখানে পর্যটকের সংখ্যাও দিন দিন কমে আসছে। বাজেট পাস হলে পর্যটক কেন্দ্রটির সংস্কারে উদ্যোগ নেয়ার কথা বললেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। লাউচাপড়ার সম্ভাবনাময় বিনোদন কেন্দ্রটিকে সংস্কার করে দ্রুত পর্যটকমুখী করা হবে এমনটাই প্রত্যাশা পর্যটকসহ সংশ্লিষ্টদের।

ভ্রমণে বেরুলে করণীয়

ভ্রমনে বেরুলে দেখতে পাবেন, দেশে দেশে কী অপূর্ব সৌন্দর্য আর অফুরন্ত নেয়ামত সৃষ্টিকর্তা আমাদের জন্য সাজিয়ে রেখেছেন। উপমহাদেশের প্রেক্ষাপটে ভ্রমনের জন্য উপযুক্ত সময় হচ্ছে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত। ঠাণ্ডায় ভ্রমনের ক্লান্তি কম লাগে, প্রকৃতিকে উপভোগ করা যায় পুরোদস্তুর। ভ্রমন মানেই বিদেশ ভ্রমন নয়। প্রকৃতির অকৃপন দান বাংলাদেশেই রয়েছে দর্শনীয় অসংখ্য জায়গা। যদি আপনি পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখতে চান তাহলে চলে যান বান্দরবান, খাগড়াছড়ি বা রাঙামাটিতে। এই জেলাগুলোতে রয়েছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান যা আপনাকে মুগ্ধ করবেই। শুধু বান্দরবানেই রয়েছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান। যেমন বান্দরবান শহরেই রয়েছে অপূর্ব সুন্দর প্রান্তিক লেক। রয়েছে গিরিশৃঙ্গ নীলাচল যেখান থেকে দেখতে পাবেন নয়নাভিরাম দৃশ্য। রয়েছে স্বর্ণমন্দির, শৈল প্রপাত, চিম্বুক পাহাড় আর আঁকাবাঁকা পাহাড়ী পথ বেয়ে যেতে হবে নীলগিরি পাহাড়ে। এখানে রয়েছে সেনা বাহিনীর রিসোর্ট যেখানে অনুমতি সাপেক্ষে আপনি রাত্রিযাপন করতে পারেন। এই বান্দরবানেই রয়েছে বাঙলাদেশের সর্বোচ্চ পাহাড় কেওক্রাডং। সমূদ্র ভ্রমণ করতে চাইলে যেতে পারেন পৃথিবীর দীর্ঘতম সমূদ্র সৈকত কক্সবাজারে। এছাড়াও যেতে পারেন কুয়াকাটা বা পতেঙ্গায়। সমতল ভূমির সৌন্দর্য আর ঐতিহসিক নিদর্শন দেখতে যেতে পারেন বাংলার আনাচে কানাচে। কুমিল্লার ময়নামতিতে রয়েছে শালবন বিহার, নওগাঁয় রয়েছে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, বগুড়ায় মহাস্থানগড় আর বেহুলা লখিন্দরের বাসরঘর, নাটোরে রয়েছে বিখ্যাত রাজবাড়ি যা উত্তরা গনভবন নামে পরিচিত, চাঁপাই নবাবগঞ্জে রয়েছে ছোট সোনা মসজিদ ও হযরত শাহ নেয়ামতুল্লাহ (র.) এর মাজার, রাজশাহীতে হযরত শাহ মখদুম (র.) এর মাজার, দিনাজপুরে স্বপ্নপুরী, রামসাগর ও কান্তজী মন্দির, কুষ্টিয়ায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃাতি বিজরিত কুঠিবাড়ি ও লালন শাহ্র মাজার, রংপুরে ভিন্ন জগত ও রাজবাড়ি, সিলেটে চা বাগান ও হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজার, ঢাকায় আহসান মঞ্জিল, লালবাগের কেল্লা, বড়কাটরা, ছোটকাটরা, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, নভোথিয়েটার ও জাতীয় সংসদ ভবনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান।  আবার দেশের বাইরে যেতে চাইলে অল্প খরচে যেতে পারেন ভারত, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ বা শ্রীলঙ্কা। শুধু ভারতেই রয়েছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান। দার্জিলিং, সিমলা, কাশ্মীর বা কন্যাকুমারীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন আপনাকে মুগ্ধ করবে, তেমনি আগ্রা বা দিল্লীর মুসলিম ঐতিহ্য আপনাকে মুহুর্তে নিয়ে যেতে পারে মধ্যযুগের সমৃদ্ধ ভারতে, যে ভারত সেসময়ের ওয়ার্ল্ড জিডিপিতে অবদান রাখতো ২৩ শতাংশ। আধুনিক নগর সৌন্দর্য দেখতে চাইলে চলে যান দ্বীপরাষ্ট্র সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, চীন, প্যারিস বা আমেরিকা। তবে যেখানেই যান আপনার যাত্রার প্রস্তুতি যেন হয় পূর্নাঙ্গ। পাসপোর্ট, কারেন্সিসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়েছেন কি-না তা দেখে নিন। ক্যামেরা থাকলে তা নিতে অবশ্যই ভুলবেন না। আর প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ সঙ্গে রাখুন যেন আপনার যাত্রা হয় নির্বিঘ্নে। দীর্ঘ সফরে গেলে প্রয়োজনে যাত্রার পূর্বে ইনফ্লুয়েঞ্জা, টায়ফয়েড, হেপাটাইটিস-এ ইত্যাদি ভ্যাকসিন নিয়ে নিতে পারেন। যারা ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, এজমা বা অন্যকোনও রোগে ভুগছেন তারা অবশ্যই তাদের   প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখবেন। কারণ যাত্রাপথে সুস্থ থাকাটা খুবই জরুরি। প্রয়োজনীয় কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকলে সহজেই সুস্থ থাকা সম্ভব- ১. রাস্তার পাশের রেস্টুরেন্টের খোলা খাবার ও পানি পরিহার করুন। ২. বোতলজাত পানি পান করুন। ৩. রোদ থেকে ঘুরে এসেই ঘর্মাক্ত অবস্থায় গোসল না করে একটু ঠাণ্ডা হয়ে তারপর গোসল করুন। ৪. গরমে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। ৫. ঠাণ্ডার সময় পর্যাপ্ত গরম কাপড় সঙ্গে রাখুন। প্রয়োজনে কানটুপি বা মাফলার ব্যবহার করুন।  একে//

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে পর্যটনের বহুমুখী সম্ভাবনা (ভিডিও)

গারো পাহাড়ের পাদদেশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত নেত্রকোনার দুর্গাপুরে রয়েছে পর্যটনের বহুমুখী সম্ভাবনা। পাহাড়ের বুক চিরে স্বচ্ছ ঝর্ণাধারা, সোমেশ্বরী নদী আর সাদামাটির পাহাড় আকৃষ্ট করে পর্যটকদের। এই মনোরম পরিবেশে উপভোগ করতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসে অসংখ্য মানুষ। অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করে স্থানীয়রা। নেত্রকোণা জেলা শহর থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার দূরে সীমান্তবর্তী উপজেলা দুর্গাপুর। বহু বিপ্লব, বিদ্রোহের সাক্ষী ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত পাহাড়ী জনপদ এই দুর্গাপুর। দুর্গাপুরের প্রবেশদ্বার বিরিশিরিতে প্রথমেই দর্শনার্থীদের চোখে পড়ে ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি। এছাড়াও রয়েছে, টংক আন্দোলনের স্মৃতিসোৗধ, হাজং মাতা রাশিমনির স্মৃতিসৌধ, ক্যাথলিক গির্জা, রানী খং মিশন, সাদা মাটির পাহাড়সহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। পাহাড় থেকে নেমে আসা সোমেশ্বরী নদী চোখ জুড়ায় পর্যটকদের। এ’সব সৌন্দর্যের টানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিনই ছুটে আসেন অসংখ্য পর্যটক। তবে, সড়ক সহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে বলে মনে করে স্থানীয়রা। নেত্রকোণার দর্র্শনীয় স্থানগুলোকে অচিরেই পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। পর্যটন শিল্পের সব রসদই রয়েছে দুর্গাপুর। তাই পর্যটন এলাকা ঘোষণা করে অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকারকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে নেত্রকোণাবাসী।

টানা ছুটি পেয়ে রাঙামাটিতে ছুটে যাচ্ছেন পর্যটকরা (ভিডিও)

সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে সরকারি ছুটি মিলিয়ে টানা ছুটি পেয়ে হ্রদ-পাহাড়ের শহর রাঙামাটিতে ছুটে যাচ্ছেন পর্যটকরা। পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো শহর। খাবার হোটেল থেকে শুরু করে আবাসিক হোটেল, রেস্টহাউস এখন ব্যস্ত সময় পাড় করছে। অসময়ের এ ভীড়ে খুশি ব্যবসায়ীরা। যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে ভ্রমণ পিপাসু মানুষ রাঙামাটি ছুটে আসছেন। উপভোগ করছেন পাহাড় আর হ্রদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য। বন্ধু-বান্ধব,আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে পর্যটকরা রাঙামাটির বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ঝুলন্ত সেতু ছাড়াও শুভলং ঝর্ণা, চাকমা রাজবাড়ি, আরন্যক পর্যটন কেন্দ্র সহ আদীবাসী যাদুঘর পর্যটকদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠছে । ইতোমধ্যে পর্যটন মোটেলে সহ নামী দামী হোটেলগুলো বুকিং হয়ে গেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। বিনোদন কেন্দ্রে গুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ট্যুরিষ্ট পুলিশ ও পর্যটন ব্যবসার সাথে জড়িতরা। দু’একদিনের মধ্যে পর্যটক আরো বাড়ার প্রত্যাশা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।

রোমাঞ্চকর কেওক্রাডং ভ্রমণ

ভ্রমণ মানেই প্রশান্তি। ভ্রমণ মানেই ক্লান্তি দূর করার প্রাকৃতিক ঔষধ। কিন্তু এমন কিছু ভ্রমণ আছে যা আপনার শরীরের ঘাম ঝড়াবে। তবে এ নিশ্চয়তা দিতে পারি যে, কষ্ট হলেও আনন্দটা হবে পর্বত চূড়ার উপর। পাহাড়ের চূড়ায় বসে ভ্রমণের আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন। বলছি- কেওক্রাডং এর কথা। আজ শুনাবো কেওক্রাডং ভ্রমণের গল্প। দেশের ভ্রমণপিয়াসী মানুষের কাছে বান্দরবান একটি প্রিয় নাম। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণ তালিকায় এ অঞ্চলটি শীর্ষে। যদিও বর্ষা মৌসুমে পাহাড় নিরাপদ নয়, তবে গল্পটা শুনে রাখলে সময় করে ঘুরে আসতে পারবেন। বান্দরবান শহরের পাশে নীলগিরি, নীলাচল, স্বর্ণ মন্দির, চিম্বুক পাহাড় আর মেঘলা জায়গাগুলো বেশ জনপ্রিয় পর্যটকদের কাছে। পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব, ট্রাভেল সঙ্গী কিংবা প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে ঘোরার দারুণ জায়গা এই বান্দরবান। চাইলেই চট করে একটা গাড়ি নিয়ে সবাই মিলে ঘুরে আসা যায়। তবে অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী হলে আপনার যেতে হবে বান্দরবানের গহিনে। তাহলেই পাবেন ট্র্যাকিংয়ের রোমাঞ্চ। দেশের ট্র্যাকারদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় রুট হচ্ছে বগা লেক-কেওক্রাডং-জাদিপাই। দু-তিন দিন হাতে সময় নিয়ে দুর্দান্ত একটি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিয়ে আসতে পারবেন। সেই গ্যারান্টি আমি দিতে পারি। বান্দরবানে বছরের যেকোনো সময়ই যাওয়া যায়। তবে হালকা বর্ষা আর শীতকালকেই বেশির ভাগ মানুষ বেছে নেন। গরমকালে পাহাড়ে ওঠাটা একটু কষ্টকর। তবে ভরা বর্ষা মৌসুমে পাহাড় বিপদজনক হয়ে উঠছে। যা হোক; রোমাঞ্চ ও অ্যাডভেঞ্চার করতে গেলে একটু ঝুঁকি তো নিতেই হবে। এ ক্ষেত্রে কোনোভাবেই সাহস হারালে চলবে না। কিশোর থেকে বুড়ো কিংবা পাতলা থেকে বেজায় মোটা মানুষও জয় করেছে কেওক্রাডং। এই পাহাড় জয় করতে হলে শরীরের সক্ষমতার চেয়ে মানসিক দৃঢ়তাই জরুরী। ঢাকা থেকে বান্দরবান যেতে চাইলে বাস এবং ট্রেন, দুভাবেই যাওয়া যায়। তবে সরাসরি যেতে চাইলে যেতে হবে বাসে। বিভিন্ন কোম্পানির বাস আছে, যেগুলো বিভিন্ন সময় ঢাকা থেকে বান্দরবানের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। কল্যাণপুর কিংবা আরামবাগ থেকে বাসে উঠতে হবে। টিকিট করতে হবে অন্তত একদিন আগে। এ জন্য এক হাজার টাকা বাজেট রাখলেই হবে। ঢাকা থেকে রাতে রওনা দেওয়াই ভালো। আমরাও রাতে রওনা দিয়েছিলাম। এর একটা কারণ রয়েছে। ভোরে বান্দরবান শহরে পৌঁছে দিনে দিনে শুরু করতে পারবেন ভ্রমণ যাত্রা। আবার শহরে একদিন কাটিয়ে পরদিন থেকে শুরু করতে পারেন অ্যাডভেঞ্চার। আমরাও প্রথম দিন বান্দরবান শহরের স্পটগুলো ঘুরে দেখেছি। শহরে যে স্পটগুলো রয়েছে তা একদিনে শেষ করা যায় না। তারপরও অল্প সময় ব্যয় করে সবগুলো স্পটেই পা ছুঁয়ে আসলাম। বান্দরবান শহরে পৌঁছে আগে ফিরতি টিকিট কেটে নিলাম। টিকিট করে খুঁজতে বের হলমা হোটেল। বলে রাখা ভালো, শহরের হোটেলগুলোর অবস্থা মোটামুটি ভালো। তবে ঢাকা থেকে ফোনে যোগাযোগ করে অনেকেই আগে থেকে হোটেল বুকিং দেয়। আমার অভিজ্ঞতায় একটা কথা বলি- যারা প্রথমবার বান্দরবান ভ্রমণে যাতে চান তারা সেখানে পৌঁছানোর পর নিজের চোখে দেখে তবেই হোটেল বুকিং করবেন। কারণ পছন্দ মত রুম পেতে হলে এটাই উত্তম। তবে হোটেল ম্যানেজারের কাছে আকাশচুম্বী ভাড়া শুনে ভয় পাবেন না। দরদাম করার সব কৌশল কাজে লাগান। শহরের সব জায়গার খাবার কিন্তু ভালো না। তবে কিছু ভালো রেস্তরা রয়েছে। যা আপনাকে চিনে নিতে হবে। শহরের পাশে স্বর্ণ মন্দির, নীলাচল কিংবা মেঘলা ঘুরে আসতে পারেন। সে ক্ষেত্রে চলাচলের জন্য ব্যবহার করতে হবে সিএনজি অথবা চান্দের গাড়ি। একেবারে রিজার্ভ করে নিলে ভালো। আজকের আলোচনা যেহেতু কেওক্রাডং, তাই অন্য স্পটগুলো নিয়ে খুব বেশি বলছি না। সোজা চলে যাচ্ছি অ্যাডভেঞ্চারে। বগা লেক সম্পর্কে তো নিশ্চই ধারণা আছে? অসাধারণ একটি জায়গা। যেখানে যেতে আপনাকে সবার আগে পৌঁছাতে হবে রুমায়। বান্দরবান শহরের যেকোনো জায়গা থেকে একটি অটো কিংবা সিএনজি নিয়ে যান রুমার বাসস্ট্যান্ডে। চালককে বললেই সে আপনাকে পৌঁছে দেবে। সেখানে গিয়ে বাস ধরতে হবে রুমার। দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বাস রুমার উদ্দেশে রওনা হয়। আঁকাবাঁকা আর উঁচুনিচু পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে আপনি এগোতে থাকবেন রুমার উদ্দেশে। এই যাত্রাকে আরামদায়ক করতে চাইলে একটি জিপ রিজার্ভ নিন। রুমায় নেমে পড়ুন। এবার যেতে হবে রুমা বাজার। সে ক্ষেত্রে চান্দের গাড়ি ছাড়া উপায় নেই। বাজারে এসে সবার আগে ঠিক করতে হবে গাইড। গাইডের বেশ কয়েকটি সমিতি আছে। যেকোনো একটা থেকে বেছে নিন। গাইডের ভাড়া এক হাজার টাকা থেকে শুরু। ঋতুভেদে আরও বাড়বে-কমবে। তবে ভালো হয় আগে থেকে কোনো গাইডের সঙ্গে কথা বলে গেলে। গাইডের সঙ্গে আর্মি ক্যাম্পে গিয়ে নাম অ্যান্ট্রি করে ফেলুন। মনে রাখবেন, আপনার যাত্রার জায়গায় জায়গায় গাইডসহ ট্যুর টিমের সবার নাম অ্যান্ট্রি করতে হবে। কখনোই এটি ফাঁকি দিতে যাবেন না, কারণ এটি আপনাদের ভালোর জন্য করা হয়। নাম অ্যান্ট্রি শেষে বাজার থেকে কিছু শুকনো খাবার কিনে নিন। যাত্রা শুরু হলো কমলা বাজারের উদ্দেশে। সেখান থেকে ট্র্যাকিং করে যেতে হয় বগা লেক। কমলা বাজার পর্যন্ত যেতে লাগবে চান্দের গাড়ি। সেটি আপনার গাইডই ঠিক করে দেবে। প্রায় দুই ঘণ্টার ঝাঁকি আর ধুলামিশ্রিত যাত্রা শেষে আপনি পৌঁছাবেন কমলা বাজার। সেখান থেকে লাঠি কিনে নিন। লাঠি পরবর্তীতে অনেক কাজে লাগবে আপনার। এবার শুরু করুন পাহাড়ে ওঠা। বগা লেক ওঠার পথটা বেশ খাঁড়া। তাই হয়তো অল্প কিছুক্ষণের মাঝে হাঁপিয়ে উঠতে পারেন। কিন্তু দমে গেলে চলবে না। একটু একটু করে বিশ্রাম নিয়ে আর পানির বোতল খুলে মুখ ভিজিয়ে আবার হাঁটা শুরু করুন। ভুলেও পানি খেয়ে পেট ভারী করবেন না। পেট ভারী হলে আর হাঁটতে পারবেন না। আধাঘণ্টা ট্র্যাকিং শেষে পৌঁছে যাবেন বগা লেক। ক্লান্তিভরা চোখ জুড়িয়ে যাবে মুহুর্তে। সমুদ্র থেকে প্রায় এক হাজার ৭০০ ফুট ওপরে পাহাড়ের চূড়ায় ১৫ একর জায়গার এ রকম লেক আর কোথায় মিলবে না। এই লেকটি তৈরি হয়েছিল একটি মৃত আগ্নেয়গিরি পানি চুয়ে চুয়ে। তাই একে ড্রাগন লেকও বলা হয়। বগায় পৌঁছে আর্মির ক্যাম্পে রিপোর্ট শেষে উঠে পড়ুন কোন একটি কটেজে। এগুলো আপনার গাইডই ম্যানেজ করবে। কটেজে ব্যাগগুলো রেখে ঝুপঝাপ লাফিয়ে পড়ুন লেকের পানিতে। স্বচ্ছ আর ঠাণ্ডা পানিতে নিজেকে শীতল করে নিন। বগা লেকের রাতের সৌন্দর্য দেখতে থেকে যান এক রাত। আর যদি সেদিন পূর্ণিমা হয়, তবে তো আর কথাই নেই। চাঁদের আলোতে বগা লেক যেনো নববধুর সাজে সজ্জিত হয়। রাত শেষে পরদিন ঘুম থেকে উঠুন অনেক সকালে। পারলে সূর্য ওঠার আগেই। ঘুম থেকে উঠে খিচুড়ি আর ডিম ভাজি খেয়ে নিন। ভুলেও পেট খালি রাখবেন না। কারণ এখনই শুরু হতে যাচ্ছে আপনার কেওক্রাডং জয়ের যাত্রা। যাওয়ার সময় ভারী জিনিস সব কটেজে রেখে যাবেন। কেওক্রাডং যাবার পথে চিংড়ি ঝরনা পড়বে। দেখে নিন ঝরনার আসল রূপ। দুই ঘণ্টা পর এসে পৌঁছাবেন দার্জিলিংপাড়া। এ পাড়ায় দার্জিলিংয়ের মতো ঠাণ্ডা দেখে এমন নামকরণ। গ্রামটি এমনিতে অনেক সুন্দর। এখানে কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে শুরু করুন কেওক্রাডংয়ের উদ্দেশে শেষ যাত্রা। আরও প্রায় আধা ঘণ্টা ট্রেকিং শেষে আপনি পা রাখবেন কেওক্রাডংয়ে। কেওক্রাডং নামটি এসেছে মারমা ভাষা থেকে। মারমা ভাষায় ‘কেও’ মানে পাথর, ‘ক্রা’ মানে পাহাড় আর এবং ‘ডং’ মানে সবচেয়ে উঁচু। অর্থাৎ কেওক্রাডং মানে সবচেয়ে উঁচু পাথরের পাহাড়। কেওক্রাডংয়ে পা রাখাটা হতে পারে আপনার জীবনের অন্যতম সেরা একটি মুহূর্ত। আশপাশে যা দেখবেন, সবকিছু আপনার পায়ের অনেক নিচে। ইচ্ছামতো লাফালাফি আর ছবি তুলে নিন। যদি কেওক্রাডংয়ে রাত কাটানোর ইচ্ছে থাকে, তাহলে দুপুরে খাওয়ার অর্ডার এবং রাতে কটেজে বুকিং দিয়ে ফেলুন। অনেকে একই দিনে আবার বগাতেই ফিরে যায়। কিন্তু কেওক্রাডংয়ে রাত কাটানোর মতো লোভনীয় সুযোগ আর হবে না। আমরা একটি রাত সেখানেই কটিয়েছিলাম। যদিও আমাদের প্লানে এটি ছিল না। কিন্তু আমরা লোভ সামলাতে পারিনি। এবার আমাদের শেষ লক্ষ্য জাদিপাই ঝরনা। সারা দিন ট্রেকিং করার কারণে একটু ক্লান্তি এবং দুর্বল লাগবে জাদিপাই নামতে গিয়ে। তবে জয় করা খুব একটা কঠিন না। প্রথমে পাসিংপাড়া এবং এরপর জাদিপাইপাড়া পাড়ি দিয়ে মোট দুই ঘণ্টার মতো লাগবে আপনার জাদিপাই ঝরনা পৌঁছাতে। পথে বেশ দূর থেকেই ঝরনার আওয়াজ শুনতে পাবেন। যদি বর্ষায় আসেন তবে ঝরনার আসল তেজ দেখতে পাবেন। দ্বিতীয়টি হচ্ছে ঝরনার নেমে আসা পানিতে দেখা যায় স্পষ্ট রংধনু। এটি একেবারেই বিরল। আপনার ট্র্যাকিং রুট এখানেই শেষ। এবার সময় হলা ফেরার। ঠিক আগের মতো করেই। তবে এবার ফিরতে একটু কষ্ট হতে পারে। জাদিপাই থেকে কেওক্রাডংয়ে ওঠার রাস্তাটা মোটামুটি বেশ খাড়া। তাই পানি এবং হালকা খাবার নিয়ে গেলে শক্তি পাবেন। কেওক্রাডংয়ে ফিরে খেয়ে আবার বিশ্রাম করুন কটেজে। সন্ধ্যায় সূর্যাস্ত দেখতে উঠে যান আবার চূড়ায়। অসাধারণ এক অনুভূতি হবে। ঠিক আগের মতোই শেষ করতে থাকুন অসাধারণ এই অ্যাডভেঞ্চার। পুরো ট্র্যাকিংয়ে আপনাকে মুগ্ধ করবে পায়ের নিচে থাকা মেঘগুলো। মুগ্ধ হবেন স্থানীয় মানুষের সরলতা এবং আন্তরিকতা। মনে রাখবেন- খুব বেশি জামাকাপড় নেবেন না। শুধু যেগুলো একদম না নিলেই নয়, সেগুলো নেবেন। ব্যাকপ্যাক নেবেন। হাতের কোনো ব্যাগ নিলে চলবে না। পানির বোতল নেবেন হাফ লিটারের। সেটাতে যেন সব সময়ই পানি থাকে। স্যালাইন রাখবেন সঙ্গে। জোঁকের সংক্রমণ আছে। তাই লবণ নেবেন সঙ্গে। মশার কামড় থেকে বাঁচতে ওডমস ক্রিম রাখুন। ট্র্যাকিংয়ের সময় শুকনা খাবার রাখুন। সারা দিন কলা খান। কলা আপনার পেশিকে কর্মক্ষম রাখবে। হালকা কিছু ওষুধ আর অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম সঙ্গে রাখুন। একটা টর্চলাইট নেবেন কাজে আসবে। মোবাইল চার্জ দেওয়া কিন্তু কঠিন। তাই পারলে একটি পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে নিন। এসএ/  

হাতিরঝিলে নজর কাড়ছে ভাসমান ফুল

নগরবাসীর বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে রাজধানীর হাতিরঝিল। ঝিলের চারপাশ ঘিরে চলছে পর্যটন গাড়ি। গাড়ি ও আগন্তুকদের ছায়া দিতে মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বিভিন্ন ফল ও পাতাবাহারী ফুলের গাছ। ঝিলের পানিতে আবার হেলেদুলে চলছে ময়ূরপঙ্খী নাও। বহমান পানির বুক চিরে চলছে যাত্রীবাহী ওয়াটার ট্যাক্সি। তার সঙ্গে সৌন্দার্য বর্ধন করছে গানের তালে রং বেরঙের ওয়াটার ড্যান্স ও ভাসমান স্টেজ। ঝিলকে সৌন্দের্যের এক মনোমুগ্ধকর লীলাভূমি করতে চলছে এসব নিত্য-নতুন আয়োজন। যার সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ঝিলের মধ্যে পানির ওপর ভাসমান সদ্য ফোটা বিভিন্ন প্রজাতির ফুল। যা হাতিরঝিলে আগত ভ্রমন পিপাসুদের করছে আকৃষ্ট। সরেজমিন দেখা গেছে, প্রকল্পের পশ্চিমাংশে হাতিরঝিলের মগবাজার ও এফডিসি রোডের মধ্যবর্তী  এবং ঝিলের প্রথম ব্রিজ পর্যন্ত সারিবদ্ধভাবে ভাসানো হয়েছে হরেক রকম ফুলের গাছ।গাছগুলো বেশ কিছুদিন  আগে মরা দেখালেও সম্প্রতি তাতে নতুন করে পাতা গজিয়েছে। শুধু পাতা নয়, গত দুই সপ্তাহ আগে ধরে তাতে ফুটছে হলুদ-লাল, গোলাপীসহ বিভিন্ন রঙের ফুল। ফুলগুলো দেখতে জিলের এ অংশে ভ্রমনপিপাসুদের ভিড় বাড়ছে। কেউ ব্রিজের পাড়ে দাঁড়িয়ে, কেউ বা এফডিসি মোড়ের অংশে আড্ডারত অবস্থায় উপভোগ করছেন এই সৌন্দর্য। কেউবা আবার চলতি পথে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে এ সৌন্দর্য।কিন্ত এতো সৌন্দর্যের মধ্যে বিষফোড়া হয়ে দেখা দিয়েছে হাতিরঝিলের দূর্গন্ধময় পানি। অথচ শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে গড়ে তোলা হাতিরঝিল প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা ও বন্যা প্রতিরোধ, ময়লা পানি নিস্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, রাজধানীর যানজট নিরসনও। কিন্তু বছর না গড়াতেই প্রকল্পটির চেহারাও এখন হতশ্রী। প্রকল্পের বর্জ্য নিস্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বিপন্ন হয়ে পড়েছে গোটা প্রকল্প। ভ্রমণকারীদের অনেকেই যত্রতত্রসহ হাতিরঝিলের পানিতে চিপসের প্যাকেটসহ ময়লা ফেলার কারণে পানিতে এসব স্তূপ ভেসে থাকে। জনবলের অভাবে পানিতে ভাসমান সে ময়লা সরাতেও হিমশিম খেতে হয় প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার। তবুও আশা ছাড়েনি কর্তৃপক্ষ। দিন দিন নানা উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বিবর্ণ হাতিরঝিলকে আধুনিক করে গড়ে তোলার প্রচষ্টো চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঝিলের পানিতে পরীক্ষামূলক ভাসানো হয়েছে টবে করে নানা প্রজাতির গাছ। দৃষ্টিনন্দন এই গাছগুলো নতুন করে শোভা ছড়াচ্ছে। দৃষ্টি আকর্ষণ করছে এখানকার ভ্রমণপিয়াসীদের। বর্তমানে রাজধানীর দৃষ্টিনন্দন জায়গাগুলোর মধ্যে অন্যতম হাতিরঝিল। ২০১৩ সালের ২ এপ্রিল এই প্রকল্পের উদ্বোধন হয়। দৃষ্টিনন্দন করার জন্য পুরো এলাকাটি নতুন অবকাঠামোতে তৈরি করা হয়েছিল। এ প্রকল্প চালুর ফলে ঢাকার তেজগাঁও, গুলশান, বাড্ডা, রামপুরা, মৌচাক ও মগবাজার এলাকার বাসিন্দাসহ এ পথ দিয়ে চলাচলকারী নগরবাসী বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়, এরইমধ্যে ঢাকাবাসীর প্রিয় ভ্রমণ স্থানগুলোর অন্যতম একটি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে হাতিরঝিল। তাই এ প্রকল্পটির দূষণরোধে প্রতিনিয়ত সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করছেন। এ বিষয়ে হাতিরঝিল প্রকল্পের পরিচালক ও রাজউকের প্রকৌশলী জামাল আক্তার ভূঁইয়া বলেন, হাতিরঝিল প্রকল্প রাজধানীর অন্যতম বিনোদন  কেন্দ্র। এটিকে আমরা নান্দনিক রূপ দিতে নানা ধরণের উদ্যোগ নিয়ে থাকি। যে উদ্যোগের অংশ ছিল ভাসমাল ফুল গাছ। এটাতে এখন ফুল ফুটে ভ্রমনপিপাসুদের মুগ্ধ করছে। ফুল সৌন্দর্য বিলালেও দূষিত পানি যে তা ম্লান করে দিচ্ছে তার জন্য  অনেকটা নাগরিদের অসচেতনতাও দায়ী। পানির মধ্যে পলিথিন ও চিপসের প্যাকেট ফেলা ঠিক না।  এছাড়া পানির ওভার ফ্লোর কারণেও দূর্গন্ধতা হতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রকল্পের মূল দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন (এসডব্লিউও) সঙ্গে কথা বলেই জানা যাবে।                              হাতিরঝিল প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন (এসডব্লিউও)’র  মেজর জেনারেল  আবু সাদিক এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি। তবে প্রকল্প সংশ্নিষ্ট অন্যএকজন কর্মকর্তা বলেন, পানির দুর্গন্ধ এড়াতে ও ময়লা শোষণ করে নিতে প্লাস্টিকের পাইপে তৈরি ফ্রেমের ওপর বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত ফল পেলে পুরো এলাকাজুড়েই ভাসানো হবে এসব গাছ। গাছগুলোর মধ্যে কলাবতী ও ঘাসজাতীয় গাছের সংখ্যাই বেশি। এ গাছগুলো অনেক আগেই লাগানো হয়েছিল। তবে মাঝে করে গাছুগুলো শুকিয়ে গেছিল। এখন নতুন করে পাতা গজিয়ে প্রায় সবকটি গাছে ফুল ফুটেছে। আরকে// এআর  

ঘুরে আসুন প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন (ভিডিও )

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম লীলাভূমি দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন। প্রতিদিনই দেশি-বিদেশি শত শত পর্যটকের পদভারে মুখর থাকে নারিকেল জিঞ্জিরাখ্যাত এই দ্বীপ। তবে, আবাসন আর নিরাপত্তার ঘাটতিতে অস্বস্তিতে পড়তে হয় ভ্রমণ পিপাসুদের। এমন নীল আকাশ আর সাগরের স্বচ্ছ ঢেউ খেলা করে সেন্টমার্টিনের সৈকতে। তীরে বাঁধা নৌকা, নান্দনিক নারকেল গাছের সারি, সব মিলে এক নৈসর্গিক সৌন্দর্যের হাতছানি প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। ব্যস্ত জীবনে একটু প্রশান্তি পেতে প্রতিদিন এখানে ভিড় জমায় ভ্রমণ পিপাসু মানুষ। কিন্তু, পর্যটকের তুলনায় দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। অভিযোগ রয়েছে হোটেল-মোটেল, রে¯েঁ—ারা আর পরিবহনে বাড়তি ভাড়া নেয়ার। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে অনেকের। তবে, ট্যুরিস্ট পুলিশের দাবি, সব সময়ই পর্যটকদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তাবলয় থাকে সেন্টমার্টিনে। প্রবালদ্বীপে পর্যটক বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরো পদক্ষেপ চায় স্থানীয়রা।

ময়মনসিংহের স্থলবন্দর পিকনিক স্পটে দর্শনার্থীদের ভিড়(ভিডিও)

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের কড়ইতলী স্থলবন্দর পিকনিক স্পটে দর্শনার্থীদের ভিড় লেগেই থাকে। প্রতিদিন নানা বয়সী দর্শনার্থীরা আসেন সীমান্ত ঘেঁষা এই এলাকার নয়নাভিরাম সৌন্দর্য উপভোগ করতে। রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়ানোর দাবি দর্শনার্থীদের। আধুনিক মানের পিকনিক স্পট গড়ে তোলার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মেঘালয়ের কোলঘেঁষা হালুয়াঘাট কড়ইতলী স্থল বন্দর। এর পাশেই ২০১৭ জানুয়ারীতে সাড়ে তিন একর জমির উপর ব্যক্তি মালিকানায় গড়ে উঠে হালুয়াঘাট পিকনিক স্পট। নয়নাভিরাম এই স্পটে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা আসেন, উপভোগ করেন নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য। শিশুদের জন্য আধুনিক মানের রাইডস আর হোটেল রেস্টুরেন্টসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর দাবি দর্শনার্থীদের। সরকারের সহায়তা পেলে ভবিষ্যতে আধুনিক মানে পরিণত করার কথা জানায় পিকনিক স্পট কর্তৃপক্ষ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যময় স্পটটিকে আধুনিক মানে গড়ে তোলা গেলে, এটি হয়ে উঠতে পারে সম্ভাবনাময় একটি পর্যটন কেন্দ্র।

চৌগ্রাম জমিদার বাড়ি (ভিডিও)

 নাটোরের চৌগ্রাম জমিদার বাড়ি। প্রায় তিনশো বছরের পুরনো স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন এটি। তবে, অবৈধ দখল আর সংরক্ষণের অভাবে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে এই জমিদার বাড়ি। বাড়িটি দখল মুক্ত করে সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। ১৭২০ সালে জমিদার কৃষ্ণকান্তসিংড়ার চৌগ্রামে প্রায় ৪৮ একর জমির ওপর ৯টি পুকুরসহ এই জমিদার বাড়িটি নির্মাণ করেন। তার বাবা রসিক রায়ের ছিল দুই ছেলে- কৃষ্ণকান্ত ও রামকান্ত। রাজা রামজীবন তাদের মধ্যে রামকান্তকে দত্তক নেন। পরে রামজীবন কৃতজ্ঞতা স্বরুপ নাটোরের সিংড়ায় চৌগ্রাম এবং রংপুরের ইসলামাবাদ পরগণা রসিক রায়কে দান করেন। জমিদার রসিক রায় মারা যাওয়ার পর কৃষ্ণকান্ত ১৭২০ সালে চৌগ্রামে এই বাড়ি নির্মাণ করেন। তার জমিদারি পরগণার আয়তন ছিল ২৯ হাজার ৪শ’ ৮৭ একর। জমিদার বাড়ির প্রবেশ পথেই রয়েছে মূল ফটক। যা এখন জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। জমিদার বাড়ির জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন স্থাপনা। কৃষ্ণকান্তের মৃত্যুর পর তার ছেলে রুদ্রকান্ত জমিদারি পান। নিঃসন্তান রুদ্রকান্ত দত্তক নেন রমণীকান্তকে। রমণী কান্ত চৌগ্রামে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দাতব্য চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠা করেন। জমিদারি প্রথা বিলোপের পর সবাই দেশ ত্যাগ করলে বাড়িটি অরক্ষিত হয়ে পড়ে। এখন বাড়িটি সংস্কার করে পর্যটন কেন্দ্র করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় প্রতিনিধিরা। এছাড়াও দ্রুত বাড়িটি অবৈধ দখলমুক্ত করার দাবি এলাকাবাসীর। একে//এসএইচ/

রাঙামাটি : প্রকৃতির বুকে অপার নিসর্গ(ভিডিও)

রাঙামাটির আসামবস্তি-বড়াদম-কাপ্তাই সড়কের দু’পাশে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি বেসরকারি পর্যটন স্পট। মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও কাপ্তাই হ্রদে কায়াকিংয়ের জন্য পর্যটকদের কাছে এ’সব স্পট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য ছড়িয়ে আছে রাঙ্গামাটিতে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি ঝুলন্ত সেতু, শুভলং ঝর্ণাসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পট আকৃষ্ট করে পর্যটকদের। সময়ের সাথে সাথে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় আসামবস্তি-বড়াদম-কাপ্তাই সড়কের দু’পাশে প্রায় ২৫ কিলোমিটার জুড়ে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি বেসরকারি পর্যটন স্পট। আকৃষ্ট হচ্ছেন পর্যটকরাও। এসব পর্যটন স্পটে রয়েছে বিশেষ ধরনের নৌকা- কায়াক যা পর্যটকদের কাপ্তাই হ্রদে ভ্রমনে বাড়তি আনন্দ যোগাচ্ছে। সরকারের সহযোগিতা পেলে হ্রদ আর পাহাড়ে ঘেরা এই এলাকা হয়ে উঠতে পারে সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র।

এ বিভাগে আপনাদের মতামত ও লেখা পাঠান travel@ekushey-tv.com.

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি