ঢাকা, বুধবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৮ ০:১৯:১৭

দাঁতের সমস্যা ও প্রতিকার

দাঁতের সমস্যা ও প্রতিকার

সুন্দর হাসি ও আকর্ষণীয় ব্যাক্তিত্বের জন্য উজ্জ্বল, রোগমুক্ত দাঁতের গুরুত্ব অপরিসীম। সঠিক সময়ে যত্নের অভাবে দাঁতে আক্রমণ করে রোগ-জীবানু ও বিভিন্ন রকমের অসুখ। তখন অকালে দাঁত ও দাঁতের মাড়ি হয়ে ওঠে কালচে, ভঙ্গুর ও হলদে রংয়ের। যা খুবই বিশ্রী দেখায়। একটু বাড়তি সচেতনতা ও যত্ন নিলে মুক্তি মেলে দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা থেকে এমনটাই জানিয়েছে স্মাইল স্পেশালাইজড ডেন্টাল সার্ভিসেসের চীফ কনসালট্যান্ট অধ্যাপক, ডা. মোঃ শফি উল্লাহ। সম্প্রতি একুশে টিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান দি ডক্টর স অনুষ্ঠানে এসে এমন অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি। অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় ছিলেন  অধ্যাপক ডা. ইকবাল হাসান মাহমুদ। শ্রুতি লেখক একুশে টেলিভিশনের অনলাইন প্রতিবেদক তবিবুর রহমান। একুশে টেলিভিশনের নিয়মিত সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান দ্যা ডক্টর’স। লাইভ এই অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য, রোগ-ব্যাধি, সুস্থতা নিয়ে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বিভিন্ন বিষয়ে সমাধান দিয়ে থাকেন। পাঠকদের জন্য সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি লিখিতভাবে তুলে ধরা হলো। একুশে টেলিভিশন : কোরবানি ঈদে লোকজন দাঁতের যত্ন কিভাবে নেবেন? অধ্যাপক ডা. মো. শফি উল্লাহ: করবানীর ঈদের পরে অনেকের দাতেঁর সমস্যা দেখা দেয়। এর একটি মাত্রকারণ করবানীর মাংস খাওয়ার সময় অসচেতন ভাবে খাওয়া। মাংসের আশ আটকে যাওয়ার কারণে অনেক সময় ব্যাথা  দেখা দিতে পারে। এছাড়াও অনেকগুলো কারণে দাঁতে ব্যথা দেখা নিতে পারে। মুলত দুই কারণে হতে পারে। এক মাড়ি ব্যাথার কারণে ২ দাঁতের ব্যাকটেরিয়ার কারণে দাঁতে ব্যাথা হতে পারে। একুশে টেলিভিশন :  পোকা হওয়ার কারণে দাঁতে ব্যাথা করে এটার কোনো ভিত্তি  আছে  কি? অধ্যাপক ডা. মো. শফি উল্লাহ: গ্রামের মানুষের ধারণ দাঁতে পোকায় আক্রান্ত হওয়ার কারণে দাঁতে ব্যাথা দেখা দেয়।এমন ধারণা ভুল। মুলত ব্যাকটেরিয়ার কারণে দাঁতে ব্যথা হতে পারে। আর এই ব্যাকটেরিয়ার খালি চোখে দেখা যায় না। বিভিন্ন কারণে দাতেঁ ব্যাথা দেখা দিতে পারে। একুশে টেলিভিশন : হাড় খেতে গিয়ে যদি দাঁত ভেঙ্গে যায় তাহলে কি করণীয়? অধ্যাপক ডা. মোঃ শফি উল্লাহ: অনেক ভাল একটা কথা বলছেন। হাড় খেতে গিয়ে অবশ্যই আমাদের সর্তক হয়  উচিত।আমারা আমাদের নিজেদের দাতেঁর সর্ম্পকে ভাল জানি। তার হাড় খাওয়ার সময় অনেক সবাইকে অনেক সর্তক হতে হবে। তিনভাবে দাঁত ভাঙ্গতে পারে ।অধিকাংশ সময় দাঁতের প্রথম অংশ ভেঙ্গে।এতে বেশি সমস্যা দেখা যায় না। অনেক সময় দাঁতের মূল শিখড় ভেঙ্গে যায়। অনেক সময় মাঝখান থেকে ভেঙ্গে যেতে পারে। এসময় বেশি সমস্যা দেথা দিতে পারে। তার কিছু খাওয়ার আগে অবশ্যই সর্তক থাকতে হবে। তাহলে এর সমস্যা সমাধান হবে। এসব সমস্যা থেকে আমাদের মুক্তি পেতে সর্তক হতে হবে এবং মুখের যত্ন নিতে হবে। সুস্থ্য থাকার জন্য অবশ্যই মুখটা ভালভাবে পরিস্কার করতে হবে। একুশে টেলিভিশন :  গ্রামের মানুষ অনেকেই পান খায় তাদের দাঁত পরিস্কার রাখার জন্য আপনার পরামর্শ কি ? অধ্যাপক, ডা. মোঃ শফি উল্লাহ:  পান খাওয়াটা দোষের কিছু না কিন্তু পান খাওয়া পরে মুখ পরিস্কার না করলে অনেক সমস্যা দেখা দেয়।  গ্রামের মানুষ অনেকেই পা খাওয়ার পর বিভিন্ন পাউডার নিয়ে দাঁত পরিস্কার করে। কিন্তু এমন পরিস্কারে আসলে ভালভাবে পরিস্কার হয়না। দীর্ঘদিন ধরে পাউডার দিয়ে দাঁত পরিস্কার করার কারণে দাঁতে অনেক সমস্যা দেখা দেয়। একুশে টেলিভিশন : ব্যাথার কারণে অনেক সময় দাঁত তুলে ফেলা হয়। এটা স্বাস্থের জন্য কি ভাল ? অধ্যাপক ডা. মোঃ শফি উল্লাহ: অনেকেই দাঁতের সমস্যার কারণে  দাঁত তুলতে হয়। আমার মনে হয়। দাঁত না তুলে চিকিৎসা বা ওষুদের মাধ্যমে ব্যাথা দূর করার ভাল। কারণ দাঁত তুলতে ৬ ধরনের সমস্যা হতে পারে। অনেক সময় দাঁত তুলে নির্ধারিত স্থান দাঁত বসে না। দাতঁ পরবর্তীতে ব্যাথা হতে পারে। একুশে টেলিভিশন : ঈদের মধ্যে হঠাৎ করে যদি দাঁতে ব্যাথা হয় তাহলে কি করবে ?    অধ্যাপক, ডা. মোঃ শফি উল্লাহ: ঈদের আগে দাঁত ঠিক আছে কি না। এবিষয় এখনি সর্তক থাকা ভাল। আর যদি। একান্ত ব্যাথা দেখা যায়। তাদের রাজধানীর ডেন্টার কেয়ার রয়েছে। এছাড়া এখনতো বড় বড় ডাক্তার অনলাইনেই মিলছে। বেশি সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তারের কাছে ফোন দিয়ে নিতে পারেন। একুশে টেলিভিশন: আপনার মূল্যবান সময় দেওয়া জন্য ধন্যবাদ। অধ্যাপক ডা. মোঃ শফি উল্লাহ: একুশে টিভি পরিবারকেও ধন্যবাদ।  ভিডিও    
ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ, প্রতিকার ও চিকিৎসা

ডেঙ্গু বর্তমান সময়ের সবচেয়ে পীড়াদায়ক রোগের একটি। এই জ্বরে আক্রান্ত একদিকে যেমন দূর্বল হয়ে পড়ে অন্যদিকে এর রেশ শরীরে থেকে যায় দীর্ঘদিন। তবে ডেঙ্গু প্রাণঘাতি কোনো রোগ নয়। বিশ্রাম ও নিয়মমাফিক চললে এ থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া সম্ভব। ডেঙ্গু জ্বর কী ও কিভাবে ছড়ায় ডেঙ্গু জ্বরের উৎপত্তি ডেঙ্গু ভাইরাস দ্বারা এবং এই ভাইরাস বাহিত এডিস ইজিপ্টাই নামক মশার কামড়ে। ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশা কোন ব্যক্তিকে কামড়ালে, সেই ব্যক্তি ৪ থেকে ৬ দিনের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। এবার এই আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোন জীবাণুবিহীন এডিস মশা কামড়ালে, সেই মশাটিও ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশায় পরিণত হয়। এভাবে একজন থেকে অন্যজনে মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়িয়ে থাকে। ডেঙ্গু প্রধানত দুই ধরনের হয়ে থাকে, ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু ফিভার এবং ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার। ডেঙ্গু জ্বর কখন ও কাদের বেশি হয় মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, বিশেষ করে গরম এবং বর্ষার সময়টাতেই ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেশি থাকে। শীতকালে এই জ্বর হয় না বললেই চলে। শীতে লার্ভা অবস্থায় ডেঙ্গু মশা অনেক দিন বেঁচে থাকতে পারে। বর্ষার শুরুতেই সেগুলো থেকে নতুন করে ডেঙ্গু ভাইরাস বাহিত মশা বিস্তার লাভ করে। সাধারণত শহর অঞ্চলে অভিজাত এলাকায়, বড় বড় দালান কোঠায় এই মশার প্রাদুর্ভাব বেশি, তাই ডেঙ্গু জ্বরও এই এলাকার বাসিন্দাদের বেশি হয়। বস্তিতে বা গ্রামে বসবাসরত লোকজনের ডেঙ্গু কম হয় বা একেবারেই হয় না বললেই চলে। ডেঙ্গু ভাইরাস ৪ ধরনের হয়ে থাকে। তাই ডেঙ্গু জ্বরও ৪ বার হতে পারে। যারা আগেও ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গু হলে তা মারাত্মক হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এটি বেশি দেখা যায়। ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণসমূহ ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু জ্বরে সাধারণত তীব্র জ্বর ও সেই সঙ্গে সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা হয়ে থাকে। জ্বর ১০৫ ফারেনহাইট পর্যন্ত হয়ে থাকে। শরীরে বিশেষ করে হাড়, কোমড়, পিঠসহ অস্থি সন্ধি এবং মাংসপেশীতে তীব্র ব্যথা হয়। এছাড়া মাথাব্যথা ও চোখের পিছনে ব্যথা হয়। অনেক সময় ব্যথা এত তীব্র হয় যে মনে হয় বুঝি হাড় ভেঙ্গে যাচ্ছে। তাই এই জ্বরের আরেক নাম “ব্রেক বোন ফিভার”। জ্বর হওয়ার ৪ বা ৫ দিনের সময় সারা শরীরজুড়ে লালচে দানা দেখা যায়, যাকে বলা হয় স্কিন র‌্যাশ, অনেকটা এলার্জি বা ঘামাচির মতো। এর সঙ্গে বমি বমি ভাব, এমনকি বমি হতে পারে। রোগী অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ করে এবং রুচি কমে যায়। সাধারণত ৪ বা ৫ দিন জ্বর থাকার পর তা এমনিতেই চলে যায় এবং কোন কোন রোগীর ক্ষেত্রে এর ২ বা ৩ দিন পর আবার জ্বর আসে। একে “বাই ফেজিক ফিভার”বলে। ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বর এই অবস্থাটাই সবচেয়ে জটিল। এই জ্বরে ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও উপসর্গের পাশাপাশি আরো যে সমস্যাগুলো হয়, তা হল-  শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত পড়া শুরু হয়, যেমন চামড়ার নিচে, নাক ও মুখ দিয়ে, মাড়ি ও দাঁত হতে, কফের সঙ্গে, রক্তবমি, পায়খানার সাথে তাজা রক্ত বা কালো পায়খানা, চোখের মধ্যে এবং চোখের বাহিরে, মহিলাদের বেলায় অসময়ে ঋতুস্রাব অথবা রক্তক্ষরণ শুরু হলে অনেকদিন পর্যন্ত রক্ত পড়তে থাকা ইত্যাদি।     এই রোগের বেলায় অনেক সময় বুকে পানি, পেটে পানি ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। অনেক সময় লিভার আক্রান্ত হয়ে রোগীর জন্ডিস, কিডনীতে আক্রান্ত হয়ে রেনাল ফেইলিউর ইত্যাদি জটিলতা দেখা দিতে পারে। ডেঙ্গু শক সিনড্রোম ডেঙ্গু জ্বরের ভয়াবহ রূপ হল ডেঙ্গু শক সিনড্রোম। ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারের সাথে সার্কুলেটরী ফেইলিউর হয়ে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম হয়। এর লক্ষণ হল-  রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়া।     নাড়ীর স্পন্দন অত্যন্ত ক্ষীণ ও দ্রুত হয়।     শরীরের হাত পা ও অন্যান্য অংশ ঠাণ্ডা হয়ে যায়।     প্রস্রাব কমে যায়।     হঠাৎ করে রোগী জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারে। এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। কখন ডাক্তার দেখাবেন   ডেঙ্গু জ্বরের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। তবে এই জ্বর সাধারণত নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়। তাই উপসর্গ অনুযায়ী সাধারণ চিকিৎসাই যথেষ্ট। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়াই ভালো-       শরীরের যে কোন অংশ থেকে রক্তপাত হলে।     প্লাটিলেটের মাত্রা কমে গেলে।     শ্বাসকষ্ট হলে বা পেট ফুলে পানি আসলে।     প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেলে।     জন্ডিস দেখা দিলে।     অতিরিক্ত ক্লান্তি বা দুর্বলতা দেখা দিলে।     প্রচণ্ড পেটে ব্যথা বা বমি হলে।   কী কী পরীক্ষা করা উচিত   আসলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডেঙ্গু জ্বর হলে খুব বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার দরকার নাই, এতে অযথা অর্থের অপচয় হয়।     জ্বরের ৪-৫ দিন পরে সিবিসি এবং প্লাটিলেট করাই যথেষ্ট। এর আগে করলে রিপোর্ট স্বাভাবিক থাকে এবং অনেকে বিভ্রান্তিতে পড়তে পারেন। প্লাটিলেট কাউন্ট ১ লক্ষের কম হলে, ডেঙ্গু ভাইরাসের কথা মাথায় রেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া উচিত।     ডেঙ্গু এন্টিবডির পরীক্ষা ৫ বা ৬ দিনের পর করা যেতে পারে। এই পরীক্ষা রোগ সনাক্তকরণে সাহায্য করলেও রোগের চিকিৎসায় এর কোন ভূমিকা নেই। এই পরীক্ষা না করলেও কোন সমস্যা নাই, এতে শুধু শুধু অর্থের অপচয় হয়।     প্রয়োজনে ব্লাড সুগার, লিভারের পরীক্ষাসমূহ যেমন এসজিপিটি, এসজিওটি, এলকালাইন ফসফাটেজ ইত্যাদি করা যাবে।     এছাড়াও প্রয়োজনে পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাম, বুকের এক্সরে ইত্যাদি করা যাবে।     চিকিৎসক যদি মনে করেন যে রোগী ডিআইসি জাতীয় জটিলতায় আক্রান্ত, সেক্ষেত্রে প্রোথ্রোম্বিন টাইম, এপিটিটি, ডি-ডাইমার ইত্যাদি পরীক্ষা করতে পারেন।   ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা কী করতে হবে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত বেশির ভাগ রোগী সাধারণত ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়, এমনকি কোনো চিকিৎসা না করালেও। তবে রোগীকে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই চলতে হবে, যাতে ডেঙ্গু জনিত কোনো মারাত্মক জটিলতা না হয়। ডেঙ্গু জ্বরটা আসলে একটা গোলমেলে রোগ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হয়।  সম্পূর্ণ ভালো না হওয়া পর্যন্ত বিশ্রামে থাকতে হবে।  যথেষ্ট পরিমাণে পানি, শরবত, ডাবের পানি ও অন্যান্য তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে।  খেতে না পারলে দরকার হলে শিরাপথে স্যালাইন দেওয়া যেতে পারে। জ্বর কমানোর জন্য শুধুমাত্র প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধই যথেষ্ট। এসপিরিন বা ডাইক্লোফেনাক জাতীয় ব্যথার ঔষধ কোনক্রমেই খাওয়া যাবে না। এতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়বে।     জ্বর কমানোর জন্য ভেজা কাপড় দিয়ে গা মোছাতে হবে।   ডেঙ্গু জ্বর কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়   ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের মূল মন্ত্রই হল এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং এই মশা যেন কামড়াতে না পারে, তার ব্যবস্থা করা। মনে রাখতে হবে, এডিস একটি ভদ্র মশা, অভিজাত এলাকায় বড় বড় সুন্দর সুন্দর দালান কোঠায় এরা বাস করে। স্বচ্ছ পরিষ্কার পানিতে এই মশা ডিম পাড়ে। ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত ড্রেনের পানি এদের পছন্দসই নয়। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার ডিম পাড়ার উপযোগী স্থানগুলোকে পরিষ্কার রাখতে হবে এবং একই সাথে মশক নিধনের জন্য প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।       বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড়, জঙ্গল, জলাশয় ইত্যাদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।     যেহেতু এডিস মশা মূলত এমন বস্তুর মধ্যে ডিম পাড়ে যেখানে স্বচ্ছ পানি জমে থাকে, তাই ফুলদানি, অব্যবহৃত কৌটা, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার ইত্যাদি সরিয়ে ফেলতে হবে। ব্যবহৃত জিনিস যেমন মুখ খোলা পানির ট্যাংক, ফুলের টব ইত্যাদিতে যেন পানি জমে না থাকে, সে ব্যবস্থা করতে হবে।     ঘরের বাথরুমে কোথাও জমানো পানি ৫ দিনের বেশি যেন না থাকে। একুরিয়াম, ফ্রিজ বা এয়ার কন্ডিশনারের নিচেও যেন পানি জমে না থাকে।     এডিস মশা সাধারণত সকাল ও সন্ধ্যায় কামড়ায়। তবে অন্য সময়ও কামড়াতে পারে। তাই দিনের বেলা শরীর ভালোভাবে কাপড়ে ঢেকে বের হতে হবে, প্রয়োজনে মসকুইটো রিপেলেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। ঘরের চারদিকে দরজা জানালায় নেট লাগাতে হবে।     দিনে ঘুমালে মশারি টাঙিয়ে অথবা কয়েল জ্বালিয়ে ঘুমাতে হবে।     বাচ্চাদের যারা স্কুলে যায়, তাদের হাফপ্যান্ট না পরিয়ে ফুল প্যান্ট বা পায়জামা পরিয়ে স্কুলে পাঠাতে হবে।     ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই সব সময় মশারির মধ্যে রাখতে হবে, যাতে করে রোগীকে কোন মশা কামড়াতে না পারে। মশক নিধনের জন্য স্প্রে, কয়েল, ম্যাট ব্যবহারের সাথে সাথে মশার কামড় থেকে বাঁচার জন্য দিনে ও রাতে মশারী ব্যবহার করতে হবে।  ডেঙ্গু জ্বর হয়ত বা নির্মূল করা যাবে না। এর কোন ভ্যাক্সিনও বের হয় নাই, কোন কার্যকরী ঔষধও আবিস্কৃত হয় নাই। ডেঙ্গু জ্বরের মশাটি আমাদের দেশে আগেও ছিল, এখনও আছে, মশা প্রজননের এবং বংশবৃদ্ধির পরিবেশও আছে। তাই ডেঙ্গু জ্বর ভবিষ্যতেও থাকবে। একমাত্র সচেতনতা ও প্রতিরোধের মাধ্যমেই এর হাত থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব।  লেখক : ডীন, মেডিসিন অনুষদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।  

আলসারের কারণ ও প্রতিকার

পেপটিক আলসার খুব প্রচলিত রোগ। বিভিন্ন কারণে এ সমস্যা হতে পারে। খাদ্যগুলো পাকস্থলীতে জমা হয়। সেখান থেকে এসিড নিঃসরণ হয়। এই এসিড নিঃসরণ যেন চারদিকে না ছড়িয়ে যায়, তার জন্য কিছু ব্যবস্থা আছে মানুষের শরীরে। সব সময় এটি একটি ভারসাম্যের মধ্যে থাকে। এই ভারসাম্য যদি কোনো কারণে এসিডের দিকে বেশি চলে যায় এবং উপাদানের ক্ষমতা যদি কমে আসে, তাহলে পেপটিক আলসার হতে পারে। আলসার মানে সহজ বাংলায় হলো ঘা। ঘায়ে যদি দীর্ঘসময় সুরক্ষা ক্ষমতা না থাকলে আলসার হতে থাকবে। সহজ ভাষায় বললে পেপটিক হলো খাদ্যভার পাকস্থলীর ঘা। অনেক কারণে এটি হতে পারে। অনেকে ভাবে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য খেলে কি গ্যাসট্রিক হয়। অথবা শুধু ঝাল খেলে হয়। শুধু ঝাল খেলে যে গ্যাসট্রিক আলসার হবে এমন কোনো প্রমাণ নেই। কিন্তু দেখা গেছে যারা অনেক বেশি টিনজাত খাবার খায় বা খাবার সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন পদার্থ আছে, এর ব্যবহার করলে তার গ্যাসট্রিক আলসার হওয়ার প্রবণতা বেশি। আবার শরীরে ক্যালসিয়ামের মাত্রা অনেক বেড়ে গেলে গ্যাসট্রিক বা পেপটিক আলসার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। হ্যালিকোবেকটার পাইলোরি নামের একটি ব্যাকটেরিয়া আছে। এটি ক্ষুদ্রান্ত্রে থাকে। এসিডের মাত্রা অথবা সুরক্ষার ক্ষমতা বেড়ে গেলে ব্যাকটেরিয়া চলে আসে। তখন এই আলসার অথবা ঘাকে ধীরে ধীরে বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই সমস্যার শুরুতেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন, ভালো থাকুন। লেখক: অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান হেপাটোলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় / এআর /

সর্দি-কাশিতে কাবু? ওষুধ ছাড়াই সেরে উঠবেন যেভাবে   

হঠাৎ করে বৃষ্টি, তো এই গুমোট গরম। তার উপর টানা নিম্নচাপে সূর্যের দেখা নেই। এমন আবহাওয়ায় সব থেকে বেশি ভোগায় সর্দি-কাশি। সাধারণ অবস্থায় সর্দি-কাশিকে আমরা খুব একটা আমল দিই না। বাজারচলতি ওষুধেই কাজ সারেন অনেকে। কিন্তু এই অবস্থা দীর্ঘমেয়াদি হলে তখনই সমস্যায় পড়তে হয়। অবহেলার জেরে অসুখের বাড়বাড়ন্ত নাজেহাল করে ছাড়ে। বুকে কফ জমে শ্বাসকষ্ট, সঙ্গে জ্বর। এই ভাবেই সাধারণ ঠান্ডা লাগা থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ি আমরা।    সর্দি-কাশির বাড়াবাড়ি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ তো নিতেই হবে, প্রয়োজন পড়তে পারে অ্যান্টিবায়োটিকেরও। কিন্তু প্রথম অবস্থাতেই যদি একটু সচেতন হন, তা হলে ঘরোয়া কিছু উপায় অবলম্বন করলেই সর্দি-কাশির হাত থেকে নিস্তার মিলবে। ঠিক কোন কোন ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করলে এই সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি মিলবে জেনে নিন। -অ্যাপল সিডার ভিনিগার ও মধুর মিশ্রণ এই সময় খুব উপকারী। ঈষদুষ্ণ জলে দু’চামচ অ্যাপল সিডার ভিনিগারের সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে দিনে বার দুয়েক খান। বুকে শ্লেষ্মার সমস্যা কমবে। -তুলসি পাতা, বাসক পাতা ও তালমিছরি দিয়ে পানি ফোটান। সেই ফোটানো পানিতে আদার রস মেশান। প্রতি দিন এক কাপ করে এই মিশ্রণ গরম গরম খান। ঠান্ডা লাগার প্রবণতা কমাবে এই মিশ্রণ। বুকে শ্লেষ্মা বসে থাকলে তা থেকেও দ্রুত নিষ্কৃতি মিলবে। -গরম জলে সামান্য নুন ফেলুন। এ বার মাথায় তোয়ালে চাপা দিয়ে, বড় করে শ্বাস নিয়ে, গরম জলের ভাপ নিন। এ ভাবে অন্তত ১০ মিনিট করে দিনে ২ বার করুন, উপকার পাবেন। এর পর পরেই চলন্ত পাখার নীচে চলে আসবেন না। তাতে হিতে বিপরীত হয়। -শ্লেষ্মায় খুব উপকারী হলুদ। এর অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান শ্বাসনালীর পথ পরিষ্কার করে। প্রতি দিন সকালে কাঁচা হলুদ চিবিয়ে খেলেও ঠান্ডা লাগার হাত থেকে বাঁচা যায়। এক গ্লাস গরম জলে সামান্য হলুদগুঁড়ো মিশিয়ে খান। ভাল ফল পেতে দুধে অল্প হলুদ ফেলে ফোটান। সঙ্গে খানিকটা মধু দিন। দিনে বার তিনেক এই মিশ্রণ খান। মধুর মধ্যেও জীবাণুনাশক নানা উপাদান থাকে। গলা ভেঙে গেলে বা বুকে শ্লেষ্মা থাকলে এই মিশ্রণ খেলে উপকার পাবেন। সূত্র: আনন্দবাজার এসি    

সিঁড়ি দিয়ে হাঁটুন, বাড়বে আয়ু : গবেষণা   

আমাদের জীবনযাত্রায় দিন দিন মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বয়স হয়ে গেছে তাই মৃত্যু হচ্ছে এমনটা কিন্তু নয়। বিভিন্ন অসুস্থতার কারণেই মানুষের জীবনে মৃত্যু ঘনিয়ে আসছে। আর এই অসুস্থতার জন্য আমরাই দায়ী। শরীর সুস্থ রাখতে এমন কিছু কাজ আছে সেসব কাজ অনেকেই গুরুত্ব দেই না।      সাধারণত উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, ওজন বৃদ্ধি এইসব রোগ যেন এখন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেশিরভাগ মানুষই এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা গবেষণা করে জানিয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে সুস্থভাবে বাঁচতে সিঁড়ি ব্যবহার করা অতি জরুরী। এমনকি চিকিৎসকরাও এই ধরনের রোগীদের সিঁড়ি ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এছাড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, সিঁড়ি ব্যবহারে আয়ু বাড়ে।  সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণায় জানা গেছে, সিঁড়ি দিয়ে ওঠা নামা করার সময় সারা শরীরে রক্তের প্রবাহ এতটা বেড়ে যায় যে রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রায় নেমে আসতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের মতো মরণব্যাধি রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমে যায়। এতে মৃত্যুর সংখ্যাও কমে আসে। এখানেই শেষ নয়, সিঁড়ি দিয়ে ওঠা নামা করলে শারীরিক উপকার অনেক পাওয়া যায়। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করলে শরীরের উপকারি হরমোনের ক্ষরণ যেমন বেড়ে যায়, তেমনি শরীরের প্রতিটি পেশীর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের সরবরাহ বেড়ে যায় এবং স্বাভাবিকভাবেই প্রতিটি অঙ্গের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফলে জীবনযাত্রার আয়ু বেড়ে গিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনে। তবে একটা সিঁড়ি ভাঙার পরিবর্তে যদি একসঙ্গে দুটো করে সিঁড়ি টপকে টপকে ওঠা যায়, তাহলে আরও বেশি উপকার পাওয়া যায়।   অনেকেরই অতিরিক্ত ওজনের কারণে মৃত্যুর দিকে ঝুঁকে পড়েন। তাদের ক্ষেত্রে লিফট ব্যবহার না করাই ভালো, সিঁড়ি ব্যবহার তাদের জন্য উত্তম। কারণ নিয়মিত সিঁড়ি ভাঙার অভ্যাস করলে শারীরিক সচলচতা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে শরীরে জমতে থাকা অতিরিক্ত ক্যালরি ঝরতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ওজন কমার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়, যা লিফট ব্যবহার করলে কখনই সম্ভব হত না।       তথ্যসূত্র : বোল্ডস্কাই। কেএনইউ/এসি      

কিডনি রোগের কারণ ও প্রতিকার : ডা. এম এ সামাদ

কিডনি দেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। কিডনি রোগ খুব নীরবে শরীরের ক্ষতি করে। খুব জটিল অবস্থা না হওয়া পর্যন্ত সাধারণত লক্ষণগুলো প্রকাশ চাই না। এছাড়া যখন লক্ষণগুলো প্রকাশ পায় তখন চিকিৎসা করা অনেক ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। তবে একটু  সচেতন হলেই এ রোগ অনেকটায় প্রতিরোধ করা যায় বলে জানিয়েছেন বিশিষ্ট কিডনী রোগ বিশেষজ্ঞ ও বিআরবি হাসপাতলের কিডনি বিভাগের প্রধান এবং চীফ কনসালট্যান্ট প্রফেসর ডা. এম এ সামাদ। সম্প্রতি স্বাস্থ্য, রোগ-ব্যাধি, সুস্থতা নিয়ে একুশে টেলিভিশনের নিয়মিত সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান দ্যা ডক্টর’স। অনুষ্ঠানে এসে তিনি এসব কথা জানান। অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করেন, অধ্যাপক ডা. ইকবাল হাসান মাহমুদ। শ্রুতি লেখক একুশে টিভি অনলাইন প্রতিবেদক তবিবুর রহমান। পাঠকদের  সুবিধাতে অনুষ্ঠানের  সম্পূর্ণ আলোচনাটি একুশে টিভি অনলাইনে তুলে ধরা হলো। একুশে টিভি অনলাইন: কিডনী রোগের লক্ষণ প্রফেসর ডা. এম এ সামাদ: কিডনি রোগের উপসর্গগুলোর সঙ্গে অন্য স্বাস্থ্য সমস্যার উপসর্গের মিল আছে। তাই পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া বল মুসকিল। তবে প্রথমে কিছু লক্ষণ দেখা দেয় সেগুলো হল, ঘুমের সমস্যা হওয়া, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া ও ফেটে যাওয়া, ঘন ঘন প্রস্রাব করা, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত গেলে, প্রস্রাবে বেশি ফেনা হলে, চোখের চারপাশে ফুলে গেলে, ক্ষুধা কমে গেলে, অনেকের মাঝে মাঝে মাজায় ব্যাথা করে। এমন হলে অনেকেই ধারণা করে তাদের কিডনিতে সমস্যা আছে। এমন ধারণা করা ভুল, বিভিন্ন কারণে মাজায় ব্যথা হতে পারে। এজন্য আগে পরিক্ষা-নিরীক্ষা করে জানা দরকার আসলেই কিডনি সমস্যা আছে কি না। অনেকের প্রায়ই রাতেরবেলা মূত্রত্যাগের প্রয়োজন হয়। এটাও কিডনি রোগের লক্ষণ। যখন কিডনির ছাঁকনি গুলো নষ্ট হয়ে যায় তখন প্রস্রাবের বেগ বৃদ্ধি পায়। ঘন ঘন মূত্রত্যাগ ইউরিন ইনফেকশনের ও লক্ষণ হতে পারে, পুরুষের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট গ্লেন্ড বড় হয়ে গেলেও এই উপসর্গ দেখা দেয়। একুশে টিভি অনলাইন:  যদি কোন ব্যক্তির দুই কিডনিতে পাথর হয়। তাহলে তার করণীয় বা কি কারণে পাথর হয় যদি বলতেন ? প্রফেসর ডা. এম এ সামাদ: বিভিন্ন কারণে কিডনিতে পাথর হতে পারে। অনেক সময় পানি কম পান করলে পাথর হতে পাবে। কোন ব্যক্তির একবার পাথর হলে, ৫ বছর পর  আবার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই অবশ্যই পানি বেশি করে পান করতে হবে। একুশে টিভি অনলাইন: কিডনি ভালো রাখার উপায় কি ? প্রফেসর ডা. এম এ সামাদ: ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের নিয়মিত রক্তের শর্করা এবং প্রস্রাবের অ্যালবুমিন পরীক্ষা করা ও রক্তের হিমোগ্গ্নোবিন এওয়ানসি নিয়ন্ত্রণে রাখা। উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা। (১৩০/৮০-এর নিচে যাদের প্রস্রাবে অ্যালবুমিন থাকে তাদের ১২০/৭০-এর নিচে)। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের কিডনির কার্যকারিতা প্রতি ৬ মাস অন্তর পরীক্ষা করা। শিশুদের গলা ব্যথা, জ্বর ও ত্বকে খোস-পাঁচড়ার দ্রুত সঠিক চিকিৎসা করা উচিত। কারণ এগুলো থেকে কিডনি প্রদাহ বা নেফ্রাইটিস রোগ দেখা দিতে পারে। একুশে টিভি অনলাইন: দ্য ডক্টর`স অনুষ্ঠানে আসার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ প্রফেসর ডা. এম এ সামাদ: একুশে পরিবাকেও ধন্যবাদ।   টিআর/

৮০% জরায়ুমুখ ক্যান্সার ভালো হয়

জননাঙ্গের সব রোগের মধ্যে সবচেয়ে জটিল জরায়ু মুখ ক্যান্সার। তবে এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রতিরোধযোগ্য। সমাজে যদি এ সচেতনতা আসে তাহলে এ ক্যান্সার বহুলাংশে কমানো সম্ভব। জরায়ুমুখ ক্যান্সার বিশ্বের দ্বিতীয় প্রধান ক্যান্সার। প্রতি বছর ৪ লাখ ৭০ হাজার নারী এ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। এরমধ্যে ৫০% নারীই মৃত্যুবরণ করেন। বাংলাদেশেও এই ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। ১২ হাজার ৫শ নারী। ঘন্টায় ১ জন করে মারা যান। তবে নারী দেহের ও যৌনাঙ্গের এই ক্যান্সারই সর্বাধিক সফলভাবে প্রতিরোধ যোগ্য। সচেতনতাই পারে এই ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে। সাধারণত ২০ বছরের নিচে এ রোগ হয় না। আক্রান্তরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ৩৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সী হয়ে থাকেন। জরায়ুমুখ ক্যান্সার ক্যান্সারে রূপান্তরিত হতে একটু বেশি সময় নেয়। স্বাভাবিক কোষগুলো ক্যান্সার কোষে রূপান্তরিত হতে ১০-২০ বছর সময় নেয়। ক্যান্সার কোষে রূপান্তর হলে রোগটি দ্রুত বাড়তে থাকে। কখনও পিন্ডের মতো আকার ধারণ করে কখনও ঘা এর মতো হয়। তখন বিভিন্ন লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। এ থেকে বাঁচার জন্য প্রথমেই আচরণগত প্রতিরোধের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। যেমন: বাল্য বিবাহ রোধ, ধূমপান করা, পানের সঙ্গে জর্দা, সাদা পাতা, দাঁতের গোড়ায় গুল ইত্যাদি কারণে এই ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ে বিধায় তা প্রতিরোধ করতে হবে। সুষম খাবার গ্রহণ, ফলমূল শাকসব্জি খাওয়া, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত, সুশৃঙ্খল জীবন যাপন ও সামাজিক অনুশাসন মান্য করা এই রোগ প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালণ করে। দ্বিতীয়ত জরায়ুমুখে ক্যান্সার প্রতিরোধক টিকা নেওয়া যায়। বাজারে `গার্ডাসিল` ও ` সারভারিক্স` নামে ভ্যাক্সিন পাওয়া যায়। সাধারণত ১০ বছরের পর থেকেই এই টিকা নেওয়া যাবে। প্রথম ডোজের এক মাস পর দ্বিতীয় ডোজ এবং প্রথম ডোজের ছয় মাস পর তৃতীয় ডোজ টিকা নিতে হয়। আমেরিকার FDA অনুযায়ী ৯-২৫ বছর বয়সে এ টিকা কার্যকর হয়। গর্ভাবস্থায় এ টিকা প্রদানের অনুমোদন নেই। ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে যাওয়ার পর এ টিকা আর কোন কাজে আসে না। তৃতীয় ও সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা হলো যথাযথ স্ক্রীনিং। ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মী সহজে জরায়ুমুখ দেখতে এবং পরীক্ষা করতে পারেন। রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগে জরায়ু মুখে অনেকদিন ধরে একটি ক্যান্সার পূর্ব অবস্থা বুঝা যায় কিংবা ভবিষ্যতে ক্যান্সারের আশংকা আছে কিনা তা নির্ণয় করা যায়। Pap smear এবং via হলো এরকমই স্ক্রীনিং টেস্ট। VIA আমাদের দেশে সব সরকারি বড় হাসপাতালে বিনামূল্যে সহজেই করা যায়। ১৮ থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত নারীদের বছরে একবার এই পরীক্ষা করা উচিত। পরপর দুই বার নেগেটিভ হলে ৩ বা ৫ বছর পরপর দুইবার পরীক্ষা করাবেন। জরায়ু মুখের ক্যান্সারের চিকিৎসা রোগের ধাপ অনুযায়ী হয়ে থাকে। যদি কারো ক্যান্সার পূর্ব অবস্থা (CIN) থাকে তাহলে তা নিয়মিত স্ক্রীনিং করে জরায়ুমুখে সামান্য সেক দিয়ে অথবা LEEP এর মাধ্যমে সারানো যায়। বয়স্ক মহিলা হলে জরায়ু ফেলে দেওয়া যায়। যদি ক্যান্সার হয়ে যায় তাহলে ক্লিনিকাল স্টেজিং করা হয়। রোগীকে অজ্ঞান করে স্টেজিং করা হয়। এবং বায়োপসি নেওয়া হয়। ক্যান্সার কতোটা ছড়িয়েছে তা দেখা হয় স্টেজিং এর মাধ্যমে। স্টেজ- ১ এবং স্টেজ- ২ কিছু ক্ষেত্রে অপারেশন করা হয়। এই অপারেশনটি খুবই জটিল এবং নির্দিষ্ট হাসপাতালে হয়ে থাকে। স্টেজগুলোতে রেডিও থেরাপি অথবা কেমোথেরাপী দেওয়া যেতে পারে। জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতের ক্যান্সার ইপিডেমিওলজি বিভাগ থেকে সর্বশেষ প্রকাশ করা প্রতিবেদন মতে, ২০০৫ সালে মোট ২ হাজার ২৭৫ জন নারী রোগীর মধ্যে জরায়ুমুখ ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা ৫৬১ জন। তথ্য আছে, PAP SMEAR করে জরায়ুমুখ ক্যান্সার ৮০% এবং এর ফলে মৃত্যু ৭০% কমানো সম্ভব। নিরাপদ যৌন মিলন, জরায়ুমুখ টিকা, VIA, PAP SMEAR এর মাধ্যমে যেমন এই ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায় তেমনি তাড়াতাড়ি রোগ নির্ণয় হলে সফল চিকিৎসার মাধ্যমে বহুলাংশে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তাই সবার মধ্যে এ ব্যাপারে জনসচেতনতা খুবই দরকার। লেখক পরিচিতি: ডা. উম্মুল খায়ের মাহমুদা একজন প্রসূতি, স্ত্রী ও বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ এবং সার্জন। তিনি শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও শমরিতা হাসপাতালে কাজ করেন। email: mahmudak50@gmail.com অনুলেখক: আলী আদনান। / এআর /

লিভার অ্যাবসেসের লক্ষণ ও চিকিৎসা

লিভার অ্যাবসেস অর্থ লিভারের ফোড়া- আৎকে ওঠার মত বিষয়ই বটে। ছোট ফোড়াতেই যখন কত বিড়ম্বনা সেখানে খোদ লিভারের ফোড়া বলে কথা। কথাটা আসলে আংশিক সত্যি। কারণ এ কথা ঠিক যে, লিভারের ফোড়া ফেটে গিয়ে তা রোগীর মৃত্যুর কারণও হতে পারে। তবে আজকের দিনে সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণে এ ধরণের ঘটনা খুবই বিরল। লিভারের ফোড়া কেন হয়? লিভারে মুলত: দুই ধরণের ফোড়া হয়, পায়োজেনিক ও অ্যামিবিক। ইকোলাই, স্টাফাইলোকক্কাই, স্ট্রেপ্টোকক্কাই, ক্লেবসিয়েলা ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়া পায়োজেনিক লিভার অ্যাবসেসের জন্য দায়ী, আর এ্যমিবিক লিভার অ্যাবসেস হয় এ্যমিবা থেকে। তবে এসব জীবাণু ঠিক কি কারণে লিভারে ফোড়া তৈরি করে তা সবসময় জানা যায় না। ডায়াবেটিস, এপেন্ডিসাইটিস, গ্যাস্ট্রোএন্টারাইটিস, রক্তের ইনফেকশন, নবজাতকের নাভির ইনফেকশন, অতিরিক্ত মদ্যপান, পেটে আঘাত পাওয়া ইত্যাদি নানা কারণে লিভারে ফোড়া হতে পারে। একজন রোগীর লিভারে একটি বা একাধিক ফোড়া থাকতে পারে। রোগের লক্ষণ লিভারের ফোড়ার কোনো বিশেষ লক্ষণ নেই। রোগীদের সাধারণতঃ খাবারে অরুচি, জ্বর ও পেটে ব্যাথা থাকে। আনেক সময় কাশি কিংবা ডান কাধে ব্যাথা থাকতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে রোগীর জন্ডিস হতে পারে। রোগ নির্ণয় রক্ত পরীক্ষা লিভার অ্যাবসেস নির্ণয়ে খুব বেশী কার্যকর নয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্লাড কালচারে জীবাণু ধরা পড়তে পারে। লিভার অ্যাবসেসের জন্য মুল পরীক্ষা হলো পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাম। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রোগের শুরুতে আল্ট্রাসনোগ্রামে এ্যাবসেস ধরা পরে না। এজন্য ৭-১০ দিন পর আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপিট করলে ভালো। সিটি স্ক্যান ও এম আর আই আল্ট্রাসনোগ্রামের চেয়ে ভালো হলেও এসব পরীক্ষায় খরচ বহুগুণ বেশী। আর বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই অপ্রয়োজনীয়ও বটে। লিভার অ্যাবসেসের চিকিৎসা লিভার অ্যাবসেস সাধারণত এন্টিবায়োটিকেই সেরে যায়। তবে লিভার থেকে পুজ বের করে দেয়াটা জরুরি - বিশেষ করে লিভারে যদি বড় বা একাধিক অ্যাবসেস থাকে। একসময় এজন্য অপারেশনের প্রয়োজন পরলেও আজ আর তার দরকার পরে না। এখন আমরা লোকাল এনেসথেসিয়া করে খুব অল্প খরচে আল্ট্রাসনোগ্রাফি গাইডেনন্সে লিভার থেকে পুজ বের করতে পারি। আর এরপর এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে লিভারের ফোড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেরে যায়। শেষ কথা আমাদের মত দেশে লিভার অ্যাবসেস বেশ কমন একটি রোগ। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির কল্যাণে এটি আজ আর কোনো মারাত্বক ব্যাধি নয়। শুধু যা জরুরি তা হলো সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করা। কারণ লিভার অ্যাবসেস ফেটে গিয়ে পুজ হার্ট, ফুসফুস কিংবা পেটের ভিতরে যেয়ে জীবণ সংশয়ের কারণও হতে পারে। লেখক: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান। / এআর /

জরায়ু ক্যানসারের লক্ষণ

জরায়ুমুখ ক্যান্সার বিশ্বের দ্বিতীয় প্রধান ক্যান্সার। প্রতি বছর ৪ লাখ ৭০ হাজার নারী এ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। এরমধ্যে ৫০% নারীই মৃত্যুবরণ করেন। বাংলাদেশেও এই ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। ১২ হাজার ৫শ নারী। ঘন্টায় ১ জন করে মারা যান। তবে নারী দেহের ও যৌনাঙ্গের এই ক্যান্সারই সর্বাধিক সফলভাবে প্রতিরোধ যোগ্য। সচেতনতাই পারে এই ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে। সাধারণত ২০ বছরের নিচে এ রোগ হয় না। আক্রান্তরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ৩৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সী হয়ে থাকেন। জরায়ুমুখ ক্যান্সার ক্যান্সারে রূপান্তরিত হতে একটু বেশি সময় নেয়। স্বাভাবিক কোষগুলো ক্যান্সার কোষে রূপান্তরিত হতে ১০-২০ বছর সময় নেয়। ক্যান্সার কোষে রূপান্তর হলে রোগটি দ্রুত বাড়তে থাকে। কখনও পিন্ডের মতো আকার ধারণ করে কখনও ঘা এর মতো হয়। তখন বিভিন্ন লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। ক্যান্সার পূর্ব অবস্থা (CIN) থাকলে রোগীর শরীরে সাধারণত কোন উপসর্গই থাকে না। ফলে স্ক্রীনিং টেস্ট ছাড়া তা নির্ণয় করা যায় না। সাধারণত ক্যান্সারে রূপান্তর হলে, নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা যায়। ১. মাসিকের সময় প্রস্রাবের রাস্তায় অনিয়মিত রক্তক্ষরণ হয় ২. সহবাসের পর রক্তক্ষরণ হয় ৩. জরায়ুমুখ স্পর্শ মাত্রই সেখান থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে ৪. কোনো ধরনের ইনফেকশনের কারণে মাসিকের রাস্তা দিয়ে সাদা ও ঘন বা বাদামী রঙের দুর্ঘন্ধযুক্ত তরল স্রাব নি:সরন ৫. ঋতু সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ১ বছর পরেও রক্তস্রাব দেখা দিতে পারে ৬. তলপেটে ব্যাথা হতে পারে ৭. শেষের দিকে প্রস্রাব পায়খানা করতে সমস্যা, পিঠে ব্যাথা, শরীর ফুলে যাওয়া ও রক্তশুণ্যতা ইত্যাদি হতে পারে। লেখক পরিচিতি: ডা. উম্মুল খায়ের মাহমুদা একজন প্রসূতি, স্ত্রী ও বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ এবং সার্জন। তিনি শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও শমরিতা হাসপাতালে কাজ করেন। email: mahmudak50@gmail.com অনুলেখক: আলী আদনান।

হেপাটাইটিসে দেশে ২০ হাজার মানুষের মৃত্যু  

শনিবার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় হেপাটাইটিস দিবস। ২০১০ সাল থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে প্রতিবছর পালিত হয়ে আসছে দিবসটি। এই দিবসে সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসচেতনতার আহ্বানের মাধ্যমে পালিত হল হেপাটাইটিস দিবস, যে রোগ প্রতিবছর ২০ হাজার মানুষের মৃত্যু ডেকে আনে বাংলাদেশে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রতিবছর দেশে ২০ হাজার মানুষ হেপাটাইটিস রোগে মারা যাচ্ছেন। বিশ্বে মারা যাচ্ছেন এক কোটি ৪০ লাখ। ২০৩০ সাল নাগাদ হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াবে ২ কোটিতে। বাংলাদেশে ২১ শতাংশ হেপাটাইটিস রোগ ছড়ায় নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালনের অভাবে। সাধারণত ব্যবহৃত সিরিঞ্জ বা সুঁই এবং দূষিত রক্ত শরীরে নিলে হেপাটাইটিস বি ও সি ছড়ায়, আর হেপাটাইটিস এ ও ই ভাইরাস ছড়ায় সাধারণত খাবার ও পানীয়র মাধ্যমে।   সচেতনতা, বিশুদ্ধ খাবার পানীয়, নিরাপদ ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ ব্যবহার এবং নিরাপদ ও বিশুদ্ধ রক্ত গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগের প্রতিকার সম্ভব। বিশেজ্ঞরা বলেন, হেপাটাইটিস এ, বি, সি ও ই-ভাইরাসের কারণে লিভার রোগের প্রকোপ বেশি। আর এর মধ্যে আবার হেপাটাইসিস বি ও সি ভাইরাস লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সারের জন্য দায়ী। হেপাটাইটিস দিবস এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদও সচেতনতার উপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, “যথাযথ ধারণা না থাকায় দেশে এইরোগে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার পাশাপাশি জনগণের মধ্যে এর প্রতিরোধে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করা গেলে হেপাটাইটিস নির্মূল সম্ভব।” প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বাণীতে বলেন, “আমরা হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস প্রতিরোধ এবং নিরাময়ের জন্য জনগণের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে নানামুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।” বিভিন্ন গবেষণায় দেখো যায়, বাংলাদেশে শতকরা ৬ জন হেপাটাইটিস বি এবং শতকরা শূন্য দশমিক ৯ ভাগ অর্থাৎ প্রায় ১ শতাংশ মানুষ হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে আক্রান্ত। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক গবেষণা থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের শেষ দিকে হেপাটাইটিস বি আক্রান্তদের মধ্যে মাত্র শতকরা ৯ শতাংশ এবং হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে মাত্র ২০ শতাংশ রোগীর রোগ নির্ণয়ের আওতায় আসলেও হেপাটাইটিস বি এর ৮ শতাংশ ও সি এর ৭ শতাংশ রোগী চিকিৎসা নিতে সমর্থ হয়েছেন। গবেষকরা বলছেন, অত্যন্ত জটিল রোগে আক্রান্ত এ রোগীদের মধ্যে শতকরা ৯০ ভাগই চিকিৎসার আওতায় আসে না। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে হেপাটাইটিস বি আক্রান্তদের ৯০ শতাংশ ও সি ভাইরাসে আক্রান্তদের ৮০ শতাংশ রোগীর রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার আওতায় নিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার বিভাগের চেয়ারম্যান ও সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের ফর দি স্টাডি অব দি লিভার (এসএসএএসএল) এর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ৫ থেকে ৬ কোটি মানুসের মধ্যে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের সংক্রমণ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ লাখ থেকে এক কোটি মানুষ দীর্ঘমেয়াদিভাবে এ রোগে আক্রান্ত। এই রোগীরা জীবনের কোনো না কোনো সময় লিভার সিরোসিস বা লিভার ক্যান্সারের মতো আরও কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। অধ্যাপক ডা. মাহতাব বলেন, “আমাদের দেশে ২১ শতাংশ হেপাটাইটিস রোগ ছড়ায় নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালনের অভাবে। সাধারণত ব্যবহার হওয়া সিরিঞ্জ এবং দূষিত রক্ত শরীরে নিলে হেপাটাইটিস বি ও সি ছড়ায়, আর হেপাটাইটিস এ ও ই ভাইরাস ছড়ায় সাধারণত খাবার ও পানীয়র মাধ্যমে।” ন্যাশনাল লিভার ফাউন্ডেশনের অব বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন, এই ভাইরাসটি যদি দ্রুততম সময়ে চিহ্নিত করে চিকিৎসা দেওয়া হয় তবে সিরোসিস এবং লিভার ক্যান্সার থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। “তবে অনেক ব্যক্তিই বুঝতে পারেনা তার লিভার অকার্যকর হয়ে পড়েছে। লিভার খুবই শক্তিশালী এমনকি অকার্যকর অবস্থাতেও এটা শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে লিভারের ক্ষতিসাধন হতে থাকলে এটা আর নিজ থেকে ঠিক হতে পারেনা।” সূত্র: হেলথ নিউজ এসি    

বাংলাদেশে এক নিরব ঘাতকের ভুমিকায় হেপাটাইটিস সংক্রমণ  

বাংলাদেশে হেপাটাইটিস সংক্রমণকে এক নীরব ঘাতক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে দেখা যায়, বাংলাদেশে হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসে প্রায় এক কোটি মানুষ আক্রান্ত। বেসরকারি হিসেবে হেপাটাইটিসে প্রতি বছর ২০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় বাংলাদেশে। হেপাটাইটিস নিয়ে উদ্বেগের সবচে বড় কারণ হচ্ছে সারা বিশ্বে হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসে সংক্রমিত দশজনের মধ্যে নয়জনই জানেন না যে শরীরে এই ভাইরাস তারা বহন করছে।   এছাড়া এ রোগে আক্রান্তরা অনেকক্ষেত্রেই সুচিকিৎসা পান না। আর বাংলাদেশে হেপাটাইটিসে আক্রান্তদের একটা বড় অংশ ঝাড়ফুঁক, পানি পড়া, ডাব পড়া নেয়ার মতো কবিরাজি চিকিৎসার দ্বারস্থ হন। এ হেপাটাইটিস সংক্রমণ বাংলাদেশে জনসাধারণের মধ্যে জন্ডিস রোগ হিসেবে পরিচিত। প্রকৃত অর্থে হেপাটাইটিস হলো ভাইরাসজনিত লিভারের রোগ। চিকিৎসা বিজ্ঞানে ৫ ধরনের হেপাটাইটিস রয়েছে। হেপাটাইটিস এ এবং ই স্বল্পমেয়াদী লিভার রোগ। এটি বিশ্রাম নিলে এক পর্যায়ে সেরে ওঠে। তবে প্রাণঘাতী হচ্ছে হেপাটাইটিস বি এবং সি ভাইরাসের সংক্রমণ। ঢাকার রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, হেপাটাইটিসের যে ৫ রকম ভাইরাস আছে তার সবগুলোর সংক্রমণই বাংলাদেশে আছে। এ বছরও চট্টগ্রামে হেপাটাইটিস ই ভাইরাসের একটি প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে এবং এখন পর্যন্ত তিনজন মারা গেছে। "হেপাটাইটিসের পাঁচ রকমের ভাইরাসেরই রোগী আমাদের দেশে আছে। ই ভাইরাসেই সবচে বেশি মানুষ ভোগে। আমাদের দেশে যদি কোনো প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় সেটা মূলত ই ভাইরাসের আউট ব্রেক হয়। কারণ এটা ছড়ায় বেশি। ই ভাইরাস মূলত পানির মাধ্যমে ছড়ায়। এবং গত দুই-তিন বছরে আমরা প্রতিবছর একটা ই ভাইরাসের আউট ব্রেক দেখতে পাচ্ছি।" চিকিৎসকরা জানান, হেপাটাইটিস এ এবং ই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে আক্রান্তদের তিন শতাংশ মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হয়। আর হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস ছড়ায় মূলত রক্ত এবং মানবদেহের তরল পদার্থের মাধ্যমে। ন্যাশনাল লিভার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী বলেন, ``হেপাটাইটিস বাংলাদেশে এটা একটা নীরব ঘাতক। বিশ্বে যত মানুষের লিভার ক্যান্সার হয় তার ৮০ ভাগ ক্ষেত্রেই দায়ী হচ্ছে এই হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস। পৃথিবীতে গড়ে প্রতিদিন ৪ হাজার মানুষ লিভার রোগে মারা যায়।`` "এটা নীরবে একজন থেকে আরেকজনের দেহে ছড়াচ্ছে। বিভিন্ন ভাবে যেমন, সেলুনে শেভ করতে গিয়ে ক্ষুর থেকে, সিরিঞ্জের মাধ্যমে ড্রাগস গ্রহণ, ট্যাটু করার মাধ্যমে, নাক-কান ফুটানো, রক্ত পরিসঞ্চালন, তারপর যৌন মিলনের মাধ্যমে সহজে ট্রান্সমিট হচ্ছে। হেপাটাইটিস বি এবং সি অনেকটা এইডসের মতো।" মি. আলী আরো বলছেন হেপাটাইটিস সংক্রমণের বিষয়ে মানুষকে সচেতনতা করার জরুরী হয়ে পড়েছে। "নবজাতক শিশুকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হেপাটাইটিস প্রতিরোধে বার্থ ডোজ দেয়া প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশে শিশু জন্মের ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত লেগে যাচ্ছে এ টিকা দিতে।" যেহেতু রক্তের মাধ্যমে এটি সবচে বেশি ছড়ায় তাই নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন ব্যবস্থা জরুরি। কিন্তু বাংলাদেশে রক্তদানের আগে যে পরীক্ষা করা হয় সেখানে সবসময় হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস ধরা পড়ে না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেমাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মাসুদা বেগম জানান বি ও সি ভাইরাস রক্তে সংক্রমণের পর একটা উইন্ডো পিরিয়ড থাকে ২ থেকে ৬ মাস। এ সময়ে সাধারণ রক্ত পরীক্ষায় এ ভাইরাস ধরা পড়ে না। এ সময় কেউ যদি রক্ত আদান-প্রদান করেন তাহলে অগোচরেই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে পড়ে। এটি নিরূপণে ডিএনএ ভাইরাল মার্কার বা এইচভিসি টোটাল টেস্ট প্রয়োজন হয়। এটা একটা প্রাণঘাতী রোগ যা নির্মূল করতে চাইলে নিরাপদ রক্ত সঞ্চালনের কোনো বিকল্প কোনো কিছু নেই। "আমাদের দেশে জেলা উপজেলা হাসপাতালগুলোকে আমরা প্রাইমারি সেকেন্ডারি হসপিটাল বলে থাকি। কিন্তু এসব জায়গায় রক্তে হেপাটাইটিস পরীক্ষায় এইচভিসি ভাইরাল মার্কার বা এইচভিসি টোটাল-এই টেস্টগুলো করার ব্যবস্থা নেই। এগুলো ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যায় না যে রক্তে ভাইরাস আছে কি নেই। আমি জেনে বুঝেই বলছি বাংলাদেশের জেলা উপজেলার হাসপাতালগুলোতে এখনো ডিএনএ ভাইরাল মার্কার করার ব্যবস্থা নেই।" হেপাটাইটিস বি এর উপসর্গ হলো জ্বর, দুর্বলতা, অবসাদ, বমি ভাব বা বমি হওয়া। বাংলাদেশে অনেকেই দেখা যায় এসব উপসর্গ নিয়ে কবিরাজি চিকিৎসা নিচ্ছেন। কবিরাজি চিকিৎসা বিশ্বাসের একটা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি হলো হেপাটাইটিস এ এবং ই যথাযথ বিশ্রাম নিলে এমনিতেই সেরে যায়। এ ভাইরাসে সংক্রমিতরা ঝাড়-ফুঁক, ডাব পড়া পানি পড়া নিয়ে মনে করেন যে কবিরাজি চিকিৎসায় কাজ হয়েছে। কিন্তু হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস রক্তে সংক্রমিত হলে লিভার সিরোসিস এবং শেষ পর্যন্ত লিভার ক্যান্সার হয়ে মৃত্যু হতে পারে। তাই বাংলাদেশের বিরাট জনগোষ্ঠীকে হেপাটাইটিস থেকে রক্ষা করতে সচেতন করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টার্গেট অনুযায়ী লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশ কাজ করছে। ``হেপাটাইটিস রোগ নিয়ে সরকার অত্যন্ত সচেতন। এ রোগের ক্ষেত্রে সরকারের কর্মপরিকল্পনা আছে। ৫ বছর মেয়াদী আমরা শিশুসহ সবাইকে বিনা পয়সায় হেপাটাইটিসের টিকা দেয়ার বিষয়টি আমরা এ কর্মসূচীতে রেখেছি। এটা দেয়া হবে।`` এদিকে ২০৩০ সালের মধ্যে হেপাটাইটিস প্রতিরোধ ও নির্মূলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বেশকিছু লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। হেপাটাইটিস নিয়ে কাজ করছেন এমন বিশেষজ্ঞরা বলছেন ২০৩০ এর লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশ অঙ্গীকার করলেও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ভাইরাল হেপাটাইটিস প্রতিরোধে এখনো কোনো জাতীয় নীতিমালা করা হয়নি। সূত্র: বিবিসি বাংলা এসি    

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি