ঢাকা, বুধবার, ২০ জুন, ২০১৮ ৭:৫৯:২২

ভায়াগ্রা জাতীয় ওষুধ মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ায়

ভায়াগ্রা জাতীয় ওষুধ মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ায়

নানা কারণে কমতে পারে যৌনতা। সঙ্গীকে বাড়তি প্রশান্তি দিতে অনেকেই পরামর্শ নিয়ে যৌন উত্তেজক পিল গ্রহণ করে। তবে ভায়াগ্রা-জাতীয় ওষুধ মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ায় দেয়। এসব ওষুধ গ্রহণ করার কারণে যৌনজীবন আগের মতো ফিরে এলেও দেখা শারীরিক নানা অসুবিধা।
যে খাবার স্তন ক্যানসার রোধ করে   

নারীদের শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ডি থাকলে তাঁদের মেনোপজের পর স্তন ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। প্লস ওয়ান জার্নালে প্রকাশিত হওয়া একটা গবেষণায় এমনটা জানা গেছে। পরীক্ষায় জানা যায়, মহিলাদের রক্তে সিরামে ২৫-হাইড্রক্সিভিটামিন ডি (ওএইচ)- রক্তে উপস্থিত ভিটামিন ডি এর আসল রূপ- ৬০ এনজি/ এমএল (ন্যানোগ্রাম পার মিলিলিটার) এর ওপর থাকলে, যাদের রক্তে ২০ এনজি/ এমএল এর কম উপস্থিত থাকে, তাদের তুলনায় স্তন ক্যানসারের আশঙ্কা অনেক কম থাকে। তাই সান দিয়েগো- ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, রক্তে ২৫ ওএইচ প্লাজমার উপস্থিতি পূর্বে উল্লেখিত ২০ এনজি/ এমএল এর পরিবর্তে ৬০ এনজি/ এমএল কে স্বাভাবিক বলে গণ্য করা প্রয়োজন।   গ্র্যাসরুটসহেলথ- এক নন-প্রফিট পাবলিক হেলথ রিসার্চ অর্গানাইজেশনের প্রধান প্রবক্তা শ্যারন ম্যাকডোনেল জানান, “স্তন ক্যানসার প্রতিরোধের জন্য রক্তে উপস্থিত ভিটামিন ডি-এর পরিমাণ ২০ এনজি/ এমএল এর বেশি হওয়া প্রয়োজন।“ গড়ে ৬৩ বছর বয়সী ৩,৩২৫ এবং ১,৭১৩ জন মহিলাকে নিয়ে পরপর দুটো ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলে প্রাপ্ত ফলাফলের ওপর করা সমীক্ষার ভিত্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে। ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ ৫টা খাদ্যের তালিকা নিচে উল্লেখ করা হলঃ ১. মাশরুম সপ্তাহে চারদিন আপনার খাদ্য তালিকায় মাশরুম যোগ করুন এবং রক্তে উপস্থিত ভিটামিন ডি এর পরিমাণের তারতম্য দেখুন। যেভাবে খুশি রান্না করে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর মাশরুম খান। আরও বেশি পরিমাণে পুষ্টি পেতে হলে মাশরুম রোদে শুকিয়ে নিয়ে তারপর খান। সূর্যের আলোয় মাশরুম নিজের দেহেই ভিটামিন ডি উৎপাদন করতে পারে। ২. চীজ চীজ ভিটামিন ডি এর অন্যতম উৎকৃষ্ট উৎস। সকালের জলখাবারের টোস্টে চীজ যোগ করে উপভোগ করুন আর রক্তে ভিটামিন ডি এর পরিমাণ বৃদ্ধি করুন। ৩. মাছ সব প্রকার মাছই ভিটামিন ডি এর উৎকৃষ্ট উৎস। তেল যুক্ত মাছে ভিটামিন ডি এর পরিমাণ বেশি থাকে। এমন তেলযুক্ত মাছের উদাহরণ হল স্যামন। এছাড়াও ট্রউট, ম্যাকারেল, টুনা মাছেও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি থাকে। ৪. ডিম ডিমের কুসুমের আবার খাদ্য তালিকায় ফিরে আসার সময় হয়েছে। কুসুমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি থাকায়, এবার থেকে কুসুম বাদ দিয়ে শুধু ডিমের সাদা অংশ খাওয়ার পরিবর্তে আবারও গোটা ডিম খাওয়া শুরু করুন। সুতরাং ডিমের শুধু মাত্র সাদা অংশ খাবেন- এই চিন্তা বাদ দিয়ে কুসুমকে আপন করে নিন। ৫. সোয়া দুধ   সোয়া দুধ একটা উদ্ভিজ্জ দুগ্ধ উপাদান, যা সোয়াবিন শুকিয়ে গুঁড়ো করে জলের সঙ্গে মিশিয়ে প্রস্তুত করা হয়। এতে সাধারণ গরুর দুধের সমান প্রোটিন থাকার পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি, সি এবং আয়রন উপস্থিত। এসি  

ঈদের দিন ডায়াবেটিস রোগীর খাবার

রমজানে দীর্ঘ এক মাস দিনের বেলায় পানাহার থেকে বিরত থাকার কারণে অামাদের পরিপাকতন্ত্র দিনের বেলায় বিশ্রামরত অবস্থায় থাকে। কিন্তু ঈদের দিনে যখন অামরা অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করি বিশেষ করে মিষ্টি জাতীয় খাবার এবং অতিরিক্ত তৈলাক্ত ও গুরুপাক খাবার তখন অামাদের পরিপাক তন্ত্রের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয় যার ফলে পেট ফাঁপা, অ্যাসিডিটি, পেট ব্যাথা, ডায়রিয়া সহ বেশ কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে।এই উপসর্গগুলি ছাড়াও একজন ডায়াবেটিক রোগীর ক্ষেত্রে বাড়তি যে উপসর্গটি দেখা দিতে পারে তা হলো রক্তের শর্করা বা চিনি অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া। অার এই কারণে ডায়াবেটিক রোগীদের ঈদের দিন খাবারের ব্যাপারে অবশ্যই সচেতন হতে হবে। মিষ্টি জাতীয় খাবার বিশেষ করে সেমাই, ফিরনী, জর্দা, পুডিং এই জাতীয় খাবার বাদ দিতে হবে। সকালের নাস্তায় রুটি পরোটা নুডুলস এই জাতীয় খাবার খাওয়া যেতে পারে। দুপুরে ও রাতে যদি গুরুপাক খাবার বিশেষ করে পোলাও,  বিরিয়ানী, রোস্ট, রেজালা খেতে চায় তবে সেটা অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে হতে হবে। সাথে অবশ্যই সালাদ খেতে হবে। এছাড়াও পুদিনা পাতার ভর্তা, টক দই, টক দই দিয়ে বানানো বোরহানি হজমে সহায়তা করে।কোল্ড ড্রিংকস, বিশেষ করে কোকা কোলা, স্প্রাইট, সেভেন অাপ, এনার্জি ড্রিংক ইত্যাদি খাওয়া যাবেনা। বিকল্প চিনি দিয়ে বানানো লেবুর শরবত বা রং চা খাওয়া যেতে পারে।  সারাদিনে অবশ্যই প্রচুর পানি খেতে হবে।  ঈদের দিন সকালে খালি পেটে এবং সকালের নাস্তার বা দুপুরের খাবারের দুই ঘন্টা পর গ্লুকোমিটার দিয়ে রক্তের শর্করা পরিমাপ করা যেতে পারে।[লেখক : ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ। বারডেম হাসপাতাল, ঢাকা।]অনু লেখক : অালী অাদনানএসএ/

সন্তানকে থ্যালাসিমিয়া থেকে বাঁচাতে ব্যবস্থা নিন বিয়ের আগে

থ্যালাসিমিয়া রক্তস্বল্পতাজনিত একটি রোগ। মরণব্যাধি এই রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবছর আমাদের দেশে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার শিশু জন্ম গ্রহণ করছে। একটি শিশু পৃথিবীতে আসার পর যে প্রাণ চাঞ্চল্য দেখা যায়, থ্যালাসিমিয়া আক্রান্ত শিশুর মধ্যে সেটা দেখা যায় না। বিষন্নতার চাদরে ঢাকা যেন এক প্রাণ। এমন শিশুকে নিয়ে মা বাবার স্বপ্ন ভালবাসা আবেগ যেন মুহুর্তের মধ্যে উধাও হয়ে যায়। একটু সচেতন হলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো সম্ভব। থ্যালাসিমিয়ার চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। সারাজীবনই চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয়। এই রোগের স্থায়ী চিকিৎসা হচ্ছে ‘ব্যোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন’ ও জীন থ্যারাপি। এমন চিকিৎসা সবার পক্ষে করা সম্ভব নয়। তাই একটু সচেতন হলেই এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।     থ্যালাসিমিয়া কি? থ্যালাসিমিয়া রক্তস্বল্পতাজনিত একটি বংশগত রোগ। থ্যালাসিমিয়া আক্রান্ত রোগীদের শরীরে রক্তের লৌহিত কণিকা পর্যাপ্ত পরিমাণে তৈরি হয় না। ফলে এদের মারাত্মক রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। থ্যালাসিমিয়া রোগীদের প্রতি মাসে ১-২ ব্যাগ রক্ত গ্রহণ করতে হয়। এই রক্ত গ্রহণের মাধ্যমে তারা বেঁচে থাকে। আবার এ ধরনের রোগীদের চিকিৎসা করা না হলে রক্তশুন্যতার কারণে মারা যায়।   বাংলাদেশে থ্যালাসিমিয়া রোগীর সংখ্যা দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান এই রোগ প্রতিরোধে কাজ করছে। তন্মধ্যে থ্যালাসিমিয়া ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অন্যতম। রাজধানীর চামেলিবাগে অবস্থিত হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় দূর-দূরান্ত থেকে অনেক রোগী এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হৃদয়কাড়া, ফুটফুটে অনেকগুলো শিশু শুয়ে আছে হাসপাতালের বেড়ে। তাদের দিকে তাকালে যে কারো মায়া হবে।  কুমিল্লা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আসমা আক্তার নিপা নামে এক মা শুকনো মুখে বসে আছেন তার ফুটফুটে সন্তান আরাফাতের পাশে। কবে থেকে বুঝতে পারলেন আপনার শিশু এই রোগে আক্রান্ত? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওর বয়স যখন ৫ মাস তখন বুঝতে পারি যে তার থ্যালাসিমিয়া হয়েছে। প্রথমে আমরা বুঝতে পারিনি। ওর সব সময় ঠান্ডা লেগে থাকতো। হাত পা হলুদ হয়ে যায়। ফলে কুমিল্লায় কয়েকজন ডাক্তার দেখাই। তারা আমাদেরকে পরে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়। পরিক্ষা-নিরীক্ষার পর জানতে পারি তার মধ্যে এই রোগ আছে।’          ‘এখন তার বয়স চলছে ২ বছর ৮ মাস। প্রতি দুই মাস পর পর এখানে এসে তাকে রক্ত দিতে হয়। যখন রক্ত কমে যায় তখন ওর খাওয়া, খেলা-ধুলা, হাঁটা-চলা সবকিছু কমে যায়।’ বললেন আসমা আক্তার নিপা। এ বিষয়ে কথা হয় বাংলাদেশ থ্যালাসিমিয়া ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ডা. মো. আবদুর রহিম এর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাদের এই হাসপাতালে প্রায় আড়াই হাজার রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। সারা দেশ থেকেই রোগীরা আসে। থ্যালাসিমিয়াকে নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এই রোগকে প্রতিরোধ করা যায়। এ জন্য আমরা বলে থাকি বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষার কথা। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে থ্যালাসিমিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সবাই এ ব্যাপারে সচেতন হলে খুব সহজে থ্যালাসিমিয়া প্রতিরোধ করা যাবে।’        ‘বাংলাদেশে ১ কোটি ১০ লাখ লোক অজ্ঞাতসারে থ্যালাসিমিয়া রোগের বাহক। প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার শিশু থ্যালাসিমিয়া নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে। বাংলাদেশে থ্যালাসিমিয়া রোগে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা প্রায় ৬০,০০০।’ বললেন তিনি।     থ্যালাসিমিয়া কিভাবে হয়?   মানব কোষে রক্ত তৈরি করার জন্য ২টি জিন থাকে। কোনো ব্যক্তির রক্ত তৈরির একটি জিনে ত্রুটি থাকলে তাকে থ্যালাসিমিয়া বাহক বলে। আর যদি দুইটি জিনেই ত্রুটি থাকে তাহলে তাকে থ্যালাসিমিয়া রোগী বলে।  একজন থ্যালাসিমিয়া বাহক যদি অপর একজন বাহককে বিয়ে করে তাহলে তাদের প্রতিটি সন্তানের থ্যালাসিমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ২৫ শতাংশ। এ ধরনের পরিবারে একাধিক সন্তান থ্যালাসিমিয়া আক্রান্ত হওয়ার নজির রয়েছে। তবে রক্তের গ্রুপের সঙ্গে থ্যালাসিমিয়া রোগ হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করালে এ সমস্যা বহুলাংশে কমে যায়।     থ্যালাসিমিয়া রোগের লক্ষণ  এ রোগের লক্ষণ সাধারণত তিন মাস বয়স থেকে দেখা দেয়। শিশু জন্মের ১ থেকে ২ বছরের মধ্যে থ্যালাসিমিয়া রোগ ধরা পড়ে। এই রোগের কিছু লক্ষণ রয়েছে। যেমন-ফ্যাকাশে হয়ে পড়া, ক্ষুদামন্দা দেখা দেওয়া, খাবার পরে বমি হওয়া, ঘন ঘন ইনফেকশন, জন্ডিস, খিটখিটে মেজাজ, রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ৩-৫ গ্রাম বা ডেসিলিটারে নেমে আসা। এদের প্রায়ই জীবাণু সংক্রমনের জন্য সর্দি, কাশি ও জ্বরে ভোগেন। এক কথায় বলা যায়, রোগী যদি ফ্যাকাশে বা হলদে হয়ে যায়, বয়সের তুলনায় তাকে কৃষ বা ছোট দেখায়, পেট বড় দেখায় তাহলে এ রোগ আছে বলে সন্দেহ করা হয়।  থ্যালাসিমিয়ার চিকিৎসা কি নেই?        থ্যালাসিমিয়া রোগের চিকিৎসা রয়েছে। তবে এর চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল এবং ব্যয়বহুল। রক্তশূন্যতা পূরণের জন্য রোগীদের প্রতি মাসে ১-২ ব্যাগ রক্ত দিতে হয়। এছাড়া এদের শরীর থেকে ক্ষতিকর লৌহ বের করার জন্য নানা ধরনের ঔষধ খেতে হয়। একটি শিশুর চিকিৎসার জন্য প্রতিমাসে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়।           এ প্রসঙ্গে ডা. আবদুর রহিম বলেন, ‘থ্যালাসিমিয়ার চিকিৎসা রয়েছে। তবে এটি ব্যয়বহুল। অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে এর চিকিৎসা করা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে ভাই-বোনের মধ্যে ম্যাচিং থাকতে হবে। এর চিকিৎসা খরচ প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা লাগে। তবে আমাদের দেশে প্রতিস্থাপনের চিকিৎসা এখনো শুরু হয়নি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ চালু করার চেষ্টা করছে।’    থ্যালাসিমিয়া থেকে বাঁচার কি কোনো উপায় আছে?   ডা. রহিম বলেন, ‘‘থ্যালাসিমিয়া নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। শরীরে রক্ত কম হওয়া ছাড়া এদের আর কোনো সমস্যা নেই। তারা সব কিছু করতে পারবে। খেলা-ধুলা পড়ালেখা থেকে সবকিছু। আমাদের এখানকার অনেক রোগী আছে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। ব্যাংকে চাকরি করছে।’’   ‘‘ যদি কেউ এই রোগে আক্রান্ত হয় তারা সঙ্গে সঙ্গে মারা যায় না। তারা আস্তে আস্তে প্যারালাইজড রোগীদের মতো হয়ে যায়। এভাবে দশ বছর পর্যন্ত বাঁচার সম্ভাবনা থাকে। অন্য দিকে চিকিৎসা নিলে ৫০ থেকে ৬০ বছর বাঁচতে পারে।’’ বললেন ডা. রহিম         তার ভাষ্য ‘‘এখন আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কি ধুঁকে ধুঁকে মারা যাবে,নাকি আমাদের সহযোগিতায় সমাজের সক্রিয় একজন মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকবে। অন্যথায় তারা বোঝা বা প্রতিবন্ধিদের মতো হয়ে থাকবে। তাই আমরা চেষ্টা করছি তারা যেন সমাজের জন্য বোঝা না হয়।’’ বললেন তিনি।    থ্যালাসিমিয়ায় আক্রান্তদের অনেক পরিবার আছে যাদের পক্ষে সন্তানের ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব হয় না। পারিবারিক আয় কম হওয়ায় সন্তান নিয়ে অনেকে রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। এই রোগে আক্রান্ত সন্তানকে নিয়ে কি করবেন তা ভেবে কোনো কূল পাচ্ছেন না। অসহায় এসব রোগীদের বাঁচাতে, সমাজের জন্য যাতে তারা বোঝা হয়ে না যায় সে জন্য থ্যালাসিমিয়া ফাইন্ডেশন যাকাত সংগ্রহ করে তাদের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছে।       এ সম্পর্কে ডা. রহিম বলেন, ‘আমাদের এখানে ডে কেয়ার পদ্ধতিতে চিকিৎসা চলছে। দৈনিক ২০ থেকে ৫০ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। দিনে দিনে আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি। যেটা অন্য হাসপাতালের পক্ষে সম্ভব হয় না। ঢাকার বাহিরে থেকে সকালে এসে বিকালে চিকিৎসা নিয়ে চলে যেতে পারে। তবে অনেক রোগীর আর্থিক অবস্থা ভালো না। কারো মাসিক আয় ১০ হাজার টাকার চেয়েও কম। ফলে তারা সন্তানের চিকিৎসা করাবে নাকি পরিবার চালাবে। তাদের এমন অসহায় করুণ অবস্থা দেখে আমরা রোগীর চিকিৎসা সহযোগিতার জন্য যাকাত সংগ্রহ করছি।’   তার মতে ‘‘থ্যালাসিমিয়া আক্রান্তদের সঠিকভাবে চিকিৎসা দিলে তাদের কোনো ধরনের সমস্যা হবে না। তারা স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবে। কিন্তু আর্থিক সংকটে অনেকে চিকিৎসা করাতে পারছেনা। চিকিৎসা না করালে সেটা দেশের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি। দেশে অক্ষম লোকের সংখ্যা বেড়ে যাবে। হয়ে ওঠবে বোঝা হিসেবে। তাই কোমলমতি এসব শিশুদের সহযোগিতায় সবাইকে এগিয়ে আসা দরকার।’’          এসি           

মুখের ক্যান্সারের লক্ষণ ও করণীয় 

ক্যানসার। ভয়াবহ এই মরণ রোগের নাম শুনলেই আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। ক্যানসার বিভিন্ন রকমের হয়। এর মধ্যে একটি হল মুখের ক্যানসার। প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে মুখের ক্যানসার সম্পূর্ণ ভাবে সারিয়ে তোলা যায়। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রাথমিক অবস্থায় মুখের ক্যানসার ধরা বেশ শক্ত। তবে এমন বেশ কিছু উপসর্গ আছে যা থেকে মুখের ক্যানসার সম্পর্কে আগাম সতর্কতা নেওয়া সম্ভব। আসুন মুখের ক্যানসারের প্রাথমিক উপসর্গগুলি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। মুখের ক্যানসার বুঝিয়ে দেবে এই উপসর্গগুলি      গালে বা গলার কোনও অংশ ফুলে যাওয়া যা বাইরে থেকে দেখেও বোঝা যাচ্ছে, কিন্তু কোনও ব্যথা নেই বললেই চলে। মুখের ভেতরে কোনও ব্যথা-বেদনাহীন ফোলা অংশ, যা ক্রমশ বাড়ছে। ঠোঁটের ভেতরের কোনও ক্ষত যা ওষুধ খেয়েও সারছে না। মুখের মধ্যে কোনও লালচে বা সাদাটে ছোপ পড়লে। জিভে লাল বা কালো ছোপ পড়লে।  চিবুকের দু’পাশে ও গলার গ্ল্যান্ড ফুলে উঠলে। জিভ নাড়াতে অসুবিধে হলে বা কথা বলারও সমস্যা শুরু হলে। মুখ হাঁ করতে বা মুখ খুলতে সমস্যা হলে।   চিকিত্সকদের মতে উপরে উল্লেখিত উপসর্গগুলি মুখের ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। সুতরাং, এই লক্ষণগুলি লক্ষ্য করলে দ্রুত ক্যানসার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।   টিআর/এসি      

শিশুকে কত বছর বুকের দুধ পান করানো উচিত?  

এমা শার্ডলো হাডসন একজন মা। যার একজন ৫ বছর বয়সী মেয়ে এবং দুই বছর বয়সী ছেলে রয়েছে। তিনি তার সন্তানদের একই সাথে মায়ের দুধ পান করান। ওই মা মনে করেন এটা তার সন্তানদের শরীরের জন্য ভাল। কারণ তারা খুব কম অসুস্থ হয়।   ২৭ বছর বয়সী ওই মা বলেন, তিনি বিষয়টা ভালো-ভাবে নিচ্ছেন কারণ বুকের দুধে এন্টিবডি রয়েছে যেটা শিশুর শরীরের জন্য ভালো। যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন যতদিন মা এবং শিশু দুজনেই চাইবে ততদিন দুধ পান করানো যেতে পারে। যুক্তরাজ্যে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস নির্দিষ্ট কোনো টাইম বেধে দেয় নি। শিশুর জন্য প্রথম ছয় মাস মায়ের বুকের দুধ পান করানোর জন্য বিশেষ ভাবে বলা হয়। এর পর ছয় বছর দুধের সাথে সাথে অন্যান্য শক্ত খাবার খাওয়ানো যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা একমত হয়েছেন যে বুকের দুধ পান করানো মা এবং শিশু উভয়ের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। যে কোন ধরণের ইনফেকশন, ডাইরিয়া এবং বমি ভাব বন্ধ করার ক্ষেত্রে মায়ের দুধ ভালো রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। পরবর্তী জীবনে স্থূলতাসহ অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। আর মায়ের জন্য স্তন এবং ওভারির ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। কিন্তু কত দিন ইউকে তে এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন নির্দেশনামা নেই। অন্যদিকে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের ওয়েবসাইটে বলা আছে, "যতদিন আপনার ভালো লাগবে ততদিন আপনি আপনার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারেন"। আরো বলা আছে "দুই বা তার চেয়ে বেশি বছর ধরে বুকের দুধ খাওয়ার পাশাপাশি এসময় অন্যান্য খাবার দেওয়া উচিত"। ক্ষতিকর কিছু নেই এর অনেক ভালো দিক থাকলেও একজন মা সিদ্ধান্ত নেন কখন বন্ধ করতে হবে। এটার সাথে মায়ের পরিবেশ ,পরিস্থিতি জড়িত। অনেক সময় মায়েদের কাজে ফিরতে হয়, পরিবার বা বন্ধুদের সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। এছাড়া অস্বস্তি কাটানোর জন্য আত্মবিশ্বাসের দরকার পরে। এর মাধ্যমে মা এবং শিশুর আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। ডাক্তাররা বলছেন এটা একেবারেই একটা ব্যক্তিগত বিষয়। এটা মা শিশুর সম্পর্ককে গড়ে তোলে আর এতে কোন ক্ষতি নেই। সূত্র: বিবিসি বাংলা এমএইচ/এসি    

শিশুর জন্মের আগেই অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন!  

জন্মের আগেই শিশুর শরীরে রক্ত সঞ্চালন ও অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন? এমন অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটেছে আমেরিকায়। সদ্যোজাত শিশু এলিয়ানা কনস্ট্যান্টিনোর জন্মের তিন মাস আগেই তার একবার অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন ও পাঁচ দফায় রক্ত পরিসঞ্চালন করা হয়েছে। এগুলো করা হয়েছে মায়ের তলপেট ও জরায়ুর মাধ্যমে তার শিরায় সুচ ঢুকিয়ে। গত ১ ফেব্রুয়ারি এলিয়ানার জন্ম হয়। মায়ের পেটে থাকতেই সে বংশগত আলফা থ্যালাসেমিয়া মেজর নামের রোগে আক্রান্ত হয়। এ রোগ রক্তের লোহিত কণিকাকে দেহে অক্সিজেন সরবরাহে বাধা দেয়। এর ফলে তীব্র রক্ত স্বল্পতা, হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ ও মস্তিষ্ক অকার্যকর হয়। ফলে মাতৃগর্ভে ভ্রূণ নষ্ট হয়। কয়েক দফা রক্ত দেওয়ায় মায়ের পেটে এলিয়ানা বেঁচে থাকে। এখনো তার শরীরে তিন সপ্তাহ পর পর তার শরীরে রক্ত দিতে হয়। কিন্তু মাতৃগর্ভ তার রোগ নিরাময়ের চেষ্টা করা হয় অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে। তবে এর সাফল্যের ব্যাপারে এত আগে কিছু বলা সম্ভব নয়। এই চিকিৎসা কার্যকর হলে তা ভ্রূণে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে রক্ত স্বল্পতা, হেমোফিলিয়া ও উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অন্য রোগ নিরাময়ের দুয়ার খুলে দেবে। এলিয়ানার চিকিৎসা ও এই গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার অধিভুক্ত ইউসিএসএফ বেনিওফ চিল্ড্রেন’স হাসপাতাল সানফ্রান্সিসকোর শিশু ও ভ্রূণ অস্ত্রোপচারের চিকিৎসক টিপি ম্যাকেঞ্জি। তিনি নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘এই কাজ ভ্রূণে অস্ত্রোপচারের চিকিৎসাকে এগিয়ে নিল। ভ্রূণের ক্ষতি না করে এ অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা কঠিন ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।’ নিশেল ওবার (৪০) ও তাঁর স্বামী ক্রিস কনস্ট্যান্টিনো (৩৭) স্বাস্থ্যবান। কিন্তু প্রথম সন্তান পেটে আসার পর জানতে পারেন, তাঁরা থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। এশিয়া, ভূমধ্যসাগরীয় এলাকা, আফ্রিকা বা মধ্যপ্রাচ্যের লাখ লাখ লোক থ্যালাসেমিয়ার বাহক। এর কারণে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী অন্তত এক লাখ শিশু নানা রোগ নিয়ে জন্ম নেয়। থ্যালাসেমিয়ার বাহকেরা স্বাস্থ্যবান হয়। কিন্তু দুজন বাহক মিলে সন্তান নিলে সন্তানের রোগাক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ওবারের মা-বাবা ফিলিপাইন ও পুয়ের্তো রিকোর নাগরিক। ওবারের স্বামী ক্রিস ফিলিপাইনের। এ দম্পতির বসবাস হাওয়াই দ্বীপের কাওয়াই কাউন্টির কিলাউই শহরে। তাদের প্রথম সন্তান গ্যাব্রিয়েলের বয়স ৩ বছর। সে ভালো স্বাস্থ্যের। কিন্তু এ ধরনের দম্পতির প্রতি চারটি সন্তানের একটির রোগাক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ওবার দ্বিতীয় দফায় অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ১৮ সপ্তাহের মাথায় আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হয়। তাতে দেখা যায়, এলিয়ানার হৃদ্‌যন্ত্রের আকৃতি স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ। মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ ছিল অস্বাভাবিক দ্রুতগতির, যেটা রক্তস্বল্পতার লক্ষণ। ওবারের চিকিৎসক সতর্ক করে বলেছেন, তাঁদের মেয়েটি নাও বাঁচতে পারে। চিকিৎসার পরিভাষায় এই অসুস্থতাকে ‘জীবনের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ’ আখ্যায়িত করা হয়। এ ধরনের বেশির ভাগ ভ্রূণই মায়ের গর্ভে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যায়। বাবা-মা গর্ভে সন্তান নষ্ট হওয়ার বিষয়টি নাও জানতে পারেন। অনেকে এও জানতে না পারেন যে, তাঁরা থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। এলিয়ট ভিচিনস্কি একজন গবেষণা সহযোগী এবং ইউসিএসএফ বেনিওফ চিল্ড্রেন’স হসপিটাল অকল্যান্ডের নর্দার্ন ক্যালিফোর্নিয়া কম্প্রিহেন্সিভ থ্যালাসেমিয়া সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বলেন, ‘এখন প্রত্যেককে গর্ভপাত ঘটাতে বলা হয়।’ ‘আমরা মনে করি, পরিবারগুলোর সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। আমরা এটাই বলছি যে, তাঁদের সামনে বিকল্প আছে।’ কিছু চিকিৎসক রক্ত পরিসঞ্চালনের ব্যাপারে সতর্ক। কারণ এর মাধ্যমে শিশু বাঁচলেও তার মস্তিষ্কের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে খুব বেশি। গত বছর আন্তর্জাতিক একটি সাময়িকীর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ধরনের শিশু বাঁচলেও তাদের ২০ শতাংশের স্নায়বিক বৃদ্ধি অনেক ধীর গতির হয়। আরেক নিবন্ধে এ হার ২৯ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়। ম্যাকেঞ্জি জানান, ওবার গত বছরের অক্টোবরে ২১ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বার সময় প্রথম ইউসিএসএফে যান। তখন এলিয়ানা এত অসুস্থ ছিল যে, গবেষক দল মনে করেছিল সে প্রায় মৃত। কিছু সময়ের মধ্যে এলিয়ানাকে রক্ত দেওয়া হয়। দ্রুত তাঁর অবস্থার উন্নতি ঘটতে থাকে। এরপর গবেষক দল ওবারের হিপের হাড় থেকে মজ্জা নিয়ে এলিয়ানার শরীরে প্রতিস্থাপন করে। ম্যাকেঞ্জি বলেন, এক বিবেচনায় গবেষণা ইতিমধ্যে সফল হয়েছে। মা ও শিশু সন্তানের ওপর নেতিবাচক কোনো প্রভাব নেই। তাই চিকিৎসা নিরাপদ বলেই মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি শিহরিত। অস্ত্রোপচার সফল ও নিরাপদ হয়েছে।’ তিনি এ ধরনের আরও কয়েকটি রোগীর অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করতে চান। ওবার বলেন, ‘এলিয়ানার অবস্থা ভালো। তাই আমি হতাশ নই। ছোট ছোট সব অর্জনই আমরা উদ্‌যাপন করব। এটি করতে পেরে আমরা আনন্দিত।’ ব্রূণে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের প্রথম চেষ্টা হয় গত শতকের নব্বইয়ের দশকে। ম্যাকেঞ্জি বলেন, তখন বেশির ভাগ চেষ্টাই ব্যর্থ হয়। এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চিকিৎসক উদ্যোগটি বাতিল করে দেন। তবে অন্য প্রাণীর ওপর গবেষণা চালিয়ে মৌলিক ফল পাওয়া যায়। এসি      

ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে করণীয়

মশাবাহিত সংক্রামক রোগ ম্যালেরিয়া। সংক্রমিত স্ত্রীজাতীয় অ্যানোফিলিস মশার কামড়ের মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়, যা জীবনকে হুমকির মধ্যে ফেলে দিতে পারে। তবে উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসার মাধ্যমে এই রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করা যায়। ম্যালেরিয়া প্রতিরোধেও নেওয়া যায় নানা ব্যবস্থা কারণ: সংক্রমিত অ্যানোফিলিসজাতীয় স্ত্রী মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া শুরু হয়। পরে ম্যালেরিয়ার জীবাণু লালার মাধ্যমে প্রোটেস্টের সংবহনতন্ত্রের মধ্যে প্রবেশ করে এবং যকৃতে পৌঁছে। সেখানে তারা পরিপক্ব হয় এবং বংশ বৃদ্ধি করে। এই মশা যখন অন্য কাউকে কামড়ায়, তখন তার রক্তে ম্যালেরিয়ার জীবাণু ছড়ায় এবং সেও আক্রান্ত হয়। অ্যানোফিলিস ছাড়াও ভাইভক্স, ওভালে বা ম্যালেরির—যেকোনো একটি জীবাণু বহনকারী মশার দংশনেও ম্যালেরিয়া হতে পারে। ম্যালেরিয়াবাহী মশা মূলত সন্ধ্যা থেকে ভোরের মধ্যে কামড়ায়। লক্ষণ: কারো ম্যালেরিয়া হলে কিছু লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা যায়। এই রোগের প্রধান লক্ষণ কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা। জ্বর ১০৫-১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে। তবে অনেক সময় জ্বর আসা-যাওয়া করে নিয়মিত ও নির্দিষ্ট বিরতিতে (যেমন একদিন পর পর জ্বর এসে তা তিন-চার ঘণ্টা দীর্ঘ হতে পারে)। এরপর ঘাম দিয়ে জ্বর কমে যায়। এগুলো ছাড়াও ম্যালেরিয়া রোগের কিছু উপসর্গ রয়েছে।  ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে করণীয়: ১/ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকায় বাসিন্দাগণ সরকার কর্তৃক বিনামূল্যে প্রদত্ত কীটনাশকযুক্ত মশারি ব্যবহার করুন। ২/ ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলকায় ভ্রমণ /অবস্থানকালীন সময় মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করুন। ৩/ ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকায় রাত্রি যাপন করতে হলে মশারি টাঙ্গিয়ে ঘুমান। অথবা সম্ভব হলে স্প্রে করে মশা বিতাড়িত করুন। ৪ রাতের বেলায় বাইরে গলে হাত-পা ঢাকা থাকে, এমন কাপড় পরিধান করুন। মশা তাড়ানো ক্রিম/ লোশন ব্যবহার করুন। ৫/ ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশের ঝোড় ডোবা নালা পুকুর ও গর্ত পরিস্কার রাখুন। ৬/ ম্যালেরিয়া সর্ম্পকে জানুন নির্ভয়ে থাকুন ও ভ্রমণ করুন। ম্যালেরিয়া সংক্রান্ত যে কোন সেবার জন্য হটলাইন নাম্বারে যোগাযোগ করুন (01787691370)। টিআর/ এমজে

কোষ্ঠকাঠিন্য রোধে ‘আলোক থেরাপি’

বিশ্বে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষ কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগছেন। দিনে দিনে এ সংখ্যাটা আরও বাড়ছে। বিশেষ করে বয়োজ্যেষ্ঠদের বড় একটি অংশ কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগছেন। তবে ঘন ঘন কোষ্ঠকাঠিন্যে প্রতিরোধে ওষুধ গ্রহণ করলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দেয়। তাই অস্ট্রেলিয়ার একদল গবেষক ও ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক মিলে ‘লাইট থেরাপি’ আবিষ্কার করেছে। লাইট থেরাপি ওষুধের চেয়ে কয়েকগুন বেশি শক্তিশালী। লেক্সাটিভ জাতীয় ওষুধের তুলনায় নীল আলোর থেরাপি অনেক বেশি কার্যকর বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ শতাংশ মানুষই কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন। ক্রমান্বয়ে এ সংখ্যা আরও বাড়ছে বলে জানিয়েছে গবেষকরা। এদিকে গবেষণায় দেখা গেছে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে ব্যবহৃত লেক্সাটিভ নানা রোগের জন্ম দিয়ে যাচ্ছে। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কম নয়। তাই গবেষকরা এর বিকল্প হিসেবে লাইট থেরাপি বেছে নিয়েছেন। লাইট থেরাপির মাধ্যমে অন্ত্রে কিছু প্রোটিন উৎপাদন করে মূত্র থলির কার্যকারিতা বাড়ানো যায়। গবেষণায় আরও দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে লেক্সাটিভ ওষুধ গ্রহণ করলে থলির নিয়মিত কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ হয়। এতে থলির কার্যকারিতা অনেকটা ওষুধের উপর নির্ভর হয়ে পড়ে। তাই লেক্সাটিভের ব্যবহার কমানোর উপর জোর দিয়েছে তারা। তবে লেক্সাটিভ কোষ্ঠকাঠিন্য রোধে দারুণ কাজ করে থাকে বলেও তারা স্বীকার করেন। কেবল এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেই ওষুধটির উপর নির্ভরতা কমানোর কথা বলছেন তারা। গবেষণা দলের অন্যতম প্রধান ড. হংজেন হো বলেন, সাধারণত ওষুধে প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক উপাদান থাকে, যার প্রচুর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। আর এ কারণেই আমরা নীল আলোক থেরাপির মাধ্যমে অন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়ানোর পক্ষে মত দিচ্ছি। সূত্র: মেইল অনলাইনএমজে/

হৃদরোগ প্রতিরোধে সপ্তাহে ৪দিন ব্যায়াম

হৃদরোগ সাধারণত বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। ৬০ বছর হলেই এই রোগের প্রবণতা দেখা যায়। এটি মূলত ধমনী, শিরা, হৃৎপিন্ড সম্পর্কিত রোগ। হৃদরোগের জন্য অনেক কারণ দায়ী হতে পারে। তবে নিয়মিত হাঁটা বা শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটা হ্রাস করা যেতে পারে। এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এক গবেষণা বলেছে, হৃদরোগ প্রতিরোধে সপ্তাহে অন্তত চারদিন শরীরচর্চার বা ব্যায়ামের প্রয়োজন। এতে হৃদপিণ্ড নতুন করে সতেজ হয়ে উঠবে। নতুন এই গবেষণায় দেখা গেছে, যদি সপ্তাহে দুই থেকে তিনদিন শরীরচর্চায করা হয় তবে সবগুলো ধমনীকে সতেজ রাখা সম্ভব হচ্ছেনা। এর প্রয়োজন অন্তত চারদিন। পাঁচদিন করতে পারলে সবচেয়ে ভালো কাজ দেবে। গবেষকরা বলেছেন, উপযুক্ত বয়সে প্রয়োজনীয় মাত্রায় শরীরচর্চা করলে হৃদপিণ্ড, ধমনী এবং শিরা-উপশিরা নতুন করে সতেজ হয়ে উঠে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। এছাড়া দেখা গেছে, সপ্তাহে দুই থেকে তিনদিন (৩০ মিনিট করে) শরীরচর্চা করলে মাঝামাঝি আকৃতির যেসব ধমনী মাথায় ও ঘাড়ে রক্ত সরবরাহ করে, সেগুলো সতেজ থাকে। কিন্তু সপ্তাহে চার থেকে পাঁচদিন শরীরচর্চা করলে মাঝারি ধমনীগুলোর সঙ্গে প্রধান যে ধমনীগুলো বুকে এবং পেটে রক্ত সরবরাহ করে, সেগুলোও সতেজ থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে ইনস্টিটিউট অব এক্সারসাইজ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল মেডিসিনের ড বেঞ্জামিন লেভিন এই গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন বুঝতে পারছি উপযুক্ত শরীরচর্চা করে হৃদপিণ্ড এবং রক্তবাহী নালীর দুরবস্থাকে বদলে ফেলা সম্ভব।’ সূত্র : বিবিসি বাংলা কেএনইউ/টিকে

দিনে একটি ডিম খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে

দিনে একটি ডিম খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস পায় বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। চীনে ৪ লাখ প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের উপর গবেষণা চালিয়ে এমন তথ্য দিয়েছেন তারা। গবেষকরা জানিয়েছেন, ‘দিনে একটি ডিম গ্রহণ করলে হৃদরোগের ঝুঁকি ১৮ শতাংশ হ্রাস পায়।’ জার্নাল হার্টে গত সোমবার এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, যারা ডিম খান না, তাদের চেয়ে যারা ডিম খান তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি ১৮ শতাংশ কম। হৃদরোগ সংক্রান্ত রোগকে আমরা এক কথায় হৃদরোগ বলে থাকি। তবে হৃদরোগ বলতে হৃদযন্ত্রের অচল হওয়া, ধমনি-শিরার অস্বাভাবিক আচরণ, হৃদযন্ত্রের ভালবের সমস্যাসহ স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক রয়েছে। জানা যায়, রক্তে উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধি, অতিরিক্ত ওজন ও স্থুলতা এবং রক্তে সুগার বেড়ে গেলে হৃদরোগের সম্ভাবনা দেখা দেয়। মূলত ধূমপান ও অ্যালকোহল সেবনের ফলেই এ রোগগুলো সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। অতীতে রোগীদের বেশি করে ডিম খাওয়া নিষিদ্ধ করা হতো। যদিও ডিমের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ও অন্যান্য ইতিবাচক পুষ্ঠি রয়েছে, তবু ডিমে প্রচুর পরিমাণে কোলেস্টেরল রয়েছে, যা হৃদরোগের জন্য ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। বেইজিংয়ের পাবলিক হেলথ এন্ড পিকিং ইউনিভার্সিটি স্কুলের পুষ্ঠি বিভাগের অধ্যাপক ক্যানকিং জো গবেষণা প্রতিবেদনে এমনটিই জানিয়েছেন। এর আগে ডিমকে হৃদরোগের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে সম্প্রতি বিতর্ক দেখা দেওয়ায় এই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে চীনা গবেষকরা। শুরুর দিকে তারা চীনের ১০টি এলাকার ৫ লাখ লোকের উপর গবেষণা করেন। গবেষণায় দেখা যায়, ৪ লাখ ১৬ হাজার ২১৩ জন লোক কখনো হৃদরোগ বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হননি। প্রাপ্ত বয়স্কদের (৩০ থেকে ৭৯ বছর) মধ্যে ১৩ শতাংশ বলেন, তারা নিয়মিত অন্তত একটি ডিম খেতেন। অন্যদিকে ৯ শতাংশ বলেন, তারা নিয়মিত ডিম খেতেন না। তবে সবাই বলছেন, তারা মুরগির মাংস খেতেন। নয় বছর ধরে এ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সূত্র: সিএএনএমজে/

নীরব ঘাতক উচ্চ রক্তচাপ

অসংক্রামক রোগের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ অন্যতম। উচ্চ রক্তচাপ প্রায়ই একটি স্থায়ী রোগ হিসেবে বিবেচিত। এর জন্য চিকিৎসা ও প্রতিরোধ দুটোই জরুরী। তা না হলে বিভিন্ন জটিলতা, এমনকি হঠাৎ করে মৃত্যুরও ঝুঁকি থাকে।উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনস্বাভাবিক রক্তচাপ বলতে বোঝায় সেই বল, যার সাহায্যে রক্ত শরীরের একস্থান থেকে অন্যস্থানে পৌঁছায়। হৃদপিণ্ডের পাম্পিং ক্রিয়ার মাধ্যমে রক্তচাপ তৈরি হয়। রক্ত চাপের কোন একক নির্দিষ্ট মাত্রা নেই। বিভিন্ন বয়সের সাথে সাথে একেক জন মানুষের শরীরে রক্তচাপের মাত্রা ভিন্ন এবং একই মানুষের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে স্বাভাবিক এই রক্তচাপও বিভিন্ন রকম হতে পারে। উত্তেজনা, দুশ্চিন্তা, অধিক পরিশ্রম ও ব্যায়ামের ফলে রক্তচাপ বাড়তে পারে। ঘুমের সময় এবং বিশ্রাম নিলে রক্তচাপ কমে যায়। রক্তচাপের এই পরিবর্তন স্বাভাবিক নিয়মের মধ্যে পড়ে। অধিকাংশ সময় রক্তচাপের মাত্রা স্বাভাবিক মাত্রার ভিতরেই থাকে। সাধারণত বয়স যত কম, রক্তচাপও তত কম হয়। যদি কারও রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রার চাইতে বেশী হয় এবং অধিকাংশ সময় এমনকি বিশ্রামকালীন সময়েও বেশী থাকে, তবে ধরে নিতে হবে তিনি উচ্চ রক্তচাপের রোগী।উচ্চ রক্তচাপ কী আসলেই জটিল ব্যাধিউচ্চ রক্তচাপ ভয়ংকর পরিনতি ডেকে আনতে পারে। অনেক সময় উচ্চ রক্তচাপের কোন প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যায় না। এটাই উচ্চ রক্তচাপের সবচেয়ে ভীতিকর দিক। যদিও অনেক সময় উচ্চ রক্তচাপের রোগীর বেলায় কোন লক্ষণ থাকে না, তবুও নীরবে উচ্চ রক্তচাপ শরীরের বিভিন্ন অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ জন্যই উচ্চরক্তচাপকে `নীরব ঘাতক` বলা যেতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত এবং চিকিৎসা বিহীন উচ্চ রক্তচাপ থেকে মারাত্মক শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে, যেমন স্ট্রোক।উচ্চ রক্তচাপ হলে কী কী জটিলতা হতে পারেরক্তচাপ নিয়ন্ত্রিত না থাকলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ ৪টি অঙ্গে মারাত্মক ধরনের জটিলতা হতে পারে। যেমন- হৃদপিন্ড, কিডনি, মস্তিষ্ক ও চোখ। অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ থেকে হৃদযন্ত্রের মাংশপেশী দুর্বল হয়ে যেতে পারে। দুর্বল হৃদযন্ত্র রক্ত পাম্প করতে পারে না এবং এই অবস্থাকে বলা হয় হার্ট ফেইলিওর। রক্তনালির গাত্র সংকুচিত হয়ে হার্ট এ্যাটাক বা ইনফার্কশন হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের কারণে কিডনি নষ্ট হয়ে রেনাল ফেইল্যুর, মস্তিষ্কে স্ট্রোক হতে পারে, যা থেকে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া চোখের রেটিনাতে রক্তক্ষরণ হয়ে অন্ধত্ব বরণ করতে হতে পারে।উচ্চ রক্তচাপের কারণ ৯০ ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কোন নির্দিস্ট কারণ জানা যায় না, একে প্রাইমারী বা এসেন্সিয়াল রক্তচাপ বলে। সাধারণত বয়স্ক মানুষের উচ্চ রক্তচাপ বেশী হয়ে থাকে। কিছু কিছু বিষয় উচ্চ রক্তচাপের সম্ভাবনা বাড়ায়, যা নিম্নরূপ-১. বংশানুক্রমিক: উচ্চ রক্তচাপের বংশগত ধারাবাহিকতা আছে, যদি বাবা-মায়ের উচ্চ রক্তচাপ থাকে তবে সন্তানেরও উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমনকি নিকটাত্মীয়ের উচ্চ রক্তচাপ থাকলেও অন্যদের রক্তচাপের ঝুঁকি থাকে।২. ধূমপান: ধূমপায়ীদের শরীরে তামাকের নানা রকম বিষাক্ত পদার্থের প্রতিক্রিয়ায় উচ্চ রক্তচাপসহ ধমনী, শিরার নানা রকম রোগ ও হৃদরোগ দেখা দিতে পারে।৩. অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ: খাবার লবণে সোডিয়াম থাকে যা রক্তের জলীয় অংশ বাড়িয়ে দেয়। ফলে রক্তের আয়তন বেড়ে যায় এবং রক্ত চাপও বেড়ে যায়।৪. অধিক ওজন এবং অলস জীবনযাত্রা: যথেষ্ঠ পরিমাণে ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম না করলে শরীরে ওজন বেড়ে যেতে পারে। এতে হৃদযন্ত্রকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয় এবং এর ফলে অধিক ওজন সম্পন্ন লোকদের উচ্চ রক্তচাপ হয়ে থাকে।৫. অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাবার, যেমন- মাংস, মাখন এবং ডুবা তেলে ভাজা খাবার খেলে ওজন বাড়বে। ডিমের হলুদ অংশ, কলিজা, মগজ এসব খেলে রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে যায়। রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল হলে রক্তনালীর দেয়াল মোটা ও শক্ত হয়ে যায়। এর ফলে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।৬. অতিরিক্ত মদ্যপান: যারা নিয়মিত অত্যাধিক পরিমাণে মদ্যপান করে, তাদের উচ্চ রক্তচাপ বেশী হয়। অ্যালকোহলে অতিরিক্ত ক্যালরী থাকে, এর ফলে ওজন বেড়ে যায় এবং এতে রক্তচাপ বেড়ে যায়।৭. ডায়াবেটিস: ডায়াবেটিস রোগীদের অ্যাথারোস্ক্লেরোসিস বেশী হয়। ফলে বয়সের সাথে সাথে ডায়াবেটিস রোগীদের উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয়। এছাড়া তাদের অন্ধত্ব ও কিডনির নানা রকম রোগ হতে পারে।৮. অতিরিক্ত উৎকণ্ঠা: অতিরিক্ত রাগ, উত্তেজনা, ভীতি এবং মানসিক চাপের কারণেও রক্তচাপ সাময়িকভাবে বেড়ে যেতে পারে। যদি এই মানসিক চাপ অব্যাহত থাকে এবং রোগী ক্রমবর্ধমান মানসিক চাপের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারেন, তবে এই উচ্চ রক্তচাপ স্থায়ী রূপ নিতে পারে।কিছু কিছু রোগের কারণে উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে। নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া গেলে একে বলা হয় সেকেন্ডারী হাইপারটেনশন। এই কারণগুলির মধ্যে কয়েকটি হলো-- কিডনির রোগ।- অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি ও পিটুইটারী গ্রন্থির টিউমার।- ধমনীর বংশগত রোগ।- গর্ভধারণ অবস্থায় এ্যাকলাম্পসিয়া ও প্রি-এ্যাকলাম্পসিয়া হলে।- অনেকদিন ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ির ব্যবহার, স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ গ্রহণ এবং ব্যথা নিরামক কিছু কিছু ওষুধ খেলে।করণীয়জীবন যাত্রার পরিবর্তন এনে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। বংশগতভাবে উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা কমানো সম্ভব না। তবে এরকম ক্ষেত্রে যে সব উপাদান নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেগুলোর ব্যাপারে বেশী মনোযোগী হওয়া উচিত। যেমন-১. অতিরিক্ত ওজন কমাতে হবে: খাওয়া দাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে হবে ও নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। একবার লক্ষ্য অনুযায়ী ওজনে পৌঁছালে সীমিত আহার করা উচিত এবং ব্যায়াম অব্যাহত রাখতে হবে। ওষুধ খেয়ে ওজন কমানো বিপজ্জনক। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওজন কমানোর ওষুধ না খাওয়াই ভালে।২. খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা: কম চর্বি ও কম কোলেস্টেরল যুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে। যেমন- খাশি বা গরুর গোস্ত, কলিজা, মগজ, গিলা, গুর্দা, ডিম কম খেতে হবে। কম তেলে রান্না করা খাবার এবং ননী তোলা দুধ, অসম্পৃক্ত চর্বি যেমন সয়াবিন, ক্যানোলা, ভুট্টার তেল অথবা সূর্য্যমুখীর তেল খাওয়া যাবে। বেশী আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করা ভাল। আটার রুটি এবং সুজী জাতীয় খাবার পরিমান মত খাওয়া ভাল।৩. লবণ নিয়ন্ত্রণ: তরকারিতে প্রয়োজনীয় লবণের বাইরে অতিরিক্ত লবণ পরিহার করতে হবে।৪. মদ্যপান: অতিরিক্ত মদ্যপান পরিহার করতে হবে।৫. নিয়মিত ব্যায়াম: সকাল-সন্ধ্যা হাঁটাচলা, সম্ভব হলে দৌঁড়ানো, হালকা ব্যায়াম, লিফটে না চড়ে সিঁড়ি ব্যবহার ইত্যাদি।৭. ধূমপান বর্জন: ধূমপান অবশ্যই বর্জনীয়। ধূমপায়ীর সংস্পর্শ থেকে দুরে থাকুন। তামাক পাতা, জর্দ্দা, গুল লাগানো ইত্যাদিও পরিহার করতে হবে।৮. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: যাদের ডায়াবেটিস আছে, তা অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।৯. মানসিক ও শারীরিক চাপ সামলাতে হবে: নিয়মিত বিশ্রাম, সময় মতো ঘুমানো, শরীরকে অতিরিক্ত ক্লান্তি থেকে বিশ্রাম দিতে হবে। নিজের শখের কাজ করা, নিজ ধর্মের চর্চা করা ইত্যাদির মাধ্যমে মানসিক শান্তি বেশী হবে।১০. রক্তচাপ নিয়মিত পরীক্ষা: নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে গিয়ে রক্তচাপ পরীক্ষা করানো উচিত। যত আগে উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়ে, তত আগে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং জটিল রোগ বা প্রতিক্রিয়া হতে রক্ষা পাওয়া যায়।চিকিৎসা উচ্চ রক্তচাপ সারে না, একে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এর জন্য নিয়মিত ওষুধপত্র সেবন করতে হবে। অনেক রোগী কিছুদিন ওষুধ খাবার পর রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসলে ওষুধ বন্ধ করে দেন, মনে করেন রক্তচাপ ভালো হয়ে গেছে, কাজেই ওষুধ খাওয়ার দরকার কি? এই ধারণা সমপূর্ণ ভুল। কোনক্রমেই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন বন্ধ করা যাবে না। অনেকেই আবার উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত জানার পরেও ওষুধ খেতে অনিহা প্রকাশ করেন বা খেতে চান না। কারো কারো ধারণা একবার ওষুধ খেলে তা আর বন্ধ করা যাবে না। আবার কেউ কেউ এমনও ভাবেন যে উচ্চ রক্তচাপ তার দৈনন্দিন জীবন প্রবাহে কোন সমস্যা করছে না বা রোগের কোন লক্ষণ নাই, তাই উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খেতে চান না বা প্রয়োজন মনে করেন না। মনে করেন ভালইতো আছি, ওষুধের কি দরকার? এই ধারণাটাও সম্পূর্ণ ভুল।এই ধরনের রোগীরাই হঠাৎ করে হৃদরোগ বা স্ট্রোকে আক্রান্ত হন, এমন কি মৃত্যুও হয়ে থাকে। তাদেরকে অবশ্যই ডাক্তারদের পরামর্শ নিতে হবে, নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হবে এবং নিয়মিত চেক করতে হবে।লেখক : ডীন, মেডিসিন অনুষদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।  / এআর /

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি