ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ৪:৫৯:৫৮

বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধে পিল আবিষ্কার

গবেষণা: গর্ভধারণে সহায়ক ডিএইচইএ হরমোন

বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধে পিল আবিষ্কার

আধুনিক তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বেশি বয়সে বিয়ে করার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায়, তাঁদেরকে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে তারা ঝুঁকির মধ্যে থাকে। অনেকেই আবার বন্ধ্যাত্ব সমস্যায় ভোগেন। বলা হয়ে থাকে, বেশি বয়সী নারীদের সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা অনেকটাই কম। এতে অনেকের মা হওয়ার আশা দূরাশাই থেকে যায়। আর আইভিএফ চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ায় অনেকেই সন্তান ধারণে অক্ষম হয়ে পড়েন। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা বন্ধ্যাত্ব সমস্যায় ভোগা নারীদের আশার আলো দেখাচ্ছে। বিশেষ করে ৪০ বছর বয়সেও মা হওয়া সম্ভব বলে দাবি করছে গবেষকরা। গবেষকদের দাবি, সফল গর্ভধারণের ক্ষেত্রে শরীরের একটি হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর সেই হরমোনটির নাম ডিহাইড্রোপিয়ানড্রস্টারোন (ডিএইচইএ)। ডিহাইড্রোপিয়ানড্রস্টারোন একটি সেক্স হরমোন। গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাভাবিকভাবে ২০ বছর থেকে ৪০ বছরের নারীদের প্রায় অর্ধেক ডিহাইড্রোপিয়ানড্রস্টারোন হরমোন ঝরে যায়। আর এই হরমোন শরীর থেকে ঝরে যাওয়ার কারণেই মূলত বন্ধ্যাত্ব সমস্যা দেখা দেয় বলে জানিয়েছে গবেষকরা। তবে আনন্দের খবর হলো, গবেষকরা নতুন একটি পিল আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন, যেটি শরীরে ডিএইচইএ’র মাত্রা বাড়িয়ে দিবে। এদিকে গর্ভধারণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন সরবরাহ করতে পারে, এ ধরণের আরও একটি ওষুধ আবিষ্কার করেছে গবেষকরা। এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইনফ্ল্যামেশন রিসার্চ বিভাগে এ গবেষণা কার্যক্রম চালানো হয়। এর নেতৃত্ব দেন বিখ্যাত গবেষক ড. ডগলাস গিবসন। তিনি বলেন, আমরা এ উদ্ভাবনের ফলে উচ্ছ্বসিত। এই পিল কোষে ডিএইচইএ’র পরিমাণ বৃদ্ধি করে। তাই আশা করছি, এটি নারীর প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে। তবে এখনো আরও গবেষণা দরকার আছে বলে জানিয়েছেন ড. গিবসন। তিনি বলেন, আমরা নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত আরও কার্যকরী গবেষণা চালিয়ে যাবো। আর এই অগ্রগতি আমাদের অনেক দূর এগিয়ে দিয়েছে। সূত্র: দ্য মেইলএমজে/
নাকের পলিপের উপসর্গ ও চিকিৎসা

সাধারণত নাকের এক ধরনের বোটা থাকে। এটা দেখে অনেকে নাকে পলিপ হয়েছে বলে ধরে নেয়। এই ধারনাপি একেবারেই ভুল। পলিপ নাকের গভীরে হয়ে থাকে। নাকের মধ্যে এক ধরনের মাংস পিণ্ডকে পলিপ বোঝানো হয়। এটি অনেকটা স্বচ্ছ। পলিপ দুই ধরনের হতে পারে। নাকের এ রোগ ও তার চিকিৎসা নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ  ‍মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাক কান ও গলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান তরফদার। সাক্ষাতকার নিয়েছেন একুশে টিভি অনলাইন প্রতিবেদক তবিবুর রহমান।  একুশে টিভি অনলাইন: পলিপ কি, এটি কত ধরনের হয়ে থাকে? ডা. কামরুল হাসান :  ন্যাসাল পলিপ নাম দেখেই বোঝা যায় যে, এটা নাকে হয়। পলিপ জিনিসটা আসলে একটা মাংসপিণ্ড। এটাকে মাংসপিণ্ড বলা হলেও আসলে এটা মাংসপিণ্ড নয়। ইংরেজিতে এটাকে বলা হয় ম্যাস। আসলে এটা নাকের ভেতরে হয় এবং দেখতে স্বচ্ছ, দেখতে অনেকটা সাদা রংয়ের আঙুরের থোকার মতো নাকের ভেতরে হয়ে থাকে। পলিপ দুই নাকেই হতে পারে। সাধারনত পলিপ দুই ধরনের হয়ে থাকে ১. ইথময়েডাল পলিপ, যা উভয় নাসারন্ধ্রেই হয়ে থাকে। এই ধরনের পলিপ শিশুদের কম হয়। ২. এন্ট্রোকোয়োনাল পলিপ, এটি শিশুদের বেলায় বেশি দেখা দেয়। দুই ধরনের পলিপ হওয়ার পেছনের কারণও ভিন্ন। একুশে টিভি অনলাইন: পলিপ হওয়ার প্রধান কারণগুলো কি কি? ডা.কামরুল হাসান: সাধারনত পলিপ অ্যালার্জির কারণে হয়ে থাকে। যাদের হাঁচি থাকে, সর্দি থাকে, তাদের মূলত পলিপ বেশি দেখা দেয়। হাপানি, চোখ চুলকানো নাক চুলকানোর কারণেও পলিপ দেখা দিতে পারে। তবে মূলত অ্যালার্জির কারণে দেখা দেয় পলিপ। এছাড়া বিভিন্ন ইশফেকশনের কারণে পলিপ হতে পারে। একুশে টিভি অনলাইন : অপারেশন ছাড়া পলিপ চিকিৎসা সম্ভব কি না? ডা. কামরুল হাসান : অপারেশন ছাড়া অবশ্যই পলিপের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। তবে আগে পলিপ কোন অবস্থায় আছে সেটা দেখতে হবে। ধুলা-বালি,গরম এবং অ্যালার্জির কারণের পলিপ হতে পারে। সেজন্য আগে পলিপ হওয়ার কারণ নির্মাণ করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে। চিকিৎসকরা যে খাবারগুলো খেতে নিষেধ করেছেন তা খাওয়া যাবে না। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করলে পলিপ ভালো হয়ে যেতে পারে। একুশে টিভি অনলাইন: দীর্ঘদিন পলিপ বহন করলে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে কি না? ডা.কামরুল হাসান: অবশ্যই, দীর্ঘমেয়াদী পলিপ হলে শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে। এমনকি মৃত্যু পর‌্যন্ত হতে পারে। বেশি আকার ধারণ করলে মেডিক্যাল চিকিৎসা সম্ভব নয়। তখন সেটাকে সার্জারি করতে হবে। মাঝে মাঝে নাক বন্ধ হয়ে যায়। রাতের বেলা দম বন্ধ হয়ে যায়। দিনের বেলায় বেশি ঘুমায়। দাঁতগুলো উচু হয়ে যায়। সারা সময় সর্দিভাব থাকে। কানে কম শোনে। স্মৃতিশক্তি কমে যায়। পড়াশুনা মনোযোগ নষ্ট হয়ে যায়। দিনে দিনে দুর্বল স্বাস্থ্য হয়ে যায়। এমনকি এক সময় শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়তে থাকে। একুশে টিভি অনলাইন: পলিপের চিকিৎসা কি? ডা. কামরুল হাসান : যদি পলিপ হয়ে গিয়ে থাকে। তাহলে দেখতে হবে এটি প্রাথমিক অবস্থায় রয়েছে নাকি অনেক পরে মানে দেরি করে রোগী ডাক্তারের কাছে এসেছেন। প্রাথমিক অবস্থায় যদি খুব ছোট থাকে তাহলে আমরা অ্যান্টি অ্যালার্জিক ড্রাগ দেই এবং একই সঙ্গে লোকাল অ্যাস্টেরয়েড স্প্রে হিসেবে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকি। তাতে অনেকসময় দেখা যায় ওই পলিপ ছোট হয়ে মিশে যায়। আবার কখনও কখনও পলিপ চিকিৎসার জন্য স্টেরয়েড ট্যাবলেট খাওয়ার জন্য দিয়ে থাকি। আর সেটা ব্যবহারেও অনেক সময় পলিপ ছোট হয়ে যায়। আর যদি পলিপ বেশি বড় হয়ে গিয়ে থাকে সেক্ষেত্রে তা নাক থেকে দূর হয় না। সেসব ক্ষেত্রে পলিপের অপারেশন জরুরি হয়ে পড়ে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পলিপ সম্পূর্ণ সারিয়ে তোলা সম্ভব।     একুশে টিভি অনলাইন: এ রোগ এড়াতে  আপনার পরামর্শ কি ? ডা.কামরুল হাসান : মূলত পলিপ থেকে মুক্ত থাকতে হলে আমাদেরকে সচেতন হতে হবে। যেহেতু এটার কারণ অ্যালার্জি সেহেতু অ্যালার্জির সৃষ্টির জিনিসগুলোকে এড়িয়ে চলতে হবে। একুশে টিভি অনলাইন : আপনার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। ডা. কামরুল হাসান: একুশে পরিবারকেও ধন্যবাদ। / এআর /    

দিনে না ঘুমানোয় মুটিয়ে যাচ্ছে শিশুরা

বিশ্বজুড়েই শিশুদের স্থুলতা সমস্যা একটি মারাত্মক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর ঘুমের তারতম্যের কারণেই শিশুরা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশিমাত্রায় মুটিয়ে যাচ্ছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। শিশুদের ঘুম নিয়ে প্রায়ই বাবা-মায়েরা চিন্তিত থাকে। তাদের ঘুম একটু কম-বেশি হলেই বিভিন্ন সমস্যা দেখা যায়। স্বাস্থ্য খারাপ হতে থাকে, অধিক সময় ধরে কান্না করতে থাকে এমনকি নিয়মিত খাবারের রুচি থাকে না। তবে নতুন এক গবেষণায় জানা গেছে, শিশুরা দিনে কম ঘুমালে এবং বেশি রাত পর্যন্ত জেগে থাকলে তাদের খাবারের রুচি বেড়ে যায়। তারা খেতে চায় বেশি। এতে তারা দিনকে দিন স্থুল হয়ে ওঠে।  যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভারসিটি অব কলোরাডোর পুষ্ঠি বিশেষজ্ঞ এলসা মুলিনস বলেন, ‘যেসব শিশু এখনো স্কুল জীবন শুরু করেনি তাদের ঘুমের তারতম্যের সঙ্গে খাবার খাওয়ার সম্পর্ক নিয়ে একটা প্রথম গবেষণা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, যেসব শিশু দুপুরে ঘুমায় না তারা বেশি ক্যালোরির খাবার খায়। এতে অনিয়ন্ত্রিত খাবার খাওয়ার ফলে তারা ক্রমশ মোটা হয়ে যায়। সদ্য প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে প্রায় তিন ঘণ্টার মতো ঘুমের ঘাটতি রয়েছে প্রাক-স্কুলের শিশুদের। তারা দুপুরে ঘুমোয় না এবং সকাল বেলা ঘুম থেকে স্বাভাবিকভাবে ওঠার দুই ঘণ্টা আগেই ওঠে যায়। দিনে ঘুমের ঘটাতির কারণে তিন থেকে চার বছরের শিশুরা স্বাভাবিকের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি ক্যালোরি, ২৫ শতাংশ সুগার ও ২৬ শতাংশ কার্বোহাইড্রেড জাতীয় খাবার বেশি গ্রহণ করে। স্বাভাবিকের চেয়ে শিশু ১৪ শতাংশ বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করছে। ফলে তারা মুটিয়ে স্থুল হয়ে যাচ্ছে। এজন্য শিশুদের দিনে ঘুমানো অভ্যাস করতে হবে। তথ্যসূত্র : বোল্ডস্কাই। কেএনইউ/     

ত্বকেই ফুটবে সুখ-অসুখের বার্তা

চিকিৎসকেরা হাত দেখে বা নাড়ি টিপে বুঝে নিতে পারেন রোগীর সুস্থতা-অসুস্থতার অনেক ইঙ্গিত। পাঁচজন সাধারণ মানুষের যদি হাতের ত্বকেই ফুটে ওঠে এসব তথ্য, তবে তো আরও অসাধারণ।   তেমন কাজই করেছেন জাপানের একদল বিজ্ঞানী। তাঁরা উদ্ধাবন করেছেন হাতে স্থাপনযোগ্য বার্তাবাহী বিশেষ ত্বক। অত্যন্ত পাতলা এই ত্বকে যেমন ভেসে উঠবে প্রিয়জনের পাঠানো বার্তা, একই ভাবে তা স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবরও রাখবে। আরও মজার বিষয় হলো, ত্বকটি স্থাপনের পর মনেই হবে না যে অতিরিক্ত কিছু লেগে আছে হাতে। জাপানের দাই নিপ্পন প্রিন্টিংয়ের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ত্বকটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তাকাও সোমেয়া। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব সায়েন্সের বার্ষিক সম্মেলনে ত্বকটি দেখানো হবে। সম্প্রচার ও সংকোচনযোগ্য এই ত্বক কাটা-ছেড়ায় লাগানো ব্যান্ড এইডের মতো করেই হাতে স্থাপন করা যায়। এক মিলিমিটার প্রশস্ত ত্বকটিতে লেড ডিসপ্লে, হালকা ওজনের সেনসর আর তারহীন মডিউল রয়েছে। বার্তা আদান-প্রদান আর স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর এগুলোর মাধ্যমেই সম্পন্ন করে এটি। অধ্যাপক তাকাও সোমেয়া বলেন, তাঁদের উদ্ভাবিত এই গৌণ ত্বক চিকিৎসায় ভালো কাজে আসবে অনেক রোগীই নড়তে-চড়তে পারেন না। তাঁদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি-অবনতির খবর এই যন্ত্রের মাধ্যমে রাখা সম্ভব। সার্বক্ষনিক কাছাকাছি না থেকেও চিকিৎসক ঠিকই রোগীর সব খোঁজ রাখতে পারবেন। প্রয়োজনে দ্রুত ছুটে আসতে পারবেন রোগীর কাছে। ঘরে বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ থাকলে দূর থেকে তাঁর খোঁজ রাখা সম্ভব এই ত্বকের মাধ্যমে। এ ছাড়া ত্বকের ব্যবহারকারী প্রত্যন্ত এলাকায় থাকলে এর মাধ্যমে তিনি তাঁর চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে এটি। হাতের তালু বা উল্টো পিঠে এই ত্বক স্থাপন করা যায়। তাকাও সোমেয়া বলেন, ‘ধরুন, আপনি দূরে আছেন। দাদা-দাদি, নানা-নানির মতো বয়োজ্যেষ্ঠ কেউ ঘরে রয়েছেন। তাঁর হাতে থাকা গৌণ ত্বকটিতে যখন ‘‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’’ এর মতো বার্তা ভেসে উঠবে , তখন ওই বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তির মনে হবে, আপনি যেন তাঁর কাছেই আছেন। তাঁর স্বাস্থ্যেরও খোঁজ রাখা সম্ভব এর মাধ্যমে। তাকাও সোমেয়া বলেন, ডিভাইসটি সম্প্রসারণ করা যায়। কাজেই ত্বকের মতো জটিল অবকাঠামোর ওপর এটি সহজেই স্থাপন করা সম্ভব। এক সপ্তাহ ধরে এটি দেহে লাগানো থাকলেও ত্বকে কোন প্রদাহের সৃষ্টি হবে না বলে জানান তিনি। শুধু তাই-ই নয়, এই ত্বক এতটাই হালকা যে, স্থাপনের পর ব্যবহারকারী এর কথা ভুলেই যাবেন। এই বিজ্ঞানী আরও বলেন, প্রাতর্ভ্রমনের সময় পরা থাকলে স্পন্দনের গতি প্রদর্শণ করবে এটি। কতখানি দৌড়ানো হলো, সেটাও জানিয়ে দেবে এই ত্বক। এ ছাড়া শ্রমজীবীদেরও কাজে আসবে যন্ত্রটি। এসি/   

শিশুর চোখের সমস্যায় চশমার ব্যবহার

চোখ একটি স্পর্শকাতর সংবেদনশীল অঙ্গ। যার সাহায্য আমার এই সুন্দর পৃথিবী দেখতে পাই। পৃথিবীর প্রকৃতি ও রূপ সৌন্দর্য্য উপভোগ করি। এই চোখে দেখতে না পাওয়া মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় অভিশাপ। একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায় বাংলাদেশে প্রায় ১৮ লক্ষ লোক অন্ধ। যার প্রধান কারণ ছানিপড়া, দৃষ্টি শক্তি সমস্যা, নেত্রনালী প্রদাহ, কর্ণিয়ার আলসার বা চোখের ঘা, গ্লুকোমা, ইউভিয়াইটিস, চোখ টেরা, চক্ষুগোলকের বাইরের রোগ ইত্যাদি। একুশে টেলিভিশনের (ইটিভি) ‘দি ডক্টরস্’ অনুষ্ঠানে আজকের আলোচনার বিষয়- ‘শিশুর চোখের সমস্যায় চশমার ব্যবহার’। বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন- অধ্যাপক ডা. হারুন-উর-রশিদ (চক্ষু বিভাগ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকা আই কেয়ার হাসপাতালের চীফ কনসালট্যান্ট, বিশিষ্ট ল্যাসিক, ফ্যাকো ও গ্লোকমা বিশেষজ্ঞ)। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন- অধ্যাপক ডা. ইকবাল হাসান মাহমুদ। অনুষ্ঠানটি শুনে লিখিত রুপে সাজিয়েছেন- সোহাগ আশরাফ প্রশ্ন : শিশুদের দৃষ্টিস্বল্পতার কারণ কী? উত্তর : শিশুদের দৃষ্টিস্বল্পতার কারণগুলোর মধ্যে খুব বেশি যে বিষয়টা আমরা লক্ষ করি তাতে দেখা যায়, আমাদের দেশে পুষ্টিহীনতার অভাব অন্যতম একটি কারণ। যারা বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে থাকে, তাদের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি বেশি দেখা যায়। আর যারা শহর এলাকায় থাকে আমরা লক্ষ্য করেছি, ইতিহাস নিয়ে, অত্যন্ত বেশি তারা টিভি দেখে। পুষ্টিসম্পন্ন খাবার থাকার পরও, বাবা-মা বলার পরও তারা খায় না। প্রয়োজনীয় সেই খাবারটি না খেয়ে তারা বাইরের কম প্রয়োজনীয় খাবার খায়। টিভি দেখা, অত্যধিক কম্পিউটার ব্যবহার করা, মোবাইলে গেম খেলা-এগুলো একটা কারণ হতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি। প্রশ্ন : চোখের সমস্যা হলে চশমার একটি প্রসঙ্গ আসে। চশমা ব্যাবহারের ক্ষেত্রে কি কোন পরামর্শ আছে? উত্তর : অবশ্যই। শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ডক্টরদের কন্সালটেশন রুমে এক ধরণের চার্ট থাকে। শিশুদেরকে সেটা পড়তে দেওয়া হয়। এক চোখ বন্ধকরে একটা ট্রাইল ফ্রেম দিয়ে পড়তে বলা হয়। এছাড়াও কিছু পরীক্ষা রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে আমরা রোগীর অবস্থাটা পরিমাপ করি। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে আমরা বড়দের মত সরাসরি চশমা দেই না। কিছু বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে এটি দেওয়া হয়। প্রশ্ন : বাচ্চাদের অনেকে চশমা পরতে অনীহা দেখায়। সে ক্ষেত্রে যদি চশমা না পরে তাহলে এই ক্ষীণ দৃষ্টি কী আরও সমস্যায় পড়তে পারে? উত্তর : পাঁচ বছর থেকে ১২ বছর পর্যন্ত, এই সময়ের মধ্যে যদি তার চশমার প্রয়োজন হয় এবং চশমা দেওয়া না হয়, তাহলে রেটিনার ওপর ঝাপসা ভাব পড়ছে। এতে শিশু দেখতে পাবে না। শিশু দেখতে না পেলে চোখটা অলস হয়ে যায়। যদি এক চোখে চশমা লাগে আর আরেক চোখে না লাগে তবে যেই চোখে লাগে সেটা অলস হয়ে যাবে। আর যেটা না লাগে সেটা অলস হবে না। তার কারণে একটা চোখ তার অলস হয়ে থাকবে। এটা যদি আমরা চিকিৎসা না করি ১২ বছর পার হয়ে গেলে ওই যে এক চোখে দৃষ্টিশক্তি কম রয়েছে সেটা আর বাড়বে না। আর যদি চশমা দিয়ে দেই তাহলে ভালো হবে। আর এই অলস চোখটির জন্য কিছু ব্যায়াম আছে— সেগুলো যদি করাই বাচ্চাকে তাহলে এই দৃষ্টিশক্তিগুলো তৈরি হয়ে যাবে। ১২ বছর পার হয়ে গেলে দৃষ্টি শক্তি একেবারে স্বাভাবিক হয়ে যাবে। প্রশ্ন : অনেকেই মনে করেন যে চশমা মানেই খারাপ। আবার কেউ চশমা পড়লে তাকে চোখ কানাও বলা হয়। এটা কি ঠিক? উত্তর : এটা একটা কুসংস্কার। এক একটা মানুষের গায়ের রঙ, চেহারা, উচ্চতা এক এক রকম। সেই ভাবে এক এক মানুষের দৃষ্টিও আলাদা। আবার অনেক সময় আমরা ভালো চোখেও চশমা পরি। চশমা ব্যবহার করার ক্ষেত্রে চোখের অসুখের বা ভালো-মন্দের কোন সম্পর্ক নেই। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে নিজের ভিডিওটি ক্লিক করুন : এসএ/  

শিশুদের চোখের পাওয়ারের সমস্যা ও চিকিৎসা

চোখ একটি স্পর্শকাতর সংবেদনশীল অঙ্গ। যার সাহায্য আমার এই সুন্দর পৃথিবী দেখতে পাই। পৃথিবীর প্রকৃতি ও রূপ সৌন্দর্য্য উপভোগ করি। এই চোখে দেখতে না পাওয়া মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় অভিশাপ। একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায় বাংলাদেশে প্রায় ১৮ লক্ষ লোক অন্ধ। যার প্রধান কারণ ছানিপড়া, দৃষ্টি শক্তি সমস্যা, নেত্রনালী প্রদাহ, কর্ণিয়ার আলসার বা চোখের ঘা, গ্লুকোমা, ইউভিয়াইটিস, চোখ টেরা, চক্ষুগোলকের বাইরের রোগ ইত্যাদি। একুশে টেলিভিশনের (ইটিভি) ‘দি ডক্টরস্’ অনুষ্ঠানে আজকের আলোচনার বিষয়- ‘শিশুদের চোখের পাওয়ারের সমস্যা ও প্রতিকার’। বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন- অধ্যাপক ডা. হারুন-উর-রশিদ (চক্ষু বিভাগ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকা আই কেয়ার হাসপাতালের চীফ কনসালট্যান্ট, বিশিষ্ট ল্যাসিক, ফ্যাকো ও গ্লোকমা বিশেষজ্ঞ)। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন- অধ্যাপক ডা. ইকবাল হাসান মাহমুদ। অনুষ্ঠানটি শুনে লিখিত রুপে সাজিয়েছেন- সোহাগ আশরাফ প্রশ্ন : বাংলাদেশে প্রচুর শিশু চোখের সমস্যায় ভুগছে। যার মধ্যে একটি সমস্যা খুব বেশি দেখা যায়। আর তা হচ্ছে- শিশুর চোখের পাওয়ার কমে যাওয়া। এই পাওয়ারের সমস্যাটা কেনো হয়? উত্তর : আগে জানা দরকার- আমরা সাধারণত কিভাবে দেখি এবং কখন পাওয়ারে সমস্যা হয়? আমরা যখনই কোন জিনিসের দিকে তাকাই সেই জিনিস থেকে আলো এসে আমাদের চোখের কর্ণিয়া ভেদ করে ভিতরে অবস্থিত স্বচ্ছ প্রাকৃতিক লেন্সটি ভেদ করে চোখের সবচেয়ে পেছনের সংবেদনশীল যে স্তরটি রয়েছে যাকে আমরা রেটিনা বলে থাকি, এই রেটিনার একটি বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত হয়। আর তখনই আমরা কোন বস্তুর ছবি স্পষ্ট দেখতে পাই। কোন কারণে আলো যদি রেটিনাতে আপতিত না হয়ে রেটিনার সামনে বা পেছনে আপতিত হয় তখনই আমরা ঝাপসা দেখি। সাধারণ মানুষ এটাকে বলে চোখের পাওয়ারের সমস্যা। এটি আবার তিন ধরণের। ১। হ্রস্ব বা ক্ষীণদ্রৃষ্টি (Myopia or short sight) ২। দীর্ঘদৃষ্টি বা দূরদৃষ্টি (Hypermetropia or long sight) ৩। বার্ধক্য দৃষ্টি বা চালশে (Presbyopia) ৪। বিষম দৃষ্টি বা নকুলান্ধতা (Astigmatism) এ সমস্ত কারণেই শিশুরা সাধারণত ঝাপসা দেখে। প্রশ্ন : অভিভাবক কিভাবে বুঝবে যে তার শিশু দৃষ্টি ত্রুটিতে ভুগছে? উত্তর : এটি খুবই প্রাসঙ্গীক প্রশ্ন। আসলে চোখ তো মনের কথা বলে। চোখেরও কিন্তু একটা আলাদা ভাষা রয়েছে। যাকে আমরা বলি- চোখের ভাষা। বলতে পারেন এটি একটি শক্তিশালি মাধ্যম। যার মাধ্যমে আমরা নিজেকে প্রকাশ করতে পারি। আসলে একটি শিশু যখন কথা বলতে শেখে সে কিন্তু তার চোখের ভাষাতেই তার অনুভুতি, তার ক্ষুধা, তার তৃষ্ণা, তার আবেগ এসব কিছুই সে প্রকাশ করে। বাবা-মায়েরা কিন্তু এসবই বুঝতে পারেন। বিশেষ করে মায়েরা। যেমন ধরুণ লাল জিনিসের প্রতি শিশুরা খুব বেশি আকর্ষিত হয়। তেমন একটি খেলনা শিশুটির সামনে ধরা হলো, কিন্তু শিশুটি তার উপর আকর্ষিত হচ্ছে না বা ধরতে যাচ্ছে না। এলোমেলো ভাবে তাকাচ্ছে। তখনই বুঝতে হবে শিশুটি দৃষ্টি শক্তিতে ত্রুটি আছে। এছাড়া ধরুণ অন্ধকারে আলো জ্বালানো হলো কিন্তু বাচ্চা যদি নিরলিপ্ত থাকে তবে বুঝতে হবে সে চোখের সমস্যায় ভুগছে। অনেক সময় সরাসরি কর্ণিয়ায় দেখা যায় সাদা স্পট পড়ে আছে। এমন কি শিশু বড় হচ্ছে, হাঁটছে কিন্তু যেখানে সেখানে ধাক্কা খাচ্ছে বা পড়ে যাচ্ছে। আবার দেখা যায় শিশুটি টেলিভিশন দেখার সময় সামনে গিয়ে দেখছে। তাকে যতবার পেছনে নিয়ে আসা হচ্ছে সে আবারও সামনে গিয়ে দেখার চেষ্টা করছে। শিশুটি যখন আরও বড় হলো তখন স্কুলে গিয়ে ক্লাবে বোর্ডের লেখা দেখতে পারছে না। অথবা খাতায় লিখতে গিয়ে ভুল লিখছে। শুধু তাই নয়; চোখ পিটপিট করে দেখছে, মাথা বাকা করে দেখছে। এমনকি ঘনঘন মাথা ব্যথারও কথা বলে। এসব দেখলেই বাবা-মায়েরা বুঝবেন যে তার শিশুর দৃষ্টি সমস্যা রয়েছে। এই সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে নিচের ভিডিওটি দেখুন : এসএ/

কিডনী রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা

মানব দেহের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হচ্ছে কিডনি। পৃথিবীতে মানবজাতি যেসব প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে তার মধ্যে কিডনি রোগ অন্যতম। এই কিডনি রোগ খুব নীরবে শরীরের ক্ষতি করে। খুব জটিল অবস্থা না হওয়া পর্যন্ত সাধারণত লক্ষণগুলো ভালোভাবে প্রকাশও পায় না। তাই কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো আগে থেকেই জেনে রাখা জরুরি। সেই সঙ্গে জানা দরকার এর সঠিক চিকিৎসা কি হবে। একুশে টেলিভিশনের (ইটিভি) ‘দি ডক্টরস্’ অনুষ্ঠানের আজকের আলোচনার বিষয় ‘কিডনী রোগের লক্ষণ, সনাক্ত করণ ও চিকিৎসা’। এ বিষয়ে কথা বলেছেন- প্রফেসর ডা. এম এ সামাদ (বিভাগীয় চীফ কনসালট্যান্ট, বিশিষ্ট কিডনী রোগ বিশেষজ্ঞ ল্যাবএইড স্পেশালাইজড্ হাসপাতাল)। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেছেন- অধ্যাপক ডা. ইকবাল হাসান মাহমুদ। অনুষ্ঠানটি শুনে প্রতিবেদন তৈরি করেছেন- সোহাগ আশরাফ প্রশ্ন : অনেকেই আছেন যারা কোমড় ব্যথা হলে বা প্রস্রাব হলুদ হলে ভয়ে মনে করেন কিডনি সমস্যা। আসলে কিডনি রোগ হলে এর লক্ষণগুলো কি হবে? উত্তর : আসলে কিডনি বিকল হয়ে যাওয়ার লক্ষণ যদি বলি তবে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ বিকল হওয়ার আগে কোনভাবেই প্রকাশ পায় না। এ অবস্থায় দেখা যায় খাওয়ায় অরুচী, বমি বমি ভাব, মাঝে মাঝে ঘুম থেকে উঠলে চোখ-মুখ ফোলা দেখানো অর্থাৎ চোখের নিচের অংশ বেশি ভারি ভারি হয়ে থাকে। এছাড়া আস্তে আস্তে রক্ত শূণ্যতা দেখা দেয়। চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে আসে। আরও যদি বেশি ঝুঁকিতে থাকে তবে বিনা কারণে শরীর চুলকাবে, গায়ের রঙ পরিবর্তন হয়ে যাবে। রাতে অনেকবার প্রস্রাব করতে হয়। কারও কারও উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিতে পারে। মোট কথা দেহ তো একটাই। যখন এটি খুব বেশি আক্রান্ত হয় তখন সবগুলো অঙ্গই ধীরে ধীরে জড়িত হয়ে যায়। এ জন্য এই রোগটিকে নিরব ঘাতক বা সাইলেন্ট কিলার বলা হয়। প্রশ্ন : কিডনি বিকল কি শুধু শুধু হয়? উত্তর : না। কখনওই শুধু শুধু কিডনি বিকল হবে না। অনেকগুলো রোগের শেষ পরিনতি এটি। সেই রোগগুলো প্রাথমিক অবস্থায় সনাক্ত করা সম্ভব। যেমন ধরুন- প্রস্রাব যদি কখনও কমে যায়। অথবা কারও দেখা যাচ্ছে রাতে প্রস্রাব হতো না এখন হচ্ছে। প্রস্রাব করার সময় জালাপোড়া হয়। প্রস্রাব করার পরেও কিছু প্রস্রাব থেকে যায়। এর সঙ্গে কোমড়ের দুই পাশে ব্যথা এবং কাপুনি থাকে। আবার দেখা যাচ্ছে প্রস্রাবে প্রচুর ফেনা থাকে। মুখ ফুলে যায় তবে মনে করতে হবে কিডনির প্রদাহ বোঝায়। আবার দেখা যায় যে প্রস্রাব লাল হচ্ছে অর্থাৎ প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাচ্ছে। তবে এই রক্ত যাওয়া অনেক কারণে হতে পারে যেমন কিডনিতে পাথর থাকলে। টিউমার থাকলে হতে পারে। অনেক কারণেই প্রস্রাবে রক্ত যেতে পারে। অনেক সময় ভিটামিন খেলেও প্রস্রাব হলুদ হতে পারে। আবার পানি কম খেলেও হলুদ হয়। সকালে ঘুম থেকে উঠলেও প্রস্রাব হলুদ হয়। এটা আসলে কোন রোগ না। প্রশ্ন : এমন কোন লক্ষণ বা কারণ কি নেই যা দেখে রোগী বুঝবে যে তার কিডনি খারাপের দিকে যাচ্ছে? উত্তর : খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা প্রশ্ন। অনেকগুলো লক্ষণ বলেছি প্রস্রাব নিয়ে। এছাড়া অনেক সময় কোমড়ে ব্যথা হতে পারে। তলপেটে ব্যথা থাকতে পারে। তবে আমি আগেই বলে রাখি কোমড়ে যে ব্যথা হয় তার ৯০ ভাগই হয় স্পাইন থেকে। আমাদের পেটের পেছনের দিকে কিছু অঙ্গ আছে সেগুলোতে যদি টিউমার বা ক্ষত হয় সেক্ষেত্রেও ব্যথা হতে পারে। তবে সাধারণত ১০ ভাগ করণে কিডনির জন্য হয়ে থাকে। কিডনিতে যদি পাথর থাকে, টিউমার হয়, প্রস্রাব প্রবাহে কোন বাঁধা সৃষ্টি হয় এ সমস্ত কারণে হতে পারে। প্রশ্ন : প্রধান কি লক্ষণ দেখলে রোগী বুঝবে যে তার কিডনিতে সমস্যা হয়েছে? উত্তর : কিছু বিষয় মনে রাখতে হবে যা গুরুত্বপূর্ণ। শরীর যদি ফুলে যায়, আর সেই ফোলাটা যদি শুরু হয় মুখমন্ডল থেকে। প্রস্রাবের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলোনায় কমে গেলে। প্রস্রাব যদি লাল হয় বা রক্ত যায়। কোমড়ের দুই পাশে যদি ব্যথা হয়। এই ব্যথা তলপেটেও হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিলে। তাছাড়া কিছু রোগ আছে যা থাকলে তাদের অবশ্যই কিডনি পরীক্ষা করে নিতে হবে। যেমন ধরুন : কারও যদি ডায়াবেটিক থাকে, উচ্চ রক্তচাপ থাকে, কখন যদি কারও মুখমন্ড ফুলে গিয়ে থাকে, যদি কারও ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে, এমন কোন মানুষ যদি থাকে যে খুব বেশি হাটাচলা করেন না-বসে বসে কাজ করেন, কোন করণে যার দীর্ঘদিন ব্যথার ঔষুধ খেতে হয়েছে এবং যারা পানি কম পানে অভ্যস্থ, বংশে যদি কারও কিডনি রোগ থাকে এসব ইতিহাস থাকলে বছরে অন্তত দুইবার কিডনি পরীক্ষা করা উচিৎ। কিডনি রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে নিচের ভিডিওটি দেখুন : এসএ/  

পায়ুপথের রোগ এনাল ফিসার ও চিকিৎসা

পায়ুপথের সব রোগই সাধারণ মানুষ পাইলস মনে করে থাকেন। কিন্তু পাইলস ছাড়াও পায়ুপথে অনেক ধরনের রোগ হয়ে থাকে। যেগুলোর মধ্যে এনাল ফিসার একটি। এ রোগে মূলত পায়ুপথ ছিঁড়ে যায়। সাধারণত প্রবল কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিলে অথবা যথাযথ প্রক্রিয়ায় মলত্যাগ করা সম্ভব না হলে শক্ত মল অথবা অতিরিক্ত চাপের কারণে পায়ুপথ সামান্য ছিঁড়ে যায়। যেহেতু পায়ুপথ অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকা, সেহেতু ছিঁড়ে যাওয়ায় মলত্যাগ করতে গেলেই তীব্র ব্যথা শুরু হয়। ওই ব্যথা কারো আধা ঘণ্টা, কারো ক্ষেত্রে সারা দিন স্থায়ী হয়। ব্যথা পিন দিয়ে খোঁচা দেওয়ার মতো, ছুরি দিয়ে কাটার মতো হতে পারে। এ ব্যথা সারা তলপেটে ও পায়ে ছড়িয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে চুলকানি ও এক ধরনের অস্বস্থি হতে পারে। রোগী ব্যথার ভয়ে টয়লেটে যেতে চান না। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য আরও কঠিন হয়ে পড়ে এবং পরবর্তী সময় মলত্যাগে ব্যথা আরও বেড়ে যায়। বিষয়টি দুষ্টচক্রের মতো চলতে থকে। ব্যথা ছাড়া অন্য আরেকটি উপসর্গ হচ্ছে রক্ত যাওয়া। তবে এনাল ফিসারে রক্ত বেশি যায় না। সাধারণত মলের গায়ে লেগে কিংবা টিস্যু পেপারে দেখা যায়। দুই-এক ফোঁটা রক্ত কমডেও দেখা যেতে পারে। রক্ত, ব্যথা ছাড়া পায়ুপথে সামান্য ফোলা বা গেজ, টয়লেট আসতে দেরি হওয়া ইত্যাদি হতে পারে। একুশে টেলিভিশনের (ইটিভি) ‘দি ডক্টরস্’ অনুষ্ঠানে আজকের আলোচনার বিষয় ‘পায়ু পথের সাধারণ রোগ এনাল ফিসার ও চিকিৎসা’। বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন- অধ্যাপক ডা. এস এম এ এরফান (বিভাগীয় প্রধান, কলোরেকটাল সার্জারী বিভাগ, জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ হাসপাতাল)। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন- ডা. নন্দিনী সরকার। অনুষ্ঠানটি শুনে লিখিত রুপে সাজিয়েছেন- সোহাগ আশরাফ   প্রশ্ন : পায়ু পথের কি কি সমস্যা নিয়ে রোগীরা আপনাদের কাছে আসে? উত্তর : আসলে পায়ু পথে অনেকগুলো রোগ হয়। যে সাধারণ রোগগুলো আমাদের কাছে আসে তার মধ্যে রয়েছে- পাইলস্ বা অর্শ, ফিসার বা ফেটে যাওয়া, ফিস্টুলা বা চিরনালী ঘা, পলিপ বা নরম মাংসাবূদ, প্রলাপসাস বা ঝুলে পড়া, স্টোনোসিস বা শক্ত-সরু হয়ে পড়া, প্রুরাইটিস বা চুলকানি, প্রকটাইটিস বা প্রদাহ, কন্ডাইলোমেটা বা শক্ত আচিল, ব্লাড থ্রম্বসিস বা রক্তজমাট বদ্ধতা, আলসার বা খত, কার্সিনোমা বা ক্যানসার প্রভৃতি। প্রশ্ন : এনাল ফিসা কি? উত্তর : খুব সহজ বাংলায় পায়ু পথ ছিঁড়ে যাওয়াকে বলে এনাল ফিসার। এটি খুব সাধারণ একটি রোগ। সাধারণত ১২/১৪ বছর থেকে শুরু করে ৩০/৩৫ বছর বয়সীদের এই রোগ বেশি হয়। অনেক সময় শিশুদেরও হয়। বৃদ্ধ বয়সেও হয়। তবে এই বয়সে একটু বেশি হয়। প্রশ্ন : এর লক্ষণগুলো কি ? উত্তর : ব্যথা। এটাই প্রধান বিষয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই ব্যথা তীব্র হয়। অনেক সময় রোগীরা বলেন যে- কেটে যাওয়ার মত ব্যথা। পিন দিয়ে খোঁচার মত ব্যথা। প্রথম দিকে এটি খুবই তীব্র হয়। এমন হয় যে রোগী মল ত্যাগ করতে ভয় পায়। দেখা যায় রোগীর সাধারণ মল হচ্ছে কিন্তু হঠাৎ করে একদিন কষা হবে। তখন প্রেসার দিয়ে টয়লেট করার সময় পায়ুপথটা ছিঁড়ে যায়। এরপর থেকেই তীব্র ব্যথা শুরু হবে। এই ব্যথার কারণে রোগী টয়লেট করতে ভয় পায়। কয়েকদিন টয়লেট করে না। ফলে আরও কষা হয়। এরপর যখন আবারও টয়লেট করার চেষ্টা করে আবারও ছিঁড়ে যেতে পারে। তীব্র জ্বালা পোড়া বা চুলকানিও হতে পারে। এছাড়া রক্তপাতও হয়। পাইলসে যেমন অনেক রক্ত যায় এখানে তেমন যাবে না। মলের সঙ্গে লেগে হালকা রক্ত যাবে। প্রশ্ন : রক্তপাত কি কি কারণে হতে পারে? উত্তর : পাইলস্, ফিসার, ফিস্টুলা, পলিপ, প্রলাপসাস, প্রকটাইটিস, ব্লাড থ্রম্বসিস, ক্যান্সার সহ বিভিন্ন করণেই হতে পারে। তবে এনাল ফিসারের কারণে ব্যথা হবে। অন্য ক্ষেত্রে এতো তীব্র ব্যথা থাকবে না। পাইলসে কিন্তু ব্যথাই হবে না। প্রশ্ন : চলার পথে রাস্তা-ঘাটে দেখা যায় পাইলসের বিভিন্ন চিকিৎসার চটকদার বিজ্ঞাপন। এই চিকিৎসা সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কি? উত্তর : অনেক সুন্দর একটি প্রশ্ন। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই ধরণের চিকিৎসা করা বহু রোগী আমরা পাই। ওই চিকিৎসায় পায়ুপথে এসিড জাতিয় কিছু দেওয়া হয়। ফলে পায়ুপথটা সম্পূর্ণ ভাবে নষ্ট হয়ে যায়। পায়ুপথটা কিন্তু দরজার মত। বন্ধ হয় খোলে। কিন্তু এর কারণে রোগী সারা জীবনের জন্য রোগী হয়ে যায়। এটা খুবই ভয়াবহ ব্যাপার। এসব হাতুড়ে চিকিৎসা নিয়ে জীবন নষ্ট করার কোন মানে নেই। এ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে নিচের ভিডিওটি দেখুন :   এসএ/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি