ঢাকা, সোমবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৮ ২৩:১৩:০৫

বাংলাদেশে ওষুধ শিল্পের প্রসার

দি ডক্টরস্ (ভিডিও)

বাংলাদেশে ওষুধ শিল্পের প্রসার

বাংলাদেশের ঔষধ শিল্প খাত অন্যতম সফল এবং প্রযুক্তিগতভাবে অগ্রগামী একটি খাত। এই শিল্প দেশের এক গর্ব। বর্তমানে দেশে ৩০০টির অধিক ঔষধ কোম্পানি রয়েছে। আমাদের দেশে মাত্র তিন শতাংশ ঔষধ আমদানি করা হয়। আর বাকি ৯৭ শতাংশ দেশীয় কোম্পানি যোগান দিয়ে থাকে। বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো বিশ্বের অসংখ্য দেশে পণ্য রপ্তানি করে থাকে। রপ্তানি পণ্যর মধ্যে ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, HFA ইনহেলার, নাসাল স্প্রে, আই ভি ইনফিউসন উল্লেখযোগ্য। মূলত দেশের ওষুধ শিল্পের প্রকৃত উন্নয়ন শুরু হয় ১৯৮২ সালে ওষুধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ জারি হবার পর। অসামঞ্জস্য ওষুধের উপর বিধিনিষেধ দেশীয় কোম্পানিকে নিজস্ব পণ্য উৎপাদনে উৎসাহিত করেছিল এবং এই অধ্যাদেশ স্থানীয় কোম্পানির উন্নয়ন ত্বরানিত করেছিল। পেশাজীবিদের দৃঢ় মনোভাব, জ্ঞান এবং নতুন আধুনিক চিন্তা এই শিল্পের উন্নয়নের পেছনে কাজ করেছে। একুশে টেলিভিশনের (ইটিভি) ‘দি ডক্টরস্’ অনুষ্ঠানে আজকের আলোচনার বিষয়- ‘বাংলাদেশে ওষুধ শিল্পের প্রসার’। বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন- মোঃ এবাদুল করিম (ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস লিঃ)। দি ডক্টরস্’ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন- অধ্যাপক ডা. ইকবাল হাসান মাহমুদ। শ্রুতিলিখন করেছেন- সোহাগ আশরাফ প্রশ্ন : আপনাদের সকলের অক্লান্ত পরিশ্রমে বাংলাদেশে এখন অনেক ঔষুধ কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একজন ডাক্তার রোগী দেখার পর তার জন্য যখন ঔষুধ লেখেন তখন কি তার কাছে কোন দ্বিধা কাজ করে যে- আমি যে ঔষুধটি লিখছি তার মান কতটুকু, রোগি এই ঔষুধে সুস্থ হবে কি না? মানে আমি দেশের ঔষুধের মানের কথা জানতে চাই। উত্তর : একজন চিকিৎসকের জন্য রোগীর নিরাপত্তা ও নিরাময় বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি বাংলাদেশের ঔষুধের মান নিয়ে কথা বলার আগে একটু পেছনের কথা টানতে চাই। ১৯৮২ সালের ঔষধ নিয়ন্ত্রণ অ্যাধাদেশ জারি হবার আগ পর্যন্ত আমরা জানি যে বাংলাদেশে উৎপাদিত ঔষুধের প্রায় ৮০ ভাগই মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানী নিয়ন্ত্রণ করতো। এমনকি ভিটামিন সিরাপ থেকে শুরু করে অ্যান্টাসিড পর্যন্ত এই মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানীগুলো প্রডিউস করতো এবং তারাই মার্কেটিং করতো। ড্রাগ পলিসির পর বাংলাদেশের ফার্মা ইন্ডাস্ট্রির লোকাল এন্টারপ্রেনার যারা তারা এগিয়ে আসলেন। ওই সময় লোকাল কোম্পানিগুলো বেশ সুযোগ পায়। ধীরে ধীরে তারা তাদের সক্ষমতা বাড়াতে থাকে। তখন চিকিৎসকদের মনে একটা ভয় কাজ করতো। আমাদের ঔষুধগুলো কাজ করবে কিনা? চিকিৎসকদের মধ্যে আস্থা অর্জটা আমাদের জন্য অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। সেই সময় সহজেই চিকিৎসকরা আমাদের ঔষুধ হাতে নিতে না। অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়েই লোকাল কোম্পানিগুলোকে আস্থা অর্জন করতে হয়েছে। আর আজকের প্রেক্ষাপট যদি বলি- এখন ৯৮ ভাগই আমাদের লোকাল কোম্পানিগুলো থেকে সাপ্লাই দেওয়া হয়। এতো বিপুল পরিমাণে ঔষুধ আমাদের রোগীরা গ্রহণ করছেন এবং আমাদের চিকিৎসকরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই তা লিখছেন। প্রশ্ন : উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ, এই দুই দেশের মধ্যে যদি তুলোনা করি, আমরা তো এখন উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছি, আমাদের ঔষুধ শিল্পের মান এবং সক্ষমতা কতটুকু বলে মনে করেন? উত্তর : ঔষুধের মানের কথা যদি বলি- এক এক দেশের রেগুলেশন এক এক রকম। আমরা ধরে নেই যে ইউএসএফডিএ অর্থাৎ সর্বচ্চ মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার স্বীকৃতি আমরা পেয়েছি। এটি পাওয়া মানেই বিশ্বমানের কাছে চলে যাওয়া। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ উৎপাদনকারী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিজস্ব পলিসি আছে। তাদের ড্রাগ রেজুলেশন আছে। জাপানের আছে। চীনের নিজস্ব আছে। বাংলাদেশেরও নিজেস্ব রেগুলেশন রয়েছে। বাংলাদেশ ডাব্লিউএইচও এর রেগুলেশন ফলো করে। আমরা বিশ্বের প্রায় ১০০টির বেশি দেশে আমাদের ঔষুধ রপ্তানি করে থাকি। প্রশ্ন : বাংলাদেশে ঔষুধ শিল্পকে প্রডাক্ট অব দ্য ইয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। এতে করে এই শিল্পটার উপর কি প্রভাব পড়বে এবং সরকারের এ বিষয়ে কি করার আছে? উত্তর : আমি বলবো- সরকার অত্যান্ত ভালো একটি কাজ করেছে। যখন সরকারের দৃষ্টি কোন একটি সেক্টরের উপর পড়ে তখন সেই সেক্টরটি খুব সহজেই এগিয়ে যেতে পারে। এর আগে সরকার পোশাক শিল্পকে বেশ সাপোর্ট দিয়েছে। আর সেজন্যই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। আমাদের সরকার চামড়া শিল্পকে সাপোর্ট দিয়েছে। তারাও ভালো করছে। ঔষুধ শিল্প নিজে নিজেই যথেষ্ট উন্নয়ন করেছে। কিছু বিষয় আছে যে দিকে নজর ‍দিলে আরও সাফল্য অর্জন করা যাবে। সর্বপরি সরকার যে উদ্যোগটি নিয়েছে তা খুবই প্রশংসনিয়। এখানে সরকারের অনেক কিছুই করার আছে। প্রশ্ন : আমাদের দেশের অনেক রোগীই আছে যারা দেশীয় ঔষুধ খেতে চায় না। এ অবস্থায় আস্থা অর্জনের জন্য আপনারা কি করছেন? উত্তর : এ বিষয়ে আমাদের অনেক কিছুই করার আছে। আস্থা অর্জনের জন্য আমরা কাজও করছি। তবে আমি বলবো- আমাদের পণ্যের মান কিন্তু অনেক ভালো। যদিও একটা সমস্যা আছে। আমাদের মধ্যে একটা প্রবণতা হচ্ছে আমরা বিদেশী পণ্যের প্রতি বেশ আগ্রহী। যেমন ধরুণ আমাদের পোশাক কিন্তু বিশ্বের উন্নত দেশে রপ্তানি হচ্ছে। তারপরও আমরা বিদেশ প্রিতি দেখাই। মেড ইন বাংলাদেশ অনেকেরই পছন্দ না। এ জায়গা থেকে আমাদের বেড়িয়ে আসতে হবে। সে ক্ষেত্রে আমাদের সচেতনতা বাড়াতে হবে। প্রশ্ন : বাজারে কিন্তু অনেক ভেজাল, নকল ঔষুধ রয়েছে। তাদের বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি? উত্তর : এটা একটি বড় ইস্যু। সম্প্রতি আমরা দেখেছি সরকার প্রায় ২৮টির মত কোম্পানিকে উৎপাদনের লাইসেন্স বাতিল করেছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের নিয়ন্ত্রণ যদি আরও কঠর এবং বিস্তৃত হয় তবে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে। তাছাড়া এই সেক্টরে সরকারের লোকবলও কম রয়েছে। আমার বিশ্বাস সরকার এই বিষয়টি মাথা রেখে লোকবল নিয়োগ দিবে। বিস্তারিত দেখতে নিচের ভিডিওটি ক্লিক করুন :   এসএ/  
হৃদরোগীদের খাবারের রুটিন

যে সব খাবারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে সেগুলো বর্জন করতে হবে। স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে এমন খাবারগুলো যেমন- গরুর মাংস, খাসির মাংস, হাঁসের মাংস, ডিমের কুসুম, কলিজা, মগজ (ব্রেন), হাঁস ও মুরগির চামড়া, হাড়ের মজ্জা, মাখন, ঘি, ডালডা, মার্জারিন, চিংড়ি, নারিকেল, দুধের সর, বড় মাছের মাথা। হৃদরোগীরা এই সব খাবার অবশ্যই বর্জন করবেন। আর যারা হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে চান তারা যত কম খাবেন তত ভালো। হৃদরোগীরা সবসময় পরিমিত খাবার খাবেন। এ ব্যাপারে নবীজীর (স.) একটি হাদিস আমরা অনুসরণ করতে পারি। তিনি বলেছেন, তুমি তোমার পাকস্থলির এক-তৃতীয়াংশ খাবার ও এক-তৃতীয়াংশ পানীয় দ্বারা পূণর্ করো। আর বাকী এক-তৃতীয়াংশ ফাঁকা রাখো। দীর্ঘ নিরীক্ষায় দেখা গেছে, এভাবে খাবার গ্রহণ করলে শরীরের ওজন সব সময় নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে। কখন খাবেন- সকাল বেলা তুলনামূলক বেশি নাশতা করুন, দুপুরে তৃপ্তির সঙ্গে খান এবং রাতে খুব হালকা খাবার গ্রহণ করুন। যেভাবে খেতে হবে- ১. সপ্তাহে ২ দিন: ভাত/ রুটি, ডাল, শাক, সবজি, সালাদ, ফল, ছোট মাছ ২. সপ্তাহে ২ দিন: ভাত/ রুটি, ডাল, শাক, সবজি, সালাদ, ফল, বড় মাছ বা সামুদ্রিক মাছ ৩. সপ্তাহে ১ দিন: ভাত/ রুটি, ডাল, শাক, সবজি, সালাদ, ফল, সালাদ, মুরগীর মাংস ৪. সপ্তাহে ২ দিন: ভাত/ রুটি, ডাল, শাক, সবজি, সালাদ, ফল, ভর্তা এছাড়া প্রতিদিন ২/৩ ধরনের মৌসুমি ফল খাওয়া উচিত। একে//                            

হৃদরোগ নিরাময় ও প্রতিরোধে মেডিটেশন

বিশ্বে প্রতিবছর দেড় কোটিরও বেশি মানুষ হৃদরোগে মৃত্যুবরণ করে। খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাপন পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে এর চেয়ে অনেক ভালো ফল পাওয়া গেছে বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতায়। নানা গবেষণার মাধ্যমে এটি এখন প্রমাণিত যে, মেডিটেশন হৃদরোগের প্রতিরোধ ও নিরাময় দুক্ষেত্রেই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। কোলেস্টেরল হার্ট এ্যাটাকের অন্যতম প্রাথমিক কারণ। মেডিটেশন অস্বাভাবিক বেশি কোলেস্টেরোলের মাত্রাকে কমিয়ে আনতে পারে। মেডিকেল কলেজ অফ জর্জিয়ার ফিজিওলজিস্ট ডা. বার্নেস ১১১ জন তরুণ স্বেচ্ছাসেবীর ওপর এক গবেষণা চালান। তিনি বলেন, লিপিড কমানোর ওষুধ ব্যবহার করে আগে যে ফল পাওয়া যেত তা-ই পাওয়া সম্ভব মেডিটেশনে। ২০০৭ সালে আমেরিকান সাইকোসোমাটিক সোসাইটির বার্ষিক কনফারেন্সে তিনি এ রিপোর্টটি পেশ করেন। মার্কিন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ক্রিচটন দীর্ঘ গবেষণার পর দেখিয়েছেন, হৃদরোগের কারণ প্রধানত মানসিক। তিনি বলেছেন, কোলেস্টেরল বা চর্বিজাতীয় পদার্থ জমে করোনারি আর্টারিকে ব্লক করে ফেললেই যে হার্ট এ্যাটাক হবে এমন কোনও কথা নেই। কোরিয়া যুদ্ধের সময় রণক্ষেত্রে নিহত সেনাদের অটোপসি করা হতো। ডাক্তাররা লক্ষ্য করেন, নিহত তরুণ সেনাদের শতকরা ৭০ জনেরই আর্টারি চর্বি জমে প্রায় বন্ধ হয়ে এসেছে (এ্যাডভান্সড স্টেজ অফ এ্যাথেরোস্কে-রোসিস) এবং হার্ট এ্যাটাকের পথে এগুচ্ছে। এদের মধ্যে ১৯ বছর বয়স্ক তরুণ সেনাও ছিল। ডা. ক্রিচটন প্রশ্ন তোলেন, যদি শুধু করোনারি আর্টারিতে চর্বি জমাটাই হৃদরোগের কারণ হতো তাহলে তো এই তরুণ সেনাদের মৃত্যু গুলির আঘাতে নয়, হৃদরোগেই হতো। নব্য চিকিৎসা ধারার প্রবর্তক ডা. ডীন অরনিশ, ডা. দীপক চোপড়া, ডা. কার্ল সিমনটন, ডা. বার্নি সীজেল, ডা. হার্বার্ট বেনসন প্রমুখ ‘বডি, মাইন্ড, স্পিরিট’ সাময়িকীর ১৯৯৭ সালের বিশেষ সংখ্যায় ‘একবিংশ শতকের স্বাস্থ্য’ প্রচ্ছদ কাহিনীতে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে মত প্রকাশ করেছেন যে, সুস্থ থাকতে হলে নিজের স্বাস্থ্যের দায়িত্ব নিজেকেই গ্রহণ করতে হবে। নিজেকে নিরাময় করার ক্ষমতা প্রতিটি মানুষের সহজাত ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত। আর এই সহজাত ক্ষমতার সঙ্গে নিজের বিশ্বাসকে সম্পৃক্ত করতে পারলে প্রচলিত চিকিৎসাব্যবস্থার শতকরা ৯০ ভাগ খরচই অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়বে। আপনার স্বাস্থ্য ও নিরাময়ের দায়িত্ব নিতে হবে আপনাকেই। ডাক্তার, ওষুধ, সার্জারি সবই হবে আপনার সহযোগী শক্তি। একে//এসএইচ/

জন্ডিস দূর করতে ৮ খাবার

জন্ডিস এক ধরণের পানিবাহিত রোগ। জন্ডিসে ত্বক, চোখের সাদা অংশ এবং অন্যান্য মিউকাস ঝিল্লি হলুদ হয়ে যায়। এছাড়া এই রোগে লিভারে কিংবা যকৃতে সমস্যা দেখা দেয়। এর সঠিক চিকিৎসা না নিলে রোগী মারাও যেতে পারে। তবে জন্ডিসের শুধু ওষুধই এর একমাত্র চিকিৎসা নয়, খাবারের মধ্যেই জন্ডিসের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা রয়েছে।   তাই জন্ডিস দ্রুত সারাতে চাইলে কিছু খাবার খাওয়া জরুরী। সেগুলো নিচে দেওয়া হলো- ১) পরিমিত পানি জন্ডিস হলে প্রতিদিন অন্তত আট গ্লাস করে পানি খেতে হবে। কেননা জন্ডিস এক ধরণের পানিবাহিত রোগ। তাই এ সময় শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দেয়। তাই পরিমিত পানি খেলে অতিরিক্ত টক্সিন বের হয়ে যায়। ফলে লিভার ফাংশক ঠিক থাকে। ২) হার্বাল টি জন্ডিস রোগ হলে কখনই কফি বা চা কিংবা কোকো খাবেন না। এতে মারত্মক ক্ষতি হতে পারে। এইসব খাবারের পরিবর্তে হার্বাল টি খান। এমনকি দুগ্ধজাত খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে। ৩) হজমে সাহায্যকারী খাবার জন্ডিস হলে খাবার হজম হতে সমস্যা হয়। তাই যেসব খাবার দ্রুত হজম হয় সেরকমই উৎসেচক সমৃদ্ধ খাবার তালিকায় রাখুন। যেমন- মধু, কমলালেবু, আনারস, পেঁপে, পাকা আম ইত্যাদি খান। ৪) ফাইবারযুক্ত খাবার জন্ডিস রোগে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার অবশ্যই খাবেন। ফাইবার জাতীয় ফল, সবজি তো অবশ্যই। এছাড়াও বাদাম, শস্যদানা যেমন- ওটমিল, আমন্ড, ব্রাউন রাইস ইত্যাদি বেশি করে খাবেন। ৫) সুগার জাতীয় খাবার জন্ডিস হলে সুগার জাতীয় খাবার খেতে হবে তবে তা পরিমিত হতে হবে। যেমন- আখের রস জন্ডিসের জন্য খুবই উপকারী। তবে হ্যা, রাস্তার ধারে বিক্রি হওয়া আখের রস খাবেন না। বাড়িতে আখ কিনে এনে কেটে খান কিংবা রস করে খেতে পারেন। এছাড়া সামান্য চিনি দিয়ে ইয়োগার্ট খেতে পারেন। তবে অতিরিক্ত চিনি লিভারের জন্য ক্ষতিকর।  ৬) পুদিনার পাতা লিভার ফাংশনের জন্য খুবই উপকারী পাতা হচ্ছে পুদিনা। এর পাতা প্রতিদিন সকালে চার-পাঁচটি খেলে জন্ডিসের জন্য ভালো উপকার পাওয়া যাবে। এছাড়া পুদিনার জুস করে খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায়। ৭) লেবুর রস পাকস্থলির জন্য সহায়ক লেবুর রস। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে পানির মধ্যে করে লেবুর রস খেলে আপনার পরিপাকতন্ত্রে ভালো কাজ করবে। ৮) আনারস জন্ডিসে আখের রস যেমন ভালো কাজ করে তেমনি আনারসও সেই ভূমিকা পালন করে। এছাড়া লিভার পরিশোধনে আনারস খুবই উপকারী। তথ্যসূত্র : এই সময়। কেএনইউ/

হৃদরোগের ৯ কারণ: মূলে টেনশান

মানবদেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হচ্ছে হার্ট বা হৃৎপিণ্ড। এ হৃদপিণ্ড বা হার্টের অনেক ধরনের রোগ হয়ে থাকে। বিশ্বে প্রতিবছর দেড় কোটিরও বেশি মানুষ করোনারি হৃদরোগে মৃত্যুবরণ করে। আর পাশ্চাত্যে মোট মৃত্যুর শতকরা ৪৫ ভাগই ঘটে হৃদরোগে। পাশ্চাত্যের অন্ধ-অনুকরণ আর ভ্রান্ত জীবনাচরণের কারণে বাংলাদেশসহ প্রাচ্যের দেশগুলোতেও এ রোগের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। তবে এই রোগ একদিনে হুট করে হয় না। দীর্ঘদিন ধরে একটু একটু করে ধমনীতে কোলেস্টেরল জমেই এ রোগের সূত্রপাত ঘটে। মার্কিন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ক্রিচটন দীর্ঘ গবেষণার পর দেখিয়েছেন, হৃদরোগের কারণ প্রধানত মানসিক। ভ্রান্ত-জীবনদৃষ্টির কারণে যে জিনিসটি প্রথম তৈরি হয় তা হলো টেনশন বা স্ট্রেস। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, আবেগের আগ্রাসন, কাজের বাড়তি চাপ প্রভৃতি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। জীবনে ক্রমাগত আশঙ্কা বেড়ে যাওয়া, কাজ-কর্মে তাড়াহুড়ো, আধুনিক জীবনযাত্রায় নিত্য দিনের দুর্ভাবনা এককথায় স্ট্রেস সরাসরি আমাদের শরীরের রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া ও হৃৎপিণ্ডের ওপর প্রভাব ফেলে। ক্রমাগত টেনশন বা স্ট্রেসের ফলে শরীর থেকে এড্রেনালিন, নর-এড্রেনালিন ও কর্টিসোল নামক স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। ফলশ্রুতিতে দেহের অধিকাংশ পেশী যে পরিমাণ সংকুচিত হয় সেই পরিমাণ শিথিল হতে পারে না। এর মধ্যে যেমন বড় বড় পেশী রয়েছে তেমনি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পেশীও রয়েছে। ফলে তৈরি হচ্ছে ঘাড়ে ব্যথা, কাঁধে ব্যথা, পিঠে ব্যথা। আবার করোনারি ধমনীর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মাংসপেশীর সংকোচনের ফলে তৈরি হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা যে সব কারণকে হৃদরোগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করে থাকেন তারমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো- ১. বয়স: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে থাকে। ২. লিঙ্গ: মহিলাদের চেয়ে পুরুষেরা হৃদরোগে বেশি আক্রান্ত হয়। তবে মেনোপজের পরে মহিলাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। ৩. বংশগত: বাবা-মায়ের হৃদরোগ থাকলে তাদের সন্তানদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অধিক থাকে। এর মূল কারণ পরিবারের একই খাদ্যাভ্যাস ও ধূমপানের অভ্যাস। ৪. ধূমপান: হৃদরোগ হওয়ার পেছনে ধূমপানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে ব্যক্তি নিয়মিত ধূমপান করে থাকেন তার হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করার ঝুঁকি থাকে। ৫. উচ্চ রক্তচাপ: উচ্চ রক্তচাপ করোনারি হৃদরোগের একটি মারাত্মক রিস্ক ফ্যাক্টর। অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ হৃদপিন্ডের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ৬. রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রার আধিক্য: রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রার আধিক্য হৃদরোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ রিস্ক ফ্যাক্টর। ৭. ডায়াবেটিস: হৃদরোগ হওয়ার পেছনে ডায়াবেটিসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। ৮. অতিরিক্ত ওজন এবং মেদস্থূলতা: অধিক ওজন হলে শরীরে রক্ত সরবরাহ করতে হৃদপিণ্ডের অধিক কাজ করতে হয়। যার ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ৯. শারীরিক পরিশ্রমের অভাব: শারীরিকভবে নিস্ক্রিয় লোকদের হৃদরোগ হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। অলস জীবন-যাপন করোনারি হৃদরোগের জন্য আরেকটি রিস্ক ফ্যাক্টর। কিন্তু সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এ কারণগুলো ছাড়াও যে বিষয়টির প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে মনোযোগ দিচ্ছেন তা হলো স্ট্রেস বা টেনশন। এমনকি বিজ্ঞানীরা উপরোক্ত সবগুলো কারণের মধ্যে একক গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে স্ট্রেসকে চিন্থিত করছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, কোনও ব্যক্তির রক্তের উচ্চ কোলেস্টেরল লেভেল, উচ্চ রক্তচাপ বা ধূমপানের অভ্যস থাকা সত্ত্বেও স্ট্রেস- ফ্রি থাকার কারণে তিনি হৃদরোগ থেকে মুক্ত রয়েছেন। আবার উপরোক্ত কারণগুলো না থাকা সত্ত্বেও শুধু স্ট্রেসের কারণে কোনও ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। একে// এসএইচ/

হৃদরোগীদের জন্য ১০ পরামর্শ

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে প্রতিবছর দেড় কোটির বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করে। আর এই হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার বড় কারণ হচ্ছে জীপন যাপনে শৃংখলা না থাকা। হৃদরোগ থেকে সুস্থ থাকার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন ডা. মনিরুজ্জামান ১. প্রতিদিন একই খাবার গ্রহণ করুন। খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খান। রাত ৮টার মধ্যে রাতের খাবার খেয়ে নিন। ২. প্রতিদিন সকালে বা বিকেলে কমপক্ষে ৩০ মিনিট রোদে কাটান। ৩. প্রদিদিন দুই বেলা মেডিটেশন করুন। প্রতিদিন ৩ দফা প্রাণায়াম করুন। ৪. কাঙ্খিত ওজন বজায় রাখুন। ৫. প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটুন (ঘণ্টায় ৪ মাইল বেগে)। ৬. প্রতিদিন ২০-৩০ মিনিট যোগ ব্যায়াম করুন (উজ্জীবন, ত্রিকোনাসন, অর্ধচন্দ্রাসন, পার্শ্ব-অর্ধচন্দ্রাসন, বৃক্ষাসন, উৎকটাসন, অর্ধ-শলভাসন, ভূজঙ্গাসন, পবনমুক্তাসন, গোমুখাসন, উষ্ট্রাসন, বজ্রাসন, শবাসন)। ৭. প্রতিদিন বিকল্প আমিষ হিসেবে সয়াদুধ/ সয়া প্রোটিন ড্রিংকস, স্পিরুলিনা, মাশরুম, মটরশাঁটি, শিম বা বরবটি, বিভিন্ন রকম বীজ, ডাল খান। ৮. শাক সবজি অর্ধসিদ্ধ করে খাওয়ার চেষ্টা করুন। ৯. লাল চালের ভাত ও লাল আটার রুটি খান। ভাত ও রুটিন পরিমাণ সীমিত রাখুন। প্রতিদিন চা চামুচের ১ চামুচ মধু খান। ১০. প্রতিদিন ১টি করে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ট্যাবলেট সাপ্লিমেন্ট হিসেবে খান। প্রয়োজনে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করুন। একে//এসএইচ/  

কণ্ঠের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রতিকার

আমাদের পারস্পারিক যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে কণ্ঠ বা কথা বলা। আমরা কণ্ঠস্বর নিয়ে খুব বেশী সচেতন নই। মারাত্মক কণ্ঠনালীর রোগ বা ক্যান্সারে আক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হই না। প্রতি বছর ১৬ এপ্রিল বিশ্ব কণ্ঠ দিবস পালন করা হয়। কণ্ঠ ও কণ্ঠনালির সমস্যা এবং কণ্ঠকে সুস্থ রাখার উপায় সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘মেক দ্য ভয়েস, টু চেরিশ ইউর ভয়েস’। বিশ্বের অন্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও আজ পালিত হচ্ছে এই দিবস। ২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশে বিশ্ব কণ্ঠ দিবস উদযাপন করে আসছে। সমগ্র বিশ্বে ২০০২ সাল হতে বিশ্ব কণ্ঠ দিবস পালিত হচ্ছে। ব্রাজিলে ১৯৯৯ সালের এপ্রিল মাসে প্রথম মানুষের কণ্ঠ ও কণ্ঠনালীর সমস্যা এবং নাক কান গলা রোগ বিষয়ে জনগণকে সচেতন করার জন্য জাতীয় কণ্ঠ সপ্তাহ পালিত হয়। একুশে টেলিভিশনের (ইটিভি) ‘দি ডক্টরস্’ অনুষ্ঠানে আজকের আলোচনার বিষয়- ‘কণ্ঠের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রতিকার’। বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন- অধ্যাপক ডা. মনিলাল আইচ লিটু (বিভাগীয় প্রধান, নাক, কান, গলা বিভাগ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল)। ‘দি ডক্টরস্’ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন- অধ্যাপক ডা. ইকবাল হাসান মাহমুদ। শ্রুতিলিখন করেছেন- সোহাগ আশরাফ প্রশ্ন : আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব কণ্ঠ দিবস। কণ্ঠ নিয়ে এতো আলোচনা কেনো? উত্তর : আমরা আমাদের ঘুম নিয়ে চিন্তা করি। আমরা আমাদের কান নিয়ে চিন্তা করি। আমরা আমাদের চোখ নিয়ে চিন্তা করি। আমরা আমাদের হার্ট নিয়ে চিন্তা করি। কিন্তু আমরা কি কখনও আমাদের কণ্ঠ নিয়ে চিন্তা করি? কণ্ঠও যে আমাদের একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তা হয়তো ভাবি না। আপনি জানেন যে- কণ্ঠের মাধ্যমে মানুষ একজন আরেক জনের সঙ্গে কথা বলে। কণ্ঠ শুধু কণ্ঠ না। এটি কিন্তু মানুষের ব্যাক্তিত্বেরও পরিচায়ক। যারা কণ্ঠকে ব্যবহার করেন, যেমন শিক্ষক, অ্যাডভোকেট, রাজনীতিবিদ, সঙ্গীতশিল্পী, আবৃত্তিকার, অভিনয় শিল্পী, উপস্থাপক, এমনকি আমরাও যারা কণ্ঠ ব্যবহার করছি তাদের কিন্তু কণ্ঠের যদি কোন সামান্য ত্রুটিও হয় তখনই বোঝা যায় কণ্ঠের গুরুত্ব কি! এই কণ্ঠ কিন্তু প্রতিটি মানুষের জন্য ইউনিক। এটি কিন্তু বংশগত একটা প্রাপ্তি। আমরা অনুশিলনের মাধ্যমে কিছুটা পরিমার্জিত করতে পারি। প্রশ্ন : এবারের কণ্ঠ দিবসে একটা বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে, তা হচ্ছে- শিক্ষকদের কণ্ঠ। অনেক সময় দেখা যায় শিক্ষকদের কণ্ঠ খুবই দুর্বল। অর্থাৎ তাদের কথা শিক্ষার্থীরা শুনতে পারেন না যারা ক্লাসে থাকেন। এতে তো শিক্ষার্থীদের অনেক ক্ষতিও হচ্ছে। আপনি কি মনে করেন? উত্তর : কণ্ঠস্বর কিন্তু তার ব্যক্তিত্ব ও তার কমান্ডকে এনশিওর করে। যারা কণ্ঠ কেন্দ্রীক কাজের সঙ্গে যুক্ত তাদের কিন্তু অবশ্যই ভালো কণ্ঠের অধিকারি হতে হয়। তার কণ্ঠ যারা শুনছেন তাদের কাছে স্পষ্ট পৌঁছাতে হবে। শুধু শিক্ষক নয়, সবার কণ্ঠেরই যত্ন নেওয়া জরুরী। কণ্ঠের যত্ন না নেওয়া ছাড়া আপনি কখনও সমাজে নিজেকে বিকশিত করতে পারবেন না। প্রশ্ন : একজন বয়স্ক লোকের খুব ভালো কণ্ঠস্বর ছিল। হঠাৎ করে কণ্ঠস্বরে পরিবর্তন আসলো। কি করাণে হতে পারে? উত্তর : আসলে এটি আমি একটু ভিন্ন ভাবে বলতে চাই। সেটা হলো বাচ্চাদের হতে পারে। বয়স্কদের হতে পারে। বিভিন্ন বয়সে আমরা বিভিন্ন ভাবে চিন্তা করি। সাধারণ বিষয় হচ্ছে সকল বয়সের মানুষের কেনো কণ্ঠস্বর পরিবর্তন হয়? ভোকাল কর্ড বা ল্যারিংসের নার্ভের দুর্বলতা বা কোন সমস্যার জন্য কণ্ঠনালীর পরিবর্তন হতে পারে। ভাইরাস জনিত প্রদাহের জন্য নার্ভের দুর্বলতা হয়। সাধারণত এক দিকের নার্ভ-ই প্যারালাইসিস হয়, দুই দিকের নার্ভ একই সঙ্গে আক্রান্ত হওয়া খুবই বিরল। এক দিকের নার্ভ প্যারালাইসিসের কারণ হচ্ছে ভাইরাল ইনফেকশন, টিউমার, ক্যান্সার ও থাইরয়েড অপারেশন। কণ্ঠনালীর প্যারালাইসিসের জন্য ফেঁসফেঁসে আওয়াজ হয় এবং এটি নিঃশ্বাসের সঙ্গে জড়িত। প্রশ্ন : কণ্ঠনালীর ক্যান্সার বিষয়টি কি? উত্তর : আমাদের দেশে গলার ক্যান্সার বা কণ্ঠনালীর ক্যান্সারের প্রকোপ অনেক বেশি। গলার স্বর পরিবর্তনের পনের দিনের মধ্যে ভালো না হলে, চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া দরকার। রোগীর ইতিহাস, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে প্রাথমিকপর্যায়ে ক্যান্সার নির্ণয় করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গলার ক্যান্সার বা কণ্ঠনালীর ক্যান্সারকে মোটেও অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ কণ্ঠনালীর ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় করে চিকিৎসা করলে সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায় এবং এ রোগের সব ধরণের চিকিৎসা যেমন- সার্জারী, কেমোথেরাপী ও রেডিওথেরাপী আমাদের দেশে বিদ্যমান। বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত জানতে নিচের ভিডিওটি দেখুন : এসএ/  

ক্যালোরিকে ফাঁকি দিতে ডায়েটে যা রাখবেন   

অফিসে কাজের চাপ। শরীরচর্চা করার সময় নেই। এক্ষেত্রে কী করবেন? চিন্তার কোনও কারণ নেই। এক্ষেত্রে প্রতিদিনের এই ব্যস্ত রুটিনে বেছে নিন এমন খাবার যাতে ক্যালোরির পরিমাণ খুব কম, বা ক্যালোরি প্রায় শূন্য। সুস্থ থাকার পাশাপাশি ওজনকেও বশে রাখতে প্রতিদিনের ডায়েটে রাখুন এই খাবারগুলি। বাঁধাকপি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাঁধাকপিতে প্রতি ১০০ গ্রামে ক্যালোরির পরিমাণ ২৫। সহজপাচ্য এই সবজির দামও এমন কিছু বেশি নয়। স্যালাড বানিয়ে বা হাল্কা তেলে রান্না করে আপনার ডায়েট তালিকায় বাঁধাকপি রাখতেই পারেন।  তরমুজ জাঁকিয়ে গরম পড়ছে। এই সময় ডিহাইড্রেশন, পেটের নানা সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, এই সময় তরমুজ খান। প্রতি ১০০ গ্রাম তরমুজে ক্যালোরি কাউন্ট ৩০। তা ছাড়া এতে ৯২ শতাংশ জলীয় উপাদান থাকে। নিয়মিত তরমুজ খেলে ডিহাইড্রেশনের সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যায়। সেলারি স্যালাড হোক বা স্যুপ, হেলদি ডায়েটে সেলারির খুব চাহিদা রয়েছে। ১০০ গ্রাম সেলারির ক্যালোরি কাউন্ট মাত্র ১৬। যে কোনও মৌসুমি সবজির সঙ্গেও রান্না করে খেতে পারেন। সেলারির মধ্যে রয়েছে ভিটামিন বি ওয়ান, বি টু এবং বি থ্রি যা কিডনির যে কোনও রোগ প্রতিরোধ করে। ওজন কমাতে এবং রক্তের পরিমাণ বাড়াতে সেলারির ভূমিকা রয়েছে। টোম্যাটো টোম্যাটোতে রয়েছে ভরপুর ভিটামিন। প্রতি ১০০ গ্রাম টোম্যাটোতে ক্যালোরির পরিমাণ ১৮। তা ছাড়া এতে রয়েছে লাইকোপিন যা ক্যানসার প্রতিরোধ করে এবং হার্ট ভাল রাখে। টোম্যাটোর মধ্যে প্রচুর পরিমাণ সলিউবল ও ইনসলিউবল ফাইবার থাকে। যা ওজন কমানোর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ফুটি তরমুজের মতোই উপকারী এই ফলে প্রতি ১০০ গ্রামে ক্যালোরির পরিমাণ ৩৪। প্রচুর পরিমাণ জলীয় উপাদান থাকায় ডিহাইড্রেশনের হাত থেকে বাঁচায়। তা ছাড়া এতে রয়েছে ভিটামিন সি, পটাসিয়াম এবং ফোলেট যা দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তোলে। শশা ওজন কমাতে লো ক্যালোরি ডায়েটের তালিকায় প্রথম সারিতেই রয়েছে শশা। ওবেসিটি হোক বা ডায়বিটিস, যে কোনও রোগে চিকিৎসকেরা শশা খাওয়ারই নিদান দেন। এতে ক্যালোরির পরিমাণ খুব কম, প্রতি ১০০ গ্রামে মাত্র ১৬। পেঁপে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের ডায়েট তালিকায় বহুদিন ধরেই জায়গা করে নিয়েছে পেঁপে। ভিটামিন এবং মিনারেল সমৃদ্ধ পেঁপেতে ক্যালোরির পরিমাণ ৩৭। তা ছাড়া এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইবার। তা ছাড়া পেঁপে বীজেরও রয়েছে ভরপুর পুষ্টিগুণ। পেঁপে বীজে রয়েছে প্রোটিওলাইটিক উৎসেচক, যা দেহে বাসা বাধা নানা ক্ষতিকর জীবাণু নাশ করে। দেহে প্রোটিন বিপাকে সাহায্য করে, পাশাপাশি, ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। সূত্র: আনন্দবাজার একে//এসি  

ক্যালসিয়াম পূরণ করবে যেসব খাবার   

সুস্থ থাকার জন্য প্রয়োজন ভিটামিন ও মিনারেল। আর মিনারেলের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। এটি হাড়ের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও হৃদস্পন্দন ও পেশীর কাজ পরিচালনার জন্যও ক্যালসিয়াম আবশ্যক। রক্ত জমাট বাঁধতেও সাহায্য করে ক্যালসিয়ম। কিন্তু মাঝে মাঝে শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা যায়। আর এই ঘাটতি পূরণে ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খাওয়া প্রয়োজন।   যেসব খাবারে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করবে সেগুলো উল্লেখ করা হলো-    দুধ : ক্যালসিয়ামের উৎস বলতে সবার আগে দুধের নামই আসে। গরুর দুধ এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রচলিত। এক কাপ দুধে রয়েছে ২৮০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম। দেহের ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করতে দুধ যথেষ্ট কার্যকর। খুব ছোট শিশুদের মায়ের দুধ থেকেই এ চাহিদা পূরণ করে।  ডুমুর : এই ফলে যেমন আয়রন থাকে প্রচুর তেমনি থাকে ক্যালসিয়াম। এক কাপ ডুমুরে প্রায় ২৪২ গ্রাম ক্যালসিয়াম মেলে। একই সঙ্গে ফাইবার, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম থাকায় এটি হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখে। পেশী মজবুত করে। কমলালেবু : ভিটামিন সি আর ক্যালসিয়াম পূরণে ভালো কাজ করে কমলালেবু। একটি কমলালেবু মানেই শরীরে ৬০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম। এতেও ভিটামিন ডি প্রচুর পাবেন। সয়া দুধ : যারা অ্যালার্জিসহ নানা কারণে গরুর দুধ খেতে পারেন না তাদের জন্য সয়া দুধ অত্যন্ত কর্যকরী। এতে ক্যালসিয়াম ছাড়াও রয়েছে ভিটামিন ‘ডি’। কাজুবাদাম : কাজুবাদামে প্রচুর ক্যালসিয়াম রয়েছে। মাত্র এক কাপ কাজুবাদামেই মিলবে প্রায় ৪৫৭ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম। এ ছাড়া এতে উচ্চমাত্রার প্রোটিনসহ নানা পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে। সবুজ শাকসবজি : পালং শাক, বাঁধাকপি, শালগম, লেটুস পাতা, মাশরুমসহ বিভিন্ন ধরনের শাকসবজিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম রয়েছে। তাই শাকসবজি কোনো অবস্থাতেই খাবারের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না।  মাছ : প্রধানত স্যামন ও সার্ডিন জাতীয় মাছে অর্থাৎ সামুদ্রিক মাছে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে। বিশেষ করে একটুকরো সার্ডিন মাছে প্রায় ৫৬৯ মিগ্রা ক্যালসিয়াম থাকে। এছাড়া, কাঁটা সমেত যে কোনও মাছেই এই মিনারেলস মিলবে। দই : দইয়ে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ ক্যালসিয়াম। এক কাপ দই খাওয়া প্রতিদিনকার ক্যালসিয়ামের চাহিদা অনেকটাই পূরণ করে। এক কাপ দইয়ে ২৫০ থেকে ৩০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে। আমলকী : আমলকীতে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এতে রয়েছে ভালো পরিমাণ ক্যালসিয়ামও। এটি এমনিও খাওয়া যায়। আবার পানিতে ফুটিয়েও খাওয়া যায়।  আদা : এক গ্লাস পানির মধ্যে আদার দুই টুকরো পানিতে ফুটিয়ে নিন। এরপর একে স্বাদ অনুযায়ী মধু মেশান। আদার এই পানীয়টি ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করতে ভালো কাজ করবে। সূত্র : ওয়ান ইন্ডিয়া। কেএনইউ/এসি   

গর্ভাবস্থায় যেসব ফলের রস খাবেন    

গর্ভাবস্থায় মায়েদের স্বাস্থ্যকর ফল এবং জুস খুবই উপকারী। কারণ এসময় মায়ের শরীরের সাথে সন্তানের শরীরের সংযোগ থাকে। মায়ের স্বাস্থ্যকর খাবার শিশুর স্বাস্থ্যের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।  গর্ভাবস্থায় ফল এবং ফলের রস মা ও শিশুর জন্য উপকারী। এসময় দিনে এক গ্লাস ফলের রস খেলে তা বেশ কিছুক্ষনের জন্য পেট ভরাট রাখতেও সাহায্য করে। একইসাথে মায়ের চেহারাতেও চমক আসে। জেনেনিন কি কি ফলের রস মা ও শিশুর জন্য খুবই পুষ্টিকর-     ১. আপেল: গর্ভাবস্থায় নিয়মিত আপেলের রস খেলে শরীর সুস্থ থাকবে। আপেলের রসে শিশু পুষ্টি পাবে। ২. পেয়ারা: গর্ভাবস্থায় কোষ্টকাঠিন্যের সমস্যা সারাতে ভূমিকা রাখে পেয়ারা। চিকিৎসকরা বলছেন, যারা এ সময় কোষ্টকাঠিন্যের সমস্যায় পড়েন তাদের নিয়মিত পেয়ারার রস খাওয়া উচিত। ৩. কমলা: কমলার রস যেকোন ধরনের ফ্লু প্রতিরোধ করে। কমলার রস রোগ প্রতিরোধেরও ভালো উৎস। এ কারণে সুস্থ থাকতে গর্ভাবস্থায় কমলার রস খাওয়া উচিত বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। ৪. গর্ভাবস্থায় সবচেয়ে কার্যকরী হলো কলা, দই আর মধু দিয়ে তৈরি জুস। এই জুস তৈরি করতে মধু, কলা আর দই একসঙ্গে নিয়ে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করুন। এরপর এতে পরিমান মতো পানি মেশান। হয়ে গেলো জুস। ভালো ফল পেতে প্রতিদিন বিকেলে একবার করে এই জুসটি খেতে পারেন। সূত্র : স্টাইলক্রেজ আর/এসি   

ফলাহার- কখন খাবেন, কখন খাবেন না?

সুস্বাস্থ্যের জন্য ফলমূল খাওয়ার কোন বিকল্প নেই। ফলমূলের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেলস, আঁশ ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে। তবে ফলমূল কখন খাবেন, কখন খাবেন না, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, খাবারের সময় অন্তত অর্ধেক প্লেট ফলমূল ধারা পূর্ণ রাখা উচিত। তবে সবজি যে কোন সময় খাওয়া যায় বলেও জানান তারা। তাদের গবেষণা মতে, ফলমূল নির্দিষ্ট সময়ে খেতে হবে। বিশেষ করে ফলে চিনির পরিমাণ বিবেচনা রেখে নির্দিষ্ট সময়ে তা খেতে হবে। ফলমূলকে সুপারফুড বলা হয়, কারণ এতে প্রয়োজনীয় পুষ্ঠি উপাদানের সবকিছুই পাওয়া যায়। তবে আপনাকে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যে, দিনের যে কোন সময় আপনি ফলাহার করতে পারবেন না। মনে রাখতে হবে, খাবারের পরপরই কোনো ধরণের ফল খাওয়া যাবে না। এর কারণ হিসেবে গবেষকরা বলেন, সুগার, কার্বোহাইড্রেড ও ব্যাকটেরিয়া খাবারকে পচিয়ে ফেলে, যা হজমক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে। ভারতের বিখ্যাত পুষ্ঠিবিদ শিল্পা আরোরা ওই গবেষণার সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, ফলমূল নিজেও একটা খাবার। তাঁদেরকে অবশ্যই মূল খাবারের সঙ্গে খাওয়া যাবে না। ফলের মধ্যে থাকা সুগার ভারী প্রোটিন খাবারের পর খেলে, তা হজম ক্রিয়ায় সমস্যার সৃষ্টি করে। এই গবেষণার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন ভারতের মুম্বাই গ্লোবাল হাসপাতাল মুম্বাইয়ের চিকিৎসক ডা. জামরুদ প্যাটেল। তিনি বলেন, খাবারের সঙ্গে ফলাহার করলে, ফলের মধ্যে থাকা পুষ্ঠি কোষগুলো শোষণ করতে পারে না। তাই মূল খাবার খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট পর ফলাহার করতে হবে। ডা. প্যাটেল আরও বলেন, ফল খাওয়ার উপযুক্ত সময় হলো সকাল বেলা। বিশেষ করে একগ্লাস পানি পান করার পর ফলাহার করাটাই উত্তম। বিশেষ করে যারা ওজন কমাতে চান, তারা সকাল বেলা ফলাহার করা উচিত। এতে প্রচুর শক্তি পাওয়া যায়, পাশাপাশি ওজনও কমে। এ ছাড়া সকালের নাস্তা ও দুপুরের খাবারের মাঝখানে ও সন্ধ্যার নাস্তা হিসেবে ফলাহার করা যায়। এদিকে খাবারের ৩০ মিনিট আগে ফলাহার করলে অতি ভোজনের অভ্যাস থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। বিশেষ করে ফাইবারযুক্ত (আঁশযুক্ত) খাবার মূল খাবারের আগে ৩০ মিনিট আগে গ্রহণ করলে হজমক্রিয়া বাড়ে। এদিকে রাতে কোনোভাবেই ফলাহার করা উচিত নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এতে রাত্রে তন্দ্রা ও নিদ্রা দুই-ই দূর হয়ে যায়। তাই রাতে কোনোভাবেই রাতে ফলাহার করা যাবে না। যেহেতু ফলমূল সুস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বড় দরকারি খাবার, তাই যথাসময়ে নিয়ম মেনে তা খেতে হবে। সূত্র: এনডিটিভিএমজে/

থাইরয়েড ক্যান্সার পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব : ডা. দেলোয়ার

থাইরয়েড এক ধরনের গ্রন্থি। এটি মানুষের গলার সামনের ভাগে অবস্থান করে। থাইরয়েড শরীরের সব রেচন প্রক্রিয়ার সাহায্য করে। থাইরয়েডে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। আমাদের দেশে বর্তমানে থাইরয়েডজনিত রোগ অনেক মানুষ আক্রান্ত। কিন্তু সঠিক সময় যথাযথ চিকিৎসা না দিতে পারলে, ক্যান্সার আক্রান্ত হতে পারে। থাইরয়েডিজমের চিকিৎসা হচ্ছে অ্যান্টিথাইরয়েড ওষুধ। যেটি থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতাকে কমিয়ে দেয়। ওষুধের পাশাপাশি সার্জারি করাই ভালো। ক্যান্সার গ্রন্থিটিতে যে পরিমাণ আক্রান্ত করছে, সেই পরিমাণ গ্রন্থি কেটে কার্যকারিতা কমিয়ে দেওয়া যেতে পারে এবং রেডিও আয়োডিন থেরাপি, নিউক্লিয়ার মেডিসিনে ব্যবহার করা যেতে পারে। এর ভূমিকা ক্যান্সার নিমূর্লে ভূমিকা রাখে। যখন অ্যান্টি থাইরয়েড ওষুধ ব্যবহার করা হয়, এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেড় থেকে দুই বছর ব্যবহার করা হয়। তারপর এই ওষুধ তাকে বন্ধ করে দিতে হবে। রোগী যদি স্বাভাবিক থাকে, খুব ভালো কথা, তবে যদি আবারও আক্রান্ত হয় এই ওষুধ দিয়ে তাকে চিকিৎসা করার কোনো সুযোগ নেই। অস্ত্রোপচার করতে হবে। আর অস্ত্রোপচার এর মাধ্যমে থাইরয়েড ক্যান্সার সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। এমনটিই জানালেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রিনিউলোজি-হেড এন্ড নেক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. দেলোয়ার হোসেন। সম্প্রতি একুশে টিভি অনলাইনকে এক বিশেষ সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন। সাক্ষাতকার নিয়েছেন একুশে টিভি অনলাইন প্রতিবেদক তবিবুর রহমান। একুশে টিভি অনলাইন : থাইরয়েড ক্যান্সার অস্ত্রোপচারে কতটুকু সফলতা আসে? ডা. দেলোয়ার হোসেন: থাইরয়েড ক্যান্সার আস্ত্রোপচার করে শতভাগ সফলতা আসে। কিন্তু আক্রান্ত হওয়ার উপরে নির্ভর করে অস্ত্রোপচার। আমাদের দেশে থাইরয়েড ক্যান্সার সর্ম্পকে সাধারণ মানুষ এখনও তেমন সর্তক নয়। ফলে যখন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানতে পারি থাইরয়েড ক্যান্সার আক্রান্ত হয়েছে। তখন অস্ত্রোপচার ছাড়া চিকিংসা করা সম্ভব হয় না। আর অস্ত্রোপচার সম্ভব নয়। একুশে টিভি অনলাইন: থাইরয়েড ক্যান্সার আস্ত্রোপচারে খরচ কেমন? গরীব রোগীদের কোন বিশেষ ব্যবস্থা আছে কি না। ডা.দেলোয়ার হোসেন: থাইরয়েড ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীকে আগে পরীক্ষা নিরীক্ষা কররে দেখতে হবে। থাইরয়েড ক্যান্সারে আক্রান্ত কি না। যদি আক্রান্ত হয় তাহলে তার পরিমাণ কতকুটু। যদি আক্রান্ত পরিমাণ বেশি হয় তাহলে আস্ত্রোপচার ছাড়া মুক্তি সম্ভব নয়। অস্ত্রোপচারে হাসপাতাল ভেদে খরচের ভিন্নতা রয়েছে। যেমন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এর আস্ত্রোপচারে খরচ হয় ২০ হাজার টাকা। রাজধানীর অন্যান্য হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করলে খরচ হয় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। গরীব রোগীদের জন্য ঢাকা মেডিকেল সমাজ সেবা অধিদফতরে যোগাযোগ করলে কম খরচে অস্ত্রোপচার করা যায়। একুশে টিভি অনলাইন : থাইরয়েড গ্রন্থির ক্যান্সার ছাড়া আর কি কি ধরনের সমস্যা হতে পারে? ডা. দেলোয়ার হোসেন: থাইরয়েডে শুধু ক্যান্সার না অনেক ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। শিশুর ক্ষেত্রে থাইরয়েড সমস্যা তৈরি হয় পারে। যেমন জন্মগতভাবেই যদি শিশুর থাইরয়েড গ্রন্থি তৈরি না হয় অথবা ভুলভাবে তৈরি হয়, ঠিকমত বৃদ্ধি না পায়, অথবা তৈরি হলেও ঠিকমতো কাজ না করে, তাহলে থাইরয়েড হরমন তৈরি হবে না। সেক্ষেত্রে বাচ্চার শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যহত হয়। আর বড়দের ক্ষেত্রে থাইরয়েড গ্রন্থির বিভিন্ন রকম রোগ হতে পারে। থাইরয়েড যে হরমন তৈরি করছে এটি একটি স্বাভাবিক মাত্রার মধ্যে থাকবে। তবে যদি স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে কম তৈরি হয়, একে বলা হয় হাইপোথাইরয়েডিজম। এতে বিভিন্ন রকম অসুবিধা হয়। আবার যদি বেশি তৈরি হয়, বলা হয় হাইপার থাইরয়েডিজম। সেখানে আবার নানা রকম সমস্যা হবে। এটি হচ্ছে কাজঘটিত সমস্যা। এ ছাড়া যে সমস্যা হতে পারে, থাইরয়েড গ্রন্থি নিজেই বড় হয়ে যেতে পারে। যাকে আমরা বলি গলগণ্ড। এখানে থাইরয়েড গ্রন্থি বড় হয়ে যায়। এটি বিভিন্নভাবে বড় হতে পারে, বিভিন্ন কারণে বড় হতে পারে। আয়োডিনের অভাব আছে এমন এলাকায় যারা বাস করে তাদের হতে পারে বা যারা কম খায় তাদের হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আয়োডিন ডেফিসিয়েন্সি গয়েটার বা এনডিমিক গয়েটার হয়। গ্রন্থিটি সমানভাবে বড় হয়ে যেতে পারে। আয়োডিন যেহেতু হরমোন তৈরির বিশেষ একটি উপাদান। আয়োডিন যদি কম থাকে গ্রন্থি চেষ্টা করবে শরীরের হরমোনকে স্বাভাবিক রাখতে। সেই ক্ষেত্রে সে আস্তে আস্তে বড় হয়ে যাবে। যাকে হাইপারট্রোফি বলা হয়। গ্রন্থি বড় হয়ে যাবে। তবে হরমোন স্বাভাবিকভাবে বের করার চেষ্টা করবে। করতে করতে এক সময় আর স্বাভাবিকভাবে তৈরি করতে পারবে না। সেক্ষেত্রে হাইপোথাইরয়েডিজম হয়ে যাবে। যদিও লবণের মাধ্যমে আয়োডিন থাকার কারণে আমাদের দেশে এই রোগ অনেকটা কমে গেছে। একুশে টিভি অনলাইন : এই রোগ নির্ণয়ের জন্য নিউক্লিয়ার মেডিসিনের কাজ কী? ডা. দেলোয়ার হোসেন: নিউক্লিয়ার মেডিসিনে থাইরয়েডের যেসব পরীক্ষা করে থাকি, তার মধ্যে প্রথম হলো থাইরয়েডের হরমোন। টিথ্রি, টি ফোর, ফ্রি টিথ্রি, থ্রি টিফোর এবং থাইরয়েড হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে টিএসএইচ- এই হরমোনগুলোর আমরা করে থাকি। এছাড়া নির্দিষ্ট পরিমাণ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন রোগীকে খাওয়ানোর পরে, নির্দিষ্ট সময় পরে কত শতাংশ আপটেক হচ্ছে থাইরয়েড গ্রন্থিতে এটি দেখি। দেখে আমরা বলতে পারি এর কার্যকারিতা কম, না কি বেশি। যেমন :  হাইপার থাইরয়েডিজমে আপটেকটা বেড়ে যাবে। হাইপো থাইরয়েডিজমে কমে যাবে। একুশে টিভি অনলাইন : আপনার মূল্যবান সময় দেওয়া জন্য ধন্যবাদ। ডা. দেলোয়ার হোসেন: একুশে টিভি পরিবারকেও ধন্যবাদ। /এআর /  

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি