ঢাকা, মঙ্গলবার   ১১ আগস্ট ২০২৬

অপহরণ: চিৎকার শুনে পিছু নেন ছাত্রদল নেতা, অবশেষে যুবক উদ্ধার

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৩:৩৭, ১১ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৭:১০, ১১ আগস্ট ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

রাতের ব্যস্ত সড়ক। একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে টুকের বাজারের দিকে। হঠাৎ ভেসে এলো যুবকের আতঙ্কিত চিৎকার- ‘ভাই, আমাকে বাঁচান!’ প্রথমে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হলেও অটোরিকশার বাইরে শরীরের অর্ধেক বের করে ওই যুবকের মরিয়া চিৎকার সন্দেহ তৈরি করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ আশিকের মনে। এরপর শুরু হয় ধাওয়া।

ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার (৮ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে। 

ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান করছিলেন শাবিপ্রবি ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আশিক। চিৎকার শুনে অটোরিকশাটির দিকে নজর দেন তিনি। পরিস্থিতি অস্বাভাবিক বুঝতে পেরে মোটরসাইকেল নিয়ে পিছু নেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসস্ট্যান্ড পেরিয়ে তেমুখী এলাকায় গিয়ে অটোরিকশাটিকে আর দেখতে পাননি আশিক। একপর্যায়ে ফিরে আসার কথা ভাবছিলেন তিনি। ঠিক তখনই পেছন থেকে এক মোটরসাইকেল আরোহী তাকে দ্রুত এগিয়ে গিয়ে অটোরিকশাটি ধরার পরামর্শ দেন। ফের ধাওয়া শুরু করেন আশিক।

তেমুখীর ঢালু পেরিয়ে টুকের বাজারের দিকে যাওয়ার সময় অবশেষে চোখে পড়ে সেই অটোরিকশাটি। থামার সংকেত দিলেও চালক না থামিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন। তখন মোটরসাইকেল দ্রুত চালিয়ে সামনে গিয়ে রাস্তা আটকে দেন আশিক। এর মধ্যে আরও কয়েকটি মোটরসাইকেল ঘটনাস্থলে এসে দাঁড়ায়।

অটোরিকশা থামতেই ভেতরে থাকা দুই ব্যক্তি নেমে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের আটক করা হয়। পরে অটোরিকশার চালকসহ অপর ব্যক্তিকেও আটক করা হয়। 

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন শাবিপ্রবির সহকারী প্রক্টর ও বাংলা বিভাগের শিক্ষক শামসুদ্দিনও। তিনিও নাকি প্রধান ফটক থেকে যুবকের চিৎকার শুনে মোটরসাইকেলে পিছু নিয়েছিলেন।

উদ্ধার হওয়া যুবকের ভাষ্য আরও উদ্বেগজনক। তিনি একটি ওয়ার্কশপে কাজ করেন। কয়েকজন ব্যক্তি কথা বলার কথা বলে তাকে বাইরে ডেকে নেন। পরে চায়ের দোকানে যাওয়ার কথা বলে সিএনজিতে উঠতে বলেন। আপত্তি করলে জোর করে তাকে অটোরিকশায় তোলা হয়। কিছুক্ষণ পর তিনি বুঝতে পারেন, তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সুযোগ পেয়ে শরীরের কিছু অংশ বাইরে বের করে চিৎকার শুরু করেন তিনি।

পরে আটক ব্যক্তিদের স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও আশিকের উদ্যোগে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাত ৯টার দিকে জালালাবাদ থানা পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়।

জালালাবাদ থানার ওসি শামসুল হাবিব জানান, ঘটনায় দুইজনকে আটক করে অপহরণ মামলা দেওয়া হয়েছে এবং আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠিয়েছেন।

আশিকের ভাষায়, ‘ছেলেটা আমাদের কোনো ভাই-বোন বা পরিচিত কেউ হতে পারত।’ তাঁর দাবি, বিপদে অপরিচিত মানুষকেও এগিয়ে এসে সহায়তা করা উচিত।

ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিল - রাতের যাত্রাপথে সামান্য অসতর্কতাও কতটা বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। বিশেষ করে নির্জন এলাকায় সিএনজিতে চলাচলের সময় চালক, গন্তব্য ও আশপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আশিক।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি