ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২১ নভেম্বর ২০১৯, || অগ্রাহায়ণ ৭ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

অভিবাসন প্রক্রিয়ায় ৫১ শতাংশ প্রতারণার শিকার

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২৩:১৮ ২৮ ডিসেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ২২:০১ ১৬ জানুয়ারি ২০১৮

দেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে সমৃদ্ধ হচ্ছে। দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রুপান্তরিত করার ক্ষেত্রে যারা ভূমিকা রেখেছে তাদের অন্যতম শ্রম অভিবাসী। কিন্তু সেই অভিবাসন প্রক্রিয়া গ্রহণ করতে গিয়ে ১৯ শতাংশ লোক কোন না কোন ভাবে প্রতারিত হয়ে থাকে। এরা সবাই সম্পূর্ণ বা আংশিক টাকা দালাল, আত্মীয় বা বন্ধুবান্ধবকে দেওয়ার পরেও বিদেশ যেতে পারেনি। অভিবাসন নিয়ে কাজ করা সংগঠন রেফিউজি এন্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের ( রামরু) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়, ২০১৭ সালে (জানুয়ারী থেকে নভেম্বর পর্যন্ত) ৯, ৩১, ৮৩২ জন বাংলাদেশী কর্মী উপসাগরীয় ও আরবদেশসহ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অভিবাসন করেছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে এ বছর অভিবাসনের প্রবাহ হবে গতবছরের তুলনায় ৩৪ দশমিক ১৫ শতাংশের বেশী।

প্রতিবেদন মতে, দেশে ২০১৫ সাল থেকে নারী অভিবাসন ব্যাপক হারে বেড়েছে। এ বছর এক লাখ ১৩ হাজার নয় জন নারী চাকরী নিয়ে বিদেশ গেছেন। যা গত বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশের বেশী। এ বছর নারী অভিবাসীর সংখ্যা সর্বমোট অভিবাসীর ১২ দশমিক ১ শতাংশ।

৫১ শতাংশ সম্ভাব্য, বর্তমান, প্রত্যাগমনকারী অভিবাসি তাদের অভিবাসন প্রক্রিয়ায় কোথাও না কোথাও প্রতারনার শিকার হয়ে থাকেন। এদের ১৯ শতাংশ সম্পূর্ণ বা আংশিক টাকা বিদেশ যাওয়ার আশায় দালাল বা আত্মীয় বা বন্ধুর হাতে দিয়েও বিদেশ যেতে পারেননি। প্রতারনার শিকার পরিবারগুলো গড়ে দুই লাখ ৪৩ হাজার টাকা ব্যায় করেছে। ৩২ শতাংশ লোক বিদেশে থাকা অবস্থায় প্রতারনা বা অমানবিক ব্যবহারের শিকার হয়েছেন।

প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয় ওমান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মালায়শিয়া যারা যাচ্ছেন তাদের মধ্যে ৩৬ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশ প্রতারণার শিকার হয়।

গবেষনায় দেখা গেছে ৯০ শতাংশ অভিবাসী তাদের অভিবাসনের খরচের টাকা প্রদান করেছে দালালের কাছে। ৭৭ শতাংশ অভিবাসী ওয়ার্ক পারমিট সংগ্রহ করেছেন দালালের মাধ্যমে। দালালের মাধ্যমে রিক্রুটিং এজেন্সীর অফিসে গেছেন ৮১ শতাংশ অভিবাসী। অভিবাসীদের শতকরা ৫৭ ভাগ অভিবাসন তথ্য দালালদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছেন। ৭৬ শতাংশ অভিবাসী বিএমইটি তথ্য সংগ্রহ করেছে দালালের কাছ থেকে। পাসপোর্ট করানোর জন্য দালালের সরনাপন্ন হন ৩২ শতাংশ অভিবাসি। এমনকী এয়ারপোর্টে যাওয়ার জন্য, মেডিকেল টেস্ট করানোর জন্য,  বিমানের টিকেট সংগ্রহের জন্য যথাক্রমে শতকরা ৬৫ ভাগ, ৭০ ভাগ ও ৮৫ ভাগ লোক দালালের সাহায্য নিয়ে থাকেন।

 

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি