ঢাকা, শুক্রবার   ৩০ অক্টোবর ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ায় দাবানলের ধোঁয়ায় এক মাসেই ৩,৫৬০ জনের মৃত্যু 

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৬:৪১, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

ইন্দোনেশিয়ায় কয়েক মাস ধরে চলা ভয়াবহ দাবানলের ধোঁয়ায় বাতাস বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। হেলসিংকিভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার’ (সিআরইএ) প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দাবানলের ধোঁয়াজনিত তীব্র বায়ুদূষণের কারণে কেবল গত সেপ্টেম্বর মাসেই দেশটিতে আনুমানিক ৩ হাজার ৫৬০ জন মানুষের অকাল মৃত্যু হয়েছে। এই সংখ্যা আগস্ট মাসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

দাবানলের তীব্র ধোঁয়ার পাশাপাশি শিল্পকারখানা, যানবাহন ও বর্জ্য পোড়ানোর দূষণ যোগ হয়ে সেপ্টেম্বর মাসে দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩১০ জনে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ২৯ কোটি মানুষের এই দেশটিতে গত মাসে ৫ কোটি ৭৮ লাখেরও বেশি মানুষকে অস্বাস্থ্যকর থেকে শুরু করে চরম বিপজ্জনক মাত্রার দূষিত বাতাসে শ্বাস নিতে হয়েছে। তীব্র বায়ুদূষণের কারণে দেশজুড়ে শ্বাসতন্ত্রের তীব্র সংক্রমণের ৩ লাখ ৩০ হাজারের বেশি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

গবেষণায় মূলত বাতাসের অতি সূক্ষ্ম বস্তুকণা পিএম ২.৫ এর ক্ষতিকর প্রভাবের হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। এই সূক্ষ্ম কণাগুলো শ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুস ও রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। সেপ্টেম্বর মাসে ইন্দোনেশিয়ায় পিএম ২.৫ এর উপস্থিতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত বার্ষিক সীমার চেয়ে জাতীয় পর্যায়ে সাত গুণেরও বেশি ছিল। সুমাত্রায় এই মাত্রা ছিল ১০ গুণ এবং বোর্নিওর কালিমান্তানে তা উদ্বেগজনকভাবে ২৪ গুণ বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।

দাবানলের ধোঁয়ায় সৃষ্ট বায়ুদূষণে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বোর্নিও দ্বীপের ইন্দোনেশীয় অংশ, জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপ এবং দেশটির পূর্বাঞ্চলে। তবে সবচেয়ে জনবহুল জাভা দ্বীপে মোট ১ হাজার ৫৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে জাভায় হওয়া মৃত্যুর ৭৩ থেকে ৮০ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল দাবানলবহির্ভূত নগরকেন্দ্রিক দূষণ, যেমন— শিল্পকারখানার ধোঁয়া, যানবাহন ও বর্জ্য পোড়ানো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে তীব্র খরার পাশাপাশি পাম তেল, কাঠ ও খনি খাতের কোম্পানিগুলোর গাছপালা কেটে আগুন ধরিয়ে জমি পরিষ্কার করার বেআইনি পদ্ধতিই এই দাবানলের মূল কারণ। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে দেশটিতে ১৯ লাখ হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে। এই বিষাক্ত ধোঁয়াশা ইন্দোনেশিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে প্রতিবেশী মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন ও পূর্ব তিমুরেও ছড়িয়ে পড়েছে, যা দেশগুলোর পারস্পরিক কূটনৈতিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

পরিসংখ্যানের এই ভয়াবহতা নিয়ে ইন্দোনেশিয়া সরকার এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো স্বীকৃতি বা প্রত্যাখ্যান না করলেও, পরিবেশবাদীরা সরকারের দুর্বল প্রস্তুতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। ল্যান্ডস্কেপ ইন্দোনেশিয়ার প্রধান নির্বাহী আগুস সারি বলেন, বাজেট কমানোর কারণে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার (বিএনপিবি) কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং সদিচ্ছার অভাবেই এই প্রতিরোধযোগ্য দুর্যোগ ঠেকানো যায়নি।

তবে ইন্দোনেশিয়া সরকার তাদের নেওয়া পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে জানিয়েছে, আগুন নেভানোর কাজে ৭২ হাজারের বেশি কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন এবং কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানো হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ২,১০০ জন স্বাস্থ্যকর্মী এবং ৫৩ লাখ মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। সিআরইএ গবেষকেরা অবিলম্বে আগুন দিয়ে অবৈধভাবে জমি পরিষ্কারের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং পিটল্যান্ড (কয়লাজাতীয় বিশেষ ভূমি) পুনরুদ্ধারের তাগিদ দিয়েছেন।

এমএইচ 
 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি