ঢাকা, ২০১৯-০৪-২৪ ১২:১৭:৪৫, বুধবার

শ্রীলংকায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯

শ্রীলংকায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯

শ্রীলংকায় চার গির্জা, তিন হোটেল ও এক বাড়িতে বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯ জনে দাঁড়িয়েছ। আহত হয়েছেন পাঁচ শতাধিক। আজ বুধবার শ্রীলংকার পুলিশবাহিনীর মুখপাত্র রুয়ান গুনাসেকারে জানান, রোববারের বোমা 
বারাক ওবামাকে হত্যার জন্য প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল যারা

মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) বলেছে, নিউ মেক্সিকো মিলিশিয়া গ্রুপের একজন সন্দেহভাজন নেতা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছে। বারাক ওবামা ছাড়াও ৬৯ বছর বয়সী ল্যারি মিচেল হপকিনস এবং তার দল ইউনাইটেড কন্সটিটিউশনাল প্যাট্রিয়টস হিলারি ক্লিনটন এবং ধণকুবের জর্জ সরোসকেও হত্যার পরিকল্পনা করেছেন। এফবিআই বলেছে, তাদের কাছে এ ধরণের তথ্য রয়েছে। সন্দেহভাজন হামলাকারী আদালতে যে জবানবন্দী দিয়েছেন সেটি এ সপ্তাহে প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও তিনি কবে এ কথা বলেছেন সেটি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়নি। হপকিনস-এর আইনজীবী এ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার আইনজীবী বলেছেন, হপকিনস এ ধরণের কোনও পরিকল্পনা করেছেন- সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। গত সোমবার হপকিন্সকে নিউ মেক্সিকোর একটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিস্ফোরক রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে গত শনিবার আটক করা হয়েছে। এর আগে নিউ মেক্সিকোর সীমান্তে মরুভূমিতে তার দল বেশকিছু অভিবাসন প্রত্যাশীদেরকে আটক করেছিল। তবে এই দলটি বলছে, আমেরিকার দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে অভিবাসন প্রত্যাশীরা যাতে সে দেশে ঢুকতে না পারে সে জন্য তারা মার্কিন সীমান্ত রক্ষীদের সাহায্য করছিল। কিন্তু সীমান্তে এই দলটির কর্মকাণ্ড নিয়ে অনেকে সমালোচনা করেছেন। ২০১৭ সালে এফবিআই এ দলটি সম্পর্কে অবগত হয়। তখন এফবিআই জানতে পারে যে ইউনাইটেড কন্সটিটিউশনাল প্যাট্রিয়ট নামের সংগঠনটি হপকিন্স-এর বাড়ির বাইরে থেকে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। তাদের ২০ জন সদস্য আছে । তাদের কাছে একে৪৭ রাইফেল এবং অন্যান্য অস্ত্র থাকার খবর আসে এফবিআই-এর কাছে। এফবিআই-এর বিশেষ এজেন্ট ডেভিড গ্যাব্রিয়েল আদালতে যে এফিডেভিট দাখিল করেছেন সেখানে বলা হয়েছে, ‘হপকিন্স বক্তব্য দিয়েছে যে ইউনাইটেড কন্সটিউশনাল প্যাট্রিয়ট প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল জর্জ সরোস, হিলারি ক্লিনটন এবং বারাক ওবামাকে হত্যা করার জন্য। কারণ তারা আনটিফা নামের একটি বামপন্থী গ্রুপকে সমর্থন করেন।’ কিন্তু অভিযুক্ত হপকিন্সের আইনজীবী ও’কনেল প্রশ্ন তোলেন, তার মক্কেলকে কেন দুই বছর আগে আটক করা হয়নি? তিনি আরও বলেন, ২০১৭ সালে এফবিআই হপকিন্স-এর বাড়ি তল্লাশি করেছিল। সে সময় তার বাড়িতে যে সব অস্ত্র পাওয়া গিয়েছিল, সেগুলোর মালিক ছিলেন হপকিন্স-এর স্ত্রী। কিন্তু সে সময় এফবিআই হপকিন্সকে আটক করেনি। অভিযুক্তের আইনজীবী প্রশ্ন করেন, ‘এটা যদি এতোই ভয়ঙ্কর অপরাধ হতো, তাহলে তখন তাকে সঙ্গে-সঙ্গেই কেন আটক করা হয়নি?’ হপকিন্স-এর বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলো প্রমাণিত হলে তার ১০ বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারে। সূত্র: বিবিসি একে//

গির্জায় ঢোকার আগে শিশুর মাথা স্পর্শ করেছিলো সন্দেহভাজন হামলাকারী

ইস্টার সানডে`তে কয়েকটি গির্জা ও বিলাসবহুল হোটেলে একের পর এক বিস্ফোরণের পর থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে শ্রীলংকায়। সন্দেহ করা হচ্ছে একটি ইসলামপন্থী সংগঠনকে এবং মনে করা হচ্ছে তারা আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর সহায়তায় এ ধরণের ঘটনা ঘটিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে হামলার ধরণ থেকে তারা কথিত ইসলামিক স্টেটের একটা প্রবণতা লক্ষ্য করছে। দেশটিতে আজ শোক দিবস পালিত হচ্ছে এবং একই সঙ্গে নিহতদের শেষকৃত্যও শুরু হয়েছে। তবে কেনো আগে থেকে সতর্ক বার্তা পাওয়ার পরেও সরকার হামলা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে পারেনি তা নিয়েও দেশটির সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে। শ্রীলংকায় ২ কোটি ২০ লাখ মানুষের মধ্যে খ্রিস্টান, মুসলিম ও হিন্দুরা সংখ্যালঘু। যদিও দেশটির দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ সহিংসতার ইতিহাসে খ্রিস্টানদের জড়িত হবার উদাহরণ কমই। রয়টার্স বলছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিংহের সঙ্গে এবং জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে সব ধরণের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। ওয়াশিংটন পোস্টের খবর অনুযায়ী এফবিআই এজেন্ট পাঠানো হচ্ছে শ্রীলংকায়। তারা ল্যাবরেটরি টেস্টের জন্য বিশেষজ্ঞ সহায়তা দেয়ারও প্রস্তাব করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রগুলো এ ঘটনার সঙ্গে ইসলামিক স্টেটের হামলার ধরণের মিল পাচ্ছে। যদিও ইসলামিক স্টেট সাধারণত তাদের হামলাগুলোর বিষয়ে দ্রুতই দায় স্বীকার করে। পুলিশ বলছে তারা একজন সিরিয়ান সহ ৪০ জনকে আটক করেছে। সিএনএন-এ প্রচারিত একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে হামলাকারীদের একজন ভারী ব্যাগ বহন করছে পিঠে। সেন্ট সেবাস্টিয়ান গির্জায় প্রবেশের আগে সে একটি শিশুর মাথা স্পর্শ করছে। হামলার ঘটনায় কিংবা আগেই হামলাকারীদের থামানো যেতো কি-না, তা নিয়ে সরকারের মধ্যকার কোন্দলের বিষয়টি উঠে আসায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অনেকেই। সরকার আগেই এনটিজের সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে খবর পেয়েছিলো ভারতীয়দের কাছ থেকে। যদিও সরকারেরই একজন মন্ত্রী বলছেন প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিংহকে এটি জানানো হয়নি। আবার প্রেসিডেন্টে মাইথ্রিপালা সিরিসেনার সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে নিরাপত্তা বিষয়ক সভাগুলোতেও যোগ দেননি তিনি। তথ্যসূত্র: বিবিসি। এসএইচ/

শ্রীলঙ্কায় আজ জাতীয় শোক দিবস

ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলায় ৩১০ জনের প্রাণহানির ঘটনায় আজ ২৩ এপ্রিল, মঙ্গলবার জাতীয় শোক দিবস পালন করছে শ্রীলঙ্কা। এর আগে সোমবার রাতে প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা মঙ্গলবার দিবসটি পালনের ঘোষণা দেন।  এদিকে নিহতদের স্মরণে আজ মঙ্গলবার সকালে তিন মিনিট নীরবতা পালন করেন লঙ্কান নাগরিকরা। দিবসটি উপলক্ষ্যে দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে বলেছেন, এই অকল্পনীয় ট্রাজেডির মুখে লঙ্কান জাতি হিসেবে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা আবশ্যক। প্রসঙ্গত, রোববার সকালে দেশটিতে একের পর এক বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। দেশটির রাজধানী কলম্বো এবং শহরতলির তিনটি গির্জা ও দেশের বড় তিনটি হোটেলে এ হামলা হয়। পরে আরও দুটি স্থানে হামলা হয়। ওই দিন ছিল খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় উৎসব ইস্টার সানডে। হামলার সময় তিন গির্জায় ইস্টার সানডের প্রার্থনা চলছিল। সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান এসএ/

ভোট দিয়ে তৃপ্ত মোদী

ভারতে তৃতীয় দফায় সবথেকে বেশি কেন্দ্রের নির্বাচন হচ্ছে আজ। ১১৭টি কেন্দ্রে ভোট দেবেন ভোটাররা। বহু হেভিওয়েট প্রার্থীর ভাগ্যনির্ধারণ হবে এদিন। তবে এদিন সকাল থেকে লাইমলাইট কাড়লেন মোদী। মায়ের হাতে খাওয়া থেকে শুরু করে ভোটকেন্দ্র, এদিন সকাল থেকেই নজর ছিল প্রধানমন্ত্রীর দিকে। আমেদাবাদে গিয়ে ভোট দেওয়ার পর বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন নরেন্দ্র মোদী। বলেন, ‘আজ তৃতীয় দফার ভোট। আজ নিজের দায়িত্ব পালন করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কুম্ভমেলায় স্নান করে যে পবিত্রতার আনন্দ হয়, গণতন্ত্রের যজ্ঞে ভোট দিয়ে সেই পবিত্রতার অনুভূতি হচ্ছে।’ দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যাতে প্রত্যেকে উৎসাহের সঙ্গে বুথে গিয়ে ভোট দেন।’২১ শতকে যারা জন্মেছে এবার লোকসভা নির্বাচনেই প্রথম তারা ভোট দিতে চলেছেন। সেইসব প্রথম ভোটারদের স্বাগত জানিয়েছেন মোদী। ১০০ শতাংশ ভোট দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন তাদের কাছে। মোদী বলেন, ‘ভারতের মানুষ বিচক্ষণ। জল আর ক্ষীরের তফাৎ জানেন তারা।’ ভোট দেওয়ার আগে গুজরাটের রাজধানী শহর গান্ধিনগরে মা হীরাবেন মোদীর সঙ্গে দেখা করেন নরেন্দ্র মোদী। সেখানে গিয়ে নিজের বাড়িতে যান মোদী। বাড়িতে গিয়ে মায়ের সঙ্গে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী। মায়ের পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন। ছেলেকেও আশীর্বাদ করেছেন মা হীরাবেন মোদী। সূত্র : কলকাতা২৪ এসএ/      

তিনশ’ ছাড়িয়েছে শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা

শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো ও এর আশপাশের চারটি হোটেল ও তিনটি গির্জাসহ মোট আটটি স্থানে ভয়াবহ বোমা হামলায় নিহত মানুষের সংখ্যা তিনশ’ ছাড়িয়েছে। সবশেষ এ সংখ্যা ৩১০ বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন চার শতাধিক। নিখোঁজও রয়েছেন বেশ কিছু মানুষ। শ্রীলংকা পুলিশের এক মুখপাত্র রোয়ান গুনাসেকেরা মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  রোয়ান বলেন, রোববারের ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলায় ৫০০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত ৪০ জনকে আটক করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, রোববার সকালে দেশটিতে একের পর এক বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। দেশটির রাজধানী কলম্বো এবং শহরতলির তিনটি গির্জা ও দেশের বড় তিনটি হোটেলে এ হামলা হয়। পরে আরও দুটি স্থানে হামলা হয়। ওই দিন ছিল খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় উৎসব ইস্টার সানডে। হামলার সময় তিন গির্জায় ইস্টার সানডের প্রার্থনা চলছিল। সূত্র : এএফপি এসএ/

সন্ত্রাসী হামলার পর শ্রীলঙ্কার মুসলিম সম্প্রদায় উদ্বিগ্ন

শ্রীলঙ্কায় গির্জা ও হোটেলে রোববারের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে ন্যাশনাল তৌহিদ জামাত (এনটিজে) নামে একটি জঙ্গি ইসলামী গোষ্ঠীর নাম আসার পর শ্রীলঙ্কার মুসলিমরা নতুন করে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। অনেকেই তাদের ভাবমূর্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। গত পাঁচ বছর ধরে ব্যবসার সূত্রে কলম্বোতে থাকেন বাংলাদেশের নাগরিক খালেকুজ্জামান সোহেল। সোমবার দুপুরে শহরের ওয়াল্লাওয়া এলাকায় এক মসজিদে জোহরের নামাজ পড়তে গিয়ে তিনি দেখতে ২০-২৫ জন সশস্ত্র পুলিশ মসজিদটি পাহারা দিচ্ছে। তিনি বলেন, "ভেতরে মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলে মনে হলো তারা যতটা না আতঙ্কগ্রস্ত তার চেয়ে বেশি লজ্জিত এবং দুঃখিত। তারা যেন বিশ্বাসই করতে পারছেন না যে তাদের সম্প্রদায়ের কেই দেশের ভেতরে এই ধরনের হামলা করতে পারে।" কলম্বোতে মুসলিম সংগঠন ন্যাশনাল শুরা কাউন্সিলের একজন কর্মকর্তা আজমান আব্দুল্লাহ বলেন, আতঙ্কের চেয়ে মুসলিমরা `ক্ষুব্ধ, ব্যথিত`। " আতঙ্ক যে একবারেই নেই তা বলবো না, নানা ধরণের গুজব শোনা যাচ্ছে, তবে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস আমাদের খ্রিষ্টান ভাইয়েরা বুঝতে পারছেন যে শ্রীলঙ্কার মুসলিমরা কোনোভাবেই তাদের ক্ষতি চায় না।" আব্দুল্লাহ জানান, শীর্ষস্থানীয় মুসলিম নেতারা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি জানান, হামলার তীব্র নিন্দা করে মসজিদে মসজিদে ব্যানার ঝোলানো হয়েছে। "আমি যে এলাকায় থাকি সেখানে সব সম্প্রদায়ের লোক বসবাস করেন। কোনো সমস্যা নেই। তবে শুধু মুসলমান হিসেবে নয়, এদেশের একজন নাগরিক হিসাবে আমি উদ্বিগ্ন। এদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।" শ্রীলঙ্কায় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সম্পর্কের ইতিহাস এমনিতেই খুব ভালো না। গত বছর ক্যান্ডি এবং আশপাশের বেশ কিছু শহরে মসজিদ এবং মুসলিম ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কট্টর বৌদ্ধদের হামলার পর সাময়িক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছিল। ফলে রোববারের হামলার সঙ্গে মুসলিম একটি সংগঠনের সংশ্লিষ্টতার সন্দেহের কথা প্রকাশ হওয়ার পর স্বভাবতই অনেক মুসলিম উৎকণ্ঠায় পড়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর গলের সাংবাদিক ফারহান নিজামউদ্দিন বিবিসি বাংলাকে বলেন, মুসলিমরা ক্ষুব্ধ এবং তারা হামলাকারীদের `সর্বোচ্চ সাজা`র দাবি করছেন। "সোশ্যাল মিডিয়াতে শত শত মুসলিম লিখছেন এই সন্ত্রাসের সঙ্গে ইসলামের শিক্ষার কোনো সম্পর্ক নেই।" সোশ্যাল মিডিয়াতে গলের একজন মুসলিম লিখেছেন, "আমার জন্ম মুসলিম পরিবারে, কিন্তু আমি পড়াশোনা করেছি খ্রিস্টান মিশনারি স্কুলে। ফলে ক্রুশবিদ্ধ যিশুর মূর্তি আমার হৃদয়ের খুব কাছের।" আরেকজন লিখেছেন, "শ্রীলঙ্কায় দুটো গোষ্ঠী - একটি শ্রীলঙ্কান এবং আরেকটি সন্ত্রাসী।" ব্রিটেনে প্রবাসী শ্রীলঙ্কান মুসলিমদের শীর্ষ সংগঠন শ্রীলঙ্কান ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ব্রিটেনে শ্রীলঙ্কান মুসলিমদের সব সংগঠন রোববারের সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে সোমবার একটি জরুরি বৈঠকে বসছে। সংস্থার সচিব মঞ্জুলা ওসমান বিবিসিকে বলেছেন, কীভাবে এই সন্ত্রাসী হামলা সামাল দিতে প্রবাসী শ্রীলঙ্কান মুসলিমরা সাহায্য করতে পারে সেটাই এখন তাদের প্রধান চিন্তা। "এটা সত্যি যে শ্রীলঙ্কায় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সম্পর্ক নিয়ে বহুদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। তবে রোববারের হামলার সঙ্গে ইসলামি একটি সংগঠনের যোগসাজশ নিয়ে মুসলিমদের মধ্যে বড় কোনো উদ্বেগ তৈরি হয়েছে কবলে আমরা এখনও শুনিনি... আমরা `ওয়েট অ্যান্ড সি আপ্রোচ` নিচ্ছি।" সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য মুসলিম আশ্বস্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী হারিন ফার্নান্দো বলেছেন, "হামলাকারীরা দেশের সিংহভাগ মুসলিমের প্রতিনিধিত্ব করে না। আমি তাদের মুসলিমই বলবো না। এদেশের সাধারণ মুসলিমরা অত্যন্ত সজ্জন এবং অন্য সব সম্প্রদায়ের সঙ্গে তারা সম্প্রীতির সম্পর্ক বজায় রেখে বসবাস করেন।" শ্রীলঙ্কার জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ মুসলিম। তথ্যসূত্র: বিবিসি।এসএইচ/

শ্রীলঙ্কার হামলা তদন্ত করবে ইন্টারপোল

ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায় কয়েক দফার ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনার তদন্তে দেশটিতে বিশেষ দল পাঠাচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন বা ইন্টারপোল। সোমবার (২২ এপ্রিল) ইন্টারপোলের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে ইন্টারপোল জানায়, শ্রীলঙ্কান কর্তৃপক্ষের অনুরোধে দেশটিতে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা তদন্তে তাদের সহায়তায় বিশেষ দল ‘ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম’কে (আইআরটি) পাঠানো হচ্ছে। দলটি হামলার ঘটনাস্থল তদন্ত ও বিস্ফোরকগুলো পরীক্ষাসহ পুরো কাজে শ্রীলঙ্কান কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করবে। ইন্টারপোল আরও জানায়, তদন্তের স্বার্থে যদি প্রয়োজন হয়, তবে পরে ডিজিটাল ফরেনসিক ও বায়োমেট্রিক বিশেষজ্ঞসহ ছবি-ভিডিও বিশ্লেষণ বিশেষজ্ঞদের পাঠানো হবে। ইন্টারপোলের সেক্রেটারি জেনারেল জারগেন স্টক বলেন, বিশ্বব্যাপী আইন প্রয়োগকারী সম্প্রদায়ের উচিৎ এ ঘটনাসহ যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় হতাহতদের পরিবার ও বন্ধুদের পুরোপুরিভাবে সহায়তা করা। রোববার (২১ এপ্রিল) রাজধানী কলম্বো ও এর আশপাশের তিনটি গির্জা ও চারটি হোটেলসহ মোট আটটি স্থানে ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৯০ জন নিহত এবং প্রায় চার শতাধিক আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৩৫ জন বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। হামলার এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত ২৪ জনকে আটক করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। তাদেরকে বর্তমানে হামলার ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এরইমধ্যে ভয়াবহ এ সন্ত্রাসী হামলার দায় স্বীকার করেছে জামাত আল-তাওহিদ আল-ওয়াতানিয়া নামে একটি গ্রুপ। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এদিকে দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সোমবার মধ্যরাত থেকে দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করছে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ। আরকে//

শ্রীলঙ্কায় সন্দেহভাজন হামলাকারীদের সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে

শ্রীলঙ্কায় রোববার একের পর এক চালানো যে বোমা হামলায় ২৯০ জন নিহত হয়েছেন, তা স্থানীয় একটি গোষ্ঠী সন্ত্রাসীদের আন্তর্জাতিক এক নেটওয়ার্কের সহায়তায় ঘটিয়েছে বলে দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন। গির্জা ও হোটেলে একযোগে চালানো হামলায় আরও অন্তত ৫০০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাতিও রয়েছে। এছাড়া, মিস্টার সেলিমের জামাতাও হামলায় আহত হয়েছেন। এই হামলার জন্য স্থানীয়ভাবে অচেনা একটি জিহাদি গ্রুপ, ন্যাশনাল তাওহীদ জামাতকে দায়ী বলে মনে করছে শ্রীলঙ্কার সরকার। ফলে তদন্তকারীরা এখন এই গ্রুপটির প্রতি বিশেষভাবে নজর দিচ্ছেন। যদিও কোন গোষ্ঠী এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেনি। শ্রীলঙ্কার কর্মকর্তারা বলছেন, এরা স্বল্প পরিচিত নতুন একটি গোষ্ঠী, যাদের সম্পর্কে কিছুদিন আগেও তেমন একটা জানা ছিল না। কিছুদিন আগে একটি বুদ্ধ ভাস্কর্য ভাঙ্গার ঘটনার সঙ্গে এই গ্রুপটি জড়িত ছিল বলে ধারণা করা হয়। বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়ানোর অভিযোগে ২০১৬ সালে গোষ্ঠীটির একজন নেতাকে গ্রেফতারের পর প্রথম এটি আলোচনায় আসে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ন্যাশনাল তাওহীদ জামাত গ্রুপটি ইসলামপন্থী সন্ত্রাসী ধ্যানধারণা লালন করে। শ্রীলঙ্কার স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম বলছে, এই গ্রুপটি কাট্টাকুডি নামের একটি মুসলিম অধ্যুষিত শহরে ২০১৪ সালে গঠিত হয়। তবে এর আগে কোন মারাত্মক কোন হামলার চালানোর সঙ্গে এদের নাম শোনা যায়নি। তবে দলটি তথাকথিত ইসলামিক স্টেট গ্রুপকে সমর্থন করতো বলে জানা যাচ্ছে। অ্যালান কিনান ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের শ্রীলঙ্কাবিষয়ক পরিচালক। তিনি ধারণা দিচ্ছেন যে ন্যাশনাল তাওহীদ জামাত সম্ভবত সেই গোষ্ঠী, যারা গত বছরের একটি "ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ" একটি ঘটনায় জড়িত ছিল। তিনি বলেন, "ডিসেম্বরে মারওয়ানেলা শহরে ... বুদ্ধের কয়েকটি মূর্তি ভাঙ্গচুর করা হয়েছিল এবং এরপর পুলিশ এমন কয়েকজন তরুণকে গ্রেফতার করেছিল, যারা একজন ধর্মপ্রচারকারীর ছাত্র ছিলেন বলে বলা হয়েছে। এই ধর্মপ্রচারকারীর নাম যে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, তা গতকালই বেরিয়েছে।" শ্রীলঙ্কার ওই হামলায় ২৯০ জন নিহত হলেও, এখনো কেউ হামলার দায়দায়িত্ব স্বীকার করেনি। দেশটির সরকারও নির্দিষ্ট করে জানাতে পারেনি ঠিক কারা ওই হামলা করেছে, যদিও তারা এর মধ্যেই অন্তত ২৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। আগাম সতর্কবার্তা- তবে ১০ দিন আগে ন্যাশনাল তাওহীদ জামাতের দ্বারা চার্চে হামলার ব্যাপারে "বন্ধুপ্রতীম একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থা" শ্রীলঙ্কার পুলিশকে সতর্ক করে দিয়েছিল বলে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম খবর দিচ্ছে। ফলে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মনোযোগ এখন ন্যাশনাল তাওহীদ জামাতের দিকেই বেশি পড়েছে। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর দি স্টাডি অব ভায়োলেন্ট এক্সট্রিমিজম-এর পরিচালক অ্যানি স্পেকহার্ড বলছেন, এই গ্রুপটির উদ্দেশ্য কোন বিপ্লব করা নয়, তাদের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশ্বের অন্যান্য দেশের জিহাদীদের আন্দোলনকে শ্রীলঙ্কায় ছড়িয়ে দেওয়া এবং সমাজে ঘৃণা, ভয় ও বিভেদ তৈরি করা। রোববার একসঙ্গে চার্চ ও বিদেশি পর্যটক অধ্যুষিত হোটেলে হামলা চালানো হয়েছে, যার সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য দেশে বড় বড় ইসলামপন্থী জঙ্গি গ্রুপগুলোর হামলার মিল রয়েছে, বলছেন মিজ. স্পিকহার্ড। সিঙ্গাপুর-ভিত্তিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রোহান গুনারত্না বলেছেন, ইসলামিক স্টেট গ্রুপের শ্রীলঙ্কার শাখা হচ্ছে ওই ছোট সংগঠনটি, যারা চরমপন্থীদের হয়ে লড়াই করতে সিরিয়া আর ইরাকেও গিয়েছিল। তবে শ্রীলঙ্কার সরকার বা বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, বোমা হামলাগুলোর সঙ্গে স্থানীয় গ্রুপ জড়িত থাকলেও তারা আন্তর্জাতিক সহায়তা পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, হামলার ধরণ দেখে মনে হচ্ছে, ইসলামিক স্টেট অথবা আল কায়েদা এগুলোর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। এরই মধ্যে এই হামলাকে সমর্থন করে আইএস জানিয়েছে, নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলা ও সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পাল্টা প্রতিশোধ হিসাবেই এই হামলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গৃহযুদ্ধ চলার সময় তামিল টাইগাররা আত্মঘাতী হামলাকে এক প্রকার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতো। সে সময় সরকারি কর্মকর্তা ও স্থাপনা লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলা করা হতো। কিন্তু গির্জা এবং হোটেলে হামলার ঘটনা শ্রীলঙ্কায় একেবারে নতুন। "দেশের ভেতরে থাকা একদল ব্যক্তি এসব হামলা করেছে এটা আমরা বিশ্বাস করি না," কেবিনেট সেক্রেটারি রাজিথা সেনারত্নে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একথা বলেন। তিনি বলেন, "এখানে একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক আছে, যাদের ছাড়া এ হামলা সফল হতো না"। একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হামলার সঙ্গে জড়িত আন্তর্জাতিক চক্রের সদস্যদের ধরতে অন্যান্য দেশের সহায়তা চেয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। অ্যান্টি-টেরোরিজম বিশেষজ্ঞ আলটো লাবেটুবান বলছেন, ``মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার সঙ্গে মেলালে দেখা যায় ইসলামিক স্টেট এবং আল কায়েদার সঙ্গে এসব হামলার মিল রয়েছে।`` তিনি বলেন, ``যে মাত্রায় হামলাটি করা হয়েছে, তাতে আমার মনে হয় না যে শুধু স্থানীয়রা এটি ঘটিয়েছে। সম্ভবত বিদেশি গ্রুপ বা লোকজন এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে - বিশেষ করে ভারত বা পাকিস্তান থেকে লোকজন আসতে পারে।`` নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলছেন, ``যারা এই হামলা চালিয়েছে, তাদের বিশেষ অপারেশন ক্ষমতা আর দক্ষ কমান্ডার রয়েছে তা বোঝা যায়।`` প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনার দপ্তর জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে শ্রীলঙ্কান জঙ্গিদের সঙ্গে বিদেশি সন্ত্রাসী চক্র জড়িত রয়েছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি। এসএইচ/

শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলা: সর্বশেষ যা জানা যাচ্ছে

শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় ইস্টার সানডে চলার সময় কয়েক দফা বোমা হামলায় দুই শতাধিক মানুষ নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে কারফিউ জারি করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কারফিউ চলবে। হামলায় ২৯০জন নিহত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এদিকে ওই হামলায় বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের মেয়ের পরিবারের দুইজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। রবিবার রাতে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিংহে জানিয়েছিলেন, সম্ভাব্য একটি হামলার বিষয়ে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর কাছে সতর্কতামূলক তথ্য ছিল। তবে হামলা হলেও, কারা এই হামলা চালিয়েছে, এখনো তা জানাতে পারেনি সরকার। গুজব বা মিথ্যা খবর ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোয় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। হোয়াটসঅ্যাপ এবং ফেসবুকের মতো জনপ্রিয় সেবাগুলোয় অনেকে প্রবেশ করতে পারছেন না বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। দেশটির প্রধান বিমানবন্দরের কাছাকাছি এলাকা থেকে একটি হাতে বানানো বোমা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বিমানবাহিনী। শ্রীলঙ্কায় হামলার পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম একটি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, বোমা হামলার ঘটনার পর থেকে এক শিশুসহ দুই বাংলাদেশির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে তিনি কারো পরিচয় জানাননি। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম বাসস জানাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রুনেই সফরের সময় একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, শেখ ফজলুল করিম সেলিমের মেয়ের পরিবার শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলার শিকার হয়েছে। তিনি বলেছেন, সেলিমের মেয়ে-জামাই ও নাতি এ সময় একটি রেস্টুরেন্টে খাচ্ছিলেন। সেখান একটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে মেয়ে-জামাই আহত হন এবং (গতকাল) বিকেল পর্যন্ত নাতির কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। শাহরিয়ার আলম বলেন, `আমরা জেনেছি একটি পরিবারের চারজনের মধ্যে দুজন `রিপোর্টেড` (খোঁজ পাওয়া গেছে)। বাকি দুজনের একজন শিশু ও একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি নিখোঁজ। তবে তাদের নাম-পরিচয় এখনো কিছুই জানা যায়নি। আমরা আশা করছি তাদের কোনো হোটেল বা হাসপাতালে রাখা হয়েছে। আমরা জানতে পারলেই জানিয়ে দেয়া হবে। হামলার শিকার গির্জার ভেতরের দৃশ্যশ্রীলংকায় বোমা হামলার পর কলম্বোর সেন্ট অ্যান্টনি গির্জার ভেতরে প্রথম ছবিগুলো প্রকাশিত হতে শুরু করেছে। শহরের উপকণ্ঠে এটি খুবই জনপ্রিয় এক গির্জা। বিবিসি সিনহালা বিভাগের সংবাদদাতা আযাম আমীন যখন ঐ গির্জা দেখতে গিয়েছিলেন, তখন তিনি জানান যে সেখানে অন্তত ৩০ জন নিহত হন। গির্জার আশেপাশে এখন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, এবং পুলিশের তদন্ত চলছে। শ্রীলঙ্কা সম্পর্কে কিছু তথ্য: শ্রীলংকার ধর্মীয় স্থানগুলো পর্যটকদের বড় আকর্ষণের জায়গা।ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলংকা গত কয়েকশ বছর ধরে পর্যটকদের আকৃষ্ট করেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাধ্যমে। কিন্তু দেশটিতে বহু বছর ধরে তুমুল গৃহযুদ্ধ চলেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলিজ এবং সংখ্যালঘু তামিলদের মধ্যে এ যুদ্ধ চলেছে দেশটির উত্তর এবং পূর্বাঞ্চলে। ২৫ বছর ধরে চলা সে সংঘাতের অবসান হয় ২০০৯ সালে। সরকারী বাহিনী যখন বিদ্রোহী তামিল টাইগারদের সর্বশেষ শক্ত ঘাটি দখল করে নেয় তখন গৃহযুদ্ধের অবসান হয়। ১৬ শতকের পর পর্তুগীজ এবং ডাচরা শ্রীলংকা নিয়ন্ত্রণ করেছে। ১৫০ বছর ব্রিটিশ শাসনের পর ১৯৪৮ সালে শ্রীলংকা স্বাধীনতা লাভ করে। শ্রীলংকায় অনেক বিদেশী পর্যটক বেড়াতে যায়শ্রীলংকার মোট আয়তন ৬৫৬০০ বর্গ কিলোমিটার এবং জনসংখ্যা দুই কোটি বিশ লাখ। দেশটির মোট জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ বৌদ্ধ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে হিন্দু জনগোষ্ঠি যারা মোট জনসংখ্যার ১৩ শতাংশ। এছাড়া মুসলিম ১০ শতাংশ এবং খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা ৭ শতাংশ। সূত্র-বিবিসি আরকে//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি