ঢাকা, শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ৫:২৮:৩২

ভারত সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে চীন

ভারত সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে চীন

ভারত সীমান্তে চীন নিজ সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত ভাবে বাড়িয়ে চলছে। বিশেষ করে তিব্বত সংলগ্ন এলাকায় এ উপস্থিতি প্রায় নীরবে বাড়িয়ে চলছে বলে দাবি করছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম । ডোকলামকে কেন্দ্র করে চীন-ভারত অচলাবস্থা কেটে যাওয়ার পরও এমন  তৎপরতা জোরদার হয়ে উঠেছে। ভারত সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত তিব্বতের গোংগা বেসামরিক বিমান বন্দরের উন্নয়ন করছে চীনা সেনাবাহিনী গণমুক্তি ফৌজ বা পিএলএল। এ ছাড়া, ৩+১ প্রকল্পের আওতায়  দক্ষিণাঞ্চলীয় তিব্বতের বুড়াং, লাহুনজি এবং তিনগিরিতে বিমান বন্দর নির্মাণের পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে চীন। চীনা সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে,  এ খাতে ২.৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হবে এবং ২০২১ সালের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হবে। অবশ্য, ভারতের নিরাপত্তা প্রশাসনের সঙ্গে জড়িত একটি সূত্র বলেছে, তিব্বতের সর্বশেষ পরিস্থিতির বিষয়ে অবহিত আছে নয়াদিল্লি। তথ্যসূত্র: পার্সটুডে এমএইচ/
‘ঘাতক রোবট’ নিষিদ্ধের দাবি তুলল বিজ্ঞানীরা

মানব জাতির জন্য ভয়াবহ হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে ‘ঘাতক রোবট’-এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ‘আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্যা অ্যাডভান্সমেন্ট অব সায়েন্স’এর বাৎসরিক সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়। ‘ঘাতক বা যুদ্ধোপযোগী সেনা রোবট’ তৈরির জন্য যখন বিশ্বব্যাপী ব্যাপক তৎপরতা চলছে তখন এ আহ্বান জানানো হলো। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের বিকাশ ঘটছে অতি দ্রুত। ফলে মানুষের সহায়তা ছাড়াই লক্ষ্য নির্বাচন এবং হামলা চালাতে সক্ষম রোবট তৈরি হওয়া সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন সক্ষমতার অধিকারী কথিত ‘যন্ত্র মানব’কে ‘ঘাতক রোবট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ‘রোবট’ মানেই মানবিক চেহারা সম্পন্ন হতে হবে তাও নয়। দূর নিয়ন্ত্রণ বা মানবিক কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই লক্ষ্য নির্ধারণ এবং হামলা চালাতে সক্ষম যান, নৌযান কিংবা বিমানও এর আওতায় পড়বে। ‘আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্যা অ্যাডভান্সমেন্ট অব সায়েন্স’এর সম্মেলনে বিজ্ঞানী এবং মানবাধিকার কর্মীরা বলেন, এ জাতীয় রোবট যুদ্ধের জগতে তৃতীয় বিপ্লবের প্রতীক হয়ে উঠেছে। বারুদের ব্যবহার এবং পরমাণু অস্ত্র তৈরির মধ্য দিয়ে এর আগের দু’টি বিপ্লব সম্পন্ন হয়েছে। তারা আরো বলেন, আন্তর্জাতিক চুক্তির ফলে স্থলমাইন ব্যবহার উল্লেখযোগ্য ভাবে সীমিত হয়েছে। ‘ঘাতক রোবট’ ব্যবহারের ক্ষেত্রে একই ধরণের চুক্তির প্রয়োজন। ‘ঘাতক রোবট’ ব্যবহারের চল শুরু হওয়ার আগেই এমন পদক্ষেপ নেওয়ার জরুরি আহ্বান জানান তারা। এ জাতীয় নিষেধাজ্ঞার প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেন, এমন অস্ত্র ব্যবস্থা রাজনৈতিক এবং নৈতিক ভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তথ্যসূত্র: পার্সটুডে এমএইচ/

কাশ্মীরের পুলওয়ামায় হামলাকারীর ভিডিও প্রকাশ

কাশ্মীরের পুলওয়ামার অবন্তিপোরায় সেনা কনভয়ে জঙ্গি হামলার দায় নিয়েছে জৈশ-এ-মহম্মদ। অন্যতম হামলাকারী হিসেবে উঠে এসেছে আদিল হুসেন দার ওরফে ওয়াকাস নামে এক জঙ্গির নাম। বৃহস্পতিবার সিআরপিএফ-এর কনভয়ে আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে ছিল সেই। ওই গাড়িবোমা হামলায় নিহত হয়েছেন ৪৪ জন জওয়ান। আহত হয়েছেন ৪১ জন। ওই হামলার পর জঙ্গি সংগঠনটির পক্ষ থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। পিছনে জৈশ-এ-মহম্মদের পতাকা আর সামনে থরে থরে সাজানো স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নিয়ে ওই ভিডিওতে গোটা কাশ্মীরকে ভারত বিরোধী সংগ্রামে যোগ দেওয়ার ডাক দিয়েছে ওয়াকাস। কে এই আদিল হুসেন, যে আড়াই হাজার জওয়ানের কনভয়ে ঢুকে আত্মঘাতী হামলা চালাল? পুলিশ রেকর্ড বলছে পুলওয়ামা জেলার গুন্ডিবাগে থাকত আদিল। তার দুই ভাই আছে। মাঝপথেই সে স্কুলের লেখাপড়ায় ইতি টেনে রাজমিস্ত্রি হিসেবে কাজ শুরু করে। স্থানীয় মসজিদে নমাজ পড়ার সময় সবার আগে দেখা যেত তাকে। তৌসিফ নামে আদিলের এক বন্ধুর দাদা মঞ্জুর আহমেদ দার ছিল জঙ্গি। ২০১৬ সালে সেনা অভিযানে তার মৃত্যু হয়। আর ওই বছরই মার্চ মাসে তৌসিফ এবং ওয়াসিম নামে আরও এক বন্ধুর সঙ্গেই নিখোঁজ হয়ে যায় আদিল। এদিকে হামলার পর আদিলের যে ভিডিও সামনে এসেছে, তাতে সে বলেছে, গত এক বছর সে জৈশ-এ-মহম্মদ জঙ্গি হিসেবে কাটিয়েছে। সে বলছে, ‘এই ভিডিও যখন তোমাদের কাছে পৌঁছবে তখন আমি জন্নতে থাকব।’ উত্তর কাশ্মীরের বার্তাবাহক হিসেবে সে বলে, ‘এবার কাশ্মীরের বাকি অংশ এবং জম্মুর সময় এসেছে ভারত বিরোধী সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার।’ এখানে না থেমে বিভিন্ন সময়ে জৈশের চালানো একাধিক হামলার কথাও সে তুলে ধরেছে ওই ভিডিওতে। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার এমএইচ/

জরুরি অবস্থা জারি করতে যাচ্ছেন ট্রাম্প!

যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ করতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের জন্য জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়েছে। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি সারাহ স্যান্ডার্স জানান, ‘প্রেসিডেন্ট আবারও মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণ, সীমান্ত রক্ষা এবং আমাদের দেশকে সুরক্ষিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ জন্য সীমান্তে জাতীয় নিরাপত্তা ও মানবিক সঙ্কট নিরসনে ট্রাম্প জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করতে পারেন।’ এর পরই বেশ কয়েকজন সিনিয়র ডেমোক্র্যাট সদস্য জানান, এর মাধ্যমে ট্রাম্প তার ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ ও ‘আইনের অপব্যবহার’ করছেন। এর আগে একটানা ৩৫ দিন ফেডারেল সরকারের একাংশের কাজকর্ম বন্ধ থাকার পর সিদ্ধান্ত হয়েছিল, উভয় দলের সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি কমিটি ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাজেট প্রশ্নে একটি সর্বসম্মত প্রস্তাব গ্রহণে কাজ করবে। সেই সময়সীমা পার হওয়ার আগেই (১২ ফেব্রুয়ারি) তারা এক সমঝোতা সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। তবে এ সিদ্ধান্তে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মোটেই খুশি নন বলে জানিয়ে দিয়েছেন। মেক্সিকো সীমান্তে নিরাপত্তা দেয়াল নির্মাণের জন্য ট্রাম্প প্রায় ছয় বিলিয়ন ডলার দাবি করেন। কিন্তু ছয় বিলিয়নের বদলে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের মতো অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। এই অর্থ মোট ৫৫ মাইল বেড়া নির্মাণে ব্যবহৃত হবে। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

‘পাকিস্তানকে ইরান সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে’

ইরানের সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির ইসলামি বিপ্লবি গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ আলী জাফারি। দক্ষিণ-পূর্ব ইরানে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় বুধবার রাতে আইআরজিসি’র একটি বাসে শক্তিশালী গাড়িবোমা হামলার পর এ আহ্বান জানালেন তিনি। জেনারেল জাফারি বলেন, ‘বন্ধুপ্রতীম পাকিস্তান সরকার, দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীগুলো এবং সেনাবাহিনী দু’দেশের যৌথ সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করবে বলে তেহরান আশা করছে।” আইআরজিসি’র কমান্ডার বলেন, উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসীরা ইরান ও পাকিস্তান উভয় দেশের শত্রু। কাজেই তারা যাতে মাথাচারা দিয়ে উঠতে না পারে সেজন্য তেহরান ও ইসলামাবাদকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। গত বুধবার রাতে ইরানের পাকিস্তান সীমান্তবর্তী সিস্তান-বালুচিস্তান প্রদেশের জাহেদান-খাশ মহাসড়কে আইআরজিসি’র জওয়ানদের বহনকারী বাসে শক্তিশালী গাড়িবোমা হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত ও ১৩ জন আহত হন। তথ্যসূত্র: পার্সটুডে এমএইচ/

আইএস যোগ দেওয়া সেই ব্রিটিশ স্কুলছাত্রী দেশে ফিরতে চান

দু`হাজার পনেরো সালে লন্ডনের যে তিন স্কুল-পড়ুয়া মেয়ে ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগ দেবার জন্য ব্রিটেন ত্যাগ করেছিল, তাদের একজন শামিমা বেগম এখন বলছেন, তিনি যুক্তরাজ্যে ফিরে আসতে চান কিন্তু তার অতীত কর্মের জন্য তার কোনো অনুতাপ নেই। দৈনিক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ১৯ বছর বয়েসী শামিমা বেগম বলেন, তিনি সিরিয়ায় থাকার সময় ডাস্টবিনে মানুষের কাটা মাথা পড়ে থাকতে দেখেছেন- কিন্তু এসব তাকে বিচলিত করেনি। সিরিয়ার একটি শরণার্থী শিবির থেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শামিমা বেগম বলেন, তিনি নয় মাসের গর্ভবতী এবং এর আগে তার দুটি সন্তান হয়েছিল- কিন্তু দু`জনই মারা গেছেন। তিনি বলেন, তার পেটের সন্তানটির জন্যই তিনি দেশে ফিরতে চান। শামিমা বেগম আরও বর্ণনা করেন, তার যে দুই বান্ধবী তার সঙ্গে সিরিয়া গিয়েছিলেন তাদের একজন বোমা বিস্ফোরণে মারা গেছেন। তৃতীয় জনের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা অস্পষ্ট। সিরিয়ায় যাবার জন্য লন্ডন ত্যাগের সময় বেথনাল গ্রিন একাডেমির ছাত্রী শামিমা বেগম ও আমিরা আবাসির বয়েস ছিল ১৫, আর খাদিজা সুলতানরা বয়স ছিল ১৬। লন্ডনের কাছে গ্যাটউইক বিমান বন্দর থেকে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তারা তিনজন তুরস্কের উদ্দেশ্যে উড়াল দেন। তারা তাদের বাবা-মাকে বলেছিলেন, তারা একসঙ্গে কোথাও বেড়াতে যাচ্ছেন। তুরস্কে নামার পর তারা সীমান্ত পেরিয়ে সিরিয়ায় ঢোকেন। তখন সিরিয়া ও ইরাকের বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখল করে রয়েছে আইএস। ইসলামিকে স্টেটের স্বঘোষিত `খেলাফতের` রাজধানী রাক্কায় এসে তারা প্রথম একটি বাড়িতে ওঠেন। সেখানে তাদের সঙ্গে ছিল আরও কয়েকজন মেয়ে- যারা আইএস যোদ্ধদের বধূ হবার জন্য দেশ ছেড়ে এসেছিল। শামিমা বলেন, "আমি একটা আবেদনপত্র দেই যে আমি ইংরেজিভাষী একজন যোদ্ধাকে বিয়ে করতে চাই- যার বয়েস ২০ থেকে ২৫ বছর বয়েসের মধ্যে।" দশ দিন পর তার সঙ্গে ২৭ বছর বয়স্ক একজন ডাচ লোকের বিয়ে হয়- যে ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিল। তার পর থেকে শামিমা ওই ব্যক্তির সঙ্গেই ছিলেন, এবং দু`সপ্তাহ আগে তারা পূর্ব সিরিয়ায় আইএস গোষ্ঠীর শেষ ঘাঁটি বাঘুজ থেকে পালিয়ে যান। এ সময় শামিমার স্বামী সিরিয়ান যোদ্ধাদের একটি দলের কাছে আত্মসমর্পণ করে। শামিমা এখন উত্তর সিরিয়ায় ৩৯ হাজার লোকের বাস এমন একটি শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করছেন। টাইমসের সাংবাদিক এ্যান্টনি লয়েড তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, রাক্কার জীবন যেমন হবে বলে তিনি আশা করেছিলেন- তা কি তেমনই ছিল? জবাবে শামিমা বলেন, "হ্যাঁ, ছিল। এটা ছিল একটা স্বাভাবিক জীবনের মতোই। তাদের প্রচারমূলক ভিডিওতে যেমন দেখানো হতো- তেমনই একটা স্বাভাবিক জীবন। মাঝেমধ্যে একটা-দুটো বোমা ফাটতো, কিন্তু তা ছাড়া...।" তিনি বলেন, জীবনে প্রথমবার যখন তিনি মানুষের কাটা মাথা দেখেছিলেন, তাতে তিনি একটুও বিচলিত হননি। "সেটা ছিল যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ধরে আনা একজন বন্দী যোদ্ধার মাথা,.. একজন ইসলামের শত্রু।" "আমার মনে হয়, সে যদি সুযোগ পেতো তাহলে সে-ও একজন মুসলিম নারীর ওই একই অবস্থা করতো।""আমি এখন আর সেই ছোট্ট ১৫ বছরের স্কুলের মেয়েটি নেই, যে বেথনাল গ্রিন থেকে পালিয়েছিল। এখানে আসার জন্য আমি দুঃখিত নই" - বলেন শামিমা। তবে তিনি বলেন, সেখানে তিনি যে দমন-নিপীড়ন দেখেছেন তা তাকে `স্তম্ভিত` করেছে, এবং ইসলামিক স্টেটের `খেলাফত` শেষ হয়ে গেছে বলেই তার মনে হয়। "আমি বড় কিছু আশা করছি না। তারা এখন (আইএস) এখন ছোট থেকে আরও ছোট হয়ে যাচ্ছে" বলেন শামিমা - "এবং সেখানে এত বেশি দমন-নিপীড়ন আর দুর্নীতি হচ্ছে যে আমি মনে করি তারা বিজয় পাবার উপযুক্ত নয়।" তিনি বলেন, তার স্বামী এমন একটি কারাগারে আটক আছে যেখানে বন্দীদের ওপর নির্যাতন করা হয়। শামিমার সঙ্গী খাদিজা সুলতানার পরিবারের একজন আইনজীবী ২০১৬ সালে বলেছিলেন, তিনি একটি রুশ বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন বলে মনে করা হয়। শামিমা বেগম তার সাক্ষাৎকারে বলেন, একটি বাড়ির ওপর বোমা ফেলা হলে তার বান্ধবী নিহত হন। `ওই বাড়ির নিচে কিছু গোপন কার্যক্রম চলছিল` বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "আমি কখনো ভাবিনি এমনটা হবে। প্রথমে আমি বিশ্বাস করিনি, কারণ আমি সব সময়ই মনে করতাম যে যদি আমরা মারা যাই, তাহলে একসাথেই মরবো।" `আমি ভয় পাচ্ছি যে আমার বাচ্চাটা হয়তো অসুস্থ হয়ে পড়বে`শামিমা বেগমের দুটি সন্তান হয়। এর মধ্যে দ্বিতীয়টি মারা যায় প্রথমে, আট মাস বয়সে। আর প্রথমটি মারা যায় এক বছর নয় মাস বয়সে। তাকে এক মাস আগে বাঘুজে কবর দেওয়া হয়। টাইমস জানাচ্ছে, অপুষ্টির কারণে প্রথম সন্তানটির অসুস্থতা খারাপ মোড় নিয়েছিল। মিজ বেগম বলেন, তার দ্বিতীয় সন্তানকে তিনি একটা হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে কোন অষুধ ছিল না, এবং যথেষ্ট ডাক্তার-নার্সও ছিল না। তিনি আরও বলছেন, শরণার্থী শিবিরে থাকলে তার পেটের সন্তানটিও আগের বাচ্চাদের মতোই মারা যাবে- এ ভয় তার বাঘুজ ছাড়ার সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করেছে। শামিমা বেগম বলছেন, তার সন্তান যে কোন দিন ভূমিষ্ঠ হতে পারে, এবং এ জন্যই তিনি ব্রিটেনে ফিরতে চান- কারণ তিনি জানেন যে সেখানে তিনি অন্তত চিকিৎসা পাবেন। "আমি দেশে ফেরার জন্য, এবং সন্তানকে নিয়ে নিরবে জীবন কাটানোর জন্য যে কোন কিছু করতে রাজী আছি"- বলেন তিনি। ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেন ওয়ালেস বলেছেন, শামিমা বেগমের ব্যাপারে তিনি আইনগত কারণে কোন মন্তব্য করবেন না। তবে তিনি বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বা সমর্থন দিতে যে ব্রিটিশ নাগরিকরা সিরিয়া গেছেন - তাদের প্রস্তুত থাকতে হবে যে দেশে ফিরে এলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের সম্মুখীন হতে হবে এবং বিচারও হতে পারে। তথ্যসূত্র: বিবিসি। এসএইচ/

কাস্মিরে সন্ত্রাসী হামলা ৪২ ভারতীয় পুলিশ নিহত

ভারতের কাস্মিরে সন্ত্রাসী হামলায় দেশটির পুলিশ বাহিনীর কমপক্ষে ৪২ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। এ হামলায় আরও আহত হয়েছেন ২০ জন। জম্মু-কাস্মিরের পলওয়ামা এলাকায় পুলিশের একটি বাসে হামলা করে সন্ত্রাসীরা। বাসটিতে ৭০ জন পুলিশ সদস্য ছিল। তাদের লক্ষ্য করে এই হামলা করা হয়। কাস্মিরেরর সিঙ্গাগার-জম্মু হাইওয়ে সড়কে বাসটিতে এই আত্মঘাতি বোমা হামলা চালায়। যখন বাসটির মধ্যে হামলা করা হয়, তখন এটিতে প্রায় ৪৫ জন পুলিশ সদস্য ছিল। বাসটি সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে এবং নিহতদের অনেকের দেহ ছিন্নবিচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে রাস্তায়। সন্ত্রাসী সংগঠন জয়-ই মোহাম্মদ হামলার ঘটনাটি স্বীকার করেছে। সংগঠনটির মুখপাত্র এই হামলার ঘটনা স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছেন। ওই সংগঠনটির পক্ষে দাবি করা হয়েছে, আদিল আহমেদ ধর নামে তাদের একজন এই হামলায় অংশ নিয়েছে। এই সংগঠনটি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, সেখানে এই হামলাকারী তাদের সংগঠনের ব্যানারের সামনে রয়েছেন। তবে, এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন ভারতের কংগ্রেস দলের প্রধান রাহুল গান্ধী। নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এটা একটা কাপুরুষিত হামলা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুন জেটলি বলেছেন, এটা একটি কাপুরষিত হামলা। এই হামলা ভোলার মতো নয়।জম্মু-কাস্মিরের সাবেক গভর্নর ওমর আবদুল্লাহ বলেন, এটা ভয়াবহ সন্ত্রাসী সংবাদ। যারা এই হামলা করেছে তারা কাপুরুষ। তাদের বিচারের আওতায় আনা দরকার। যারা নিহত ও আহত হয়েছেন তাদের কল্যাণ কামনা করেন তিনি। তথ্যসূত্র: ইনডিয়া টুডে। এসএইচ/

আবর্জনার জঞ্জালে দম আটকে মরছে এই শহর

পৃথিবীর বহু দেশ প্লাস্টিক বর্জ্য অন্যকে দিয়ে হাঁফ ছেড়ে বাঁচতে চাইছে। কিন্তু ব্যতিক্রম মালয়েশিয়া। এটিই এখন পৃথিবীর অন্যতম বড় প্লাস্টিক-বর্জ্য-আমদানীকারক দেশ। কিন্তু এসব বর্জ্যের খেসারত দিচ্ছে ছোট্ট শহর জেনজারোম। ১৭ হাজার টন প্লাস্টিকের জঞ্জালের নিচে চাপা পড়ে শহরটি এখন ধুঁকে-ধুঁকে মরছে। জেনজারোমের বাসিন্দা ড্যানিয়েল টেয়। গত গ্রীষ্ম থেকে জীবনটা তাদের নরক হয়ে গেছে। দরজা, জানালা সব কিছুর খিল এঁটে বন্ধ করে রাখলেও তাদের এখন আর প্রাণ খুলে শ্বাস নেওয়ার জো নেই। ঘড়ির কাটা মধ্যরাত স্পর্শ করার পর থেকেই রোজ রাতে বিদঘুটে কটু ঝাঁঝালো গন্ধ চারদিক থেকে ঢুকতে থাকে ঘরে। রাবার পোড়ার গন্ধে ফুসফুস দম খুঁজে পায় না। কাশির দমকে প্রাণ ওষ্ঠাগত হয় তখন। অবৈধ প্লাস্টিক রিসাইক্লিং বা পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলোতে গোপনে চলে অব্যবহৃত প্লাস্টিক পোড়ানোর কাজ। এ কারণেই মানুষের যত বিড়ম্বনা। ২০১৭ সালে চীন প্লাস্টিক বর্জ্য আমদানি নিষিদ্ধ করে। কিন্তু এই সুযোগে বর্জ্য-বাণিজ্যের পুরোটা নিজেরা নিয়ন্ত্রণে নিতে এগিয়ে আসে মালয়েশিয়া। তখন ২০১৭ সালে, মাত্র এক বছরেই সাত মিলিয়ন অর্থাৎ ৭০ লাখ টন বর্জ্য নিজের দেশে আমদানি করেছে মালয়েশিয়া। এর পরের বছর ২০১৮ সারে জানুয়ারি থেকে জুলাই মাসের মধ্যেই ছাড়িয়ে যায় এর আগের বছরের হিসাব। এই ক’মাসেই দেশটিতে প্রবেশ করে ৭৫ লাখ ৪০০ টন প্লাস্টিক। বিপুল পরিমাণ এই বর্জ্য শিল্পের অর্থনৈতিক মূল্য ৭৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। স্লো পয়জনিং বর্জ্যের অর্থমূল্য যেমন ব্যাপক, এর জন্য যে খেসারত দিয়ে চলেছেন জেনজারোমের বাসিন্দারা সেটিও বেশ ব্যাপক। সবজাতের প্লাস্টিক পুনরায় প্রক্রিয়াজত করা যায় না। কিন্তু অব্যবহৃত প্লাস্টিকগুলোকে প্রক্রিয়া মেনে ধ্বংস করতে হলে গাঁটের পয়সা খরচা করতে হবে। তাই নিজের টাকা বাঁচাতে গিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা গোপনে সে সব দূষিত প্লাস্টিক পুড়িয়ে দেয়। এর ফলে জেনজারোমের বাসিন্দা ড্যানিয়েল টেয়-এর মতই অন্যদেরও টিকে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে। নগো কিউই হং বলছিলেন, কাশির দমকে কেমন করে তার বুক থেকে রক্ত বেরিয়েছে সেই কথা। দুর্গন্ধে ঘুম না আসায় রাতের পর রাত নির্ঘুম থাকায় শরীর কত ভেঙে পড়েছে সেই বিবরণও তিনি বিবিসির কাছে দিয়েছেন। আর নিজের ১১ বছর বয়সী ছেলের শারীরিক কষ্টের কথা তুলে ধরতে গিয়ে দুশ্চিন্তায় মুষড়ে পড়েছেন মিজ. বেরে টান। তার ছেলের হাত-পা, গলা, পেটসহ শরীরে বিভিন্ন অংশে প্রথমে র‍্যাশ বা লাল-লাল ফুসকুড়ি উঠেছে। তারপর সেগুলো থেকে চামড়া খুলে পড়েছে। হাত দিয়ে স্পর্শ করলে এই ঘাগুলোতে ব্যথা অুনভব করে তার সেই ছোট্ট সন্তান। মূলত বায়ু দূষণের কারণেই শিশুটির এই দশা বলে জানা যাচ্ছে। দুষিত বায়ু গ্রহণ করতে-করতে শিশুটির পুরো রেসপিরেটরি সিস্টেম বা শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়ার উপরেই প্রভাব পড়েছে। পোড়া প্লাস্টিকের ধোঁয়ায় এমন উপাদান আছে যা ক্যানসারের কারণ হতে পারে, বলে উল্লেখ করেছেন সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কেমিকেল ও বায়ো-মলিকিউলার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক টং ইয়িনে ওয়াহ। একখানে বিতাড়িত হলে, আরেক খানে নয়া আস্তানা জেনজারোমে ইতোমধ্যেই ৩৩টি অবৈধ কারখানাকে নিষিদ্ধ করেছে মালয়েশিয়ার সরকার। ফলে, এখন প্লাস্টিক পোড়ানোর ধোঁয়া থেকে কিছুটা রেহাই পেয়েছে আর্ত এই শহর। কিন্তু গজিয়ে উঠা অস্থায়ী এ সব বন্ধ কারখানার ১৭ হাজার টন প্লাস্টিক এখনও উন্মুক্ত পড়ে আছে যত্রতত্র। আর এরচেয়ের বড় বিপদ হচ্ছে, এক জায়গা থেকে প্লাস্টিক ব্যবসায়ীরা বিতাড়িত করলে আবার অন্য একখানে গিয়ে ঠিকই আস্তানা গেঁড়ে বসে। বেশি করে অর্থ দেয় বলে কারখানা খোলার জন্য এই বর্জ্য-ব্যবসায়ীদের জায়গা পেতেও ঝামেলা হয় না। অধিক অর্থের আশায় মালিকেরা জায়গা দিয়ে দেয়। বিশ্বকে যে বার্তা দিচ্ছে জিনজোরাম জিনজোরামের ভয়াল চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে যে, প্লাস্টিক বর্জ্য পুন:প্রক্রিয়াজাত করার ক্ষেত্রে একটা বড় রকমের গলদ রয়ে গেছে। তার উপরে যে সব প্লাস্টিক আমদানি করা হচ্ছে সেগুলোর কতখানি ভালো প্লাস্টিক আর কতটুকু দূষিত সেই হিসাব নেই। তাই বিশ্লেষকরা বলছেন, প্লাস্টিক বর্জ্যের মান নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি। নইলে পৃথিবীর যে কোনোখানেই হয়তো তৈরি হতে পারে আরেকটি জেনজারোম। সূত্র: বিবিসি একে//

‘ইরানে সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে আমেরিকা ও ইসরাইল জড়িত’

লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ বলেছে, ইরানের দক্ষিণ-পূর্বে সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে আমেরিকা, ইহুদিবাদী ইসরাইল ও তাদের মিত্ররা জড়িত রয়েছে। ওই হামলার নিন্দা জানিয়ে আজ বৃহস্পতিবার ভোরে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করা হয়েছে।হিজবুল্লাহর বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আমেরিকা, ইহুদিবাদী ইসরাইল ও তাদের মিত্ররা মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গড়ে তুলেছে এবং ওই সব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে দিয়েই এ হামলা চালানো হয়েছে।১১ ফেব্রুয়ারি বিপ্লব বার্ষিকীর ৪০তম বার্ষিকীর শোভাযাত্রায় মানুষের ব্যাপক উপস্থিতিতে শত্রুরা ক্ষুব্ধ হয়েছে বলে এ বিবৃতিতে মন্তব্য করা হয়েছে।পোল্যান্ডের ওয়ারশতে ইরান বিরোধী বৈঠকের নিন্দা জানিয়ে হিজবুল্লাহ বলেছে, মার্কিন নেতৃত্বে সেখানে যে বৈঠক চলছে তা থেকেই এটা স্পষ্ট ইরানকে অস্থিতিশীল ও অনিরাপদ করার লক্ষ্যে আমেরিকা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে এবং সমন্বয়ের ভিত্তিতে অপকর্ম চালাচ্ছে। প্রসঙ্গত, গতরাতে ইরানের দক্ষিণ-পূর্বের সিস্তান ও বালুচিস্তান প্রদেশে সন্ত্রাসী হামলায় ২৭ জন সেনা শহীদ ও ১৩ জন আহত হয়েছে।সূত্র : পার্সটুডেএসএ/

ক্ষমা চেয়েছেন থাই রাজকন্যা উবলরাতানা

মঙ্গলবার রাতে ইনস্ট্রগ্রামে দেয়া এক পোস্টে ৬৭ বছর বয়সী রাজকন্যা রাজনৈতিক নাটকে তার ভূমিকার জন্যে ক্ষমা চেয়ে বলেছেন, দেশের জন্যে কাজ করার আমার আন্তরিক ইচ্ছের কারণে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে এই সময় তা উচিত হয়নি। আমি দুঃখিত। থাই রাজকন্যা উবলরাতানা গত শুক্রবার আগামী ২৪ মার্চ অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে থাই রাকসা চার্ট পার্টি থেকে প্রধানমন্ত্রী পদে লড়াইয়ের ঘোষণা দেয়। এরপর থেকেই দেশটির রাজনৈতিক নাটক বেশ জমে ওঠে। তিনি যে থাই রাকসা চার্ট পার্টি থেকে লড়াইয়ের ঘোষণা দেন সে পার্টি দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কিত। থাকসিন বর্তমানে কারাদন্ড এড়াতে স্বেচ্ছানির্বাসনে রয়েছেন। এদিকে উবলরাতানার প্রার্থীতা ঘোষণার পরপরই তার ভাই ও থাই রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন এক বিবৃতিতে বলেন, রাজপরিবারের উচ্চপর্যায়ের কোন সদস্যের নির্বাচনে অংশগ্রহণ সংবিধান পরিপন্থী। এর পর থাই রাজকন্যাকে সোমবার প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে অযোগ্য ঘোষণা করে দেশটির নির্বাচন কমিশন। সূত্র-বাসস আরকে//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি