ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ৩:৫১:২৯

খাশোগি হত্যায় সৌদিকে ছাড় দিতে পারে না যুক্তরাষ্ট্র: হ্যালি

খাশোগি হত্যায় সৌদিকে ছাড় দিতে পারে না যুক্তরাষ্ট্র: হ্যালি

জাতিসংঘের বিদায়ী মার্কিন দূত নিকি হ্যালি বলেছেন, সৌদি অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার ঘটনায় সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন দেওয়া উচিৎ নয়। 
‘পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতা শক্তিশালী করতে চায় ইরান’

পাকিস্তানের সঙ্গে সব ক্ষেত্রে সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও বেশি শক্তিশালী করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। তিনি দু’দেশের ব্যাংকিং খাতের মধ্যে সহযোগিতা বিস্তারের আহ্বান জানিয়ে এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো অপসারণের ওপরও জোর দিয়েছেন। তেহরানে ছয় আঞ্চলিক দেশের পার্লামেন্ট স্পিকারদের বৈঠকের অবকাশে পাকিস্তানের স্পিকার আসাদ কায়সার গতকাল শনিবার প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এই আহ্বান জানান। ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, আমেরিকার দাম্ভিকতা ও নিষেধাজ্ঞা প্রতিহত করার লক্ষ্যে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক ও সহযোগিতা শক্তিশালী করার বিকল্প নেই। প্রেসিডেন্ট রুহানি সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ দমনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, আমেরিকা, পাশ্চাত্য ও ইহুদিবাদী ইসরাইল তার দেশে তৎপর সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। হাসান রুহানি বলেন, ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহেযাগিতা জোরদার দু’দেশের দীর্ঘ সীমান্তকে নিরাপদ করে তুলতে পারে। পাকিস্তানে আশ্রয় নেওয়া সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে অপহৃত সাত ইরানি সীমান্তরক্ষীকে মুক্ত করার জন্য ইসলামাবাদ অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে তেহরান আশা করছে। সাক্ষাতে পাক পার্লামেন্ট স্পিকার আসাদ কায়সার তার দেশের সীমান্তবর্তী ইরানের বন্দরনগরী চবাহারে সন্ত্রাসী হামলায় দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি সন্ত্রাসবাদের মূলোৎপাটনে ইরানকে সব রকম সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন। শুক্রবার চবাহারে সন্ত্রাসী হামলায় দু’জন নিহত ও অপর ৪২ জন আহত হন। সূত্র: পার্সটুডে একে//

মুকেশ আম্বানি কন্যা ইশার বিয়েতে এলেন হিলারি ক্লিনটন

ভারতের শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানির মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে শুরু হয়েছে জমকালো আয়োজন। আগামি ১২ ডিসেম্বর বিয়ের মূল অনুষ্ঠান হলেও শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। বিয়ে উপলক্ষে দেশি বিদেশি মেহমান এসেছেন। শনিবার ইশার বিবাহপূর্ব অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন সাবেক মার্কিন ফার্স্ট লেডি হিলারি ক্লিনটন। আম্বানি কন্যার বিয়েতে সুদূর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে আসেন তিনি। হিলারি ক্লিনটন ছাড়াও বলিউডের অনেক সুপারস্টার উপস্থিত হয়েছিলেন। এদের মধ্যে ছিলেন, ক্যাটরিনা কাইফ, আমির খান, করণ জোহর, বরুন ধাওয়ান, নিক-প্রিয়াংকা, জাহ্নবিসহ বচ্চন পরিবারের অনেকে। যদিও ১২ তারিখের উদয়পুরে হবে মূল অনুষ্ঠান হবে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন অরিজিত্‍সিং ও এ আর রহমানের মতো তারকারা। অনুষ্ঠানে বিশেষ পারফরম্যান্স করবেন প্রিয়ঙ্কা চোপড়া। জয়পুর থেকে উদয়পুরের পার্টিতে আমন্ত্রিত অতিথিদের পৌঁছে দিতে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ বিমানে। এ জন্য জয়পুর বিমানবন্দরে ২০০টি বিশেষ চার্টার বিমানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। (সূত্রঃ বিজনেসটুডে) কেআই// আরকে

অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ চালাচ্ছে আমেরিকা : রুহানি

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ চালাচ্ছে। শনিবার তেহরানে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তৃতায় একথা বলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি। সম্মেলনে ইরানের পাশাপাশি অংশ নিচ্ছে চীন, রাশিয়া, তুরস্ক, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, মার্কিন অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদের বিশেষ প্রমাণ হচ্ছে- ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সই হওয়া পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকার সরে যাওয়া এবং তেহরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। মহান ইরানি জাতির ওপর মার্কিন একতরফা ও অবৈধ নিষেধাজ্ঞা সন্ত্রাসবাদের সুস্পষ্ট রূপ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।হাসান রুহানি বলেন, অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদের অর্থ হচ্ছে- অর্থনীতি নিয়ে কোনো একটি দেশের মধ্যে ভয় সৃষ্টি এবং অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সেই দেশের আর্থিক ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করা। তিনি আরো বলেন, ইরান হচ্ছে সন্ত্রাসবাদের সবচয়ে বড় শিকার এবং মারাত্মকভাবে প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পো একটি দেশ। তবে এসব ক্ষতির পরও ইরান সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী লড়াই থেকে সরে যাবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধ লড়াই এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে অংশ নেয়া দেশগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের সংসদ সদস্যরা আলোচনা করবেন। গত বছর প্রথম এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল পাকিস্তানে।সূত্র : পার্সটুডেএসএ/  

ধর্মযাজকের কন্যা থেকে ‘ইউরোপের সাম্রাজ্ঞী’ মের্কেল

জার্মানির ক্ষমতাসীন দল ক্রিস্টিয়ান ডেমোক্রাট দলের প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন দেশটির চ্যান্সেলর এঙ্গেলা মের্কেল। গতকাল শুক্রবার এক আবেগময় বিদায়ী ভাষণে মের্কেল তার দেশের ভেতরে এবং বাইরে জার্মানির উদার মূল্যবোধকে বাঁচিয়ে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। সুদীর্ঘকাল এঙ্গেলা মের্কেল জার্মানির ক্ষমতায় আসীন রয়েছেন। নিজেকে তিনি একজন বিচক্ষণ ও বাস্তববাদী নেতা হিসাবে প্রমাণ করেছেন। এক সময় তাকে বর্ণনা করা হতো ‘জার্মানির রানি’ হিসেবে এমনকি কেউ কেউ তাকে ডাকতেন ‘ইউরোপের সাম্রাজ্ঞী’ বলে। আঠারো বছর তিনি তার দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আর পরপর চার মেয়াদে দেশটির চ্যান্সেলারের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দলের নেতৃত্ব এখন ছাড়লেও চ্যান্সেলার হিসেবে তার চতুর্থ মেয়াদ শেষ করবেন ২০২১ সালে। তখন দেশটির প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মের্কেল। কাজেই ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি জার্মানির নেতৃত্বে তিনি ২০১২ সাল পর্যন্ত থাকলেও এটা এক অর্থে হবে সাময়িক দায়িত্বপালন। মের্কেলের ক্ষমতার শক্ত ভিত প্রথম নড়ে যায় যখন শরণার্থীদের জন্য জার্মানির উন্মুক্ত-দ্বার নীতির নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার মুখে তাকে পড়তে হয়। তার এই নীতির ফলশ্রুতিতে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে দেশটির চরম ডান-পন্থীরা এবং তার দল প্রায় ৭০ বছরের নির্বাচনী ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ ফল করে ২০১৭ সালে। মের্কেল বলেছেন, কোনও রাজনৈতিক পদ নিয়ে তার ভবিষ্যত কোনও পরিকল্পনা নেই। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে দুই জার্মানি একত্রিত হওয়ার পর থেকে তিনি কোনও না কোনও রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এখন পর্যন্ত একাটার পর একটা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছেন। ১৯৫৪ সালের ১৭ জুলাই জার্মানির হামবুর্গ শহরে এঙ্গেলা কাসনারের। যখন তার বয়স মাত্র দু’মাস তখন তার বাবাকে পূর্ব জার্মানির এক ছোট্ট শহরের এক গির্জার ধর্মযাজকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কম্যুনিস্ট পূর্ব জার্মানিতে বার্লিনের উপকণ্ঠে এক গ্রাম এলাকায় বড় হয়েছেন এঙ্গেলা মের্কেল। পদার্থবিদ্যায় ডক্টরেট করে এঙ্গেলা কাজ নেন পূর্ব বার্লিনের একটি বিজ্ঞান অ্যাকাডেমিতে রসায়নবিদ হিসাবে। ১৯৭৭ সালে সহপাঠী ছাত্র উলরিখ মের্কেলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। কিন্তু চারবছর পর তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। ১৯৮৯ সালের মধ্যে তিনি পূর্ব জার্মানিতে যে গণতান্ত্রিক আন্দোলন গতিশীল হয়ে ওঠে তার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন এঙ্গেলা। এরপর বার্লিন প্রাচীর যখন ভেঙে ফেলা হয়, তখন পূর্ব জার্মানিতে প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পর তিনি পূর্ব জার্মান সরকারের মুখপাত্র হিসাবে কাজ নেন। ১৯৯০ সালে জার্মানির একত্রীকরণের দু’মাস পর তিনি মধ্য দক্ষিণপন্থী ক্রিস্টিয়ান ডেমোক্রাট পার্টিতে (সিপিইউ) যোগ দেন। পরের বছর চ্যান্সেলার হেলমুট কোলের সরকারে তিনি নারী ও তরুণ বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। কোল অবৈধ অর্থ লেনদেনের এক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়লে মের্কেল ১৯৯৯ সালে তার পদত্যাগ দাবি করেন। ২০০০ সালে সিপিইউ দলের নেতা নির্বাচিত হন। ২০০৫ সালে তিনি জার্মানির প্রথম নারী চ্যান্সেলার হন। তার রাজনৈতিক জীবনের গোড়াতে তাকে দেখা হতো অনাকর্ষণীয় প্রাদেশিক সাদামাটা একজন নেতা হিসেবে। কিন্তু প্রথম থেকেই সেই ভাবমূর্তি তিনি ঝেড়ে ফেলতে উদ্যোগী হন তার পোশাক আশাক ও চেহারার পরিবর্তন ঘটিয়ে। তিনি চুলের স্টাইল বদলান, উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরতে শুরু করেন। তিনি ১৯৯৮ সালে ইয়োকিম সয়ারকে বিয়ে করেন। তার প্রথম সরকার তিনি গঠন করেন মধ্য বামপন্থী সোশ্যাল ডেমোক্রাটদের সঙ্গে একটা মহাজোট করে। এরপর ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত তিনি ব্যবসা-বান্ধব ফ্রি ডেমোক্রাট দলের সঙ্গে জোট সরকার গঠন করেন। ইউরোপ যখন অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তখন তিনি ব্যয় সঙ্কোচের প্রতীক হয়ে ওঠেন। দক্ষিণ ইউরোপের উপর্যুপরি ঋণ সমস্যার মোকাবেলায় তিনি ব্যাপক বাজেট হ্রাস এবং কড়া নজরদারির সুপারিশ করেন। সমালোচকরা বলেন, তিনি অর্থসঙ্কট সামাল দিতে বাড়তি অর্থ সাহায্য দেওয়ার ব্যাপারে প্রথমদিকে অনীহা প্রকাশ করেন। কিন্তু ইউরোজোনের আর্থিক সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে জার্মানিই পরে সবচেয়ে বড় ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। এবং ইউরোর প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য ইইউর প্রয়াসের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেন এঙ্গেলা মের্কেল। গ্রিস ও স্পেনে বিক্ষোভকারীরা ব্যয় সংকোচন নীতি বলবৎ করার জন্য জার্মানিকে দোষারোপ করে এবং মের্কেলকে হিটলারের সঙ্গে তুলনা করে। কিন্তু এই সঙ্কটের মধ্যে জার্মানির শক্ত অর্থনৈতিক অবস্থান, বেকারত্বের নিচু হার এবং বেশ ভাল মাত্রার রফতানি দেশের ভেতর তাকে জনপ্রিয় করে তোলে। জার্মানির মানুষ ব্যাপকভাবে মনে করে কঠিন সময়ে তিনি দেশের জন্য নিরাপদ একজন নেতা। ২০১৩ সাল নাগাদ ব্যয় সংকোচ নীতি সম্পর্কে তিনি অপেক্ষাকৃত নমনীয় মনোভাব নেন। তিনি বলেন বেকারত্ব সমস্যা মোকাবেলার জন্য ইউরোপের শ্রমবাজার আরও উন্মুক্ত করা দরকার, যাতে তরুণরা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কাজ খোঁজার সুযোগ পান। মের্কেলের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আসে যখন অভিবাসী ও শরণার্থীরা তাদের গন্তব্য হিসেবে বিপুল সংখ্যায় পাড়ি জমায় সফল অর্থনীতির দেশ জার্মানিতে। ২০১৫ সালের জুলাই মাসে, দেখা যায় জার্মানিতে আশ্রয় পাওয়ার জন্য কয়েকবছর ধরে অপেক্ষারত এক শরণার্থী নারীকে চ্যান্সেলার সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ এটাকে ভাল চোখে দেখেনি। তারা মনে করেছে, তিনি সহমর্মিতা দেখাননি। কিন্তু দলে দলে নতুন শরণার্থী আসার স্রোত যখন বাড়তে থাকে তিনি জার্মানির সীমান্ত খুলে দেন। শরণার্থীরা ইইউর যে দেশ দিয়ে ইউরোপে ঢুকছে সেখানে তাদের আশ্রয়াপ্রার্থী হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার ইইউ নীতি তিনি সাময়িকভাবে স্থগিত করে দেন। জাতিসংঘ তার এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গীর ভূয়সী প্রশংসা করে। তিনি টাইম সাময়িকীতে সে বছরের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি নির্বাচিত হন এবং তাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘প্রকারান্তর নেতা’ ঘোষণা করা হয়। লাখ লাখ জার্মান নাগরিক তার এই বার্তায় কণ্ঠ মিলিয়ে বলে ‘আমরা মানিয়ে নেব’। কিন্তু এই উন্মুক্ত-দ্বার নীতিকে সবাই স্বাগত জানায়নি। চরম দক্ষিণপন্থীরা এই নীতির বিরোধিতা করে প্রচারণায় নামে। দেশের পূর্বাঞ্চলে তারা ইসলাম-বিরোধী প্রচারণায় তৎপর হয়ে ওঠে। প্রচারণা পূর্বাঞ্চলের গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ে দেশের অন্যত্রও। এরপর নববর্ষের এক অনুষ্ঠানে অভিবাসীদের দিক থেকে যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং গ্রীষ্মকালে ইসলামী চরমপন্থী গোষ্ঠির হামলা এই প্রচারণাকে শক্ত ভিত্তি দেয়। ধাক্কা খায় মের্কেলের জনপ্রিয়তা। মের্কেল স্পষ্ট করে না বললেও এক রকম স্বীকার করতে বাধ্য হন তিনি ভুল করেছেন। তিনি বলেন, যদি পারতাম ঘড়ির কাঁটা কয়েক বছর পেছনে নিয়ে যেতাম, শরণার্থীর ঢল সামাল দেওয়ার জন্য দেশকে আগে। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সাধারণ নির্বাচনে মের্কেলের সিডিইউ দল খুবই খারাপ ফল করে। ১৯৪৯ সালের পর এটাই ছিল দলের সবচেয়ে শোচনীয় ফল, যা ছিল মের্কেলের প্রতি জনসমর্থন তলানিতে যাওয়ার ইঙ্গিত। এরপর থেকে জোট গঠন ও নির্ভরযোগ্য সরকার গঠন নিয়ে নানা জটিলতার মুখোমুখি হয়েছেন মের্কেল। প্রাদেশিক নির্বাচনগুলোতে দেখা গেছে, ক্রিস্টিয়ান ডেমোক্রাট দলের প্রতি ও দলের নেতাদের প্রতি জনগণের আস্থা ও সমর্থনের অভাব। বেশ কয়েক মাস আগেই মের্কেল ঘোষণা করেছিলেন, দলের প্রধানের পদের জন্য তিনি আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। এবং বর্তমান মেয়াদের পর চ্যান্সেলার পদের জন্যও তিনি আর দাঁড়াবেন না। সমালোচকরা অনেকেই বলেছেন, দলের খারাপ ফল থেকে এটা পরিষ্কার তার আগামীতে জেতার সম্ভাবনা সম্ভবত ক্ষীণ। কিন্তু কারণ যাই হোক ক্রিস্টিয়ান ডেমোক্রাট দলের তিনিই সবচেয়ে বেশি মেয়াদে থাকা দলীয় প্রধান এবং আধুনিক জার্মানিতেও তিনিই সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতাসীন নেতা। সূত্র: বিবিসি একে//

কৃষ্ণসাগরে মহড়া চালাচ্ছে মস্কো

ইউক্রেন ও পশ্চিমাদের সঙ্গে উত্তেজনার মাঝেই কৃষ্ণসাগরে নৌ মহড়া চালাচ্ছে রাশিয়া। মহড়ায় রাশিয়া ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপেযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের মহড়াও চালাচ্ছে।গত ২৫ নভেম্বর ক্রিমিয়ার কাছে আজোভ সাগরের কের্চ প্রণালী থেকে ইউক্রেনের তিনটি জাহাজ আটক করার পর রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেন ও পশ্চিমা কয়েকটি দেশের উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়া কৃষ্ণসাগরে নৌ মহড়া শুরু করল। এ মহড়ায় রুশ সাবমেরিন রোসটোভ-অন-ডন বি-২৩৭ এবং স্টারি অস্কোল বি-২৬২ অংশ নিচ্ছে।যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কীভাবে দ্রুত সেনা মোতায়েন করা হবে মহড়ায় সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া, রুশ যুদ্ধজাহাজকে এস্কর্ট করে নেয়া এবং সাগরে শত্রুর লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার বিষয়েও মহড়া চালানো হয়। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর দিয়েছে। মহড়ায় কৃষ্ণসাগরের সাবমেরিন ইউনিট অংশ নিচ্ছে এবং গভীর সাগরে যুদ্ধের অনুশীলন করছে। তবে এ মহড়া কবে শুরু হয়েছে এবং কবে শেষ হবে সে সম্পর্কে কিছু জানায় নি রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।এসএ/

ভারতীয় সেনাবাহিনী ও বিএসএফের ২ জওয়ান নিহত

পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণের ফলে জম্মু-কাশ্মির সীমান্তে ভারতীয় এক সেনা ও আধাসামরিক বাহিনী বিএসএফের এক জওয়ান নিহত হয়েছেন। দু’টি আলাদা ঘটনায় নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর কুপওয়াড়া ও রাজৌরি জেলায় জওয়ানরা নিহত হন।বৃহস্পতিবার জম্মু-কাশ্মিরের কুপওয়াড়া জেলার মছিল সেক্টরে পাকিস্তানি সেনাদের গুলিবর্ষণে ভারতীয় এক সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা কর্নেল রাজেশ কালিয়া বলেন, ‘পাকিস্তানি সেনারা জম্মু-কাশ্মিরের কুপওয়াড়া জেলার মছিল সেক্টরে বিনাপ্ররোচনায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। সেনাবাহিনী দ্রুত পাকিস্তানি বাহিনীর গোলাগুলির কঠোর জবাব দিয়েছে। উভয়পক্ষের গুলি বিনিময়ের মধ্যে ঘটনায় এক সেনাসদস্যের মৃত্যু হয়েছে।’নিহত সেনাবাহিনীর রাইফেলম্যান রাজেশ কুমারের বাড়ি উত্তর প্রদেশের এটায়।প্রসঙ্গত, কাশ্মির উপত্যকায় নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি ছিল দ্বিতীয়বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা। উরি সেক্টরে গত বুধবার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণের ফলে ভারতীয় এক সেনাসদস্য আহত হয়েছিলেন।অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজৌরি জেলার সুন্দেরবানি সেক্টরে নিয়ন্ত্রণরেখার ওপার থেকে স্নাইপার হামলায় বিএসএফের ১২৬ ব্যাটেলিয়ানের এক জওয়ান নিহত ও অন্য একজন আহত হয়েছেন। কর্মকর্তারা বলছেন, ওই ঘটনায় কনস্টেবল পরানজিৎ বিশ্বাস ও সিপাহী মনসা রাম গুলিবিদ্ধ হলে তাদেরকে দ্রুত হেলিকপ্টারের সাহায্যে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু কনস্টেবল পরানজিৎ বিশ্বাস মারা যান। অন্য জওয়ানের অবস্থা স্থিতিশীল।সূত্র : পার্সটুডেএসএ/

ইয়েমেনের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিন

দারিদ্রপীড়িত ও যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের ওপর থেকে আগ্রাসী সৌদি আরবের অবরোধ তুলে নেয়ার জন্য রিয়াদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। ইয়েমেন যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে সুইডেনে যখন শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে তখন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এ আহ্বান জানালেন।এর পাশাপাশি তিনি ইয়েমেনের জনপ্রিয় হুথি আনসারুল্লাহ আন্দোলন ও পলাতক প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর হাদির অনুগতদের প্রতি আলোচনায় কঠোর অবস্থান না নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।বৃহস্পতিবার এক টুইটার বার্তায় তিনি বলে, ‘স্টকহোমে ইয়েমেন সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে শান্তি আলোচনা শুরুর ঘটনাকে আমি স্বাগত জানাই। দুপক্ষের প্রতি আমি আহ্বান জানাচ্ছি যে, যুদ্ধাবসান ও জনগণের ভোগন্তি দূর করার জন্য তাদের হাতে যে ক্ষমতা আছে তা যেন তারা ব্যবহার করেন। ইয়েমেনিরা আর ধৈর্য ধরতে পারছেন না।’পরে গুতেরেসের এক মুখপাত্র সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ইয়েমেনের হুদাইদা বন্দর উন্মুক্ত রাখার জন্য সবপক্ষের প্রতি জাতিসংঘ মহাসচিব আহ্বান জানিয়েছেন। ইয়েমেনে যে সামান্য পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী প্রবেশ করে তা এই বন্দর দিয়েই আসে। এসএ/  

তেলের লেনদেনে ডলার বাদ দিচ্ছে ইউরোপ

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তেল চুক্তির ক্ষেত্রে ডলার বাদ দিয়ে নিজস্ব মুদ্রা ইউরো ব্যবহার করবে। এসব চুক্তির মূল্যমান হবে ৩০০ বিলিয়ন ইউরোর বেশি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একজন কমিশনারের বরাত দিয়ে ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান আলী আকবর সালেহি এ তথ্য জানিয়েছেন।তিনি বলেন, ‘আমি সম্প্রতি যে খবর পেয়েছি যা একজন ইউরোপীয় কমিশনার নিশ্চিত করেছেন তার ভিত্তিতে বলা যাচ্ছে যে, এখন থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তেল চুক্তির ক্ষেত্রে সব দেশের সঙ্গে মার্কিন ডলার বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ইউরো ব্যবহার করবে।’আলী আকবর সালেহি জানান, এর আগে ইউরোপ অন্য দেশ থেকে তেল নেয়ার ক্ষেত্রে শতকরা ৮৫ ভাগ দাম পরিশোধ করত ডলারে কিন্তু এখন থেকে সে পদ্ধতি বাদ দিয়ে সব অর্থ পরিশোধ করবে ইউরোর মাধ্যমে।যদি এই পদ্ধতি কার্যকর হয় তাহলে মার্কিন ডলার সারা বিশ্বের অনেকটা একঘরে হয়ে পড়বে এবং বর্তমানে ডলার ব্যবহার করে আমেরিকা সারা বিশ্বে যে প্রভাব-প্রতিপত্তি তৈরি করেছে তা অনেকটাই নস্যাৎ হবে।এর একদিন আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডলারের একক আধিপত্য কমানো এবং ইউরোর ভূমিকা বিশেষ করে তেল সংক্রান্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে ইউরোর ব্যবহার জোরদার করার জন্য তাদের পরিকল্পনা তুলে ধরে। এসব দেশ ডলারের আধিপত্যে দিন দিন আমেরিকার ওপর হতাশ হয়ে পড়ছে।সূত্র : পার্সটুডেএসএ/

জাপান উপকূলে মার্কিন বিমানের সংঘর্ষ : ৫ মেরিন নিখোঁজ

জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে আমেরিকার দুটি বিমানের সংঘর্ষে অন্তত ৫ মেরিন সেনা নিখোঁজ হয়েছে। বৃহস্পতিবার একটি রিফুয়েলিং বিমান ও একটি জঙ্গিবিমানের মধ্যে সংঘর্ষে ওই ৫ সেনা নিখোঁজ হয়। বিমান দুটি সাগরের বুকে ভেঙে পড়েছে বলে জাপান ও আমেরিকার কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়া সাত মেরিন সেনার মধ্যে দুজনকে পাওয়া গেছে। সংঘর্ষে জড়িত এফ/এ-১৮ হর্নেট বিমান এবং কেসি-১৩০ হারকিউলেস বিমানের আরোহী ছিলেন তারা। উদ্ধার করা এক সেনার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে তবে দ্বিতীয় জনের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলে নি জাপানি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মার্কিন মেরিন কোরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাপান উপকূল থেকে ৩২০ কিলোমিটার দূরে স্থানীয় সময় বুধরাত রাত ২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিমান দুর্ঘটনার পর ছয়টি হেলিকপ্টার ও তিনটি জাহাজ অনুসন্ধান তৎপরতায় যোগ দেয়। বিমান দুর্ঘটনার বিষয়ে জাপান ও আমেরিকা পরস্পরের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য বিনিময় করছে বলে জানিয়েছেন জাপানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাকেশি ইয়োয়াইয়া।সূত্র : পার্সটুডেএসএ/

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি