ইবিতে অস্থায়ী ২৬৮ কর্মচারীর বেতন বন্ধ, চাকরি হারানোর শঙ্কা
প্রকাশিত : ১৫:৪৯, ৫ নভেম্বর ২০২৬
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) দীর্ঘ ১০ থেকে ২০ বছর ধরে কাজ করছেন অস্থায়ী কর্মচারীরা। তাঁদের কেউ থোক বরাদ্দে, কেউ দৈনিক মজুরিতে, আবার কেউ পোষ্য কোটায় অস্থায়ী নিয়োগ পেয়েছেন। দীর্ঘদিন কাজ করেও স্থায়ী হয়নি চাকরি। এবার স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে তাদের বেতন। এর মধ্যে চাকরি হারানোর শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
টানা তিন মাস বেতন না পেয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তাঁরা। পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অনেকেই।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, ইউজিসির নির্দেশনার ভিত্তিতে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে তাঁদের বেতন বন্ধ করা হয়েছে। তবে কর্মচারীদের দাবি, ইউজিসির এমন নির্দেশনা আগেও ছিল। বিগত কোনো প্রশাসন এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়নি।
তবে শিগগিরই বকেয়া বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
জানা যায়, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে টেকনিক্যাল ও নন-টেকনিক্যাল মিলিয়ে ২৬৮ জন অস্থায়ী কর্মচারী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৬২ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী থোক বরাদ্দের ভিত্তিতে নিয়োজিত। তাঁদের অধিকাংশই পোষ্য কোটায় নিয়োগ পেয়েছেন। অন্য প্রায় ২০০ জন দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করছেন।
বর্তমানে এসব কর্মচারীর পেছনে প্রতি মাসে প্রায় ২১ লাখ টাকা ব্যয় হয়। তাঁদের বেতন ইউজিসির বিশেষ বরাদ্দ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন তহবিল থেকে পরিশোধ করা হতো। তবে বর্তমানে অর্থসংকটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ঋণ নিয়ে তাঁদের বেতন পরিশোধ করছে। বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব কর্মচারীর বেতন ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করেছে।
সর্বশেষ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিন্ডিকেটের অনুমোদনে নন-টেকনিক্যাল কর্মচারীদের মাসিক বেতন ১০ হাজার এবং টেকনিক্যাল কর্মচারীদের ১১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২৬৮ জন অস্থায়ী কর্মচারীর জন্য নতুন করে অর্থ বরাদ্দ না দেওয়া এবং তাঁদের আর না রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে ইউজিসি। সংস্থাটির চিঠির ভিত্তিতে সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভায় তাঁদের বেতন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি জনবল সংকটের বিষয়ে নতুন করে নোট দিতে বলেছে ইউজিসি। প্রশাসন সে অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে।
তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও দপ্তর চাইলে বর্তমানে কর্মরত এসব কর্মচারীকে কাজে রাখতে পারবে। সেক্ষেত্রে তাঁদের বেতনের দায়ভার সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও দপ্তরকেই বহন করতে হবে।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘ইউজিসি টাকা দিচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে টাকা দিতে হচ্ছে। এ কারণে বকেয়া তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় নিজে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। ইউজিসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসে প্রায় ২১ লাখ টাকা প্রয়োজন হচ্ছে। এই টাকার উৎস কোথায়? আমি কীভাবে এই ব্যয় নির্বাহ করব?’
এএইচ
আরও পড়ুন










