ঢাকা, বুধবার   ২৪ জুলাই ২০১৯, || শ্রাবণ ৯ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

এরশাদের অবর্তমানে জাতীয় পার্টির কী হবে?

প্রকাশিত : ১৩:২৪ ১৬ মে ২০১৯ | আপডেট: ১৪:৫০ ১৬ মে ২০১৯

দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় পার্টিতে চলছে অস্থিরতা। আলোচনা আর সমালোচনা যেন কোনোভাবেই পিছু ছাড়ছে না। দলীয় পদ পদবির বিতর্ক আর পদত্যাগ নিয়ে চরম অস্থিরতায় রয়েছে দলটি।

এই অস্থিরতা আর মেরুকরণের চাবি সব সময় একজনেরই হাতে ছিল। তিনি হচ্ছেন পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। দলের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী এরশাদ একাই সব সিদ্ধান্ত দেন। আবার একাই তা প্রত্যাহার করেন। অন্য নেতারা হয় দর্শক আর না হয় সমর্থক।

কিন্তু বর্তমানে তার যা অবস্থা তাতে সিদ্ধান্ত দেয়া তো দূরে থাক নিজেই নিজের দেখভাল করতে পারেন না। ভীষণ অসুস্থ হয়ে বিছানাগত জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা এইচএম এরশাদ।

তিনি ভালোভাবে কথা বলতে পারেন না। কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যেতে পারেন না। নিজে চলাফেরা করতে পারেন না। এ অবস্থায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

শরীরের এমন অবস্থায় ভেঙে পড়েছেন এরশাদ। এতটাই ভেঙে পড়েছেন যে নিজের জন্য তিনি কবর দেখতে তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে দায়িত্ব দিয়েছেন।

জানা গেছে, রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় কবর খোঁজার জন্য ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে পরামর্শ দিয়েছেন এরশাদ। এ নিয়ে তারা কবরের জন্য একাধিক সম্ভাব্য স্থান সরেজমিনে দেখেছেন।

কবরের সন্ধানে যাওয়া কয়েকজন জানান, এরশাদের ইচ্ছা মৃত্যুর পর যেন ঢাকায় তাকে সমাহিত করা হয়। সেক্ষেত্রে কবরের কাছে যেন মসজিদ, মাদ্রাসা থাকে। এ রকম উপযুক্ত স্থান পাওয়া না গেলে রংপুরে সমাহিত করার কথা জানিয়ে রেখেছেন তিনি।

জানা যায়, এরশাদের ইচ্ছা অনুযায়ী ইতিমধ্যে বনানী কবরস্থানে স্থায়ী জায়গা কেনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে রাজধানীর বারিধারায় আমেরিকান সেন্টারের কয়েকশ গজ উত্তরে একটি মাদ্রাসা ও এতিম খানার কাছে জায়গা দেখা হয়েছে। এছাড়া পূর্বাচলের কাছেও একটি জায়গা দেখে এসেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে কোনোটিই এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

এ অবস্থায় পার্টির হাল কে ধরবেন তা নিয়ে অনেকদিন ধরেই চলে নানা বিতর্ক। অবশেষে নানা জল্পনা-কল্পনার পর সেটির অবসান হয়। তার আপন ভাই জিএম কাদেরকেই দায়িত্ব দেয়া হয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের। তার ওপরেই আস্থা রাখেন এরশাদ।

জি এম কাদেরকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার পর সপ্তাহ না ঘুরতেই দলটির সভাপতিমণ্ডলীতে আটজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রেসিডিয়াম সদস্য হতে না পেরে ক্ষোভে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদ থেকে পদত্যাগ করেন লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি।

এক সাক্ষাতকারে এরশাদকে নিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, এরশাদ বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রকাণ্ড এক বটগাছের মতো। তিনি টানা ৯ বছর দেশ শাসন করেছেন। তার আমলেই দেশের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্ননের সূচনা হয়, আজকের উপজেলা পদ্ধতি তিনি চালু করেছিলেন।

তিনি বলেন, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে তিনিই প্রথম বাস্তব কর্মসূচি গ্রহণ করেন। এখনো গ্রামের মানুষের কাছে এরশাদ এক জনপ্রিয় নাম। ক্ষমতা ছাড়ার পরও তিনি জাতীয় রাজনীতিতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। রাজনীতির অনেক শূন্যতা তিনি পূরণ করেছেন। জাতীয় পার্টি তার সুশীতল ছায়ায় টিকে আছে নিজস্ব স্বকীয়তা নিয়ে।

এরশাদের অবর্তমানে জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ কী হবে এমন প্রশ্নের জবাবে জিএম কাদের বলেন, এরশাদের অবর্তমানে জাতীয় পার্টিতে এক ধরনের শূন্যতার সৃষ্টি হবে, জাতীয় রাজনীতিতেও সেটা হবে। জাতীয় পার্টিতে এরশাদের শূন্যতা আমাকে বা এককভাবে অন্য কাউকে দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে আমরা একসঙ্গে কাজ করলে জাতীয় পার্টিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি