ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৭ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারের সেই  রিসোর্ট থেকে ১০ মরদেহ উদ্ধার, স্বজনদের কাছে হস্তান্তর

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৯:৩১, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৯:৩৩, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

কক্সবাজারের গত কয়েক দিন আগে অগ্নিকাণ্ডে উখিয়ার পাটুয়ারটেক সৈকতে কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্টে আরও একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের তল্লাশিতে রিসোর্টের দ্বিতীয় তলার কার্নিশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এটি অগ্নিকাণ্ডের পর নিখোঁজ থাকা স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজ নাসরিন আক্তার নামের এক নারীকে খুঁজতে আজ আবার রিসোর্টে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এটি নাসরিন আক্তারের কি না, তা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নাসরিন আক্তার সাভারের আশুলিয়ায় স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। দুই বান্ধবীর সঙ্গে বেড়াতে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন তিনি। তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল ঢাকা জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি।

টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এর আগে উদ্ধার হওয়া ১০টি মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেয় পুলিশ। মরদেহের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ল্যাবে পাঠানো হয়। সেখানে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিমন ঘোষ বলেন, শনাক্ত হওয়া ১০ জনের মধ্যে একটি পরিবারের ছয়জন এবং অন্য একটি পরিবারের চারজন রয়েছেন। দুটি পরিবারই ঢাকায় বসবাস করত।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ছয়জন হলে, মৌলিতা মেহজাবিন (১৯), লায়লা জাহান (২৫), ইসরাত জাহান (২৭), ফারিয়া কবির (৩৩), ফারিয়ার ছয় বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর এবং ফারিয়ার ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামি (২৪)। তারা ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায় বসবাস করতেন।

অন্য পরিবারের নিহত সদস্যরা হলেন- ঢাকার শ্যামলীর গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাদের দুই মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬)।

ঢাকার খিলগাঁও মুগদা এলাকার আমিনুল ইসলাম খান নিহত ছয়জনের মরদেহ গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে চারজন তার ভাগনি, একজন ভাগনে ও একজন নাতি।

মরদেহ গ্রহণের পর আমিনুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমাদের পরিবারের ছয়জন এবং যশোরের আরেক পরিবারের চারজনের মরদেহ বুঝিয়ে দিয়েছে প্রশাসন। আমরা মরদেহ নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বজনদের মরদেহ পেলাম ১০ দিন পর। আমরা চাই, এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হোক। যাদের অবহেলা ও গাফিলতির কারণে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হোক।’

অন্য পরিবারের নিহত চারজনের মরদেহ গ্রহণ করেন নাহিদুর রহমানের বড় ভাই যশোরের মনিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের জাহিদুর রহমান।

মরদেহ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান ও পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

জেলা প্রশাসক বলেন, নতুন করে উদ্ধার হওয়া মরদেহটিরও শিগগিরই পরিচয় শনাক্ত করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান বলেন, রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত চলছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার ধারায় কোনো পুলিশ কর্মকর্তার গাফিলতি পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গত ১৭ অক্টোবর সকালে উখিয়ার পাটুয়ারটেক সৈকতে টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১০ জন নিহত হন। আগুনে মরদেহগুলো পুড়ে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

এমএইচ 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি