ঢাকা, শনিবার   ০৬ জুন ২০২০, || জ্যৈষ্ঠ ২৩ ১৪২৭

Ekushey Television Ltd.

কখন কি খাবেন না

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০১:৪৩ ১১ মে ২০২০

ক্যান্সারের জন্য দায়ী যে ৮ খাবার
ক্যান্সারের সঙ্গে অনেক কিছু জড়িত থাকলেও আট ধরনের খাবার থেকে যে ক্যান্সার হতে পারে তা প্রমাণিত। টিউমার বিশেষজ্ঞরা তাই এই বিষয়ে সবসময় সাবধান করে আসছেন।

স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট স্টেপটুহেল্থ এর দেওয়া তথ্য মতে, ক্যান্সার হওয়ার কারণগুলোর মধ্যে জিনগত সমস্যা, জীবনযাপন, ধূমপান, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম, কিছু নির্দিষ্ট সংক্রমণ, বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদানের কারণে হওয়া বিভিন্ন পরিবেশগত সমস্যা অন্যতম।

ভুল খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাব- ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে ভরসার কথা হল বিষয়টা আপনার নিয়ন্ত্রণে।

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে ধূমপান বর্জন করা ছাড়াও আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা উচিত। যেমন- স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করা, পুষ্টিকর খাবার, বিশেষত উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাবার খাওয়া ইত্যাদি।

 ‘ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার রিসার্চ ফান্ড’য়ের মতে, আমেরিকাতে ২০ শতাংশ ক্যান্সার রোগীরই রোগাক্রান্ত হওয়ার কারণ শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, মেদ, অতিরিক্ত মদ্যপান ও অপুষ্টি। সবগুলো কারণই মোকাবেলা করা সম্ভব, তাই খাদ্যাভ্যাস থেকে বাদ দিতে কিছু খাবার।

প্রক্রিয়াজাত ও কৃত্রিম চিনি:
শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত চিনি ক্যান্সার কোষের প্রিয় খাবারগুলো মধ্যে অন্যতম। অর্থাৎ এটি ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিতে সহায়ক। মেডিসিন বিভাগে নোবেল পুরষ্কার প্রাপ্ত জার্মান চিকিৎসক ওটো ওয়ারবার্গ ১৯৩১ সালে প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন যে টিউমার ও ক্যান্সার কোষ বেড়ে উঠতে উচ্চ মাত্রায় ‘ফ্রুক্টোজ’যুক্ত চিনির উপর নির্ভরশীল।

তাই প্রক্রিয়াজাত কিংবা কৃত্রিম চিনির পরিবর্তে মধু, গুড়, ম্যাপল সিরাপ ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন।

প্রক্রিয়াজাত মাংস:
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইউনিভার্সিটি অফ হাওয়াই’য়ের করা এক গবেষণা অনুযায়ী, প্রক্রিয়াজাত মাংস অগ্ন্যাশয় ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় প্রায় ৬৭ শতাংশ। এতে থাকে উচ্চমাত্রায় রাসায়নিক পদার্থ ও খাদ্য সংরক্ষক। আরও থাকে নাইট্রেইট, যা এর স্বাদ বাড়ায়। তবে ‘কারসিনোজেন’ ধরনের বিষ হিসেবে এর পরিচিত আছে।

‘স্মোকড মিট’ বা কাঠের ধোঁয়ার প্রস্তুতকৃত মাংস খাওয়াও স্বাস্থ্যের জন্য সুবিধার নয়, কারণ এই ধরনের খাবার তৈরির সময় মাংসে ‘টার’ অর্থাৎ ধোঁয়া থেকে সৃষ্টি বিষাক্ত পদার্থ শোষণ করে নেয়।

তাই খেতে হবে চর্বিহীন মাংস অথবা মাংস ঘরেই রাঁধতে হবে।

চাষ করা মাছ:
বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা মাছ যেমন- স্যামন, অত্যন্ত জনাকীর্ণ পরিবেশে বড় হয়। মাছ চাষের ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও পরজীবির আক্রমণ থেকে বাঁচতে ব্যবহার হয় বিভিন্ন জীবণুরোধকারী ওষুধ, কীটনাষক ও অন্যান্য ‘কারসিনোগেনিক’ রাসায়নিক উপাদান। প্রাকৃতিক মাছের তুলনায় চাষ করা মাছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণও কম থাকে। তাই যতটা সম্ভব নদী বা সমুদ্রের মাছ খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

আচার ও ধোঁয়ার প্রস্তুতকৃত খাবার:

 এসব খাবারে সাধারণত খাদ্য সংরক্ষক উপাদান যেমন, ‘নাইট্রেইট’ থাকে। দীর্ঘদিন এসব খাবার খেলে ওই খাদ্য সংরক্ষক উপাদানগুলো শরীরে জমা হতে থাকে। ফলে একসময় এই বিষাক্ত উপাদানগুলো কোষের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে এবং ক্রমেই ক্যান্সারের দিকে এগিয়ে যায়।

আবার ধোঁয়ার প্রস্তুতকৃত খাবার উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করা হলে এতে থাকা ‘নাইট্রেইট’ পরিণত হয় আরও বেশি ক্ষতিকর ‘নাইট্রাইটস’য়ে। তাই এ ধরনের খাবার যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। 

হাইড্রোজেনেইটেড অয়েল বা ট্রান্স-ফ্যাট:
মানুষের তৈরি এই উপাদান রাসায়নিক গঠন পরিবর্তন করে দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত করা হয়। আবার এর গন্ধ ঢাকতে ও স্বাদ বাড়াতে ব্যবহার করা হয় রাসায়নিক পদার্থ।

গবেষকরা প্রমাণ করেছেন যে, বাণিজ্যিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করা খাবারে থাকা ‘হাইড্রোজেনেইটেড’ ও আংশিক ‘হাইড্রোজেনেইটেড’ উদ্ভিজ্জ তেল স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় দ্বিগুণ। তাই এর পরিবর্তে ব্যবহার করতে হবে ‘এক্সট্রা-ভার্জিন অলিভ অয়েল’, ‘এক্সট্রা-ভার্জিন কোকোনাট অয়েল’ কিংবা ‘পাম অয়েল’

আলুর চিপস:
 ‘হাইড্রোজেনেইটেড ভেজিটেবল অয়েল’য়ে ভেজে তৈরি করা হয় এই চিপস, সঙ্গে থাকে অতিরিক্ত লবণ। ‘নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিন’য়ে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, প্রতিদিন মাত্র ১ আউন্স চিপস খেলেই বছরে গড়ে প্রায় দুই পাউন্ড ওজন বাড়তে পারে। পাশাপাশি এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ট্রান্স-ফ্যাটও থাকে, যা কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়। আর লবণে থাকা সোডিয়াম বাড়ায় রক্তচাপ। আলুর চিপসকে মচমচে বানানোর জন্য উচ্চ তাপমাত্রায় ভাজা হয়। এতে ‘অ্যাক্রিলামাইড’নামক ‘কারসিনোজেন’ ধরনের বিষাক্ত উপাদান তৈরি হয়। যা সাধারণত সিগারেটে মেলে।

এজন্য দোকান থেকে চিপস কেনার পরিবর্তে ঘরেই চিপস বানিয়ে খাওয়া অভ্যাস করা ভালো।  

মাইক্রোওয়েভ পপকর্ন:
খাওয়া সহজ এবং তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর একটি স্ন্যাকস পপকর্ন। তবে, ঝামেলা হল এর প্যাকেটে। বেশিরভাগ মাইক্রোওয়েভ পপকর্নের প্যাকেটের গায়ে থাকে ‘পারফ্লুরোঅক্টানোইক’ অ্যাসিড নামক রাসায়নিক উপাদান। যা স্তন, বৃক্ক, মুত্রথলি, কোলোরেক্টাল, প্রোস্টেট, ফুসফুস, থাইরয়েড, লিউকেমিয়া এবং লিম্ফোমা ক্যান্সারের জন্য দায়ী।

পরিশোধিত সাদা আটা:
 আটা পরিশোধনের সময় এর প্রায় সকল পুষ্টিগুণই নষ্ট হয়ে যায়। পরে একে ক্লোরিন গ্যাসের সাহায্যে ব্লিচ করা হয় ক্রেতার চোখে আকর্ষণীয় করার জন্য। এই আটার গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের মাত্রাও অনেক বেশি। অর্থাৎ শরীরে পুষ্টি সরবরাহ ছাড়াই ইনসুলিনের মাত্রা হুট করে বাড়িয়ে দিতে পারে।

তাই পরিশোধিত সাদা আটার পরিবর্তে গম, কাঠবাদাম বা বার্লির আটা খাওয়া ভালো।


হৃদরোগীদের যে ১০ খাবার খাওয়া নিষেধ
হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে প্রতিবছর দেড় কোটির বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করে। আর এই হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার বড় কারণ হচ্ছে জীপন যাপনে শৃংখলা না থাকা।

আমরা প্রতিনিয়ত যা আহার করি, তাও অনেক সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণ হতে পারে। এমন কিছু খাবার রয়েছে যা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়।

নিচে এমন ১০টি খাবারের নাম দেয়া হলো যা হৃদরোগীদের এড়িয়ে চলা অবশ্য কর্তব্য।

১. কোনও ধরনের প্রাণীজ খাবার (গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি, ডিম, মাছ)।
২. দুধ ও দুধের তৈরি খাবার এবং যেকোনও ধরনের মিষ্টান্ন। দুধ চা দুধ কফি এর অন্তর্ভুক্ত।
৩. সবধরনের তৈলাক্ত খাবার।
৪. রান্নায় অতিরিক্ত লবণ ব্যবহার।
৫. দুধের সর, ঘি, মাখন, ডালডা, মার্জারিন, নারিকেল প্রভৃতি।
৬. চিনি ও চিনি দিয়ে প্রস্তুত করা খাবার।
৭. ফাস্ট ফুড, কেক, পুডিং, বার্গার, স্যান্ডউইচ, পিৎজা, পেটিস, পরটা, সিঙ্গারা, পুরি, চপ, কাবাব, পেঁয়াজু, মোগলাই ও অন্যান্য তৈলাক্ত খাবার।
৮. প্যাকেটজাত খাবার যেমন-বিস্কুট, চানাচুর, চকোলেট, ক্যাডবেরি, নুডুলস, জুস, জ্যাম, জেলী।
৯. সফট ড্রিংকস, এনার্জি ড্রিংকস, অ্যালকোহল।
১০. সিগারেট, চুরুট, তামাক, নস্যি, গুলসহ যাবতীয় নেশাদ্রব্য।

 যে ৪ খাবার হাড় ক্ষয় করে


দেহের গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো হচ্ছে হাড়। হাড় দুর্বল হলে কিংবা ক্ষয় হয়ে গেলে মানবদেহ ভার বহনে সম্ভব হয় না। দেখা যায়, কিছু খাবার দেহের হাড় ক্ষয়ের জন্য বিশেষভাবে দায়ী। সেই খাবারগুলো আপনার অজান্তেই আপনি খাচ্ছেন, এতে হাড় ক্রমশই দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।

তাই আজই জেনে নিন- কোন খাবারগুলো দেহের হাড়ের ক্ষতি করছে-

১) অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার
অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার হাড়ের থেকে ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মিনারেল গুলো শুষে নেয়। মিনারেল ও ক্যালসিয়ামের ঘাটতির ফলে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং হাড় ক্ষয় বেড়ে যায়। তাই খাবার তালিকা থেকে চিনিযুক্ত খাবার কমিয়ে ফেলে বেশি করে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যুক্ত খাবার যেমন ফল-মূল রাখা উচিত।

২) অতিরিক্ত লবণ
অতিরিক্ত লবণ হাড়ের থেকে ক্যালসিয়াম শুষে নেয় এবং দেহের হাড়কে দুর্বল করে ফেলে। পুষ্টিবিদগণের মতে, প্রতি ২৩০০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম গ্রহণ করলে শরীর থেকে ৪০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম হারাতে হয়। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যে মেনোপজের পর যেসব নারীরা অধিক লবণযুক্ত খাবার গ্রহণ করেছেন তাদের হাড় ক্ষয়ের পরিমাণ অন্যান্যদের তুলনায় বেশি। তাদের হাড়ে মিনারেলের পরিমাণও কম পাওয়া গেছে।

৩) অতিরিক্ত ক্যাফেইন
হাড়ের জন্য আরেকটি ক্ষতিকর খাবার হলো ক্যাফেইন। আমরা নিয়মিত চা ও কফি পান করি। এই চা-কফি থেকেই প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে ক্যাফেইন গ্রহণ করে শরীর। ক্যাফেইনও লবণের মতো হাড়ের থেকে ক্যালসিয়াম শুষে ফেলে। প্রতি ১০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন (মাঝারি এক মগ চা/কফি) গ্রহণ করলে হাড় থেকে ৬ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম কমে যায়। তাই নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি চা-কফি পান না করাই ভালো।

৪) অ্যালকোহল
অ্যালকোহল হাড়ের উপকারী উপাদানগুলোকে নষ্ট করে ফেলে। হাড়ের নতুন কোষ গঠনেও বাধা দেয় অ্যালকোহল। নতুন হাড় গঠন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হয়। তাই অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ করলে ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগাতেও সমস্যা হয়।

 

যে ৯টি খাবার মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকারক 

কী ধরনের খাবার খেলে বুদ্ধি বাড়ে, তা আমরা অনেকেই শুনেছি; কিন্তু কী খাবার খেলে বুদ্ধি কমে সেটা কি আমরা জানি? জেনে নিন এমন কিছু খাবারের নাম, যা কমিয়ে দিতে পারে আপনার মস্তিস্কের ক্ষমতা।

চিনি
অতিরিক্ত চিনি খাওয়া যে স্বাস্থ্যকর নয়, তা মোটামুটি সবারই জানা। এটা যে মস্তিষ্কের ক্ষতির কারণ হতে পারে, তা জানা গেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। গবেষকরা ধারণা করছেন, ফলের শর্করা (ফ্রুকটোস) সমৃদ্ধ খাবার মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে বিশেষ কিছু ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড ফ্রুকটোসের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মস্তিষ্ককে রক্ষা করে। এ গবেষণা অবশ্য এখনও প্রাথমিক অবস্থায় রয়েছে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সাধারণ পরামর্শ হল, প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় চিনির পরিমাণ কমিয়ে ওয়ালনাট, স্যামন, ফ্ল্যাক্স সিড ও সয়াবিনের মতো ওমেগা ৩ সমৃদ্ধ খাবার যুক্ত করুন।

ডায়েট সোডা
চিনির ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে কৃত্রিম চিনি খাওয়া যারা শুরু করেছেন, তাদের হতাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এতে ভালো ফলাফল পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ২০১৭ সালে চার হাজার ৩০০ ব্যক্তির খাদ্যাভাসের ওপর চালানো এক গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয় স্ট্রোক সাময়িকীতে। এতে দেখা যায়, ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে যারা কৃত্রিম চিনি দিয়ে তৈরি পানীয় গ্রহণ করেছেন, অন্যদের তুলনায় তাদের স্মৃতিভ্রমের ঘটনা বেশি ঘটেছে।

বেকড খাবার
কেবল চিনিই যে ক্ষতিকর তা নয়; কেক, চকলেটে থাকা ট্রান্স ফ্যাটও সমান ক্ষতিকর। ২০১৫ সালে প্রাপ্তবয়স্কদের এক ধরনের মেমরি টাস্ক নেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীদের কয়েকটি শব্দ দেখানো হয় এবং পরে তা বলতে বলা হয়। দেখা যায়, যাদের প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় ট্রান্স ফ্যাট বেশি ছিল, তাদের স্মৃতিশক্তি ছিল দুর্বল।

রেড মিট ও বাটার
হার্ভার্ডের এক গবেষণায় দেখা যায়, খাদ্যতালিকায় ‘খারাপ’ স্যাচুরেটেড ফ্যাট (রেড মিট বা লাল মাংস, বাটারে থাকে) থাকলে মস্তিষ্কের ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। গড়ে প্রায় চার বছর ধরে ৬ হাজার নারীরওপর এ গবেষণা চালানো হয়। এতে দেখা যায়, যেসব নারী মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট (অলিভ ওয়েল, অ্যাভোকাডোর মতো খাবার থেকে পাওয়া যায়) বেশি গ্রহণ করেছিলেন, স্মৃতিশক্তি তাদেরই ভালো।

জাঙ্ক ফুড
২০১১ সালে যুক্তরাজ্যে প্রায় ৪ হাজার শিশুর ওপর গবেষণা চালিয়ে দেখা যায়, তিন বছর বয়স পর্যন্ত যেসব শিশু চিপস, পিজ্জাসহ অন্যান্য জাঙ্ক ফুড বেশি খেয়েছে, সুষম খাদ্য গ্রহণকারী শিশুদের তুলনায় তাদের সাধারণ জ্ঞান (আইকিউ) কিছুটা কম।

চুইংগাম
চুইংগাম চিবালে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ে না কমে? এ নিয়ে মিশ্র মতামত রয়েছে। যুক্তরাজ্যের এক্সপেরিমেন্টাল সাইকোলজি জার্নালে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানসিক কোনো পরীক্ষার সময় চুইংগাম চিবালে অংশগ্রহণকারীদের স্মৃতিশক্তি কিছু কমতে পারে। অথচ এর আগের গবেষণায় চুইংগাম চিবানোর সাথে মানসিক কার্যক্রমের ইতিবাচক সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়।

কম শর্করার ডায়েট
ওজন কমানো বিষয়টি এলে সর্বপ্রথমেই আমরা শর্করা বাদ দিয়ে দেই। আসলে শর্করা খুব খারাপ নয়। মস্তিষ্কের কার্যকারিতাসহ শরীরের আরো কিছু প্রয়োজন মেটায় এটি। ২২-৫৫ বছর বয়সী ১৯ জন নারীর ওপর এক গবেষণা চালিয়ে টাফট ইউনিভার্সিটি দেখেছে, খাবার থেকে শর্করা বাদ দেওয়ায় অংশগ্রহণকারীদের জ্ঞানগত দক্ষতা (বিশেষ করে স্মৃতিশক্তি সম্পর্কিত পরীক্ষা) কিছুটা কমে গেছে।

লবণ
২০১২ সালের কানাডায় পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, যারা বেশি মাত্রায় লবণ খায়, অথচ শরীরচর্চা করে না, অন্যদের তুলনায় দ্রুত তাদের জ্ঞানের স্তর কমে গেছে।

মদ
এক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক যেসব ব্যক্তি দৈনিক সাত থেকে ১০ বার মদ পান করেন, তাদের মস্তিষ্ক পুরনো স্মৃতি কম মনে রাখতে পারে।


অবাক করা ১০টি বিষাক্ত খাবার!
এমন কিছু খাবার আছে যা আমরা প্রতিনিয়ত খাই। কিন্তু অনেক সময় এ খাবারগুলো মৃত্যুর কারণ  হতে পারে। তবে একটু সচেতন হলে তা পরিহার করা সম্ভব। নিম্নে আপনাদের সুবিধার্থে এরকম ১০ টি খাবারের নাম উল্লেখ করা হল।

বন্য মাশরুম
মাশরুম অনেকেরই পছন্দের খাবার, বেশ উপাদেয়। ছোটবেলায় আমরা বনে জঙ্গলে বিভিন্ন জায়গায় ব্যাঙের ছাতা গজিয়ে উঠতে দেখতাম, বড় হয়ে জেনেছি এগুলোকে মাশরুম বলে। তাই বলে, মাশরুম ভেবে ব্যাঙের ছাতা যেন খেতে যাবেন না ভুলেও। ব্যাঙের ছাতা আর মাশরুম সমার্থক হলেও, কিছুটা ভিন্নতা কিন্তু রয়েই গেছে। ব্যাঙের ছাতা বলতে আমরা যে বন্য মাশরুমকে বুঝি, তা কিন্তু উপাদেয় নয়। কিছু বন্য মাশরুম তো খুবই ক্ষতিকর। ক্ষেত্রবিশেষে মৃত্যুর কারণও হতে পারে। বন্য মাশরুম মানুষের শরীরে অভ্যন্তরীণ ব্যথা বেদনার সৃষ্টি করতে পারে, বমির উদ্রেক করতে পারে, এমনকি হার্ট, লিভার এবং কিডনি নষ্ট করে দিতে পারে। শুধু মাশরুমই নয় যে কোনও বন্য কিছু খাবার আগে বিশেষ ধরণের সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে।

আপেল
প্রবাদে আছে প্রতিদিন একটি আপেল খেলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে না। আপেলে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে এবং আমাদের শরীর ভাল রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু আপেলের বিচিতে হাইড্রোজেন সায়ানাইড নামক বিষ থাকে। তাই অধিক পরিমাণ বিচি খেয়ে ফেললে বিপদ হতে পারে।

বিষাক্ত ব্যাঙের ছাতা
সারা পৃথিবীতেই ব্যাঙের ছাতা খাওয়ার চল আছে। কিন্তু সব ধরনের ছাতা খাওয়া যায় না। অনেক ব্যাঙের ছাতাই হয় বিষাক্ত। ‘আমানিতা ফ্যালোয়ডেস’ তেমনই একপ্রকার ছত্রাক। কেউ কেউ যাকে ‘মৃত্যু ছত্রাক’ও বলেন। ঠিকমতো রান্না না করে এই ছত্রাক খেলে মৃত্যুও হতে পারে। কিডনি এবং লিভার নষ্ট করে দেয় এই ছত্রাক।

কাজুবাদাম 
মিষ্টি কাজুবাদাম ও তেতো কাজুবাদাম এই দুই ধরণের কাজুবাদাম পাওয়া যায়। তুলনামূলকভাবে তেতো কাজুবাদাম এ প্রচুর হাইড্রোজেন সায়ানাইড থাকে। সাত থেকে দশটা তেতো কাজু বাদাম কাঁচা খেলে বড়দের সমস্যা হতে পারে এবং ছোটদের জন্য প্রাণনাশক হতে পারে। কিছু কিছু দেশ এই তেতো বাদাম বিক্রি করা অবৈধ ঘোষণা করেছ, যেমন- নিউজিল্যান্ড। আমেরিকাতে কাঁচা কাজু বাদাম বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

চেরি
চেরি জনপ্রিয় একটি ফল। চোখ ধাঁধানো হলকা টক মিষ্টি ফল চেরি। আকৃতি কিছুটা অরবড়ই-এর মত। দেহ সামান্য খাঁচযুক্ত। কাঁচা অবস্থায় সবুজ, পরে হালকা হলুদ এবং সর্বশেষ গাঢ় লাল রং ধারণ করে। গাছের আকৃতি মধ্যম মানের। চেরি হচ্ছে `প্রুনাস` গণের অন্তর্ভুক্ত একটি ফল। চেরি কাঁচা বা রান্না করেও খাওয়া হয় এবং মদ তৈরিতে ব্যবহার হয়। চেরির পাতা এবং বীজে বিষাক্ত উপাদান আছে।যখন চেরির বীজকে চুষা বা চূর্ণ করা হয় তখন প্রুসিক এসিড (হাইড্রোজেন সায়ানাইড) উৎপন্ন হয়। যখন ই চেরি খাবেন এর বীচি চুষে খাবেন না। বরই এবং পীচ ফলের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

কামরাঙ্গা
অক্সালেট সমৃদ্ধ ভিটামিন সি জাতীয় ফল কামরাঙ্গা। এটি সাধারণত চুল, ত্বক, নখ ও দাঁত উজ্জ্বল করে। মুখে ব্রন হওয়া আটকায়। কামরাঙা কোনোভাবেই খালি পেটে খাওয়া যাবে না। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কামরাঙ্গার মধ্যে থাকা নিউরোটক্সিন স্বাভাবিকভাবে কিডনির কোনও ক্ষতি করে না। কিন্তু কারও কিডনি খারাপ হলে সেই বিষ কিডনির আরও ক্ষতি করতে পারে।

জায়ফল
জায়ফল খাবারকে সুস্বাদু আর সুগন্ধি করে, ভেষজ উপকারিতাও অনেক। খাবারে দিলে সে খাবার চট করে নষ্ট হয় না। নবম শতাব্দীর শুরুর দিকে থিওডর দ্য স্টুডাইট তাঁর শিষ্যদের খাবারের ওপরে জায়ফল গুঁড়ো দিয়ে খেতে বলতেন। স্বাস্থ্য আর মনোযোগ দুই-ই ভাল হবে। জায়ফল গরম মশলায় ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি বা রান্নায়। নানা রকম ওষুধ হিসেবেও জায়ফল ব্যবহার করা হয়। তবে জায়ফলে মাইরিস্টিসিন আছে যা মনের ওপরে কাজ করে। সাধারণত রান্নায় যে পরিমাণ জায়ফল ব্যবহার করা হয় তা ক্ষতিকর নয়। কিন্তু বেশি পরিমাণে খেলে বমি, ঘাম ঝরা, মাথা ঘোরা, মাথা ব্যথা ও হ্যালুসিনেশন হয়।

শুকনো ফল
আমাদের অনেকেরই শুকনো ফলের প্রতি এক ধরনের আসক্তি দেখা যায়। ধুয়ে বা না ধুয়ে অনেকসময় আমরা এ সব ফল মুঠো ভরে খেয়ে ফেলি। কিন্তু এ সব ফল যত কম খাওয়া যায় আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ততটাই মঙ্গল। বাজারে বিক্রি হওয়া এসব শুকনো ফলের বেশিরভাগ সালফার এবং পটাসিয়াম জাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করে শিল্প কারখানায় শুকানো হয়। যা হজমে ব্যাঘাত ঘটায়। আর তাই সুষ্ঠু হজম ক্রিয়ার জন্য শুকনো ফল বেশি পরিমাণে না খাওয়াই উত্তম। বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রচুর পরিমাণ সালফারের ব্যবহার হজমের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এ ছাড়া এটা পাকস্থলির সমস্যাও সৃষ্টি করতে পারে। যে সব শস্য সঠিকভাবে সংরক্ষিত হয়নি, সেগুলোতে মাইক্রো-টক্সিন নামে এক ধরনের ছত্রাক দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে যা আমাদের জন্য বিপজ্জনক।

আলু
আলু সহজলভ্য এবং নানা ধরনের খাদ্যদ্রব্য প্রস্তত করা যায় বিধায় বিশ্বব্যাপী আলুর চাহিদা ব্যাপক। তবে সবুজ দাগযুক্ত আলু শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এ ধরনের আলুতেসোলানাইন নামক বিষাক্ত পদার্থ থাকে যা রান্না এবং পোড়ানোর পরও দূর হয় না। বিশেষজ্ঞরা বলেন, আলুর সবুজ অংশ ফেলে দেওয়া সব সময় নিরাপদ নয়। বরং এই ধরনের আলু ব্যবহার না করাই উত্তম। এছাড়া আলুর পাতা ও কাণ্ডে গ্লাইকো অ্যাল্কালয়েড থাকে। বাসায় অনেক দিন পর্যন্ত আলু রেখে দিলে এর মধ্যে গ্যাঁজ হয়ে যায়। এই গ্যাঁজে গ্লাইকো অ্যাল্কালয়েড থাকে যা আলোর সংস্পর্শে বৃদ্ধি পায়।

টমেটো
সবজি এবং সালাদ হিসেবে ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধ টমেটোর বেশ চাহিদা। তবে টমেটোর পাতা ও কাণ্ডে গ্লাইকো অ্যাল্কালয়েড থাকে যা হজমে সমস্যা সৃষ্টি করে। কাঁচা সবুজ টমেটোতেও একই উপাদান আছে। তবে অল্প পরিমাণে খেলে সমস্যা নেই। কিন্তু বেশি পরিমাণ খেলে মৃত্যু রোগের কারণ  হতে পারে।

ক্ষুধা পেলে যে ৪ খাবার ভুলেও খাবেন না

প্রচণ্ড ক্ষুধা পেলে ঘরে যা থাকে তাই খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করি। কেননা ক্ষুধা পেলে খাবার না খাওয়া পর্যন্ত কিছুই ভালো থাকে না। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব খাবার খেয়ে ক্ষুধা মেটানো হয়। কিন্তু এ সময় সব ধরনের খাবার খাওয়া উচিত নয়, কারণ কিছু খাবার আছে যেগুলো খিদের সময়ে খেলে যেমন পেটের ক্ষিদে মিটবে না তেমনি শরীরের অনেক বড় ক্ষতি হতে পারে।

তাহলে জেনে নিন, ক্ষুধার সময় যে ৪ ধরণের খাবার খাওয়া উচিত নয়-

১) ফল : খালি পেটে ফল খেতে নেই- এই কথাটা আমরা আমাদের ছেলেবেলা থেকেই জানি। একটি আপেল বা একটি কলা খেয়ে কখনই পেটের ক্ষুধা মিটে না। বরং আপনার খিদে খিদে ভাব আরও বেড়ে যাবে। যদি ফল খেয়েই থাকেন তাহলে এর সঙ্গে আপনার খাওয়া উচিত কোনও প্রোটিন ধরণের খাবার। ফলের সঙ্গে খেতে পারেন সামান্য পরিমাণ বাদাম, পিনাট বাটার বা পনির।

২) ঝাল খাবার : কোন কাজের জন্য দুপুরের খাবার সারতে দেরি হয়েছে। এ সময় প্রচণ্ড ক্ষিদে পেয়েছে, তাই হাতের কাছে পাওয়া ঝাল ঝাল কোনও মুখরোচক খাবার খেয়ে বসলেন। এতে আপনার হজমের সমস্যা তৈরি হবে। খালি পেটে ঝাল খাবার খেলে এই মশলা আপনার পাকস্থলীর আবরণের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। তাই ঝাল ঝাল খাবার খাওয়ার আগে দুধ বা দই খেতে পারেন। এতে সরাসরি ঝালের প্রভাব পাকস্থলীর ওপর পড়বে না।

৩) কমলালেবু বা কফি : এই সব খাবার খালি পেটে খেলে অ্যাসিডিটি তৈরি করে। এতে পেট খারাপ হবার সম্ভাবনা তৈরি হয়। বিশেষ করে যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য খালি পেটে কফি পান করাটা অত্যন্ত ক্ষতিকর। সবজি পেটের জন্য এতোটা ক্ষতিকর না। তাই সবজির সালাদ খেতে পারেন। সেদ্ধ ডাল বা মুরগীর মাংসও (কম মশলাদার হলে চলবে) এ সময়ে খাওয়া যেতে পারে।

৪) বিস্কুট বা চিপস : এমনটা হতে পারে যে আপনি আর দুই ঘন্টা পর দুপুরের খাবার খাবেন। তাই এখন ভারী কিছু খেতে চাচ্ছেন না। কিন্তু তা বলে বিস্কুট বা চিপস একেবারেই নয়! ছোট এক প্যাকেট বিস্কুট বা চিপস বেশিক্ষণ পেটে থাকবে না। এগুলিতে থাকা কার্বোহাইড্রেট কিছুক্ষণের মধ্যেই হজম হয়ে যাবে। ফলে আপনার খিদে খিদে ভাব দ্রুত ফিরে আসবে। সে ক্ষেত্রে খেতে পারেন ২৫০-৩০০ ক্যালোরির কোনও খাবার। যেমন, একটা স্যান্ডউইচ বা একটা কেক।

রাতে যে ৫ খাবার খাওয়া উচিত নয়

‘আর্লি টু বেড অ্যান্ড আর্লি টু রাইজ’ এই প্রবাদবাক্য বর্তমান প্রজন্মের কাছে আস্তে আস্তে গুরুত্ব হারাচ্ছে।আধুনিক সময়ে দেরি করে খাওয়া এবং দেরিতে ঘুম থেকে উঠা ফ্যাশন হয়ে দাড়িয়েছে৷ কিন্তু এই সময় নিজেকে সুস্থ রাখতে  নিয়ম মেনে খাওয়া দাওয়া করা অত্যন্ত জরুরি। রাতে যে সব খাবার স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর এমন ৫টি খাবার অপনাদের সুবিধার্থে উল্লেখ করা হলো।

১)মিষ্টি জাতীয় যে কোনো খাবার
অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট ঘুমের বিঘ্ন ঘটায়৷ আর মিষ্টি জাতীয় খাবারে কার্বোহাইড্রেট রয়েছে। তাই ঘুমের আগে এড়িয়ে চলুন কেক, চকোলেট, মিষ্টি, কুকিজ জাতীয় খাবার ৷

২) মশলাদার খাবার
মশলাদার খাবার পেটের গোলমাল ঘটাতে পারে ৷ পাশাপাশি হজমের ক্ষেত্রেও সমস্যা সৃষ্টি করে। তাই রাতে মশলাদার খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো।

৩) রেড মিট
রেড মিট হজম হতে অনেক সময় নেয়। এতে শরীর গরম হয়ে যায়। তাই রাতে রেড মিট পরিহার করাই স্বাস্থ্যের জন ভালো।

৪) ফ্যাটি ফুড
আইসক্রিম, চিজ, মাখন, ঘি, স্যান্ডুইচ, কেক জাতীয় খাবার রাতের বেলা এড়িয়ে চলুন ৷ এই সমস্ত খাবার  হজম হতে সময় নেয়।

৫) ক্যাফিন
রাতের বেলা ক্যাফিন এড়িয়ে চলাই ভাল৷ ক্যাফিন জাতীয় খাবার ঘুমের বিঘ্ন ঘটায় ৷এতে স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।

উচ্চ রক্তচাপে ক্ষতিকর যে ৮ খাবার

স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে রক্তের চাপ বেশি থাকলে তবেই একে উচ্চ রক্তচাপ বলা হয়। যে কোন বয়সে হতে পারে উচ্চ রক্তচাপ।

চিকিৎসকরা বলেন, হাই ব্লাড প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপ থাকা শরীরের পক্ষে বেশি ক্ষতিকারক। এতে হার্ট অ্যাটাক, সেরেব্রাল অ্যাটাক বা স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এই রোগের হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য ওষুধেরও কোন কমতি নেই। কিন্তু প্রতিদিনের খাদ্যাভাসে পরিবর্তন ঘটিয়ে আপনিও এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন।

উচ্চ রক্তচাপের নির্দিষ্ট কোন লক্ষণ এবং উপসর্গ নেই। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে মাথা ব্যথা,  দ্বিধাগ্রস্থতা, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, বমি বমি ভাব এবং বমি হতে পারে। রক্তচাপের মাত্রা ১২০/৮০ এর চেয়ে বেড়ে গেলে বলা হয় হাই ব্লাড প্রেসার এবং কমে গেলে লো ব্লাড প্রেসার।

উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত প্রত্যেক রোগীর উচিত রক্তচাপ বাড়ায় এমন খাবার পরিহার করে সঠিক খাবার খাওয়ার মাধ্যমে তার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা। এবার জেনে নেয়া যাক উচ্চ রক্তচাপে যে ৮টি খাবার ক্ষতিকর :

লবণ
উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম কারণ হল শরীরে মাত্রাতিরিক্ত সোডিয়াম জমা হওয়া। তাই যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে তাদের জন্য লবণ খুবই ক্ষতিকর। খুবই সীমিত পরিমাণ লবণ দিয়ে খাবার তৈরি করে খাবেন। খাবারের সঙ্গে বাড়তি লবণ নিয়ে খাওয়া এবং বেশি লবণযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। একই সঙ্গে বিট লবণ এবং অন্যান্য মুখরোচক লবণ গ্রহণ করা থেকেও বিরত থাকতে হবে।

ফাস্ট ফুড এবং বেকারি খাবার
বর্তমান যুগে ফাস্ট ফুড খাওয়া অনেকের দৈনন্দিন রুটিনে পরিণত হয়েছে। প্যাকেটজাত এবং প্রসেসড ফুডগুলোর মধ্যেই সব থেকে বেশি উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টিকারক উপাদান থাকে। এই ফাস্ট ফুড এবং বেকারি খাবারে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম, প্রিজারবেটিভ, বিষাক্ত রঙ এবং ক্ষতিকারক চর্বি ডালডা ব্যবহার করা হয়। এসব উপাদান উচ্চ রক্তচাপ রোগীর জন্য অধিক ক্ষতিকর। তাছাড়া তেলে ভাঁজা অধিক চর্বি যুক্ত মুখরোচক খাবার থেকেও বিরত থাকতে হবে।

কফি
কফি খেলে সাময়িক সময়ের জন্য রক্তচাপ বেড়ে যায়। তাই যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে তাদের জন্য কফি খাওয়া বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ ক্যাফেইন রক্তনালীকে সরু করে দেয়, ফলে হঠাৎ বেড়ে যাওয়া রক্তচাপের ফলে স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই উচ্চ রক্তচাপ থাকলে কফি ও অতিরিক্ত চা পানের অভ্যাস বাদ দিয়ে প্রতিদিন এক কাপ করে গ্রিন টি পান করবেন।

লাল মাংস
রেড মিট অর্থাৎ গরুর মাংস, খাসির মাংস এবং মহিষের মাংস উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় বর্জন করা একান্তভাবে জরুরি। কারণ এসব লাল মাংসে খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি থাকে যা হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বহু গুণে বাড়িয়ে দেয়।

মুরগীর চামড়া এবং ডিমের কুসম
উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা মুরগীর চামড়া এবং ডিমের কুসম খেলে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় সেই সঙ্গে বেড়ে যায় হৃদরোগের ঝুঁকিও। তাছাড়া মুরগির চামড়ায় উচ্চ মাত্রার চর্বি থাকে যা মানুষের শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

চিনি যুক্ত খাবার
অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার আমাদের শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। কারণ এই খাবারগুলো আমাদের শরীরে মেদ জমতে সাহায্য করে এবং এর ফলে ওজন বৃদ্ধি পেয়ে শরীর মোটা হয়ে যায়। অতিরিক্ত ওজনের কারণে উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার পরিহার করুন। মিষ্টির পরিবর্তে সামান্য মধু খেতে পারেন।

আচার এবং সস জাতীয় খাবার
যারা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, তাদের আচার এবং সস জাতীয় খাবার খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। কারণ আচার এবং সসে লবণ এবং চিনির পরিমাণ খুব বেশি থাকে, যা এই রোগীর শরীরের পক্ষে একেবারেই ভাল নয়।

অ্যালকোহল এবং কোমল পানীয়
অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় খেলে দ্রুত রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া এটাও মনে রাখা উচিত যে অ্যালকোহল ও কোমল পানীয়গুলোতে প্রচুর ক্যালোরি আছে যা ওজন বৃদ্ধি করে। তাই অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় কিংবা কোমল পানীয় না খেয়ে তাজা ফলের রস কিংবা লেবুর শরবত খাবেন।

এছাড়া কখনও ননি বা ফ্যাটযুক্ত দুধ খাবেন না। দুধ ও দুগ্ধজাত সামগ্রীর মধ্যে ননিবিহীন দুধ, টকদই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

এই ৫ ফল ফ্রিজে রেখে খেলে বুঝবেন বিষ খাচ্ছেন

বেঁচে যাওয়া খাবার বা আগে থেকে কিনে সংরক্ষণ করে রাখার উদ্দেশ্যে শাক-সবজি বা ফল ফ্রিজে রাখাই আমাদের স্বভাব। কিন্তু জানেন কি, এমন কিছু ফল আমরা প্রায়ই খেয়ে থাকি, যা ফ্রিজে রেখে দিলে পুষ্টিগুণ তো মিলবেই না, উল্টো যে কোনও সময় বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে তা। ফলে খাদ্যে বিষক্রিয়া ঘটে জটিল শারীরিক সমস্যা এমনকি, মৃত্যু পর্যন্তও ঘটতে পারে। 

কার্বাইড দিয়ে পাকানোই হোক বা গাছপাকা- দুই ক্ষেত্রেই কয়েকটা ফল ফ্রিজে রাখা ক্ষতিকারক। ঠাণ্ডার সংস্পর্শে এসে ফলে উপস্থিত রাসায়নিকগুলোর নানা বিক্রিয়া, ফলের কোষ গঠন, ও কোন অঞ্চলের ফল ইত্যাদি বিষয়ের জন্যই ফ্রিজ থেকে দূরে রাখা উচিত কিছু ফল।

বরংপুষ্টিবিদদের মতে, এই সব ফল চালের ড্রামে রাখুন। চাইলে পরিষ্কার ঝুড়িতে বা নরম কাপড়ে মুড়ে শুকনো জায়গাতেও রাখতে পারেন। জানেন কী কী ফল ফ্রিজে রাখা বিপজ্জনক? দেখে নিন সে সব।

লেবু
যে কোনও লেবুতে অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি থাকে। ফ্রিজের তাপমাত্রা অত্যন্ত কম থাকায় লেবুর অ্যাসিডিক গুণ নষ্ট হয়। ফ্রিজের কৃত্রিম ঠাণ্ডায় কমলালেবুর খোসা ও লেবুর শাঁস শুকিয়ে যায়। অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় সেগুলো খারাপ হয়ে বিষাক্ত হয়ে পড়তে পারে। তাই লেবু কখনও ফ্রিজে রাখবেন না।

শশা
খুব গরম আর খুব ঠাণ্ডা কোনওটাই শশার পক্ষে ভাল নয়। ফ্রিজে রাখলে শশা শুকিয়ে তো যায়ই, এর পুষ্টিগুণও নষ্ট হয়। কম আলো ও কম ঠাণ্ডা এমন জায়গায় রাখুন শশা। ফ্রিজের নিচে যে অতিরিক্ত তাক থাকে, সেখানেই রাখুন এই ফল।

আপেল
ফ্রিজে রাখলে আপেলের খোসা দ্রুত শুকায়। আপেলের মধ্যে উপস্থিত ট্রিটারপেনয়েড ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। কিন্তু ফ্রিজের তাপমাত্রায় নষ্ট হয় ও আপেলের কোষের পচন ধরায়। তাই তা খেলে বিষক্রিয়া ঘটতে পারে।

কলা
গরম তাপমাত্রায় ফল হওয়ায় গরমেই এটি ভাল থাকে। ফ্রিজে কলা রাখলে কলার কোষের গঠনও নষ্ট হয়ে তা বিষাক্ত হতে পারে।

নাশপাতি
ফ্রিজে রাখলে নাশপাতি নরম হয়ে যায়। পচন ধরেও তাড়াতাড়ি। পুষ্টিগুণ কমে যাওয়ার সঙ্গে এই ধরনের নাশপাতিতে বিষক্রিয়াও হতে পারে।

যেসব খাবার খেলে ওজন বাড়বে না

প্রবাদ আছে স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল তবে স্বাস্থ্য ভাল রাখা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায় যদি আপনি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম না হন। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ সব সময় তার নিজের শারীরিক ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যাপারে সচেতন। তবে চাইলেই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়না।

এজন্য শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়ামের যেমন বিকল্প নেই তেমনি খাওয়া দাওয়ার ক্ষেত্রেও বেশ নিয়ম মেনে চলা জরুরি। বিশেষ করে চর্বি জাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে। এ বিষয়ে একুশে টেলিভিশন অনলাইন পাঠকদের জন্য বলেছেন পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান।

শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও এমন কিছু খাবার আছে যেগুলো পেট ভরাবে কিন্তু ওজন বাড়াবে না। এ খাবারগুলো খেলে পেট ভরা অনুভূত হয় কিন্তু দিন শেষে এগুলো শরীরের ক্যালরি কমাতে সাহায্য করে। যেমন।

১. প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট থাকায় অনেকে আলু খাওয়া থেকে বিরত থাকেন। কিন্তু তার দরকার নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আলু খুবই পুষ্টিসম্পন্ন একটি খাবার যতক্ষন না এটা ভাজা হয়। এছাড়া আলুতে এক ধরনের প্রতিরোধী শ্বেতসার আছে যা হজমপদ্ধতিকে উন্নত করতে অনেকটা ফাইবারের মতো কাজ করে। এটা খেলে অনেকক্ষন পেট ভরা অনুভূত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, আলু রান্না করার পর ঠাণ্ডা করে খেলে এর প্রতিরোধী ক্ষমতা বাড়ে। এ কারণে আলু শুধু পুষ্টিকর ও সুস্বাদু খাবারই না বরং তার চেয়ে বেশি কিছু।

২. গবেষণা বলছে, ডিমে প্রচুর পরিমাণে ভাল কোলেস্টেরল আছে। এটা খেলে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়তে পারে না। এছাড়া এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন এবং নয় ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড আছে। প্রোটিনযুক্ত খাবার খেলে কার্বোহাইড্রেটের চেয়ে পেট বেশি ভরা অনুভূত হয়। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সকালের নাস্তায় ডিম খান, তারা যারা পনির খান তাদের চেয়ে দ্রুত ওজন কমাতে পারেন।

৩. ওটমিল এমন একটি সুপার ফুড যা খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা অনুভূত হয়। এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। এর সঙ্গে ফল, বাদামও মিশিয়ে নিতে পারেন।

৪. স্যুপ খেলেও পেট ভরা অনুভূত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যেকোন শক্ত খাবারের চেয়ে স্যুপ খেলে পেট বেশি ভরা অনুভূত হয়। নিয়মিত স্যুপ খাওয়ার অভ্যাস করলে বিনা চেষ্টাতেই ওজন কমাতে পারবেন।

৫. ফাইবারে পূর্ণ আপেল খেলে হজমশক্তি ভাল হয়। একটা আপেলের প্রায় ৮৫ শতাংশ পানিতে পূর্ণ থাকে। আপেল খেলে পেট ভরা অনুভূত হবে কিন্তু শরীরের ক্যালরি বাড়বে না। যদি আপেল খেতে খেতে বিরক্ত হয়ে যান তাহলে রুচি বদলাতে সাইট্রাস জাতীয় ফল খেতে পারেন। এতেও ওজন বাড়বে না।

৬. প্রোটিনযুক্ত খাবার খেলে কার্বোহাইড্রেটের চেয়ে বেশি পেট ভরা লাগে। প্রোটিনের জন্য মাংস খেতে পারেন। তবে তা হতে হবে চর্বিহীন। এছাড়া প্রোটিনের জন্য ওমেগা থ্রি সমৃদ্ধ মাছ খেতে পারেন। এতে ওজন বাড়ার আশঙ্কা থাকবে না। বরং হৃদরোগজনিত জটিলতা কমবে।

৭. বিকালের নাস্তা হিসেবে অনেকে পপকর্ণ খেতে পছন্দ করেন। এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং খুব কম পরিমাণে ক্যালরি রয়েছে। এটি খেলে পেট ভরা লাগে কিন্তু ওজন বাড়ে না।

প্রিয় পাঠক, আপনারা যারা ওজন নিয়ে বিড়ম্বনায় আছেন বা যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন তারা নিয়মিত এই খাদ্যতালিকা অনুসরণ করতে পারেন। পাশাপাশি আপনাদের যাদের ওজন নিয়ন্ত্রণে আছে তারাও এই তালিকাটি অনুসরণ করলে আগামীতেও আপনার স্বাস্থ্য থাকবে ঝরঝরে সুন্দর।

(ইসরাত জাহান একজন ক্লিনিক্যাল ডায়েটেশিয়ান ও নিউট্রিশিয়ানিস্ট। রাজধানীর বিআরবি হাসপাতালে নিয়মিত রোগী দেখেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সভা সেমিনারে মানুষকে পুষ্টি বিষয়ে সচেতন করে যাচ্ছেন। তিনি নিয়মিত লিখছেন একুশে টেলিভিশন অনলাইনে।)

আপনার রক্তে যেসব খাবার অ্যালার্জির সৃষ্টি করে

অ্যালার্জি একটি কমন শব্দ। আমরা কম বেশি সকলেই এর দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছি। অ্যালার্জি কোনো একটি বিশেষ খাবার থেকে হতে পারে। মানে কারও ডিমে অ্যালার্জি থাকলে অন্য মানুষের ক্ষেত্রে তা নাও হতে পারে।

অ্যালার্জি সমস্যা রক্তের গ্রূপ ভেদে আলাদা আলাদাভাবে অনুভূত হয়। অর্থাৎ রক্তের বি গ্রুপে যে খাদ্যে অ্যালার্জি দেখা দেয় তা রক্তের এ গ্রুপের ক্ষেত্রে নাও দেখা দিতে পারে।

সাধারণত গায়ে চাকা চাকা দাগ, চুলকানি, অনবরত হাঁচি-কাশিকে আমরা অ্যালার্জি বলে থাকি। খাদ্যদ্রব্য ছাড়া ধুলোবালি, ফুলের পরাগ থেকেও অ্যালার্জির দেখা দিতে পারে। এলার্জির কারণকে হাইপার সেনসিটিভিটি বলা হয়। এবার দেখে নেয়া যাক রক্তের কোন গ্রুপে কোন খাদ্য অ্যালার্জি সৃষ্টি করে :

রক্তের গ্রুপ ‘ও’
এই গ্রুপের মানুষের ক্ষেত্রে রাজহাঁস, মাগুর মাছ, শিং মাছ, চীনাবাদাম, কাজুবাদাম, পোস্তদানা, অ্যাভাকাডো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, জলপাই, লাল আলু, বেগুন, আইসক্রিম, দুধ, দই, নারকেল, তেতুল, স্ট্রবেরি ও আপেল ইত্যাদি খাদ্যদ্রব্য অ্যালার্জি বাড়াতে পারে। অতএব এসব খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে সাবধান থাকুন।

রক্তের গ্রুপ ‘এ’
যাদের রক্তের গ্রুপ ‘এ’ তাদের শরীরে অ্যালার্জির কারণ হতে পারে- হাঁসের মাংস, গরুর মাংস, কোয়েল পাখি, মাগুর মাছ, ডিম, সামুদ্রিক মাছ, মাখন, ঘন দুধ, পেস্তাবাদাম, কাজুবাদাম, মিষ্টি আলু, বেগুন, জলপাই, কমলা, পেঁপে, আম, টমেটো ইত্যাদি খাদ্যগুলো। দেখে-বুঝে তারপরে খাবার গ্রহণ করুন।

রক্তের গ্রুপ ‘বি’
হাঁসের মাংস, কোয়েল পাখি, কাঁকড়া, চিংড়ি, ব্লু চিজ, ভুট্টা, চীনাবাদাম, পেস্তাবাদাম, জলপাই, কুমড়া, টমেটো, আইসক্রিম, দুধ, দই, নারিকেল, ডালিম, কামরাঙ্গা ও টমেটো ইত্যাদি খাদ্যদ্রব্য যাদের রক্তের গ্রুপ ‘বি’ তাদের ক্ষেত্রে অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে।

রক্তের গ্রুপ ‘এবি’
যারা রক্তের ‘এবি’ গ্রুপ ধারণ করেন তাদের ক্ষেত্রে হাঁসের মাংস, গরুর মাংস, কোয়েল পাখি, কাঁকড়া, চিংড়ি, লবস্টার, পারমিজান, ব্লু চিজ, ভুট্টা, তিলের তেল, পোস্তদানা, সূর্যমুখীর বীজ, কুমড়া বীজ, আইসক্রিম, জলপাই, মূলা, কলা, পেয়ারা, নারিকেল, কমলা, ডালিম এবং কামরাঙ্গা এসব খাবারগুলো থেকে সাবধান থাকতে হবে। কারণ এ খাবারগুলো আপনার শরীরে অ্যালার্জি সৃষ্টি করতে পারে।

অতএব উপরোক্ত গ্রুপের লোকজন চিহ্নিত খাবারগুলো যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন। যদি খেতেই হয়  তবে সামান্য পরিমাণে নিবেন। সপ্তাহে একবার বা মাসে দুই থেকে তিন বার কম পরিমাণে খেতে পারেন।

ঘন ঘন প্রস্রাব! এড়িয়ে চলুন ৬ খাবার

বার বার টয়লেটে যেতে দেখা যায় অনেককেই। কারণ হিসেবে বলেন প্রস্রাবের চাপ। এরা কোথাও বেরনোর আগে একবার হলেও বাথরুমে ঢুঁ মারেন। আবার গাড়িতে বা বাসে-ট্রেনে যাতায়াতের সময়ও অন্তত চার-পাঁচবার এই সমস্যায় পড়েন। এমন পরিস্থিতি পুরুষরা সামলে নিতে পারলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়েন মহিলারা। তাই কোথাও বেরনোয় তাদের মধ্যে একটা আতঙ্ক কাজ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যা দুর্বল মূত্রস্থলীর লক্ষণ হতে পারে। এমন বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে যেগুলোর প্রভাবে মূত্রস্থলী (ব্লাডার) দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। যেমন মেনোপজ বা বয়সের কারণে, গর্ভধারণের পরও ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ আসতে পারে। এ ছাড়াও কিছু স্নায়বিক, মানসিক বা প্রদাহজনিত কারণে মূত্রস্থলী দুর্বল হতে পারে। 

তবে এমন কয়েকটি খাবার রয়েছে, যেগুলো এড়িয়ে চললে বা কম খেলে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। এবার এ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক...

১. মূত্রনালির সংক্রমণ, মূত্রস্থলী (ব্লাডার) সমস্যা বা ওএবি থাকলে সোডা বা সোডাযুক্ত খাবার অথবা সোডাপানীয় খেলে সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই কার্বনেটেড বা সাইট্রাস সোডা বা সোডাযুক্ত খাবার অথবা এসব পানীয় থেকে দূরে থাকুন।

২. যদি আপনার মূত্রস্থলীতে সংক্রমণ হয়ে থাকে তাহলে কফি খাওয়ার অভ্যাস ছাড়ুন। কফির মধ্যে থাকা ক্যাফেইন মূত্রস্থলীর অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দেয়।

৩. ফল খাওয়া শরীর-স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল। তবে যদি আপনার মূত্রস্থলীতে কোন সমস্যা থাকে তাহলে অ্যাসিডিক ফল (যেমন আঙুর, কমলালেবু, আপেল, টমেটো, আনারস ইত্যাদি) মূত্রনালির সংক্রমণ বাড়িয়ে দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে এসব ফল না খাওয়া বা যতটা সম্ভব কম খাওয়াই ভাল।

৪. ক্যালরির পরিমাণ কমানোর জন্য অনেকেই খাবারে চিনির বদলে কৃত্রিম সুইটেনার ব্যবহার করে থাকেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি মূত্রনালিতে সংক্রমণ বা কোন রকম সমস্যা থাকে তাহলে কৃত্রিম সুইটেনার থেকে দূরে থাকাই ভাল। কারণ এতে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

৫. মূত্রনালি বা মূত্রস্থলীতে সংক্রমণ বা কোন রকম সমস্যা থাকলে অতিরিক্ত মশলাদার খাবার-দাবার এড়িয়ে চলুন। কারণ ঝাল বা অতিরিক্ত মশলাদার খাবার-দাবার মূত্রস্থলীতে অস্বস্তি তৈরি করে।

৬. মদ পান করলে যে বেশি প্রস্রাব পায়, এ কথা অনেকেই জানেন। অ্যালকোহলের প্রভাবে পেটের সঙ্গে সঙ্গে মূত্রস্থলীতেও অস্বস্তি তৈরি হয়। তাই সংক্রমণের প্রবণতা থাকলে বা মূত্রস্থলীতে কোন রকম সমস্যা থাকলে অ্যালকোহল থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকুন।

যে ১০টি খাবার হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়

শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো হার্ট বা হৃদপিণ্ড। এই অঙ্গটিকে সুস্থ রাখার জন্য আমরা নিয়মিত হাঁটাহাটি বা ব্যায়াম করে থাকি এবং খাবার-দাবারও রাখি নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু খাবার-দাবার নিয়ন্ত্রণে রাখলেই কি কাজ হবে? জানতে হবে কোন কোন খাবার হার্টের জন্য ভালো নয়। সেই সব খাবার থেকে নিজেকে রাখতে হবে নিয়ন্ত্রণে।

হার্টের জন্য ভালো নয় এমন ১০টি খাবারের কথা জেনে নেওয়া যাক-

চিংড়ি
ক্যালোরি এবং ফ্যাট কম থাকলেও চিংড়িতে আছে প্রচুর পরিমাণ কোলেস্টেরল। যা হৃদরোগের কারণ। দেখা গেছে, সাড়ে তিন আউন্স ওজনের একপিস রান্না করা স্যামন মাছে যেখানে মাত্র ৬২ মিগ্রা কোলেস্টেরল, সেখানে একই পরিমাণ চিংড়ি মাছে পাওয়া গেছে ১৮৯ মিগ্রা কোলেস্টেরল।

কলিজা, মগজ, হাড়ের মজ্জা
কলিজা, মগজ, হাড়ের মজ্জা– এই অংশগুলোতে বেশি পরিমাণ কোলেস্টেরল থাকে। তাই যাদের হৃদরোগের আশঙ্কা আছে তাদের কলিজা, মগজ বা নেহারি জাতীয় খাবার বর্জন করা উচিত।

কেক, পেস্ট্রি, পুডিং, আইসক্রিম
এই প্রতিটি খাবারই চিনিযুক্ত। আর চিনি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। জার্নাল অব আমেরিকান মেডিকেল এসোসিয়েশনের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, মিষ্টিজাতীয় পানীয় ব্লাড প্রেশারকে বাড়িয়ে দেয়। আর বাড়িয়ে দেয় লিভারের তৎপরতা, যা রক্তে ক্ষতিকর ফ্যাট নিঃসরণ করে। আর এ দুটো কারণই হৃদরোগের নেপথ্য অনুঘটক।

রেড মিট
গরু, খাসি, মহিষ, খাসি ও হাঁসের মাংসকে বলা হয় রেডমিট। এই রেডমিটের ফ্যাট বা কোলেস্টেরল হৃদরোগের কারণ। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, রেডমিট ভেঙে কারনিটাইন নামে একটি যৌগ দেহে তৈরি হয়, যা ট্রিমাথাইলেমাইন এন অক্সাইড নিঃসরণ করে। আর এথেরোসক্লেরোসিস বা আর্টারিতে ব্লক সৃষ্টিতে এই ট্রিমাথাইলেমাইনের একটা সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে।

অতিরিক্ত ভাজা ও তৈলাক্ত খাবার
ডিপ ফ্রাই খাবার মুখরোচক হয় তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু জানেন কি, খাবার যত ভাজা হয়, তার খাদ্যমান তত কমতে থাকে, তত যুক্ত হতে থাকে ক্ষতিকারক ফ্যাট? মাংস বা কোনো কিছু ভাজার সময় দেখবেন তেলের মধ্যে প্রচুর বুদবুদ উঠছে। এর কারণ হলো খাবারের ভেতরে যে পানি আছে, তেলে ছেড়ে দেয়ার ফলে তা বেরিয়ে আসছে এবং তেলের তাপ ও চাপে তা শুকোতে শুরু করেছে। ডিপ ফ্রাই হতে হতে পানি যখন পুরোপুরি শুকিয়ে যায়, বুদবুদ ওঠাও তখন বন্ধ হয়ে যায়। খাবারের ভেতরে পানির বদলে তখন ঢুকে যায় তেল। এমনিতেই মাংস বা এই জাতীয় খাবারগুলোতে আছে স্যাচারেটেড ফ্যাট, তার ওপর তেল যুক্ত হয়ে ফ্যাটের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়।

নারিকেল
হংকং আর সিঙ্গাপুরের দুটি পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে যত লোক হংকংয়ে মারা গেছে, তার অন্তত তিনগুণ বেশি মানুষ মারা গেছে সিঙ্গাপুরে। গবেষকদের মতে, এর একটি কারণ হলো, সিঙ্গাপুরের অধিবাসীরা খাবারে নারিকেল ও পাম তেল ব্যবহার করতো। নারিকেল তেলের ৮৫ থেকে ৯০ ভাগই হলো স্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা হৃদরোগীদের জন্যে ক্ষতিকর।

ঘি-মাখন-ডালডা
প্রাচ্যের অভিজাত খাবারের তালিকায় ঘি-মাখন এক অনিবার্য অনুষঙ্গ হলেও এতে আছে উচ্চমাত্রার স্যাচুরেটেড ফ্যাট। সেই সঙ্গে আছে পালমিটিক এসিড, যা আর্টারি ব্লকের কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিজ্ঞানী ওয়াহিদা কর্মালি। এর বদলে অলিভ অয়েল, সান ফ্লাওয়ার অয়েল বা মার্জারিন ব্যবহার করা যেতে পারে।

ডিমের কুসুম
ডিমের সাদা অংশ খাওয়া গেলেও হৃদরোগীদের জন্যে ডিমের কুসুমটা এড়িয়ে চলাই উত্তম। কারণ ডিমের কুসুমে আছে উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল। দেখা গেছে, একটি বড় আকারের মুরগির ডিমে ১৮৬ মিলিগ্রাম পরিমাণ কোলেস্টেরল থাকে, তার পুরোটাই আছে কুসুমে। আর একজন হৃদরোগীর দিনে ২০০ মিলিগ্রামের বেশি কোলেস্টেরল গ্রহণ করা উচিত নয়।

ফাস্টফুড
বার্গার, পিজা, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ফ্রাইড চিকেন এগুলো আছে ফাস্টফুডের কাতারে। আমেরিকান হার্ট এসোসিয়েশন জার্নালের একটি রিপোর্টে দেখা গেছে, প্রতি সপ্তাহে একবার নিয়মিতভাবে যারা ফাস্ট ফুড খায়, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাদের মারা যাওয়ার প্রবণতা অন্যদের চেয়ে ২০ ভাগ বেশি। যারা একের বেশি অর্থাৎ দুই/তিন বার খায়, তাদের হৃদরোগে আক্রান্তের ঝুঁকি ৫০ ভাগ বেশি। আর যারা সপ্তাহে চার বা তার চেয়েও বেশি বার ফাস্ট ফুড খায়, তাদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি ৮০ ভাগেরও বেশি।

মাছের মাথা-ডিম
রক্তের লিপিড প্রোফাইল বাড়িয়ে দেয় যে উপাদানগুলো, সেই এলডিএল বা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের উৎস হলো মাছের মাথা ও ডিম।

আরামে ঘুমাতে চাইলে পরিহার করুন এসব খাবার

সুস্থ শরীরের জন্য ঘুম অপরিহার্য। অন্তত ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা ঘুম খুবই জরুরি। কিন্তু আমাদের মধ্যে অনেকেই ঘুমের সমস্যায় ভোগেন। কম ঘুম মেজাজের ওপর প্রভাব ফেলে এবং সারাদিনের কর্মক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। 

ঘুম ভালো না হলে অবসন্ন ভাব, উদ্বেগ, মনোযোগের অভাব, বিষণ্ণতা ইত্যাদি সমস্যা হয়। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের সমস্যা হলে ওজনে সমস্যা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে।

ঘুম না হওয়ার জন্য অনেকটা দায়ী নিত্যদিনের খাবার। আপনি যে খাবার খান, সেগুলোই রাতের ঘুম নষ্ট করে দেয়। যারা ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন রাতের খাবারের ক্ষেত্রে তাদের বেশি সচেতন হওয়া প্রয়োজন। 

এবার জেনে যাক ঘুম নষ্ট করে দেওয়া খাবারগুলো সম্পর্কে-

মশলাদার খাবার
মশলাদার খাবার হজম হতে সময় বেশি নিয়ে থাকে এবং পেটে গ্যাসের সমস্যা সৃষ্টি করে। তাই যারা ঘুমের সমস্যায় রয়েছে তারা রাতে যে কোন মশলাদার খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলুন।

গ্রিন টি
যদিও এই চা-এর অনেক উপকার কিন্তু ঘুমের খুব ক্ষতি করে। গ্রিন টিতে রয়েছে রাসায়নিক উপাদান। যা ঘুম কম হওয়ার কারণ। তাই ঘুমের সমস্যা থাকলে রাতে কখনওই চা খাবেন না।

কফি
অনেকেরই অভ্যাস রয়েছে রাতে খাবারের পর কফি পান করা। ভালো ঘুমের জন্য এই অভ্যাস অবশ্যই ছাড়তে হবে। কারণ কফির অ্যাসিডিক উপাদান আপনার মস্তিষ্ককে সজাগ রেখে ঘুম তাড়িয়ে দিয়ে থাকে। তাই দিনের বেলা কফি পান করুন, রাতে নয়।

উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার
বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়, উচ্চ চর্বি জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া এবং কম আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া ঘুমের ক্ষতি করে। তাই রাতের খাবারে বেশি আঁশ রাখুন এবং চর্বি জাতীয় খাবার ছাড়ুন। আঁশযুক্ত খাবারের জন্য সবজি খান।

কোমল পানীয়
রাতে কোমল পানীয় পান করা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর। কোমল পানীয় দেহের রক্ত চলাচলে বাধাগ্রস্ত করে। পাশাপাশি এর অতিরিক্ত চিনি এবং গ্যাসীয় কম্পাউন্ড ঘুমের উদ্রেক করা হরমোনের উৎপাদন বাধাগ্রস্ত করে। তাই রাতে এই কোমল পানবীয় এড়িয়ে চলুন।

আইসক্রিম
আইসক্রিমে হাই ফ্যাট আর প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকে। তাই আইসক্রিম সহজে হজম হতে চায় না, যার কারণে ঘুম আসতে দেরি হয়। রাতে আইসক্রিম বা অন্য কোনো মিষ্টি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলাই ভাল।

চকলেট
আইসক্রিমের মতোই চকলেট, ক্যান্ডি ঘুমের জন্য ক্ষতিকর। ডার্ক চকলেটে ক্যাফেইন থাকে, কাজেই ঘুমের আগে এটা খেলে ঘুম আসতে দেরি হবে।

পাস্তা
পাস্তাতে উচ্চ মাত্রায় গ্লাইসেমিক ইনডেক্স থাকে যেটা আপনার রক্তে সুগারের মাত্রাকে বাড়িয়ে তুলবে। ফলে ভালো ঘুমের ব্যাঘাত ঘটা অনিবার্য।

বেশি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার
বেশি পরিমাণে প্রোটিন খেলে ঠিক মতো ঘুম আসবে না। মাংস, ডাল, চর্বি জাতীয় খাবার হজম হতে বেশি সময় নিয়ে থাকে। তাছাড়া প্রোটিন শরীরে প্রচুর এনার্জি তৈরি করে। এতে শরীর শান্ত হওয়ার পরিবর্তে উত্তেজিত হয়। তাই রাতে এসব খাবার পরিমাণ মত খাবেন।

অবশ্যই একটি নিয়ম মানতে হবে, তাহলো ঘুমাতে যাওয়ার দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার সেরে ফেলতে হবে। কারণ ভাল ঘুমের জন্য এটির ভাল প্রভাব রয়েছে।

জন্মের প্রথম বছরে যে ৪ খাবার শিশুকে খাওয়াবেন না!

প্রথম একটা বছর শিশুর স্বাস্থ্য নিয়ে সাবধানতা জরুরি। বিশেষ করে এই সময়টা তারা কী খাচ্ছে, সেদিকে সর্বদা সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শিশু মায়ের দুধ ছাড়া আর কিছুই খাবে না। এরপর যখন শিশুকে অন্যান্য খাবারের সঙ্গে পরিচয় করানো হবে, তখনও তাকে কী দেওয়া হবে এবং কী দেওয়া হবে না, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

মা-বাবা হওয়াই জীবনে সবচেয়ে আনন্দের, আবার কঠিন অধ্যায়ও বটে। কেননা নতুন বাবা-মায়েরা অনেক সময় শিশুর স্বাস্থ্যের বিষয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। আবার অনেকে স্বাস্থ্যবান বানাতে বাচ্চাকে বেশি বেশি খাওয়াতে থাকেন। এতে কিন্তু হিতে বিপরীত হতে পারে! তাই তাদের কী খেতে দেওয়া যাবে না, সেটা আগেই জেনে নেওয়া ভালো।

এবার জেনে নিন জন্মের পর প্রথম বছরে শিশুকে যে চার খাবার কখনোই দেওয়া যাবে না...

* এক বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত শিশুকে কখনোই রিফাইনড সুগার দেবেন না। তাদের শরীরের জন্য যেটুকু মিষ্টির প্রয়োজন, তা তারা অন্য প্রাকৃতিকভাবেই মিষ্টি খাবার ও কার্বোহাইড্রেট থেকে সংগ্রহ করে নেয়। আলাদা করে মিষ্টি খেলে দাঁতের ক্ষয়, ওবিসিটি, ডায়াবেটিসের মত গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। বয়স অন্তত এক বছর না হওয়া পর্যন্ত শিশুকে কখনোই চকোলেট, কোলা, ক্যান্ডি জাতীয় খাবার দেওয়া যাবে না।

* বয়স অন্তত এক বছর না হওয়া পর্যন্ত শিশুকে লবণ খাওয়াবেন না। মায়ের দুধেই পর্যাপ্ত পরিমাণে সোডিয়াম থাকে। তাই আলাদা করে লবণ খাওয়ানোর কোনও প্রয়োজন নেই তাদের। এই বয়সে লবণ খেলে কিডনিতে পাথর, উচ্চ রক্তচাপ, ডিহাইড্রেশন এবং হাড়ের ক্ষয় দেখা দিতে পারে।

* জন্মের পরই শিশুর মুখে মধু দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে আমাদের সমাজে। কিন্তু বয়স অন্তত এক বছর না হওয়া পর্যন্ত শিশুকে মধু খাওয়ানোই উচিত নয়। মধু থেকে শিশুর শরীরে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া হামলা চালাতে পারে, যার থেকে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

* গরুর দুধ অবশ্যই নানা পুষ্টিগুণে ভরা। কিন্তু এক বছরের ছোট শিশুদের জন্য তা মোটেও উপকারী নয়। বয়স অন্তত এক বছর না হলে শিশুকে কখনোই গরুর দুধ খাওয়ানো উচিত নয়। গরুর দুধে যে মাত্রায় খাদ্যগুণ থাকে, তা শিশুর শরীর হজম করতে পারে না। এর থেকে গুরুতর শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আপনার অজান্তেই যেসব খাবার ক্ষতি করছে হাড়ের

আমাদের শরীরের কাঠামো তৈরি হয় হাড়ের মাধ্যমে। দেহকে সঠিক আকারে এবং আমাদের চলাচলে সহায়তা করে থাকে হাড়। কিন্তু হাড়ের যত্নের বিষয়ে আমরা বেশির ভাগ মানুষই খুব উদাসীন। হাড়ের স্বাস্থ্য ভাল থাকে খাবারদাবারে। কিন্তু অজ্ঞতার কারণে আমরা এমন কিছু খাবার খাই, যা আমাদের হাড়ের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

হাড়ের রোগগুলোর মধ্যে অস্টিওপোরোসিস বর্তমানে সব থেকে বেশি। এই রোগটির কারণে হাড়ের গঠন ক্ষয়ে যেতে থাকে। আবার কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো হাড়ের অকাল ক্ষয়ের জন্য বিশেষভাবে দায়ী। কিন্তু আমরা অনেকেই নিজেদের অজান্তে এসব খাবার খেয়ে চলেছি প্রতিদিন। 

এবার জেনে নেওয়া যাক তেমন কয়েকটি খাবার বা খাদ্য উপাদানের কথা যেগুলো আমাদের হাড়ের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর,

অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার
লবণ অর্থাৎ সোডিয়াম ক্লোরাইড দেহ থেকে ক্যালসিয়াম বের করে দিয়ে হাড়কে দুর্বল করে দেয়। চিপস, বিভিন্ন ফাস্ট ফুড, কাঁচা খাবারে বা সালাদে মেশানো লবণ হাড়ের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এ ছাড়া খাওয়ার সময় বাড়তি লবণ নেওয়াও হাড়ের জন্য বেশ ক্ষতিকর।

সফট ড্রিংকস বা কোমল পানীয়
সব বয়সের মানুষেরই ছন্দের তালিকায় রয়েছে সফট ড্রিংকস। জানেন কি, এই খাবারটি প্রতিনিয়ত হাড় ক্ষয় করে চলেছে? এসব কোমল পানীয়তে রয়েছে ফসফরিক অ্যাসিড যা প্রসাবের মাধ্যমে দেহের ক্যালসিয়াম শরীর থেকে বের করে দেয়। এর ফলে অস্থি ক্ষয়ে যেতে থাকে।

ক্যাফেইন
চা ও কফির ক্যাফেইনও হাড়ের ক্ষয়ের জন্য দায়ী। চা বা কফি যদি নিয়ম মেনে মাত্রা রেখে পান করেন, তাহলে তা খুব একটা ক্ষতিকর কিছু নয়। দিনে দু’ কাপের বেশি চা-কফি পান করা একেবারেই উচিত নয়।

অতিরিক্ত মাংস খাওয়া
মাংস হচ্ছে প্রাণীজ প্রোটিন। অতিরিক্ত মাংস মানেই অতিরিক্ত প্রোটিন। এই প্রোটিন শরীরে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি করে, একে নিষ্ক্রিয় করতে ক্যালসিয়াম কাজ করে থাকে। যার ফলে হাড়ে ক্যালসিয়াম কম পৌঁছে। আর এই কারণেই আস্তে আস্তে হতে থাকে হাড়ের ক্ষয়।

যেসব ফল একসঙ্গে খাওয়া উচিত নয়


একসঙ্গে এক বাটি মানেই স্বাস্থ্যকর খাবার- এমন ধারণা ঠিক নয়। বরং একসঙ্গে টক, মিষ্টি বা সাধারণ স্বাদের ফল খেলে নানা সমস্যা হতে পারে।

খাদ্য ও পুষ্টিবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ফ্রিজে যত ফল-সবজি আছে সব কেটে, অল্প লেবুর রস আর লবণ ছিটিয়ে দিলেই তা স্বাস্থ্যকর হয়ে যাবে- এমন নাও হতে পারে। 

ফল ও সবজি একত্রে মেশানো উচিত নয়। নির্দিষ্ট কিছু ফলও একত্রে মেশানো উচিত নয়। বিষয়টা নির্ভর করবে বিভিন্ন ফল হজম হওয়ার গতির উপর। তাই উল্টা-পাল্টা উপকরণ মিশিয়ে সালাদ তৈরি করলে হজমে সমস্যা হতে পারে।

বাঙ্গি, তরমুজ ইত্যাদি ফলের সঙ্গে অন্য ফল মেশানো উচিত নয়। তরমুজজাতীয় ফলগুলোতে পানির পরিমাণ বেশি হওয়ায় তা অন্যান্য ফলের তুলনায় দ্রুত হজম হয়ে যায়। তবে অন্য ফলের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে হজমে সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

টকজাতীয় ফল যেমন আঙুর, স্ট্রবেরি, আপেল, বেদানা ইত্যাদির সঙ্গে মিষ্টি ফল যেমন কলা বা কিশমিশ মেশানো যাবে না। একই কারণে কলার সঙ্গে পেয়ারা মেশানো উচিত নয়।

কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, এই মিশ্রণের কারণে বমিভাব, মাথাব্যথা ইত্যাদি হতে পারে।

ফল ও সবজি হজম হয় ভিন্নভাবে। ফল হজম হয় দ্রুত।

অনেক পুষ্টিবিদ বলেন, পাকস্থলিতে পৌঁছানোর আগেই ফল অর্ধেক হজম হয়ে যায়। এছাড়াও ফলে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকে যা সবজি হজম প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। এই কারণে কমলার সঙ্গে গাজর মেশানো উচিত হবে না। কারণ, এতে বুক জ্বালাপোড়া ও পিত্তরসের প্রবাহ বেড়ে যেতে পারে।

 ‘স্টার্চ’ বা শ্বেতসারজাতীয় ফলের মধ্যে কাঁচাকলাই সবচাইতে সহজলভ্য, তবে এই স্বাদের সবজি আছে কয়েকটি যেমন- ভুট্টা, আলু, পানিফল ইত্যাদি। এদের সঙ্গে প্রোটিনসমৃদ্ধ ফল ও সবজি যেমন- কিশমিশ, পেয়ারা, পালংশাক, ব্রকলি ইত্যাদি কখনও মেশানো উচিত নয়। কারণ, প্রোটিন হজম করতে শরীরে চাই ‘অ্যাসিডিক বেইস’ আর শ্বেতসারজাতীয় খাবার হজম করতে চাই ‘অ্যালকালাইন বেইস’।
সূত্র : ইন্ডিয়া টামস।রিডার্স ডাইজেস্ট,জি নিউজ।স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জার্নাল এবং নিউট্রিশন অব বাংলাদেশ।আনন্দবাজার,স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জার্নাল।
এস ইউ এ
 


New Bangla Dubbing TV Series Mu
New Bangla Dubbing TV Series Mu

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি