ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৯ মার্চ ২০২৬

কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিব হত্যার রহস্য উদঘাটন, ব্যবহৃত পিস্তল উদ্ধার

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১১:০৪, ১৯ মার্চ ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিবুল ইসলামকে (রাকিব) নৃশংসভাবে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলসহ এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা ডিভিশনের ডিসি মো. মাসুদ আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে রাকিব হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই বিষয়ে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আজ বিস্তারিত জানানো হবে।

এদিকে হত্যার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, এটি কোনো তাৎক্ষণিক উত্তেজনা নয়, বরং ‘প্রেমঘটিত দ্বন্দ্বে’র জেরে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। এমনকি রাকিবকে সরিয়ে দিতে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের নির্দিষ্ট এলাকা থেকে ভাড়াটে খুনিদেরও ব্যবহার করা হয়েছে।

মামলার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, গত রোববার রাতে বোরহান উদ্দিন কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিবুল ইসলাম বন্ধুদের নিয়ে শহিদ মিনারের সিঁড়িতে আড্ডা দিচ্ছিলেন। রাত সোয়া ৯টার দিকে তিনি মোটরসাইকেল পার্ক করে বসার পরপরই ওত পেতে থাকা ৫-৬ জন সশস্ত্র হামলাকারী তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঘাতকরা প্রথমে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং পরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে রাকিবের শরীরে পাঁচটি গভীর কোপের চিহ্ন এবং পিঠ ও পেটে গুলির ক্ষত পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় ১৬ মার্চ তার বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হলের কর্মচারী তারিকুল ইসলাম খোকন বাদি হয়ে শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ছায়া তদন্ত শুরু করে পুলিশ। রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই নৃশংস হামলায় সাত থেকে আটজন সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের একটি প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ গ্রুপটি রাকিবকে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং ভাড়াটে খুনিদের মাধ্যমে এই অপারেশন চালায়।

শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিঠু ফকির জানান, ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা চাপাতিসহ একজনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। সেই সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাঁদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গ্রেফতারকৃত গোলাম রসুল শিহাব ও সাগর ফকির দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ছাড়া গ্রেফতারকৃত রাফিন শেখ ও শাহারিয়ার নাজিম জয়ের পাঁচদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি