কাশেফ চৌধুরীর মনোগ্রাফ ‘মেডিটেশন ইন এনট্রপি’ উন্মোচন
প্রকাশিত : ২৩:১৪, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আগা খান পুরস্কারপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাংলাদেশি স্থপতি কাশেফ মাহবুব চৌধুরীর নতুন মনোগ্রাফ Meditations in Entropy: The Work of Kashef Chowdhury / URBANA–এর গ্রন্থ উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে তিনি স্থাপত্যকে জলবায়ু, ভূ-প্রকৃতি ও সমষ্টিগত স্মৃতির প্রতি এক গভীর ও সংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া হিসেবে উপস্থাপন করেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে ক্রাউন প্লাজা হোটেলের বলরুমে ‘আর্কিকানেক্ট’-এর আয়োজনে এই গ্রন্থ উন্মোচন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্যে কাশেফ চৌধুরী পরিবেশগত ঝুঁকি ও সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা প্রায় তিন দশকের স্থাপত্যচর্চার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে স্থাপত্যকে কেবল নান্দনিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। বরং জলবায়ু চাপ, মানুষের সহনশীলতা এবং স্থানিক বাস্তবতার প্রতি অর্থবহ সাড়া দেওয়াই স্থাপত্যের মূল দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, গত প্রায় ২০ বছর ধরে জলবায়ু সংবেদনশীল সামাজিক প্রকল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকেই এই বইটি লেখা হয়েছে। “এই বইটি কোনো স্থাপত্য-অবয়বের উদযাপন নয়; বরং এটি একটি প্রক্রিয়ার প্রতিফলন—যেখানে সংযম, প্রেক্ষাপট এবং সহমর্মিতা থেকে স্থাপত্যের জন্ম হয়,” বলেন তিনি।
গ্রন্থটিতে সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে কীভাবে টেকসই ও মনোরম স্থাপত্য নির্মাণ সম্ভব—তার বিশদ বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে। কম বাজেটে আলো-ছায়াকে নকশার প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহার, গ্রামমুখী চিন্তা এবং শহরমুখী অভিবাসনের বিপরীতে গ্রামে ফিরে যাওয়ার উদ্যোগ ও ক্ষুদ্র সামাজিক প্রকল্পগুলো বইটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সুইজারল্যান্ডের জুরিখভিত্তিক প্রকাশনা সংস্থা পার্ক বুকস থেকে প্রকাশিত Meditations in Entropy কাশেফ চৌধুরী / URBANA–এর কাজের ওপর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মনোগ্রাফ। পাঁচ শতাধিক পৃষ্ঠার এই গ্রন্থে স্কেচ, নকশা, আলোকচিত্র ও বিশ্লেষণধর্মী লেখার মাধ্যমে গত ৩০ বছরের স্থাপত্যচর্চা নথিবদ্ধ করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন ধরন ও পরিসরের ১৮টি বাস্তবায়িত প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বইটিতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্থাপত্য আলোকচিত্রী হেলেন বিনের আলোকচিত্রের পাশাপাশি কেনেথ ফ্র্যাম্পটন, উইলিয়াম জে. আর. কার্টিস, রবার্ট ম্যাককার্টার, আইনুন নিশাত ও ফিলিপ উরস্প্রুং-এর সমালোচনামূলক প্রবন্ধ সংযোজিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক সি. আর. আবরার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত মি. রেতো রেংগ্লি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আবরার বলেন, সমাজ ও পরিবেশগত বাস্তবতার গভীরে প্রোথিত স্থাপত্যচিন্তার গুরুত্ব আজ আরও বেড়েছে। কাশেফ চৌধুরীর কাজ প্রমাণ করে, নকশা কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তন ও নগরায়নের চ্যালেঞ্জের প্রতি সংবেদনশীল ও বুদ্ধিদীপ্ত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত বলেন, আগামী ৫০ বছরে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ আরও তীব্র হবে। অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের ঝুঁকি মাথায় রেখে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রখ্যাত স্থপতি ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক শামসুল ওয়ারেস, ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি)-এর সভাপতি ড. আবু সাঈদ এম আহমেদসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। তাঁরা বইটিকে বাংলাদেশের স্থাপত্যচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে উল্লেখ করেন, যা স্থানীয় বাস্তবতা থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের স্থাপত্যকে তুলে ধরেছে।
অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট স্থপতি, শিক্ষাবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এমআর//
আরও পড়ুন










