ঢাকা, রবিবার   ০৮ নভেম্বর ২০২৬

জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত, আহত অর্ধশতাধিক

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১১:১৭, ৮ নভেম্বর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

জাপানের মধ্যাঞ্চলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। ভেঙে গেছে বিভিন্ন ভবনের জানালার কাচ এবং ব্যাহত হয়েছে ট্রেন চলাচল। 

রোববার ভোরে দেশটির কর্মকর্তারা ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানায়, স্থানীয় সময় রাত ১টা ৪ মিনিটে টোকিওর পশ্চিমে শিজুওকা প্রিফেকচারে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। তবে এ ঘটনায় কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন দোকানের জানালার কাচ ভেঙে গেছে, তাক থেকে জিনিসপত্র পড়ে গেছে এবং দেশের কয়েকটি অঞ্চলে পরিবহনব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।

জাপানের আইচি অঞ্চলে সংঘটিত ভূমিকম্পে ১৬ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, যাদের অধিকাংশেরই আঘাত সামান্য বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। 

প্রতিবেশী শিজুওকা অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর অন্তত তিন নারী জরুরি চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে নব্বইোর্ধ্ব এক নারীও রয়েছেন। ভূমিকম্পের সময় কম্পনের ঝাঁকুনিতে বিছানা থেকে পড়ে গিয়ে তার কাঁধে আঘাত লাগে।

স্থানীয় সংবাদপত্র চুনিচি শিমবুন ও টোকাই টেলিভিশন পৃথক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আইচি ও শিজুওকা—এই দুই অঞ্চলে অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন।

আইচি অঞ্চলের তোয়োহাশি শহরে একটি গাড়ির শোরুমের জানালার কাচ ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে।

একই অঞ্চলের তোয়োটা শহরের একটি বড় বইয়ের দোকান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের সময় তাক থেকে বইসহ বিভিন্ন পণ্য নিচে পড়ে যায়।

ভূমিকম্পের কারণে রোববার সকালে আঞ্চলিক ট্রেন চলাচলে সাময়িক বিলম্ব ও স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে দ্রুতগতির শিনকানসেন বুলেট ট্রেন চলাচলও ব্যাহত হয়।

ভূমিকম্পের কম্পন পশ্চিমে ওসাকা পর্যন্ত অনুভূত হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সেখানে একটি আবাসিক ভবনের দ্বিতীয় তলার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পড়ে এক বিদেশি বাসিন্দাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে আতঙ্কিত হয়ে তিনি পড়ে যান।

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্যের জন্য ওসাকার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, একই দিন স্থানীয় সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কুমামোতো এলাকায় ৪ দশমিক ৩ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা।

দ্বিতীয় ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো খবর তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে ৭ দশমিক ১ মাত্রার এক ভূমিকম্পে ৩৮ জন নিহত হন। এতে বহু বাড়িঘর ধসে পড়ে এবং কয়েক হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েন। ওই বিপর্যয় কাটিয়ে এখনো ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত জাপানে প্রতিবছর শত শত ভূমিকম্প আঘাত হানে।

২০১১ সালের ভয়াবহ ৯ মাত্রার সমুদ্রতলীয় ভূমিকম্পের স্মৃতি এখনো দেশটির মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ওই ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামিতে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত হন অথবা নিখোঁজ হন। একই সঙ্গে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি