ঢাকা, শুক্রবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, || আশ্বিন ৮ ১৪২৮

নকল ও ভেজাল ফুড সাপ্লিমেন্টের দৌরাত্ম্য তুঙ্গে (ভিডিও)

মুহাম্মদ নূরন নবী

প্রকাশিত : ১৩:৪৬, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১

একে তো আমদানী কিংবা উৎপাদন নিষিদ্ধ, ব্যবস্থাপত্রেও লিখতে চিকিৎসকদের মানা। তারপরও ওষুধের দোকান আর প্রক্রিয়াজাত খাবারের দোকানে সম্পূরক খাবার বা ফুড সাপ্লিমেন্টের সরব উপস্থিতি। বিক্রিও হচ্ছে দেদারসে। এমন বাস্তবতায় নকল ও ভেজাল ফুড সাপ্লিমেন্টের দৌরাত্ম্য তুঙ্গে। এতে মানবদেহে বাসা বাঁধছে নানান মরণব্যাধী। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তদারকি আরও জোরদার করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

রাজধানীর গুলশান এক নম্বরে অভিজাত ফার্মেসীতে একুশের সংবাদ টিম। দেখা মিললো, ওষুধের পাশাপাশি আলাদা আলাদা সেলফে শোভা পাচ্ছে আরও কিছু উপকরণ। হ্যাঁ, এগুলোই ফুড সাপ্লিমেন্ট।

ওষুধ বিক্রি হলো কি হলো না সেটা বিষয় নয়, এসব সম্পূরক খাবারের বাজার কিন্তু মন্দ নয়। বিকিকিনি দেখে এটা বোঝাই যায়। লাভের পাল্লাও বেশ ভারি।

কথা হলো, এর সবগুলোর যে ওষুধ প্রশাসন থেকে অনাপত্তিপত্র আছে তা নয়। যদিও ২০১৬ সালের ওষুধ নীতিতে তা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।

বিক্রেতারা জানান, কাস্টমার যারা এগুলো চায়, তারা হয়তো ব্রান্ডের নাম ধরে চায়। বেশির ভাগ দেখা যাচ্ছে, টিউটিব থেকে সার্জেস্ট হয়ে আমাদের কাছে চায়, আমরা দিয়ে দিচ্ছি। যাদের এগুলোর উপর বিশ্বাস আছে তারাই বিশেষ করে এগুলো নিচ্ছে। 

শরীর স্লিম, ওজন কমানো বা বাড়াতে সক্ষম এমন চটকদার চোখ ধাঁধানো মোড়ক। আসল কিনা বোঝার কোনো উপায় নেই। বাজার সয়লাব মিটফোর্ড আর জিঞ্জিরার এমন নকল পণ্যে। 

মাল্টিভিটামিন, প্রোবায়টিক, ওমেগা-ত্রি নানান ব্রান্ডের ফুড সাপ্লিমেন্টর আড়ালে কি গ্রহণ করছে মানুষ? বলা হচ্ছে একাধিক ভিটামিন, মিনারেল কিংবা পুষ্টি উপাদানের চাহিদা পূরণ করে এসব। কিন্তু গবেষকদের এখানেই দ্বিমত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, আপনি প্রকৃতি থেকে ১১টি ভিটামিন পাচ্ছেন। কিন্তু আপনি যে ক্যাপসুলটি খাচ্ছেন কিংবা ট্যাবলেটটি খাচ্ছেন, যে ওষুধ কোম্পানিরই তৈরি হোক, নকল না ভেজাল না খুবই ভাল বলা হোক না কেন- এগুলোতে কিন্তু ১১টি ভিটামিন নেই। কারণ ওই ১১টি ভিটামিন ম্যানুফ্যাকচারিং করার মতো বিজ্ঞান এখনও আসেনি। এটা হলো একটা ভাওতাবাজি ব্যবসা। ওইগুলো সবই কাঁচাবাজারে কিনতে পাওয়া যায়। আপনি সেগুলো খান, ৫ হাজার টাকা দিয়ে এক বোতল কেনার কোন দরকার নেই।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, তারা যে বলে এটার ভেতর নিউট্রিশিয়ান আছে বা ভিটামিন আছে, মিনারেল আছে। এগুলো কিন্তু অন্যান্য খাবারের মধ্যে আছে।

অসৎ মুনাফার এই বাণিজ্যচক্রের অন্যতম অংশীজন কিছু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও ডায়েটেশিয়ান। উইন-উইন খেলায় একমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত শুধুই গ্রহীতা। 

মেজর জেনারেল (অব.) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, কিছু কিছু ফুড সাপ্লিমেন্টের নামে কিছু প্যাকেট আসে, যে প্যাকেটগুলো ৫ হাজার টাকা, ৪ হাজার টাকা, ২ হাজার টাকা। অনেক লাভ হওয়ার কারণে যারা মার্কেটিং করে ফিজিসিয়ানদের বা কাউকে কাউকে বলে যে পেসকিপশন করলে ৫০ শতাংশ আপনাদেরকে অনারিয়াম দিব।

অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, যে স্টেকহোল্ডাররা জড়িত একমাত্র পেশেনড ছাড়া, কনজ্যুমার ছাড়া বাকি সবাই লাভবান। বিশ্বাস করতে পারেন, একজন ডাক্তার এই ফুড সাপ্লিমেন্ট থেকে ২৫%, ৩০% মুনাফা পেয়ে থাকেন।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি) মঞ্জুর মোরশেদ আহমেদ বলেন, এই যে হেলথ ফুড, ফুড স্লাপ্লিমেন্টের নামে যে সমস্ত ফুড আমদানি হয়, দেশে উৎপাদিত হয়, বাজারজাত হয়, বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া যায় এবং খুব আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অথবা বিভিন্নভাবে এগুলোকে বিক্রি করা হয়। এই বিষয়টা আমরা নজরদারিতে আনার জন্য বিধিমালা তৈরি করছি।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ভিটামিন, মিনারেল কিংবা খাদ্য উপাদানের সহজ ও নির্ভরযোগ্য উৎস হলো প্রাকৃতিক খাবার। হতে পারে তা দেশীয় শাকসবজি ও ফলমূল। আর কাগুজে নিয়মনীতি না রেখে, নিয়ন্ত্রক সংস্থাদের মাঠে আইনের প্রয়োগ বাড়ানোর তাগিদ তাদের।

ভিডিও-

এএইচ/


Ekushey Television Ltd.

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি