নির্বাচনের ফল অনুমোদনে বিলম্ব চায় নেতানিয়াহুর দল
প্রকাশিত : ১৩:৪২, ৩ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৪:০৬, ৩ নভেম্বর ২০২৬
ইসরায়েলের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদনে বিলম্ব চেয়েছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি। নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগে চলমান তদন্তের কথা উল্লেখ করে ফল প্রকাশ স্থগিত রাখার দাবি জানালেও তা নাকচ করে দিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির প্রধান বিচারপতি নোয়াম সোলবার্গ।
এদিকে রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে ‘বৃহত্তর জাতীয় সরকার’ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন নেতানিয়াহু।
গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিদেশি শক্তির অর্থায়নে আরব ভোটারদের উপস্থিতি বাড়ানোর চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলেছে লিকুদ পার্টি। দলটির আইনজীবী ও নির্বাচন কমিটির সদস্য ইলান বোমবাখ এ বিষয়ে কমিটির প্রধানকে চিঠি দিয়ে ফল অনুমোদনের আগে জরুরি বৈঠক আয়োজনের অনুরোধ জানান। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি।
সোলবার্গ জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিটির ফল অনুমোদন আটকে রাখার কোনো আইনগত ক্ষমতা নেই। এমনকি চলমান তদন্তে হস্তক্ষেপ করার এখতিয়ারও কমিটির নেই।
তাঁর মতে, ফল প্রকাশে বিলম্ব হলে বিদায়ী পার্লামেন্টের মেয়াদ অযৌক্তিকভাবে বেড়ে যেতে পারে, যা গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী।
আগামীকাল বুধবার (৪ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিক ফল প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। এর মধ্যে লিকুদ এককভাবে পেয়েছে ২৭টি আসন।
অন্যদিকে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির পেয়েছে ৪৮টি আসন। আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন। ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো পক্ষই অর্জন করতে পারেনি।
এদিকে নেতানিয়াহু সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বৃহত্তর জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন। তবে তিনি নিজেকেই ওই সরকারের প্রধান হিসেবে দেখতে চান এবং বর্তমান ডানপন্থী ও অতি-রক্ষণশীল শরিকদের বাদ দিতে রাজি নন।
একই সঙ্গে রা’আম ও জয়েন্ট লিস্টের মতো আরব দলগুলোর সমর্থননির্ভর সরকার গঠনের বিরোধিতা করেন তিনি।
অন্যদিকে আইজেনকটের দল ইয়াশারসহ চারটি ইহুদি-ভিত্তিক বিরোধী দল নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেছে। নির্বাচনের ফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে নেতানিয়াহু ইসরায়েলের গণতন্ত্রকে আঘাত করছেন বলে অভিযোগ করেছেন আইজেনকট।
বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদও বলেছেন, গণতন্ত্রে নির্বাচনে বিজয়ীরা সরকার গঠন করে, আর পরাজিতরা বিরোধী দলে থাকে।
এদিকে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সরকার গঠনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানো কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসুফ জাবারিন। তিনি বিরোধী দলগুলোকে রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তদন্ত করছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত ও মোসাদ। তবে নির্বাচন কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য নির্বাচনের সামগ্রিক ফল পরিবর্তনের মতো নয়। ফলে তদন্তের পাশাপাশি সরকার গঠন নিয়ে দেশটিতে রাজনৈতিক আলোচনা ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
ঐ.মিষ্টি//
আরও পড়ুন










