ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬

পাগলা মসজিদের রত্নভান্ডারে মিলেছে ১২‌ কে‌জি স্বর্ণ ও ১২ কেজি রূপা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ০৮:৫২, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

ছয় বছর পর কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের রত্নভান্ডার উন্মোচন করা হয়েছে। এতে পাওয়া গেছে ১২ কেজি স্বর্ণ, ১২ কেজি রুপা ও ৩০ দেশের বিদেশী মুদ্রা।

সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় অতিরিক্ত জেলা ম‌্যা‌জি‌স্ট্রেট মো. এরশাদুল আহ‌মেদ বিষয়‌টি নি‌শ্চিত ক‌রেন।

এর আগে সোমবার সকাল নয়টায় খোলা হয় ট্রেজারির দরজা। এরপর সেই 'রত্নভান্ডার'। সেখানে নয়টি কন্টেইনারে ভর্তি ছিল স্বর্ণ-রূপা, ছয়টি সিলগালা খামে ছিল বিদেশী মুদ্রা।

কড়া নিরাপত্তায় এগুলো নিয়ে আসা হয় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে। এরপর মহাউৎসবে শুরু হয় বাছাই, পরিমাপ ও গণনা। এ যেন ‘দ্য গ্র্যান্ড কাউন্টিং’। দিনভর চলে একার্যক্রম।

এসব কাজের তত্ত্বাবধান করেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন।

নিরাপত্তায় ছিলেন তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, দশজন পুলিশ সদস্য এবং ছয়জন এসআরবি সদস্য। পরিমাপ ও মুদ্রা গণনার কাজ করেন জেলা প্রশাসন ও পাগলা মসজিদের কর্মীরা। কাজ করেন রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা। তাঁদের সহায়তা করেন জুয়েলারি সমিতির দশজন স্বর্ণকার।

পরিমাপ শেষে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় অতিরিক্ত জেলা ম‌্যা‌জি‌স্ট্রেট মো. এরশাদুল আহ‌মেদ জানান ছয় বছরে জমা হয়েছে ১২ ‌কে‌জি ১৭৪ গ্রাম স্বর্ণ ও ১২ কে‌জি রূপা।

গণনা কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা রূপালী ব্যাংকের কিশোরগঞ্জ শাখার এজিএম মোহাম্মদ আলী হারেছী জানান, ৩০‌টি দে‌শের বি‌দে‌শি মুদ্রা আছে। ত‌বে এগু‌লো গুন‌তে আরো সময় লাগ‌বে।

এসব স্বর্ণ ও রূপার বর্তমান বাজারমূল্য নির্ধারণ করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিলামে বিক্রি করা হবে। বৈদেশিক মুদ্রাগুলো ব্যাংকের বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে।

পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলা হয় তিন মাস পরপর। বাক্সে পাওয়া যায় টাকা-পয়সা। সেই সঙ্গে সোনাদানা। খোলার সঙ্গে সঙ্গেই টাকার অঙ্ক হিসাব করে জানিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বাক্সে পাওয়া সোনাদানা পাঠিয়ে দেওয়া হয় জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে।

সবশেষ স্বর্ণ-রূপার হিসাব হয়েছিল ২০২০ সালের ১১ মার্চ। ওই সময় প্রায় তিন বছরে জমা হওয়া ৪২০ ভরি স্বর্ণ ও ১৮৮ ভরি রূপা নিলামে বিক্রি করা হয়। দাম পাওয়া যায় ১ কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার ১২০ টাকা। এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা নগদায়ন করে পাওয়া যায় ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৫১ টাকা।

২০২০ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত দানবাক্স খোলা হয়েছে ১৮ বার। কিন্তু সোনাদানা পরিমাপ ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনার আয়োজন এবারই প্রথম।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে পাগলা মসজিদের তহবিলে সব মিলিয়ে জমা আছে ১৩১ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা। পাশাপাশি মসজিদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনুদান হিসেবে এসেছে আরও ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ৯০৬ টাকা।

কিশোরগঞ্জ শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ দেশজুড়ে পরিচিত। মানত পূরণের আশায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই মসজিদে আসেন। তাঁরা দান করেন। এসব দান থেকে পাওয়া অর্থ মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের উন্নয়নসহ মানুষের কল্যাণে খরচ করা হয়।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি