ঢাকা, রবিবার   ০৯ মে ২০২১, || বৈশাখ ২৫ ১৪২৮

প্রেস ফ্রিডম ডে উপলক্ষে কয়টা প্রশ্ন

মানিক মুনতাসির

প্রকাশিত : ১২:২০, ৪ মে ২০২১

১) হাতে গোনা কয়েকটা পত্রিকা-টিভি বাদে কোথাও নিয়মিত বেতন হয় না। ইদ বোনাস তো অনেকের জন্য ডুমুরের ফুল। এই সমস্যার জন্য মূলত কারা দায়ী- তা কি ভেবে দেখেছি? ভাবলে তা থেকে উত্তরণে আপনার/আমার ভূমিকা কি?
 
২) যে কোনও ঘটনা ঘটে গেলে সেটার পক্ষ-বিপক্ষ ব্যবচ্ছেদ করা হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়, কেন?

৩) আপনি কারও পক্ষে বললে বলা হয়- আপনি তৈল মর্দন করছেন। আর বিপক্ষে বললে বলা হয়- আপনি হালুয়া রুটির ভাগ না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আছেন। ফলে প্রকৃতপক্ষে কোনও যোগ্য লোকের প্রশংসাও আপনি করতে পারছেন না। যারা এসব নিয়ে প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য তীব্র সমালোচনা ও বিশোদগার করছেন, তারা আবার আপনার সমগোত্রীয় প্রাণীই বটে।

৪) করোনাকালে বেশিরভাগ পত্রিকা-টেলিভিশনের আয় কমেছে বলা হয়, কিন্তু এর প্রকৃত পরিসংখ্যান নেই কারও কাছেই। কেউ কি তা খুঁজেছি? নাকি পরিস্থিতি উত্তরণে কোনও ভূমিকা রাখছি? তবে হ্যাঁ, প্রায় সব শ্রেণি ও পেশার মানুষের আয় কমেছে।

৫) অনলাইনের এই যুগে ঘরে ঘরে ডটকম ফটকম জন্মেছে, সেটার কোনও নিয়ন্ত্রণ কারও কাছে নেই। আমরা চাই-ই বা কতটুকু সেটাও প্রশ্নবিদ্ধ। তবে হ্যাঁ, মূল ধারার কিছু অনলাইন- নতুন বা পুরাতন, তারা অবশ্যই ভালো করছে।

৬) আপনার ভেতরে কি আছে- তা না দেখে বাহ্যিক রূপে আপনার সম্পর্কে ঢালাওভাবে সমালোচনা করা হচ্ছে। তার প্রতিবাদ করলে উল্টো আক্রমণ করা হচ্ছে। এটা কি অন্য কোনও পেশাতে দেখেছেন? নিজেদের হাঁড়ির খবর অন্যকে জানাতে আপনি আমি এত ব্যস্ত কেন?

৭) কদিন আগে এক সিনিয়রকে জিজ্ঞেস করলাম- ভাই, অনেক দিন দেখা হয় না। কোথায় আছেন এখন? তিনি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে জবাব দিলেন- ভাই, নিজে একটা অনলাইন দাঁড় করানোর চেষ্টা করছি। পারলে দু-একটা বিজ্ঞাপন দিয়ে হেল্প কইরেন। এ অবস্থার জন্য কি সরকার আর মালিকরাই দায়ী?

৮) আপনার ভাল/মন্দ কোনও সহকর্মী যে কোনও কারণে কর্মহীন হয়ে গেলে আপনি মনে মনে খুশিই হচ্ছেন। আবার নতুন কারও জব হলে তাকে ফেসবুকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। কখনও কি ভেবেছি, চাকরিহারা ব্যক্তিটা আসলে কতটুকু অপরাধী?
 
৯) সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, সচিব বা গণমাধ্যমের মালিকপক্ষের কারও সাথে যোগাযোগ থাকলেই তাকে তৎক্ষণাৎ দালাল উপাধি দিচ্ছেন। আরে ভাই, একজন ভাল রিপোর্টারের বৈশিষ্ট্যই তো সবার সাথে যোগাযোগ রাখা- তা কি ভুলে গেছেন?
 
১০) ১৯৭১ সালের আগে বা পরে এখন পর্যন্ত কি এটা আমরা বলতে পারি যে, কোনও একটা সময় এখানে গণমাধ্যম পুরোপুরি স্বাধীন ছিল?

১১) আমরা যারা সাংবাদিকতার চেয়ে দলগত চেতনাকে বেশি উজ্জীবিত রাখি, তারা কি কখনও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি?

১২) গণমাধ্যমকে পুরোপুরি মুক্ত বা স্বাধীন করে দিলে আমরা এর ভার বহনে কতটা প্রস্তুত- তা কি ভেবে দেখেছি? এখানে আমরা বলতে শুধু সাংবাদিক সমাজ নয়। আমি সবার কথা বলছি।

১৩) বর্তমানে আমাদের দেশের গণমাধ্যম আর সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যকার সাংঘর্ষিক দিকগুলোকে কি কখনও বিবেচনায় নিয়েছি? যে কোনও একটি তথ্য পেলে সেটা গণমাধ্যমে প্রকাশ না করে কেন তাহলে সবার আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় (বিশেষত- ফেসবুক) শেয়ার করছি? এতে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নামক শব্দের সঠিক ব্যবহার হচ্ছে কি?

১৪) কথায় বলে, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। কখনও কি এই দর্পণের সামনে নিজেকে দাঁড় করিয়েছি?

১৫) সততা, সৎ, যোগ্য, বিশেষজ্ঞ- এসব শব্দের পরিমাপক কি? সেটার মাত্রা কি? নিউজ করার সময় বা কারও সম্পর্কে বলার সময় এসবের প্রয়োগবিধি সম্পর্কে কতটা সম্যক ধারণা রাখছি?

এনএস/


** লেখার মতামত লেখকের। একুশে টেলিভিশনের সম্পাদকীয় নীতিমালার সঙ্গে লেখকের মতামতের মিল নাও থাকতে পারে।
Ekushey Television Ltd.

টেলিফোন: +৮৮ ০২ ৮১৮৯৯১০-১৯

ফ্যক্স : +৮৮ ০২ ৮১৮৯৯০৫

ইমেল: etvonline@ekushey-tv.com

Webmail

জাহাঙ্গীর টাওয়ার, (৭ম তলা), ১০, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫

এস. আলম গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি