ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, লক্ষ ৪ কোটি পরিবার: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
প্রকাশিত : ২১:০৫, ১২ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২২:০১, ১২ অক্টোবর ২০২৬
সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার ও প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প 'ফ্যামিলি কার্ড' বিতরণের লক্ষ্যে দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দেশের সাড়ে ৩ কোটি থেকে ৪ কোটি পরিবারের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ২ কোটি ১০ লাখ পরিবার এই কার্ডের চূড়ান্ত সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হতে পারে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের সূচনা উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের সকল যোগ্য পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে কেবল যোগ্যতার ভিত্তিতে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
কার্ডের প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম এড়াতে 'প্রক্সি মিন্স টেস্ট' (পিএমটি) নামক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে পরিবারের প্রকৃত আর্থসামাজিক অবস্থা যাচাই করে একটি বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রেডিং করা হবে। এর ফলে তথ্য সংগ্রহ ও উপকারভোগী নির্বাচনে ব্যক্তিগত প্রভাব খাটানোর সুযোগ থাকবে না এবং ভুলভ্রান্তির আশঙ্কা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসবে।
দেশব্যাপী এই বিশাল কার্যক্রম শুরু করার আগে সফলভাবে এর পাইলটিং বা পরীক্ষামূলক প্রকল্প সম্পন্ন করা হয়েছে। পাইলটিং পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও উপকারভোগী নির্বাচনের সম্ভাব্য ত্রুটির হার মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশের মধ্যে ছিল, যা ইতিমধ্যেই সংশোধন করা হয়েছে। এখন তথ্য সংগ্রহকারীরা সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিখুঁতভাবে ডেটা সংগ্রহ করবেন, যেন কোনো যোগ্য পরিবার এই তালিকা থেকে বাদ না পড়ে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই কার্যক্রমে কোনো রাজনৈতিক কারসাজির সুযোগ রাখা হয়নি। তথ্য সংগ্রহ ও উপকারভোগী নির্বাচনের কমিটিতে কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি; বরং ইউএনও-এর নেতৃত্বে গঠিত কমিটির মাধ্যমে কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে। এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ডের ডেটাবেইসে সংরক্ষিত জনগণের তথ্যের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্বিস্তরবিশিষ্ট সুরক্ষাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এমএইচ
আরও পড়ুন










