ঢাকা, শুক্রবার   ২৩ আগস্ট ২০১৯, || ভাদ্র ৮ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস আজ

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১০:২৬ ২৮ জুলাই ২০১৯

আজ ২৮ জুলাই, রোববার ‘বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস’। হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসজনিত লিভার সিরোসিস এবং লিভার ক্যান্সারে প্রতিবছর মারা যান অন্তত ২০ হাজার মানুষ। চিকিৎসকরা বলছেন, নিরাময়যোগ্য হলেও লিভার সিরোসিস অথবা লিভার ক্যান্সার শেষ পর্যায়ে না পৌঁছালে রোগীরা তা বুঝতে পারেননা। দেশে প্রায় ৫ থেকে ৬ কোটি মানুষ হেপাটাইটিস বি এবং প্রায় ১ কোটি মানুষ হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে সংক্রমিত। এ স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ চিকিৎসকদের।

রোমান হাসান; ১৭ বছরের ছেলেটি ক্রনিক হেপাটাইটিস-বি’তে আক্রান্ত দীর্ঘদিন ধরে। চিকিৎসার জন্য ভারতেও গিয়েছিলো। পেটে টিউমার আছে বলে অপারেশন করানোর কথা বলেছিলো সেখানকার চিকিৎসকরা। আর্থিক সংকটে দেশে এসে রোমান ভর্তি হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় আর টিউমারের অস্থিত্ব পাওয়া যায়নি।

লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত মিনু, শুরুতে বুঝতেই পারেননি। চিকিৎসা না নেয়ায় বর্তমানে তার অবস্থা সংকটাপন্ন।

হেপাটাইটিস, লিভারের একটি ভয়াবহ ব্যাধি। এ রোগে বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ১৩ কোটি ৪ লাখ মানুষ প্রাণ হারায়। মৃত্যুর প্রথম ১০টি কারণের অন্যতম হেপাটাইটিস। লিভারে এ, বি, সি, ডি এবং ই হেপাটাইটিস দেখা যায়। এর মধ্যে হেপাটাইটিস বি ও সি  প্রাণনাশী। বিশ্বে ৩৫ কোটি মানুষ হেপাটাইটিস বি এবং ১৭ থেকে ২০ কোটি মানুষ হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে আক্রান্ত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৪ থেকে ৭ শতাংশ হেপাটাইটিস বি এবং ১ থেকে ৩ শতাংশ হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। আর গর্ভবর্তী মায়েদের ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত হন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় ৫ থেকে ৬ কোটি মানুষ হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সংক্রমিত। আর প্রতিবছর হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসজনিত লিভার সিরোসিস অথবা লিভার ক্যান্সারে মারা যান প্রায় বিশ হাজার মানুষ।

অধ্যাপক মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল), চেয়ারম্যান, লিভার বিভাগ, বিএসএমএমইউ জানান, রক্ত এবং অনিরাপদ যৌন সর্ম্পকের মাধ্যমে ছড়ায় হেপাটাইটিস বি ভাইরাস। আর হেপাটাইটিস সি ভাইরাস ছড়ায় কেবল রক্তের মাধ্যমে। হেপাটাইটিস ছোঁয়াচে নয়, সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময়যোগ্য ব্যাধি।

আক্রান্তদের একটা বড় অংশ পানিপড়া, ডাবপড়া এবং ঝাঁড়ফুকে বিশ্বাসী। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে সঠিক চিকিৎসা নেয়ার কথা বলছেন চিকিৎসকরা।

এসএ/

 

 

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি