Ekushey Television Ltd.

ব্যথামুক্ত ইপিউডুরাল প্রসবে মা-শিশু থাকেন ঝুঁকিমুক্ত: ডা. ফয়েজা

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৫:৫৪ ৩১ অক্টোবর ২০১৮ | আপডেট: ১৮:৩৫ ১ নভেম্বর ২০১৮

ডা. কাজী ফয়েজা আক্তার

ডা. কাজী ফয়েজা আক্তার

ব্যথামুক্ত প্রসব পদ্ধতি বা ইপিউডুরাল পদ্ধতি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। একদিকে যেমন এই পদ্ধতি নিয়ে লোকজনের আগ্রহ বাড়ছে পাশাপাশি এর বিভিন্ন দিক নিয়েও জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। ইপিউডুরাল পদ্ধতি নিয়ে সম্প্রতি একুশে টেলিভিশন অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর আমাদের ফেইসবুক পেইজে (https://www.facebook.com/pg/Ekushey24online) বিভিন্ন পাঠক এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকেন।

পাঠকের সেই প্রশ্নগুগুলোর নিয়ে একুশে টিভি অনলাইন কথা বলে ইপিউডুরাল পদ্ধতি নিয়ে কাজ করা ইমপালস হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভগের এর কনসালটেন্ট ডা. কাজী ফয়েজা আক্তারের (এমবিবিএস, এফসিপিএস, এমসিপিএস) সঙ্গে। পাঠকের প্রশ্ন নিয়ে এই চিকিৎসকের সাক্ষাৎকারে প্রথম পর্ব আজ প্রকাশিত হচ্ছে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আলী আদনান

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: ব্যথাবিহীন প্রসব পদ্ধতি বলতে আমরা কী বুঝব?

ডা. কাজী ফয়েজা আক্তার: একটা মেয়ের যখন প্রসব ব্যথা উঠে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সেটা সহনীয় থাকে। কিন্তু এক পর্যায়ে গিয়ে সেটা অসহনীয় হয়ে যায়। যে এই ব্যথা কখনো পায়নি, সে বুঝবে না এই ব্যথা কতোটা তীব্র। আমরা ব্যথামুক্ত প্রসব পদ্ধতি বলতে বুঝাচ্ছি, এই ব্যথাটাকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সহনীয় ব্যথায় এনে দেওয়া যাতে সে ব্যথাটা নিতে পারে এবং ব্যথাটা সহনীয় পর্যায়ে রেখে প্রসব করতে পারে।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: এই পদ্ধতিতে কি ব্যথামুক্ত প্রসব করা সম্ভব?

ডা. কাজী ফয়েজা আক্তার: অন্ত:স্বত্ত্বার প্রসবকালীন ব্যথা তো উঠবেই। ব্যাপারটা এমন একটা মেয়ের বাসায় থাকা অবস্থায় প্রসব ব্যথা উঠল এবং সে ব্যথাটা নিয়েই হসপিটালে এল। আবার এমনও হতে পারে যে, তার প্রসব ব্যথা উঠল না কিন্তু আমরা পেইন উঠালাম। ব্যথা শুরু হওয়ার একটা অনুভূতিও তার হলো। একটা পর্যায় পর্যন্ত ব্যথাটা সহনীয় থাকে। যখন সে তার সব কাজকর্ম করতে পারে। কিন্তু যখন ব্যথাটা তীব্র হয় তখন প্রসূতি নিজেই বলে, আমি ব্যথাটা নিতে পারছি না। তখনই আমরা তার এই ব্যথাটাকে সহনীয় মাত্রার করে দিই। যাতে করে প্রসব হওয়া পর্যন্ত ( হতে পারে তা কয়েক ঘন্টা বা তারও বেশী) সহনীয় মাত্রায় থাকে। এই সহনীয় মাত্রায় থাকাবস্থায় তার সন্তান প্রসব হয়।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: ব্যথামুক্ত প্রসবে কি অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়া লাগে?

ডা. কাজী ফয়েজা আক্তার: আমরা ব্যথামুক্ত প্রসব পদ্ধতিতে ব্যবহার করছি ইপিউডুরাল অ্যানেস্থেসিয়া। এতদিন শুধু সিজার ডেলিভারীতে এ্যানেস্থেসিয়া ব্যবহার হতো। অনেকে মনে করে দুটো বোধ হয় একই এ্যানেস্থেসিয়া। আসলে কিন্তু তা না। দুটো আলাদা অ্যানেস্থেসিয়া।

ইপিউডুরাল অ্যানেস্থেসিয়ার আসল কাজ হচ্ছে, মায়ের জরায়ুতে কার্যকারিতার ফলে যে ব্যথা হচ্ছে তার অনুভূতিটা মায়ের মস্তিষ্ক পর্যন্ত যেতে দেবে না। কিন্তু সিজারে যে অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়া হয় তা একদিকে যেমন ব্যথা বন্ধ করে তেমনি কোমর থেকে নিচ পর্যন্ত অবশ করে দেয়।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: একটা প্রসব ব্যথায় তিনটা স্তর থাকে। ইপিউডুরাল কোন পর্যায়ে দেওয়া হয়?

ডা. কাজী ফয়েজা আক্তার: জরায়ুর মুখ যখন ৪ সেমি খুলে যাবে তখন ইপিউডুরাল নেওয়া ভালো। তবে হ্যাঁ, তার আগে যে ইপউডুরাল নেওয়া যাবেনা তা নয়, এর আগেও নেওয়া যাবে। কিন্তু তাতে সময়ের কিছু গড়মিল হবে। কেননা, আমাদের একটা হিসাব আছে জরায়ুর মুখ ৪ সেমি হলে ইপিউডুরাল নিলে ঘন্টায় ১ সেমি করে খুলবে এবং পাঁচ থেকে ছয় ঘন্টার মধ্যে প্রসব হয়ে যাবে।

ইপিউডুরাল আগে নিলে তাকে মরিটর করা, এ্যানেস্থেসিয়া মেনটেইন করা- সময়টা বেশী লেগে যায়।

একুশে টেলিভিশন অনলাইন: ইপিউডুরাল পদ্ধতির সুবিধাগুলো কী কী?

ডা. কাজী ফয়েজা আক্তার: মায়ের জীবনে সবচেয়ে বড় কষ্টকর সময় হচ্ছে প্রসব ব্যথা। ইপিউডুরাল পদ্ধতির বড় সুবিধা মা এই ব্যথা থেকে মুক্ত থাকে। দ্বিতীয় সুবিধা হল, ইপিউডুরাল পদ্ধতিতে মা কিংবা বাচ্চা কারো কোনো ক্ষতি হয় না। তৃতীয়ত, যদিও মাকে অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়া হচ্ছে তথাপি মা কিন্তু স্বাভাবিক চলাফেরা, ওয়াশ রুমে যাওয়া, খাওয়া দাওয়া করা- সব করার সক্ষমতা রাখে। চতুর্থত, মা ব্যথা অনুভব না করলেও জরায়ুর চাপ অনুভব করে। তার যে প্রসব হচ্ছে সেটা সে বুঝে। বাচ্চার কান্না শুনে। মায়ের পুরোপুরি জ্ঞান থাকে। এগুলো গেল একটা দিক। আরেক দিক আছে। এবার সেটা নিয়ে বলি। বাচ্চার ওজন যতটুকু হওয়ার কথা ততোটুকু যদি না হয়, মা ও বাচ্চার যে ব্লাড সার্কুলেশন তা হ্যাম্পার হয়না।

( চলবে)

আরো পড়ুন : সাদা স্রাব গেলে কী করবেন : ডা. কাজী ফয়েজা

সন্তান নিতে চাই কতবার মেলামেশা জরুরি: ডা. কাজী ফয়েজা (ভিডিও)

 ৩৫ এর পর মা হওয়া কী ঝুঁকিপূর্ণ : ডা. কাজী ফয়েজা (ভিডিও)

অা অা/ এআর

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি