ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২০:১১:৩৯

Ekushey Television Ltd.

মহাকাশে যাবে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৫:৩৪ পিএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার

মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা পরিকল্পনা করছে, ২০২১ সাল নাগাদ জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপটি মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হবে। যেটি পৃথিবী থেকে ১৫ লাখ কিলোমিটার দূরত্বে থেকে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করবে। বিজ্ঞানীদের দাবি, এই দুরবিনটি মহাকাশবিদ্যায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে। তারা আশা করছেন, পৃথিবীর কাছাকাছি অন্য কোনো নক্ষত্রের অন্য কোনো গ্রহের প্রাণের অস্তিত্ব আছে কি-না, সেটি এই টেলিস্কোপের মাধ্যমে খুঁজে পাওয়া যাবে। নাসা বলছে, আক্ষরিক অর্থেই এটি অতীত সময়ে নিয়ে যাবে, যার মাধ্যমে বিশ্বব্রহ্ম্মাণ্ডের প্রথম গ্যালাক্সি তৈরির বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাবে। যদিও সেসব দাবি এখন ততটা জোরালো নয়।

তবে ধারণা হচ্ছে, হাবল স্পেস টেলিস্কোপের এই উত্তরসূরি টেলিস্কোপে এমন অনেক কিছুই রয়েছে, যা এর আগে আর মহাকাশে পাঠানো হয়নি। প্রায় এক হাজার কোটি ডলার খরচ করে টেলিস্কোপটি তৈরি করা হয়েছে। এটিকে সংক্ষেপে ডাকা হচ্ছে জেডব্লিউএসটি নামে। ধারণা করা হচ্ছে, মহাকাশের কোনো নক্ষত্রের কোনো গ্রহে প্রাণের উপযুক্ত পরিবেশ আছে কি-না, সেটি এই দুরবিনের মাধ্যমে শনাক্ত করা যাবে।

ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের মহাকাশ বিজ্ঞানীদের একটি দল এই টেলিস্কোপ ব্যবহার করে মহাবিশ্বে প্রাণ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র তৈরির প্রস্তাবনা দিয়েছেন। ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের মহাকাশ বিজ্ঞানী জোসুয়া ক্রিসানসেন-টোটন এবং তার দল বোঝার চেষ্টা করছেন, প্রাণের চিহ্ন আছে, কাছাকাছি থাকা কোনো নক্ষত্রের কোনো গ্রহে এমন কোনো নমুনা এই টেলিস্কোপটি শনাক্ত করতে পারে কি-না।

টেলিস্কোপটি আলোর ক্ষেত্রে এতটাই সংবেদনশীল যে, গ্রহের আবহাওয়ার ভেতর রাসায়নিক কোনো নড়াচড়া থাকলে, এই দুরবিন সেটি শনাক্ত করতে পারবে। যেমন পৃথিবীর আবহমণ্ডলে বেশ কয়েকটি গ্যাসের আস্তরণ রয়েছে। এর অনেক কিছু পৃথিবীর প্রাণের কারণে তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞানীরা এখন সেসব গ্রহে এরকম গ্যাসের সন্ধান করবেন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জীবনের কারণে পৃথিবীতে একরকম গ্যাসের আবহ রয়েছে।

কিন্তু হঠাৎ করে যদি সব প্রাণ বিলুপ্ত হয়ে যায়, পৃথিবীর আবহও পরিবর্তন হয়ে যাবে। এতদিন ভাবা হতো, প্রাণের অস্তিত্ব হিসেবে অক্সিজেন বা ওজোন থাকতে হবে। কিন্তু সেক্ষেত্রে ধরে নিতে হবে, সেখানে থাকা প্রাণের জীবধারণ আমাদের মতোই হবে। কিন্তু সেটা হয়তো নাও হতে পারে। এ কারণে এখন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে আবহাওয়ায় রাসায়নিক অস্থিতিশীলতার ওপর, যেখানে নানা ধরনের গ্যাসের অস্তিত্ব থাকতে পারে এবং সেসব গ্যাস ওই গ্রহের জন্য কতটা স্বাভাবিক পরিবেশ তৈরি করছে। এসব বিশ্নেষণে সক্ষম হবে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ।

যুক্তরাজ্যের মহাকাশ বিজ্ঞানী অধ্যাপক জিলিয়ান রাইট বলছেন, মহাকাশে এর আগে এত বড় কোনো কিছুর সুবিধা আমরা পাইনি। একটি টেলিস্কোপের ক্ষেত্রে বলা চলে, সেটি মহাবিশ্বের একটি জানালা খুলে দেয়। জেমস ওয়েবের ক্ষেত্রে এটা পুরোপুরি সত্যি। জেমস ওয়েব টেলিস্কোপটি নাসার নেতৃত্বে তৈরি করা হচ্ছে, তবে এর সঙ্গে ইউরোপিয়ান এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সিও রয়েছে। জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ ২০২১ সাল নাগাদ মহাকাশে পাঠাতে চায় নাসা।

সূত্র,বিবিসি



© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি