ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৮ জুলাই ২০১৯

দেখুন ভিডিও

মাটির নিচের এই গ্রামে এখনও বসবাস ৩০০০ মানুষের!

 প্রকাশিত: ১১:৪২ ৫ এপ্রিল ২০১৯   আপডেট: ১২:২৯ ৫ এপ্রিল ২০১৯

উপর থেকে দেখে বোঝার কোনও উপায় নেই যে এখানে পায়ে তলায় (মাটি থেকে ২২-২৩ ফুট গভীরে) বসবাস করছে একটা গোটা গ্রাম! কারণ গোটা গ্রামটাই গড়ে উঠেছে মাটির নিচে। এই গ্রামের প্রতিটি বাড়ির স্থাপত্য পরিকল্পনা এক কথায় অসাধারণ! ঘরগুলোতে তাপমাত্রা শীতকালে ১০ ডিগ্রি কম হয় না আর গ্রীষ্মে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকে না। কোথায় রয়েছে এমন গ্রাম? আসুন জেনে নেওয়া যাক-

চীনের হেনান প্রদেশের সানমেনশিয়ায় রয়েছে এই অদ্ভুত গ্রাম। প্রায় ২০০ বছর ধরে এখানে মাটির তলাতেই বাড়ি বানিয়ে বসবাস করছেন কয়েক হাজার মানুষ। সানমেনশিয়া এলাকায় এমন অন্তত ১০ হাজার ঘরের সন্ধান মিলেছে। এগুলোর বেশির ভাগই বর্তমানে পরিত্যক্ত। মাটির নিচে তৈরি এই ঘরগুলোকে চীনা ভাষায় বলা হয় ‘ইয়ায়োডং’, যার অর্থ হল গুহা ঘর। জানা গেছে, একটা সময়ে এখানে প্রায় হাজার বিশেক মানুষের বসবাস ছিল। কিন্তু আধুনিক সুযোগ সুবিধার অভাবে এবং প্রতিকূল জীবনযাত্রার চাপে অনেকেই এলাকা ছেড়ে চলে যান। তবে এখনও সানমেনশিয়া এলাকার এই গুহা ঘরগুলোতে প্রায় ৩ হাজার মানুষ বসবাস করেন।

মাটি থেকে ২২-২৩ ফুট গভীরে তৈরি এই ঘরগুলো লম্বায় ৩৩ থেকে ৩৯ ফুট পর্যন্ত হয়। ঐতিহাসিকদের মতে, হেনান প্রদেশের সানমেনশিয়ায় ‘ইয়ায়োডং’-এ বসবাসের ইতিহাস ২০০ বছরের বেশি প্রাচীন নয়। তবে চীনের পার্বত্য এলাকায় আজ থেকে প্রায় ৪ হাজার বছর আগে, ব্রোঞ্জ যুগে এই ধরনের গুহা ঘর তৈরি করে বসবাস করতেন একদল মানুষ।

২০১১ সাল থেকে এই গ্রামটির সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে স্থানীয় প্রশাসন। বর্তমানে এই সব ‘ইয়ায়োডং’ বা গুহা ঘরগুলোতে বিদ্যুত সংযোগসহ সব রকম আধুনিক সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ইয়ায়োডংগুলো ভূমিকম্পেও ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। আশ্চর্য এই ঘরগুলোর আকর্ষণে এই এলাকায় বর্তমানে পর্যটকদের আনাগোনা অনেকটাই বেড়ে গেছে। পর্যটক টানার জন্য এখন ‘ইয়ায়োডং’ ভাড়া দেওয়ারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। এক মাসের জন্য ভাড়ায় এই ‘ইয়ায়োডং’-এ থাকতে চাইলে আপনাকে গুনতে হবে প্রায় ২ হাজার ৮১ টাকা (২১ ইউরো)। পছন্দ হয়ে গেলে কিনেও নিতে পারেন এ রকম একটি গুহা ঘর। শীততাপ নিয়ন্ত্রিত এই ‘ইয়ায়োডং’-এর দাম বাংলাদেশি মূদ্রায় প্রায় ৩১ লাখ ৭১ হাজার ৫৩৬ টাকা (৩২ হাজার ইউরো)।

সূত্র: জি নিউজ

একে//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি