ঢাকা, শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ৫:৩৪:১৩

আশুলিয়ায় বিরল প্রজাতির গন্ধগকুল উদ্ধার

আশুলিয়ায় বিরল প্রজাতির গন্ধগকুল উদ্ধার

ঢাকার উপকণ্ঠ আশুলিয়ায় বিরল প্রজাতির একটি গন্ধগকুল উদ্ধার করেছে ঢাকার বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের একটি দল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আশুলিয়ার জামগড়া এলাকা থেকে প্রাণীটিকে উদ্ধার করা হয়। বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকালে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় গন্ধগকুলকে দেখতে পায় একদল যুবক। পরে গন্ধগকুল আটকে পিছু নেয় তারা। প্রায় কয়েক ঘণ্টা চেষ্টার পর বিরল প্রজাতির প্রাণীটিকে ধরতে সক্ষম হন তারা। বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের পরিদর্শক অসীম মল্লিক জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গন্ধগকুলটি উদ্ধার করেছি। এই প্রজাতির প্রাণী সচরাচার চোখে পরে না। বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের পরিচালক মিহির কুমার দো’র তত্বাবধানে গন্ধগকুলটিকে গাজীপুরের ন্যাশনাল পার্কে অবমুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি। একে//
যে কাঠের মধ্যে সংগীতের ঝংকার

যন্ত্রসংগীতের বাজনার পেছনে শুধু শিল্পীর দক্ষতা ও সংগীতবোধই কাজ করে না, বাদ্যযন্ত্রের নির্মাতারও অবদান থাকে৷ সেই বাদ্যযন্ত্রের জন্য কাঠ সংগ্রহকারীর কৃতিত্বও কম নয়৷ বাদ্যযন্ত্রের কাঠের সন্ধানে প্রায় ৩০ বছর ধরে ফাবিও অগনিবেনিডাস বাদ্যযন্ত্র তৈরির জন্য উপযুক্ত কাঠের সন্ধান করে চলেছেন৷ কয়েক’শো বছর ধরে ভাল ডি ফিয়েমে জঙ্গল থেকে বেহালা, গিটার, পিয়ানোর মতো বাদ্যযন্ত্র তৈরির জন্য কাঠ সংগ্রহ করা হচ্ছে৷ সেখানে যেটুকু অবশিষ্ট রয়েছে, ফাবিও তা রক্ষা করতে চান৷ ফাবিও বলেন, এই গাছের কাণ্ডের ব্যাস বেশ উপযুক্ত, টেক্সচারও বেশ ভালো৷ কিন্তু এই ফাটল দেখিয়ে দিচ্ছে যে গাছটি পড়ে যাওয়ার সময় দু’টুকরো হয়ে গিয়েছিল৷ ফলে খারাপ লাগলেও এটি আর ব্যবহার করতে পারবো না৷ ফাবিও-র হাতে বেশি সময় নেই৷ তিনি কীটপতঙ্গের হাত থেকে এই কাঠ রক্ষা করতে চান৷ তিনি কাজের প্রতি, গাছের প্রতি ভালবাসা থেকেই এমনটা করেন৷ আবেগ-অনুভূতি ছড়া সেটা সম্ভব নয়৷ পাহাড়ের নিচে উপত্যকায় ফাবিও-র পারিবারিক কারখানায় সেই কাঠ বাদ্যযন্ত্র তৈরির জন্য প্রস্তুত করা হয়৷ ফাবিও-র তত্ত্বাবধানে স্প্রুস গাছের কাঠ সুরের ঝংকারের জন্য উপযুক্ত করে তোলা হয়৷ বিশ্বের অনেক প্রথম সারির বাদ্যযন্ত্র প্রস্তুতকারক কোম্পানি তার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাঠ কেনে৷ বিশেষ করে বেহালার সুরের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা কাঠের বিশেষ কদর রয়েছে৷ বছর ও মান অনুযায়ী তার মূল্য স্থির করা হয়৷ ৩০০ বছর আগেই আন্তোনিও স্ট্রাডিভারি এই কাঠ দিয়ে তার বেহালা তৈরি করেন৷ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে নতুন সমস্যা ফাবিও-র কারখানায় একটা সমস্যা রয়েছে, আর সেটা হলো অর্থের অভাব৷ আগামী কয়েক মাসেই এত পরিমাণ কাঠ সংগ্রহ করতে হবে, যা সাধারণত চার বছরে করা হয়৷ এমন উদ্যোগের জন্য বিশাল ব্যয়ের প্রয়োজন৷ ফলে ফাবিও তার ক্রেতা ও বেসরকারি সাহায্যকারীদের কাছে আর্থিক সহায়তা চাইছেন৷ সংগৃহীত কাঠ ঠিকমতো গুদামজাত করার জন্য তার ঋণের প্রয়োজন৷ কাঠের মূল্য যেন কমে না যায়, সেটাই তার উদ্দেশ্য৷ তবে ফাবিও নিশ্চিত, যে পরে সেই কাঠ বিক্রি করে তিনি সহজেই ঋণ শোধ করতে পারবেন৷ সেই লক্ষ্যে তিনি আরও সতর্কতার সঙ্গে গাছের সন্ধান করছেন৷ ফাবিও অগনিবেনি বলেন, আমাকে প্রত্যেকটি গাছের কাণ্ড ভালো করে পরীক্ষা করতে হবে৷ চোখ, কান ও হাত আমাকে সে কাজে সাহায্য করে৷ কোন অংশটি কোন বাদ্যযন্ত্রের জন্য উপযুক্ত তা ভাবতে হবে৷ একটি কাণ্ড থেকে কতগুলো টুকরা আমি পেতে পারি? শুধু সেরা মানের কাঠ নিয়েই বাকি কাজে হাত দেওয়া হয়৷ কাঠের উপর থেকে ফাবিও কখনও নজর হঠান না, এমনকি করাত চালানোর সময়েও নয়৷ সেখানেই টেক্সচার বরাবর গাছের কাণ্ড কাটা হয়৷ সেই সব টুকরা দিয়ে পিয়ানোর নিচে সাউন্ডবোর্ডের পাত তৈরি হয়৷ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রতি মিলিমিটারের উপর নজর রাখতে হয়৷ করাত মিস্ত্রী ফ্রাংকো সেবার-এর ঘাড়ে আরও অনেক দায়িত্ব থাকে৷ তিনি বলেন, এই সব গাছ বেড়ে উঠতে ১২০ বছর সময় লেগেছে৷ তারপর মাত্র দুই মিনিটের ঝড়ে সব ধ্বংস হয়ে গেছে৷ ভাবলেই মনে কষ্ট হয়৷ কারণ বিপর্যয় সামলে উঠতে এই জঙ্গলের আবার ১২০ বছর সময় লাগবে৷ ক্রেতাদের সহায়তা ক্রেতারা অবশ্যই ফাবিও-কে সাহায্য করছেন৷ তার অভিজ্ঞতা, তার জ্ঞান তাদের কাজের ক্ষেত্রে অপরিহার্য৷ এক বেহালা প্রস্তুতকারক কোম্পানির প্রতিনিধি সেসিলিয়া পিয়াৎসি বলেন, সহকর্মীসহ ফাবিও-র উপর বিশাল দায়িত্ব রয়েছে৷ একমাত্র সেই সঠিক কাঠের সন্ধান করতে পারে৷ বেহালা প্রস্তুতকারক হিসেবে আমরা সেটা পারি না৷ কোনও বাদ্যযন্ত্রের সৃষ্টির কাজে প্রত্যেকের নিজস্ব অবদান রয়েছে৷ এ ক্ষেত্রে পারস্পরিক আস্থার প্রয়োজন রয়েছে৷ সুরেলা কাঠের প্রতি ফাবিও অগনিবেনি-র নিষ্ঠা সম্পর্কে বিশেষ করে তার গ্রাহকরাই অবগত আছেন৷ অর্থাভাব কাটিয়ে গোটা বিশ্বের সংগীতপ্রেমীদের জন্য গাছগুলো রক্ষা করতে না পারলে সেই পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে৷ সূত্র: ডয়চে ভেলে একে//

বিয়ের তিন মিনিটের মধ্যে ডিভোর্স!

সদ্য সই করেছেন বিয়ের কাগজে। তিন মিনিটের মধ্যেই ডিভোর্স! কুয়েতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা কি বিশ্বের ইতিহাসে সব থেকে কম সময়ের দাম্পত্য? বিয়ের তিন মিনিটের মাথায় এই ডিভোর্সের পিছনে রয়েছে কয়েকটি হোঁচট। বিয়ের আসরে নববধূ কয়েক বার হোঁচট খেতেই বরের মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে ‘স্টুপিড’ শব্দটি। ব্যস। তাতেই ধুন্ধুমার। মহাখাপ্পা হয়ে কনে বিবাহ বিচ্ছেদের পথে হাঁটলেন। আদালতে বিয়ে করতে ঢুকেছিলেন যুগল। বেরিয়ে এলেন ডিভোর্স করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘খলিজ টাইমস’ জানাচ্ছে, এই ঘটনায় কনের রাগ প্রকাশ পেলেও বরের কোনও প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যায়নি। ইন্টারনেটে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনরা এককাট্টা হয়ে কনেকেই সমর্থন করছেন। অনেকেই বলেছেন, বর বাবাজি যে বদমেজাজি, তা বিয়ের তিন মিনিটের মধ্যেই টের পাওয়া গেছে। আর তাই দেরি না করে কনে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা একেবারেই যথাযথ। বিয়ের প্রথম রাতে বিড়াল মারার প্রবাদটি এখানে একটু বাড়াবাড়িসহ উপস্থিত। এ থেকে নতুন কোনও প্রবাদ জন্মাতে পারে বলেও অনেকে মন্তব্য করেছেন। সূত্র: এবেলা একে//

সৌরজগতেই বাস করে এই ‘তুষারমানব’

যেন অবিকল অপটু হাতে বানানো কোনও তুষারমানব। নাম ‘আল্টিমা থুলে’। নাসার নিউ হরাইজনস স্পেসক্র্যাফটের পাঠানো ছবি জুড়ে কেবলই বিস্ময়। সৌরজগতের কুইপার বেল্ট অঞ্চলে অবস্থিত চির তুষারের জগতে অবস্থান ‘আল্টিমা থুলে’র। নিউ হরাইজনস ‘আল্টিমা থুলে’-র পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তার অনেকগুলো ছবি তুলেছে। মিশন প্রিন্সিপাল গবেষক অ্যালান স্টার্ন জানাচ্ছেন, এই আকৃতির কোনও মহাজাগতিক বস্তুর ছবি এর আগে তোলা হয়নি। গত ১ জানুয়ারি ৫০ হাজার কিলোমিটার দূরত্ব থেকে এই জোড়া গ্রহাণুর ছবি তোলা হয়েছে। ২০১৪ এমইউ৬৯ নামের এই মহাজাগতিক বস্তুর ছবি খুঁটিয়ে দেখে বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্তে এসেছেন এর দুটি অংশ রয়েছে। বড় অংশটিকে ‘আল্টিমা’ ও ছোটটিকে ‘থুলে’ নামকরণ করা হয়েছে। ভাল করে পর্যবেক্ষণের পরে বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, এরা গোলাকার নয়। বলা যায় চ্যাপটা। মহাজাগতিক বস্তুর আকার সম্পর্কে যা ধারণা রয়েছে, সেই ধারণায় বদল আনতে পারে এই ‘তুষারমানব’। স্বাভাবিকভাবেই বিজ্ঞানীরা উত্তেজিত তাকে নিয়ে। সূত্র: এবেলা একে//

এই ফুল ছুঁলেই সর্বনাশ

কী সুন্দর ফুল! যেমন রং। তেমনই আকৃতি। অবিকল যেন গাছের ডালে ফুটে আছে রঙিন হৃদয়। প্রেমিক হৃদয় তো রঙিনই হয়। রঙিন, নাকি রক্তাক্ত? যাই ভাবুন, একটু থামুন। দেখতে যেমনই হোক, এই ফুল কিন্তু সাংঘাতিক। অনেকেরই মনে পড়ে যেতে পারে সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত ছোটগল্প ‘বিষফুল’-এর কথা। সেখানেও ‘ভারী সুন্দর হলদে কমলা আর বেগুনি রঙের ফুল’-এর সন্ধান পেয়েছিলেন গল্পের প্রধান চরিত্র জগন্নাথবাবু। ক্রমে আবিষ্কৃত হয়েছিল ফুলটির সুন্দর চেহারার আড়ালে লুকিয়ে থাকা ভয়ানক বিপদের কথা। সত্যজিতের ‘বিষফুল’ নেহাতই গল্প। ‘এশিয়ান ব্লিডিং হার্ট’ নামের ওই ফুলের শরীরময় বিষের থলি! ছুঁলেই সর্বনাশ। হয়তো মৃত্যু হবে না। কিন্তু আপনাকে শয্যাশায়ী করে দিতেই পারে এই ফুল। অ্যালার্জি হয়ে শরীরময় লাল দাগে ভরে যেতে থাকবে। শ্বাস নিতে কষ্ট হবে। বমির ভাব হবে। সব মিলিয়ে এই ফুল সত্যিই বিপজ্জনক। কাজেই রক্তাক্ত হৃদয়টি গাছেই ঝুলে থাকুক। কখনও সামনাসামনি ‘হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে’ না চাওয়াতেই মঙ্গল। সূত্র: এবেলা একে//

গাছে গাছে ‘ভৌতিক আপেল’

আপেলের চেহারা দেখে বুকের রক্ত শুকিয়ে আসে। এ যেন, স্বয়ং কাউন্ট ড্রাকুলার ব্রেকফাস্টের টেবিল থেকে উঠে এসেছে। ভৌতিক সিনেমায় দেখা যায় এমন ফল। যাতে কামড় বসাতে আসে রক্তচোষা ভ্যাম্পায়ার বাদুড়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের এক আপেল বাগানে ঘটেছে এই ঘটনা। স্পার্টা শহরের কাছে এই আপেল বাগান। এই ‘ভৌতিক আপেল’ প্রথম নজরে আসে স্থানীয় বাসিন্দা অ্যান্ড্রু সিয়েতসেমার। তিনি ফেসবুকে এই আপেলের ছবি আপলোড করলে তা নিয়ে হইচই পড়ে যায়। আপেলের এমন চেহারা হল কী করে? রসিকতা করে অনেকে বলছেন, তা রক্তচোষা পিশাচের কাণ্ড। কিন্তু আবহবিদরা যা জানাচ্ছেন, তা মোটেই অতিপ্রাকৃত কিছু নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আপেলগুলো প্রায় পচে আসা। এই সময়ে মিশিগান বরফে ঢাকা। তার উপরে শুরু হয়েছে বৃষ্টি। এই আবহাওয়ার কারণেই আপেলগুলো ওই রকম চেহারা প্রাপ্ত হয়েছে। গাছের তলা ধরে ধরে ঝাঁকালে আপেলের খোলা গাছে ঝুলছে আর তাদের শাঁস মাটিতে পড়ে যাচ্ছে। শূন্য খোলগুলোকে আরও ভৌতিক দেখাচ্ছে। সিয়েতেসেমার এই পোস্ট ১০ হাজারেরও বেশি শেয়ার হয়েছে ইতিমধ্যে। সূত্র: এবেলা একে//

দু’হাজার বছর আগের সোনার নিপল কভার!

সোনা দিয়ে তৈরি কারা। ফুলের পাপড়ির মতো দেখতে। এটির ব্যাস ২১ মিলিমিটার। এটি নাকি স্তনবৃন্তের আচ্ছাদনী! ২০১১ সালে আমেরিকার একটি নিলাম ঘরে বিক্রির জন্য আসে এটি। একটি গোলাকার চাকতির মতো অংশ, গয়নার মতোই ব্যবহার করা হত এগুলি। তার মধ্যে কয়েকটি দেখতে স্তনবৃন্তের মতো। এমনই বেশ কিছু প্রসাধনী এসেছিল নিলাম ঘরের হাতে। আর তখন থেকেই শুরু বিতর্ক। এটিকে কয়েক জন প্রত্নতত্ত্ববিদ বলেছিলেন, স্তনবৃন্তের আচ্ছাদন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন অনেকে। বলেছিলেন, এ জাতীয় জিনিস নিলামে বিক্রি করা কুরুচিকর! বেশ কয়েক জন প্রত্নতত্ত্ববিদের মতে, যৌনতা নিয়ে ছুঁৎমার্গ না থাকায় প্রাচীন আমলে অর্থাৎ প্রায় ১০০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ রোমানরা নাকি এই নিপল কভার ব্যবহার করতেন। কিন্তু এটি নিয়ে প্রত্নতত্ত্ববিদদের মধ্যে বিতর্কও হয়। কেউ বলেন, পম্পেইয়ের যৌন কর্মীরা এটি ব্যবহার করতেন। ডেভিড মিয়াডোস নামে এক প্রত্নতত্ত্ববিদ দাবি করেন, ১০০ খ্রিস্টাব্দে যৌনকর্মীদের মধ্যে এটির ব্যবহার অসম্ভব। তিনি বলেন, রোমানরা ফালেরা ব্যবহার করতেন। এটিও এক ধরনের ধাতব বক্ষবন্ধনী। মাইক বিশপ নামে অপর প্রত্নতত্ত্ববিদের দাবি, এর উৎপত্তি মিশরে। মমিদের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হত এটি। ১০০০ খ্রিস্টপূর্বের একটি মমি, মৃত্যুকালে যার বয়স ১৩ বছর ছিল, সেটির মধ্যে এর অস্তিত্ব মিলেছিল প্রথম। যা দেখে মনে করা হয়েছিল, এই জাতীয় গোল্ড অ্যামিউলেট মহিলারাই পরতেন। ১৯২০ সাল নাগাদ বেলি ডান্সার বা লিটল ইজিপ্ট ডান্সারদের ক্ষেত্রে এ জাতীয় প্রসাধনী দেখতে পাওয়া গিয়েছে। খ্রিস্টীয় প্রথম শতক কিংবা ১৯ শতকের আমেরিকাতেও যৌনপল্লিতে নাকি এরকম আচ্ছাদনী পরার চল ছিল। কিন্তু নৃতত্ত্ববিদ ভার্জিনিয়া হাটন ইস্ট্রাবুক লিটল ইজিপ্টের বেলি ডান্সারদের পোশাক দেখে বলেন, ১৯০৬ সাল নাগাদ এই পোশাকের চল ছিল। ‘সালোমানিয়া’ ছবিতেও এমন দেখা গিয়েছে। তবে আমেরিকান সোসাইটি একে কুরুচিকরই বলেছিল। একদল বলেছিলেন এটি আসলে প্রাচীন ঘোড়ার জিনের অংশ। কিন্তু স্তনবৃন্তের আচ্ছাদন বলে নিলাম ঘর এটি বিক্রি করায় বিতর্ক হয়। এটি কয়েক কোটি টাকায় বিক্রি হওয়ার পরও তাই বিক্রেতার নাম গোপন রাখা হয়। তবে এই আচ্ছাদন আরও বেশ কয়েকটি রয়েছে নিলাম ঘরের কাছে। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার এমএইচ/

৩০ বছর পরে জেগে উঠল সবথেকে বিষধর প্রাণী

একটা কামড়। তার পরেই শুরু হবে শ্বাসকষ্ট, বমি, গোটা শরীরে ব্যাথা। ঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালেই বড় বিপদ। বিশ্বের সব থেকে বিষধর মাকড়সা উদ্ধারের পরে এখন কালঘাম ছুটেছে প্রাণী বিজ্ঞানীদের। সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্ল্যাক উইডো স্পাইডারের এক বিশেষ প্রজাতির সন্ধান পান গবেষকরা। ফিন্ডা বটন স্পাইডার বলে পরিচিত এই মাকড়সাটি। প্রসঙ্গত, এর আগে ব্ল্যাক উইডো স্পাইডারের প্রজাতি উদ্ধার হয়েছিল ৩০ বছর আগে। তবে ফিন্ডা বটন স্পাইডারের বিষক্রিয়ার ক্ষমতা সাধারণ ব্ল্যাক উইডো স্পাইডারের থেকে বহুগুণ বেশি। এর কামড়ানোর পরে ঠিক সময়ে হাসপাতালে না নিয়ে গেলে বড় বিপত্তি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গবেষকরা। শরীরের উপরে বিশেষ লাল রং-এর একটি দাগের সাহায্যে এই মাকড়সাটিকে সহজেই চেনা যায়। এখন আপাতত এই মাকড়সাটিকে নিয়ে পরীক্ষা চালাবেন গবেষকরা। সূত্র: এবেলা একে//

নিউজিল্যান্ডে ‘ভিনগ্রহী ইঁদুরছানা’

অদ্ভুত এক প্রাণীর ছবি ঘিরে শোরগোল। রহস্যময় এই প্রাণীদের সন্ধান মিলেছে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডের একটি বাড়ির ভিতরে। পৃথিবীর চেনা কোনও প্রাণীর সঙ্গে সেই প্রাণীর চেহারা না মেলায় ইন্টারনেটে ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। ছোট্ট এই প্রাণীদের ‘ভিনগ্রহী ইঁদুরছানা’ বলে ডাকা হচ্ছে। টিম ক্লার্ক নামের এক নারী তাদের বাড়ির রান্নাঘরে দেখতে পান ওই প্রাণীদের। বেশ কয়েকটি খুদে প্রাণী সেখানে থাকলেও একটি বাদে বাকিগুলো মৃত। এই রহস্যময় প্রাণীগুলো আসলে কী? কেউ একে পা ছেঁড়া মথ জাতীয় পোকা বলেছেন। কারও মতে এটা খুদে ইঁদুরছানার বিকৃত শরীর। কারও ধারণা, বাদুড়ের ছোট সংস্করণ। কিন্তু যে যাই বলুক, কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারেনি এটি কোন প্রাণী। ‘দ্য বায়ো সিকিউরিটি নিউজিল্যান্ড এনটোমোলজি’-র তরফে জানানো হয়েছে, হয়তো বিড়াল জাতীয় কোনও প্রাণী ইঁদুরের ছানাগুলোকে অর্ধেক খেয়ে ফেলেছে। কোনও কোনও বিশেষজ্ঞ ইঁদুরের মতো চেহারা বিশিষ্ট কোনও প্রাণীর লার্ভা বলেও মনে করছেন। কিন্তু যে যাই বলুক, কেউই নিশ্চিত হতে পারেননি। তাই কৌতূহল বাড়ছে ওই রহস্যময় প্রাণীকে ঘিরে। সূত্র: এবেলা একে//

আকাশের রং বদলে যাবে আগামী শতাব্দিতে: গবেষণা

রং বদলাচ্ছে পৃথিবীর আকাশ। রং বদলাচ্ছে সাগর, মহাসাগরও। আগামী শতাব্দিতে পৃথিবীর আকাশ আর নীল থাকবে না। বদলে যাবে সাগর, মহাসাগরের রংও। মহাকাশ থেকে আমাদের প্রিয় গ্রহটিকে আর নীলাভ দেখাবে না। এই দুঃসংবাদটি দিল ম্যাসাটুসেট্‌স ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির (এমআইটি) একটি গবেষণা। জানাল, উষ্ণায়নের জন্য খুব দ্রুত হারে বদলাচ্ছে পৃথিবীর জলবায়ু। তার ফলে, দ্রুত বদলে যাচ্ছে সাগর, মহাসাগরের উপরের স্তরের রং। আর তারই জন্য পৃথিবীর আকাশ তার গৌরব হারাবে। আগামী শতাব্দিতে। হারিয়ে যাবে তার সুন্দর নীল রং। গবেষণাপত্রটি বেরিয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘নেচার-কমিউনিকেশন্‌স’-এর সাম্প্রতিক সংখ্যায়। ওই গবেষণা জানিয়েছে, সমুদ্র, মহাসাগরের যে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীবদের বলা হয় ‘ফাইটোপ্লাঙ্কটন’, দ্রুত হারে জলবায়ু পরিবর্তনের বড় প্রভাব পড়েছে তাদের উপর। তারই প্রভাব পড়ছে সাগর, মহাসাগরের রং পরিবর্তনের ক্ষেত্রে। কারণ এই ফাইটোপ্লাঙ্কটনদের বিশেষ কয়েকটি প্রজাতি সূর্যালোকের বর্ণালীর একটি বিশেষ আলোকে শুষে নিতে পারে। অন্য প্রজাতি সেটা পারে না। মূল গবেষক এমআইটি-র প্রিন্সিপাল রিসার্চ সায়েন্টিস্ট স্তেফানি দাতকিউয়েউইত্‌জ বলেছেন, ‘আগামী শতাব্দিতে পা দেওয়ার সময়েই বোঝা যাবে, দেখা যাবে কতটা বদলে গেছে পৃথিবীর সব ক’টি সাগর, মহাসাগরের রং। যার মানে, আর ৮০ বছরের মধ্যেই পৃথিবীর ৫০ শতাংশ সাগর, মহাসাগরের রং একেবারেই বদলে যাবে।’ কেন সাগর, মহাসাগরের রং হয় নীল? তার কারণ, নীল রং ছাড়া সূর্যালোকের বর্ণালীর আর সব রংকেই শুষে নিতে পারে পানির অণু। আর সাগর, মহাসাগরে এখন যে প্রজাতির ফাইটোপ্লাঙ্কটনদের আধিপত্য, তাদের শরীরে থাকা পিগমেন্টগুলো বর্ণালীর সবুজ রংটিকে কম শুষে তাকে বেশি করে প্রতিফলিত করে। কেন বদলাচ্ছে সাগর, মহাসাগরের রং? দাতকিউয়েউইত্‌জ জানাচ্ছেন, বিশ্ব উষ্ণায়ন খুব দ্রুত ফাইটোপ্লাঙ্কটনদের একটি প্রজাতিকে অন্য প্রজাতিতে বদলে দিচ্ছে। ফাইটোপ্লাঙ্কটনদের এক-একটা প্রজাতি সূর্যালোকের বর্ণালীর এক-একটা রঙের আলোকে শুষে নিতে পারে। তাই যে ফাইটোপ্লাঙ্কটনরা নীল রং শুষে নেয় বলে সাগর, মহাসাগরের রং নীল হয়, উষ্ণায়নের দৌলতে সেই প্রজাতি যদি অন্য প্রজাতিতে বদলে যায়, তা হলে তারা আর নীল রং শুষে নিতে পারবে না। ফলে, সাগর, মহাসাগরের রংও তখন বদলে যাবে। উপরের স্তরে তো বটেই। তার ফলে সাগর, মহাসাগরের প্রাণী ও উদ্ভিদের খাদ্যশৃঙ্খলও বদলে যাবে। বদলে যাবে বায়োডাইভার্সিটি বা জীববৈচিত্র্যও। মহাসাগরের কোন এলাকার রং কীভাবে বদলাবে? দাতকিউয়েউইত্‌জ বলছেন, ‘সাবট্রপিক এলাকায় যেখানে সাগর, মহাসাগরের পানি নীল, সেখানে ফাইটোপ্লাঙ্কটনদের প্রজাতি বদলে যাওয়ায় সেই রং অনেকটা কালচে হয়ে যাবে। ফলে সেখানকার মহাসাগরে রং হয়ে উঠবে কালচে নীল। আবার দুই মেরুর কাছে যেখানে সাগর, মহাসাগরের রং সবুজ, সেখানে সেটা আরও গাঢ় হয়ে উঠবে।’ সূত্র: আনন্দবাজার একে//

রহস্যময় দ্বীপ, বিভ্রান্তিতে বিজ্ঞানীরা

মাত্র চার বছর আগে সমুদ্রের পানি থেকে উঠে এসেছিল সেই দ্বীপ। তাকে ঘিরে দেখা দিয়েছে বিস্তর রহস্য। রহস্যময় এই দ্বীপকে নিয়ে বিভ্রান্তিতে বিজ্ঞানীরাও। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে স্যাটেলাইট মারফত বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন প্রশান্ত মহাসাগরের টোঙ্গার কাছে এক আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে সেখানে একটি দ্বীপ জেগে উঠছে। ২০১৫ সালের জানুয়ারি নাগাদ অগ্ন্যুৎপাত শেষ হয় এবং দেখা যায়, হুঙ্গা টোঙ্গা ও হুঙ্গা হা’আপেই নামের দু’টি পুরনো দ্বীপের মাঝখানে এই নতুন দ্বীপটি জেগে উঠেছে। দ্বীপটি সম্পর্কে বিস্তারিত অনুসন্ধানের জন্য ড্যান স্লেব্যাক নামের এক বিজ্ঞানী নাসা থেকে রিমোট সেন্সিং ডেটা ব্যবহার করে এই অগ্ন্যুৎপাতকে লক্ষ করছিলেন। তিনি সশরীরে ওই দ্বীপটি দেখতে চান। তিনি জানান, এই দ্বীপটি এক আশ্চর্য দ্বীপ। সাধারণত এই ধরনের দ্বীপ কয়েক মাস জেগে থাকে। তার পরে তা সমুদ্রে তলিয়ে যায়। কিন্তু এই দ্বীপটি টিকে থাকে চার বছর। গত দেড়শো বছরে এই জাতীয় কোনও দ্বীপ এতদিন টিকে থাকেনি। গত সেপ্টেম্বরে বিজ্ঞানীরা দ্বীপে পা রাখেন। স্যাটেলাইট চিত্র থেকে তারা দ্বীপটির যেমন পরিচয় পেয়েছিলেন, দ্বীপটি তেমন নয়। এর উত্থান ভৌগোলিকভাবে বেশ বিস্ময়কর। তারা সেখানকার মাটি ও অন্যান্য নমুনা নিয়ে নাসায় ফিরে যান। কেন এই দ্বীপের প্রতি বিজ্ঞানীরা এত আগ্রহী? স্লেব্যাক জানিয়েছেন, দ্বীপটি থেকে তারা মঙ্গল গ্রহ সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য পেতে পারন। শুনতে অবাক লাগলেও কথাটা সত্য। বিজ্ঞানীদের মতে, মঙ্গলে যখন পানি ছিল, তখন এই ধরনের অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সৃষ্ট দ্বীপ সেখানেও ছিল। পৃথিবীর এই দ্বীপটি সম্পর্কে বিস্তারিত অনুসন্ধান মঙ্গলের পানিশূন্য হয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানা যাবে। সূত্র: এবেলা একে//

৬০ বছরে শুকিয়ে যাবে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র!

খুব দ্রুত বরফ গলে যাচ্ছে হিন্দুকুশ হিমালয়ের পাহাড়, পর্বতে। দ্রুত গলে যাচ্ছে সেখানকার বড় বড় হিমবাহগুলো (গ্লেসিয়ার)। গলছে এভারেস্ট, কারাকোরামের মতো পৃথিবীর দু’টি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গও। আন্টার্কটিকা ও আর্কটিকের (সুমেরু ও কুমেরু) পর হিন্দুকুশ হিমালয়কেই বলা হয় পৃথিবীর ‘তৃতীয় মেরু’। হিমালয়ে সেটাই এত দ্রুত হারে হচ্ছে যে আর ৮০ বছরের মধ্যেই তার এক-তৃতীয়াংশ বরফ পুরোপুরি গলে যাবে। আর বিশ্ব উষ্ণায়নের তাপমাত্রার বাড়-বৃদ্ধি যদি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে আটকে রাখা যায়, তাহলেও অর্ধেক বরফই গলে যাবে হিন্দুকুশ পর্বতমালার। উষ্ণায়নের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লেই গলে যাবে দুই-তৃতীয়াংশ বরফ। আর ৪০ বছরেই ভেসে যাবে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, মেকংয়ের অববাহিকা তার ফলে, ওই অঞ্চলে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, মেকংসহ প্রধান যে ১০টি নদী রয়েছে, পুরোপুরি ভেসে যাবে তাদের অববাহিকাগুলো। আর ৪০ বছরের মধ্যেই। তার ফলে, বিপন্ন হয়ে পড়বেন ভারত, পাকিস্তান, চীন, আফগানিস্তান, নেপাল, ভূটানসহ ৮টি দেশের প্রায় ২০০ কোটি মানুষ। তার পর সেই হিমবাহগুলোর বরফ শেষ হয়ে গিয়ে সেগুলো রুখুসুখু পাথর হয়ে যাবে। ফলে সেই সব উৎস থেকে বেরিয়ে আসা নদীগুলো পুরোপুরি শুকিয়ে যাবে। ভয়াবহ এই রিপোর্ট দিয়েছে আন্তর্জাতিক পর্বত গবেষণা সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট’ (আইসিআইএমওডি)। এই প্রথম তৃতীয় মেরুর বরফ গলার হারের উপর চালানো হল গবেষণা। টানা ৫ বছর ধরে যে গবেষণার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বিভিন্ন দেশের ২০০-রও বেশি বিজ্ঞানী। তাদের গবেষণা খতিয়ে দেখেছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ৩৫০ জন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী। ভয়ঙ্কর বিপদে পড়বে ৮টি দেশ! উষ্ণায়নের খুব বড় প্রভাব পড়েছে হিন্দুকুশ হিমালয়ে। প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটারের (২ হাজার ১৭৫ মাইল) ওই সুবিশাল পার্বত্য এলাকার মধ্যে পড়ে যাচ্ছে মোট ৮টি দেশ। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, চীন, নেপাল, ভূটান, আফগানিস্তান ও মায়ানমারের বড় একটি অংশ। যেখানে গঙ্গা, সিন্ধু, ব্রহ্মপুত্র, মেকং, আমু দরিয়া, তারিম, ইরাওয়াড়ি, সালউইন, ইয়েলো ও ইয়াংঝের মতো রয়েছে ১০টি প্রধান নদী। আইসিআইএমওডি-র ডেপুটি ডিরেক্টর একলব্য শর্মার কথায়, ‘আমরা হিসাব কষে দেখেছি, উষ্ণায়নের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা যদি আরও ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়ে, তাহলে শুধুই হিন্দুকুশ হিমালয়ের তাপমাত্রা বাড়বে শূন্য দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর তাতে উত্তর-পশ্চিম হিমালয় আর কারকোরাম পর্বতমালার তাপমাত্রা বাড়বে শূন্য দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।’ আইসিআইএমওডি-র হালের রিপোর্ট জানাচ্ছে, হিন্দুকুশ হিমালয়ে হিমবাহ থেকে জন্মানো হ্রদের সংখ্যা এখনও পর্যন্ত ৮ হাজার ৭৯০টি। তার মধ্যে বরফ দ্রুত গলে যাওয়ার ফলে ২০৩টি হ্রদই ভয়াল বন্যা সৃষ্টি করতে পারে। পৃথিবীর তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি বাড়লে গলে যাবে দুই-তৃতীয়াংশ বরফ! ভারতের পুণের ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর আন্টার্কটিক অ্যান্ড ওশ্‌ন রিসার্চ সেন্টার’ (এনসিএওআর)-এর অধিকর্তা বিশিষ্ট হিমবাহ বিশেষজ্ঞ এম রবিচন্দ্রন জানাচ্ছেন, ১৯৭০ সাল থেকে উষ্ণায়নের খুব বড় প্রভাব পড়েছে হিন্দুকুশ হিমালয়ে। তার ফলে, সর্বোচ্চ শৃঙ্গগুলোসহ গোটা হিন্দুকুশ হিমালয়ের বরফ যেভাবে গলছে, যে হারে গলছে, তাতে উষ্ণায়নের তাপমাত্রাকে যদি শতাব্দির শেষে পৌঁছে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ২ দশমিক ৭ ডিগ্রি ফারনেহাইটের মধ্যে ধরে রাখা সম্ভব হয়, তাহলেও হিমালয়ের বরফ গলার রথের চাকায় রশি পরানো যাবে না। আর ৮০ বছর পর হিমালয়ের এক-তৃতীয়াংশ বরফের পুরোটাই গলে যাবে। আর সেই তাপমাত্রার বাড়-বৃদ্ধি যদি হয় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট, তাহলে গলে যাবে হিমালয়ের অর্ধেক বরফ। ৪ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৭ থেকে ৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট বাড়লে গলে যাবে দুই-তৃতীয়াংশ বরফ। রবিচন্দ্রনের কথায়, ‘শুধু হিন্দুকুশের পাহাড়, পর্বতেই থাকেন প্রায় ২৪ কোটি মানুষ। আর ওই অঞ্চলের ১০টি প্রধান নদীর পানির উপর নির্ভর করে আছেন প্রায় ২০০ কোটি মানুষ। জড়িয়ে রয়েছে ভারত, চীন, পাকিস্তান, আফগানিস্তানসহ ৮টি দেশের অর্থনীতি, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষিকাজ, সেচ ও শস্য সংরক্ষণের অত্যন্ত জরুরি ক্ষেত্রগুলি।’ ২০৬০ সাল নাগাদ ভয়াল বন্যা হবে বার বার রবিচন্দ্রন এও জানিয়েছেন, ১৯৭০ সাল থেকে গত ৫০ বছরে ইতিমধ্যেই হিন্দুকুশ হিমালয়ের ১৫ শতাংশ বরফ গলে পানি হয়ে গেছে। এর ফলে, ২০৬০ সাল নাগাদ পরিস্থিতিটা এমন হবে যখন বার বার ভয়াবহ বন্যা হবে ওই এলাকা ও সেখান থেকে বেরিয়ে আসা নদীগুলোর অববাহিকা অঞ্চলে। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯০০ থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত হিন্দুকুশ হিমালয়ের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে, সেখানকার বরফ দ্রুত গলতে শুরু করেছিল। তার পর ১৯৪০ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত, ৩০ বছরে আবার ঠাণ্ডা হতে শুরু করে হিমালয়। পরে উষ্ণায়নের দৌলতে ১৯৭০ সাল থেকে ফের দ্রুত হারে বরফ গলতে শুরু করেছে হিন্দুকুশ হিমালয়ে। ঠাণ্ডার রাত, দিনের সংখ্যা দ্রুত কমছে হিন্দুকুশ হিমালয়ে একলব্য বলছেন, ‘আগের চেয়ে ঠাণ্ডার পরিমাণ অনেকটাই কমে গেছে হিন্দুকুশ হিমালয়ে। হিসাব কষে দেখেছি প্রতি এক দশকে একটা ঠাণ্ডার রাত আর অর্ধেক ঠাণ্ডা দিন কমছে হিন্দুকুশ হিমালয়ে। অন্যদিকে ওই অঞ্চলে প্রতি এক দশকে গড়ে গরম রাতের সংখ্যা বেড়েছে ১ দশমিক ৭টি। আর গরম দিন বেড়েছে ১ দশমিক ২টি।’ বদলে যাবে জীববৈচিত্র্যও! একলব্য এও জানিয়েছেন, হিমালয়ের বরফ দ্রুত গলে যাওয়ার ফলে আর ৪০ বছরের মধ্যে বার বার ভয়াল বন্যা হবে ঠিকই। তবে সেই বন্যাও কমে যাবে পানির জোগান কমে যাওয়ায়, এই শতাব্দির শেষে পৌঁছে। ২০৮০ সালের পর হিন্দুকুশ হিমালয়ের প্রধান নদীগুলোর বেশির ভাগই যাবে শুকিয়ে। তাদের উৎস হিমবাহগুলো পানিহীন শুকনো পাথরে পরিণত হবে বলে। তার ফলে, কৃষিকাজ, পানিবিদ্যুৎ উৎপাদন, সেচ বেহাল হয়ে পড়বে। যা বিপন্ন করে তুলবে এই অঞ্চলের ৮টি দেশের অর্থনীতি। খুব ক্ষতি হবে জীববৈচিত্র্যেরও (বায়োডাইভার্সিটি)। রবিচন্দ্রন অবশ্য এ কথা মানতে রাজি নন। তার বক্তব্য, নদীর পানি তার গতিপথে আরও অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে। তার মধ্যে রয়েছে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ। তা ছাড়াও ওই নদীগুলো শুকিয়ে গেলে আশপাশের এলাকায় নদীর অন্যান্য উৎসেরও জন্ম হওয়াটা অসম্ভব নয়। আরও একটি আশার কথাও শুনিয়েছেন রামচন্দ্রন। বলেছেন, ‘এও দেখা গেছে, হিন্দুকুশ হিমালয়ে মৌসুমও দীর্ঘায়িত হয়েছে গত ৫০ বছরে। এক দশকে কোনও মৌসুমের আয়ু বেড়েছে সেখানে গড়ে ৪ দশমিক ২৫ দিন। এতে চাষবাসের জন্য বাড়তি সময় মিলবে।’ সূত্র: আনন্দবাজার একে//

বালিকাকে উত্যক্ত করার অভিযোগে মোরগ গ্রেফতার

তার অপরাধ, সে এক বালিকার সঙ্গে অভব্য আচরণ করেছে। আর সেই কারণেই গ্রেফতার হতে হল ভারতের মধ্যপ্রদেশের এক মোরগকে। ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলায়। জানা গেছে, মোরগটির মালিককে সস্ত্রীক আটক করেছে স্থানীয় পুলিশ। সেই সঙ্গে মোরগটিকেও থানায় আটকে রাখা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঋতিকা নামে পাঁচ বছর বয়সি বালিকাটি তাদের বাড়ির সামনে খেলছিল। সেই সময়েই মোরগটি তাকে আক্রমণ করে। তার গালে বার বার ঠোকরাতে শুরু করে। ঋতিকা রক্তাক্ত অবস্থায় কান্নাকাটি শুরু করলে তার মা পুনম কুশবাহা এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং তাকে নিয়ে থানায় যান। পুনম সেই মোরগ ও তার মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। পুনম জানিয়েছেন, তার প্রতিবেশী পাপ্পু ও তার স্ত্রীর পোষা এই মোরগের আচার-আচরণ মোটেই সুবিধার নয়। সে বেশ কিছু দিন ধরেই তার শিশুকন্যা ঋতিকাকে জ্বলাতন করেছে। তার জ্বালায় ঋতিকা বাড়ির বাইরে বেরতে পর্যন্ত ভয় পায়। তিনি বার বার পাপ্পুদের এ নিয়ে নালিশ জানালেও কোনও ফল হয়নি। আদরের মোরগ সম্পর্কে কোনও অভিযোগ পাপ্পু ও তার স্ত্রী কানে তুলতেই রাজি নন। পুনমের মতে, গত পাঁচ মাসে চার বার মোরগটি তার মেয়েকে আক্রমণ করেছে। থানায় অভিযোগ করার পরে পুলিশ মোরগ সমেত পাপ্পু ও তার স্ত্রীকে ডেকে পাঠায়। মোরগটিকে আটক করা হলে পাপ্পুর স্ত্রী ভেঙে পড়েন। এবং তিনি জানান, তাকে জেলে পুরে মোরগকে ছেড়ে দেওয়া হোক। পরে তিনি অবশ্য মোরগটিকে ‘গৃহবন্দি’ করে রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। জানা যায়, পাপ্পুরা নিঃসন্তান। কয়েক বছর আগে মোরগটিকে তারা মাত্র ৫ টাকায় কিনেছিলেন। তার পর থেকে তাকে তারা সন্তান স্নেহেই লালন করছেন। পরে অবশ্য পুনম ও পাপ্পুর পরিবার নিজেদের মধ্যেই আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মিটিয়ে নেন। পুলিশ বিষয়টি নিয়ে আর এগোয়নি। সূত্র: এবেলা একে//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি