ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১২:৪৩:২২

এই কিশোরের খেলার সঙ্গী বাঘ

এই কিশোরের খেলার সঙ্গী বাঘ

এক হ্রদে এক জোড়া জাগুয়ারের সঙ্গে ১২ বছরের ব্রাজিলীয় কিশোর টিয়াগো। এদের একজন রীতিমত টিয়াগোর গলা জড়িয়ে ধরে আছে। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবিটি খুব জনপ্রিয় হওয়ায় অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিল ছবিটি ভুয়া নয় তো? কিন্তু এটা প্রমাণিত হয়েছে যে ছবিটি সঠিক এবং টিয়াগোর প্রায়ই এ ধরনের ছবি তুলে থাকে। ব্রাজিলে জন্ম টিয়াগো সিলভিয়েরা শিশু বয়স থেকে জাগুয়ারদের সঙ্গে খেলাধূলা করে বড় হয়েছে। ওদের সঙ্গেই থাকে টিয়াগো। ‘আমার কয়েকজন বন্ধু আমাকে বলেছিল ছবিটা ভুয়া। কিন্তু ছবিটা আসল। অনেকের ছবিটা দারুণ ভাল লেগেছে এবং ওরা জাগুয়ার দুটো দেখতে চেয়েছে। সবাই তো আমার মত ভাগ্যবান নয়, তাই ওদের সঙ্গে আমার অভিজ্ঞতা আমি অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই,’ বিবিসি নিউজ ব্রাজিলকে বলেছে ১২ বছরের কিশোর টিয়াগো। টিয়াগোর বাবা লিয়ান্দ্রো সিলভিয়েরা আর মা আনা জাকোমো দু’জনেই বিজ্ঞানী। ব্রাজিলের জাগুয়ার ইনস্টিটিউটে কাজ করেন তারা। তাদের মূল লক্ষ্য আমেরিকায় বাঘ, চিতাবাঘ, জাগুয়ার জাতীয় বন্যপ্রাণী নিয়ে গবেষণা ও তাদের সংরক্ষণ। ‘আমাদের ছেলে এমন একটা পরিবেশে জন্মেছে যেখানে শিশু বয়স থেকে সে জাগুয়ারদের সঙ্গে বড় হয়ে উঠেছে। তাদের সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে চলতে হয় সেটা ও সহজাতভাবেই শিখেছে। আমরা অবশ্যই ওকে সবকিছু করতে দিই না। কিন্তু ও নিজেও জানে কী করা উচিত বা উচিত না,’ জানান টিয়াগোর বাবা, যিনি এই ভাইরাল হওয়া ছবি প্রথম পোস্ট করেন। ওরা টিয়াগোর দৈনন্দিন জীবনের অংশ, ওর জীবনে এটা অস্বাভাবিক কিছু না। টিয়াগোর যখন জন্ম তখন তার বাবা মা তিনটা জাগুয়ার ছানাকে বড় করছিলেন। বেড়াতে বেরলে পথে তারা থামতেন চারটে বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর জন্য। টিয়াগো আর তিনটা জাগুয়ার ছানা। ট্রাক নিয়ে বেড়াতে বেরতেন সিলভিয়েরা পরিবার। বাঘ-জাতীয় পশুর সঙ্গে বড় হওয়ার বিরল অভিজ্ঞতা হয়েছে টিয়াগোর। ‘আমাদের এটা ভালবাসা আর সম্মানের একটা সম্পর্ক। জন্তুজানোয়ারের দেখাশোনায় আমি বাবা-মাকে সব সময় সাহায্য করেছি। আমার ওদের সঙ্গ খুব ভাল লাগে,’ বলছিল টিয়াগো। জাগুয়ারের মুখোমুখি হলে কী করতে হবে সিলভিয়েরা সে সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে যে সব পরামর্শ দন, সে রকম একই পরামর্শ তিনি ছেলেকেও দিয়েছেন। ‘এ ধরনের প্রাণী মানুষকে খাওয়ার জন্য মারে না। এরা যা করে তা শুধু মানুষের আচরণের প্রতিক্রিয়ায়। কাজেই তাদের সম্মান দেখানো উচিত। ওদের শরীরের ভাষা দেখে আপনাকে বুঝতে হবে ওদের কত কাছে যাবেন অথবা যাবেন না,’ বলছিলেন লিয়ান্দ্রো সিলভিয়েরা। ‘সীমারেখাটা কোথায় টানবেন সেটা বুঝতে হবে। জাগুয়ার যদি আপনার সঙ্গ চায়, ও নিজেই আপনার দিকে আসবে। ওরা সামাজিক প্রাণী নয়। কিন্তু মানুষের সঙ্গে ওদের আজীবনের বন্ধন গড়ে উঠতে পারে।’ টিয়াগোর মা বলছেন, তার ছেলে আর জাগুয়ারদের নিয়ে তাকে কোনদিন বিপদে পড়তে হয়নি। তবে আনা জানান, তিনি তার ছেলেকে কখনও জাগুয়ারদের সঙ্গে একা ছেড়ে দেননি। ‘আমরা সব সময় জাগুয়ার এবং অন্যান্য সব জন্তুদের ব্যাপারে খুবই সতর্কতা নিয়েছি। নিরাপত্তা নিয়ে আমরা খুবই কড়া নিয়ম-কানুন মেনে চলি।’ ১২৩ একর জমির ওপর সিলভিয়েরা ও জাকামোর অভয়ারণ্য। তারা পর্যটকদের সেখানে ঢুকতে দেন না। কারণ তারা জন্তুদের বিরক্ত করতে চান না, তাদের সম্মান রাখতে চান। তারা এই সংরক্ষিত এলাকা গড়ে তুলেছিলেন ২০০২ সালে শুধু জাগুয়ার নিয়ে গবেষণার জন্য। পরে ব্রাজিলের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংস্থার অনুরোধে তারা অনাথ জাগুয়ার ছানাগুলোর দেখাশোনার দায়িত্ব নেন। বর্তমানে তাদের অরণ্য এলাকা মূলত জাগুয়ারদের প্রজনন ভূমি। সিলভিয়েরা বলছেন, এই প্রজনন ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির ৯৫ শতাংশ অর্থই তারা ব্যক্তিগতভাবে দেন, বাকিটা আসে দানের অর্থ থেকে। বর্তমানে তারা দেখাশোনা করছেন ১৪টি জাগুয়ারের। এর মধ্যে চারটি শিশু। গত এক দশকে তারা বড় করেছেন ৩৫টি জন্তুকে। বিপন্ন প্রজাতির পশুর তালিকায় জাগুয়ার রয়েছে। যদিও পৃথিবীর ২১টি দেশে জাগুয়ার পাওয়া যায়, তবে বিশ্বে জাগুয়ারের প্রায় অর্ধেকই রয়েছে ব্রাজিলে। তাদের সংরক্ষণ ভূমিতে যে সব জাগুয়ার আসে তাদের ওরা বনে ফেরত পাঠায় না। কারণ বিশেষ করে কৃষকরা তাদের গরু ভেড়া বাঁচাতে জাগুয়ারদের মেরে ফেলে। এ ছাড়াও এ সব জাগুয়ার মানুষের সঙ্গে বড় হওয়ায় মানুষের সঙ্গে তাদের একটা ঘনিষ্ঠ বন্ধন গড়ে ওঠে। সিলভিয়েরা মনে করেন, ওদের জঙ্গলে ছেড়ে এলে ওরা মানুষের খোঁজে লোকালয়ে চলে আসবে এবং মানুষের হাতে প্রাণ হারাবে। গত বছর টিয়াগো সেকেণ্ডারি স্কুলে পড়তে তাদের বাড়ি থেকে দূরে চলে যাওয়ায় জাগুয়ারের সঙ্গে তার দেখা হয় কম। টিয়াগো তাদের দারুণ মিস করে। ‘আমি বাচ্চা বয়স থেকে ওদের সঙ্গে বড় হয়েছি। তাই আমার খুব মন খারাপ করে। আমি যখনই বাড়ি আসি, ওদের সঙ্গে খেলি, বুঝতে পারি ওরাও আমাকে মিস করছিল।’ ভাইরাল হওয়া এই ছবিটি তোলা হয়েছিল ১৫ নভেম্বর যখন টিয়াগো বাড়ি গিয়েছিল। সূত্র: বিবিসি একে//
যে গ্রামে পুরুষ প্রবেশ নিষেধ

পুরুষের প্রবেশ নিষেধ। তাই নিশ্চিন্তে জীবনটা কাটাতে পারছেন তারা। তাদের জিনওয়ার গ্রামটা পেরলেই যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়ার দাঁত-মুখ বের করা চেহারাটা অদ্ভুতভাবে ধরা দেয়। আইসিস জঙ্গিদের কালো পতাকা আর মুহুর্মুহু গ্রেনেডের হুঙ্কারে কার্যত জনপদ শূন্য। এর মধ্যেই নিজেদেরকে নিজেরা নিরাপত্তা দিয়ে একটি সুরক্ষিত গ্রাম তৈরি করেছেন। হ্যাঁ, উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার কুর্দিশ এলাকায় এই জিনওয়ার গ্রামে সব বাসিন্দাই নারী। কৌতূহল নিশ্চয়ই হচ্ছে আপনার? তাহলে সেখানকার বাসিন্দা বছর আঠাশের যুবতি জ়য়নব গাবারীর কথায় আসা যাক। তিনি বলছেন, আমাদের জীবনে কোনও পুরুষের প্রয়োজন নেই। আমরা বেশ ভাল আছি। যে সব নারীরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান, তাদের জন্য এটা আদর্শ জায়গা। জ়য়নবের মতো এখানকার সব নারীরা এই ভাবনাই বিশ্বাস করে। কিন্তু কেন? জিনওয়ার গ্রামের প্রত্যেক নারীর জীবনে রয়েছে এক একটি মর্মান্তিক ঘটনা। কেউ আইসিস জঙ্গিদের হাতে দীর্ঘদিন যৌনদাসী হয়ে বর্বরোচিত অত্যাচারের মুখোমুখি হয়েছেন। কারওর স্বামীকে খুন করা হয়েছে। কেউ বা জঙ্গি হামলায় সন্তান-স্বামী দুই খুইয়ে একেবারে নিঃস্ব হয়েছেন। কেউবা দিনের পর দিন ধর্ষণ হয়ে সন্তানসম্ভাবনা হয়ে পড়েছেন। জীবনের ঘটনা যাই হোক না কেন পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এক সরলরেখায় তারা যে অত্যাচারিত এবং অবহেলিত, আজ নির্দ্বিধায় বলছেন ওই গ্রামের নারীরা। জিনওয়ার গ্রামে ঢুকতে গেলে সামনের ফটকে বন্দুক হাতে দাঁড়িয়ে বেশ কয়েকজন নারী। আইসিসদের হামলা রুখতে অতন্দ্র প্রহরীর মতো কড়া পাহারা দিচ্ছেন। কৃষিকাজ থেকে স্কুলে পড়ানো সব কাজে পারদর্শী তারা। স্থানীয় নারী এবং আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে এই গ্রাম। বাড়ির দেওয়ালে দেওয়ালে আঁকা নারী শক্তির নানা কাহিনি। শরণার্থী হয়ে না পালিয়ে আইসিস জঙ্গিদের মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছেন তারা। স্বামী হারিয়ে বছর আটত্রিশের আমিরা মহম্মদ বলেন, নারী ছাড়া স্বাধীনতা পাওয়া যায় না। যত দিন না নারীরা শিক্ষিত হচ্ছেন, স্বনির্ভর হচ্ছেন এই সমাজও কখনও স্বাধীন হতে পারে না। তিনি আরও বলেন, আমরা নিজেরাই কৃষিকাজ করি। ফসল ফলাই। সেই ফসল রফতানিও করি। আবার সন্তান পালনও করি। পুরুষবিহীন এই ছোট্ট গ্রামই এখন ‘শান্তির রাজধানী’ তৈরি হয়েছে বাশার-অল আসাদের যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়ায়।  সূত্র: জিনিউজ একে//

মাঠের ধারে পড়ে থাকা মুখোশে লুকিয়ে কোন অতীত?

মাঠের প্রান্তে পড়ে রয়েছে পাথরের মুখোশ। পাথরের গায়ে ফুটো করে বানানো চোখ। তার নিচে সুচারুভাবে ফুটিয়ে তোলা নাক, ঠোঁট। অনেকের এটা দেখে ১৯৭০-এর বিখ্যাত হলিউড ছবি ‘ফ্রাইডে দ্য থার্টিন্থ’-এর সেই ভূতুড়ে মুখোশের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই মুখোশ কোনও নিছক হলিউডি চমকের প্রতীক নয়। তা আসলে বহু প্রাচীন। এই মুখোশের সঙ্গে মিশে রয়েছে ৯ হাজার বছরের ইতিহাস।  আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী থেকে জানা যাচ্ছে, প্যালেস্টাইনের শহর হেব্রনের এক কৃষিজমিতে পাওয়া গেছে ওই রহস্যময় মুখোশ। ওই জমি দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আচমকাই সেটা খুঁজে পান এক ব্যক্তি। তিনি সেই মুখোশটি তুলে দেন আইএএ (ইসরায়েল অ্যান্টিকুইটি অথরিটি)-এর হাতে। সংস্থার প্রত্নতত্ত্ববিদ রনিত লুপু জানিয়েছেন, পথে চলার সময়ে আচমকাই ওই ব্যক্তি মুখোশটি দেখতে পান। এমনিতে ওই এলাকার জমিতে বহু পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনের দেখা মেলে। তাই চাষের সময়ে অনেক সময়ই পাথুরে বস্তুর সন্ধান মেলে। এই মুখোশও সেভাবেই উঠে এসেছিল মাটির উপরে। আইএএ-র অনুমান, ওই জমিতে বহু নিদর্শন খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। প্রায় ৯ হাজার বছর আগে তৈরি হওয়া মুখোশটিকে দেখে মুগ্ধ রনিত। জানিয়েছেন, পাথরের মুখোশটিতে গালের নরম ডৌল যেভাবে ফুটেছে তা দেখে তিনি অত্যন্ত মুগ্ধ। গত ২৯ নভেম্বর ইসরায়েল প্রিহিস্টোরিক সোসাইটির বার্ষিক সম্মেলনে তিনি প্রথম মুখোশটি জনসমক্ষে আনলেন। ছোট্ট একটি মুখোশের গায়ে লেগে থাকা দীর্ঘ ৯ হাজার বছর আগের স্পর্শ দেখে খুব খুশি উপস্থিত সবাই।    সূত্র: এবেলা একে//

এই মাকড়সা স্তন্যপান করিয়ে বড় করে বাচ্চাদের

এই গ্রহের বিপুল জীবজগৎ থেকেই বিস্মিত করে চলেছে বিজ্ঞানীদের। এবার সামনে এল এমনই এক বিস্ময়ের খবর। সন্ধান মিলল এমন এক ধরনের মাকড়সার, যে তার ছানাপোনাদের দুধ খাইয়ে বড় করে তোলে! হ্যাঁ, শুনতে যতই অবাক লাগুক, এটাই সত্যি। চীনের এক দল গবেষকের দাবি তেমনই। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, তাইওয়ানে এক নতুন প্রজাতির মাকড়সার খোঁজ মিলেছে। এই মাকড়সার নাম ‘জাম্পিং স্পাইডার’। স্তন্যপায়ীদের মতো এরাও এদের সন্তানদের দুধ খাওয়ায়। ইউন্নানে অবস্থিত ‘চাইনিজ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস’-এর এক দল গবেষক এই নিয়ে গবেষণা করেছেন। তারা খুঁটিয়ে দেখছিলেন এই মাকড়সাগুলো কীভাবে তাদের বাচ্চাদের পরিচর্যা করে। আর দেখতে গিয়েই চমক! মা-মাকড়সা দুধ খাওয়াচ্ছে কচি মাকড়সাদের। প্রথম প্রথম মা ওই দুধ মাটিতে ফেলে দিচ্ছিল। আর বাচ্চারা সেটাই খাচ্ছিল। কিন্তু সপ্তাহ ঘুরতেই তারা সরাসরি মা-মাকড়সার কোলে উঠে সরাসরি দুধ পান করছিল। প্রথম প্রথম মাকড়সার দেহ নিঃসৃত তরলটি কী, তা বুঝে উঠতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। পরে তারা চমকে উঠে আবিষ্কার করেন, সেটি দুধ ছাড়া আর কিছু নয়! টানা পর্যবেক্ষণ চালিয়ে ওই গবেষকরা দেখতে পান, একটু বড় হয়ে যাওয়ার পরেও ওই ছোট মাকড়সাগুলো মাতৃদুগ্ধের উপরেই নির্ভরশীল। এই নয়া আবিষ্কারের পরে প্রশ্ন উঠে গেছে, এই বিশেষ ধরনের মাকড়সাই কি এমন করতে পারে, নাকি আসলে সব মাকড়সাই সন্তানদের দুধ খাইয়েই বড় করে? সূত্র: এবেলা একে//

কানাডায় খোঁজ মিলল দৈত্যাকার গুহার

কানাডার প্রত্যন্ত জঙ্গলে আবিষ্কৃত হল দৈত্যাকার একটি গুহা। এই গুহা এতটাই বড় যে, বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিশ্বের বৃহত্তম গুহাও হতে পারে এটি। প্রত্যন্ত আলপাইন উপত্যকায় অবস্থিত এই গুহার মুখটিই ১০০ মিটার লম্বা, ৬০ মিটার প্রশস্ত। ওই গুহামুখের দিকে তাকালে মোটামুটি ৬০০ ফুট গভীর (১৮৩ মিটার) পর্যন্ত চোখ যেতে পারে। এটা যে তার চেয়ে ঢের গভীর, সে বিষয়ে নিশ্চিত আবিষ্কারক দল। এই গুহাকে এক ধরনের ‘গুহা খাদ’ বলছেন প্রত্নতত্ত্ববিদ জন পোলক। কারণ গুহার মুখ থেকে জলধারা চলে গেছে অনেকটাই গভীরে। গুহামুখ থেকে বহু দূর পর্যন্ত নেমেও এখনও গভীরতা বুঝে ওঠা সম্ভব হয়নি। সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু হয়েছিল এই গুহা সম্পর্কে তথ্য জানার কাজ, জানান জন। এপ্রিল মাসে ক্যারিবু হরিণ গণনার সময় ব্রিটিশ কলম্বিয়ার বন দফতরের হেলিকপ্টার এটির প্রথম সন্ধান পায়। বেভান মাস্ট নামে এক জীববিদ বলেন, এই গুহাকে পরবর্তীতে স্থানীয় ভাষায় কোনও নাম দেওয়া হতে পারে। তবে আপাতত এটিকে ‘সারলাক পিট’ই বলা হচ্ছে। কারণ দৈত্যাকার একটি মুখ রয়েছে এই গুহাটির। স্টার ওয়ার্স সিরিজের ছবি ‘রিটার্ন অব জেডি’-র নাম অনুযায়ী এটিকে আপাতত সারলাক পিট বলা হচ্ছে। ছবিতে সারলাক ছিল এক দানব, যে ধীরে ধীরে শিকারকে টেনে নিত নিজের গুহামুখের দিকে। এটিও তেমনই বিপুল। আসলে এই গুহাটি জাতীয় সম্পদ। তাই এটির প্রকৃত অবস্থান এখনও জানানো হয়নি। সেপ্টেম্বরে গবেষক দলের একজন গুহামুখ বেয়ে নিচে নামার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি জানান, পার্শ্ববর্তী হিমবাহ থেকে বরফ গলে, পাথরের খাঁজ তৈরি হয়েছে বহু বছর ধরে। প্রায় ৮০ মিটার পর্যন্ত গিয়ে প্রবল জলধারার কারণে থেমে গিয়েছিলেন তিনি। প্রায় ২ কি.মি. বয়ে এসেছে এই জলধারা। এটি একটি নদীও হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। উষ্ণায়নের কারণেই বরফ গলে গিয়ে আচমকা এই গুহামুখ বেরিয়ে পড়েছে বলে জানান পোলক। গবেষক দলের তরফে মিস হিকসন বলেন, হিমবাহ দিয়ে ঘেরা এই গুহা। হিমবাহগুলো প্রায় ২ হাজার ৫০০ ফুট লম্বা। একেবারে প্রত্যন্ত এই জঙ্গল এলাকায় শীতকালে গবেষণা চালানো একেবারে অসম্ভব। সরকারিভাবে তাই গুহা সংক্রান্ত বাকি কাজ ২০২০ সালের প্রথমে শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

নিউজিল্যান্ডের সমুদ্র সৈকতে এই অদ্ভুত কঙ্কাল কিসের?

নিউজিল্যান্ডের সমুদ্রতটে মিলল এক অদ্ভূতদর্শন কঙ্কাল। আর তাই নিয়ে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া। প্রায় কেউই বুঝে উঠতে পারেননি, এমন অদ্ভুত দেখতে কঙ্কাল কোন প্রাণীর। নানা জন নানা কিছু লিখেছেন। কেউ কেউ তো এটাকে ভিনগ্রহের প্রাণীও ভেবে নিয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের বাসিন্দা হ্যানা মেরি। মাকে নিয়ে ক্যান্টারবেরির সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে বেরিয়েছিলেন। সেই সময় অদ্ভূত দেখতে ওই কঙ্কালটিকে পড়ে থাকতে দেখেন তারা। বোঝাই যাচ্ছিল, পানির তোড়ে ভেসে এসেছে। কাছে গিয়ে দেখেন দু’টি পা, দু’টি ডানা, দু‘পাটি দাঁত এবং একটি লেজ রয়েছে কঙ্কালটিতে। মুখের কাছটা সূচালো। বিষাক্ত কিছু হতে পারে ভেবে প্রথমে হাত ছোঁয়াননি হ্যানা বা তার মা। শেষমেশ অবশ্য সাহস করে কঙ্কালটি হাতে তুলে নেন হ্যানা। সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে আসা অন্য লোকজনও সেটিকে শনাক্ত করতে পারেননি। বাধ্য হয়ে স্থানীয় এক পশু সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞর দ্বারস্থ হন তারা। কিন্তু তিনিও সেটি কোন প্রাণীর কঙ্কাল বুঝতে পারেননি। অগত্যা সোশ্যাল মিডিয়ার দ্বারস্থ হন হ্যানা। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কঙ্কালটির অনেকগুলি ছবি পোস্ট করেন, কেউ যদি কিছু বলতে পারেন সেই আশা নিয়েই। নানান সামুদ্রিক মাছের সঙ্গে তুলনা টানেন কেউ কেউ। কেউ বলেন, ভিনগ্রহের প্রাণী। কেউ বা অন্য কিছু। শেষমেশ দ্বন্দ্ব দূর করেন নিউজিল্যান্ডের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক রিসার্চ সেন্টারে কর্মরত বিজ্ঞানী ডা. ম্যালকম ফ্রান্সিস। কঙ্কালটি গভীর সমুদ্রে বসবাসকারী বিশেষ ধরনের শঙ্কর মাছের। বৈজ্ঞানিক নাম ‘ডিপটুরাস নাসুটাস’। কঙ্কালটি একটি পুরুষ মাছের বলে জানান তিনি। ডানায় খোঁচা খোঁচা নখের মতো যে জিনিসগুলো দেখা যাচ্ছে, সেগুলো আসলে এক ধরনের হাড়। যা শুধু পুরুষদের মধ্যেই থাকে। সঙ্গমের সময় সেগুলো ব্যবহার করে তারা। চ্যাপটা দেখতে এই মাছগুলোর শরীর পাতলা ছালে ঢাকা থাকে। তবে মানুষের পক্ষে এরা একেবারেই ক্ষতিকারক নয়। শরীরে বিষ নেই। বরং তাদের ডানাগুলোও খাওয়া যায়। সাধারণত গভীর সমুদ্রেই থাকতে পছন্দ করে এরা। তবে মাঝেমধ্যে মত্স্যজীবীদের জালে ধরা পড়ে যায়। প্রাণীটি লম্বায় এক মিটার পর্যন্ত হয়। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

ইসলাম গ্রহণ করে মালয়েশিয়ার রাজাকে বিয়ে করল রুশ সুন্দরী

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান মোহাম্মদকে (৪৯) বিয়ে করলেন রুশ সুন্দরী ওকসানা ভোয়েভোদিনা(২৫)। তিনি  ২০১৫ সালের ‘মিস মস্কো’ খেতাব জয় করেন। গত ২২ নভেম্বর মস্কোর বারভিখা কনসার্ট হলে এক জাকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাদের মধ্যে এই বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। রাজার সরকারি বাসভবন ‘ইস্তানা নেগারা’ আনুষ্ঠানিকভাবে এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। জমকালো অনুষ্ঠানে বিয়ের পোশাকে রাজা সুলতান মোহাম্মদের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। মোহাম্মদ সুলতান নীল রঙের ঐতিহ্যবাহী মালয়েশিয়ার বাজু ও ওকসানা পড়েছিলেন কারুকার্য খচিত সাদা গাউন। ওকসানার টুইট করা এক ছবিতে এভাবেই দেখা যায় বর ও কনেকে।   বৃদ্ধ বয়সে রাজার এমন হঠাৎ বিয়েতে অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তবে রাজা ও নতুন রানিকে শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন অনেকে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে দেশটির নয়টি রাজ্যের সুলতানরা পাঁচ বছরের জন্য মালয়েশিয়ার রাজা হিসেবে তাকে মনোনিত করেন।  এমএইচ/

সবচেয়ে বেশি মানুষ হত্যাকারী মার্কিন সিরিয়াল কিলার!

যুক্তরাষ্ট্রে চার দশক ধরে ৯০ জনকে হত্যা করেছেন বলে স্বীকারোক্তি দেওয়া একজন কারাবন্দী খুনির তদন্ত চলছে। এফবিআই মনে করছে, স্যামুয়েল লিটল নামে ৭৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি মার্কিন অপরাধের ইতিহাসে সিরিয়াল কিলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে। প্রাদেশিক এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি তার স্বীকারোক্তিতে দেওয়া তথ্যের সাথে ১৯৭০ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত যে ডজন ডজন নারী হত্যার ঘটনা ঘটেছে সেগুলোর সাথে খতিয়ে দেখছে। তদন্তকারীরা বলছেন এরইমধ্যে ৩৪টি হত্যার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে এবং আরও অনেকগুলোতে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত কিনা, তা জানতে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন তারা। লিটল তিনজন নারীকে হত্যার দায়ে ২০১৪ সালে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর কারাভোগ করছেন। ২০১২ সালে কেন্টাকিতে গৃহহীনদের একটি আশ্রয়-শিবির থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ক্যালিফোর্নিয়াতে স্থানান্তরিত করা হয়। ১৯৮৭ এবং ১৯৮৯ সালে নিহত তিন নারীর মৃত্যুর রহস্য উদঘটিত না হওয়ায় জড়িত থাকার সন্দেহে লিটল এর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ওই তিনজন নারীর প্রত্যেককে প্রচুর মারধোর করা হয়েছিল এবং তাদের দেহ আলাদা আলাদাভাবে ফেলে দেওয়ার আগে শ্বাসরোধের চিহ্ন পাওয়া হয়েছিল। বিচারের সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন, কিন্তু শেষপর্যন্ত প্যারোলের কোন সুযোগ না রেখে তাকে টানা তিন-দফা যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। এর আগেও তার ব্যাপক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড ছিল, যার মধ্যে ধর্ষণ এবং সশস্ত্র ডাকাতির অভিযোগও ছিল। এই অপরাধ স্বীকারোক্তির পর লিটল`কে এফবিআইর সহিংসতা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বিষয়ক একটি প্রকল্পে পাঠানো হয় যেখানে এ ধরনের সিরিয়াল কিলারদের সহিংসতা এবং যৌন অপরাধের বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করে এবং ভবিষ্যতে অমীমাংসিত অপরাধের রহস্য-জট খুলতে স্থানীয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে তথ্য শেয়ার করা হয়। এই প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, তখন তারা "বিপজ্জনক একটি ধরন" এবং মার্কিন মুল্লুক-জুড়ে এ ধরনের আরও হত্যার সাথে "যোগসূত্র" খুঁজে পান। টেক্সাসের ওডিসিতে একটি অমীমাংসিত ঠাণ্ডা মাথায় সংঘটিত খুনের মামলা, যেখানে ডেনিস ক্রিস্টির স্বজনরা তখন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ওপর চড়াও হয়। স্থানীয় একজন রেঞ্জার জেমস হল্যান্ড তখন ক্যালিফোর্নিয়া যাচ্ছিলেন ভায়েলেন্ট ক্রিমিনাল অ্যাপ্রিহেনশন প্রোগ্রাম বা ভাইক্যাপের দলের সদস্যদের সাথে, লিটল এর সাক্ষাতকার নিতে। তারা জানায়, লিটল তাদের সাথে কথা বলতে রাজি হন কারণ তার উদ্দেশ্য ছিল জেলখানা থেকে বের হওয়া। এফবিআই বলছে, লিটল সর্বমোট ৯০টি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছে- যার বিস্তৃতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে মেরিল্যান্ড পর্যন্ত। এই সপ্তাহের শুরুর দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ভাইক্যাপ দলের মেম্বাররা বলেন, তারা অন্তত ৩৪টি হত্যার ব্যাপারে স্পষ্ট ভিত্তি খুঁজে পেয়েছে, আরও অনেকগুলোর নিশ্চয়তা পাওয়া বাকি রয়েছে। মে মাসের ওই সাক্ষাতকারে রেঞ্জার হল্যান্ডকে তিনি প্রতিটি জায়গায় কতজনকে হত্যা করেছেন তাদের সংখ্যা জানান। যেমন "জ্যাকসন মিসিসিপিতে একজন, সিনসিনাটি, ওহাইওতে একজন, ফিনিক্স,অ্যারিজোনায় তিনজন, লাস-ভেগাস, নেভাডায় একজন "। তাদের ধারনা লিটল বিশেষ করে প্রান্তিক এবং দরিদ্র নারীদের টার্গেট করতেন, তবে তাদের অনেকেই পতিতাবৃত্তির সাথে জড়িত কিংবা মাদকাসক্ত ছিল। তদন্তকারীরা বলছেন, তাদের মরদেহ প্রায়ই অজ্ঞাত পরিচয় হিসাবে ফেলে যাওয়া হতো এবং তাদের মৃত্যু তদন্তহীন থেকে যেত। এফবিআই বলছে ৭৮বছর বয়সী এই বুড়ো "খারাপ শারীরিক অবস্থার মধ্যে" আছেন এবং সম্ভবত তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত টেক্সাসের কারাগারেই থাকতে হবে। ওডিসি হত্যার ঘটনার স্বীকারোক্তির পর ক্যালিফোর্নিয়া থেকে তাকে সেখানে নেয়া হয়। ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো বলছে, তারা রেঞ্জার হল্যান্ডের পাশাপাশি কাজ করছে যিনি কিনা ‘প্রায় প্রতিদিনই’ লিটলের সাক্ষাতকার নিচ্ছেন। উদ্দেশ্য, সংঘটিত অপরাধের সঠিক এবং পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে আনা। ‘এই ঘটনার ক্ষেত্রে সবচে বড় যে শিক্ষাটি সেটি হল তথ্য বিনিময়ের শক্তি বা ক্ষমতা’- এফবিআই রিপোর্টে এমন মত দিয়েছেন একজন অপরাধ বিশ্লেষক। তথ্যসূত্র : বিবিসি এমএইচ/

সমুদ্রের নিচে ডাক বাক্স!

বাড়ির লেটারবক্সগুলো এখন বেশিরভাগ সময় খালিই পড়ে থাকে। এখন সেগুলোয় মাঝে মধ্যে জমা হয় ইলেক্ট্রিক বিল, ফোনের বিল বা ক্রেডিট কার্ডের বিল। কিন্তু চিঠিপত্র আজকাল আর আসে না। আসবে কী করে? আজকাল ইমেইল, মেসেজ, হোয়াট্‌স্যাপ-এর যুগে ক’জন আর চিঠি লেখে বলুন! চিঠি লেখার অভ্যাসটাই তো হারিয়ে গেছে। সেই জন্যই তো ২০১৩ সালে বন্ধই করে দিতে হল ১৬৩ বছরের প্রাচীন টেলিগ্রাম পরিষেবাকে। লাল রঙের, গোল মাথাওয়ালা ছোট থামের মতো দেখতে সেই ডাক বাক্স যা একটা সময় শহরের অলিতে গলিতে দেখা যেত, তা এখন ‘ভ্যানিস’ হয়ে গেছে। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতেও এমনই একটি লাল, গোল মাথাওয়া ডাক বাক্স হয়ে উঠেছে হাজার হাজার পর্যটকদের মূল আকর্ষণ। হাজার হাজার চিঠি নিয়মিত জমা পড়ে এই ডাক বাক্সে। এই বাক্সে চিঠি ফেলতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটকরা ছুটে আসেন প্রতি বছর। ভাবছেন, ব্যপার কী! কী এমন বিশেষত্ব রয়েছে এই ডাক বাক্সে? আসলে এই ডাক বাক্সটি রয়েছে সমুদ্রের গভীরে। এবার ভাবছেন হয়তো, কোথায় আছে এমন ডাক বাক্স? সমুদ্রের গভীরে ওই ডাক বাক্স পৌঁছাল কী করে? গভীর সমুদ্রে ডুব দিয়ে কারা ওখানে চিঠি ফেলতে যান? কে বা কারা ওই চিঠি সেখান থেকে তুলে আনেন? আর যদি কেউ চিঠিগুলো তুলেও আনেন, তাহলে সেগুলো কি আর চিঠি বলে চেনা যায়? পানিতে ভিজে তো সেগুলোর... এবার উত্তরগুলো জেনে নিন। এই ডাক বাক্স রয়েছে জাপানের সুসামি শহরে। প্রতি বছর কয়েকশো পর্যটক ‘ডিপ সি ডাইভিং’-এর ছুতেয় এই ডাক বাক্সের টানেই ছুটে আসেন এখানে। জাপানের এই শহরে মূলত মৎস্যজীবী মানুষের বাস। প্রায় পাঁচ হাজার মৎস্যজীবী এখানে বসবাস করেন। ১৯৯৯ সালের এপ্রিলে এখানে ‘কুমানোকোদো’ ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে পর্যটন প্রসারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আর সেই সময় এক প্রবীণ পোস্টমাস্টারের পরামর্শ অনুযায়ী ‘ডিপ সি ডাইভিং’-এর পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়। আর এরই প্রধান অঙ্গ হিসেবে সমুদ্রের গভীরে বসানো হয় এই ‘আন্ডার ওয়াটার পোস্টবক্স’। সমুদ্র সৈকত থেকে ১০ মিটার দূরে এবং ৩২ ফুট গভীরে বসানো হয় ডাক বাক্সটি। ১৯৯৯ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৬ হাজার চিঠি পড়েছে এই ডাক বাক্সে। কিন্তু ভাবছেন, পানির তলায় চিঠিপত্র টিকবে কী করে? স্থানীয় দোকানে পাওয়া যায় বিশেষ ওয়াটারপ্রুফ কাগজ, খাম আর বিশেষ মার্কার পেন। এই মার্কার পেন দিয়ে ওয়াটারপ্রুফ কাগজে চিঠি লিখে পানির নিচে গিয়ে নিজেদের চিঠি পোস্ট করেন পর্যটকরা। নির্দিষ্ট সময় পর পর পোস্টাল ডাইভাররা সেই চিঠিগুলো তুলে এনে সেগুলোকে পাঠিয়ে দেন স্থানীয় ডাকঘরে। এর মোটামুটি এক সপ্তাহের মধ্যে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয় চিঠিগুলোকে। ছ’মাস পর পর ডাকবাক্সটি তুলে আনা হয় রং আর মেরামতির জন্য। দু’টি ডাকবাস্ক এভাবে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে রেখে আসা হয় সমুদ্রের তলায়। ২০০২ সালে ‘ডিপেস্ট আন্ডার ওয়াটার পোস্টবক্স’ হিসেবে গিনেস রেকর্ডের বইয়ে জায়গা করে নেয় সুসামির এই ডাক বাক্সটি। তবে সুসামির এই ডাক বাক্সটিই বিশ্বের একমাত্র ‘আন্ডার ওয়াটার পোস্টবক্স’ নয়। প্রশান্ত মহাসাগরের ভানুয়াতো দ্বীপরাষ্ট্রে পর্যটক টানতে প্রথম শুরু হয়েছিল আন্ডারওয়াটার পোস্ট বক্স। তারই অনুকরণে জাপানের সুসামিতে তৈরি হয় এই ‘আন্ডার ওয়াটার পোস্টবক্স’। সূত্র: জিনিউজ একে//

আঙুলের ছাপের দাম ৬৭ কোটি টাকা!

৪০০ বছরের পুরনো প্রতিকৃতিতে মিলল আঙুলের ছাপ। আর তাই ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই আঙুলের ছাপটি যদি স্বয়ং চিত্রকরের হয়ে থাকে, তাহলে এই প্রতিকৃতির দাম দাঁড়াবে ৬ মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড। বাংলাদেশি অর্থমূল্যে প্রায় ৬৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, ওলন্দাজ শিল্পী রেমব্রান্টের (১৬০৬-১৬৬৯) আঁকা একটি ছবিতে রংয়ের স্তরের নিচে এমন ভেবে এই ছাপটি রয়েছে যে, এত দিন তা বোঝা যায়নি। ‘স্টাডি অফ আ হেড অফ আ ইয়ং ম্যান’ নামের ওই প্রতিকৃতি ঘিরে এই মুহূর্তে উত্তাল শিল্পরসিক মহল। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, এই আঙুলের ছাপটি স্বয়ং রেমব্রান্টের হওয়াই স্বাভাবিক। যুগান্তকারী শিল্পীর এই ছাপ ছবিটিকে অমূল্য করে তুলেছে। খুব শিগগির এই ছবি লন্ডনে নিলামে তোলা হবে। তার আগে এই ‘আবিষ্কার’ রীতিমতো চাঞ্চল্যকর। কারণ এর আগে কোনও ছবিতে রেমব্রান্টের আঙুলের ছাপ পাওয়া যায়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সে প্রদর্শনীর আগে ছবিটির রেস্টোরেশনের কাজ শুরু হয়। তাতে এক্স-রে, ইনফ্রা রেড ইমেজিং এবং পিগমেন্ট অ্যানালিসিস-এর মতো পদ্ধতি অনুসরণ করতে গিয়েই হদিস মেলে এই ছাপের। লন্ডনের প্রখ্যাত নিলাম সংস্থা সথেবির প্রাচীন শিল্প বিশেষজ্ঞ জর্জ গর্ডন জানিয়েছেন, এই আবিষ্কার যুগান্তকারী। প্রসঙ্গত, এই প্রতিকৃতিটি রেমব্রান্ট এঁকেছিলেন যিশুর প্রতিকৃতি আঁকার জন্য। এতে মানবিক অনুভূতিগুলোকে তিনি গভীর মুনসিয়ানার সঙ্গে তুলে ধরেছিলেন।  সূত্র: এবেলা একে//

কলম্বিয়ায় সমুদ্রের তলায় চাষ!

মনের সুখে চাষবাস করছেন এক ব্যক্তি। তবে মুখে রয়েছে অক্সিজেন মাস্ক। কেন বলুন তো? আসলে সমুদ্রের গভীরে চলছে এই ‘কৃষিকাজ’। জমিতে প্রবাল বুনছেন তিনি। কোরাল রিফের গুরুত্ব বুঝেই কলম্বিয়ায় সমুদ্রের তলায় এই বিশেষ সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সামুদ্রিক মাছের একটা বড় অংশ বাঁচে প্রবাল প্রাচীরের প্রবাল অর্থাৎ কোরালের উপর নির্ভর করে। সেখানে জন্মানো নানা ছোট প্রাণী বা গাছ থেকেই পুষ্টি সংগ্রহ করে মাছ। ক্যারিবিয়ান সাগরে জাভিয়ের বেকার নামে এক ব্যক্তি কলম্বিয়া সান আন্দ্রেজ এই প্রবাল বোনার কাজ শুরু করেন, সংরক্ষণ করছেন প্রবাল দ্বীপ। সঙ্গে রয়েছেন আরও অনেকে। যারা কাজ করছেন এখানে। একটা সুস্থ প্রবাল কিন্তু প্রকৃতির কাছে একটা সামু্দ্রিক মাছের চেয়ে বেশি জরুরি। কারণ বিশ্ব উষ্ণায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এই প্রবাল প্রাচীরের। অতিরিক্ত মাছ ধরা, দূষণ ও পর্যটকদের দৌরাত্ম্যে প্রবালের অস্তিত্ব বিপন্ন। তাই একাধিক মৎস্যজীবী পরিবার যোগ দিয়েছে এই প্রবাল বোনার কাজে। সামুদ্রিক জমিতে কোরাল ফার্মিংয়ের জন্য প্রতি মাসে কলম্বিয়ার সান আন্দ্রেজ ও প্রভিদেনশিয়ার ৪০ জন মৎস্যজীবী এগিয়ে এসেছেন। প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার ৫০০ টাকা (১২৫ ডলার) পান তারা ‘আন্ডার সি গার্ডেনিং’ প্রকল্পে কাজের জন্য। প্রথম ধাপের প্রবালগুলো সমুদ্রে রাখা হয়েছে। বেঁচেও গেছে তারা। এই আর্কিপেলাগো কলম্বিয়ার ৮০ শতাংশ প্রবালের বাসস্থান। ক্যারিবিয়ান সাগরের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রকল্প এটি। গত বছরে প্রায় ১০ হাজার প্রবালের টুকরো নিয়ে সমুদ্রের তলদেশে ভাসমান নার্সারিতে সংরক্ষণের কাজ হয়েছিল। প্রকল্পে যুক্ত ব্যক্তিদের ধারণা, ধীরে ধীরে প্রায় ১৫০ একর এলাকাজুড়ে এই নতুন প্রবাল কলোনি গড়ে উঠবে। সি-ফ্লাওয়ার বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ নাম দেওয়া হয়েছে এই সংরক্ষিত এলাকাটিকে। ইউনেসকো এটিকে ২০০০ সালে সংরক্ষিত বলে ঘোষণা করেছে। তবে শুধু প্রবালই নয়, সমুদ্রের তলার আবর্জনায় আটকে থাকা মাছ, কচ্ছপ কাঁকড়াসহ বিভিন্ন প্রাণীকে রক্ষাও করে এই দলটি। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

প্রেমিকের মাংসের বিরিয়ানি খাওয়ালো এক নারী

বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল প্রেমিক। প্রতিশোধ নিতে তাকে খুন করল প্রেমিকা। পরে মৃতদেহ থেকে মাংস কেটে বিরিয়ানি রান্না করে প্রতিবেশীদের খাওয়াল। ওই মহিলাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওই মহিলার মানসিক সুস্থতা যাচাই করতে ডাক্তারি পরীক্ষা চলছে। তারপরই মহিলার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে এ ঘটনা ঘটে। এক যুবকের সঙ্গে দীর্ঘ সাত বছর ধরে সম্পর্ক ছিল আদতে মরক্কোর বাসিন্দা ওই মহিলার। আবু ধাবির আল এইনের বাড়িতে দু’জনে লিভ-ইনও করত। কিন্তু সম্প্রতি মরক্কোর অন্য এক মহিলার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে ওই যুবক। তাকে বিয়েও করতে চেয়েছিল। সেই নিয়ে দু’জনের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। রাগে প্রেমিককে খুন করে ওই মহিলা। কিন্তু দেহ লোপাট করা নিয়ে সমস্যায় পড়ে। এক বন্ধুর কাছে সাহায্য চেয়েছিল প্রথমে। কিন্তু পুরো ঘটনা জানতে পেরে পিছিয়ে যায় সে। উপায় না দেখে প্রেমিকের মৃতদেহ টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলে ওই মহিলা। মিক্সার গ্রাইন্ডারে ভাল করে পিষে নেয়। তার পর তা দিয়ে তৈরি করে সৌদি আরবের জনপ্রিয় পদ মাকবুজ, ভারতে যা বিরিয়ানি হিসাবে প্রসিদ্ধ। রান্নার পর প্রথমে এলাকায় কর্মরত কিছু পাকিস্তানি ঠিকা শ্রমিককে ডেকে খাওয়ায় সে। কিছুটা প্রতিবেশীদের মধ্যে বিলি করে আর বাকিটা রাস্তার কুকুকরদের খাইয়ে দেয়। মানুষের মাংস পেটে যাচ্ছে এমনটা ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি কেউ। তার কিছুদিন পর ওই মহিলার বাড়িতে এসে হাজির হয় তার প্রেমিকের ভাই।ভাইয়ের খোঁজ করেন তিনি। তাকে ওই মহিলা জানান, ঝগড়া হওয়ায় মাস খানেক আগেই প্রেমিককে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন তিনি। তার পর থেকে তাদের মধ্যে যোগাযোগ নেই। ভাইয়ের খোঁজ না পেয়ে থানায় যান ওই ব্যক্তি। পুলিশ এসে মহিলার বাড়িতে তল্লাশি চালায়। সেই সময় মিক্সার গ্রাইন্ডারের ভিতর থেকে একটি মানুষের দাঁত উদ্ধার হয়। ডিএনএ পরীক্ষা করলে সেটি নিহত যুবকের বলে জানা যায়। তার পরই ওই মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়। জেরায় অপরাধ স্বীকার করেছেন তিনি। তবে নেহাত রাগের মাথায় গোটা ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেছেন বলে জানিয়েছেন। কীভাবে প্রেমিককে খুন করেছেন তাও পুলিশকে জানিয়েছেন তিনি। তবে আল ইন পুলিশের তরফে তা প্রকাশ করা হয়নি। ওই মহিলা মানসিক সমস্যায় ভুগছেন কিনা, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তারপরই তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে। তথ্যসূত্র : আনন্দবাজার এমএইচ/

এক জোড়া ম্যাকাও কেনা হলো সাড়ে ৪ লাখ টাকায় [ভিডিও]  

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় প্রথমবারের মতো সংযোজিত হয়েছে পাখির এভিয়ারি বা পক্ষীশালা। ম্যাকাওসহ ৬ প্রজাতির তিনশ’রও বেশি পাখির স্থান হয়েছে এই পক্ষীশালায়।       সাড়ে ৪ লাখ টাকায় কেনা নয়ন জুড়ানো এক জোড়া ম্যাকাও পাখিসহ এভিয়ারিটিতে অবমুক্ত করা হয়েছে নানা রঙের দুর্লভ সব পাখি। পাখিগুলো কিনতেই খরচ হয়েছে ১৫ লাখ টাকা।    বন্য পশু পাখির চলাচল, বংশ বিস্তার ও আচরণ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় এজন্যই প্রথমবারের মতো প্রাকৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি করে স্থাপন করা হলো প্রশস্ত এই পক্ষীশালা। বুধবার সকালে এর উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন।    তিনি বলেন, এভিয়ারিটি সব বয়সী দর্শনার্থীকেই আনন্দ দেবে। শিগগিরই চিড়িয়াখানার আয়তন বাড়ানো এবং নতুন পশু-পাখি সংযোজন করা হবে বলে জানান তিনি।    চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় পশু-পাখির সমৃদ্ধ সংযোজন গবেষণা কাজেও সহায়তা করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন জেলা প্রশাসক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বদ্ধ খাঁচায় পশুপাখির স্বাভাবিক চলাচল ও প্রজনন বাধাগ্রস্থ হয়। তাই এ ধরনের প্রাকৃতিক এভিয়ারি খুবই জরুরী। শিগগিরই চিড়িয়াখা সম্প্রসারণ করা, নতুন পশুপাখি সংযোজনসহ চিড়িয়াখানাটির উন্নয়নের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ১৯৮৯ সালে নগরীর খুলশি এলাকায় ফয়েজ লেকের পাশে ৬ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় রয়েছে ৬৭ প্রজাতির পশু-পাখি। ভিডিও:  এসি     

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি