ঢাকা, বুধবার   ২০ নভেম্বর ২০১৯, || অগ্রাহায়ণ ৬ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

রিফাত হত্যাকারীরা যেন দেশত্যাগ করতে না পারে: হাইকোর্ট

প্রকাশিত : ১৬:৫২ ২৭ জুন ২০১৯

বরগুনায় দিন-দুপুরে স্ত্রীর সামনে স্বামী রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আসামিরা যেন দেশত্যাগ করতে না পারে, বর্ডার ক্রস করতে না পারে সেজন্য সীমান্তে রেড অ্যালার্ট জারির কথা বলেছেন হাইকোর্ট।

আদালতের নির্দেশে বরগুনার ঘটনায় প্রশাসনের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দুপুরের পর আদালতে তুলে ধরার পর এমন কথা বলেন বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী উদ্দেশ্য করে বলেন, আইজি সাহেবকে বলেন আসামিরা যেন দেশত্যাগ করতে না পারে, বর্ডার ক্রস করতে না পারে। কারণ বরগুনার পাশে পিরোজপুর। সুন্দরবন। সমুদ্র এলাকা। সীমান্তের কাছে। এজন্য সীমান্তে রেড অ্যালার্ট জারি করতে বলবেন।

এর আগে সকালে এ বিষয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। তখন ঘটনাটিকে খুবই দুঃখজনক উল্লেখ করে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা দুপুর ২টার মধ্যে জানাতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলেন হাইকোর্ট।

দুপুর ২টার পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার আদালতে বলেন, আমি এরই মধ্যে বরগুনার ডিসি এসপি ও সংশ্লিষ্ট থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা আমাকে জানিয়েছেন- এ ঘটনায় আজ একটি হত্যা মামলা হয়েছে। নিহতের বাবা আব্দুল আলিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে বরগুনা সদর থানায় মামলাটি করেছেন। মোট আসামি ১২ জন। এদের মধ্যে চার নম্বর আসামি চন্দনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রত্যেকের বাড়ি ও সম্ভাব্য সব জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে।

এসময় আদালত বলেন, মূল আসামি তো গ্রেফতার হচ্ছে না। যেহেতু গতকাল দুপুরে ঘটনাটি প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটেছে তাই এর অ্যাকশন দ্রুত হওয়া উচিত ছিল।

পরে রুহুল কুদ্দুস কাজল এ বিষয়ে আদেশ চাইলে আদালত বলেন, আমরা আদেশ দিচ্ছি না। কিন্তু কোনো অনিয়ম বা অবহেলা আছে কিনা আমরা নজরে রাখবো ও এ বিষয়টি আগামী বৃহস্পতিবার আবার আসবে, আমরা অগ্রগতি জানাবো।

এর আগে সকালে আদালত বলেছেন, সারা দেশের সবাই এ ঘটনায় মর্মাহত। সমাজটা কোথায় যাচ্ছে? প্রকাশ্য রাস্তায় মানুষটাকে মারলো। একজন ছাড়া কেউ এগিয়ে এলো না। জনগণকে আপনি কী করবেন? বাংলাদেশের পরিস্থিতি এমন ছিল না। ভিডিও করলো, কিন্তু কেউ এগিয়ে এলো না। এটি জনগণের ব্যর্থতা।

তাই এই সামাজিক সচেতনতা তৈরি করবে কে? দাঁড়িয়ে দেখেছে, কেউ প্রতিবাদ করলো না। পাঁচজন মানুষ অন্তত এগিয়ে আসলে হয়তো তারা সাহস পেতো না। হয়তো তারা (সন্ত্রাসীরা) পাওয়ারফুল, হয়তো মানুষ ভয়ে এগিয়ে আসেনি।

প্রতিবেদনগুলো আদালতের নজরে এনে আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস বলেন, এমন অপরাধের ঘটনার বিচার যদি কোনো কারণে বিলম্ব হয় ও বিচারহীন হয়, তাহলে আরও এমন ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে। তবে বিচার হবে আশা করছি।

বুধবার (২৬ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফ (২২) নামে এক যুবককে কুপিয়ে জখম করে সাবেক স্বামী নয়ন বন্ড ও তার সহযোগীরা।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে বরগুনা সদর হাসপাতাল ও পরে বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিক্যাল (শেবাচিম) কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে বিকেল ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন রিফাতের মৃত্যু হয়। রিফাত বরগুনা সদর উপজেলার ৬ নম্বর বুড়িরচর ইউনিয়নের মাইঠা লবণগোলা এলাকার দুলাল শরীফের ছেলে।

এদিকে ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থলে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করা গেছে। এদের মধ্যে নয়ন বন্ড, তার বন্ধু নিশান ফরাজি ও রাব্বি আকনের নাম জানা গেছে।

অভিযুক্ত নয়ন বন্ডের মা সাহেদা বেগম জানান, ৭ মাস আগে স্থানীয় কাজী অফিসে পাঁচলাখ টাকা দেনমোহরে তার ছেলে নয়নের সঙ্গে মিন্নির বিয়ে হয়। পরে মিন্নির সঙ্গে রিফাতের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন নয়ন। এ নিয়ে তাদের দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। একপর্যায়ে বিচ্ছেদে রূপ নেয় তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক। মাস দু`য়েক আগে মিন্নি নয়নকে ডিভোর্স দেন। এর কিছুদিন পরই রিফাতকে বিয়ে করেন মিন্নি।

নিহত রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ জানান, দুই মাস আগে রিফাত পুলিশ লাইন এলাকার কিশোরের মেয়ে আয়শা আক্তার মিন্নিকে বিয়ে করে। নিজের সাবেক স্ত্রী দাবি করে পশ্চিম কলেজ সড়কের নয়ন নামে এক যুবককে প্রায়ই মিন্নিকে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। এক পর্যায়ে ফেসবুকে আপত্তিকর ছবিও পোস্ট করে সে। এ নিয়ে রিফাতের সঙ্গে নয়নের বিরোধিতা তৈরি হয়। এর জেরে সকালে রিফাতকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে ফেলে রেখে যায়। এ সময় নয়নের সঙ্গে নিশান ফরাজি ও রাব্বি আকন নামে তার দুই সহযোগীও ছিল।

আরকে//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি