রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশিত : ১৫:২৪, ৪ নভেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গার দীর্ঘদিনের উপস্থিতির কারণে সৃষ্ট সংকট সমাধানে চীনের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ সহযোগিতা কামনা করেন।
সাক্ষাৎকালে লিউ হাইশিং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেন। জবাবে তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংকে শুভেচ্ছা জানান।
বৈঠকে লিউ হাইশিং বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরের সময় দুই দেশের সম্পর্কের নতুন যুগের সূচনা নিয়ে যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর আলোকে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের সম্ভাবনার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল। ঐতিহাসিক এ বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার ধারাবাহিকতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এগিয়ে নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
এ সময় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর দেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরুর বিষয়টি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমান সরকার ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে। এ কর্মসূচি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সাধারণ মানুষের উপকার এবং জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও বিএনপির মধ্যে দলীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় লিউ হাইশিং বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান।
এ ছাড়া বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর এবং আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি) চুক্তিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা হয়। আরসিইপিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের প্রতি চীনের সমর্থন জানান লিউ হাইশিং।
রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ১৩ লাখ রোহিঙ্গার অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজ, জনমিতি ও পরিবেশের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ সংকটের টেকসই সমাধানে চীনের সহযোগিতা প্রয়োজন।
জবাবে লিউ হাইশিং জানান, চীন রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কে অবগত রয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগের কথা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে জানাবেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের পক্ষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। চীনের পক্ষে দেশটির দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউয়িন, সিপিসির আন্তর্জাতিক বিভাগের কর্মকর্তা পেং শিউবিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঐ.মিষ্টি/এএইচ
আরও পড়ুন










