ঢাকা, রবিবার   ১৫ মার্চ ২০২৬

সাংবাদিকদের কণ্ঠের পাহারাদারি করার নিশ্চয়তা দিচ্ছি: জামায়াত আমির

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২৩:২৪, ১৪ মার্চ ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়, এ কথা তুলে ধরে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিরোধী দল হিসেবে আমরা আপনাদের কণ্ঠের পাহারাদারি করার নিশ্চয়তা দিচ্ছি। 

এছাড়াও সাংবাদিকদের বিবেক অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সক্রিয় থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর ইস্কাটনের ঢাকা লেডিস ক্লাবে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আয়োজনে সাংবাদিকদের সম্মানে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এ আশ্বাস দেন। 

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা এখন শুধু সফলতা চাই। একটা ঐক্যবদ্ধ জাতি আমরা দেখতে চাই। এবং জাতীয় ইস্যুতে, জাতীয় স্বার্থে কারও সঙ্গে আমরা আপস করব না।’

ক্ষমতাসীন বিএনপি জাতীয় স্বার্থে অনড় থাকলে জামায়াত পাশে থেকে শক্তি জোগাবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন শফিকুর রহমান। তিনি সেই সঙ্গে বলেন, ‘কিন্তু যদি দেখি সরকারি দল এখান থেকে বিচ্যুত হয়ে যাচ্ছেন, তাদেরকে সোজা করে রাস্তায় আনার চেষ্টা করব। না হলে প্রতিরোধ গড়ে তুলব। এটাই হবে আমাদের নীতি।’

শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশ যে ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্ত হয়েছে, তা আবার ফিরে আসুক, জামায়াত তা চায় না।

সাংবাদিকতাকে রাষ্ট্রের তিন গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভকে সোজা রাখার ‘ভ্যানগার্ড’ অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘আমরা ফ্যাসিবাদের কবলে পড়ে আমাদের সংবাদমাধ্যমের কাছে জাতির যে প্রত্যাশা, এটা হারিয়ে ফেলেছিলাম গত সাড়ে ১৫ বছর।’

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজী, মাহমুদুর রহমান, শহিদুল আলম, কবি ফরহাদ মজহারসহ আরও অনেককে নির্যাতন করা হয়েছে উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তাদের ওপর নির্যাতনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সংবাদমাধ্যমে যারা সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলে, তাদের কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেওয়া।

তিনি বলেন, তারা সফল হয়েছিল এবং এই সফলতার রেশ এখনো চলছে বলে মাঝে মাঝে যেন মনে হয়। আমরা ফ্যাসিবাদ থেকে আংশিক নয়, পূর্ণ মুক্তি চাই। এটা যার আমলে হোক, যখনই হোক। ফ্যাসিবাদ জাতিকে ভালো কিছু দিতে পারে নাই, পারবেও না। 

জামায়াত আমির বলেন, ‘বর্তমানে বিরোধী দলে আছি। আপনাদের এই কণ্ঠের পাহারাদারি করার নিশ্চয়তা আমরা দিচ্ছি। কিন্তু এই কাজটা দিতে হবে সরকারি দলকে। আমরা চোখ খোলা রাখব, আপনারাও চোখ জাগ্রত রাখবেন। আমরা একসাথে এটার জন্য লড়াই করে যাব। যদি এই অঙ্গটা প্রোপারলি ফাংশন করে, বাকি রাষ্ট্রের তিন অঙ্গ, সাংবিধানিক তিন অঙ্গ সোজা চলতে বাধ্য হবে। আর এই অংশ যদি ভঙ্গুর হয়ে যায়, ব্যর্থ হয়ে যায়, বাকি তিন অংশ অটোমেটিক্যালি তিন অঙ্গ ব্যর্থ হয়ে যাবে। আমরা সেই ব্যর্থতা আর দেখতে চাই না।’

জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান, মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, দেশ রূপান্তর সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, প্রবীণ সাংবাদিক সালাহউদ্দিন বাবর, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম, জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের প্রমুখ।

এমআর// 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি